লিবিয়া থেকে অনিয়মিত ১৪৩ বাংলাদেশিকে দেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া তিউনিশিয়ায় আটকে পড়া ১৮ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বুধবার সকালে তাদের দেশের ফেরার তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় লিবিয়ার বেনগাজী ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে স্বেচ্ছায় দেশে আসতে ইচ্ছুক আটকে পড়া ১৪৩ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ার (ইউজেড ০২২২)-এর চার্টার্ড ফ্লাইট যোগে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। এদিন ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে টিকে-৭১২ ফ্লাইট যোগে তিউনিশিয়ায় আটকে পড়া ১৮ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত এ সকল অসহায় বাংলাদেশি নাগরিককে অভ্যর্থনা জানান।
আইওএমের পক্ষ থেকে তিউনিশিয়া থেকে প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেককে ৫ হাজার ৪৫০ টাকা এবং লিবিয়া থেকে প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেককে ৬ হাজার টাকা, কিছু খাদ্যসামগ্রী উপহার, প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আলী হোসেন ফকির। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান নতুন আইজিপি নিয়োগের তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়ে আদেশ জারির কথা উল্লেখ করেছেন।
আলী হোসেন ফকির বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তা বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার এবং জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন আইজিপির কর্মজীবন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এক বিশেষ দৃষ্টান্ত। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি প্রথম দফায় রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে চাকরি হারান। পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি পুনরায় চাকরিতে যোগদান করেন। তবে রাজনৈতিক বৈষম্য তাঁর পিছু ছাড়েনি। ২০২২ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে আবারও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন লাভ করেন।
পেশাদারিত্ব এবং ন্যায়নিষ্ঠার প্রশ্নে আপসহীন এই কর্মকর্তা পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ায় বাহিনীর অভ্যন্তরে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রতিকূলতা জয়ের মানসিকতা পুলিশ বাহিনীকে একটি জনবান্ধব ও শক্তিশালী সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশি সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, নতুন আইজিপির নেতৃত্বে তা আরও গতিশীল হবে বলে অভিজ্ঞ মহল আশা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য প্রদান করেন। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী জানান, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীন কাজ করতে আগ্রহী, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
সাক্ষাৎকার শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বিনিময়। বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প ছাড়াও চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় চলমান অন্যান্য প্রকল্পগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেহেতু নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই প্রতিটি প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, বেইজিং কেবল তিস্তা নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গ্রামীন উন্নয়ন ও সমবায় খাতের আধুনিকায়নেও অংশীদার হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরকারিভাবে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি; খুব শীঘ্রই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এটি নির্ধারণ করা হবে। নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠক শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, চীন সবসময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সম্মান করে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন প্রকল্প ও সমবায় ভিত্তিক আয়বর্ধক কর্মসূচিতে চীনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও কথা হয়। প্রশাসনিক সংস্কার ও জনসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকারের উদ্যোগগুলোকে চীন সাধুবাদ জানিয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি আগামীতে বড় ধরণের বিনিয়োগ ও কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের নবনিযুক্ত ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকগণ আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এই বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত প্রশাসকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। প্রশাসকরা তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁরা নিজ নিজ শহরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার এবং নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে সচেষ্ট থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁদের জনকল্যাণে নিবেদিত হয়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এই ছয়জন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মো. আব্দুস সালাম এবং উত্তর সিটির জন্য মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের অনুপস্থিতিতে মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও প্রশাসনিক যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঢাকার প্রধান শহরগুলোর আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণাংশের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সিটি করপোরেশনের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মোঃ আবদুস সালামকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে মেয়রের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই ব্যক্তিত্বকে প্রশাসক হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে নাগরিক ভোগান্তি লাঘব এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
সচিবালয়ে আয়োজিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত প্রশাসককে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতেই এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশা নিধন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এই আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুদকের কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য রয়েছে যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিচার প্রক্রিয়া এড়াতে যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ ভ্রমণে জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার নজির থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় পদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আদালত দুদকের আবেদনটি আমলে নিয়ে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনতিবিলম্বে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রক্ষায় এই ধরণের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এই আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম নিরসনে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে এবার এই মামলার আসামি করা হচ্ছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পিলখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যুর পর কেটে গেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়, তবে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় নিহতদের পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হয়নি।
বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই বিশাল মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে আটশ জন। মোট ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনশ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে থাকা এই মামলাটি এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই মামলার কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে এবং এরই মধ্যে কয়েকশ আসামি জামিন লাভ করেছেন। প্রসিকিউশন এখন নতুন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র পুনর্গঠন বা সম্পূরক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
ইতিহাসের অন্যতম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায় এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকায় এর পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন হতে আরও সময়ের প্রয়োজন। নতুন করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আসামি করার উদ্যোগ মামলার গুরুত্ব ও জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা আশা করছেন প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল ৯টায় তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন। দিনের শুরুতেই তিনি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এই বৈঠকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আলোচনার পাশাপাশি আজকের কার্যসূচিতে অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প। গত সপ্তাহে এই প্রকল্প সুচারুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এই কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ডের বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সভায় দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি নির্বাচিত ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সরব উপস্থিতি এবং দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই বৈঠক থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সংসদ অধিবেশনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দেশের ছয়টি বড় সিটি করপোরেশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকরা এ সময় মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগে শেষ হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোটের আয়োজন করবে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রথমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে নতুন প্রশাসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং দাপ্তরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনটি স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরণের গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের সংসদ অধিবেশনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পুলিশের বর্তমান পোশাক পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য বিশেষ দাবি জানিয়েছে। সোমবার রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বর্তমান ইউনিফর্মের উপযোগিতা এবং পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জটিলতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমান পোশাকটি নির্ধারিত হয়েছিল। পোশাকের রং, স্থানীয় আবহাওয়া এবং দিন-রাত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই ইউনিফর্মটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নতুন করে প্রস্তাবিত পোশাকের নকশা বা রং যদি অন্য কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশ বাহিনীকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বাহিনীর স্বতন্ত্র পরিচিতি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য বর্তমান পোশাকেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। এই মুহূর্তে ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। বিশাল এই ব্যয়ের পরিবর্তে বরাদ্দকৃত অর্থ পুলিশের আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধিতে ব্যয় করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের সংস্থান করার মাধ্যমেই বাহিনীর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড় ধরণের রদবদল এনেছে বর্তমান সরকার। সোমবার রাতে পৃথক নয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ৯ জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এসব আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের আমলারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের এবং ভূমি আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমান, সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ এবং সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগমের নিয়োগও এই আদেশের অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় আরও রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে প্রশাসনিক সংস্কারের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মূলত প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মকর্তাদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ কর্মকর্তাদের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এমন আকস্মিক অব্যাহতি প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তনের পথ সুগম করল। এই আদেশের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা যায়।
বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তার চুক্তি বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিকল্পনা কমিশন ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল বর্তমান সরকার। একযোগে ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়কে কেন্দ্র করে সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ৩৯তম বোর্ড সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের সামগ্রিক অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, জনগণ ও সংবাদ মাধ্যমই যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। গণমাধ্যম সবসময় জনআকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সরকার সাংবাদিকদের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটাতে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ অবসর ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান ইয়াসের খান চৌধুরী ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো কেবল দায়িত্ব নয়, বরং এটি তাঁদের কাজের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি অংশ। সভায় ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বোর্ড সভা শেষে তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিক পরিবারের ৪০২ জন মেধাবী সন্তানের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এই বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং এই পেশার মানোন্নয়নে ট্রাস্টের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংবাদকর্মীরা মনে করছেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এক অনুষ্ঠানে দুই কর্মকর্তাকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয় বলে আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) করা হয়।
১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন পাওয়া এই কর্মকর্তা এর আগে প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালকও ছিলেন।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আরেক আদেশে সেনা সদরে দায়িত্বরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক করা হয়।
নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার প্রান্তিক ও তৃণমূল মানুষের নিকট জনকেন্দ্রিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুটো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর একটি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’, অপরটি হলো ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড।’ এর মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড দিতে যাচ্ছে। ধাপে ধাপে প্রায় চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধায় আনা হবে। এদিকে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ এবং সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পান, তা নিশ্চিত করতেই এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
সভায় দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডাটাবেজ তৈরির অগ্রগতি অবহিত করা হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা দেন।
এরই মধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। গত রোববার প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবে যে এলাকাগুলো- বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।
সূত্রে জানা যায়- ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।
উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও আর্থিক তথ্য না থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। উপকারভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত-এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ, ফলে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।
এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করা যেতে পারে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ। নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া অন্য ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা বহাল থাকবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের সকল কৃষকের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এ কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমাদের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠক করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। কৃষকরা এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি জ্ঞান, সার, কীটনাশক ও বীজসহ সকল ধরনের কৃষি উপকরণে সরকারি সহযোগিতা সরাসরি পাবেন। এছাড়া স্মার্ট পদ্ধতিতে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদনের পূর্বাভাস ও আবহাওয়ার বার্তা কৃষকের হাতের নাগালে চলে আসবে। এছাড়া এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্য সেবা নিতে পারবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারের সেবা পাবেন এবং কৃষি উপকরণ সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
তিনি আরও বলেছেন, দেশের সকল কৃষককেই এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এর সঠিক সময়সীমা প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গৃহিণীদের জন্য নতুন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ক্ষমতায় গেলে এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের চার কোটি পরিবার নিয়মিত আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবে। চার কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।