প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ছাত্রদের ওপর ভরসা করে। এই বিশ্বাস ধরে রেখো। হাতছাড়া করো না। তোমরা কখনোই আশাহত হবে না। তোমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছ। দেশ বদলিয়ে ফেলেছ। তোমরাই পারবে। মানুষের আশা তোমাদের পূরণ করতে হবে। অন্তত সে পথে তোমাদের অগ্রসর হতে হবে। এক বিজয় করেছো, আরেক বিজয় আসবে। তোমরা বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেবে যেন আমরাও সতর্ক হই, সজাগ হই।’
গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, নিহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া, আহতদের সুচিকিৎসায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জোর দিতে বলেন। এছাড়া গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আলাদা-আলাদাভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আগে দেখা হয়েছে। আজকে অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। ভালো হলো। তোমাদের কথা শুনতেই মূলত আজকে বসা। তোমরা সরকারের কাছে কী চাচ্ছো, আশাগুলো কী, কোনো পরামর্শ আছে কি না- এটি জানতে চাওয়া।’
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘তোমরা রাষ্ট্রের অভিভাবক, তোমাদের কারণেই রাষ্ট্র। এই ভূমিকা ভুলে যেও না। নিজেদের ভূমিকা ভুলে যেও না। অনেকে এখানে আছে, অনেকে নেই। যারা নেই, তারাও রাষ্ট্রের অভিভাবক। তোমাদের দায়িত্ব আছে রাষ্ট্র যেন ঠিক পথে চলে, যেন বিচ্যুত না হয়। এইটুকু মনে রাখলে রাষ্ট্র ঠিক থাকবে। নিজের অভিভাবকত্ব ভুলে যেও না।’
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরামর্শকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য ঠিক থাকতে হবে। সিন্ডিকেট নাকি কী এই ধরনের ব্যাখ্যা আমরা চাই না। কতগুলো লোক বাজারমূল্য কবজা করে থাকবে সেটা হতে পারে না। আমরা চেষ্টা করছি দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখার। আমরা দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে চাই। রমজানেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিতে হবে। হঠাৎ করে যেন কোনো পরিস্থিতি না হয়।’
স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পরামর্শে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার সংস্কারের জন্য কমিশন আছে। তারা পরামর্শ দেবে আমরা কাজ করব। আমরা চাই স্থানীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া। খুব কম জিনিস উচ্চ পর্যায়ে থাকবে। দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেম, একবার একটা ফান্ড বানিয়ে দিলে কারা যেন খেয়ে ফেলে। সেজন্য সুশৃঙ্খলভাবে সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন স্থায়ী হয়।’
জুলাইয়ে শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও খেতাবের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছে তাদের অবদান আমরা ভুলব না। তাদেরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।’
শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের এমন পরামর্শের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। যেন বাংলাদেশে কেউ শিক্ষিত না হয়ে উঠতে পারে, দক্ষ হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য পরিকল্পিতভাবে এটা হয়েছে। বেকারত্ব তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জন কিছু নেই। এটা আমদের ঠিক করতে হবে। তরুণদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থার করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রধান উপদেষ্টা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমাদের অর্থনীতি বিভাগে নারী শিক্ষার্থী ছিল মাত্র চারজন। তোমরা বলছো, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী প্রায় ৫২ শতাংশ। এটি অত্যন্ত আনন্দের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে আগে সিট বণ্টন হতো সেই দাসপ্রথা এখন ভেঙে গেছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’
আজকের মতবিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গণমাধ্যমে সরকারের কাজ সঠিকভাবে প্রচার না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। শিক্ষার্থীদের এমন বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে সরব এটা ঠিক। সরকারের নিজের কোনো পত্রিকা নেই। আছে শুধু প্রেস উইং। তারা পত্রিকায় প্রেস রিলিজ পাঠায়। কেউ ছাপে, কেউ ছাপে না কিংবা তাদের মনমতো শেষ পাতায় বা কোণায় ছোট করে দেয়। প্রেস উইং ওদের মতো করে চেষ্টা করছে, কাজ করছে। সরকার কোনো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না। সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে কাজ করবে- এটাই আমাদের নীতি। আমরা এই নীতিতে থাকব। আমি বুঝতে পারছি তোমরা কিছুটা মনক্ষুণ্ন। এটা আসলে কিছুটা মন খারাপ হওয়ার মতো যে সরকারের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পুরো সিস্টেমটাই ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। চারদিকে চুরি-চামারি, ব্যাংক কাজ করে না। কমিটি অর্থনীতির শ্বেতপত্র দিয়েছে। আমি বলেছি, এটা একটা ঐতিহাসিক দলিল। আমি মনে করি এটা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো উচিত। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার দায় আওয়ামী লীগের। তবে যারা উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছে তাদেরও ধরতে হবে।’
যে ধ্বংসস্তূপে রেখে গেছে সেখান থেকে বের হওয়া কঠিন। যেদিকে হাত দেই সেদিকেই জঞ্জাল। এই জঞ্জাল পরিষ্কার করেই যাচ্ছি। কাজ শুরু করতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।’
শিক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কারকাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা জানান, দেশের মানুষ সরকারের পাশে আছে। এটি গণমানুষের সরকার। জনগণ চায় অন্তর্বর্তী সরকার যেন প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজটি সম্পন্ন করে।
ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদেন্ত ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর ৭ কলেজে একযোগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থায়নের মূলনীতি (কোর্স নম্বর-২০৮) বিষয়ের ফাইনাল পরীক্ষা হয়।
পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরীক্ষার হলে একই প্রশ্ন আসায় প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি পরীক্ষার অন্তত দুদিন আগে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ অবস্থায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন ও পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানানো হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
এর আগেও সাত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত প্রশ্নপত্র অর্থের বিনিময়ে ফাঁসের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখনো এ ধরনের অনিয়মকে সমর্থন করে না। বিষয়টি সামনে আসায় সাত কলেজ প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। প্রয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করবে।
সাত কলেজের অন্তর্বর্তী প্রশাসক অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস গণমাধ্যমকে জানান, পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার উৎখাত এবং পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থেমে নেই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দিল্লিভিত্তিক ‘থিংক ট্যাংক’।
কয়েকদিনে দিল্লিতে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের দিল্লিতে ফিরিয়ে নেওয়া, বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের কল্পিত উত্থান নিয়ে দিল্লিতে সেমিনারের আয়োজনসহ নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মোদি সরকারের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির ওপর পুরোপুরি আস্থা না রাখার পাশাপাশি ইসলামী দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন দিল্লি। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দিল্লি সর্বাত্মক বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় নেমেছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। এ সময় দিল্লির বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা বৃদ্ধি গভীর উদ্বেগের বিষয়। গত ১৭ জানুয়ারি দিল্লি প্রেসক্লাবে ভারতের ডিপস্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বাংলাদেশ সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। কোনোভাবেই দেশে স্থিতিশীলতা আসবে না।’
তারা আরও বলেন, ‘আমরা শিগগিরই শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেশে ফিরব এবং ক্ষমতায় যাব।’
ওই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লির কাছে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করছে মোদি সরকার। ওই সংবাদ সম্মেলনের মাত্র দুদিন পর গত বুধবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ‘সিডস অব হেট: বাংলাদেশ এক্সিমিস্ট সার্জ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ অ্যান্ড আদার র্যাডিক্যাল অর্গানাইজেশনস’ শীর্ষক বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও ভারতীয় সাংবাদিক দীপাঞ্জন রায় চৌধুরীর যৌথভাবে সম্পাদিত এ বইয়ের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠানে বিজেপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী এমজে আকবর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পংকজ সরণ, ড. অনির্বাণ গাঙ্গুলী, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, শ্রুতি পাট্টানায়েক প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকরা বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে তাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাদের দাবিÑকথিত এ মৌলবাদী শক্তির উত্থানের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাচ্ছে, যা দেশটির জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করবে।
পঙ্কজ সরণ তার বক্তৃতায় বলেন, ‘বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশ তার অতীত থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করতে পারবে কি না।’
এমজে আকবর বাংলাদেশ সম্পর্কে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে এখন যারা সরকারে আছে, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা গণতান্ত্রিক নয়। এ পরিবর্তন যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্য দিয়ে হতো, তাহলে আজ এই বইয়ের প্রকাশনা বা এটা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন পড়ত না।’
অন্য বক্তারা বাংলাদেশে কথিত মৌলবাদের উত্থানকে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে উল্লেখ করেন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লিতে এমন একটি সময়ে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা চোখে পড়ছে, যখন বাংলাদেশ আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ভারত যা করছে তা অপ্রত্যাশিত নয়, তারা বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের অপতৎপরতা চালিয়েই আসছে।’
তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি বাংলাদেশে কর্মরত তার কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। এটা বড় ধরনের একটি বার্তা দেয়। ভারত আসলে বাংলাদেশ নিয়ে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছে। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং সর্বোপরি দেশের সাধারণ মানুষকে দিল্লির তৎপরতার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। কোনো ধরনের উসকানিতে পা দেওয়া যাবে না।’
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে ইউনূস সরকারকে আরও বেশি চাপে ফেলতে চাচ্ছে দিল্লি। মোদি সরকার কোনোভাবেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং ইউনূস সরকারকে মেনে নেয়নি। নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জরিপে জামায়াত নেতৃত্বের ইসলামী দলগুলোর জোটের ভালো ফল করার আভাস মিলছে। বিষয়টিকে সামনে এনে ভারতের নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশকে মৌলবাদী ট্যাগ দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে চাচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য- বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের এ তৎপরতার বিরুদ্ধে তেমন কেউ কিছু বলছেন না। একটি মৌলবাদী শক্তি এখন ভারত শাসন করছে। অথচ তারাই আবার কল্পিত মৌলবাদের ইস্যু সামনে এনে বাংলাদেশের দিকে আঙুল তুলছে।’
ফ্যাসিবাদের সহযোগীরাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্যেই সরকার গণভোটে হ্যাঁ ভোট চাচ্ছেন। তবে যারা পরাজিত শক্তি, যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী, গণমানুষের প্রতিপক্ষ একমাত্র তারাই ‘না’ভোট চাচ্ছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় গণঅভুত্থ্যানে রংপুর জেলা শহীদদের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ছাত্র-জনতার অনেক রক্ত ও ত্যাগের মধ্যদিয়ে গণঅভুত্থ্যানে ফ্যাসিস্ট সরকার পরাজিত হয়েছে। সেই গণঅভুত্থ্যানের মাধ্যমে এই সরকার, যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন করেছেন। এদেশের মানুষ হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগি, গণমানুষের প্রতিপক্ষ তারাই অন্য কিছু চিন্তা করবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ, জনতার কাফেলা, জনতার জোয়ার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, গণভোটের পক্ষে বাংলাদেশের জনসাধারণ জুলাই সনদের পক্ষে শহীদদের আত্মত্যাগকে সামনে রেখে হ্যাঁ ভোটে সম্মতি দেবেন।
তিনি বাংলাদেশের মানুষকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা, পরবর্তীকালে ১১ দফা এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি অর্জন করেছে মহান স্বাধীনতা।’
তিনি বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসন ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি সে আন্দোলন রূপ নেয় এক ব্যাপক গণবিস্ফোরণে।’
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দমন-পীড়নের প্রতিবাদে সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে সংগ্রামী জনতা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। এ সময় গুলিতে শহিদ হন মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরও অনেকে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ সমাজকে জুগিয়েছে অফুরন্ত সাহস ও অনুপ্রেরণা।’
স্মৃতিবিজড়িত এই দিনে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসুন, এই গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধ ধারণ করে সবাই মিলে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলি।’ তিনি দেশের মুক্তিসংগ্রামের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
এদিকে ‘সরস্বতী পূজা’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এ দেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন।’
তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্মমতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। সরস্বতী পূজার এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়, বরং সমাজের উন্নতির জন্য হয়। আমরা যেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে অন্যকে সাহায্য করি, দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।’
প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মোছাব্বির (৪৪) হত্যা মামলায় আরেক শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির হত্যা মামলায় আরেক শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
এর আগে মোছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি রাতে মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন- জিন্নাত (২৪), আব্দুল কাদির (২৮) ও মো. রিয়াজ (৩২)।
এর আগে ৭ জানুয়ারি রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৮ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নিহত মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয়ে চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে এই মামলা করেন।
দুর্নীতি ও হয়রানিকে একটি রাষ্ট্রীয়ব্যাধী হিসেবে অভিহিত করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’-এর (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন যে, দুর্নীতি নির্মূল করা না গেলে দেশে কেবল একটি ভালো সরকার গঠন করলেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ’ (সিজিএস) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি আমলাতন্ত্রের সাধারণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার সংস্কৃতি ও জনবিমুখ রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়েন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের একটি কাজের জন্য অসংখ্য দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এসব দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করা না গেলে ভালো সরকার গঠন করলেও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
সরকারি অর্থের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতার চরম অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে হোসেন জিল্লুর রহমান মিন্টো রোডে সচিবদের ফ্ল্যাট নির্মাণের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ‘রাজধানীর মিন্টো রোডে জনগণের টাকায় সচিবদের জন্য যে ফ্ল্যাটগুলো তৈরি করা হয়েছে, এসব ফ্ল্যাটের সুযোগ-সুবিধা বিলাসবহুল হোটেলকেও হার মানাবে। সচিবদের ফ্ল্যাট নির্মাণে জনগণের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। অথচ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সরকারি টাকা কোথায় এবং কেন খরচ হচ্ছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই।’ তার মতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিলাসবহুল প্রকল্পে অর্থ অপচয় করা হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতির বর্তমান ভিত্তি হিসেবে পোশাকশিল্প ও প্রবাসীদের আয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান যে, সস্তা শ্রমই এখন পর্যন্ত আমাদের প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি মনে করেন যে, ‘দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দুটি প্রধান স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটি পোশাকশিল্প, আরেকটি প্রবাসীদের পাঠানো আয়। এ দুই খাতেরই প্রধান শক্তি হলো আমাদের দেশের সস্তা শ্রম। তবে ভবিষ্যতের জন্য দেশের উন্নয়নের নতুন কোনো চালিকাশক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।’ তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রকল্পে স্বচ্ছতার অভাব এবং বেকারত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এগোতে হলে উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর নজর দিতে হবে।’ কাগজে-কলমে বিপুল খরচ হলেও বাস্তবে দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো সঠিক হিসাব নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ ব্যবস্থা থমকে আছে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তা গুরুত্ব পাচ্ছে না।’ গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান যে, দেশে দারিদ্র্য কমার বদলে উল্টো বাড়ছে। সংলাপে সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখার সূচনা হলেও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দেশ হোঁচট খাচ্ছে। দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, অথচ বর্তমান সরকার টেকসই কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেনি।’ তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে আসা এবং সাধারণ মানুষের উপেক্ষিত বোধ করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সুশাসনের প্রশ্নে র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক এম আবু ইউসুফ অপারেশনাল বাজেট কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ‘একজন এমপি বা মন্ত্রীর কতটি গাড়ি প্রয়োজন, কেন তারা ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি পাবেন, কতজন স্টাফ রাখা যৌক্তিক—এসব প্রশ্ন তোলা দরকার।’ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে দেশের প্রস্তুতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বক্তারা মন্তব্য করেন যে, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ওই সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য সায়মা হক বিদিশা এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সম্পর্ক থাকা একটি ‘ভয়ংকর অশনিসংকেত’। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় নাগরিক সমাজের করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ‘গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ’ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, গাজায় তথাকথিত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ পাঠানোর বিষয়ে জামায়াত কোনো আপত্তি উত্থাপন করেনি।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সখ্যতা এবং ‘বন্ধুত্ব চায়’ এমন বার্তার প্রেক্ষাপটে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বোঝা গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের নীতির একটা সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বক্তব্য দিচ্ছে।’ বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইনের কোনো কার্যকারিতা নেই উল্লেখ করে তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের উদাহরণ টানেন। তাঁর মতে, দেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত।
এমন এক পরিস্থিতিতে জাতীয় অস্তিত্ব ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার প্রশ্ন তোলেন, ‘১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে আমরা কিভাবে টিকে থাকব? আমি যুদ্ধ চাই না, কারও যুদ্ধে জড়াতে চাই না। সাধারণভাবে ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই।’ পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যের সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, অনেকেই ভারতের বিরোধিতা করলেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নীরব থাকেন। উক্ত আলোচনা সভায় রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে বসেই বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি দিয়ে আসছেন এই পলাতক রাজনীতিক। তার এমন কর্মকাণ্ড দিয়ে ভারত সরকারকে বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নয়াদিল্লির উদ্দেশে বলেছেন, ভারতে বসে শেখ হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা করে না।
সম্প্রতি বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দুই দেশের টানাপোড়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই বিপ্লবে হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। সীমান্ত উত্তেজনা এবং পাল্টা কূটনীতিক তলবের ঘটনাও ঘটে। সবশেষ বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে দায়িত্বরত কূটনীতিক ও অন্য কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিবিসি ইন্ডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। ১০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, জাতীয় নির্বাচন, ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারত বসে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি প্রত্যাশা করে না বাংলাদেশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন তৎপরতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ভালো কোনো উদাহরণ হবে না।
সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিটি ঘটনায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ কখনোই কথা বলে না। বাংলাদেশের বিষয়েও ভারত সরকারেরও একই নীতি মেনে চলা উচিত।
হাসিনা সরকারের আমলে ইচ্ছে করে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা হয়েছিল উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা একে-অপরকে শত্রু মনে করলেও দুই দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।
জাতির প্রত্যাশিত অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ ‘পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে’ তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালনে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান। একইসঙ্গে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার জন্য দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ ও পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও তিন পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসনের এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা বড় আকারে বেড়েছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। তবে রাজনীতিতে অর্থ, পেশি এবং ধর্ম- এই তিনটি একসঙ্গে একাকার হওয়ার কারণে সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি দশার দিকে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচনে মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি দলগুলোর। বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি এবং ধর্ম- এই তিনটি একসঙ্গে একাকার হওয়ার কারণে সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি দশার দিকে যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে সুস্থ রাজনীতি রাজনৈতিক স্পেস বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে কোণঠাসা হচ্ছে। আর অসুস্থ রাজনীতির ধারক-বাহক তুলনামূলভাবে রাজনীতির অঙ্গনটা দখল করে নিচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর ৫০ একরের বেশি জমি থাকতে পারে না। জমির মালিকানার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হবে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান নেই। সে কারণে নির্বাচনে এ ক্ষেত্রে হয়তো তেমন কিছু করার নেই। কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্য সংস্থাগুলোর দায়িত্ব আছে। কারণ বৈধ যে সীমারেখা, সেটা যারা লঙ্ঘন করেছেন তাদেরকে অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতায় আনতে হবে। যে প্রার্থী অতিরিক্ত জমির মালিক হয়েছেন অবৈধভাবে, তাদের সেই অতিরিক্ত সম্পদ ও জমি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করে জনস্বার্থে যারা ভূমিহীন তাদের মধ্যে বিতরণ করা উচিত এটি আমার নিজস্ব অভিমত।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছেন জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা ১৯৮১ জন। প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নগণ্য মন্তব্য করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নগণ্য। জুলাই সনদে প্রস্তাবিত পাঁচ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেননি।
এ বছর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে কোটিপতি প্রার্থীদের সংখ্যা ৯৫১ জন। অথবা সম্পদের মোট মূল্যের ভিত্তিতে ২৭ জন শত কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন।
দুজন প্রার্থীর বিষয়ে দ্বৈত নাগরিকত্বের নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে। তবে তারা তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। টিআইবি মনে করে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। অপর একজন প্রার্থীর বিদেশে তার নিজের কোনো সম্পদের তথ্য না দিলেও তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করেছে টিআইবি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি এবং ধর্ম- এই তিনটি একসঙ্গে একাকার হওয়ার কারণে সুস্থ রাজনীতি এক ধরনের জিম্মি দশার দিকে যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে সুস্থ রাজনীতি রাজনৈতিক স্পেস বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে কোণঠাসা হচ্ছে। আর অসুস্থ রাজনীতির ধারক-বাহক তুলনামূলভাবে স্পেসটা, রাজনীতির অঙ্গনটা দখল করে নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুল আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক, সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।
দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ। ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটার এবং বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তা পরিবর্তনের আর কোনো সুযোগ নেই।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের যৌক্তিক অনুরোধ রক্ষা না করে সুবিচার করেনি। তিনি জানান, সরকার ও বিসিবি চেয়েছিল বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিক, কিন্তু ভারতে খেলার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিদ্যমান, তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আসিফ নজরুল জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির এই আশঙ্কা কোনো কাল্পনিক ধারণা বা বায়বীয় বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি, বরং এটি সত্যিকারের ঘটনার প্রেক্ষিতেই নেওয়া হয়েছে। তাই সরকার খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না এবং ভারতে দল পাঠাবে না।
আসিফ নজরুলের বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, তারা এখনো শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো খেলার জন্য আইসিসির সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাবেন। আইসিসি সাম্প্রতিক সময়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে অভিহিত করলেও বিসিবি সভাপতি তা মানতে নারাজ। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, মোস্তাফিজ নিজে সরে যাননি বা ইনজুরিতে পড়েননি, এমনকি বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। কেবল নিরাপত্তাজনিত কারণে ও কট্টরপন্থীদের হুমকির মুখেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাই একে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই এবং বিকল্প ভেন্যুর দাবিতে তারা সোচ্চার থাকবেন।
ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে নুরুল হাসান সোহান, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, নাজমুল হোসেন শান্ত, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তানজিদ হাসান তামিম ও তানজিম হাসান সাকিবের মতো তারকা খেলোয়াড়রা আলোচনায় অংশ নেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।
বাংলাদেশের সুতা উৎপাদনকারী শিল্প খাতকে রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বা বিটিএমএ। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশের সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার কারণেই তারা এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সভাপতি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, আগামী মাসের প্রথম দিন থেকেই সব ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকবে। তিনি জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা তাদের আর অবশিষ্ট নেই। তাদের ব্যবসায়িক পুঁজি ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেও ব্যাংকের দায় বা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এই চরম আর্থিক সংকট ও দেউলিয়াত্বের ঝুঁকি থেকেই মালিকপক্ষ মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শওকত আজিজ রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সংকট সমাধানের আশায় তারা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে বারবার ধরণা দিয়েছেন। কিন্তু কোথাও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরগুলো সমস্যার সমাধান না করে পিলো পাসিংয়ের মতো দায়িত্ব একে অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে কোনো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত আসছে না। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত নীতিগত সহায়তা এবং শিল্পবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা না হলে পুরো টেক্সটাইল খাত এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নিমজ্জিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং সভাপতির বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তথ্য অধিকার বিষয়ক একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়াস হিসেবে এই আয়োজন করা হয়।
উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি তার বক্তব্যে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান এবং দাপ্তরিক কাজে তথ্য অধিকার আইনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম, যা নাগরিকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে। চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, তথ্যের অবাধ প্রবাহ প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সঠিক প্রক্রিয়ায় তথ্য প্রদানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে, যা সবার জন্যই কল্যাণকর।
প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন বেবিচকের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবিদুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ। এছাড়া প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মো. নিজাম উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রমা রাণী বিশ্বাস।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উল্লেখ করেন, বেবিচক তার নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে যথাযথ আইন মেনে প্রকাশযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি প্রশিক্ষণের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ হবেন।