বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিভিল প্রসাশনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে, তা সরকারেরই নির্ধরণ করবে। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে সেনাবাহিনী কতদিন মোতায়েন থাকবে।
আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের বনানী রেল ক্রসিং সংলগ্ন স্টাফ রোডের মেসে এক সংবাদ সম্মেলন ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তা করতে ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কত দিন থাকব এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে, সরকারই এটা নির্ধারণ করবে কত দিন মোতায়েন থাকা প্রয়োজন।
১৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যেন সুষ্ঠুভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী সতর্ক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬২ জেলায় সেনা সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে সহায়তা করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে আহত ৩২৯৫ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় দুই লাখ গোলাবারুদ এবং বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ অন্যান্য অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তি এবং ৭০০ জনের বেশি মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ঘটনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রতিরোধের বিষয়ে সেনাবাহিনী অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আদেশ রয়েছে। যেকোনও ধরনের পরিস্থিতিতে যেন আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হতে না দেই, আমাদের সেই চেষ্টা রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন না ঘটে এ ক্ষেত্রেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে।
এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে এ পর্যন্ত ছয়শর বেশি আনরেস্ট হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভায়োলেন্ট ছিল। অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়ে এগুলো যদি সময়মত প্রতিরোধ বা শান্ত করার ব্যবস্থা না করা হত, তাহলে অনেক বেশি ঘটনা ঘটতে পারত।
সেনা সদস্যরা এক ব্যক্তিকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন- এমন একটি ভিডিওর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, পরিস্থিতির প্রয়োজনে অনেক কিছু করতে হয়, তবে সেনাবাহিনী টার্গেট করে কাউকে মেরেছে এমন কোনো ঘটনা হয়নি। পুলিশের কাছে অপরাধের যেসব তথ্য থাকে, সেগুলো নিয়েও সেনাবাহিনী কাজ করছে।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে যতটুকু আশা করা গেছে সে অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে। অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, গুলশানে একজন মেজরের সঙ্গে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক খুবই ভালো।
পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা ছাড়াও এসএসএফের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসএসএফের ভারী অস্ত্র খোয়া যায়নি। কিছু পিস্তল খোয়া যায়। আর পুলিশের খোয়া যাওয়া বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যেগুলো উদ্ধার হয়নি সেগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।
ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা প্রদান, যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখাকে মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব বলপ্রয়োগ বা সেন্সরশিপ দিয়ে নয়, বরং খোলামেলা জবাবদিহির মাধ্যমেই দেওয়া উচিত।
বিবৃতিতে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের তরুণদের মুক্তির লড়াই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সংঘটিত অভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সেই ক্রান্তিকালে ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতপ্রকাশকারীরাও সংহতি জানিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক শাহিনবাগের আন্দোলন এবং জেএনইউ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি রাজপথে ভারতীয় তরুণীদের সাহসী ভূমিকা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের আত্মত্যাগের সমান্তরাল গুরুত্ব তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা কোনো ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রচিত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেই কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রতিহত করে ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আতঙ্কের মধ্যে থাকলে এবং ভিন্নমত প্রকাশকে অপরাধ বিবেচনা করে পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নির্ধারণ করা হলে কোনো সমাজকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক বলা চলে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের সরঞ্জাম জব্দ ও ভয়ভীতি বন্ধ করা এবং আটকদের আইনি ভিত্তি প্রকাশ করে অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিচার ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী থাকা মানবাধিকারকর্মী শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁদের সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এসব বিবেকের বন্দীদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মকে নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
বিবৃতির শেষাংশে সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন সংকট, পরিবেশ সুরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে দুই দেশের জনসাধারণের মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন নাহিদ ইসলাম। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিভাজন ও ফ্যাসিবাদের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঐক্যবদ্ধভাবে তরুণ প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে তিনি তাঁর বিবৃতি শেষ করেন।
ভাষাদক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেছেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি দক্ষতা অর্জন, জ্ঞান বিনিময় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ লিগ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা আপনাকে শুধু নিজের ভাব প্রকাশের দক্ষতাই দেয় না, সমাজে আপনার অবস্থান ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রও প্রসারিত করে। আপনি কতটা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন, নিজের চিন্তা অন্যের কাছে কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন, তা শিক্ষা, কর্মজীবন ও পেশাগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভাষাশিক্ষাকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বাস্তব জীবনে যোগাযোগ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
চীনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিজস্ব ভাষায় বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক পরিভাষা সমৃদ্ধ করা এবং সেই ভাষায় জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করা একটি দেশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশেরও মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে জ্ঞান বিনিময়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে উন্নীত করার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ জন্য কারিগরি জ্ঞান, যোগাযোগদক্ষতা এবং ইংরেজি ও চীনা ভাষাসহ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে।’ তরুণদের ভাষাশিক্ষার সাফল্যকে বৃহত্তর দক্ষতা উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও টেকসই করতে সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে একটি কার্যকরী সংসদের মাধ্যমেই পূর্ণতা দিতে হবে।’
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও শিরীন সুলতানা এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব ও খন্দকার লুৎফর রহমান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন সভার সঞ্চালনা করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক কর্মীদের মূল পেশা আন্দোলন বা সংগ্রাম নয়, বরং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করা।
শহীদ জেহাদ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশকে ত্বরান্বিত করতে হবে। শুধু আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাসচর্চায় বন্দি না থেকে শহীদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে একটি কার্যকরী সংসদ গঠন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা ইশতেহারেই ফ্যাসিবাদের বিলোপ ঘটিয়ে আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা অর্জিত গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দেবে।
চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারি জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারি : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিকে প্রাধান্য দেবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারি চায়।
জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিসংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবেলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাপানি সরকারের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
তিনি জানান, আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সে দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।
পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদ রক্ষার যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী সেমিনারে বক্তব্য দেন।
সূত্র: বাসস
মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।
এ সময় প্রকল্পের গবেষকরা তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পের গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এর কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন। প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা।
গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গবেষকরা।
এ সময় গবেষকরা জানান, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
তারা জানান, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একইসাথে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগের মুখে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় নির্ধারিত এই পরীক্ষা আকস্মিকভাবে বাতিলের ঘোষণা আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর ব্যস্ত নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থীরা জানান, বিধিমোতাবেক পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে পরিদর্শকদের উপস্থিতি ও প্রশ্নপত্র সরবরাহের নিয়ম থাকলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কাউকে দেখা যায়নি। এতে অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের মাঝে চরম বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টা পার হয়ে গেলেও পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় প্রার্থীরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি মৌখিকভাবে জানান।
আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ঘুরছিল, যার সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নের মিল লক্ষ্য করা যায়। আগে থেকে অবগত না করে শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে রাজধানীতে এসে থাকার পর এমন ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অধিদপ্তরের নিয়োগ কার্যক্রমে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ এবং এর স্থায়ী প্রতিকারের দাবিতেই তাঁরা রাজপথ অবরোধে বাধ্য হয়েছেন।
উল্লেখ্য, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
ইসলামের দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের কোনো দ্বিমত নেই এবং এই তীর্থভূমি আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের প্রত্যাশা অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদানে ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই সুস্পষ্ট বার্তা দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও গভীর আস্থার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের মূল ক্ষেত্র হওয়া উচিত দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ। বাংলাদেশ কারও ওপর নির্ভরশীল না থেকে সরাসরি বিনিয়োগ অংশীদার হতে চায়। দেশে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি রিয়াদের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে সম্পর্কের দ্বিতীয় প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে শ্রমবাজারের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় সৌদি আরবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলে সৌদি নেতৃত্বাধীন মক্কা জোটে অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার।
এদিকে কূটনৈতিক সফরের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধানের এই টোকিও সফরে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতের সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে নিছক জনশক্তি রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক আস্থার। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে ঢাকা এখন রিয়াদের সঙ্গে জোরালো বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মেলবন্ধন প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি উদ্যোক্তাদের অনুকূল পরিবেশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত শ্রমশক্তির বাইরে দক্ষ ও কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে সৌদি শ্রমবাজারে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতে চায়।
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি আরবের নেতৃত্বে নেওয়া মক্কা চুক্তির উদ্যোগটিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে। শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌদি আরব সফরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা দুই ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে মধ্যরাতে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। নিক্ষিপ্ত ককটেলগুলোর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়, যা পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। তিনি জানান, রাত সোয়া ১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দুই ব্যক্তি এসে ঘটনাস্থলে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তাঁরা সড়ক লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তরা আগারগাঁও হয়ে কাফরুলের সড়ক ব্যবহার করে চলে গেছেন।
ডিসি ইবনে মিজান আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্পর্শকাতর এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ এবং সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, সমান নিরাপত্তা, সমান স্বাধীনতা এবং সমান মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত 'মহালয়া ১৪৩৩'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন একথা বলেন।
সকাল ৬ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একইসঙ্গে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এই উৎসবের মূল বার্তা। সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মাহদী আমিন এ সময় বলেন, 'আজ আমরা এমন একটি এলাকায় সমবেত হয়েছি, যা সংসদীয় আসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এলাকা। আমরা বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা ছাপিয়ে আমাদের একটাই পরিচয় হবে, আর তা হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি।'
তিনি সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ ও শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন।
দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আমরা চাই এই উৎসবের আনন্দ একইভাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের অন্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক দৃঢ় বন্ধন। আমাদের মধ্যকার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আমরা এমন এক মানবিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।
বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের অন্তরের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং একতাবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই আমাদের চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব নির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং সার্বিক জনকল্যাণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আর সে কারণেই আমরা বলি 'সবার আগে বাংলাদেশ'। দেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মহালয়ার বার্তা ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সকলের জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধি। সবশেষে তিনি আয়োজনের সুন্দর ও সার্থকতার মাধ্যমে সনাতনী সমাজের সর্বাঙ্গীন কল্যাণ কামনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায় প্রমুখ। সূত্র: বাসস
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘এ খাতে বাজেট বরাদ্দ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ এ উদ্যোগের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির (বিটিএস) ৮ম জাতীয় সম্মেলন ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘দেশে গত দুই বছর হামের টিকাদানে ঘাটতি থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে সৃষ্ট এ পরিস্থিতির চাপ বর্তমান সরকারকে সামাল দিতে হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা মোকাবিলা এবং জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পতিত সরকার দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করেছেন। স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নেও সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।’
থাইরয়েড রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘মানবদেহের বৃদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে থাইরয়েড গ্রন্থির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ রোগের প্রতিরোধ, দ্রুত নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, থাইরয়েড বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও গবেষণায় সহযোগিতার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সংসদে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ থাকলে তা বাস্তবায়নেরও চেষ্টা করবেন। শিক্ষা, উদ্ভাবন ও কার্যকর উদ্যোগের সমন্বয়ের মাধ্যমে থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে চিফ হুইপ বলেন, এ সম্মেলনে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (নিনমাস) পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এম এ করিম এবং ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা। অনুষ্ঠানে সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফৌজিয়া মোসলেম উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী সম্মেলনে থাইরয়েড রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, থাইরয়েড ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড সমস্যা, আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগ এবং থাইরয়েড রোগের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বৈজ্ঞানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ১২টি মৌখিক গবেষণাপত্র ও ১০টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট (ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর) থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎসংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের’ সার্বিক অগ্রগতি ও প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎসংযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ-চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে। বৈঠকে রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, আগামী বছর থেকে দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্ট-আপ কার্যক্রম শুরু হবে।
বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সাফল্য ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে পারমাণবিক শক্তি খাতের আরও সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়।
মানবপাচার নির্মূলে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা বাড়লেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। গত বছরগুলোর তুলনায় মানবপাচারবিরোধী উদ্যোগ জোরদার হলেও অপরাধীদের দণ্ডিত করার সংখ্যা কমেছে। দেশের অভ্যন্তরে মানবপাচার বন্ধেও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’-এ বলা হয়েছে, মানবপাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। আগের প্রতিবেদনের সময়কালের তুলনায় সামগ্রিক অগ্রগতি হওয়ায় বাংলাদেশকে এবারও ‘টায়ার-২’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবপাচার মোকাবিলায় আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে। পাশাপাশি মানবপাচারের ঘটনায় তদন্ত ও মামলা বাড়ানো, অপরাধ শনাক্তকরণ এবং ভুক্তভোগী চিহ্নিত করার নির্দেশিকা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দ্রুত সুরক্ষাসেবা দিতে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি ডিজিটাল ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। মানবপাচারের ঝুঁকি কমাতে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। তবে এসব অগ্রগতির পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার এবার কমসংখ্যক মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। ভ্রমণ গাইড বাংলাদেশ এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়োগ ফি আদায়ের প্রচলন বন্ধ হয়নি। এসব ফি দিতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমাস ‘টমি’ পিগট বলেছেন, মানবপাচার স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত হানে—যে মূল্যবোধগুলো আমেরিকার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।
তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অপরাধী সংগঠন ও দমনমূলক শাসনব্যবস্থাগুলো কীভাবে আর্থিক লাভের জন্য এই ঘৃণ্য অপরাধের নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে, তা তুলে ধরা হয়েছে।’
মানবপাচারকারীদের শাস্তি দিতে এবং নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ সরকারগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
পিগট বলেন, ‘মানবপাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের বিদ্যমান উপায় ব্যবহার করবে।’