সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
২৫ ফাল্গুন ১৪৩২
আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলা ধারাবাহিক প্যাটার্নের অংশ

দিল্লিকে ঢাকার কড়া বার্তা

ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ নিয়ে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা * ‘রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মমতার বক্তব্য সঠিক পদক্ষেপ নয়’
ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:২৭

ভারতের আগরতলার ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, আগরতলার ‘হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির’ বিক্ষোভকারীদের একটি বৃহৎ দলের সহিংস বিক্ষোভ ও হামলার জন্য বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।

বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে ভাঙচুর ও জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। সহকারী হাইকমিশনের সব সদস্য গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কূটনৈতিক মিশনগুলোকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করা আয়োজক সরকারের দায়িত্ব। তাই বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনাটি মোকাবিলা করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে এবং ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করতে আহ্বান জানিয়েছে।

‘প্রাপ্ত তথ্য থেকে স্পষ্ট, বিক্ষোভকারীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সহকারী হাইকমিশনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়েছেন। এ সময় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার খুঁটি ভেঙে ফেলেন, পতাকাকে অসম্মান করেন এবং প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরীণ সম্পত্তি ভাঙচুর করেন,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

‘দুঃখজনকভাবে, হাইকমিশনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য উপস্থিত স্থানীয় পুলিশ সদস্যদের শুরু থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।’

এ ঘটনার ফলে সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামক হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অবমাননার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনা ঘটে।

বিবৃতিতে সে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট করতে চায়, বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশনের ওপর এ জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অসম্মান একটি ধারাবাহিক প্যাটার্নের অংশ।

‘এ ঘটনা ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশনসের সরাসরি লঙ্ঘন,’ উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

‘বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে এ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে, ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করতে এবং ভবিষ্যতে ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে এমন সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, কূটনীতিক ও অ-কূটনৈতিক কর্মী এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

‘ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ নিয়ে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে’ : এদিকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে ব্যাপক প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে বলে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় কূটনৈতিকদের ব্রিফিং করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এরপর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘গণমাধ্যমের একটি অংশ, বিশেষ করে ভারতের গণমাধ্যম, এই প্রচারণায় জড়িত। আমরা বলেছি, আমাদের সমাজ বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে এসেছে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিশীলতায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

এ ছাড়া বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারকে লিখিত প্রস্তাবনা পাঠানো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সঠিক পদক্ষেপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি (মমতা) এই বক্তব্য কেন দিলেন এটা আমি বুঝতে পারছি না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা তার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নয়। রাজনীতিবিদরা তো সবসময় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বক্তব্য দিয়ে থাকেন। আমি মনে করি, এটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য সহায়ক হবে না। এটা অবশ্য আমার মত।’

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-ভারত ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) পরবর্তী পর্বে যোগ দিতে চলতি মাসের মাঝামাঝি ঢাকা সফর করার কথা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে দিন দিন সম্পর্কের টানাপড়েনকে কেন্দ্র করে এফওসি হওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে।

এফওসি হওয়ার প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, এফওসি হওয়ার কথা। আমি মনে করি হবে। এখন দুইপক্ষ একসঙ্গে হতে হবে।

সম্পর্কের যে টানাপড়েন চলছে, সামনের দিনগুলোতে দিল্লিকে ঢাকা কীভাবে সামলাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা ভারতের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক, ভালো ও সুসম্পর্ক চাই।

ভারতের আন্তরিকতা প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, আন্তরিকতা তো পরিমাপ করা খুব কঠিন কাজ। এটা গণমাধ্যমকে মাপতে হবে। এখানে অন্তরের চেয়ে স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ উভয়ের জন্য। আমি মনে করি, ভারত-বাংলাদেশ উভয়ে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী।


নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, যদিও একটি রাজনৈতিক মহল নারীদের খাটো করে দেখে ও ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এলজিইডি কর্তৃক নির্বাচিত ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ২০২৬ অনুষ্ঠানে’ এমন মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্রথম ঢাকায় নেমে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আশা, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেও শিগগিরই ইতিবাচকভাবে সব ঘুরে দাঁড়াবে। এসময় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ৯ জন নারীকে সম্মাননা দেয়া হয়।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ৪ বাংলাদেশী নিহত: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাহরাইন ও দুবাইয়ে ১ জন করে এবং সৌদি আরবে ২ জন নিহত হয়েছেন।

দুবাইয়ে নিহত আহমদ আলীর লাশ গ্রহণকালে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নিহতের স্বজনরা।

নুরুল হক আরো জানান, নিহত প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা যেন যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সেসব এলাকা এড়িয়ে চলে। সতর্কতার সাইরেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ওইসব দেশের আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় না দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমরা এখানে এসেছি খুবই হৃদয়বিদারক একটা অবস্থায়, বলার কিছুই নেই। আমরা সব সময় বলে এসেছি যে বাংলাদেশের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

আহমেদ আলীর মরদেহ আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইট যোগে ঢাকা পৌঁছে। নিহতের লাশ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট বিমানবন্দরে গ্রহণ করে সেখান থেকে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করবেন।


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন: জুনের মধ্যে ৪০ হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক স্বাবলম্বিতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের এই বিশেষ পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক এই প্রকল্পে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কর্মসূচিটির সুচারু বাস্তবায়নে আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ৪০ হাজার কার্ড বিতরণ শেষ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় চলতি মার্চ মাস থেকেই প্রতি মাসে ১০ হাজার করে নতুন কার্ড সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। জুন পর্যন্ত মোট চার ধাপে এই ৪০ হাজার অভাবী পরিবারের তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধানের নামে কার্ডটি ইস্যু করা হবে এবং মাসিক এই ভাতার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহও এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য সম্বলিত পরিবার, হিজড়া, বেদে এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার। এছাড়া যেসব কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ দশমিক ৫ একর বা তার চেয়ে কম, তাঁরাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার যে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের এই নতুন নীতিমালাটি সেই পথের অন্যতম বড় পদক্ষেপ।

তবে জনস্বার্থ রক্ষায় এই সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞাও রাখা হয়েছে। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া রোধ করতে নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা পেনশনভোগী চাকরিজীবী হলে তাঁরা কার্ড পাবেন না। এছাড়া বাড়িতে এসি বা গাড়ি ব্যবহারকারী এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী কোনো বড় ব্যবসায়ী বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিকদেরও এই সুবিধার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে এবং সেখানকার হতদরিদ্র মানুষ ঈদের আগেই এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমানে বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছে সরকার।


ঢাকা ওয়াসার এমডির দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মনিরুজ্জামান

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামান।

সোমবার (৯ মার্চ) তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

মুহা. মনিরুজ্জামান প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন বলে অফিসে আদেশে জানানো হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম ব্যাপারী পদত্যাগ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর তা গৃহীত হয়।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি দেশের শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সাক্ষাৎকালে বেপজা চেয়ারম্যান বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের আটটি ইপিজেড-এর সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।

সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।


নৌ পুলিশের প্রধানসহ পাঁচ কর্মকর্তা অবসরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌ-পুলিশের প্রধান কুসুম দেওয়ানসহ একযোগে বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক ৫ প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।

অবসরে পাঠানো বাকি চারজন অতিরিক্ত আইজিপি হলেন–আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ, মো. মাসুদুর রহমান ও মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী। তাদের মধ্যে আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ও মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মন্ত্রণালয় ন্যস্ত আছেন।

এছাড়া মো. মাসুদুর রহমান মিয়া পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকায় (টিআরপদে) এবং তওফিক মাহবুব চৌধুরী সারদা রাজশাহীতে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করছেন।


১১ মার্চ সরকারি দলের সংসদীয় সভা ডেকেছেন চিফ হুইপ

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সংসদীয় সভা আগামী ১১ মার্চ (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওইদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত সরকারি দলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আজ (সোমবার) সংসদ সচিবালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ নেতার সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্যকে (এমপি) যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

সংসদ সচিবালয় জানায়, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সভায় আলোচনা হতে পারে। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।


২৫শে মার্চ সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউটের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, গণহত্যা দিবসের গাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই (কী পাওয়ার ইন্সটলেশন) ও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবারের স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল আলোকসজ্জার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫শে মার্চ রাতে কোনোভাবেই আলোকসজ্জা করা যাবে না এবং ২৬শে মার্চের জাতীয় দিবসটি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হলেও তাতে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে নতুন প্রজন্মের কাছে ২৫শে মার্চের কালরাত ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই হবে এসব অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এছাড়া ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে সারা দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার ডিজিটাল মিনিপোলগুলোতে গণহত্যা সংক্রান্ত দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পুলিশের আইজিপি এবং জেলা প্রশাসকদের এই কর্মসূচিগুলো নির্বিঘ্ন করার জন্য সমন্বয় করে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও পালিত হবে। ২৫শে মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। সভা শেষে জানানো হয়, জাতীয় গুরুত্বের এই দুই দিবসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সভায়।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বাধীনতা দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এবার সারাদেশে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না। মূলত জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং সরকারি কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ঈদুল ফিতর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।’

রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রথাগতভাবে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে তা পরিহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট যাতে না হয় এবং আমরা যাতে সাশ্রয়ী হতে পারি, সেজন্য দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তবে আলোকসজ্জা না থাকলেও দিবসটির গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষায় কোনো ত্রুটি রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

আসন্ন ঈদুল ফিতর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’

ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রস্তুতি সমন্বয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।’

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত মব জাস্টিস ও বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মবের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেও পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।


ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট, ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে

* প্রতি লিটারে ৫-১০ টাকা রাড়তি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের * যুদ্ধের ঠুনকো অজুহাত দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা * যুদ্ধের প্রভাব ভোগ্যপণ্যের বাজার পড়ার সময় হয়নি
ছবি: সংগৃহিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর অনেক বাজারেই ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দেখা যাচ্ছে। এখনো খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। কিন্তু ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোক্তাদের খোলা সয়াবিন ও পাম তেল কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। যুদ্ধের অজুহাত ঈদ সামনে রেখে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের গায়ের দাম (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। ডিলারের কাছ থেকে আগে তারা এই তেল ৯৩০ টাকায় কিনতেন, বেচতেন ৯৪০ টাকায়। ১০ টাকা লাভ থাকত। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে তারা ৫ লিটারের বোতল কিনছেন ৯৫০ টাকায়, বিক্রি করেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। তাতে খুচরা বিক্রেতাদের ৫ টাকা লাভ কমেছে। অন্যদিকে ভোক্তাদেরও আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল কেজি আকারে বিক্রি হয়। গত চার দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৯৮–২০০ টাকায়। চার দিন আগে এ দাম ছিল ১৯৩–১৯৫ টাকা। প্রতি কেজি খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৬৫ টাকা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, যুদ্ধের সুযোগ নিতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ডিলার পর্যায়ে বেড়েছে বোতলজাত তেলের দাম। এতে খোলা তেলের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্রেতাদের অনেকেই যুদ্ধের আতঙ্কে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন। এভাবে যদি আরও দু-তিন দিন তেলের বাজারে টানাপড়েন থাকে, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

তবে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বলছেন, ডিজেল সংকটে তেলবাহী পরিবহন পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বেড়েছে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বাজারে।

সরবরাহ কমার কারণে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ডিলাররা। কোম্পানি পর্যায়ে বাড়েনি, কিন্তু ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে কেন জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, তীরের তেলের বেশ সংকট রয়েছে। শনিবার মাত্র ৫০ কার্টন তেল পেয়েছেন তিনি। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দুই থেকে আড়াইশ কার্টন তেল পেতেন।

সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না। সে জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রাকের সংকটে বিভিন্ন স্থানে তেল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। এচাড়াও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম।

খোলা তেলের ব্যাপারে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বোতলজাত তেলের কয়েক দিন ধরে সংকট চলছে। খোলা তেলের বাজারেও কিছুটা টান রয়েছে। এ কারণে বাজার বাড়তি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজেন। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল পরিবহনে সংকট হলেও এ কারণে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে কিছুটা হলেও সময় লাগবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তার আগেই দাম বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, প্রতিদিনই বাজারে তদারকি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জানা নেই। অধিদপ্তরের কয়েকটি টিম পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


মাসিক পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী পাচ্ছেন ইমাম পুরোহিতরা, শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের আগেই

১৪ মার্চ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে দেশের সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করছে সরকার। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় এই সম্মানী প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ মার্চ সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ।

রোববার (৮ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ (প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে ১টি করে), ৯৯০টি মন্দির (প্রতিটি উপজেলা হতে ২টি করে), ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার (৭২টি উপজেলা হতে ২টি করে) এবং ৩৯৬টি গির্জা (১৯৮টি উপজেলা হতে ২টি করে) নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ধারিত মাসিক ভাতার পরিমাণ হলো: মসজিদ: ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা। মন্দির: পুরোহিত ৫,০০০ টাকা এবং সেবাইত ৩,০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহার: বিহার অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা এবং বিহার উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা। গির্জা: যাজক ৫,০০০ টাকা এবং সহকারী যাজক ৩,০০০ টাকা।

এছাড়া প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় ১ হাজার টাকা করে এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।

পাইলট স্কিম বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত উপকারভোগীদের নিকট সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানি পৌঁছে দেওয়া হবে।

দেশের সকল উপাসনালয়কে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হলে বার্ষিক আনুমানিক ৪,৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। সরকার আগামী ৪ (চার) অর্থবছরে মোট চারটি ধাপে এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১,১০০ কোটি, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২,২০০ কোটি, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩,৩০০ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ ৪,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য স্থায়ীভাবে মাসিক সম্মানি প্রদানের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ৬ (ছয়) সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত সচিবকে (বাজেট/সংস্থা) সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।

এই কমিটির প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো—দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খতিব-ইমাম ও ধর্মীয় প্রধানদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের কর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিধিমালা বা নীতিমালা প্রণয়ন করা।


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের চার রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম. মুশফিকুল ফজল (আনসারী) এবং মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রত্যাহারের পর এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।


স্বচ্ছতার পরোয়া না করেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার: টিআইবি

আপডেটেড ৯ মার্চ, ২০২৬ ০০:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের স্বচ্ছতার পরোয়া না করেই। সেই সরকার তথ্য কমিশনকে দেড় বছর প্রতিষ্ঠিত হতে দেয়নি, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য কমিশন গঠন ও তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্য অধিকার ফোরাম।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, হয়তোবা অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো কিছু গোপন করার মতো ছিল। যে কারণে পুরো চর্চাটাই ছিল অন্ধকারের মধ্যে। গোপনীয়তার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রণীত হতে দেখেছি আমরা।

আওয়ামী লীগ সরকারে প্রসঙ্গে টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তথ্য কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল, আর সুযোগ থাকার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো দৃষ্টান্ত দেখাতে পারেনি।

সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তথ্য অধিকার আইন দিয়ে যেকোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব, যা সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। তথ্যের অধিকার মানে সত্য জানার অধিকার। নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নাই। গত ১৬ বছরে দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত ছিল। রাজনৈতিক দলকে যেন সম্পৃক্ত করা হয়, যেন আমরা তাদের হিসেব নিকেশের বিষয়ে জানতে পারি। Politics

বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, তথ্য প্রবাহ ঠিক থাকলে এই যে বাংলাদেশ থেকে এতো টাকা লুট হলো সেটা কমানো যেত। তথ্য কমিশনের ক্ষেত্রে সরকারের জবাবদিহিতা দরকার যে কাকে ওই আসনে বসাবে সেটি যেন দলীয় না হয়। আর সরকার পরিবর্তন হলে সব পরিবর্তন করতে হবে এই সংস্কৃতিও পরিবর্তন দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক এবং তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান ও নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।


banner close