সরকারি-বেসরকারি স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার থেকে। এ দিন বেলা ১১টা থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এ প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদন শেষে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই ও ভর্তি করানো হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী- এবার ভর্তির আবেদন ফি ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটকের মাধ্যমে এ ফি পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি বয়সি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হবে।
যেমন- ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকালে কোনো শিক্ষার্থীর বয়সসীমা সর্বনিম্ন ৫ বছর হবে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন জন্মতারিখ হবে ১ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত এবং সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ জন্মতারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত।
পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে বয়স নির্ধারণের বিষয়টি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ধারবাহিকভাবে প্রযোজ্য হবে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্ম-নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।
এদিকে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয়ের নাম দিতে পারবে বলে জানানো হয়। তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি পছন্দক্রম (দুটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম) সম্পাদন হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি কোনো স্কুলেই একটি শ্রেণির কোনো শাখাতে ৫৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।
বিদ্যমান অনলাইন ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেকোনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি সফটওয়ারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ক্যাচমেন্ট এরিয়া
ঢাকা মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা প্রতিষ্ঠানসংলগ্ন থেকে সর্বোচ্চ তিনটি থানাকে ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবেন। ক্যাচমেন্ট এরিয়া থেকে শূন্য আসনের ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী নেওয়া হবে। ক্যাচমেন্ট এরিয়ার এ কোটা সুবিধা পেতে অনলাইনে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্বাচন করতে হবে।
ডিজিটাল লটারি ও ফল প্রকাশ
আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর লটারির ফল প্রকাশ করা হবে। মাউশির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে লটারির সম্ভাব্য দিন ঠিক করা হয়েছে ১০ ডিসেম্বর। এরপর ১২ ডিসেম্বর লটারির কার্যক্রম শেষে ফল প্রকাশ করা হতে পারে। তবে বিশেষ কারণে এ তারিখে পরিবর্তন আসতে পারে।
মেধা-অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ ও চূড়ান্ত ভর্তি
ডিজিটাল লটারির ফল প্রকাশের পর ১৭ ডিসেম্বর শুরু হবে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম, যা চলবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি শুরু হবে ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকার ভর্তি চলবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
চূড়ান্ত ভর্তির ফি ও অন্যান্য খরচ
দেশের মফস্বল এলাকার স্কুলে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে ৫০০ টাকার বেশি হবে না। উপজেলা ও পৌর এলাকায় ১ হাজার টাকা, মহানগর এলাকায় (ঢাকা বাদে) সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা।
অন্যদিকে রাজধানীর এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ভর্তি ফি নিতে পারবে ৫ হাজার টাকা। আংশিক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তি ফি নিতে পারবে ৮ হাজার টাকা। তবে ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা।
তাছাড়া রাজধানীর প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রতি বছর সেশন চার্জ নেওয়া যাবে। তবে পুনর্ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না।
৬৮ শতাংশ কোটা, বাদ মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা
সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ৬৮ শতাংশই কোটা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ শতাংশই ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা। তাছাড়া বীর ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্ত দপ্তর-সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ১০ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ২ শতাংশ, অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ ও সহোদর ভাই-বোনরা ৫ শতাংশ কোটায় সংরক্ষিত আসনে ভর্তির সুযোগ পাবেন।
তবে এবার কোটা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা এবং পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে নাতি-নাতনিদের ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রাখার নিয়ম ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার জন্যই কেবল ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকবে। এ কোটায় শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকে এ আসনে ভর্তি করতে হবে।
জানা যায়, প্রতি বছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থী লটারিতে অংশ নিয়ে স্কুলে ভর্তি হয়ে থাকে। সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তির জন্য চেষ্টা করেন সব অভিভাবক। এ নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা। এবার তারা লটারি পদ্ধতি বাদ দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। সময় স্বল্পতার কারণে অভিভাবকদের দাবি এবার বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব না হলেও আগামীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার জবাবে কোনো জটিলতা দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির অতীতেও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, চাকরি ছাড়া বা ছুটি নেওয়ার বিষয়ে এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এর স্পষ্ট নজির রয়েছে। চার দশক আগের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দুই দায়িত্বই সফলভাবে পালন করেছিলেন। ইন্টারনেটপূর্ব যুগেই যদি তা সম্ভব হয়ে থাকে, তবে বর্তমান প্রযুক্তির সময়ে দুটো কাজ একসঙ্গে করা আরও সহজ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন খলিলুর রহমান। এর পর থেকেই আলোচনা শুরু হয় যে, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন নাকি সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগ বা ছুটিতে যাবেন।
অবশ্য গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি সবার জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।
এসময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছরের সময় দেওয়ার কথা বলেছেন। আজ আবারও সেই বক্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অনেকের জার্মানির উদাহরণ টানার প্রেক্ষিতে খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন যে, জার্মানির যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছিলেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি, যা একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল।
দেশে ফেরা হাজিদের ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগকে অসত্য বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের মিস হ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত পরশুদিন রাতের বেলা হাজিরা ফিরেছে। যাদের লাগেজগুলো কাটা হয়েছে এবং ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হয়েছে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রায়শই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়, যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা তার সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। এবং তাতে করে বিভ্রান্তি নিরসন হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই, সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো চুরি বা ইচ্ছাকৃত মিসহ্যান্ডলিংয়ের কারণে ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেকিং লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি বিভ্রান্তিকর এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদুল আজহায় দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় বিভাগভিত্তিক কোরবানির ব্যাপারে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি, ছাগল ও ভেড়া ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি এবং অন্যান্য পশু ৫৫৪টি। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি এবং অন্যান্য পশু ৩৬১টি।
রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১টি, ছাগল ও ভেড়া ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি এবং অন্যান্য পশু ৪২টি। খুলনা বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৮৩ হাজার ১৯২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৬টি এবং অন্যান্য পশু ২৭টি।
বরিশাল বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৪ লাখ ১৬০টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৮টি এবং ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬২টি। ময়মনসিংহ বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৪১টি, ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৪টি এবং অন্যান্য পশু ২৩টি।
রংপুর বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৮টি এবং অন্যান্য পশু ৮টি। আর সিলেট বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১টি, ছাগল ও ভেড়া ৯০ হাজার ২৬৮টি এবং অন্যান্য পশু ১২টি।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু, যা দেশের মোট কোরবানি একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।
গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে। ছাগল ও ভেড়া কোরবানির ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি এবং প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এ বছর জবাইকৃত পশুর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি এবং উদ্বৃত্ত ছিল ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি।
গত বুধবার (৩ জুন) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।
ইতোমধ্যে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম।
অদ্য ০৩/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে তিনি যোগদান করেন।
ইতোপূর্বে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের ১০টি অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত টহলের মুখে এই অনুপ্রবেশ চেষ্টার সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
বিজিবির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীন যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তারা পুনরায় ভারতে ফিরে যায়। একই এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও বিজিবি সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করে। এছাড়া যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর এবং জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক লোক জড়ো করে পুশইনের যাবতীয় আয়োজন বিজিবির সতর্কতামূলক অবস্থানের কারণে ভেস্তে গেছে।
সীমান্তের বিভিন্ন অংশে বিএসএফের স্থাপিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’গুলোতে অনেক মানুষকে আটকে রেখে বাংলাদেশে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে প্রায় ২২ জন এবং নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করার তথ্য পেয়েছে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা। বিশেষ করে নেত্রকোনার একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সেখানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের রওশনপুর ও সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএসএফ দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বার্তা পাঠানো হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আলোকে কাজ করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অনুপ্রবেশের যে-কোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যে-কোনো কার্যক্রম রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি বর্তমানে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং যে-কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সদা জাগ্রত রয়েছেন। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের চালচিত্রটি সবসময়ই যেন এক চরম বৈপরীত্যের গল্প। একদিকে সরকারি হাসপাতালের সীমিত খরচের সেবায় সাধারণ মানুষের অবহেলার অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসার সুরম্য ভবনে পকেট খালি হওয়া চড়া মূল্য। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের বৃহৎজনগোষ্ঠী। তবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।
বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। এসব সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য খাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে এক বিশাল সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতায় ইউনূসের আমলে স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয় নেমে আসে। সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতকে টেনে তুলছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। এই এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।
মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ দিয়ে পরিবহন ও যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতের পর স্বাস্থ্যকে রাখা হয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। এই বিশাল বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পাবে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ পাবে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। বাকি ৫০৩ কোটি টাকা অন্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামীতে মোট বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামীণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৫০ শয্যার ৪৯২টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করবে গণপূর্ত বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, গ্রামীণ পর্যায়ে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা জোরদার করতে এই হাসপাতালগুলোর প্রতিটিতে দুজন করে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।
দেশের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর—এই চার বিভাগীয় শহর এবং কুমিল্লা জেলা সদরে মোট পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে প্রতিটির জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন করে নতুন জনবল প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এই বিশাল জনবল দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে একটি অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিউনিটি ক্লিনিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করছেন। এর ফলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে—একই এলাকায় একাধিকবার সেবা পৌঁছালেও কিছু দুর্গম এলাকা পুরোপুরি সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এই সেবা পুনরাবৃত্তি বা ‘ডুপ্লিকেশন’ দূর করতে এবার পুরো মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে একটি একক সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানের ৪০ হাজার কর্মীর সাথে আরও অতিরিক্ত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী একই ছাতার নিচে এসে কাজ করবেন। একীভূত এই ব্যবস্থায় সবার জন্য অভিন্ন দায়িত্ববণ্টন (জব ডেসক্রিপশন) ও একটি মানসম্মত ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ চালু করা হবে, যাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় সেবার মানে একরূপতা বজায় থাকে।
ভবিষ্যতে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিজ উদ্যোগে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন, যা মাঠকর্মীদের সমন্বিত প্রচারণার মাধ্যমে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা যতটাই আকর্ষণীয় হোক না কেন, তা মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে সংশয় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ‘বছর শেষে একটা সংশোধিত বাজেট করা হয়। সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, শুরুতে যেটা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটা শেষ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে সেই অর্থের পুরোটা পৌঁছায় না।’
বরাদ্দ অর্থ সময়মতো এবং দক্ষতার সাথে ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনাহীন কাজের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করব যে এই বাড়তি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় করা সম্ভব।’ ড. মুহিতও একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা জোরদার করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল উন্নয়ন বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের কাঠামোগত সংস্কার যদি সততা ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য পকেট খালি হওয়ার দীর্ঘশ্বাস অনেকটাই কমে আসবে। স্বাস্থ্য খাতের এই মহাসড়ক যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তির পথ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে এবার। নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
তাড়াহুড়া করে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।
সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়, তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়।
বিইআরসির আদেশ বলছে, পাইকারিতে বর্তমান দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি), প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর আবেদন করে। মূল্যবৃদ্ধির আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২ দশমিক ৯১ টাকার মতো। গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।
সবশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।
গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।
দেশজুড়ে বহমান তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ৪১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। জীবিকার তাগিদে এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়াতেও তাদের বাইরে বের হতে হচ্ছে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আয় কমে যাওয়ার মতো দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন তারা। এ তাপপ্রবাহ আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নাগাদ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া এ তথ্য দিয়েছেন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
হামিদ মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে বৃহস্পতিবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তাপপ্রবাহ কমে আসবে শুক্রবার।’
এদিকে এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় এবং বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজশাহীতে তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: চলমান তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রাজশাহীর স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সব থেকে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের অন্যতম উষ্ণতম দিন পার হয়েছে। এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ ।
এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা দুই-তিন দিন একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা।
কাজে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে হিটস্ট্রোক ও পানিবাহিত রোগী বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও। কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে বিকেল প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সূর্যের প্রখর রোদ থাকায় খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারছেন না।
মো. রহিদুল নামের এক দিনমজুর বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর গরম পড়ায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছি। কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে, আবার কাজ না করলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে যত কষ্টই হোক, কাজ করতে হচ্ছে।
রিকশাচালক সইমুর বলেন, তীব্র গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না বলে আয়ও তেমন হচ্ছে না।
শহরের মোড়ে মোড়ে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাব, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে ভীড় করছেন পেটের দায়ে গরম উপেক্ষা করে রাস্তায় নামা মানুষ।
জীবননগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলাজুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।
প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।
প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন) রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
বদলি করা কর্মকর্তাদের মধ্যে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হককে গাজীপুরের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানকে গাজীপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবালকে বদলি করা হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (টিআর পদে)।
হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হক মুন্সীকে বদলি করা হয়েছে নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে।
এছাড়াও র্যাবে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিরুজ্জামানকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. দ্বীন-ই-আলমকে রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে তাদের নামের পাশে উল্লেখকৃত পদে/স্থানে বদলি/পদায়ন করা হলো। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে তাদেরকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন দেশ থেকে ৫ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে কেনা হবে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হবে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে কেনা হবে ১ কার্গো এলএনজি।
বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন সময়ের জন্য ২৬তম কার্গো, ৩০ জুন-১ জুলাই সময়ের জন্য ২৭তম কার্গো এবং ৬-৭ জুলাই সময়ের জন্য ২৮তম কার্গো— এই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় এক কার্গো এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই তিন কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)।
বৈঠকে আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ২ কার্গো এলএনজি কিনতে মোট কতো টাকা ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং এফআরএসইউ স্থাপনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রস্তাব দাখিল করে।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে কিছু সংখ্যাক এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প মেয়াদে এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে ২০২৬ সালে ২ কার্গো এলএনজি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা-অনুযায়ী দরপ্রস্তাব প্রতি এমএমবিটিইউ (জেকেএম+ শূন্য দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার) হিসেবে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করলে মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এক কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।
ঈদুল আজহার ছুটিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের কপার ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। একাধিক সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত করছে।
গত ২৫ মে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়। সাত দিনের ছুটি শেষে অফিস খোলে গত সোমবার (১ জুন)। এদিন সকালে সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, টেলিফোনে সংযোগ নেই। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে গত সোমবার (১ জুন) শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন ভবন এক নম্বর পর্যন্ত স্থাপিত টেলিযোগাযোগের কপার ক্যাবল ছিল। এই ক্যাবলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ভবনের ছাদে কপার ক্যাবল দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে। ফলে ওই রেড টেলিফোন নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলার মতো তথ্য এখন নেই।’
বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগের আওতাধীন। এ বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছি আমরা।’