লিবিয়া দেশের উন্নয়নের জন্য চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ বাংলাদেশ থেকে আরও জনশক্তি নিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে সেখানকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত লিবিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুতালিব এস এম সালিমান আজ রোববার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত সালিমান লিবিয়ার সমাজে বাংলাদেশি কর্মীবাহিনীর অবদানের কথা স্বীকার করে বলেন, তার দেশে বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অনেক বেশি।
তিনি স্বীকার করেন যে বর্তমানে লিবিয়ায় কর্মরত কিছু বাংলাদেশি চিকিৎসক বেতন সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে চলমান সংস্কার সম্পন্ন হলে দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার বন্ধে বাংলাদেশ ও লিবিয়া একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা মানব পাচারকে সমর্থন করি না। এর জন্য অনেক মানুষ ভুগছে। এটি বন্ধ করতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
প্রধান উপদেষ্টা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধিতে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানান।
পারস্পরিক স্বার্থে বাংলাদেশ লিবিয়া থেকে তেল আমদানি করতে পারে কি না তারও খোঁজখবর নেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত সালিমান এ লক্ষ্যে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর ওপর জোর দেন।
ফেব্রুয়ারি মাসেই বসন্ত, আছে ভালোবাসা দিবস, আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস। এবার এর সাথে যোগ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ফুলের চাহিদা ব্যাপক। কোটি টাকার ফুল বেচাকিনি হওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়িরা। দোকানগুলোতেও দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়।
উপজেলার আনাচে কানাচে ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় আগের তুলনায় ফুলের দাম বেশ বেড়েছে। প্রতি পিস গোলাপ ফুল ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০-১০০ টাকার মধ্যে এবং হলুদ, সাদা ও হালকা গোলাপি রঙের গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।
জারবেলা ফুলের প্রতি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকায়। তাছাড়া গ্লাডিওলাস ৩০ টাকা ও সূর্যমুখী বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে। অর্কিড প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়, গ্রিন হাউস ফুল প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় ও চায়না জিপস প্রতি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
তাছাড়া গাঁদা ফুলের মালা ও রজনীগন্ধা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে ৮০ ও ১০০ টাকা দরে, মাম ফুলের মালা ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের গোলাপ দিয়ে তৈরি তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, মাঝারি আকারের গোলাপের তোড়া ৮০০ টাকায় এবং ছোট আকারের গোলাপের তোড়া ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বড় আকারের বিভিন্ন ফুল দিয়ে তৈরি তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে। মাঝারি এবং ছোট ফুলের তোড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০০ ও ৫০০ টাকা দরে।
ভুলতা বাজারের একজন ফুল বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, এই সময়ে ফুলের চাহিদা
বেশি থাকায় আগের তুলনায় দাম বেড়েছে কিছুটা। প্রতি পিছ গোলাপ বিক্রি করছি ৪০-৫০ টাকায়। জারবেলা ফুলের প্রতি স্টিক বিক্রি করছি ৩০ টাকা দরে।
তাছাড়া এখানে ফুলের তোড়া বিক্রি করছি ১০০০-১৫০০ টাকায়। বলা যায় এই বছর আগের তুলনায় বিক্রির হার মোটামুটি বেড়েছে।
জহিরুল নামের আরেক জন ফুল বিক্রেতা গোলাপ ফুলের একটি তোড়া তৈরি করতে করতে বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য ফুল ব্যবসায়ীদের অন্যতম সময়। এই সময়টাতে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট থাকে। সরেজমিনে দেখা যায় তার দোকানে হরেক রকমের ফুলের সমারোহ। তার মধ্যে রয়েছে গোলাপ, জারবেলা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, রজনীগন্ধা এবং চায়না জিবস, তাছাড়া বেশ কিছু কৃত্রিম ফুলও দোকানটিতে রয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শাহরিয়ার আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড. সাফিকুর রহমান বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। উপ-কমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তার হঠাৎ গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুতই এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
দেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার। এই নিরাপত্তা বলয়ে এবার নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা বিএনসিসি সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয়, সেই লক্ষ্যে সব বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকালীন বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবার উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। এজন্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যসংখ্যা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশাল এক বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সময় সারা দেশে প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া দেড় লাখ পুলিশ, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র্যাব এবং প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার নৌবাহিনী ও প্রায় পাঁচ হাজার কোস্ট গার্ড সদস্য মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অবহেলা প্রদর্শন করা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেকের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক। স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক সজাগ থাকবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা অপতৎপরতা রুখে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন।
সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফ্যাসিস্টের দোসর, সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নির্বাচনের আগে এবং পরে যাতে কোনো অরাজকতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নির্বাচনের পূর্ববর্তী চার দিন নিবিড় টহল পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।
নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সতর্ক করে উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে দেশবাসী ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যাশা অনেক। আগামী নির্বাচন যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের সামান্যতম ভুল বা বিচ্যুতি নির্বাচনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, তাই সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সরকার কোনো আপস করবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো ধরণের অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপির পক্ষ থেকে তিনটি বিশেষ হটলাইন নম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এই নম্বরগুলোর মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর সাধারণ নাগরিকরা নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ, তথ্য কিংবা জরুরি পরিস্থিতি সরাসরি পুলিশকে অবহিত করার সুযোগ পাবেন।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, নির্বাচনী আচরণবিধি অমান্য করা কিংবা কোনোভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার মতো ঘটনা ঘটলে নগরবাসী তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো পরিকল্পনা করে, তবে সে বিষয়ে পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতেই এই হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী মাঠে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, এই উদ্যোগ তারই একটি অংশ।
ডিএমপি ঘোষিত বিশেষ হটলাইন নম্বরগুলো হলো— ০১৩২০০৩৭৩৫৮, ০১৩২০০৩৭৩৫৯ এবং ০১৩২০০৩৭৩৬০। নগরবাসীকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে কিংবা নির্বাচনী এলাকায় কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত এই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব নম্বরে প্রাপ্ত তথ্য বা অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট থানা বা বিশেষ টিম দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন উপহার দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। তবে কেবল পুলিশের প্রচেষ্টায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে। ডিএমপির পক্ষ থেকে সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সবাই যেন এই তথ্যসেবা গ্রহণ করেন। মূলত জনগণের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচনের দিন যেকোনো ধরণের নাশকতা প্রতিরোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
চট্টগ্রাম বন্দরের অতি গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশর প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে অচলাবস্থা আরও ঘনীভূত হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারী ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির ডাকা টানা তৃতীয় দিনের কর্মবিরতির ফলে আজ সোমবারও (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দেশের এই অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ডের অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত শনিবার ও রবিবার একই সময়সূচীতে সফল কর্মবিরতি পালনের পর আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ে আজ আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা কর্মবিরতির প্রভাবে জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস এবং নতুন করে কনটেইনার লোডিং করার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বন্দর ইয়ার্ড থেকে কোনো ট্রাক বা কভার্ড ভ্যানে পণ্য ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে বন্দর সংলগ্ন সড়কগুলো ছিল নজিরবিহীনভাবে যানবাহনমুক্ত। চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জাহাজে কাজের জন্য শ্রমিক বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিচ্ছেন না। কেবল মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকরাই নন, বন্দরের দাপ্তরিক কর্মচারীরাও ‘কলম বিরতি’ পালন করায় প্রশাসনিক ফাইল আদান-প্রদান ও অনুমোদনের কাজও থমকে গেছে।
আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এককভাবে ৪০ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা অত্যন্ত লাভজনক এনসিটি টার্মিনালটি বিদেশি অপারেটরের কাছে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শ্রমিক নেতাদের দাবি, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতে সূচিত এবং ২০০৭ সালে নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হওয়া এই টার্মিনালে পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল রয়েছে। তাই এখানে নতুন করে কোনো বিদেশি বিনিয়োগ বা পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা নেই। বরং এটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত দুই দিনে আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৬ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে ঢাকার আইসিডি ও নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলির আদেশ পরিস্থিতি শান্ত করার বদলে আন্দোলনকে আরও উসকে দিয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এই বদলির প্রতিবাদে এবং এনসিটি লিজ বাতিলের দাবিতে আজ বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এবং অবৈধ বদলির আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ইতিমধ্যে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় এক মাসের জন্য সকল ধরণের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হলেও আন্দোলনকারীরা কাজ বন্ধ রেখে ঘরে বসে প্রতিবাদ জানানোর কৌশল নিয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থার ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার ও শ্রমিক পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবাহী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনে অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর ডাক দিয়ে শুরু হলো ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব। ‘সংস্কৃতিবিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা’ স্লোগান নিয়ে দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় কবিতা পরিষদ। এবারই প্রথম উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতীয় কবিতা উৎসবের সূচনা করা হয়।
সমাধি চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে কবিরা টিএসসি ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান। আবহমানকালের বাঙালি সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, মাজার, বাউলদের আখড়া ও গণমাধ্যমের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কবিরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও লালন সাঁইয়ের রক্তাক্ত প্রতিকৃতি, জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কারারুদ্ধ প্রতীকী ছবি–সংবলিত প্ল্যাকার্ড। তারা সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে অন্ধকারের শক্তির বিরুদ্ধে আলোর ডাক দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ভাষার গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং এবারের উৎসব সংগীত ‘এ সংগীত নৃত্য কবিতা/এ সম্প্রীতি সাম্যের বারতা’ পরিবেশন করেন।
উৎসবের উদ্বোধন করেন জুলাই গণ-আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, কবিরা কবিতায় মানুষের মনের কথা বলেন। মানবতার দাবিই সবচেয়ে বড়। এই দাবিকে সামনে রেখে মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবাই মিলে একটি মানবিক দেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধের মতো আর কাউকে প্রাণ দিতে না হয়।
মীর মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, শহীদেরা দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে। কবিরা এই কাজে লেখনীর মাধ্যমে জনগণকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ পাওয়া যায় না।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চেতনা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। সে কারণে তারা সব মত, আদর্শ, জাতি, গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিসর সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক তারা সংকীর্ণ বিভাজন ত্যাগ করে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বহুদূর যেতে হবে, এ কারণে সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা–সম্মান থাকা প্রয়োজনীয়।
কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, জাতি যখনই কোনো সংকটের সামনে পড়েছে, তখন কবিরা সোচ্চার হয়েছেন। জাতীয় কবিতা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক শক্তি নয়, কিন্তু সংকটে সংগ্রামে কবিতা পরিষদ জাতির মুক্তির জন্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সামনে একটি জাতীয় নির্বাচন আসছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কবিরা জনগণকে গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মুক্ত সমাজ গঠনের শক্তির পক্ষে রায় দিতে আহ্বান জানাচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান বলেন, ১৯৮৭ সালে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রের সড়ক মোহনায়, রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে যাত্রা শুরু করেছিল জাতীয় কবিতা পরিষদ ও জাতীয় কবিতা উৎসবের। পরবর্তী সময়ে এই উৎসব স্থানান্তরিত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সংলগ্ন হাকিম চত্বরে। সেখানে দীর্ঘদিনের সেই আয়োজনে এবার অনুমতি মেলেনি। কারণ সময় বদলেছে। আর সেই বদলে যাওয়া সময়কে আজ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে অন্ধকারের অশুভ শক্তি। যারা আলোর সাম্পানে ভাসমান হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতিকে মেনে নিতে পারে না, আজ তাদেরই আস্ফালন চারদিকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি এ বি এম সোহেল রশিদ, শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি শ্যামল জাকারিয়া, ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কবি মানব সুরত ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কবি নূরুন্নবী সোহেল।
বিশ্ব হিজাব দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রথমবারের মতো হিজাব র্যালি হয়েছে। ‘প্রটেস্ট অ্যাগেইনস্ট হিজাবোফোবিয়া-ঢাকা ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম র্যালিটির আয়োজন করে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে র্যালিটি শুরু হয়। সেখান থেকে টিএসসি হয়ে রাসেল টাওয়ার ঘুরে আবার রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব বর্ণনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিশকাতুল জান্নাত বলেন, হিজাব পরিধান করার ফলে বাংলাদেশের নারীরা নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। সেই বৈষম্যের বিপক্ষে আওয়াজ তোলার জন্য এই দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ। হিজাব দিবস পালনের মাধ্যমে সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি হয়। মুসলিম নারীদের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ সামনে আসে। দিবসটি হিজাবের পক্ষে বৈশ্বিকভাবে সংহতি ও বোঝাপড়ার উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে।
মিশকাতুল জান্নাত আরও বলেন, বিগত চার বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ বিশ্ব হিজাব দিবস ঘিরে কিছু কিছু ইভেন্ট করেছে। তবে সার্বিকভাবে এটা এখনও বাংলাদেশে জনপ্রিয় না।
র্যালিটির অন্যতম আয়োজক স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক জামালুদ্দিন খালেদ বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের আমলে হিজাব-নিকাব পরিধান করেছে, তারা বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছে। শুধু হিজাব-নিকাবই নয়, যারা দাঁড়ি-টুপি পরতো তারাও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। পশ্চিমারা এগুলোকে এক ধরনের জঙ্গিবাদের চিহ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার জন্যই মূলত আমাদের প্রচেষ্টা।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘বিটিভিকে ১৮ কোটি মানুষের চ্যানেল হয়ে উঠতে হবে। বিটিভির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। জনপ্রত্যাশা ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিটিভির সকল কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।, বিটিভি শুধু একটি টিভি চ্যানেল না, এটি অনেক ইতিহাসের সাক্ষী; ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। বিটিভি আমাদের সম্পদ। এটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন উপদেষ্টা। এ সময় বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসিনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, বিটিভি শুধু একটি টিভি চ্যানেল না, এটি অনেক ইতিহাসের সাক্ষী; ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। বিটিভি আমাদের সম্পদ। এটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।
বিটিভিকে আরো জনবান্ধব ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে বেশকিছু অনুশাসনের উল্লেখ করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিটিভিকে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকার জন্য এর আধুনিকায়ন দরকার। মানুষের পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবশনায় আরো সৃজনশীল হতে হবে। চ্যানেলের গতিশীলতা বাড়াতে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে শূন্য পদগুলো পূরণের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিটিভির সকল স্তরের কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষম করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বিটিভি কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী সরকারের বাস্তবায়নের জন্য একটি স্মার্ট চার্টার অব ডিমান্ড তৈরি করে রাখার পরামর্শ দেন।
বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিটিভির একটি সোশ্যাল মিডিয়া উইং খোলা প্রয়োজন। এই উইংয়ে সময়োপযোগী কনটেন্ট নির্মাণের জন্য নিয়মিত জনবলের সাথে চুক্তিভিত্তিতে তরুণদের যুক্ত করার সুযোগ রাখা প্রয়োজন।
পরে উপদেষ্টা বিটিভির নিউজরুম, স্টুডিও, কন্ট্রোল প্যানেল, লাইব্রেরি ইত্যাদি ঘুরে দেখেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদ মর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনছিল; ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান তাদের ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ রয়েছে। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে সে জন্যই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। এবং জুলাই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে হবে।
অনেকেই জিনিস করেন, ‘হ্যাঁ’ এর প্রার্থী কে? আমি বলি-হ্যাঁ এর প্রার্থী আপনি, আমি,আমরা সবাই। কারণ হ্যাঁ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ-তে রায় দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
‘হ্যাঁ’- ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ এ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, যার ফলে বিচারের বাণী আর নিরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে; যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লর ভিসি প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন, হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ।
বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রস্তাবিত 'বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে দেশের অ্যাথলেটরা একই ছাদের নিচে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর ও আউটডোর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন, যা এতদিন কেবল স্বপ্ন হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘদিনের জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ত্রিশালে সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন ১৭৩.২ একর জমিতে এই কমপ্লেক্স নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে সেনাবাহিনী নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৯ একর জমি ক্রয় করেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. কুতুবউদ্দিন খাম একটি সমৃদ্ধ মাস্টারপ্ল্যান প্রদর্শন করেন। এই পরিকল্পনায় তিনটি বিশাল ইনডোর স্টেডিয়াম ছাড়াও ফুটবল, হকি, টেনিস, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, শুটিং রেঞ্জ এবং আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও সেখানে থাকবে অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার এবং বিশাল পার্কিং সুবিধা।
কমপ্লেক্সটিতে অন্তত ৩৩টি ভিন্ন ভিন্ন খেলার আয়োজন করার সক্ষমতা থাকবে। যদিও প্রাথমিক পরিকল্পনায় ক্রিকেট, গলফ ও রোয়িংয়ের মতো কিছু খেলা বাদ রাখা হয়েছিল, তবে জাতীয় জনপ্রিয়তা বিবেচনায় সেনাপ্রধান কমপ্লেক্সটিতে ক্রিকেটের সুবিধাদি যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে মূল নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ তদারকি করছে সেনাবাহিনীর ২৪ ব্রিগেড। দেশীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান 'ভিত্তি'-র পাশাপাশি এই প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত হয়েছে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান 'ডিএলএ', যাদের বিশ্বজুড়ে বড় বড় স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন। স্থপতি ইকবাল হাবিবের দেওয়া তথ্যমতে, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি উন্নয়ন ও একটি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা সম্পন্ন করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। তবে পুরো মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে সব মিলিয়ে ৩৪ থেকে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, অর্থ সংস্থান নিশ্চিত হওয়া মাত্রই কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি গালফ রাষ্ট্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম এই প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
সেনাবাহিনীর জায়গায় নির্মিত হলেও এটি মূলত ব্যবহার করবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। এজন্য শীঘ্রই সেনাবাহিনী ও বিওএ-র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অন্যান্য সময়ে সেনাবাহিনী এখানে নিয়মিত অনুশীলন করার সুযোগ পাবে। সেনাপ্রধান মনে করেন, দেশের তরুণ সমাজ খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী হলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা নিজেদের বিকশিত করতে পারছে না। যাতায়াত আরও সহজ করতে ভবিষ্যতে এখানে শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ঐতিহাসিক এই উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং সংশ্লিষ্টদের ওপর গঠনমূলক চাপ বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। পরবর্তী সরকার প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিলে আগামী ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ১৮ কোটি জনসংখ্যার এই বিশাল দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, নাগরিকরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু একটি ছোট ঘরে মাত্র কয়েকজন সাংবাদিকের কোলাহল নিয়ন্ত্রণ করতেও যেখানে বেগ পেতে হয়, সেখানে দেশের ১৮ কোটি মানুষের শৃঙ্খলা বজায় রাখা কতটা শ্রমসাধ্য ও জটিল তা অনুমেয়। তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতার ধরণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার সিংহভাগই বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা গ্রুপিংয়ের কারণে ঘটছে। অনেক সময় দেখা যায় কোনো অনুষ্ঠানে একজনের আমন্ত্রণ থাকলে সেখানে একাধিক গ্রুপ চলে আসে এবং মতের অমিল হলেই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এই ধরণের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার গুজব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভোটগ্রহণের সময় ইন্টারনেট পুরোপুরি সচল থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই এবং কেউ যদি নিজ উদ্যোগে সংযোগ বন্ধ করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। অতীতে সাংবাদিকরা যেভাবে চাপের মুখে থাকতেন বা প্রশ্ন করতে ভয় পেতেন, এখন সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল হয়ে সত্য সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানান তিনি। নারী ভোটারদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিকরা যেভাবে জনসমক্ষে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন, নারী ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে ঠিক একই রকম নিরাপদ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
সভার শেষ অংশে তিনি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জানান, এ ঘটনায় জড়িত অনেককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চট্টগ্রামে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমনে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি হালকা মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে এই ভূ-কম্পনটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের তীব্রতা কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি এবং এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মূলত গভীর রাতে এই কম্পনটি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই তা টের পাননি।
আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ভলকানো ডিসকভারি’ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সিলেট বিভাগের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) গভীরে। ভূতাত্ত্বিক ভাষায় একে অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে অভিহিত করা হয়। এনসিএস-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। কম্পনটি হালকা হলেও এটি পুনরায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক ঝুঁকি ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থানকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি মূলত ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মা—এই তিনটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় প্লেটটি প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেটটি উত্তর দিকে বছরে ২ সেন্টিমিটার করে সরে যাচ্ছে। এই প্লেটগুলোর ক্রমাগত নড়াচড়া এবং একে অপরের ওপর চাপের ফলেই এই অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে ও আশেপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট এবং আসাম ফল্টের মতো একাধিক সক্রিয় ও শক্তিশালী চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব চ্যুতির সক্রিয়তার ভিত্তিতে দেশটিকে মোট ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের জৈন্তাপুর এলাকাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের এই কম্পনটি সিলেটের যে এলাকায় আঘাত হেনেছে, তা মূলত ডাউকি ফল্টের কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর প্রেক্ষাপটে এই ধরণের মৃদু কম্পনগুলোও বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর এবং জনঘনত্বের কারণে একে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় রাখা হয়েছে। একটি পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীর প্রায় ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৯৫ শতাংশই অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে মৃদু কম্পন বড় ক্ষতির কারণ না হলেও ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানলে তা নজিরবিহীন বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভূতাত্ত্বিকরা। আজকের এই ঘটনায় কোনো ক্ষতি না হলেও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও নিয়মিত সচেতনতামূলক মহড়ার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।