বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কোনো টাকা আত্মসাৎ হয়নি বলে সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. আসিফ হাসান। রোববার এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানিতে এ কথা বলেন তিনি। শুনানিতে দুদকের পক্ষে এই আইনজীবী আপিল বিভাগকে জানান, এই ট্রাস্টের টাকা মোটেও আত্মসাৎ হয়নি। জাস্ট ফান্ডটা মুভ হয়েছে। তবে সুদে আসলে অ্যাকাউন্টেই টাকাটা জমা আছে।
১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ-সংক্রান্ত দুটি দুর্নীতি মামলা করেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সে মামলাটির বিচার অব্যাহত রাখে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র এক বছর আগে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মামলাটির রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। আইনে তাৎক্ষণিক আপিল ও জামিনের সুযোগ না থাকায় সেদিনই কারাগারে যেতে হয় বিএনপি নেত্রীকে। বিশ্লেষকদের অভিমত ছিল, স্পষ্টভাবেই ওই নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখার অভিপ্রায়ে সাবেক সরকারের অঙ্গুলি হেলনে রায়টি দিয়েছিলেন বিচারক আদালত। পরে উচ্চ আদালতে আসামি পক্ষে আবেদন করা হলে সেখানে উল্টো এ সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।
ফলে টানা তিন বছর কারাগারে ও অসুস্থতার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা প্রকোষ্ঠে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে তদানীন্তন সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার শাস্তি স্থগিত রেখে তাকে কারাগার থেকে গুলশানে তার নিজের বাসা ফিরোজায় দুটি শর্তে থাকার অনুমতি দেয়। ওই দুটি শর্ত ছিল তিনি রাজনীতি করতে পারবেন না এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। ফলে পরবর্তী সাড়ে তিন বছর তাকে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েই সময় পার করতে হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানের দিনেও রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিএনপি নেত্রী। সেদিন দুপুরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিকেলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা ও সরকারের নির্বাহী আদেশটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন তা প্রজ্ঞাপন আকারে জানায় বঙ্গ ভবন ও পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে মুক্ত খালেদা জিয়া এত দিন পর বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার লন্ডনে যাওয়ার কথা গণমাধ্যমে চাউর হলেও এখনো দেশেই আছেন তিনি।
এদিকে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন খালেদা জিয়া। সে আপিলের শুনানি হয় রোববার। এত দিন পর শুনানিতে অংশ নেওয়া দুদকের এখনকার আইনজীবীরা বলছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ হয়নি, যদিও ফান্ডটা অন্য অ্যাকাউন্টে সরানো (মুভ) হয়েছে। অবশ্য এ কথা মূল মামলার শুনানির সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া (প্রয়াত) জোরের সঙ্গে দাবি করলেও অ্যাকাউন্ট হস্তান্তরকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছিলেন সেই মামলার বিচারক।
রোববারের শুনানির সময় দুদক আইনজীবী মামলায় এজাহার, অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্যের অংশ তুলে ধরেন। তিনি মামলার ডকুমেন্টস থেকে বেগম খালেদা জিয়া এ মামলার অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন উপাদান পেশ করেন।
একপর্যায়ে এই মামলার দুটি আবেদনের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ বিভাগে বিষয়টি নিয়ে দায়েরকৃত লিভ টু আপিলে আদেশের জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আর রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে লিভ মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। হাইকোর্ট রায়টি আদালতে পড়ে শোনান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অত্যন্ত গভীর শোক ও বেদনার সাথে জানানো যাচ্ছে যে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন আন্দোলনের পথিকৃৎ, বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ (৬৬) গত ২১ জুন চিকিৎসা অবস্থায় ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মরহুমার নামাজের জানাজা আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এবং পরবর্তীতে সাভারের কর্ণপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
বিডব্লিউসিসিআইর পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, নারী উদ্যোক্তা সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
সেলিমা আহমাদ ছিলেন একজন অগ্রণী উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারক। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠা করেন, বর্তমান মেয়াদে তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন। তার নেতৃত্বে এই সংগঠনটি দেশের ৬০,০০০-এরও বেশি নারী উদ্যোক্তাকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, বাজার সংযোগ এবং নীতিগত সহায়তা প্রদান করেছে। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী উদ্যোক্তা জাতীয় ব্যবসায়িক এজেন্ডা (ওমেন্স ন্যাশনাল বিজনেস অ্যাজেন্ডা–ডব্লিউএনবিএ) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন, যা দেশের নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তার নেতৃত্বের ফলে নারীদের জন্য স্বল্প সুদে এবং জামানতবিহীন ব্যাংক ঋণ সুবিধা চালু হয়।
তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড (২০১৪), জিন জে. কার্কপ্যাট্রিক অ্যাওয়ার্ড (২০১৩), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পুরস্কার, প্রিয়দর্শিনী অ্যাওয়ার্ড (২০১২), এবং টিআইএডব্লিউ ওয়ার্ল্ড অব ডিফারেন্স অ্যাওয়ার্ড (২০১০)। তিনি ২০২২ সালে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন।
মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার ঢাকায় তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ড. ফাতমা মেরিচ ইয়িলমাজের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের গত ৪ থেকে ৬ জুন সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা দেশের মানবিক, সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘস্থায়ী এ বাস্তুচ্যুতি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন।’
প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে তুরস্ককে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কূটনৈতিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন।
ড. ইয়িলমাজ জানান, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন সুবিধা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সংস্থাটির ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাস্তুচ্যুতি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্র উপমন্ত্রী তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে তুরস্কের দীর্ঘদিনের সহায়তাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যা মানবিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করে।
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার শীর্ষ পাঁচটি কোম্পানির নির্বাহী প্রধানদের সাথে বৈঠক করেছেন।’
সোমবার কুয়ালালামপুরে শাংগ্রি লা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রসারের লক্ষ্যে আমাদের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট সই হচ্ছে। এই প্রসিজিউরের ভেতরে আমরা ইকোনমিক লিবারালাইজেশন ও ডি-রেগুলেশনের দিকে যাচ্ছি। এর মূল উদ্দেশ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসা। মালয়েশিয়া সেই দিক থেকে বড় লক্ষ্যের জায়গা।’
তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পাঁচটির কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিনিয়োগের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। যেহেতু বাংলাদেশে একটি বিশাল মার্কেট-বেজড অর্থনীতি রয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে বড় ধরনের ভোক্তা চাহিদা (কনজিউমার ডিমান্ড) বিদ্যমান, যা মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীরা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের এক অবারিত সুযোগ রয়েছে। একদিকে যেমন আমাদের বাজারের চাহিদা অনেক বেশি, অন্যদিকে তেমনি দক্ষ কর্মী দিয়ে তা সচল রাখার পূর্ণ সক্ষমতাও রয়েছে। এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যে মালয়েশিয়া যদি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, তাহলে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। একই সাথে, নিয়মকানুন সহজীকরণের (ডি-রেগুলেশন) মাধ্যমে আমরা একটি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করব।’
মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘এ সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি করা এবং বাংলাদেশের কর্মসংস্থানকে আরও বেগবান করা।’
প্রধানমন্ত্রী যেসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেগুলো হলো- পেট্রোনাস গ্রুপ, আজিয়াটা, এয়ার এশিয়া, পেরোডুয়া ও এমএমসি ফোর্স। মাহদী আমিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এই সফরের মধ্য দিয়ে বন্ধুত্বের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার যে ভিন্নমাত্রিক ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সে বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলোকপাত করেছেন। পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী ও জোরদার করা যায়, সেটিকে নিয়ে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিস্তৃত আলোচনা করেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসালম রনি ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।
মুচলেকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, সজীবের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ থাকায় তাকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ সকালে তার আত্মীয়ের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে বিকাল ৫টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সজীবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ ছিল বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এমপিপুত্র খাইরুল ইসলাম সজীব নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আটকের পর প্রাথমিক সদস্যপদসহ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত রোববার রাতে যুবদলের প্যাডে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে; কিন্তু প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিন সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশের যে আমরা প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর; কিন্তু সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না—না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আমি একটু সময় নেব। সেটা হলো যে আমরা সবাই চাই ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনকভাবে আমাদের বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে ভারত আমাদের প্রতিবেশী। আমরাও দুই বন্ধুতে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী যেন না হয়।’
বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী প্রসঙ্গে বিএনপির এমপি বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে দেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার আসলেন। তিনি এসে বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন।’ ত্রিবেদী বললেন, ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে আছি। আমাদের বন্ধুত্ব প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? আমরা দেখলাম বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়াতে বিতর্কের ঝড়। ভারতবিরোধী বিভিন্নভাবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়াতে বা ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে দেখলাম। কিন্তু কেন? এই কেন প্রশ্নটা জানতে।’
ভারতের পুশইন প্রসঙ্গে জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা জানতে চাই যে আজকে পুশইন—ভারতের ভাষায় পুশব্যাক হচ্ছে। এটা বন্ধ হতে হবে। আমরা বলতে চাই—আসুন, মানুষের হৃদয় জয় করুন। মানুষের হৃদয়ের সাথে ভারতের, ভারতবাসী এবং বাংলাদেশের মানুষের সাথে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই ভারত-বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ-বিরোধিতা এগুলো না হোক। আমরা কী চাই? আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আমার সবিনয় অনুরোধ ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি যে আপনারা দয়া করে ‘পুশইন’ বন্ধ করুন। পুশইন বন্ধ করুন। একই সাথে পুশইনের চাইতেও আরেকটি বড় মারাত্মক ব্যাধি আমাদের—মাদকে আমাদের ছেয়ে ফেলেছে। এই সর্বগ্রাসী মাদক আমাদের যুবক সম্প্রদায়, ছাত্র সম্প্রদায়, সমস্ত শ্রেণিকে নষ্ট করে ফেলছে।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের চিকিৎসাসেবায় আর্থিক অনুদান দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সোমবার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি হাসপাতালে শিল্পীর খোঁজখবর নেন এবং তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন।
গত ১৪ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় গুণী এই শিল্পীর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং তার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এ সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ারের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার একটি চেক তার পরিবারের হাতে তুলে দেন নিতাই রায় চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের শিল্প-সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের যেকোনো সংকটে পাশে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর। বরেণ্য এই শিল্পীর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।’
দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন মুস্তাফা মনোয়ার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৪ জুন মুস্তাফা মনোয়ারকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আইসিইউতে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। মুস্তাফা মনোয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার।
মুস্তাফা মনোয়ার দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অনন্য নাম। আর্ট কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। টেলিভিশনে শিশু-কিশোরদের জন্য অসংখ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশে পাপেট শোয়ের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। সংস্কৃতি অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৪ সালে একুশে পদক এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ লাভ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
বিয়ে অনুষ্ঠানের নামে সমাজে বিত্ত-বৈভবের অশ্লীল প্রদর্শনী বন্ধ করতে এবং অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই দাবি জানান। সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক ধরনের অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মূল বিয়ের সাত দিন, আট দিন কিংবা এক মাস আগে থেকে পেশাদার কোরিওগ্রাফার এনে নাচের মহড়া দিয়ে গায়েহলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে সাংঘর্ষিক।
এই ধরনের অপচয় রোধে বিয়ের অতিরিক্ত খরচ বন্ধ করার জন্য অতীতের অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি পুনরায় পুরোপুরি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
নিজের অর্থনৈতিক যুক্তির সপক্ষে তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজে যদি এই অতিথি নিয়ন্ত্রণ আইনটি সঠিকভাবে কার্যকর করা যায় এবং সাধারণ মানুষ যদি বিয়ে-শাদীর ক্ষেত্রে ধর্মীয় সঠিক অনুশাসন মেনে চলে, তবে দেশের সার্বিক মুদ্রাস্ফীতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে। এমনকি বিলাসী বিয়ের কারণে বাজারে যে কৃত্রিম চাপ তৈরি হয়, তা বন্ধ হলে একদিনের ব্যবধানে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম অন্তত ১০ শতাংশ কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মিতব্যয়িতার প্রশংসা করে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যের শেষে উল্লেখ করেন, দেশের সরকারপ্রধান নিজে অত্যন্ত মিতব্যয়ী এবং কোনো ধরনের অপচয় একদমই পছন্দ করেন না; তাই তাঁর এই আদর্শকে ধারণ করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের উচিত বিয়েসহ সব সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত খরচের মানসিকতা পরিহার করা।
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তিনি সেখানে পৌঁছান।
এর আগে মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষ করে সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, মালয়েশিয়া থেকে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাত্রা শুরু করেছেন। দালিয়ানে দুইদিন কর্মব্যস্ত থাকবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে।
দালিয়ানে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান। এই সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাই কমিশনার শাহানারা মলিকা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের 'বিদ্রোহী হলের' একটি কক্ষে গাঁজা সেবনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২১ জুন) রাতে হলের ৬১৫ নম্বর কক্ষে এই মারামারির ঘটনা ঘটে, যাতে সিনিয়র ও জুনিয়র উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীই গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, হলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে একসাথে থাকতেন আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী হান্নান এবং দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের নবীন শিক্ষার্থী সিফাতুল সিয়াম মুগ্ধ। মুগ্ধের বিরুদ্ধে রুমে বসে মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে হল প্রশাসনকে অবহিত করেন হান্নান।
অভিযোগ পেয়ে বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষটি পরিদর্শন করলেও প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনো ধরনের মাদকের আলামত পাননি। তবে প্রভোস্ট চলে যাওয়ার পর হান্নান কক্ষে ফিরে টেবিলের অ্যাশট্রেতে গাঁজার অংশবিশেষ দেখতে পান বলে দাবি করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে হান্নান জুনিয়র শিক্ষার্থী মুগ্ধকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ঘটনার জের ধরে রাতে হান্নান যখন ৬১৫ নম্বর কক্ষে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, তখন মুগ্ধসহ বেশ কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে হান্নানের ওপর পালটা হামলা চালান।
আহত হান্নান অভিযোগ করেন, রাতে হঠাৎ করেই ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করায় তিনি বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এই সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বিদ্রোহী হলের হাউজ টিউটর ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক খাইরুল ইসলাম নিজেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা গাঁজা সেবনের সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জুনিয়র শিক্ষার্থী মুগ্ধ বলেন, প্রভোস্ট স্যারের উপস্থিতিতে রুম তল্লাশি করে যেহেতু কোনো আলামত পাওয়া যায়নি, তাই তিনি কক্ষ থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রুমমেটের ডাকে কক্ষে ফিরে এলে দেখতে পান তাঁর অনুপস্থিতিতেই অ্যাশট্রেতে গাঁজা রেখে সাজানো ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।
মুগ্ধ আরও অভিযোগ করেন, হান্নান ভাই সে সময় তাঁর বুকে লাথি মারেন এবং গালে চড়সহ ইচ্ছেমতো মারধর করেন। এই অন্যায়ের বিষয়টি তিনি তাঁর বন্ধুদের জানালে তাঁরা হাউজ টিউটরকে সাথে নিয়ে কথা বলতে যান। কিন্তু সেখানে হান্নান আবারও উচ্চস্বরে কথা বলে মারধর শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি ও সংঘর্ষের রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) বিশাল পরিমাণ আয়-ব্যয়ের ব্যবধান বা লোকসানের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নওগাঁ–৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত বিগত ১১ মাসে করসহ বিটিভি মোট ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় করেছে। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ও সামগ্রিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরে বিটিভির মোট আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা এসেছে বিজ্ঞাপন খাত থেকে।
সংসদে বিটিভির বিগত কয়েকটি অর্থবছরের আয়ের তুলনায় বিপুল ব্যয়ের খতিয়ানও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ব্যয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করলেও এর বিপরীতে ব্যয় হয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ কিছুটা কমে ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হলেও ব্যয় একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকায়।
পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় হয়েছিল ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিটিভি মোট ২৭ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করতে সক্ষম হলেও একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পেছনে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
দেশের অর্থনীতি নিয়ে সতর্ক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনীতি নানামুখী চাপে থাকায় আগামী দুই বছর সময় কঠিন যাবে, আমি আগেভাগে বলছি। দুইটা বছর কষ্ট করতে হবে সবাই মিলে। আর জনগণের লাইফ যেটা (স্বাভাবিক রাখার) ওটা আমরা করব নীতির ভিত্তিতে। সহায়তার ভিত্তিতে। যতটুকু সীমিত আমাদের সম্পদ ওটা দিয়েই আমরা করব। ওইটা বলছি না। কিন্তু এটা (অর্থনীতি) ঘুরে দাঁড়াতে, এই যে ভঙ্গুর থেকে স্থিতিশীলতা, সেটার জন্য দুবছর লাগবে।
সোমবার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যদি বলি কালকে সকালে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, এই কমিটমেন্টটা আমি দিতে চাইব না। এটার জন্য দুবছর সময় প্রয়োজন। এ ভঙ্গুর অর্থনীতি, খারাপ অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল করতে দুই বছর লাগবে। তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে ইনশাল্লাহ। ঘুরে দাঁড়াবে। এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি হবে ‘প্রসপারিটি অব বাংলাদেশ’।
চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে ‘প্রসপারিটি ফর বাংলাদেশ’। চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হচ্ছে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ- আমরা দেখব।
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতেও দুবছর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেট, এগেইন আমি তো বলছি দুই বছরের কুশন দরকার। আপনি দেখবেন ইনশাল্লাহ সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ঘুরে দাঁড়াবে। আমাদের বিশাল একটা অপরচুনিটি ক্রিয়েট হবে ক্যাপিটাল মার্কেটে, বিশাল অপরচুনিটি। সবার জন্য।
কীভাবে হবে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এইজন্য আমরা ক্যাপিটাল মার্কেটের প্রথম আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আস্থাটা ফিরিয়ে আনা। এইজন্য আমরা একটা কমিশন করেছি যারা একদম ইন্ডিপেন্ডেন্ট, নন পলিটিক্যাল এবং পুরোপুরি পেশারদার লোক। সুতরাং এরা সব আইনগুলো চেঞ্জ করছে যাতে আমাদের ইনভেস্টররা সিকিউর থাকে। যারা তালিকাভুক্ত হবে কোম্পানিগুলো তারা যাতে আস্থা পায় যে এই ক্যাপিটাল মার্কেটে তার শেয়ারটা প্রোপারলি লেনদেন হবে। এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল যারা ইনভেস্টর আছে তাদের যাতে বাংলাদেশের ক্যাপিটাল মার্কেটের ওপর আস্থা থাকে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ডিরেগুলেশন ইজ এ বিগ মুভ। আমি জানি এটা খুব কঠিন। অনেক বাধাগ্রস্ত আমি হয়ে গেছি অলরেডি। ইতোমধ্যে করার (ঘোষণা) সময়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছি। এটা এক্সিকিউশন করতে গেলে আরও বাধাগ্রস্ত হব আমি জানি কিন্তু যত কঠিন ডিসিশন নিতে হয় আমি নিতে প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, এই ডিরেগুলেশনের পথে যদি কেউ বাধাগ্রস্ত হয়, তাদের আমরা বেরিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেব। ওই যে দরজা আছে পেছনে ওদিক দিয়ে বেরিয়ে যান। কোন দরকার নাই (তাদের)। দেশ হিসেবে আমরা অনেক ‘সাফার’ করেছি। বাংলাদেশের মানুষের এখন চায় একটা সত্যিকার মুক্ত জীবনযাপন করতে। সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে যেসব বাধার শিকার হতে আমলাতান্ত্রিক কারণে সেসবের অনেককিছু কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয় সরকারের তরফে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, যদি সঞ্চয় না বাড়ে, সম্পদ তৈরি না হয়, তাইলে অর্থনীতির সুদিন ফিরবে না। কারণ তারা (সীমিত আয়ের মানুষ) তো ভোক্তাও বটে। তো সেই কনটেক্সটে আমার কাছে এইবারের যে আয়করের হারের কাঠামো যেটা সরকার দিয়েছে, তা কিছুটা ‘রিগ্রেসিভ’ মনে হয়েছে। কারণ এর আগে ৫ শতাংশ হার একটা ছিল। আমরা যারা ঢাকায় থাকি অনেকের সীমিত আয় আছে। শহরের অন্যান্য প্রান্তেও অনেকে থাকে। আমার কাছে মনে হয় শতাংশ হার এটি রাখা উচিত ছিল সরকারের।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা ও বিশৃঙ্খলা রুখতেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।
সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি এই আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে আগামী ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই বিশেষ ক্ষমতা কার্যকর থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে যে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট এসব এলাকা এবং এই সময়সীমার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।
একই সাথে কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই বিশেষ আইনি ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন। সশস্ত্র বাহিনীর এই কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী নির্ধারিত অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ ও শান্তি বজায় রাখতে সরাসরি তাঁদের এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন বিধি-নিষেধের বাইরে ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল।
সোমবার (২২ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা হলরুমে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের সনদ ও অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সব ধর্মেই ভালো ও মন্দ কাজের প্রতিফল সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। মানুষ তার কর্ম অনুযায়ী ফল ভোগ করবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী কোনো সাংঘর্ষিক আইন সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাকে ইফতার পার্টি আয়োজন করতে দেওয়া হয়নি। তখন আমি গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে ইফতার বিতরণ করতাম। ইসলাম যেমন নিরাকার আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তেমনি আমি একজন হিন্দু হিসেবে সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি।
ধর্ম ও কর্ম একে অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রের আইন এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবু, কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ মো. আল-আমীন, বিএনপি নেতা আলি হোসেন আলী, চঞ্চল এবং যুবদল নেতা আরমান উল্লাহ ডাবলু প্রমুখ।