শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
৯ মাঘ ১৪৩২

জ্বালানি তেলের মূল্য ১০-১৫ টাকা কমানো সম্ভব: সিপিডি

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ২০:০৩

বাজারভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মূল্য নির্ধারণ হলে জ্বালানি তেলের মূল্য ১০ থেকে ১৫ টাকা কমানো সম্ভব বলে মনে করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে একটি হোটেলে ‘বাজারভিত্তিক জ্বালানির মূল্য: সরকারের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ এবং সম্ভাব্য সংশোধন’ শীর্ষক ডায়ালগে এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

ডায়ালগে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী ও প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট ফয়সাল কাইয়ুম। এতে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।

গবেষণাপত্রে মাশিয়াত প্রিয়তী বলেন, বাজারভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে দাম নির্ধারণ করলেও ১০ টাকা দাম কমানোর সুযোগ রয়েছে। বিইআরসি যে পদ্ধতি দিয়েছে, সে অনুযায়ী বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ে মূল্য কম আসলেও তার চেয়েও কম দামে জ্বালানি বিক্রি সম্ভব।

বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে অন্যান্য আন্তর্জাতিক মার্কেট যে পদ্ধতি অনুসরণ করে, সেগুলোও যদি অনুসরণ করা হয় তাহলেও লিটার প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে বিক্রি করা সম্ভব বলে মনে করে সিপিডি।

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, মূল্য নির্ধারণ, বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিইআরসির হাতে ন্যস্ত করার প্রস্তাব করে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি গণশুনানির মাধ্যমে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়।

এর মাধ্যমে ভোক্তার চাহিদার দিকটি নিশ্চিত করা সম্ভব। এ বিষয়ে বিইআরসি একটি রেগুলেটরি ড্রাফট জমা দিয়েছিল, সেটি যেন নির্ধারণ হয়ে যায় এবং আইনি পথে মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সিপিডি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিগত সরকারের সঙ্গে তেলের দাম নিয়ে আলোচনা আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। গত সরকার জ্বালানির দাম নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে করতো। এখনকার সরকারের অন্য কোনো স্বার্থ নেই। এ কারণে তেলের দাম নির্ধারণে জনগণের স্বার্থটাই বিবেচনা করা উচিত।

খাদ্যের মতো জ্বালানি নিশ্চিত করাও সরকারের মৌলিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপিসি জ্বালানি থেকে ১৩/১৪ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে। সরকার একইসঙ্গে মুনাফা ও ট্যাক্স নিয়ে থাকে। এটা সরকারের কাজ নয়।

শামসুল আলম বলেন, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে মিটিং করা হয় সিঙ্গাপুর, দুবাইয়ে। এই মিটিংয়ের নামে বাড়তি খরচ করে জ্বালানির দাম নির্ধারণের ওপর চাপানো হয়।

জ্বালানিতে ভর্তুকির কথা বলা হয়, কিন্তু কে কাকে ভর্তুকি দিচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এনার্জি প্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিপার ভাইস-প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ। তিনি বলেন, গ্যাসের দাম ১৫ টাকা থেকে কয়েকগুণ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না করে গ্যাস সরবরাহ করার কথা। কিন্তু প্রতিনিয়ত ক্ষতি হচ্ছে, তিতাস সে ক্ষতির কথা বিবেচনা করছে না। দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ শিল্পের জন্য সঠিক নীতি ও সঠিক মূল্যে গ্যাস সরবরাহের দাগিদ দেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এনার্জি বিশেষজ্ঞ তৌহিদ মওলা বলেন, বাজারভিত্তিক মূল্য পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম যতই বাড়ুক দেশের বাজারের যেন সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে উপরে না হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ কমানোর পরামর্শ দেন বিশ্ব ব্যাংকের এই এনার্জি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষের কাজে ডিজেল ব্যবহার হয়ে থাকে। এ কারণে ডিজেলের দাম পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।


ভারতে বসে হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে না

আপডেটেড ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক 

জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে বসেই বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়ে আসছেন এই পলাতক রাজনীতিক। তার এমন কর্মকাণ্ড দিয়ে ভারত সরকারকে বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নয়াদিল্লির উদ্দেশে বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা করে না।

সম্প্রতি বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের টানাপোড়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টা কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটে। সবশেষ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে দায়িত্বরত কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিবিসি ইন্ডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ১০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, জাতীয় নির্বাচন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত বসে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি প্রত্যাশা করে না বাংলাদেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন তৎপরতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ভালো কোনো উদাহরণ হবে না।

সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিটি ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ কখনোই কথা বলে না। বাংলাদেশের বিষয়েও ভারত সরকারেরও একই নীতি মেনে চলা উচিত।

হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা একে-অপরকে শত্রু মনে করলেও দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।


সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

জাতির প্রত্যাশিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে’ তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান। একইসঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার জন্য দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসনের এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।


অর্থ, পেশি ও ধর্মের কারণে রাজনীতি যাচ্ছে জিম্মি দশার দিকে: টিআইবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা বড় আকারে বেড়েছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। তবে রাজনীতিতে অর্থ, পেশি এবং ধর্ম- এই তিনটি একসঙ্গে একাকার হওয়ার কারণে সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি দশার দিকে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি এবং ধর্ম- এই তিনটি একসঙ্গে একাকার হওয়ার কারণে সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি দশার দিকে যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে সুস্থ রাজনীতি রাজনৈতিক স্পেস বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে কোণঠাসা হচ্ছে। আর অসুস্থ রাজনীতির ধারক-বাহক তুলনামূলভাবে রাজনীতির অঙ্গনটা দখল করে নিচ্ছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর ৫০ একরের বেশি জমি থাকতে পারে না। জমির মালিকানার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হবে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান নেই। সে কারণে নির্বাচনে এ ক্ষেত্রে হয়তো তেমন কিছু করার নেই। কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্য সংস্থাগুলোর দায়িত্ব আছে। কারণ বৈধ যে সীমারেখা, সেটা যারা লঙ্ঘন করেছেন তাদেরকে অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। যে প্রার্থী অতিরিক্ত জমির মালিক হয়েছেন অবৈধভাবে, তাদের সেই অতিরিক্ত সম্পদ ও জমি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করে জনস্বার্থে যারা ভূমিহীন তাদের মধ্যে বিতরণ করা উচিত এটি আমার নিজস্ব অভিমত।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছেন জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১৯৮১ জন। প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নগণ্য মন্তব্য করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নগণ্য। জুলাই সনদে প্রস্তাবিত পাঁচ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেননি।

এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৯৫১ জন। অথবা সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন।

দুজন প্রার্থীর বিষয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে। তবে তারা তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। টিআইবি মনে করে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। অপর একজন প্রার্থীর বিদেশে তার নিজের কোনো সম্পদের তথ্য না দিলেও তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করেছে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি এবং ধর্ম- এই তিনটি একসঙ্গে একাকার হওয়ার কারণে সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি দশার দিকে যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে সুস্থ রাজনীতি রাজনৈতিক স্পেস বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে কোণঠাসা হচ্ছে। আর অসুস্থ রাজনীতির ধারক-বাহক তুলনামূলভাবে স্পেসটা, রাজনীতির অঙ্গনটা দখল করে নিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।


ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বাংলাদেশ: ক্রীড়া উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ। ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটার এবং বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই।

বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের যৌক্তিক অনুরোধ রক্ষা না করে সুবিচার করেনি। তিনি জানান, সরকার ও বিসিবি চেয়েছিল বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিক, কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান, তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আসিফ নজরুল জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির এই আশঙ্কা কোনো কাল্পনিক ধারণা বা বায়বীয় বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি, বরং এটি সত্যিকারের ঘটনার প্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে। তাই সরকার খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না এবং ভারতে দল পাঠাবে না।

আসিফ নজরুলের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তারা এখনো শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলার জন্য আইসিসির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাবেন। আইসিসি সাম্প্রতিক সময়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করলেও বিসিবি সভাপতি তা মানতে নারাজ। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, মোস্তাফিজ নিজে সরে যাননি বা ইনজুরিতে পড়েননি, এমনকি বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে ও কট্টরপন্থীদের হুমকির মুখেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাই একে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই এবং বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে তারা সোচ্চার থাকবেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিবের মতো তারকা খেলোয়াড়রা আলোচনায় অংশ নেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।


১লা ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সুতা উৎপাদনকারী শিল্প খাতকে রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বা বিটিএমএ। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার কারণেই তারা এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, আগামী মাসের প্রথম দিন থেকেই সব ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকবে। তিনি জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা তাদের আর অবশিষ্ট নেই। তাদের ব্যবসায়িক পুঁজি ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেও ব্যাংকের দায় বা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এই চরম আর্থিক সংকট ও দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকেই মালিকপক্ষ মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শওকত আজিজ রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সংকট সমাধানের আশায় তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে বারবার ধরণা দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরগুলো সমস্যার সমাধান না করে পিলো পাসিংয়ের মতো দায়িত্ব একে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে কোনো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত আসছে না। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নীতিগত সহায়তা এবং শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলে পুরো টেক্সটাইল খাত এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নিমজ্জিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।


সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তথ্য অধিকার বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তথ্য অধিকার বিষয়ক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়াস হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।

উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি তার বক্তব্যে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান এবং দাপ্তরিক কাজে তথ্য অধিকার আইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম, যা নাগরিকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সঠিক প্রক্রিয়ায় তথ্য প্রদানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে, যা সবার জন্যই কল্যাণকর।

প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন বেবিচকের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ। এছাড়া প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. নিজাম উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রমা রাণী বিশ্বাস।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, বেবিচক তার নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে যথাযথ আইন মেনে প্রকাশযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি প্রশিক্ষণের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হবেন।


ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িক স্থগিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উড়োজাহাজ সংকট এবং বহর ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপের কারণে ঢাকা ও সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী ১ মার্চ ২০২৬ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পূর্বনির্ধারিত ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে সময়সীমা বাড়িয়ে ১ মার্চ থেকে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হচ্ছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে যে, ঢাকা ও সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটটি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। বিমানের বহরে থাকা সীমিত সংখ্যক বড় উড়োজাহাজ দিয়ে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং হজ রুটের ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। ম্যানচেস্টারের মতো দীর্ঘপথে একটি উড়োজাহাজ দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকায় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রুটে শিডিউল ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের চাপ সামাল দিতে এই অপারেশনাল পরিবর্তন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরাহ যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিমানের বহরে থাকা উড়োজাহাজগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ইঞ্জিন মেরামতের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে কিছু বিমান উড্ডয়ন ক্ষমতার বাইরে থাকে, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করে। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্রু সংকটের কারণে দীর্ঘ পথের পরিবর্তে স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা করাকে বর্তমানে বেশি কার্যকর ও যুক্তিযুক্ত মনে করছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এসব বাস্তবিক কারণেই ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিকল্প ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে লন্ডন রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে সপ্তাহে পাঁচটি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ফ্লাইট সিলেট হয়ে এবং একটি সরাসরি ঢাকা থেকে লন্ডন যাতায়াত করবে। ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীরা চাইলে কোনো প্রকার অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তাদের টিকিট ফেরত নিতে পারবেন। এছাড়া লন্ডন হয়ে যাতায়াত করা বা অন্য কোনো সুবিধাজনক তারিখে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগও রাখা হয়েছে যাত্রীদের জন্য।

সাময়িক এই অসুবিধার জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা আশ্বস্ত করেছে যে, বর্তমানে নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং ক্রু নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হলে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে আবারও ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।


নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা, শিল্পাঞ্চলে ১০ তারিখ থেকেই ছুটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ছুটির পরিধি বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের আগের দিন অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোট প্রদানের সুবিধার্থে ১০ ফেব্রুয়ারিও সাধারণ ছুটি থাকবে। বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস সচিব জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ছুটির বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ভোটারদের যাতায়াত ও ভোটদানের সুবিধার্থে নির্বাচনের আগের দিনও ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো। বিশেষ করে যারা শিল্প কলকারখানায় কাজ করেন, তাদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ছুটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। এতে করে যারা কাজের প্রয়োজনে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তারা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত নির্বাচনকে সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যেই সরকার এই বাড়তি ছুটির অনুমোদন দিয়েছে। প্রেস সচিব উল্লেখ করেন, কেবিনেট বা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।


বেবিচকের ৫৩ বছর পূর্তি: নিরাপদ আকাশপথ ও আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব গড়ার প্রত্যয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) সদস্যপদ প্রাপ্তির ৫৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করেছে। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল গ্রোথ, অ্যাচিভমেন্টস, ফিউচার নিডস অ্যান্ড আইকাও এনজিএপি–বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের আকাশপথকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাখতে বেবিচকের নিরলস প্রচেষ্টা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক এই সেমিনারে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের মেম্বার (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বেবিচকের ৫৩ বছরের যাত্রার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময়ই ছিল নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পকে দেশের এভিয়েশন ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশ একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে এবং টার্মিনাল সুবিধা উন্নয়নের কাজও চলমান রয়েছে। দ্য লিগ্যাসি অব সেফ স্কাই বা নিরাপদ আকাশের ঐতিহ্যকে বেবিচকের মূল দর্শন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে গ্রিন এভিয়েশন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীল বিমানবন্দর গড়ার ওপর জোর দেন।

মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টিতে সেমিনারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যেখানে নেক্সট জেনারেশন অব এভিয়েশন প্রফেশনালস (এনজিএপি) উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ভৌত অবকাঠামো ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবলই এভিয়েশন খাতের মূল চালিকাশক্তি। তিনি জানান, কার্যকর প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্ট (টিএনএ) অপরিহার্য। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং আইকাও অডিটের সুপারিশ মেনে ভবিষ্যৎ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাজানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন একাডেমির আইকাও ট্রেইনেয়ার প্লাস গোল্ড মেম্বারশিপ অর্জনের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশের প্রশিক্ষণ সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহন করে।

সেমিনারে বেসরকারি এয়ারলাইন্স খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন এয়ার অ্যাস্ট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমরান আসিফ। তিনি বলেন, দেশের এয়ারলাইন্স শিল্প বর্তমানে একটি পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যাত্রী চাহিদা বৃদ্ধি, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চাপের কারণে দক্ষ জনবল ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ট্রেনিং ও ফ্লাইট অপারেশন ডিরেক্টর ক্যাপ্টেন সাজ্জাদুল হক এনজিএপি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, পাইলট, কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট অপারেশন সংশ্লিষ্ট জনবলকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও এয়ারলাইন্সগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উক্ত সেমিনারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং এয়ার এস্ট্রার প্রতিনিধিবৃন্দসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও বেবিচকের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সকলে মিলে একটি টেকসই ও নিরাপদ এভিয়েশন শিল্প গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


একটা বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না: উপ-প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কঠোর আল্টিমেটামের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ সরকার। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য মাত্র এক দিন সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশের খেলতে না যাওয়ার ঐতিহাসিক নজির তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করে বলেন, অতীতে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি। একইভাবে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে এবং নিউজিল্যান্ড কানাডাতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সেই বর্জনের কারণে ওই দেশগুলোর ক্রিকেট থেমে যায়নি বা বন্ধ হয়ে যায়নি। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ যদি যৌক্তিক নিরাপত্তা শঙ্কায় একটি বিশ্বকাপ না খেলে, তবে দেশের ক্রিকেটের কোনো অপূরণীয় ক্ষতি হবে না বা ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলোয়াড়দের মতামত এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেখানেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে দলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিল যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা সেখানে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের জোর দাবি জানালেও আইসিসি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে। বিশ্ব ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না এবং টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশকে ভারতের ভেন্যুতেই খেলতে হবে। আইসিসির এমন অনমনীয় মনোভাবের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারও এখন নিজেদের অবস্থানে অটল থাকার ইঙ্গিত দিল।


মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন নির্ধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি নিয়োগ, ছুটি, আবাসন ও অবসরকালীন সুবিধার বিষয়গুলোও নতুন মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫–এ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত সোমবার বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। খতিবদের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমামকে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী পঞ্চম গ্রেডে, পেশ ইমামকে ষষ্ঠ গ্রেডে এবং ইমামকে নবম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন একাদশ গ্রেড, প্রধান খাদিম পঞ্চদশ গ্রেড এবং খাদিম ষেড়শ গ্রেডে বেতন পাবেন।

জাতীয় বেতন স্কেলে পঞ্চম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় ৪৩ হাজার টাকায়, সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা যুক্ত হয়। উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই গ্রেডে বেতন পান।

নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা নিতে বলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা দেওয়ার কথাও আছে নীতিমালায়।

মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটির বিষয়টি নীতিমালায় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করা যাবে। এ ছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নীতিমালায় সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটির কথা বলা হয়েছে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের সময় বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরির অন্যান্য শর্ত উল্লেখ করে নিয়োগপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়েও মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় প্রয়োজনে এই সংখ্যা কম বা বেশি করা যাবে।

চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা নিরসনের দায়িত্ব পাবে।

বেতন আসবে যেসব খাত থেকে: এই বেতন কাঠামোর প্রয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গেজেটের তথ্যানুযায়ী এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

সরকারি ও মডেল মসজিদ: সরকার কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত মসজিদ (যেমন: বায়তুল মোকাররম, আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদ) এবং নবনির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই স্কেলে বেতন পাবেন।

বেসরকারি বা স্থানীয় মসজিদ: পাড়া-মহল্লা বা গ্রামের স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই গেজেটটি একটি ‘আদর্শ মানদণ্ড’ হিসেবে কাজ করবে। তবে এসব মসজিদে বেতন প্রদানের মূল দায়িত্ব এখনো স্থানীয় কমিটির হাতেই থাকছে। সরকার এই কাঠামো অনুসরণ করার জন্য কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করছে।

চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তি: চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্মরত যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি। এছাড়া, নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে এ নীতিমালায়। এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।


গেল বছরে রাজধানীতে সড়কে মৃত্যু ২১৯

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গেল বছরে রাজধানীতে ৪০৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ৫১১ জন। নিহতদের মধ্যে পুরুষ ১৭৬ জন (৮০.৩৬ শতাংশ), নারী ২৫ জন (১১.৪১ শতাংশ) এবং শিশু ১৮ জন (৮.২১ শতাংশ)। এদের মধ্যে পথচারী ৪৭.০৩ শতাংশ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৪৩.৩৭ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৫৮ শতাংশ। গতকাল বুধবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ঘটেছে ১১.২৪ শতাংশ, সকালে ১৮.৩৩ শতাংশ, দুপুরে ৯.৫৩ শতাংশ, বিকেলে ১৩.৪৪ শতাংশ, সন্ধ্যায় ৫.৮৬ শতাংশ এবং রাতে সর্বোচ্চ ৪১.৫৬ শতাংশ দুর্ঘটনা।

রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২৪.৮৭ শতাংশ, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্যাংকার ও ময়লাবাহী ট্রাক ৩৫.১৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২১.৫৩ শতাংশ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও জীপ ৪.১২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা, সিএনজি ও লেগুনা) ১১.৮২ শতাংশ এবং রিকশা ২.৪৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীতে যানবাহন পরিচালনায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে রাতে ও সকালে দুর্ঘটনার হার বেশি। বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে ভারী মালবাহী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, ফলে পথচারীরা বেশি হতাহত হচ্ছেন। এছাড়া যানজটের কারণে চালকদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্যহীনতা তৈরি হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ককে দুর্ঘটনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া চলাচল, যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে বিভিন্ন গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত ও ব্যবহার অনুপযোগী ফুটওভার ব্রিজ, সড়কে পর্যাপ্ত সাইন ও মার্কিংয়ের অভাব, সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক ও যানবাহনে চাঁদাবাজি।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, বাসের জন্য আলাদা লেন চালু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা, উন্নত বিকল্প তৈরি করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, বহুতল পার্কিং স্টেশন নির্মাণ, রেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণ, রাজধানীর চারপাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।


গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম শুধু ভুক্তভোগীকে নয়, পুরো সমাজকেই শাস্তি দেয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, একজন মানুষ গুম হলে তার পরিবার প্রতিদিন বিচারহীনতার কারাগারে বন্দী থাকে। বুধবার আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই সেল) গুম করে নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর আগে সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চিফ প্রসিকিউটর সূচনা বক্তব্যে বলেন, আমরা গুমের যে মামলার বিচার শুরু করছি, সেগুলো কেবল কিছু ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ছিল না। এগুলো ছিল নির্মম আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় শাসনপদ্ধতির কৌশলের সাক্ষ্য। যে কৌশল স্রেফ গোপনে হত্যা করে লাশ গোপনই করেনি, বরং বিরোধী মতের হাজার হাজার মানুষকে জ্যান্ত লাশ বানিয়ে অক্ষম করে রেখেছিল।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, নীরব ও আলো-বাতাসহীন অন্ধকার কুঠরিতে হাত-পা বেঁধে মাসের পর মাস বিনা বিচারে বন্দীদের আটকে রাখার এই কৌশল, সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছিল। এই ক্ষত কেবল রাজনৈতিক জনপরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসমূহ বিদ্যমান ছিল, সেই বাহিনীগুলোর কাঠামোর মধ্যেও গভীরভাবে প্রবেশ করেছিল।

তিনি বলেন, বিরোধী চিন্তার মানুষদের গুম করে তিলে তিলে অক্ষম করে দেয়ার মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকল্পের যে উগ্র বাসনা বাস্তবায়িত হয়েছে, তার পথে দেশের প্রধান কয়েকটি নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সদস্য মার্সেনারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, এর ফলে খোদ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যেই যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা নজিরবিহীন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ হিসেবে মানুষের যে ন্যূনতম মর্যাদা থাকে, বলপূর্বক গুম সেই মর্যাদাকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করে দেয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক আইনে বলপূর্বক গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, কারণ এটি একযোগে বহু অধিকার ধ্বংস করে।’

তিনি বলেন, হাসিনার রাষ্ট্রকল্পে গুমের কৌশল মানুষকে কেবল দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়নি, অনেক ক্ষেত্রে নিষ্ঠুর নির্যাতনের মাধ্যমে দেহকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা চিরতরে অক্ষম করে দিয়েছে। এখানে মৃত্যু ঘটানো হয় না প্রকাশ্যে, বরং মানুষকে ঝুলিয়ে রাখা হয় জীবিত ও মৃতের মাঝখানে। পরিবার জানে না সে বেঁচে আছে কি-না।


banner close