সিভিল সার্ভিসে ‘ক্যাডার’ শব্দটি বাদ দিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। ‘ক্যাডার’ শব্দটি নেতিবাচক হওয়ায় কমিশন এ সুপারিশ করবে।
আজ রোববার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের বৈঠক শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোখলেস উর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সচিব বলেন, ‘প্রশাসন নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ। বিশেষ করে বিসিএস, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস এটাকে নানান কারণে এখন মনে করা হয় ক্যাডার। এই ক্যাডার শব্দটির সাথে নেগেটিভি থাকে। এজন্য জনপ্রশাসনের সংস্কার কমিশন অনেকগুলো সংস্কারের প্রস্তাব দেবো। এরমধ্যে একটা থাকবে যে এই ক্যাডার শব্দটি বাদ দিয়ে, যার যে সার্ভিস যেমন সিভিল সার্ভিস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিভিল সার্ভিস হেলথ, সিভিল সার্ভিস এগ্রিকালচার এরকম। এটা আমাদের বড় সংস্কার। এতে আমরা মনে করি অনেকের মানসিক শান্তি আসবে। এটা করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্যুর করতে গিয়ে দেখলাম মানুষ মনের থেকে যে কথাগুলো বলেছে এবং কয়েকটি অফিস সম্পর্কে মানুষের নেগেটিভ ধারণা রয়েছে। সে বিষয়ে আপনারাও জানেন। এগুলো আমি উল্লেখ করতে চাই না। তবুও দুই-একটা বলতে হয় যেমন এসিল্যান্ড, রেজিস্ট্রেশন অফিস সম্পর্কে মানুষের বাজে ধারণা।’
‘রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতি এমন লেভেলে যে, সেখানে কোনো অভিযোগ নেই। সবাই সেখানে দিয়ে যাচ্ছে। দিচ্ছে, নিচ্ছে এবং এটাও বলে আগের স্যারের থেকে কম নিচ্ছেন। দুর্নীতির এ ধরনের একটা প্রেক্ষাপট আমাদের জিইয়ে রেখেছে।’
মোখলেস উর রহমান বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়, সেই পরিবর্তনের জন্যই এই পরিবর্তিত সরকার এসেছে। আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি।’
ইতোমধ্যে এক লাখ মানুষ অনলাইনে কমিশনের প্রশ্নের জবাব দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক নাম পরিবর্তন হবে কিনা- জানতে চাইলে এই জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, অনেকে বলেছেন জনপ্রশাসন না বলে জনসেবা বলা যায় কিনা। জেলা প্রশাসক ব্রিটিশ আমলের সৃষ্টি এবং এই শব্দের বাইরে অনেকগুলো প্রতিশব্দ আছে। কালেক্টর আছে, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আছে, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আছে। আমরা এসব নিয়ে সুপারিশ দেবো। তবে সরকার সেটাই নেবে যেটা দেশের জনগণ চায়।
শুধু শব্দ পরিবর্তন করে কি কোনো পরিবর্তন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, আসলে মানুষের মন ও মস্তিষ্কের পরিবর্তন করতে হবে। এই দুই জায়গার পরিবর্তনটা আগে করতে হবে। সামনে আরও পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আমি সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ করে গড়ে তুলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
তারেক রহমান বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি প্রার্থনা করি, তিনি যেন সব শহীদের বিদেহী আত্মাকে মাগফিরাত দান করেন। আমি ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সাতদিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংক বীমা খুললেও রাজধানী ঢাকা এখনও তার চিরচেনা রূপে ফিরতে পারেনি। যান্ত্রিক এই মহানগরে কর্মব্যস্ততার সেই স্বাভাবিক চাঞ্চল্য এখনও অনুপস্থিত। মূলত ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটির সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কর্মস্থলে ফেরেননি। ফলে রাজধানীর সড়কগুলো এখনও জনশূন্য ও যানজটমুক্ত রয়েছে, তবে এই ফাঁকা সড়কেও গণপরিবহনের ধীরগতির কারণে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে নতুন ধরনের ভোগান্তি।
রাজধানীর মহাখালী, নতুনবাজার, রামপুরা ও বাড্ডার মতো অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। চিরচেনা সেই যানজট না থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তা খালি থাকা সত্ত্বেও যাত্রী সংগ্রহের আশায় বাসগুলো বিভিন্ন মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে এবং অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। উত্তরার এক শিক্ষার্থী জানান, রাস্তাঘাট পুরোপুরি ফাঁকা হওয়া সত্ত্বেও উত্তরা থেকে রামপুরায় আসতে তাঁর প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লেগেছে, যা স্বাভাবিক সময়ে যানজটের মধ্যেও অনেকটা এমনই থাকে। বাসের চালক ও সহকারীরা প্রতিটি স্টপেজে যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এই বিলম্ব ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রাজধানীর পাড়া-মহল্লাগুলোতেও এখনও ঈদের আমেজ কাটেনি। অধিকাংশ দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে খাবার নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় খোলা থাকা হোটেলগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে নাশতা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে ডিম-খিচুড়ি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা অনেক জায়গায় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরবাসী মনে করছেন, টানা এই ছুটি শেষে আগামী ২৯শে মার্চ রবিবার থেকে রাজধানী আবার তার পূর্ণ কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করবে।
অন্যদিকে, ঢাকার ভেতরে মানুষের ফেরার মিছিল যেমন ধীর, তেমনই উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাস টার্মিনালগুলোতে। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে আজও অনেক মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। তাঁদের মতে, ঈদের আগের অসহনীয় ভিড় ও ঝক্কি এড়াতে তাঁরা বাড়তি ছুটির এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এখন সপরিবারে গ্রামে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্ত ও স্থবির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে ঢাকা। একদিকে ফাঁকা সড়কের প্রশান্তি, অন্যদিকে সেবা ও পরিবহনের ধীরগতি—এই দুইয়ের মিশেলে এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে অবস্থানরত নগরবাসী।
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী।
রুহুল কুদ্দুস এর আগে পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়েছে।
অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের এক মাসে জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের সরাসরি সার, বীজ ও ঋণ সহায়তা দিতে স্মার্ট ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর চানখারপুলে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ১টি ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার সকালে অভিযান পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আভিযানিক দল।
অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আহমদ স্পেশালাইজড হসপিটাল, অ্যাক্টিভ ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, আহমদ স্পেশালাইজড হসপিটালের জেনারেটর এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার একই জায়গায় রাখা ছিল। এ ছাড়া হসপিটালটিতে জরুরি বিভাগ ও পোস্ট অপারেটিভ রুম না রাখার অভিযোগ আনা হয়।
অ্যাক্টিভ ব্লাডব্যাঙ্ক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা এবং ট্রান্সফিউশন করার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন।
এরপর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দপ্তরে এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং তার কিছু দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপরই স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।”
ডাক টিকিট উন্মোচনের সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক সচিব আব্দুন নাসের খান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আজ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদের সভা। বিকাল ৪টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার।”
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন’ সামিটে যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত শীর্ষ এ সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান এআই প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নারী, শিশু ও পরিবারকে শক্তিশালী করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।”
ডা. জুবাইদা বলেন, “আজ এ ঐতিহাসিক সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারাবিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন দিয়ে থাকি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তাই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।”
সম্মেলনের উদ্বোধন করে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। এখানে শিশুদের সফল হওয়ার জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করতে আজ থেকেই একযোগে সবাইকে কাজ করতে হবে।”
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৬৪ কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এই পদোন্নতির বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এই পদোন্নতির ফলে তারা এখন জাতীয় বেতন গ্রেড-২০১৫–এর ষষ্ঠ গ্রেডে (৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা ) বেতন–ভাতা পাবেন।
জানা গেছে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীন সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সিনিয়র স্কেলে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতি পাওয়া ২৬৪ সিনিয়র সহকারী সচিব বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের বরাবর ই–মেইলে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা বর্তমান কর্মস্থলে কর্মরত থাকবেন।
আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে ১৯৭১ সালের এইদিন শেষে এক বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত নেমে এসেছিল। ওই রাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’র নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই অভিযানের নির্দেশনামা তৈরি করেন পাকিস্তানের দুই সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ও মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। নির্দেশনামার লিখিত নথি রাখা হয়নি। গণহত্যার সেই পুরো নির্দেশ মুখে মুখে ফরমেশন কমান্ডার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়। অনেক পরে, ২০১২ সালে, মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা ‘এ স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ শিরোনামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত সেই আত্মজীবনীতে প্রথমবারের মতো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রকাশিত হয়।
‘অপারেশন সার্চলাইট’ কীভাবে পরিকল্পিত হয়, ১৯৭১ সালের সেই স্মৃতিচারণ করে মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা লিখেছেন, ‘১৭ মার্চ, সকাল প্রায় ১০টা বাজে। টিক্কা খান আমাকে ও মেজর জেনারেল ফরমানকে কমান্ড হাউসে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে খবর পাঠান। খবর পেয়ে আমরা দুজন টিক্কা খানের সঙ্গে দেখা করি। গিয়ে দেখি, সেখানে জেনারেল আবদুল হামিদ খানও রয়েছেন। টিক্কা খান আমাদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেখ মুজিবের সমঝোতা আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট চান আমরা যেন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করি এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করি। এ ছাড়া আর কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের বলা হয়, পরদিন ১৮ মার্চ বিকেলে আমরা দুজন যেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ওই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করি।’
পরদিন সকালেই খাদিম হোসেন রাজা তার কার্যালয়ে রাও ফরমান আলীকে নিয়ে বসেন। তারাই গণহত্যার এ অভিযানের নাম দেন ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চ রাত সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেই রাতে সাত হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন হাজার। ঢাকায় ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। এরপর সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চলল মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘর-বাড়ি, দোকান-পাট। লুট আর ধ্বংস যেন তাদের নেশায় পরিণত হল। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হল। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুনতাড়িত শ্মশান ভূমি।’
এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও আছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়, ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’
১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনদের হত্যা করতে শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সব সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। সেদিন দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারে তারা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।
ঢাকার ইপিআর সদরদপ্তর পিলখানায় থাকা ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাংক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজির জনসংযোগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ গ্রন্থেও এ সংক্রান্ত বিবরণ পাওয়া যায়। সিদ্দিক সালিক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনারেল নিয়াজির পাশেই ছিলেন।
বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে অনুগত পাকিস্তানি হিসেবে পাক সামরিক জান্তার চক্রান্ত তিনি খুব কাছে থেকেই দেখেছেন। ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ শুরুর মুহূর্ত নিয়ে তিনি লিখেন ‘নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সামরিক কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়। এমন আঘাত হানার নির্ধারিত মুহূর্ত (এইচ-আওয়ার) পর্যন্ত স্থির থাকার চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে গেল। নরকের দরজা খুলে গেল।’
পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগের নয় শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সব ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ছেড়ে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা হবে।
এছাড়া, দুপুর ১২টা থেকে ঢাকাসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় মিনিপোলসমূহে গণহত্যা বিষয়ক বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে ২৫ মার্চের রাতে নিহতদের স্মরণে সারাদেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে। তবে কেপিআই ও জরুরি স্থাপনাগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে। রাতে কোনো অবস্থাতেই আলোকসজ্জা করা যাবে না।
এদিন সকাল ১০টা বা সুবিধাজনক সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ব্যবস্থাপনায় দিবসটি উপলক্ষে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস-২০২৬ পালন এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘২৫ মার্চ ১৯৭১, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন।
এ কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।’
স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি।’
প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রার্থনা করে বলেন, ‘আল্লাহ যেন সকল শহীদের বিদেহী আত্মাকে মাগফিরাত দান করেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নজর পড়তে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সফর অনেকটাই ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন কিস্তির ছাড় পাওয়ার ক্ষেত্রে আশার আলোর সঞ্চার করেছে। সভায় আইএমএফের স্থগিত থাকা ঋণচুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেছেন, সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে ঋণের এই কিস্তি পাওয়া যেতে পারে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইএমএফের ঋণপ্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তি ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের শর্ত ছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার একমত হওয়া শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ডিসেম্বরের বাকি থাকা কিস্তিসহ ঋণের ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাবে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল আমদানি করতে বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর। এই সময়ে আইএমএফের ঋণের কিস্তি পাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারির এক চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বলেছে, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছে আইএমএফ। তাদের কর্মসূচির আওতায় দেশে কী কী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তা কতটা সফল, মূলত সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হবে। পাশাপাশি নতুন সরকারের সঙ্গে আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা বজায় রাখার বার্তা দিতে চায় আইএমএফ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাসহ আইএমএফের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এখনো পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
এর পাশাপাশি অমীমাংসিত কাজের তালিকায় রয়েছে আরও কিছু বিষয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়া এবং বিদেশি মুদ্রার ক্ষেত্রে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা।
করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশ।
এই চুক্তির আওতায় রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার, ব্যাংকিং অবকাঠামোর পুনর্গঠন ও সরকারি ভর্তুকি কমানোর মতো একাধিক শর্ত রাখা হয়েছিল। পরে গত বছরের জুনে এই কর্মসূচির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাড়তি ৮০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করে আইএমএফ। ফলে মোট ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার।
এখনো পর্যন্ত পাঁচটি কিস্তিতে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭৬.৩ মিলিয়ন ডলার, ওই বছরের ডিসেম্বরে ৬৮১ মিলিয়ন ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ও ২০২৫ সালের জুনে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এখনো ১.৮৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পাওয়া বাকি।
গত ডিসেম্বরেই আইএমএফের আর একটি কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরেই তা ছাড় করা হবে বলে ঋণপ্রদান স্থগিত রাখা হয়।
গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক বসে। সেখানে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে আইএমএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচিত প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়া হবে।
আইএমএফের ঋণপ্রদান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের পর গত নভেম্বরে সালেহউদ্দিন জানিয়েছিলেন, নির্বাচিত সরকার ঠিক কতটা আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে, তা নিয়েও সংস্থাটি সঙ্গে আলোচনা করবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়ে আগামী এপ্রিলে সংস্থাটির বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সব ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসে ঋণের এই কিস্তি পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। গতকাল সচিবালয়ে সফররত আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের ঋণ ছাড়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে জুলাই মাসে রিভিউ হবে। এর মধ্যেই আমরা বাজেটের প্রস্তুতি নেব। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে আইএমএফের ‘স্প্রিং মিটিং’ আছে, সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান কর্মসূচিগুলো পুনরায় পর্যালোচনা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। আইএমএফের যে শর্ত বা রিকোয়ারমেন্টগুলো রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে আইএমএফের সব শর্ত এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব আর বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেগুলো এখন সম্ভব নয়, সেগুলো ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থনীতি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে সবকিছু আমাদের মতো করেই করতে হবে।
বৈঠক শেষে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সাংবাদিকদের বলেন, ঋণ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির রিভিউ হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে জারি করা ‘দায়মুক্তি’ অধ্যাদেশের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠক থেকে বের হওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার যে অধ্যাদেশ রয়েছে, তার সঙ্গে সংসদীয় বিশেষ কমিটি পূর্ণ একমত পোষণ করেছে। এই বীর যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ছাড়াও সংসদীয় কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।