রোববার, ১ নভেম্বর ২০২৬
১৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রবাসীরা বিমান বন্দরে অতিথির মত সম্মান পাবেন: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ১৬:৪২

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রবাসীরা যেন বিমান বন্দরে অতিথির মত সম্মান ও সেবা পায় সরকার তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আজ সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসী কর্মীদের জন্য একটি ডেডিকেটেড লাউঞ্জ (প্রবাসী লাউঞ্জ) উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আপনাদের যে প্রাপ্য সম্মান, সেটি যেন জাতি দিতে পারে। সেই সম্মান দেয়ার জন্য আজকের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রবাসী লাউঞ্জ উদ্ধোধন করা হলো। আশা করি, আরো বহু রকমের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। '

ড. ইউনূস বলেন, 'যাতে করে আপনারা এখানে এসে মনে করতে পারেন যে, আপনারা শান্তিতে আছেন, বাড়িতে আছেন, সবাই আপনাদের দেখভাল করছে, আপনাদের সেবা-শুশ্রুষা করছে৷ অর্থাৎ আপনি এখানে মেহমানের মতো থাকবেন। আপনি সম্মান নিয়ে থাকবেন।'

তিনি বলেন, আপনার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এই প্রচেষ্টা। আজকে যেটা শুরু করলাম বহুভাবে একে কাজ লাগানো যাবে।

প্রবাসীরা বিমান বন্দরে যথাযথ সম্মান ও সেবা পান না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আপনাদের দিয়ে তো দেশ চলে। আপনাদের তো মাথার ওপর রাখার কথা। অপরাধী করে রাখবে কেনো? ভাবখানা এই যে, তোমরা নিজদের টাকা রোজগার করতেছ, তোমাদের ব্যাপার! আমাদের কী তাতে?'

প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ যথার্থভাবে দেশের কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, 'প্রবাসীরা টাকা যেটা রোজগার করছে, সেটা তো বাংলাদেশেই আসছে, বাংলাদেশের জন্য রোজগার করছে। প্রবাসীরা কষ্ট করে টাকা রোজগার করে আনছেন। আর এই কষ্টার্জিত টাকা আরকজনে বিদেশে পাচার করছে। এটা হলো আমাদের দুর্ভাগ্য। সেখান থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে, আমাদের দেশের টাকা যেন দেশে থাকে, দেশের কাজে লাগে।'

প্রবাসী কর্মীরা দেশ গড়ার কারিগর অভিহিত করে ড. ইউনূস বলেন, 'আমাদের প্রবাসী কর্মীরা দেশ গড়ার কারিগর। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে তারা বড় ভূমিকা পালন করেছে। আমরা তাদের কাছে সবসময় কৃতজ্ঞ। আমরা বিশ্বাস করি, এই লাউঞ্জ তাদের ভ্রমণকে সহজ করবে।'

মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমরা সরকারে আসার তিন মাসের মাথায় এসে প্রবাসীদের জন্য নতুন যাত্রা শুরু করতে পারলাম। প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দুজনেই বিদেশে আসা-যাওয়ার পথে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।

তিনি বলেন, 'বিমানবন্দর আমাদের সবাইকে ব্যবহার করতে হয়। আমাকেও প্রায় আসা-যাওয়া করতে হয়। মনে খুব কষ্ট হয় যখন দেখি প্রবাসীদের যাওয়া আসায় কত কষ্ট হচ্ছে।'

প্রবাসীদের জন্য সরকারের সেবা সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রবাসীদের জন্য এখন ই-পাসপোর্ট দিতে হবে। ছাপা পাসপোর্ট দরকার নেই। পাসপোর্ট আপনার ফোনে চলে আসবে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। অফিসে যেন যেতে না হয়।

তিনি বলেন,আমার এখন আর সরকারি অফিসে যেতে চাই না। বাড়িতে যেন সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।

উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে এটিই প্রথম প্রবাসী লাউঞ্জ। এখানে বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীদের বিশ্রামের জন্য জায়গা এবং সুলভ মূল্যে খাবার পাওয়া যাবে। সুলভ মূল্যে খাবার পরিবেশনের জন্য এতে ভর্তুকি দেবে সরকার।

উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, বিমান বন্দরে প্রবাসীদের দেখভাল এবং তাদের সহায়তা করার জন্য ১০০ কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইওএম এই কর্মীদের স্পন্সর করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আইওএম মিশনের ডেপুটি চিফ ফাতিমা নুসরাত গাজালি জানান, জাতিসংঘ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের সহায়তার জন্য লাউঞ্জটি স্পন্সর করেছে।


নির্বাচিত

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ: ৫০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কারখানা বন্ধের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও নিউ এইজ কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে প্রবেশ করে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে সংহতি প্রকাশ করে আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনের সড়ক অবরোধ করলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা, বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই প্রতিহত করা এবং তালিকা করে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, মূলত এই তিন দফা দাবিতেই শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছেন। মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এক গণমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বর্তমানে সার্বিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে যোগ দিলেন ৮৪ নবীন কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্যেও নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে তা যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সকল কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।’

তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের চেয়ে পুলিশ ও আনসার সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

উল্লেখ্য, আজ ১ নভেম্বর পূর্বাহ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।


নির্বাচিত

ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলবে আটটি জোনে, নিবন্ধন শুরু কাল থেকে

১৩ সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির ই-রিকশা নিয়মতান্ত্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ ঘোষণার সময় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

নতুন এ নীতিমালার প্রেক্ষাপটে চালকদের বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোনো পক্ষের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ না দিয়ে পর্যায়ক্রমে বৈধ যানবাহনকে সনদ প্রদান এবং অনুমোদনহীন রিকশা অপসারণ করা হবে। রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসন ও চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জোনভিত্তিক চলাচলের জন্য আটটি ভিন্ন রং বরাদ্দ থাকবে, যাতে এক এলাকার নির্ধারিত রিকশা অন্য এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের যৌথ পর্যালোচনায় প্রতিটি জোনে চলাচলের উপযোগী রিকশার সংখ্যা ও সীমা নির্ধারিত হবে এবং প্রধান প্রধান বাস রুটে এসব স্বল্পগতির যানের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নির্ধারিত বিধিমালা অনুসারে, প্রতিটি ই-রিকশার প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং অনুমোদন প্লেটের জন্য এক হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রতিবছর নবায়নযোগ্য এই নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য, মালিকের পরিচয় ও চলাচলের অঞ্চল চিহ্নিত রাখতে ডিজিটাল কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। প্রাথমিক ধাপে চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা না হলেও সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাইসেন্স কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তবে নিবন্ধনের পূর্বশর্ত হিসেবে চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত কারিগরি নকশা অনুসারে পরিমার্জন করতে হবে এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই একই নকশা অনুসরণ করতে হবে।

অননুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হবে, যেখানে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক স্টেশনগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে ব্যাটারি চার্জ করার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে প্রণীত এই কাঠামো আপাতত ১৩টি মহানগরে কার্যকর হলেও পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে পৌরসভাগুলোতেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীসাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে ট্রাফিক বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও মালিকপক্ষের যৌথ সমঝোতায় ই-রিকশার কিলোমিটারভিত্তিক নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।


নির্বাচিত

দেশ গঠনে যুবসমাজই প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

রাজপথের সংঘাতময় সংস্কৃতির বদলে সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং রাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশের বিপুল যুবশক্তিকে কর্মমুখী ও উৎপাদনশীল ধারায় সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে এই তরুণদের মেধা ও শ্রমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। সব বিষয়ে সংকীর্ণ রাজনীতির চর্চা পরিহার করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাজপথের সংঘাতময় সংস্কৃতির বদলে সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে উৎখাত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এই অর্জনকে জাতীয় কল্যাণে ফলপ্রসূ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বিপ্লবের মাধ্যমেই সামগ্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়; দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। আর এই নতুন দেশ নির্মাণের গুরুদায়িত্ব তরুণদের কাঁধেই নিতে হবে।

বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সময়োপযোগী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, শিক্ষিত ও আধুনিক দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বেকারত্বের হতাশা থেকেই তরুণদের মাঝে মাদকের মতো মারাত্মক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজের সকল প্রকার বৈষম্য, অন্যায় ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।


নির্বাচিত

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণে ৬ সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপথে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতনকাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে ছয় সদস্যবিশিষ্ট মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এর আগে শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত শ্রম ভবনে পোশাক মালিকদের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকে মিলিত হন শ্রমমন্ত্রী। দীর্ঘ আলোচনার পর মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকদের প্রধানতম দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকার ও মালিকপক্ষ সম্পূর্ণ একমত হয়েছে এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির জন্য তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিদের নাম দাখিল করেছেন। রবিবারের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং অন্যায্যভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজপথে আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ দাবির মুখে শনিবার রাজধানীর মিরপুর ছাড়াও শিল্পাঞ্চল সাভার ও গাজীপুরে সড়ক অবরোধ, ব্যাপক বিক্ষোভ এবং কারখানা ভাঙচুরের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যেখানে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।

বিষয়:

নির্বাচিত

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় চালু হলো সমন্বিত বাস রুট

আজ রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে পরিচালিত ৯৮টি বাস রুটকে কমিয়ে ৩২টি সমন্বিত রুটে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আজ রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে ছয়টি রুটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে অন্য সব পথও এই সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হবে।

প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, একই সড়কে একাধিক কোম্পানির গাড়ির মধ্যকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও বিপজ্জনক ওভারটেকিং বন্ধ করতে প্রতিটি রুটে একটি একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান জানান, যাত্রীদের প্রকৃত চাহিদা, রাজপথের ধারণক্ষমতা ও যানবাহনের চাপ বিশ্লেষণ করে দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য দূর করতেই ৯৮টি রুটকে ৩২টি রুটে রূপান্তরের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিটিসিএর তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালে প্রথম বাস রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে নতুন উদ্যোগের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৪২টি রুটের প্রস্তাব করা হয়। এরপর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং বাস মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমানের ৩২টি রুট চূড়ান্ত করা হয়। এ লক্ষ্যে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে ৯৮টি রুটে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর ওঠানামা এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর গন্তব্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজধানীর ৭২টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনার পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত গণপরিবহন মডেল প্রস্তুত করা হয়।

ডিটিসিএর প্রাক্কলন বলছে, প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে প্রতিদিন প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ যাত্রীর পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত হবে। যেহেতু নতুন রুটগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমান সড়কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, তাই বর্তমান পথ ও অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। বিমানবন্দর, মিরপুর-১০, কুড়িল, গাবতলী, মহাখালী, ফার্মগেট, বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে কেন্দ্র করেই নেটওয়ার্কটি সাজানো হয়েছে।

প্রাথমিক ধাপে চালু হওয়া ছয়টি রুটের মধ্যে রয়েছে গাজীপুরের শিববাড়ী চৌরাস্তা থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সায়েন্সল্যাব হয়ে কেরানীগঞ্জের চুলকুটিয়া, মোহাম্মদপুরের বসিলার ঘাটারচর থেকে শাহবাগ ও মৎস্য ভবন হয়ে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, মোহাম্মদপুরের বসিলা থেকে সায়েন্সল্যাব ও জিগাতলা হয়ে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড-কাঁচপুর ব্রিজ, ঘাটারচর থেকে মিরপুর-১০ হয়ে আব্দুল্লাহপুরের ধউর ব্রিজ এবং টঙ্গী কলেজগেট থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে আজিমপুরের ঢাকেশ্বরী মন্দির পর্যন্ত নির্ধারিত পথ।

এসব রুটে পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত নন-এসি বাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হবে। এর বাইরে ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর এলাকা এবং উত্তরায় ২০টি করে বাস দিয়ে তিনটি চক্রাকার সার্ভিস চালুর রূপরেখা রাখা হয়েছে। কার্যক্রমে ঢাকা চাকা, রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ, ফোর স্টার বাস লাইন ও পিএনপি সিটি সার্ভিসসহ বিভিন্ন পরিবহন প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে এবং বাসগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত পার্কিংয়ের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জাতীয় অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি যুবসমাজ: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যুবসমাজ যেকোনো জাতির প্রাণশক্তি ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংকট উত্তরণ এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশের যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতি গঠনে যুবসমাজের বিপুল সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তাদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশনায় ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নামে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে যুব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তাদের কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে দেশের সব জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।

তিনি বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর এ পর্যন্ত ৮০ লাখেরও বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি আয় করছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, যুব উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

জাতীয় যুব পুরস্কারকে প্রশংসনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতি গঠনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পর্যন্ত ৫৪৬ জন আত্মকর্মী নার-নারী ও যুব সংগঠককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন বর্তমান বিশ্বে যুবসমাজের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তরুণদের আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি অনলাইনে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে যুবসমাজের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় তরুণরা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান রাখছেন।

তিনি স্মার্ট কৃষি, রপ্তানিমুখী প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন সম্ভাবনাময় খাতে আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজকে নিজেদের প্রতিভা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে সহায়তা দিতে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলো যাতে অর্থের অভাবে ব্যর্থ না হয়, সে লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো স্টার্টআপ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় যুব দিবস-২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় যুবসমাজ ক্রমবর্ধমানভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তিনি জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।


নির্বাচিত

বাড়ির ছাদে সোলার ইউনিট স্থাপনে মিলবে ‘গ্রিন হাউস’ স্বীকৃতি, বিশেষ কর ছাড়: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার সর্বস্তরে দ্রুত বাড়াতে চায় সরকার। তাই সাধারণ গ্রাহকদেরও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে—যেসব গ্রাহক তাদের বাসাবাড়ির ছাদে ‘রুফটপ সোলার’ বা ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন, তাদের বাড়িকে ‘গ্রিন হাউস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে সরকার। পাশাপাশি তাদের বিশেষ করছাড়ের সুবিধাও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য নিউ এজ’ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

‘গৃহস্থালি পর্যায়ে রুফটপ সোলার: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক এই আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাসাবাড়িতে রুফটপ সোলার স্থাপনে সাধারণ গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে এই বিশেষ প্রণোদনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই কর সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা সাধারণ জনগণকে নিজেদের বাসার ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে গভীরভাবে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরাও দেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।

সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব বাড়িতে রুফটপ সোলার বসানো হবে, সেগুলোকে সরকারিভাবে ‘গ্রিন হাউস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তাদের কর ছাড় দেওয়া হবে। সোলার প্যানেল স্থাপন সংক্রান্ত একটি বিল দ্রুতই সংসদে পাস করা হবে, যাতে সাধারণ গ্রাহকেরা সহজেই এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী আরও জানান, চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আনতে সরকার নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই রূপরেখার অংশ হিসেবে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি—বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাত থেকে আরও ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রস্তাবিত আইনি কাঠামো এবং প্রণোদনা সাধারণ পরিবারের কাছে ছাদভিত্তিক সোলারকে অর্থনৈতিকভাবে আরও আকর্ষণীয় ও লাভজনক করে তুলবে। এটি একই সাথে সরকারের সার্বিক জ্বালানি খাতের উৎস বহুমুখীকরণের জাতীয় প্রয়াসকে জোরদার করবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া এবং আমদানিকৃত তেল, গ্যাস ও কয়র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে নানামুখী কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করছে।


নির্বাচিত

রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি কেন্দ্রে প্রবেশ করে।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান।

এই চালানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট পাঁচটি চালানে ইউরেনিয়াম পৌঁছাল। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটি চালান এসেছে।

এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি আনা হবে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ‘চালুকরণ সি-ধাপ’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বায়েয়ার চেয়ারম্যান এ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।

সি-ধাপের আওতায় পর্যায়ক্রমে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, বাষ্পীয় টারবাইন-জেনারেটর এবং পরিচালনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এসব পরীক্ষা সফল হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রকৌশলগতভাবে এ প্রক্রিয়াকে ‘সমন্বয়সাধন’ বলা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি নভেম্বর মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।


নির্বাচিত

ডেঙ্গুতে অক্টোবরে সর্বোচ্চ মৃত্যু, পরিস্থিতির উন্নতি ডিসেম্বরের আগে নয়

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের মধ্যে অক্টোবরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ডিসেম্বরের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৪১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী। শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৩ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয়েছিল ১৪৮ জনের। ফলে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হয়ে উঠেছে অক্টোবর।

এদিকে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। এ রোগে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুটি রোগের চাপ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে দেশের আগে থেকেই চাপের মুখে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সংকটে পড়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক ডেঙ্গু রোগী গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে ২৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একদিনেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন। হাসপাতালের পরিচালক মির্জা গোলাম সারওয়ার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক রোগী শক বা মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। কারও কারও রক্তচাপ এতটাই কমে যাচ্ছে যে তা মাপাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অক্সিজেনের মাত্রাও কমে যাচ্ছে।’

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় দেরি হওয়ার কারণে গুরুতর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে আবার সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।’ এ কারণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৩৩ বছর বয়সি ঢাকার বাসিন্দা ফয়সাল ফেরদৌস ২০১৭ ও ২০২৪ সালের পর চলতি মাসেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, এবার তার পাশাপাশি স্ত্রীকেও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে দুজনই বাসায় ফিরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

ফয়সাল বলেন, অন্য একটি রোগে আক্রান্ত পাঁচ বছর বয়সি ছেলের চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন হাসপাতালে থাকার পরপরই তিনি ও তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে তাদের উদ্বেগও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই দেশে ছড়িয়ে পড়ায় গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য ধরনের ভাইরাসে সংক্রমিত হলে জটিলতার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালু হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে টিকা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

জলবায়ু পরিবর্তনে দীর্ঘ হচ্ছে ডেঙ্গুর মৌসুম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ‘অক্টোবরে যে হারে মৃত্যু বেড়েছে, সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরজুড়েই ডেঙ্গুর সংক্রমণ চলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুটা স্বস্তি মিললেও নভেম্বরেই ডেঙ্গুর প্রকোপ শেষ হয়ে যাবে না। সংক্রমণ কমলেও সেই হ্রাস খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।’

কবিরুল বাশারের মতে, আগের বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া মশার প্রজননস্থল থেকে নতুন মশার জন্ম অব্যাহত থাকবে। ফলে আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করলেও সংক্রমণ চলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরন বদলে যাচ্ছে। এতে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে এবং এডিস মশা আগের তুলনায় বেশি সময় সক্রিয় থাকছে।’


নির্বাচিত

আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না, সরকার গঠনের পথ নির্বাচন: চীফ হুইপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনগণকে জিম্মি করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলন করে সরকার গঠন করা যায় না। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র গণতান্ত্রিক পথ নির্বাচন।

তিনি বলেন, জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠন করবে।

আজ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, “আন্দোলন করে কি সরকার হতে পারে? সরকার গঠনের পথ হলো নির্বাচন। যারা আন্দোলনের নামে অস্থির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, তাদের বুঝতে হবে, দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণ সবার আগে।”

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা চাই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভালো কাজ করলে জনগণ তার সুফল পাবে। আর সরকার ভালো কাজ করতে না পারলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের আন্দোলন ও কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাত তৈরি করলে তার সুযোগ নেবে অন্যরা। তিনি বলেন, “আমরা নিজেরা ঝগড়া করার পরেও পথ সুগম হবে কার? যারা আমাদের বিভক্ত দেখতে চায়, তাদের। দুই ভাই যখন ঝগড়া করে, তখন পাশের বাড়ির লোক সালিশ করতে আসে; কিন্তু সেই সুযোগে সে দুই ভাইয়ের সম্পত্তিই কিনতে চায়।”
চীফ হুইপ আরও বলেন, “দেশটা যদি ধ্বংস হয়, তাহলে আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে কী জবাব দেব? ৫৪ বছরে আমরা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছি। এখন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

জ্বালানি সংকট ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিছু মানুষ এখনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে জিম্মি করতে চায়, দেশের ২০ কোটি মানুষকে জিম্মি করতে চায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উদ্দেশে চীফ হুইপ বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দক্ষ ও শিক্ষিত জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বরিশাল বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা দেশ গড়ার কারিগর। আপনাদের মেধা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। আপনাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।”

অনুষ্ঠানে আইডিইবির নেতৃবৃন্দ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:

নির্বাচিত

অবশেষে ডিবি হারুনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
    গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অপরাধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তাঁর এ আচরণকে ‘পলায়ন’ হিসেবে সাব্যস্ত করে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর বিবেচনা করে ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশ বহাল হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে কর্মরত থাকাকালে নিয়মবহির্ভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করে নিখোঁজ থাকেন তিনি। স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা ও ই-মেইলে বারংবার তলব করা সত্ত্বেও তিনি কাজে ফেরেননি। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি বা সময় বৃদ্ধির আবেদন করেননি।

পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তদন্তের পর পুনরায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে নোটিশ জারি করা হলেও তিনি নীরব থাকেন। চূড়ান্ত পর্যায়ে গুরুদণ্ড হিসেবে বরখাস্তের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে সাংবিধানিক সংস্থাটিও তাঁকে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করে। সার্বিক নথিপত্র মূল্যায়নের পর সরকার এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।

বিষয়:

নির্বাচিত

এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শনিবার সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা যাতে একটি বছর হারিয়ে না ফেলে এবং দ্রুত শিক্ষার মূল ধারায় ফিরতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে তাদের সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সম্পূরক পরীক্ষায়ও যারা উত্তীর্ণ হতে পারবে না কিংবা যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে না, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। বরং তাদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ প্রকল্প ও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও আগের ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে যাতে কোনো ত্রুটি বা অস্বচ্ছতা না থাকে, সে জন্য এবার প্রতিটি পরীক্ষককে কমসংখ্যক খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতে খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফলাফল কমে যাওয়ার কারণ ও শিক্ষার ঘাটতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে। এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।

অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবসহ বিভিন্ন উপায়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কারচুপির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে অতীতে বড় ধরনের ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছিল। এমনকি একসময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান সরকার কঠোর হাতে এসব দমন করেছে।

ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তুলনামূলক খারাপ ফলের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ দুই বিষয়ে ফলের অবনতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

যেসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা পাসের হার শূন্য, সেগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভালো ফল করা পাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এতে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাতে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু বড় শহর নয়, গ্রামের শিক্ষকদেরও নিয়মিত ক্লাস নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে কেউ দায়িত্বে অবহেলা করতে না পারে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close