শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সে সিদ্ধান্ত সরকারের: সেনা সদর

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ১৯:১৯

বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিভিল প্রসাশনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে, তা সরকারেরই নির্ধরণ করবে। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে সেনাবাহিনী কতদিন মোতায়েন থাকবে।

আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের বনানী রেল ক্রসিং সংলগ্ন স্টাফ রোডের মেসে এক সংবাদ সম্মেলন ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় মোতায়েন করা সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তা করতে ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কত দিন থাকব এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। কারণ সেনাবাহিনী মোতায়েন হয়েছে সরকারের সিদ্ধান্তে, সরকারই এটা নির্ধারণ করবে কত দিন মোতায়েন থাকা প্রয়োজন।

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যেন সুষ্ঠুভাবে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী সতর্ক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৬২ জেলায় সেনা সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে সহায়তা করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে আহত ৩২৯৫ জনকে দেশের বিভিন্ন সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৪৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র ও প্রায় দুই লাখ গোলাবারুদ এবং বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ অন্যান্য অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংশ্লিষ্ট আড়াই হাজারের বেশি ব্যক্তি এবং ৭০০ জনের বেশি মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ঘটনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব হায়দার খান বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রতিরোধের বিষয়ে সেনাবাহিনী অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আদেশ রয়েছে। যেকোনও ধরনের পরিস্থিতিতে যেন আমরা বিচারবহির্ভূত হত্যা সংঘটিত হতে না দেই, আমাদের সেই চেষ্টা রয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন না ঘটে এ ক্ষেত্রেও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে।

এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরে এ পর্যন্ত ছয়শর বেশি আনরেস্ট হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভায়োলেন্ট ছিল। অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়ে এগুলো যদি সময়মত প্রতিরোধ বা শান্ত করার ব্যবস্থা না করা হত, তাহলে অনেক বেশি ঘটনা ঘটতে পারত।

সেনা সদস্যরা এক ব্যক্তিকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন- এমন একটি ভিডিওর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, পরিস্থিতির প্রয়োজনে অনেক কিছু করতে হয়, তবে সেনাবাহিনী টার্গেট করে কাউকে মেরেছে এমন কোনো ঘটনা হয়নি। পুলিশের কাছে অপরাধের যেসব তথ্য থাকে, সেগুলো নিয়েও সেনাবাহিনী কাজ করছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে যতটুকু আশা করা গেছে সে অনুযায়ী উন্নতি হয়নি। পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে। অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল ইন্তেখাব বলেন, গুলশানে একজন মেজরের সঙ্গে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক খুবই ভালো।

পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা ছাড়াও এসএসএফের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসএসএফের ভারী অস্ত্র খোয়া যায়নি। কিছু পিস্তল খোয়া যায়। আর পুলিশের খোয়া যাওয়া বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যেগুলো উদ্ধার হয়নি সেগুলো উদ্ধারে কাজ চলছে।


মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু, মিরপুর ও ফার্মগেটে আতঙ্ক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এবং ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তুর উপস্থিতির খবরে জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। এ সংবাদের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা রহস্যময় বস্তুগুলো পরীক্ষার কাজ শুরু করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ‘মিরপুর ও তেজগাঁও-দুই জায়গায় একসঙ্গে বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশের দল কাজ করছে।’

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের একটি পিলারের সন্নিকটে একটি পরিত্যক্ত বস্তা পাওয়া গেছে যা থেকে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অবিলম্বে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে তলব করা হয়েছে। বর্তমানে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যশৈনু মারমাসহ পুলিশের একটি দল সেখানে অবস্থান করছেন। বেলা ১টা ২৮ মিনিটের দিকে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। যদিও তল্লাশি ও পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে, তবে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল এখনো স্বাভাবিক আছে।

অন্যদিকে মিরপুর ১০ নম্বর স্টেশনের পরিস্থিতি নিয়ে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার গণমাধ্যমকে জানান যে, স্টেশনের নিচে একটি সন্দেহভাজন বস্তু পাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি সদস্যরা তদন্ত চালাচ্ছেন। এটি আসলে কোনো ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোরেল সংলগ্ন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি ও সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত মতামতের জন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে।


মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: সার্জিও গর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং শীঘ্রই একটি প্রতিনিধি দল এ দেশে বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে আসছেন বলে জানিয়েছেন সফররত মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সার্জিও গর জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তার আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার অফিসে একটি খুব ভালো বৈঠক শেষ করেছি। যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়।” বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষে মার্কিন সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’ বা ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করেছে। এর ফলে পর্যটক এবং বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে নতুন উৎসাহ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষ দূত আরও জানান, আগামী সপ্তাহেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছেন। তারা মূলত ওষুধ শিল্পসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগগুলো খতিয়ে দেখবেন। সার্জিও গর তার বার্তায় নিশ্চিত করেন যে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারা এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতর ধাপে নিয়ে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী।

উল্লেখ্য, সার্জিও গর গত ৩০ জুলাই তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন। সফরের প্রথম দিন তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দ্বিতীয় দিন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের সমাপ্তি ঘটল।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বহু আলোচনা ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ৫ আগস্ট যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। ৫ আগস্ট সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দীপংকর বিশ্বাস শনিবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বোধনের সময় চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হলে তিনি ৫ আগস্ট সময় দিয়েছেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার উত্তাল গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে এবং জনতা গণভবন দখল করে নেয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত গণভবনকেই এখন একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। এই জাদুঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুর্লভ আলোকচিত্র, ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ এবং শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং গত ১৭ বছরের শাসনের বিভিন্ন নিদর্শনও এখানে স্থান পেয়েছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা প্রতিকূলতা ও অনিয়মের অভিযোগে কার্যক্রমটি দীর্ঘায়িত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে এটি উদ্বোধনের ঘোষণা দিল। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা এবং সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই জাদুঘরের প্রধান লক্ষ্য। উদ্বোধনের পর এটি সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে গাইডেড ট্যুর এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।


জুলাইয়ে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশে গত জুলাই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের সামগ্রিক সংখ্যা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার সংস্থাটির সভাপতি সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরাধের মোট সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেলেও নির্যাতনের ধরন আরও নৃশংস ও জটিল হয়ে উঠছে।

এমএসএফ-এর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, গত জুন মাসে সারা দেশে ৩২০টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হলেও জুলাই মাসে তা কমে ৩০৬টিতে দাঁড়িয়েছে। শতাংশের হিসেবে নির্যাতনের ঘটনা ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমলেও ধর্ষণের পরিসংখ্যান অত্যন্ত ভীতিকর। জুলাই মাসে ৯০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে জুনে এই সংখ্যা ছিল ৬৮টি। এছাড়া যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনাও ২১টি থেকে বেড়ে ২২টিতে উন্নীত হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে ২৮ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, যা জুন মাসে ছিল ১৭ জন। এক মাসের ব্যবধানে এই হার প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, ধর্ষণের এই ক্রমবর্ধমান হার নারী ও শিশুদের চরম নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে আত্মহত্যার উচ্চ হার সামাজিক অবক্ষয়, তীব্র মানসিক চাপ এবং ন্যায়বিচার না পাওয়ার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়ার ফলাফল হতে পারে। এছাড়া জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১ জন নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে আটজনই ছিল মৃত। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।


আজ থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং যানবাহনের গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে আজ (১ আগস্ট) থেকে সকল গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস (GPS) ডিভাইস সংযোজন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। সরকারের নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত এবং সচল না থাকলে সেটিকে নতুন নিবন্ধন প্রদান করা হবে না এবং বিদ্যমান যানের ফিটনেস সনদ নবায়নও করা হবে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত ২৮ জুলাই এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কড়া নির্দেশনার কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। সেই প্রজ্ঞাপনের আলোকেই আজ থেকে ফিটনেস বা নিবন্ধন সনদ নেওয়ার সময় জিপিএস ডিভাইসের সচলতার প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তার কার্যকারিতা বিআরটিএ কর্মকর্তাদের প্রদর্শন করতে হবে।

বিআরটিএ আরও জানিয়েছে যে, জিপিএস ডিভাইসের প্রয়োজনীয় কারিগরি স্পেসিফিকেশন সংস্থাটির ওয়েবসাইট এবং স্থানীয় কার্যালয়গুলোতে সহজলভ্য করা হয়েছে। মূলত সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট ধারার ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জিপিএস প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে রুট ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। এই নতুন নিয়ম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পরিবহন মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বিআরটিএ।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর আজ শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি শুরু হয়।

সার্জিও গর তার তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে গত ৩০ জুলাই ঢাকা পৌঁছান। সফরের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ শুক্রবার তিনি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি, চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং তাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এই সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতের এই সফরকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও চলমান সংলাপের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।


শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালঙ্কার, নিষিদ্ধ ক্রিম ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ক-করসহ এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট এ-শিফটের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

সংস্থাটি জানায়, দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-148 ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ গ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সময় ১ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় তিনটি সন্দেহজনক ব্যাগ পাওয়া যায়। পরে ব্যাগগুলো তল্লাশি করে ৩৭০ কার্টন বিদেশি সিগারেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে আরও ১১১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে মোট ৪৮১ কার্টন বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমসের হিসাবে, উদ্ধার হওয়া সিগারেটগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক-কর এবং ৬২১ শতাংশ টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স যোগ করলে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা।

অভিযানে একই ফ্লাইটের যাত্রী মো. তাজুল ইসলামের হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। তার পাসপোর্ট যাচাই করে কাস্টমস জানতে পারে, তিনি চলতি বছরের ১০ জুন শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার দেশে এনেছিলেন।

ব্যাগেজ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী একই বছরে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণালঙ্কার শুল্কমুক্তভাবে আনার সুযোগ না থাকায় নতুন করে আনা ৯৯ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। এসব স্বর্ণালঙ্কারের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৫ টাকা এবং শুল্ক-করসহ মোট মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া অভিযানে ১২ কেজি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে কলকাতা থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১১ লিটার বিদেশি মদ বা হুইস্কিও জব্দ করা হয়েছে। এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে ৬১০ দশমিক ৩০ শতাংশ শুল্ক-করসহ এর মোট মূল্য প্রায় ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে বিদেশি সিগারেটের মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য ৩০ লাখ টাকা, নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিমের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বিদেশি মদের মূল্য ১৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে শুল্ক-করসহ জব্দ করা পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা পণ্যগুলোর বিষয়ে কাস্টমস আইন, ব্যাগেজ বিধিমালা ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে চোরাচালান, শুল্ক-কর ফাঁকি ও নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


নতুন দায়িত্ব পেলেন ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। কমিটিতে প্রতিমন্ত্রী, চার সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার বিধান অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটি ট্রাস্ট আইন, বিধিমালা এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অর্পিত দায়িত্ব ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি, অধীনস্থ বাণিজ্যিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, হিসাব নিরীক্ষা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বও পালন করবে।

সরকারের আশা, নতুন এই নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের উন্নয়ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে।

পুনর্গঠিত কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

* বাজারে দাম আকাশছোঁয়া * আড়তে বেচাকেনার উৎসবের বদলে নিস্তব্ধতা * মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি গভীর সংকটে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

ভরা মৌসুমেও দেশের নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের। চাঁদপুরের মেঘনা, রাজবাড়ীর পদ্মা কিংবা সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ—সর্বত্রই এখন ইলিশের তীব্র আকাল। আড়তগুলোতে বেচাকেনার উৎসবের বদলে বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা, বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, আর জেলেদের জালে উঠছে না কাঙ্ক্ষিত মাছ। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের পুরো মৎস্যনির্ভর অর্থনীতি আজ এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।

উৎপাদন চিত্রে আশঙ্কাজনক ধস: মৎস্য অধিদপ্তরের জরিপ ও তথ্যানুযায়ী, দেশে ইলিশের উৎপাদনে এক উদ্বেগজনক নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন ছিল ৫,২৯,৪৮৭ টন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫,০০,২৮৮ টনে। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৫.৫ শতাংশ। চলতি মৌসুমে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী উৎপাদন এখন পর্যন্ত ৪ লাখ টনের কাছাকাছি, যা কোনোভাবেই বিগত বছরের লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংকটের নেপথ্যে চার কারণ: বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানবসৃষ্ট নানা আচরণের প্রভাবেই মূলত ইলিশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

নদী-মোহনায় ডুবোচর ও নাব্যতা হ্রাস: পদ্মা-মেঘনাসহ প্রধান নদীগুলোতে পলি জমে বিশাল চর জেগে উঠেছে। ফলে পানির গভীরতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে মিষ্টি পানিতে মা-ইলিশের অবাধ যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অনিয়ন্ত্রিত ট্রলিং ও অবৈধ জাল: গভীর সমুদ্রে শিল্প ট্রলারগুলো নির্ধারিত সীমার বাইরে এসে তলদেশঘেঁষে ছোট ফাঁসের জালে মা-ইলিশ ও জাটকা নিধন করছে। পাশাপাশি নদী ও মোহনায় কারেন্ট জাল, সুতি জাল, বেহুন্দি এবং ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে রেনু ইলিশ ধ্বংস হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়া: সাগরে একের পর এক লঘুচাপ ও নিম্নচাপের কারণে দীর্ঘ সময় সমুদ্র উত্তাল থাকছে, ফলে ট্রলারগুলো গভীর সাগরে যেতে পারছে না। প্রজনন মৌসুমে পর্যাপ্ত ‘ইলশা বৃষ্টি’ না হওয়া এবং পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ইলিশ দিক পরিবর্তন করছে।

প্লাস্টিক ও পরিবেশ দূষণ: নদী ও সমুদ্রে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও শিল্প বর্জ্যের কারণে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের পাশাপাশি এদের প্রধান খাদ্য ‘প্ল্যাঙ্কটন’-এর উৎস ধ্বংস হচ্ছে।

বিপন্ন উপকূলীয় অর্থনীতি ও মানবেতর জেলেজীবন: উপকূলীয় অববাহিকার সামগ্রিক অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইলিশের ওপর নির্ভরশীল। চাঁদপুরের মেঘনায় আষাঢ়-শ্রাবণে হাজার হাজার নৌকার সমাগম ও মণ মণ ইলিশ বেচাকেনার যে দৃশ্য থাকত, তা এখন উধাও। ট্রলারের তেলের খরচই না ওঠায় সাধারণ জেলেরা অলস সময় পার করছেন। রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দে প্রমত্তা পদ্মা শুকিয়ে নালায় পরিণত হওয়ায় মাঝনদীতে জেগে উঠেছে বালুচর। দৈনন্দিন খরচ না ওঠায় পদ্মাপাড়ের এক-তৃতীয়াংশ জেলে পরিবার জাল গুটিয়ে ঘরে তুলে রাখছেন।

অন্যদিকে ভোলা ও পাথরঘাটার মতো উপকূলীয় সমুদ্রবন্দরগুলোতে মহাজন ও আড়তদারদের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের বড় বোঝা চেপে বসেছে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে ৫-১০ দিনে ৫০ থেকে ১০০ মণ মাছ পাওয়া যেত, সেখানে এখন একই সময়ে ৫ মণ মাছও মিলছে না। একটি নৌকায় দৈনিক গড় খরচ ১,০০০ টাকা হলেও মাছ বিক্রি করে মিলছে মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। ফলে ট্রলারপ্রতি ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার দেনার বোঝা তৈরি হয়েছে। ঋণের জালে পিষ্ট হয়ে এবং বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আজ চরম অনিশ্চয়তা ও অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

উত্তরণের কার্যকর রূপরেখা: প্রথাগত নীতি বা কেবল সাময়িক সামাজিক সহায়তা দিয়ে এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। ইলিশের ঐতিহ্য ও রূপালি সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনতে গবেষকরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এগুলো হলো- সাগরে শিল্প ট্রলারগুলোর চলাচলের জন্য জিপিএস (GPS) ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা এবং নির্দিষ্ট সীমার নিচে ট্রলিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। মা-ইলিশের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইলিশের প্রজনন পথ ও নদীর মোহনা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং নিশ্চিত করা। চায়না দুয়ারি ও বেহুন্দি জালের কারখানা এবং পাইকারি বাজারে সরাসরি অভিযান চালিয়ে বাজারে এগুলোর সরবরাহ বন্ধ করা। বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর (যেমন: ভারত ও মিয়ানমার) সাথে সমন্বিতভাবে ইলিশ সংরক্ষণ ও নিষিদ্ধকালীন সময়সূচি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। নদীর মোহনায় প্লাস্টিক ও শিল্প বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা এবং সংকটকালীন সময়ে প্রকৃত জেলেদের কাছে দুর্নীতিমুক্তভাবে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা।

ইলিশ প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ট্রলিং বোট নিয়ন্ত্রণ। এসব ট্রলারের ৪০ মিটারের বেশি গভীরতায় মাছ ধরার কথা থাকলেও অনেক সময় তারা কম গভীরতায় চলে আসে। সেখানে ছোট মাছ ও জাটকা বেশি থাকায় বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সমুদ্রে অতিরিক্ত আহরণ হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণ না করলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও কমবে। সংরক্ষণ কার্যক্রমের সুফল আছে। তবে আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে, সেই সুফল টেকসই হয় না।’

ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেছেন, ‘কেবল স্বল্পমেয়াদি সামাজিক কর্মসূচি দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ইলিশের জীববিজ্ঞান, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে সমন্বিত গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’


গণিতের আন্তর্জাতিক আসরে ববি শিক্ষক ড. হেনা রানী 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হেনা রানী বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গণিত সম্মেলন ‘International Congress of Mathematicians (ICM)-2026’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জুলাই ২৩ থেকে ৩০ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

‘ICM 2026’-এ বিশ্বের ৭৮টি দেশের গণিতবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করেন। এ সম্মেলনে ৩ হাজার ৭৪২ জন নিবন্ধনকারীর মধ্যে ৩ হাজার ১৭০ জন অংশ নেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় গণিত বিভাগের ড. হেনা রানী বিশ্বাস সম্মানজনক ‘ICM-2026’ Travel Support Program Award অর্জন করেন। এই অ্যাওয়ার্ডের আওতায় তার বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশন ফি, আবাসন, স্থানীয় খাবার, স্থানীয় পরিবহন এবং হোটেলসংক্রান্ত পরিবহন ব্যয় বহন করা হয়।

সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ‘World Meeting for Women in Mathematics (WM²)’-এ ড. হেনা রানী তার গবেষণা উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট গণিতবিদ ও গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ‘এটা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আনন্দের বিষয়। গণিতের আন্তর্জাতিক একটি কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। শিক্ষকের এই অর্জন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও একটি গর্বের বিষয়।’


বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

আজ বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পাহাড়ি, সমতল কিংবা ভাষা, বর্ণ, লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ-বিভাজন তৈরি করার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ‘কোনো ধর্মাবলম্বীকে যদি কেউ রাজনৈতিক বা স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চায় কিংবা ধর্মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গ্রাস করতে চায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সৃষ্টিকর্তা, মানবতা এবং ধর্মের মূল মর্মবাণীর বিরোধিতা করছে।’

আজ শুক্রবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ বরিশাল জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজনীতি ও ধর্মের ভিন্নতা ব্যাখ্যা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘রাজনীতিতে দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়। ধর্মীয় দর্শন আবর্তিত হয় সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তাকে ঘিরে, আর রাজনীতির চিন্তাভাবনা আবর্তিত হয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। রাজনীতির কোনো প্রতীক বা মার্কা দেবত্ব প্রদত্ত নয়; দল বা নেতা কোনো দেব-দেবী নন। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচি যতক্ষণ জনগণ নিজের কল্যাণ হিসেবে গ্রহণ করবে, ততক্ষণ তা থাকবে। অন্যথায় জনগণ তা বর্জন করবে।’

ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধর্ম চর্চাকারীরা যখন ধর্মব্যবসায়ীদের চিনতে পারবেন, তখনই প্রকৃত ধর্মচর্চা সার্থক হবে। যে যার ধর্ম গভীরভাবে বিশ্বাস ও চর্চা করার মাধ্যমেই অন্য ধর্মকে সমানভাবে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি হয়। যখনই কোনো মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে সূক্ষ্মভাবে সাম্প্রদায়িক পকেটে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করবে, তখনই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সোচ্চার হয়ে সেই ধর্মব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।

দেশের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতিতে সকল মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা ইতিহাসের শিক্ষা ভুলিনি। জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ না করলে ইতিহাস আবার নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন— ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’

বরিশাল জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সন্তোষ শর্মা।

এর আগে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি। পরে বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতে পাঁচজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সূত্র: বাসস


নতুন দায়িত্ব পেলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। ট্রাস্টের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি এই নতুন কমিটি গঠন করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ১৩ ধারার ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

নবগঠিত এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। এছাড়াও পদাধিকারবলে অর্থ সচিব, শিল্প সচিব এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই নির্বাহী কমিটির ওপর ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, অধীনস্থ বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম তদারকি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা। এছাড়া ট্রাস্টের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে হিসাব নিরীক্ষা ও সার্বিক প্রশাসনিক তদারকিতেও এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, চীন নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই মূল্যায়ন তুলে ধরেছে, যা সম্প্রতি দেশটির লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করার পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলো পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমাধান করার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। নির্বাচনে জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণপত্র ও সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ হস্তান্তর করেন।

তবে বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। প্রতিবেদনে বিশেষ করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি সংস্কার এবং পেকুয়ায় নির্মিত সাবমেরিন ঘাঁটিতে চীনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কমিটি মনে করে, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটির উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তার জন্য শঙ্কা তৈরি করতে পারে। এ অবস্থায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিদেশি শক্তির গতিবিধি গভীর পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার এই অবস্থান ‘মানবিক বিবেচনা ও ভারতের দীর্ঘদিনের আশ্রয়দান নীতির’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন ও প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। পানিবণ্টন ইস্যুতে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হওয়ায় এর নবায়নকে দুই দেশের ‘অন্যতম অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তা চুক্তির বিষয়েও একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় নয়াদিল্লি।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রমকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবেদনে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে যার বড় অংশই চিকিৎসার জন্য। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন বলে মনে করে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা বজায় রাখতে দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে ভারতের এই সংসদীয় কমিটি। এ ছাড়াও লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ১২টি প্রকল্প বাতিল করে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে।


banner close