শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
১৬ মাঘ ১৪৩২

পুলিশের ২৮ কর্মকর্তাকে বদলি

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ১৯:২৩

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২৮ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলি করা হয়

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তিনজন সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপনে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার ৬৪ কর্মকর্তাকে বদলি ও সংযুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে একজন ডিআইজি, আটজন অতিরিক্ত ডিআইজি ও ৩৯ জন পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়।

অপর এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, একজন ডিআইজি, পাঁচজন অতিরিক্ত ডিআইজি ও ১০ জন এসপিকে তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এই পুনঃপদায়নের লক্ষ্য অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পুলিশের মধ্যে সাংগঠনিক চাহিদা পূরণ করা।


বেবিচককে বিভক্ত করে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আমূল পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) ভেঙে পৃথক দুটি সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে একটি সংস্থা ‘রেগুলেটর’ বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে এবং অন্যটি ‘অপারেটর’ হিসেবে বিমানবন্দর পরিচালনা ও নেভিগেশন সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বেবিচককে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান কাঠামোতে বেবিচক একই সাথে দুটি পরস্পরবিরোধী ভূমিকা পালন করে আসছে। একদিকে সংস্থাটি রেগুলেটর হিসেবে বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা তদারকি করে, অন্যদিকে অপারেটর হিসেবে বিমানবন্দরসমূহ পরিচালনা ও এয়ার নেভিগেশন সেবা প্রদান করে। নিজের কাজের তদারকি নিজেই করার এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে এক ধরণের ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) তৈরি হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) তাদের বিভিন্ন অডিটে বারবার বেবিচকের এই দুই সত্তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আসছিল।

এছাড়া গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও সংস্থাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার জোর সুপারিশ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে, নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালক সংস্থা এক হওয়ায় তদারকি প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং সংশোধন করা হবে। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, একটি স্বতন্ত্র অপারেটর সংস্থা গঠিত হবে যারা নেভিগেশন পরিসেবা এবং দেশজুড়ে বিমানবন্দর পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইসিএও-র মানদণ্ড পরিপূরণ হবে, অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত যাবতীয় সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন সেক্টরে আরও স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বুধবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকটের শিকড় যে মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও যে সেখান থেকেই আসতে হবে, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘকালীন অবস্থান কোনোভাবেই কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বর্তমানে শিবিরে এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যারা অত্যন্ত হতাশ ও ক্ষুব্ধ। প্রযুক্তিতে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকলেও কর্মসংস্থান বা উন্নত জীবনের সুযোগ না থাকায় এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে যা কারো জন্যই শুভকর নয়। তাই তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠকে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের ‘নাটকীয় হ্রাসের’ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি শিবিরে বসবাসরতদের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে ড. ইউনূস জানান, বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখতে রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিবির পরিদর্শনসহ বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতকিছুর পরও এই সংকটটি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ পাচ্ছে না যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতির ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটছে, যা নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

আলোচনায় ভাসানচর প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে শরণার্থীদের মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জগুলোও উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভাসানচর থেকে অনেকে পালিয়ে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিশে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ইভো ফ্রেইজেন বৈঠকে জানান যে, ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন এবং সরেজমিনে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ২০১৭ সালের পর থেকে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সফর বাংলাদেশের এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের শেষ অংশে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন জাতীয় মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের জন্য এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আনন্দময় করে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের সকল অঙ্গ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেন।


বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন।

ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এদিন সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল সিইসির সঙ্গে ক্রিস্টেনসেনের প্রথম সাক্ষাৎ।

ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, সিইসির সঙ্গে ভালো বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার যে নীতিমালা, প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াগুলো গ্রহণ করেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তাকে জানিয়েছেন সিইসি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে শুনানির সময় তিনি যেমনটি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত এবং তিনি এর ফলাফল দেখতে আগ্রহী।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেই বৈঠক সম্পর্কে ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে। তিনিও (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) আশা করেন, বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে।


প্রযুক্তির হাত ধরেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। আজ যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, সেটাই বাস্তবতায় পরিণত হবে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বৈশ্বিক গতির সঙ্গে যদি আমরা নিজেদের গতি বাড়াতে ও সামঞ্জস্য আনতে না পারি, তাহলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব, তা ভেবে দেখা দরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে— চিন্তায় পিছিয়ে, কাজে পিছিয়ে এবং নিজেদের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই পিছিয়ে পড়া। আইসিটিকে তিনি ‘মূল খাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই খাত থেকেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। আমি এই খাতের কথা বলছি, কারণ— এটি একটি প্রধান খাত। ভবিষ্যৎ এই খাত থেকেই গড়ে উঠবে।

ড. ইউনূস বলেন, অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাতগুলো টিকে থাকবে ঠিকই। তবে, প্রযুক্তি খাতই হবে চালিকাশক্তি— হাওয়ার মতো, বাতাসের মতো; যা প্রতিটি খাতকে স্পর্শ করে নতুনভাবে রূপ দেবে।

এ কারণে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই খাতের নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এক্সপো প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের আয়োজনগুলোতে আমরা কী ধরনের আলোচনা করি, কী ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করি এবং সে অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করি— দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।

প্রজন্মগত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে প্রায় সহজাতভাবেই যুক্ত। প্রজন্মগুলোর মধ্যে এই বাড়তে থাকা দূরত্ব একটি নেতৃত্ব সংকট তৈরি করছে। বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছে না— কোনো খারাপ উদ্দেশের কারণে নয়, বরং তাদের চিন্তাভাবনার ধরন এক নয়।

বাংলাদেশের আইসিটি খাতেও এখনো পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা চালু করতে হবে। মানুষ সরকারের কাছে আসবে না, বরং সরকারি সেবা মানুষের কাছে যাবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপো চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।


মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ১২ হাজার ৩০টি ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সেনা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেরেবাংলা সেনা ক্যাম্প জানতে পারে যে, রাজু নামের এক ব্যক্তি টেকনাফ থেকে ঢাকায় বিশাল মাদকের চালান নিয়ে আসছে। এই খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের টাউনহল, তাজমহল রোড ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রাজু (৩৫), রনি (৪০), রকি (৩২), সুমন (২৮) ও মহিন (১৮)।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রথমে টাউনহল রোড এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাজমহল রোড ও জেনেভা ক্যাম্প থেকে তার অন্য চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও ৭১০ পুরিয়া ও ৪০০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা, ২টি ডিজিটাল ওজন মেশিন এবং ১২টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত পাঁচজন ও উদ্ধারকৃত সকল আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এই চক্রটি উদ্ধারকৃত মাদকসমূহ একজন শীর্ষ মাদক কারবারির কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা করছিল, তবে সেই মূল হোতাকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে তিনি আরও জানান, “এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। রাজধানীতে মাদক ও অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”


কূটনীতিকদের পরিবারের নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানায়নি ভারত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তা-উদ্বেগের কথা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আদতে কোনো বিশেষ বার্তা কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ‘সংকেত’ নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল দাবি করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বর্তমানে দেশে বড় ধরনের কোনও গণ্ডগোল নেই। ছোটখাটো ধাক্কাধাক্কি বা মারামারি ছাড়া বড় কোনও সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, তবে সংকেত যে কী, তা একেবারেই বুঝতে পারছি না। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তারা তাদের কর্মচারীদের ফিরে যেতে বলতেই পারেন। কেন বলেছেন, আমি তার কারণ খুঁজে পাই না।”

নির্বাচন পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার কথা জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন যে, সরকার চায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুক। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলেও কেউ আসতে চাইলে তাকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের জটিলতা নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি জানান যে, অতীতে আমাদের প্রশাসনিক ত্রুটি ও দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে প্রচুর রোহিঙ্গা হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। বর্তমানে সৌদি কর্তৃপক্ষের অব্যাহত চাপের মুখে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পাসপোর্ট নবায়ন করার অর্থ এই নয় যে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। এ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের ত্রুটির কারণে প্রচুর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সেখানে গেছে বহুবছর আগে। তখন হাতে লেখা পাসপোর্ট ছিল। এর মধ্যে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যারা আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট নবায়নের জন্য আমাদের ওপর চাপ দিচ্ছে।”


সড়ক নিরাপত্তা ও চক্ষুসেবা নিশ্চিতে বিআরটিসি ও ভিশনস্প্রিংয়ের সমঝোতা চুক্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত চক্ষুসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় রাজধানীর মতিঝিলস্থ ‘পরিবহন ভবন’ এর সভাকক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিআরটিসি’র পক্ষে চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন এই চুক্তিতে সই করেন। এই সমঝোতার আওতায় প্রায় ৪ হাজার কর্মীকে চক্ষু পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিডিং ও প্রেসক্রিপশন চশমা সরবরাহ করা হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে এই সেবা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারাদেশের ডিপো ও ইউনিটগুলোতে বিস্তৃত হবে এবং সেবাগ্রহীতারা মাত্র ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি’র বিনিময়ে এই সুযোগ পাবেন।

চক্ষু পরীক্ষার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমাদের চালকরা এই চক্ষুপরীক্ষা সেবা কার্যক্রমের আওতায় আসলে, চালকদের চোখ পরীক্ষা করতে পারলে- চালকরা অন্তত চক্ষু সমস্যার কারণে দূর্ঘটনা কম করবে।” মূলত চালকদের সুস্থ চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন তাদের প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করেছি এবং তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের চশমার প্রয়োজন ছিল এবং তারা চশমা পেয়েছেন। আমরা আরও বেশি এ সেবা পৌঁছে দিতে চাই। ২০০১ সাল থেকে ভিশনস্প্রিং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।”

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিআরটিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব পরিচালক ড. অনুপম সাহা, প্রশাসন ও অপারেশন পরিচালক জনাব মোঃ রাহেনুল ইসলাম এবং কারিগরী ও প্রশিক্ষণ পরিচালক কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী। এ সময় কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের জিএম ও ডিজিএমসহ প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চক্ষুসেবার এই কর্মসূচি কর্মীদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সড়কের জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


রেড চিটাগাং ক্যাটল জাত সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসির) গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়; কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

উপদেষ্টা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি হাব-সংলগ্ন মাঠে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়াদুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়াদুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।’

তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপির) মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।’

নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয়—মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। এলডিডিপির মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি—দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মো. শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এ ছাড়া এলডিডিপির আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।


গণমাধ্যমকর্মীদের সংকট নিরসনে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি বিএফইউজে-ডিইউজের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অবিলম্বে গণমাধ্যমসেবীদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এই দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও বর্তমানে দিশাহারা অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক আগে ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড এখনো অনেক সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন কৌশলে বাস্তবায়ন করছে না, যা সাংবাদিকদের প্রতি চরম বৈষম্য।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সাংবাদিকদের এই ন্যায্য দাবি বারবার এড়িয়ে গেছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর গত দেড় বছরেও অন্তর্বর্তী সরকার সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সমাজের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএফইউজে-ডিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য পেশাজীবীসহ কারো বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিরোধী নই। কিন্তু এর ফলে যাতে সমাজে বৈষম্য না বাড়ে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের অন্যান্য অংশীজনের বিষয়টিও গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিতে হবে।”

সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার অবনমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন যে, আগে গণমাধ্যমসেবীদের বেতন-ভাতা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে উন্নত থাকলেও বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক প্রভাবে সংবাদকর্মীরা চরমভাবে উপেক্ষিত। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে যেসব সংবাদ প্রতিষ্ঠানে এখনো নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করা হয়নি, সেখানে বকেয়াসহ তা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা।


ঢাকা ও তিন জেলায় নামছে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ চার জেলায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় সর্বমোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ৮ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে আকাশপথে টহল বা উদ্ধারকাজের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করতে এবার সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি এবং উন্নত সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বিজিবির ভূমিকা স্পষ্ট করে জানান যে, এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো পূর্ব নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি কোনো প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চান অথবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের মতো কোনো অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র: সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ওপর নির্ভর করছে এবং তারাই এটি নির্ধারণ করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা যেকোনো সরকারের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং তিনি নিজে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি, তবে তার বক্তব্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর আগে বেলা ১১টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসি ভবনে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই সন্ধিক্ষণে সিইসি’র সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং সব ধরনের প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।


প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকটি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি কেন্দ্রিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করে।

উল্লেখ্য যে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে দেখা করছেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘনিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নিবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনা নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে। বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল ও সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরবর্তীতে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হতে পারে। মূলত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিয়ে এই বৈঠকে আলোকপাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।


ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু বৃহস্পতিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে নতুন এই যাত্রার সূচনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১২ সালে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন দুই দেশের যাত্রীরা। এই সরাসরি সংযোগের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যাতায়াত খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪৭১ মাইল। এই রুটে ১৬২ আসনের আধুনিক বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে আপাতত সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়মিতভাবে ফ্লাইটগুলো ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসবে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর ছিল।

নতুন এই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারের প্রথম ফ্লাইটের সবকটি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন বুকিং হয়ে গেছে। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দুবাই বা দোহার মতো দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতো। এখন ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ হবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়া খরচের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বিশাল পরিবর্তন। আগে যেখানে ট্রানজিটসহ যাতায়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো, এখন সরাসরি ফ্লাইটে রাউন্ড ট্রিপে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত করা যাবে। এতে যাত্রীদের অন্তত ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়াকে অত্যন্ত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছেন। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল কেবল যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে কার্গো বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এখানে বিশাল এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। পাকিস্তান প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করে, ফলে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় পর এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রানজিটের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত যাতায়াতের এই ব্যবস্থা সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যমে আকাশপথের এই শূন্যতা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


banner close