তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে তিনটি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১৯ জানুয়ারি দিন ধার্য রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ রোববার এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, শরীফ ভূঁইয়া ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে ১৬ অক্টোবর রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করে নাগরিক সমাজের পক্ষে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে গতকাল সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার রিভিউ আবেদন করেন। তিনটি রিভিউ আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হবে।
বিএনপির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনে বিএনপির পক্ষে ১০টি যুক্তি পেশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তির মধ্যে রয়েছে- আদালতে প্রকাশ্যে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত আদেশ সংবিধান সংশোধনের পর পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে বাদ দেওয়া এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের অবসরের ১৮ মাস পর রায় প্রকাশ করা একটি বিচার বিভাগীয় প্রতারণা। উন্মুক্ত আদালতে দেওয়া রায় ছিল এক রকম, পরবর্তীতে প্রকাশিত রায়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারী মামলাও চলমান রয়েছে বলে যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বেই সংবিধান সংশোধন করে তৎকালীন আওয়ামী সরকার। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংসদে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। আদালতে ঘোষিত রায়ের সঙ্গে প্রকাশিত রায় ভিন্ন ছিল। যা বিচার বিভাগীয় প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
এই সিনিয়র অ্যাডভোকেট বলেন, গণতন্ত্র এবং অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন জমজ সন্তানের মতো একটি ছাড়া আরেকটি অর্থহীন। সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র গ্রহণযোগ্য বাহন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তিতে আরও বলা হয়, সংবিধান একটি জীবন্ত রাজনৈতিক দলিল। সময়ের প্রয়োজন মেটাতে না পারলে এর কার্যকারিতা থাকে না। সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব সংবিধানকে প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যা করা যান্ত্রিকভাবে নয়। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ রায় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। যুক্তিতে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে ত্রয়োদশ সংশোধনী সংশ্লিষ্ট মৌলিক মর্যাদা অর্জন করে। সুপ্রিম কোর্ট এই মৌলিক স্তম্ভ অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে না বলে যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন গ্রাউন্ডগুলো গ্রহণ করে সর্বোচ্চ আদালত রিভিউ মঞ্জুর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। মানুষ মুক্তি পায়। দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন ও ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছিল।
ছোটখাটো কিছু অভিযোগ ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই ওই নির্বাচনগুলো মেনে নেয়। ওই সময় জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে অধিবেশন কার্যক্রম প্রাণবন্ত ছিল। ২০০৭ সালের এক এগারো পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচন বিতর্কিত প্রশ্নবিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য ছিল। যদিও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামী লীগ জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। এক এগারোর কুশীলবরা ওই নির্বাচন পরিচালনা করেছিল।
ওই নির্বাচন পরবর্তী সংসদে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের এমপিরা অধিবেশনে সরব ছিলেন। ২০০৮-এর নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলে উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিল। মতবিনিময়ে প্রায় সবাই কিছু সংস্কারসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখার পক্ষে মত দিয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়। এই তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত, অগ্রহণযোগ্য ও ভোটারবিহীন হয়েছিল। দেশে-বিদেশে এসব নির্বাচন কোনোরূপ গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এরমধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনাভোটে আওয়ামী লীগ ও তার জোটের ১৫৩ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। যা ছিল নজিরবিহীন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০১১ সালের ১০ মে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে সরকার সড়ক, রেল ও নৌপথের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের লেডিস ক্লাবে আয়োজিত ‘নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিষ্ঠা ও ত্যাগের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা যাতে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ফিটনেসবিহীন ও অনুমোদনহীন নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি ঈদের আগে এই ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে নৌপুলিশকে জরুরি নির্দেশ প্রদান করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে নৌপথের দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার অর্থনীতি গণতন্ত্রীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মূলধারার অর্থনীতির বাইরে আছে, তাদের অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে চাই। নাগরিক হিসেবে এটি সবার অধিকার।
শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে।’
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর ২য় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত সময়ে দেশের অর্থনীতিতে অলিগার্ক শ্রেণি (অত্যন্ত ধনাঢ্য) সুবিধা নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল না বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর। সরকার সেটি ভাঙছে বলেও দাবি তার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নারীরা পুরো পরিবারকে আগলে রাখেন এবং কিভাবে সঞ্চয় করতে হয়, তা তারা ভালোভাবে জানেন। এ জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি করবে।
একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (১০ মে) সকাল ৯টার পর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত চারদিন ব্যাপী এই সপ্তাহের বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চারদিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির তাঁকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি লাল-সবুজ খোলা জিপে চড়ে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন।
এ সময় পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ব্যাকগ্রাউন্ড উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়।
এবারের বার্ষিক প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকারের আমলে এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।
বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপারসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত রয়েছেন।
আজ শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে।
রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় প্রটোকল (রাষ্ট্রাচার) সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিদেশ যাওয়া ও দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকায় কাটছাঁট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে গত ৪ মে পাঠানো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি চিঠিতে এ নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে ৭ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। তারা হলেন: মন্ত্রিসভার একজন সদস্য, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশের মিশন প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিব ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান।
এর আগে, সবশেষ ২০১৭ সালের ১৬ মে রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরার রাষ্ট্রাচার নিয়ে নির্দেশনাবলি জারি করা হয়েছিল। সেই সময়কার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরে মোট ১৩ জন কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।
দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় আখচাষি, শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই মিলগুলো বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। তাই এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা চাই, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।
শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা চত্বরে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো চালু করা নিয়েও কথা বলেছেন শিল্পমন্ত্রী।
শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। ফলে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যদি চালা (টিনের চালা) ঠিক না করে চিনি বানানো হয়, তাহলে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে। কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে, কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী মনে করেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে এবং দারিদ্র্য কমবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন ও পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিকনেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বন্ধ চিনিকল চালুর দাবিদাওয়া–সংবলিত প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি বাণিজ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চিনিকলের শ্রমিক ও আখচাষিরা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাবের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উন্নয়ন বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।
শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এক বর্ধিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করার আগে আগামী ১৬ মে কমিশনের আরেকটি বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে।
সভার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই উন্নয়ন বাজেট আগামী ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বা ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যোগান দেবে। ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেটের আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
পরিকল্পনা কমিশনের খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।
শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত এই পাঁচটি খাতেই মোট এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৬২ শতাংশ ব্যয় হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খণ্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তারা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সেই শিক্ষার্থী ফিরলেন লাশ হয়ে। এতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
শনিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ। দুপুর ২টার দিকে তা নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে। শেষবারের মতো বৃষ্টিকে দেখতে সেখানে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্বজনরা জানান, সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে লিমনের এক মার্কিন রুমমেটের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে লিমন ও বৃষ্টিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার আট দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল উদ্ধার করা হয় বৃষ্টির মরদেহও।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া বৃষ্টির জীবন এভাবেই থেমে গেল বলে মন্তব্য করেন স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, ‘সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে—এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘যে মেয়ের আনন্দঘন পরিবেশে দেশে ফেরার কথা ছিল, সে লাশ হয়ে ফিরল। এ শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনও কল্পনাও করিনি। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে ছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টিকে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কবিতা ও সাহিত্য আমাদের জাতির প্রেরণার অন্যতম উৎস। রবীন্দ্রনাথের সেই চিরন্তন উচ্চারণ- ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা’- আমাদের জাতীয় জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কঠিন সত্যকে ধারণ করেই মানুষ পরিবর্তনের পথ রচনা করেছে এবং সেই সংগ্রাম কখনো তাদের বঞ্চিত করেনি; বরং একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখিয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭-১৯ বছরে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তারাও সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেই শক্তি সঞ্চয় করেছেন। এ দেশের মানুষ কঠিন বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচিন্তা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনি তার সময়ের চেয়ে বহু অগ্রসর চিন্তার মানুষ ছিলেন। ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতার আবেগ আজও আমাদের সমাজকে জাগ্রত করে। সমাজে যখন স্থবিরতা ও অচলায়তনের সৃষ্টি হয়, তখন তরুণরাই নতুন শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে সামনে আসে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
চিফ হুইপ বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে বিচরণ করেননি। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সুরকার, নাট্যকার ও দার্শনিক। তার সৃষ্টি বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সংগীতকে বিশ্বদরবারে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রসংগীতের নিজস্ব এক মাধুর্য রয়েছে, যা বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে এবং একটি মানবিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, হুমায়ূন আহমেদ-এর মতো শক্তিশালী সাহিত্যিকের অভাব আজ অনুভূত হচ্ছে। নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিচর্চার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে অপসংস্কৃতি ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বাড়ছে। তাই নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শিকড়ে ফিরে গিয়ে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মাদক, অপশক্তি ও স্বৈরাচারের স্থান থাকবে না; মানুষ সুন্দর, মানবিক ও আলোকিত জীবনযাপন করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান এবং উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আজ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সুদৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ সময় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা রাজধানীতে বৈঠক করেন এবং আঞ্চলিক সংযোগ ও দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করলে এ আলোচনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় সৃষ্ট গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জোরদারে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় তারা উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ও ব্যবসা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করতে, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তারা।
শামা ওবায়েদ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই পক্ষ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সম্মিলিত স্বার্থে আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করে।
সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায় সরকার।
এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির সমালোচনা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে দোটানায় ছিল হাসিনা সরকার। অত্যাচারী এবং অপরাধী হওয়ায় তাদের কাছে তার কোনো সম্মান ছিল না।
তবে বর্তমান সরকারের ভারসাম্য আনার সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ জনগণের ম্যান্ডেট আছে বিএনপির সঙ্গে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ীদের বিচারে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা আপস করা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। শনিবার (৯ মে) সকালে উত্তরার শহীদ মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত এক গণশুনানিতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সামনে তিনি এই অঙ্গীকার করেন। আমিনুল ইসলাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ট্রাইব্যুনাল কোনো নির্দিষ্ট পেশাজীবী বা আমলার বিচার করছে না, বরং তাঁরা কেবল সংঘটিত অপরাধ এবং প্রকৃত খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এসব প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে শীঘ্রই ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়া কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, বরং স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখা।
গণশুনানি চলাকালীন শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, অনেক চিহ্নিত অপরাধী এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেন আমিনুল ইসলাম। তিনি নির্দেশ দেন যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাঁদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের সঙ্গে কোনো আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান।
শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে কোনোভাবেই বেইমানি করা হবে না উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের কোনো বৈরিতা নেই, কারণ পুলিশ বাহিনীই এই তদন্তে সরাসরি সহায়তা করছে। সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুত একটি নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হবে। এদিন গণশুনানির পাশাপাশি চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটররা উত্তরার বিভিন্ন ‘জুলাই-আগস্ট হটস্পট’ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তাঁরা ভুক্তভোগীদের সমস্যার কথা শোনেন এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাঁদের আস্থার মর্যাদা রক্ষার আশ্বাস দেন।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর মধ্যে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা যাওয়া নয় শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। দেশজুড়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই বরিশাল বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, দুজন খুলনা এবং একজন সিলেট বিভাগের।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৪৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৯ জন।
এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল রবিবার (১০ মে) শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এ প্রতিপাদ্যে চারদিনব্যাপী ১০ থেকে ১৩ মে উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।
আগামীকাল রবিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ সততা ও দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। সাইবার স্পেস, এআই ও ডিপফেক ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি-মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আর্থিক প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, মাদকদ্রব্য পাচার, মানবপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকসসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তিকে সমুন্নত রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারকরণ, সেবামুখী মনোভাব গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের নিকট সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে, ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তার বাণীতে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশ যে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও ত্যাগের পরিচয় দিয়ে আসছে, তা প্রশংসার দাবীদার। দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই।
আইজিপি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা পুলিশের কার্যক্রমকে আরো জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এবারের পুলিশ সপ্তাহের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে তাদের পাশে থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে সেবা দিতে চাই।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দিবেন।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ, বিদেশী কূটনীতিকগণ, অতিরিক্ত আইজিগণ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার এবং নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ বিশেষভাবে সাজানো হবে।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ এর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন, পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজি'জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ, পুলিশ কর্মকর্তাগণের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গ এবং আইজিপির সম্মেলন ইত্যাদি।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে পুলিশ সপ্তাহ শেষ হবে।