বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদি সংষ্কারের চেয়ে স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবনে পিকেএসএফ দিবস-২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থায়ন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে পিকেএসএফ।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সংস্কারের চেষ্টা করছি, তবে তা হবে স্বল্পমেয়াদি; মধ্যমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি নয়। আমরা একটি ফুটপ্রিন্ট রেখে যাচ্ছি, যেটার ওপর দিয়ে পরবর্তী সরকার হাঁটবে।’
‘আমরা নিশ্চিত যে নির্বাচিত সরকার আমাদের পদচিহ্ন এড়াতে পারবে না, কারণ আমরা যা কিছু করছি তা জনগণের কল্যাণের জন্য। জনগণই এ পথ অনুসরণ করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে’- বললেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার নির্বাচিত সরকারের এখতিয়ার হওয়া উচিত। নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ ধরনের সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণ সমীচীন নয়।’
বর্তমান সরকার তার কাজের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে জানিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিদেশি ও দ্বিপাক্ষিক সংস্থা সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। আমাদের ক্যাপাসিটি আছে, সৃজনশীলতা আছে। আমরা এগিয়ে যাব।’
স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেক সুউচ্চ ভবন-অবকাঠামো থাকলেও দেশে ভালো প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। সততার অভাব রয়েছে। প্রতিষ্ঠান ভালো না হলে, যতই প্রজেক্ট করা হোক না কেন, সেটার বাস্তবায়ন হয় না।’
পিকেএসএফকে একটি বিশ্বমানের সংস্থা উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শুধু ঋণ দেওয়া নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করতেও কাজ করেছে পিকেএসএফ। এর গ্রহণযোগ্যতা দাতা সংস্থাগুলোর কাছে অনেক বেশি।’
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদিউর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের।
১৯৮৯ সালের ১৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত পিকেএসএফ দেশব্যাপী ২০০টিরও বেশি সহযোগী সংস্থাকে (পিও) ঋণযোগ্য তহবিল সরবরাহ করে থাকে। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাগুলোর সদস্য সংখ্যা সম্মিলিতভাবে ২ কোটি যার ৯২ শতাংশই নারী। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের মোট ঋণগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ যার মধ্যে ৯২ দশমিক ৭৬ শতাংশই নারী।
আগামী বছরের ২৭ মের মধ্যে পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ২১ জানুয়ারি প্রায় ৮০০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলেও কঠোর অবস্থানে থাকবে কমিশন। নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রার্থী নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন করলে তার প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধাপভিত্তিক নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ করা হবে। প্রথমে জেলা সদরসংলগ্ন এবং পরে উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো সহজ হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা যাবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মানদণ্ড, সেই আলোকে অবশ্যই ভালো নির্বাচন করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। আমাদের নিজস্ব কোনো মোটিভ নেই। আমরা ভালো নির্বাচন করার জন্যই দায়িত্ব নিয়েছি। ভালো নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন, সবই আমরা করব। আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে।’
তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া হবে, যাতে সবাই মিলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।
ইউপি নির্বাচনে যেকোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে কমিশনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচনে জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভ—দুই ধরনের ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কেউ নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের প্রতি বিশেষ বিবেচনা না করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে মারামারি, বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তির ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রার্থী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।
তবে কমিশনের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া বা নির্বাচন বন্ধ করা নয় উল্লেখ করে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, মানুষ যাতে অপরাধ থেকে বিরত থাকে এবং আইন মেনে চলে, সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই কমিশনের লক্ষ্য।
গত সোমবার কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপ, ২৯ এপ্রিল তৃতীয় ধাপ, ১৩ মে চতুর্থ ধাপ এবং ২৭ মে পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচনি অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ ও ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অপরাধ প্রতিরোধে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, আঘাত বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধা দেওয়া কিংবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা অপরাধ। একইভাবে কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যম প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষকের কাজে বাধা দেওয়া, তাদের শারীরিক ক্ষতি করা কিংবা দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম নষ্ট করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ছাড়া কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, কোনো প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র দাখিল থেকে বিরত রাখা কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও এ বিধির আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে যে চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী কিংবা তার নির্বাচনি এজেন্ট বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে কোনো প্রার্থী, তার নির্বাচনি এজেন্ট অথবা তার নির্দেশে কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিতে অন্য কেউ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
অনিয়ম হলে ফল স্থগিত, পুনরায় ভোটের সুযোগ
নির্বাচনি অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে তা স্থগিত করার ক্ষমতাও কমিশনের রয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের মাধ্যমে কোনো ভোটকেন্দ্র বা একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল স্থগিত করা যাবে।
এ ক্ষেত্রে কমিশন প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দিতে পারবে। আর অনুসন্ধানে ন্যায়সংগত মনে হলে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে সেখানে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দিতে পারবে।
নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধানও রয়েছে সংশোধিত নির্বাচনি বিধিমালায়। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন নির্ধারিত সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে। এসব কমিটি নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করবে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ ধাপে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। প্রভাব বিস্তার ও পেশিশক্তির ব্যবহার ঠেকাতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার, প্রার্থিতা বাতিল এবং অনিয়মপূর্ণ কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের ওপরই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্ভর করবে। সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ ছিলেন বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের এক লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা। দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই প্রয়াণে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারাল, যা জাতীয় রাজনীতি ও দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান বিএনপি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর শোকবার্তায় মরহুমের রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত আটটা ১০ মিনিটে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ডলার জোগাচ্ছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। তাদের পাঠানো অর্থে সচল থাকছে অসংখ্য পরিবারের জীবন, মিটছে সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয়, শক্তিশালী হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সেই সম্ভাবনার সামনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকি ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের প্রবাসী আয়, কর্মসংস্থান এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে একাধিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো। ফলে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ৮২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকাশ করা সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
এর আগে বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী ৬২টি ফ্লাইট এবং ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী প্রভাবিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির অবনতি এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের স্থগিতাদেশের কারণে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা থেকে দাম্মামগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর আগে সোমবার ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়।
তবে এই উদ্বেগের মধ্যেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসংস্থানের উদ্দেশে বিদেশে গেছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন বাংলাদেশি। একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। শুধু অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনেই এসেছে ১২৯ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই ইতিবাচক ধারায় চাপ তৈরি হতে পারে।
রেমিট্যান্সের বড় উৎস সৌদি আরব: বাংলাদেশের বিদেশে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় গন্তব্য সৌদি আরব। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন বাংলাদেশি কর্মী। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে ৫৩ হাজার ২৯৭, কাতারে ৪২ হাজার ৫১৬, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ৭০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন কর্মসংস্থানের উদ্দেশে গেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি থেকে দেশে এসেছে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। গত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে এসেছে প্রায় ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১২৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ৯৭৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় ছিল ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হলে কিছু প্রবাসী শ্রমিককে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সৌদি আরবে নিয়োগ কমে গেলে কিংবা কর্মীদের আয় ও কর্মঘণ্টা সীমিত হলে দেশে অর্থ পাঠানোর সক্ষমতাও কমতে পারে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ে কর্মীদের অনিশ্চয়তা: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ২৩টি সরাসরি ও ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইটের সূচি প্রভাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ জন যাত্রী।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সও ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে।
ফ্লাইট বাতিল ও সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে অনেক কর্মী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরিতে যোগদানের সময়সীমা, ভিসার মেয়াদ, নতুন টিকিট কেনা এবং অতিরিক্ত থাকা-খাওয়ার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে বেবিচক। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের তথ্য দ্রুত জানানো, পুনরায় টিকিট বুকিং ও অর্থ ফেরতে সহায়তা, অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বসার জায়গা, পানীয় জল ও হালকা খাবারের ব্যবস্থা এবং শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা। ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতেও বলা হয়েছে।
জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ঝুঁকি: সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সের বাইরেও বিস্তৃত। দেশের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে সৌদি আরব থেকে। ফলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে কিংবা আঞ্চলিক নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে জাহাজ চলাচলের সময়, বিমা ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়েও চাপ পড়বে। এর প্রভাব পরিবহন, শিল্প উৎপাদন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সংঘাতের প্রকৃত প্রভাব নির্ধারণে আমদানির পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি ও বিকল্প উৎসের তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।
বিকল্প শ্রমবাজারে সরকারের উদ্যোগ: মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায় সরকার বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী গেছেন। এ অঞ্চলে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া ওমান বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে পরিবারসহ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রের টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং খাতে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী। দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানিও ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে চুক্তি, ভিসা, নিয়োগসংখ্যা এবং বাস্তবে কর্মী পাঠানোর অগ্রগতির ওপর। বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো, দালালচক্রের প্রতারণা বন্ধ, চুক্তি অনুযায়ী বেতন নিশ্চিত করা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার করাও জরুরি। কারণ বিদেশযাত্রার জন্য ঋণ নেওয়া অনেক কর্মী প্রত্যাশিত কাজ বা বেতন না পেলে তাদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপে পড়ে।
বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবের সংঘাত বাংলাদেশের জন্য শুধু প্রবাসী আয়ের ঝুঁকি নয়; এটি কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফ্লাইটে আটকে পড়া কর্মীদের কাজে ফেরার ব্যবস্থা করা এবং বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করা জরুরি। প্রবাসী আয়ের বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিদেশে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তা ও উপার্জনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বঙ্গোপসাগরের গভীরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি সম্পদের সন্ধানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নতুন পর্ব শুরু হয়েছে। চীনের দুটি এবং তুরস্কের একটি জ্বালানি কোম্পানি ইতোমধ্যে সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রের আনুষ্ঠানিক নথি কিনেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমবিল, যুক্তরাজ্যের বিপি এবং ইতালির এনির মতো বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে দরপত্রে যুক্ত করতে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার। দেশের জ্বালানি চাহিদা, আমদানিনির্ভরতা এবং দেশীয় গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এবারের দরপত্রকে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, চীনের সিনোপেক ও সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি (টিপিএও) দরপত্রের আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্যাকেজ বা প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনেছে। এর মধ্যে সিনোপেক বিশেষায়িত ভূতাত্ত্বিক তথ্যের প্যাকেজও সংগ্রহ করেছে। তবে নথি কেনা মানেই দরপত্র জমা দেওয়া কিংবা অনুসন্ধান চুক্তি নিশ্চিত হওয়া নয়। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় কতটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, সেটিই হবে এবারের উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
গত ২৪ মে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ চালু করে। বঙ্গোপসাগরের অগভীর সমুদ্রের ১১টি এবং গভীর সমুদ্রের ১৫টিসহ মোট ২৬টি ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর ২০২৬।
তিন কোম্পানির অগ্রগতি, নজর বড় বিনিয়োগকারীদের দিকে: দরপত্র বিক্রির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিনোপেক আনুষ্ঠানিক দরপত্রের নথির পাশাপাশি বিশেষায়িত ডেটা প্যাকেজ কিনেছে। এর আগে ১৭ আগস্ট সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং ২৩ জুলাই টিপিএও দরপত্রের প্রমোশনাল প্যাকেজ সংগ্রহ করে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) মো. শোয়েবের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০টি কোম্পানি তথ্যপ্যাকেজ কিনেছে। তবে আনুষ্ঠানিক দরপত্রের নথি কিনেছে তিনটি কোম্পানি। পেট্রোবাংলা আশা করছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আরও কয়েকটি বড় কোম্পানি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে।
তথ্যপ্যাকেজ মূলত অনুসন্ধানের প্রাথমিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজে লাগে। প্রমোশনাল প্যাকেজে দরপত্রের শর্ত ও অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় নথি থাকে। আর বিশেষায়িত ডেটা প্যাকেজে সমুদ্রের তলদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন, সিসমিক তথ্য এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাসের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত উপাত্ত পাওয়া যায়। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই কোম্পানিগুলো অনুসন্ধানে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য লাভের হিসাব করে।
তথ্যপ্যাকেজ কেনা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেরিঞ্জিয়া পাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেড, ক্রিসএনার্জি, পিইএএল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, ওনোডা ইনকরপোরেটেড, রাইস্ট্যাড এনার্জি, ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ইমপ্রেশন ভেঞ্চারস। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্য এক নয়; সবাই যে অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র জমা দেবে, তা নিশ্চিত নয়।
এক্সনমবিল-বিপিকে টানতে বিশেষ উদ্যোগ: আন্তর্জাতিক বড় কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক্সনমবিল, বিপি ও এনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে।
দরপত্র ঘোষণার পরপরই এক্সনমবিল পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পরে অনলাইন বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার তথ্য সংগ্রহ করেছিল। এবারের দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি কেনার আগ্রহও জানিয়েছে বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিপির কর্মকর্তারাও গত জুলাইয়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করেন। এ ছাড়া মারফি অয়েল, ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস এবং কুয়েত ফরেন পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানিকে (কুফপেক) দরপত্রে যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে। তবে আলোচনা বা আগ্রহকে নিশ্চিত অংশগ্রহণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি সংগ্রহ, কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতা যাচাই এবং দরপত্র জমা দেওয়ার পরই বোঝা যাবে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কতটা বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নিচ্ছে।
বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চুক্তির শর্তে পরিবর্তন: এবারের দরপত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি বা মডেল পিএসসি-২০২৬-এ পরিবর্তন। আগের দরপত্রে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ার পর বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় অনুসন্ধান কার্যক্রমে ব্যয় পুনরুদ্ধারের সুযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং মুনাফা বিদেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অনুমোদিত ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বছরে ব্যয় পুনরুদ্ধারের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ শতাংশ।
গ্যাস বিক্রির ক্ষেত্রেও নমনীয়তা আনার উদ্যোগ রয়েছে। পেট্রোবাংলা বা দেশীয় ক্রেতারা গ্যাস কিনতে না চাইলে চুক্তির শর্ত ও প্রযোজ্য বিধান অনুসারে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা রপ্তানির সুযোগ রাখা হয়েছে। অগভীর সমুদ্রের ব্লকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের ১০ শতাংশ অংশীদারত্বের ব্যবস্থাও রয়েছে।
এসব সুবিধার লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাকে বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা। তবে চুক্তির সুবিধা নির্ধারণের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ন্যায্য রাজস্ব, সম্পদের ওপর জাতীয় স্বার্থ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
গভীর সমুদ্রে অভিজ্ঞ কোম্পানির সম্ভাবনা: আন্তর্জাতিক দরপত্রে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটির গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মারফি অয়েল মেক্সিকো উপসাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ করেছে। ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস গভীর সমুদ্রের তেল-গ্যাস উৎপাদনে পরিচিত। কুফপেকেরও এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে অনুসন্ধান প্রকল্পে অংশীদারত্ব রয়েছে। এ ধরনের অভিজ্ঞ কোম্পানি বাংলাদেশের দরপত্রে অংশ নিলে উন্নত প্রযুক্তি, বড় বিনিয়োগ এবং গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কোন ব্লকে আগ্রহী, কত অর্থ বিনিয়োগ করবে কিংবা কী পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য নেই।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় সুযোগ, তবে ফল পেতে সময় লাগবে: বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধানের গুরুত্ব শুধু নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশীয় গ্যাসের সরবরাহের ওপর চাপ এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও সরবরাহের ঝুঁকি দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। নতুন দেশীয় উৎস পাওয়া গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং সার উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। তবে অনুসন্ধান থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে পৌঁছাতে কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে। প্রথমে সিসমিক জরিপ ও ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এরপর অনুসন্ধান কূপ খনন, মজুতের পরিমাণ নির্ধারণ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হয়। সমুদ্রের গভীরতায় এসব কাজ ব্যয়বহুল ও কারিগরিভাবে জটিল। কোনো কূপে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই এবারের দরপত্রে প্রকৃত প্রতিযোগিতা তৈরি করা, স্বচ্ছভাবে যোগ্য কোম্পানি নির্বাচন এবং অনুসন্ধানের কাজ নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কতটি কোম্পানি দরপত্র জমা দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে বাস্তব জ্বালানি সম্পদে রূপ দেওয়ার পরবর্তী অগ্রগতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ৭ম বৈঠক কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। তারা সংবিধান সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আলোচনায় সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। উপস্থিত আলোচকদের অনেকে ইতোমধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদেরও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের কমিটির কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতির প্রত্যাশা ও জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবায়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, এমপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন(বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, এমপি; প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি; মো. আশরাফ উদ্দিন, এমপি; মো. মজিবুর রহমান, এমপি; নিলোফার চৌধুরী মনি, এমপি; ফাহমিদা হক, এমপি; মো. শফিকুল ইসলাম, এমপি এবং মোসা. নাজমুন নাহার, এমপি অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনঃব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূল, জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। আবার প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ সমস্যার সমাধানে উৎপাদন থেকে ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নীতিমালার সুফল পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এনপিএপি বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ প্ল্যাটফর্ম বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে যুক্ত করতে, নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের সংযোগ ঘটাতে, উদ্ভাবকদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সমন্বয়ে সহায়তা করবে। সরকার নেতৃত্ব দেবে, তবে এ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি এনপিএপি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন সহযোগীদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সহযোগিতা সমন্বয় করতে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চক্রাকার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য সভার সংখ্যা দিয়ে নয়, বাস্তব ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের উন্নতি, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর সমাধানের প্রসার এবং জনগোষ্ঠী ও বর্জ্যকর্মীদের অবস্থার উন্নতিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব বর্জ্য ফেলার স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নালা বন্ধ করে, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদীর মাধ্যমে সাগরে পৌঁছায়। প্লাস্টিকসহ বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর কণা ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, পরিবারকে বর্জ্য আলাদা করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের সময় তা আলাদা রাখা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড ভিডিও বার্তা দেন। এনপিএপি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্লাস্টিকসংক্রান্ত অভিন্ন জাতীয় তথ্যভিত্তি তৈরি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে ইউএনডিপি মত দেয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান,বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই আনুষ্ঠানিক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথা জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ধারণা করছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের সঙ্গে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা অবিলম্বে মার্কিন স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, এ ধরনের অশালীন ও সহিংস আচরণ কেবল সন্ত্রাসীদের পক্ষেই ঘটানো সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সরকারপ্রধানকে এভাবে হেনস্তা করা কেবল ব্যক্তি ইউনূসের ওপর আঘাত নয়, বরং এই ঘটনার মাধ্যমে গোটা দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে অসম্মান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে তারা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্ত সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সাক্ষাতে তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী।
সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা এবং প্রকাশনার স্থানের ভিন্নতা অনুযায়ী সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলা ও মফস্বল শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্রের জন্য পৃথক বিজ্ঞাপন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রচার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট স্তরে বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়বে, তবে প্রতিটি শ্রেণির সংবাদপত্রের জন্যই একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ক্যাপ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রের তথ্যমতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার হলে বিজ্ঞাপনের ভিত্তি হার হবে ৪৫০ টাকা। এরপর ৭ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার প্রচার সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৭ টাকা করে, ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজারের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৬ টাকা এবং ৫০ হাজার ১ থেকে ৯০ হাজারের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৫ টাকা করে হার বাড়বে। প্রচার সংখ্যা ৯০ হাজার ১ বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা হারে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এই শ্রেণির সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার হলে বিজ্ঞাপনের হার হবে ৪২০ টাকা। পরবর্তী ধাপে প্রচার সংখ্যা ৫ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত প্রতি হাজারে ৬ টাকা, ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত প্রতি হাজারে ৫ টাকা এবং ৫০ হাজার ১ বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা হারে বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়বে। এই ক্যাটাগরির সংবাদপত্রের জন্য বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫০ টাকা।
অন্যদিকে জেলা শহর ও অন্যান্য স্থান থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হলে বিজ্ঞাপনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। প্রচার সংখ্যা ৪ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত প্রতি হাজারে ৬ টাকা এবং ৩০ হাজার ১ বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ৫ টাকা হারে বিজ্ঞাপন মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যেখানে সর্বোচ্চ সীমা থাকবে ৮০০ টাকা। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত অর্ধসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা এবং সাময়িকীর বিজ্ঞাপন মূল্যহারও আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় তথ্যচিত্র নির্মাণে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ওই বৈঠকে।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরো বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তরুণদের ভূমিকার কারণেই দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যেও তরুণরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে ভেবেছেন এবং সাহসের সঙ্গে নিজেদের চিন্তা তুলে ধরেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনঅধিকার পার্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘদিনের ভয়াবহ দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার উত্থান ঘটে। এরপর প্রায় দেড় বছরের মাথায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মতো নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের ব্যাংক, বীমা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাই ছিল শেষ কথা। সরকারি প্লট থেকে শুরু করে কৃষিজমি ও গৃহস্থের গবাদিপশু পর্যন্ত প্রভাবশালীদের পছন্দ অনুযায়ী দখল করা হতো। দেশ তখন ভয়াবহ অন্ধকারের মধ্যে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা এখন সরকারের ওপর পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ঋণের নামে লুটপাট করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকারের নয়, বরং অতীতের লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ।