শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সিভিল সার্ভিস থেকে ‘ক্যাডার’ শব্দটি বাদ পড়ছে

ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৮:৪৫

সিভিল সার্ভিসে ‘ক্যাডার’ শব্দটি বাদ দিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। ‘ক্যাডার’ শব্দটি নেতিবাচক হওয়ায় কমিশন এ সুপারিশ করবে।

আজ রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের বৈঠক শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সচিব বলেন, ‘প্রশাসন নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ। বিশেষ করে বিসিএস, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এটাকে নানান কারণে এখন মনে করা হয় ক্যাডার। এই ক্যাডার শব্দটির সাথে নেগেটিভি থাকে। এজন্য জনপ্রশাসনের সংস্কার কমিশন অনেকগুলো সংস্কারের প্রস্তাব দেবো। এরমধ্যে একটা থাকবে যে এই ক্যাডার শব্দটি বাদ দিয়ে, যার যে সার্ভিস যেমন সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল সার্ভিস হেলথ, সিভিল সার্ভিস এগ্রিকালচার এরকম। এটা আমাদের বড় সংস্কার। এতে আমরা মনে করি অনেকের মানসিক শান্তি আসবে। এটা করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্যুর করতে গিয়ে দেখলাম মানুষ মনের থেকে যে কথাগুলো বলেছে এবং কয়েকটি অফিস সম্পর্কে মানুষের নেগেটিভ ধারণা রয়েছে। সে বিষয়ে আপনারাও জানেন। এগুলো আমি উল্লেখ করতে চাই না। তবুও দুই-একটা বলতে হয় যেমন এসিল্যান্ড, রেজিস্ট্রেশন অফিস সম্পর্কে মানুষের বাজে ধারণা।’

‘রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি এমন লেভেলে যে, সেখানে কোনো অভিযোগ নেই। সবাই সেখানে দিয়ে যাচ্ছে। দিচ্ছে, নিচ্ছে এবং এটাও বলে আগের স্যারের থেকে কম নিচ্ছেন। দুর্নীতির এ ধরনের একটা প্রেক্ষাপট আমাদের জিইয়ে রেখেছে।’

মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, সেই পরিবর্তনের জন্যই এই পরিবর্তিত সরকার এসেছে। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি।’

ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ অনলাইনে কমিশনের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক নাম পরিবর্তন হবে কিনা- জানতে চাইলে এই জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, অনেকে বলেছেন জনপ্রশাসন না বলে জনসেবা বলা যায় কিনা। জেলা প্রশাসক ব্রিটিশ আমলের সৃষ্টি এবং এই শব্দের বাইরে অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে। কালেক্টর আছে, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আছে, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আছে। আমরা এসব নিয়ে সুপারিশ দেবো। তবে সরকার সেটাই নেবে যেটা দেশের জনগণ চায়।

শুধু শব্দ পরিবর্তন করে কি কোনো পরিবর্তন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, আসলে মানুষের মন ও মস্তিষ্কের পরিবর্তন করতে হবে। এই দুই জায়গার পরিবর্তনটা আগে করতে হবে। সামনে আরও পরিবর্তন দেখতে পারবেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন বার্তা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতিসহ চীন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

চীন

নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।

ভারত

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।

দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।

দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি তিনি মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

পাকিস্তান

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

জারদারি বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্য মির্জা ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানান। তার আশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

নেপাল

নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও শুক্রবার (২১ আগস্ট) অভিনন্দন বার্তায় মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।

তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাজ্য

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবারের এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ঢাকা ও লন্ডনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।

ফ্রান্স

ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্স দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানায়। বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।

সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডের ঢাকাস্থ দূতাবাসও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

জার্মানি

জার্মান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

দূতাবাস তার নতুন দায়িত্বে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছে। পাশাপাশি জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা জানিয়েছে।

নাইজেরিয়া

নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকারও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর বিয়াঙ্কা ওদুমেগউ-ওজুকউ ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান।

নাইজেরিয়া মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।


নির্বাচিত

বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) থেকে এ আইন কার্যকর করল।

বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।

নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।

একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।


নির্বাচিত

শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বাজেট বাস্তবায়ন করেছে বিএনপি সরকার: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করেছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সংলাপে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবজীবন ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য মানসম্মত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

বর্তমানে দেশেরে শিক্ষাব্যবস্থা কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেখান থেকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। বাস্তবজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, পড়াশোনা শেষে একজন শিক্ষার্থী যেন দেশ-বিদেশে নিজের যোগ্যতা কাজে লাগাতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে।

ইউজিসির হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন উপাচার্যসহ নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সংলাপে উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, শ্রমবাজারের চাহিদা, শিক্ষার গুণগত মান, জবাবদিহি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও উদ্ভাবনী ও সুশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ওপর জোর দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ঘিরে শুরু হওয়া গুঞ্জনের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ঢাকা। আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট তারেক রহমানের দিল্লি সফর করতে পারেন–ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার (২১ আগস্ট) তার প্রেস সচিব বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সফরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ।

সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে বলে প্রত্যাশা তৈরি হয়।

এর অংশ হিসেবে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আলোচনা চলছে।

তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক আমেজ কিছুটা ফিকে হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মমভাবে দমনের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অনলাইনে ভাষণ দেন এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেন, ‘সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও ‘অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সফরটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, এ বিষয়ে নতুন করে তথ্য দেওয়ার মতো কিছু তাদের কাছে নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়ে ভারত জানায়, বিষয়টি তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকার পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য আরো বেশি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। মূলত শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার পরই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ফের জটিল হয়েছে।


নির্বাচিত

রোববার বঙ্গভবনে উঠবেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোববার (২৩ আগস্ট) বঙ্গভবনে উঠবেন সদ্য শপথ নেওয়া রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ উপলক্ষে বঙ্গভবনে তার আনুষ্ঠানিক অভিষেকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট)রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বঙ্গভবনের ২ নম্বর গেটে পৌঁছালে পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাকে ‘গার্ড অব অনার’ মঞ্চে নিয়ে যাবে।

সেখানে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল নতুন রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেবে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে যাবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মির্জা ফখরুল মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে ফিরবেন। পরে তার গুলশানের বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর এক দিন আগে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

ছবি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দ্রৌপদী মুর্মু।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শপথগ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ পর ভারতের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানানো হয়। বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমি নিশ্চিত যে, আপনার দীর্ঘ জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় একটি সফল সময়ের সূচনা করবে।

বিবৃতিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এক অনন্য সম্পর্ক বিদ্যমান, যার মূলে রয়েছে ত্যাগের অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং বন্ধুত্বের উষ্ণ সম্পর্ক। সম্প্রতি জ্বালানি, প্রযুক্তি, সংযোগ, যুব বিষয়ক, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমাগত আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। মহামান্য, আপনার অব্যাহত সুস্বাস্থ্য ও সুখ, আপনার দায়িত্বের সফল সম্পাদনা এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা নেবেন।

এর আগে, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।


নির্বাচিত

নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু এবং আন্দালিভ রহমান পার্থ। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন এই চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রণালয় ও দপ্তর বণ্টন করবেন।


নির্বাচিত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথ পড়ান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

এরপর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।


নির্বাচিত

শপথ নিতে বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিচ্ছিন্দ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় থেকে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন নিশ্চিত করছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দরবার হলে বিশাল সমাগমের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিচারক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিকসহ প্রায় ১,২০০ জন অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অতিথিদের সুবিধার্থে দরবার হলে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০০-এর বেশি করা হয়েছে।

বঙ্গভবনের দরবার হলে নির্ধারিত সময়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন।

শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর রাষ্ট্রপতির শপথ সম্পন্ন হবে। শপথগ্রহণ ও বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতিসহ মন্ত্রিপরিষদ ও নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই মন্ত্রিসভার নতুন চারজন সদস্যকে শপথ পাঠ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


নির্বাচিত

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও ৪ সদস্য, রাতে শপথ

আবদুল মঈন খান, আন্দালিভ রহমান পার্থ (উপরে), সাচিং প্রু জেরী ও শামীম কায়সার লিংকন (নিচে)। ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার পরিধি আরও বড় হচ্ছে। দলীয় ও জোটগত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন আরও চারজন সংসদ সদস্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে তিনজনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নতুন এই মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন।

ইতিমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য এই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে জিয়া উদ্যানে পৌঁছে তিনি উভয়ের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে এই শীর্ষ পদের লড়াই সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেন, অন্যদিকে অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।

ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জয়ী ঘোষণা করেন এবং গতকাল সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হয়।


নির্বাচিত

আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা ৭টায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে তিনি লাভ করেন ২৫৫টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহুল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর-ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁওকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা করা হলো।"

শপথের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) এ এ আউয়াল জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয় এবং সেই সময় থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ৬ জন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর এটিই ছিল সংসদ কক্ষে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় ঘটনা।

নির্বাচনে মির্জা ফখরুল জয়ী হওয়ার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই সংসদ নেতা তারেক রহমান তাঁকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা করতালির মাধ্যমে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মির্জা ফখরুলের আসনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কোলাকুলি ও সৌজন্য বিনিময় করেন। পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করতে দেখা যায়।

গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সরকারি দলের বিপুল সংখ্যাধিক্য থাকায় বিএনপির প্রার্থীর জয় আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের আয়োজন করে। আজ শুক্রবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হবেন।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

* শপথ আজ
জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। ভোটগ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং শেষ হয় বিকেল ৫টায়। পরে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার মাধ্যমে সংসদীয় ভোটে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন দুইজন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এলডিপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, যাদের প্রত্যেকেই সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন।

এর আগে সবশেষ ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার পর আয়োজন হয়েছিল এ নির্বাচন। এরপর আরও আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নে একক প্রার্থী থাকায় সেগুলোতে ভোট হয়নি।

ফলে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে ৭৮ বছর বয়সি মির্জা ফখরুলের আর কোনো বাধা রইল না। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি পালন করছিলেন। তবে এরই মধ্যে তিনি এই পদ দুটি ছেড়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দিতে মির্জা ফখরুল নিজে সংসদে উপস্থিত হন।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যালট বাক্সের সামনে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল। তারেক রহমানের পর নিজের ভোট দেন তিনি।

তারপর একে একে ভোট দেন অন্য সংসদ সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরাই ভোট দিতে পারেন।

ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে এই দলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়াটা প্রায় নিশ্চিতই ছিল।

চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ৩৫০ আসনের সংসদে বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্য ২৫০ জন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য মোট ৯০ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন আটজন, ইসলামী আন্দোলনের একজন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ তিনি পাননি। বিএনপির হয়ে বেশ কয়েকটি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এই রাজনীতিক বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হলো।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ, মো. সাহাবুদ্দিনের বেলায় বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তারা।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন। সেই হিসাবে তার মেয়াদ ছিল ২০২৮ সালের ২৩ পর্যন্ত।

কিন্তু ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি যায় পাল্টে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সাহাবুদ্দিন এই পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও ছিলেন ব্যাপক চাপে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে।

এক নজরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রাবস্থায় ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন এবং সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানকালে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (শিক্ষা ক্যাডার) সদস্য হিসেবে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-০১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণ করেননি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঠাকুরগাঁও নির্বাচনী এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

banner close