শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

এক বিজয় করেছো, আরেক বিজয় আসবে: প্রধান উপদেষ্টা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০৩

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ছাত্রদের ওপর ভরসা করে। এই বিশ্বাস ধরে রেখো। হাতছাড়া করো না। তোমরা কখনোই আশাহত হবে না। তোমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছ। দেশ বদলিয়ে ফেলেছ। তোমরাই পারবে। মানুষের আশা তোমাদের পূরণ করতে হবে। অন্তত সে পথে তোমাদের অগ্রসর হতে হবে। এক বিজয় করেছো, আরেক বিজয় আসবে। তোমরা বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেবে যেন আমরাও সতর্ক হই, সজাগ হই।’

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, নিহতদের রাষ্ট্রীয় খেতাব দেওয়া, আহতদের সুচিকিৎসায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য জোর দিতে বলেন। এছাড়া গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘আলাদা-আলাদাভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আগে দেখা হয়েছে। আজকে অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। ভালো হলো। তোমাদের কথা শুনতেই মূলত আজকে বসা। তোমরা সরকারের কাছে কী চাচ্ছো, আশাগুলো কী, কোনো পরামর্শ আছে কি না- এটি জানতে চাওয়া।’

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘তোমরা রাষ্ট্রের অভিভাবক, তোমাদের কারণেই রাষ্ট্র। এই ভূমিকা ভুলে যেও না। নিজেদের ভূমিকা ভুলে যেও না। অনেকে এখানে আছে, অনেকে নেই। যারা নেই, তারাও রাষ্ট্রের অভিভাবক। তোমাদের দায়িত্ব আছে রাষ্ট্র যেন ঠিক পথে চলে, যেন বিচ্যুত না হয়। এইটুকু মনে রাখলে রাষ্ট্র ঠিক থাকবে। নিজের অভিভাবকত্ব ভুলে যেও না।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরামর্শকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য ঠিক থাকতে হবে। সিন্ডিকেট নাকি কী এই ধরনের ব্যাখ্যা আমরা চাই না। কতগুলো লোক বাজারমূল্য কবজা করে থাকবে সেটা হতে পারে না। আমরা চেষ্টা করছি দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখার। আমরা দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে চাই। রমজানেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিতে হবে। হঠাৎ করে যেন কোনো পরিস্থিতি না হয়।’

স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পরামর্শে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার সংস্কারের জন্য কমিশন আছে। তারা পরামর্শ দেবে আমরা কাজ করব। আমরা চাই স্থানীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া। খুব কম জিনিস উচ্চ পর্যায়ে থাকবে। দুর্নীতিগ্রস্ত সিস্টেম, একবার একটা ফান্ড বানিয়ে দিলে কারা যেন খেয়ে ফেলে। সেজন্য সুশৃঙ্খলভাবে সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন স্থায়ী হয়।’

জুলাইয়ে শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও খেতাবের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছে তাদের অবদান আমরা ভুলব না। তাদেরকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।’

শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের এমন পরামর্শের প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। যেন বাংলাদেশে কেউ শিক্ষিত না হয়ে উঠতে পারে, দক্ষ হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য পরিকল্পিতভাবে এটা হয়েছে। বেকারত্ব তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জন কিছু নেই। এটা আমদের ঠিক করতে হবে। তরুণদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থার করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রধান উপদেষ্টা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমাদের অর্থনীতি বিভাগে নারী শিক্ষার্থী ছিল মাত্র চারজন। তোমরা বলছো, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী প্রায় ৫২ শতাংশ। এটি অত্যন্ত আনন্দের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে আগে সিট বণ্টন হতো সেই দাসপ্রথা এখন ভেঙে গেছে। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’

আজকের মতবিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গণমাধ্যমে সরকারের কাজ সঠিকভাবে প্রচার না হওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। শিক্ষার্থীদের এমন বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে সরব এটা ঠিক। সরকারের নিজের কোনো পত্রিকা নেই। আছে শুধু প্রেস উইং। তারা পত্রিকায় প্রেস রিলিজ পাঠায়। কেউ ছাপে, কেউ ছাপে না কিংবা তাদের মনমতো শেষ পাতায় বা কোণায় ছোট করে দেয়। প্রেস উইং ওদের মতো করে চেষ্টা করছে, কাজ করছে। সরকার কোনো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না। সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে কাজ করবে- এটাই আমাদের নীতি। আমরা এই নীতিতে থাকব। আমি বুঝতে পারছি তোমরা কিছুটা মনক্ষুণ্ন। এটা আসলে কিছুটা মন খারাপ হওয়ার মতো যে সরকারের কাজ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পুরো সিস্টেমটাই ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। চারদিকে চুরি-চামারি, ব্যাংক কাজ করে না। কমিটি অর্থনীতির শ্বেতপত্র দিয়েছে। আমি বলেছি, এটা একটা ঐতিহাসিক দলিল। আমি মনে করি এটা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো উচিত। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার দায় আওয়ামী লীগের। তবে যারা উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছে তাদেরও ধরতে হবে।’

যে ধ্বংসস্তূপে রেখে গেছে সেখান থেকে বের হওয়া কঠিন। যেদিকে হাত দেই সেদিকেই জঞ্জাল। এই জঞ্জাল পরিষ্কার করেই যাচ্ছি। কাজ শুরু করতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।’

শিক্ষার্থীরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কারকাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা জানান, দেশের মানুষ সরকারের পাশে আছে। এটি গণমানুষের সরকার। জনগণ চায় অন্তর্বর্তী সরকার যেন প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজটি সম্পন্ন করে।


মব কালচার দমনে কঠোর বার্তা দিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক

দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সশরীরে পরিদর্শনে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান মব কালচার দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, মব কালচার রোধ করা সম্ভব, তবে এর জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থির রেখে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনের কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করতে হবে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে আইজিপি বলেন, নিরাপদ পরিবেশ ছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। এ দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে নাগরিকদের আইন মানার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ঈদযাত্রা ও কেনাকাটার সময় ছিনতাই প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শপিং মল ও ব্যাংক এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে। কাউকে হয়রানি ছাড়া নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করবে বলেও জানান আইজিপি।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচন আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। আলোচনায় থাকলেও ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পরিবর্তনের কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং ভোটের আগে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচারণা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। তার আগে ২ জুন অনুষ্ঠিত হবে সভাপতির নির্বাচন। প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন নীতিমালা অনুযায়ী এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ অব স্টেটস থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

ফিলিস্তিনকে আসন ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। তাদের দাবি, কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আগে ২০২১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছিল। এছাড়া ২০১৬-১৭ মেয়াদে ৭১তম অধিবেশনেও সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করে দেশটি। প্রায় চার দশক পর এবার সভাপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে বাংলাদেশ।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থান সুয়ে। একই সঙ্গে ইউনাইটেড লীগ অব আরাকান (ইউএলএ)-এর চেয়ারম্যান ও আরাকান আর্মির প্রধান ত্বান ম্রাত নাইং প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। আরাকান আর্মির প্রধান তার বার্তায় বলেন, নতুন দায়িত্বে তিনি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধানের জন্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন এবং বাংলাদেশ ও আরাকানের মধ্যে বন্ধুত্বের নতুন পথ তৈরির সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।


প্রধানমন্ত্রী তার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩৩
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি বিষয় একজন দক্ষ সিইও’র মতো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার এই বাসিন্দার এটিই প্রথম সফর।

বিগত দেড় দশকের প্রশাসনিক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করায় এটি তার নিজস্ব নিরপেক্ষতা ও সক্ষমতা হারিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন এবং ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও’র মতো প্রতিটি বিষয় বিস্তারিত দেখছেন এবং সেভাবেই কাজ আদায় করছেন।’ ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, ‘জনপ্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, দক্ষতা হারিয়েছে। দেশের সর্বস্তরেই প্রায় ধ্বস নেমেছে। প্রশাসনও সেটা থেকে মুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি অনুযায়ী আমরা একটা দক্ষ, নিরপেক্ষ, মেধাভিত্তিক প্রশাসন দেশের জনগণকে উপহার দেবো। তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে, প্রশাসক হিসেবে নয়। সবাই মিলে বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে পরিণত করবো।’

দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নিজের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকার ‘একটা উদার গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ-জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়বো’—এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটানোই প্রশাসনের বর্তমান মূল লক্ষ্য বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দায়বদ্ধতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এটি হচ্ছে আমাদের মূল পরিচয়, মূল বক্তব্য। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ছিল একরকম, নির্বাচনের পরে পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব এসে পড়েছে। যে কথাগুলো বলে আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, ভোট চেয়েছি, জনগণ অকৃপণভাবে আমাদের ভোট দিয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়ের সাংঘাতিক দায়ভার আছে। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা অনেক। সেগুলো মনে রেখে আগামী দিনগুলোতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।’

সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান এবং পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক তাকে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।


ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির লক্ষ্যে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উন্মুক্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংযুক্তির উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের ভূমি ক্রয়সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইন গ্রহণযোগ্য নয়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই চলমান সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

জেদ্দার বৈঠকে তিনি আরও বলেন, নতুন এই আইন ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত ও জনমিতিক চরিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে, যার মধ্যে আল-কুদস আল-শরিফও রয়েছে।

তিনি গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি ক্রয় সহজ করা ও ভূমি নিবন্ধন উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি মালিকদের ভয়ভীতি ও হয়রানির ঝুঁকিতে ফেলছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি দুর্বল করছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই-রাষ্ট্র সমাধানের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কার্যকর পথ। ইসরায়েলের ভূমি আইন প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনিদের ভূমি অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তাকর্মীদের অবাধ ও শর্তহীন প্রবেশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, নবনির্বাচিত সরকার ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

বৈঠকের সাইডলাইনে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মদু এনজি, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া এবং সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ এলখরেইজি-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

এসব আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। তারা নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আগ্রহও প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকগুলোতে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা জোরদারের বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জোরালো সমর্থনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।


রাজধানীসহ দেশজুড়ে ভূমিকম্প অনুভূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জুমার নামাজের পরপরই আকস্মিক এই কম্পনে জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে রাজধানীসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা এই ভূকম্পনে কেঁপে ওঠে।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তবর্তী এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যার ফলে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।

হঠাৎ এমন কম্পন শুরু হলে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ দ্রুত বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন থেকে নিচে নেমে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ঢাকা ছাড়াও সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতেও এই কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২৮০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

এর আগে গত বুধবার রাতে ৫.১ মাত্রা এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪.৬ মাত্রার দুটি পৃথক কম্পনে দেশ কেঁপে উঠেছিল। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পর পর এমন ভূমিকম্পের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এদিনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার প্রাণহানি কিংবা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর মোহাম্মদ ইসহাক দার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক কার্যনির্বাহী সভায় অংশ নিয়ে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল নতুন সরকার গঠন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় খোঁজা।

বৈঠকে অংশ নেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এ. আলখারেইজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আঘাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজি। সেরিং মোদু এনজি সভার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে এবং উন্নয়ন গতি পাবে। ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়।

এ সময় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছরের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র সঙ্গে তার বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী এবং ঢাকায় সফর করতে চান। নতুন সরকারের আমলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


ফিলিস্তিন ইস্যুতে জেদ্দায় ওআইসি নেতাদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

ওআইসির সচিবালয়ে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিস্তিন ইস্যুতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখ্রেইজি, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং নির্বাহী পরিচালনা কমিটির চেয়ারপারসন ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদুউ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে তারা অভিনন্দন জানান।

তাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়নের ধারা জোরদার হবে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতিও তারা সমর্থন জানান।

আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সেখানে বাংলাদেশের পক্ষে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।


নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি, অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে বের হন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। গভীর রাতে আকস্মিক এই তদারকিতে তিনি নিজেই উপস্থিত থাকেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, টাউন হল ও তিন রাস্তার মোড়সহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

রাত ১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আইজিপি বলেন, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের সক্রিয়তায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে তিনি সরাসরি মাঠে নেমেছেন। কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর নিরাপত্তায় আমি নিজেই রাস্তায় নেমে এসেছি। অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে।’

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মোহাম্মদপুরেই তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় মাদক ও অবৈধ বাণিজ্য ঠেকাতে সন্ধ্যার পর বিশেষ ‘ব্লক রেইড’ চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশ বাহিনীর জনবল প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ২০ কোটি মানুষের দেশে পুলিশ সদস্য আছেন মাত্র ২ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি মানুষের শহর ঢাকায় স্বস্তি ফেরাতে নাগরিক সহযোগিতা ও আইন মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল না থাকলে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও সতর্ক করেন।

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজে রাতের টহলে থাকার ঘোষণা দেন আইজিপি। ট্রাফিক বিভাগ পুনর্গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাহিনীর মানসিকতায় পরিবর্তন এনে পুলিশকে প্রকৃত জনসেবক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে প্রচলিত আইনের মধ্যেই ‘হোয়াইট কলার’ অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান এবং মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।


বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ের চেয়ে পরিশোধের পরিমাণ বেশি

* অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ছাড় কমেছে ৩২.৩৯ শতাংশ * গত বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বৈদেশিক ঋণের প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এই প্রথমবারের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের অর্থের চেয়ে কিস্তি বাবদ পরিশোধের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২.৬৪১ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে, একই সময়ে আগের নেওয়া বিভিন্ন ঋণের আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের পরিশোধ করেছে ২.৬৭৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রাপ্তি বা অর্থছাড়ের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার বেশি।

গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বৈদেশিক ঋণ ছাড় কমেছে ৩২.৩৯ শতাংশ। গত বছরের এই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৩.৯৩৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, গত বছরের তুলনায় ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ। গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ পরিশোধ করেছিল ২.৪১৮ বিলিয়ন ডলার।

ইআরডির কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ধীর থাকায় বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় কম হয়েছে। অন্যদিকে, অতীতে নেওয়া অনেক ঋণের বড় অঙ্কের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তবে ইআরডি মনে করছে, পুরো অর্থবছরের হিসাব করলে অর্থছাড়ের চেয়ে পরিশোধ বেশি হবে না। যেমন, গত অর্থবছরে পরিশোধ করা হয়েছিল ৪.০৮৬ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে ছাড় হয়েছিল ৮.৫৬ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছর শেষেও প্রাপ্তি পরিশোধের চেয়ে বেশি থাকবে বলে আশা করছে বিভাগটি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি বা চুক্তি সইও কমেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ২.২৭৪ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের (২.৩৫০ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ৩.২৬ শতাংশ কম।

অর্থছাড়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তারা এই সময়ে ৫৭৬.০৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক দিয়েছে ৫৫৫.৯৪ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫৩৬.৬৪ মিলিয়ন, চীন ২২০.৪৫ মিলিয়ন, জাপান ১৮৩.৫১ মিলিয়ন এবং ভারত ১১৮.৩৯ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে।

তবে প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে এডিবি। সংস্থাটি চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসে সর্বোচ্চ ১.২৬৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ৩৯১.৪২ মিলিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক ২৬৫.৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে. মুজেরি এ বিষয়ে বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা সাধারণত স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিনির্ধারণে সক্ষম সরকারের সঙ্গে বড় ঋণের চুক্তি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকলে নতুন করে বৈদেশিক ঋণ ছাড় ও প্রতিশ্রুতি ধীর হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত নতুন সরকার এখন দায়িত্ব নিয়েছে। ভবিষ্যৎ চাপ সামলাতে হলে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে। বিশেষ করে উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন ও জরুরি প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। তা না হলে বৈদেশিক সহায়তার ঘাটতি তীব্র হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়বে।’


বিশ্বে টিকে থাকতে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মেধায় নিজেদেরকে সমৃদ্ধ হতে হবে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বইমেলা কেবল বই বেচাকেনার উৎসব নয়; এটি জাতির মেধা ও মননের প্রতীক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মেলা জাতিকে আরও বইপ্রেমী করে তুলবে এবং নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।’

জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সূতিকাগার হিসেবে বইমেলা ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া অমর একুশে বইমেলা এখন জাতির মেধা-মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির শুরুতেই মেলা শুরুর কথা থাকলেও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এ বছর মেলা শুরু হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলা হয়, তবে বাংলাদেশের বইমেলা ভিন্ন। এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক।’

বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি উল্লেখ করেন—‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়া মস্তিষ্কের কোষে নতুন সংযোগ তৈরি করে, স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ করছে। যদিও ইন্টারনেটেও বই পড়া যায়, তবে দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের পর্দায় ডুবে থাকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

পাঠাভ্যাস নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের প্রকাশিত জরিপে ১০২টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ায় শীর্ষে রয়েছে। তালিকার সর্বনিম্নে আফগানিস্তান। ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশে একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটি বই পড়েন এবং বছরে বই পড়ায় সময় ব্যয় করেন ৬২ ঘ‘যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। সময়ের প্রেক্ষিতে জন জীবনে ইন্টারনেট অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, ভবিষ্যতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়বে। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজনকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু ফেব্রুয়ারিতে একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের উদ্যোগী ভূমিকার পাশাপাশি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি।

বাংলা একাডেমির গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সেমিনারের মতো কার্যক্রমের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। দেশের সাহিত্য ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রমও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে বইমেলা ও একুশে অনুষ্ঠানমালা ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।


১০-১৫ বছরের বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্রব্যমূল্য কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি রোধ এবং দীর্ঘ ১০–১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সারাদেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণের স্বল্পমেয়াদি প্রত্যাশা পূরণ করা। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য যাতে কৃত্রিমভাবে বাড়ানো না হয় এবং এ খাতে ১০-১৫ বছর ধরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। গতানুগতিক পন্থার বাইরে গিয়ে নতুন ও সৃজনশীল উপায়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সারা দেশে চাঁদাবাজি নির্মূলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহর ও বড় নগরগুলো থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকীন আহমেদ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালেম সোলায়মান ও সচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারীসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সেনাবাহিনীর আরও ৬ উচ্চ পদে রদবদল 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেনা সদর থেকে এসংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে আরও ৮টি পদে রদবদল আনা হয়েছিল।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) করা হয়েছে। কিউএমজির দায়িত্ব পালন করা আসা লে. জেনারেল ফয়জুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হবেন লে. জেনারেল শাহীন। লে. জেনারেল ফয়জুরকে এনডিসিতে বদলি করা হয়।

এছাড়া সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এমআইএসটি) মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন থেকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) করা হয়েছে।

এছাড়া অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট করা হয়। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসবে বদলি করা হয়।


জবাবদিহিতার মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ‍্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জবাবদিহিতার মধ্যে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ‍্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বনানীর নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেছেন।

তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ১০টি বিষয় নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বেসরকারি টেলিভিশন মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিকেলে রাজধানীর বনানীতে তথ্যমন্ত্রীর নিজ বাসভবনে এ সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

এসময় গণমাধ্যমে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হওয়া এবং একইসঙ্গে জবাবদিহিতার মাধ্যমে গণমাধ্যমের যেন কণ্ঠরোধ না করা হয় সে বিষয়েও আলোচনা করেন।

সাক্ষাতে এটকোর নেতারাও জানান, যে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা উভয়ের মধ্যে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করা হবে।


banner close