আগের মাসের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সমাপ্ত নভেম্বর মাসেও দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। প্রধানত, তিনটি খাতে ভর করে অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ হয়েছে। সেগুলো হলো- কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাত। এ কারণে বেড়েছে নভেম্বর মাসের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআইয়ের সার্বিক মান। গত নভেম্বরে এ সূচকের মান সাড়ে ৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২ পয়েন্ট। অক্টোবরে সূচকটির সার্বিক মান ছিল ৫৫ দশমিক ৭ পয়েন্ট।
গতকাল রোববার নভেম্বর মাসের পিএমআই স্কোর প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে এ সূচক প্রকাশ করেছে। অর্থনীতির মূল চারটি খাতের কার্যক্রমের ভিত্তিতে পিএমআই তৈরি করা হয়েছে। খাতগুলো হচ্ছে কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা। পিএমআই সূচকের মান ৫০ পয়েন্টের বেশি থাকা মানে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে।
অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় থাকলেও এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে পিএমআই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থনীতির নীতি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এখনো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ছাড়া শিল্প খাতসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে আন্দোলনের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নভেম্বরের পিএমআই প্রতিবেদন অনুসারে, নির্মাণ খাত ছাড়া অন্য তিন খাতের সম্প্রসারণের হার অক্টোবরের চেয়ে বেশি ছিল। বিশেষ করে কৃষি খাত সম্প্রসারণের গতি ছিল সবচেয়ে বেশি। এ খাতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। যদিও এই খাতে কর্মসংস্থানের গতি কম। নভেম্বরে কৃষি খাতের পিএমআই সূচকের মান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ২। অক্টোবরে এ সূচকের মান ছিল ৫৩ দশমিক ১।
টানা তিন মাস সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে উৎপাদন খাত। নভেম্বরে এ খাতের পিএমআই সূচকের মান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ৯ পয়েন্ট। অক্টোবরে যা ছিল ৫৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট। এ খাতের নতুন ক্রয়াদেশ, রপ্তানি, কারখানায় উৎপাদন-সব ক্ষেত্রেই গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। এমনকি এই খাতের আমদানি, কর্মসংস্থান, সরবরাহের ক্ষেত্রেও প্রথমবারের মতো সম্প্রসারণ হয়েছে। এতে অর্ডার ব্যাকলগ সূচক ধীর সংকোচন হার দেখিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অক্টোবরের পর নভেম্বরেও দ্বিতীয় মাসের মতো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে সেবা খাত। নভেম্বরে এ খাতের সূচকের মান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ পয়েন্ট। অক্টোবরে এই সূচকের মান ছিল ৫৬ দশমিক ৯ পয়েন্ট। সেবা খাতে কর্মসংস্থানেও গতি ফিরেছে গত মাসে। সেই সঙ্গে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম গতি রয়েছে।
কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাত সম্প্রসারণ ধারায় থাকলেও সংকোচনে রয়েছে নির্মাণ খাত। আগের মাসে সামান্য সম্প্রসারণে ফিরলে নভেম্বর মাসে সংকোচনে ফিরে গেছে। মূলত এ খাতে ইনপুট খরচ এবং অর্ডার ব্যাকলগ সূচকের জন্য সংকোচন রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নতুন ব্যবসা, নির্মাণ কার্যক্রম এবং কর্মসংস্থান সূচকের জন্য সম্প্রসারণ রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে পিএমআই সূচকের মান নির্ণয় করা হচ্ছে। তবে চলতি বছরের মে মাস থেকে যৌথভাবে এই সূচক প্রকাশ করে আসছে এমসিসিআই ও পিইবি। চার খাতের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট খাতের সূচকের মান নির্ধারণ করা হয়। মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে পিএমআইয়ের মান নির্ণয় করা হয়।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের উদ্যোগের অংশ হিসেবে Armed Forces Division (AFD) কর্তৃক গৃহীত ‘Training of Forces Under People’s Warfare Doctrine’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের আওতায় উপজেলা/থানা আনসারদের ২৮ দিনব্যাপী ‘অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণ-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে আনসার ব্যাটালিয়নের দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্বে গাজীপুরের সফিপুর আনসার ব্যাটালিয়ন (২৭ বিএন) এবং পটুয়াখালী আনসার ব্যাটালিয়ন (৩১ বিএন)-এ প্রশিক্ষণ চলছে। এ পর্বে উপজেলা/থানা আনসারের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মোট ২০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে আরও আটটি আনসার ব্যাটালিয়নে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের উদ্যোগে উপজেলা/থানা আনসার কোম্পানির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত, দক্ষ এবং সংকট মোকাবিলায় সক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের তত্ত্বাবধানে এবং AFD-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকরা এ প্রশিক্ষণে যুক্ত রয়েছেন।
প্রশিক্ষণে সদস্যদের ফায়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়, নিশানা গ্রহণের সাধারণ নীতি এবং ফায়ারিং নিরাপত্তা সম্পর্কে বাস্তবমুখী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পদাতিক বাহিনীর সাধারণ পরিচিতি, পদাতিক কোম্পানির সাংগঠনিক কাঠামো এবং রণক্ষেত্রে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে ছদ্মবেশ, গোপনীয়তা ও আড় ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, People’s Warfare Doctrine-এর আলোকে উপজেলা/থানা আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় সামরিক জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে গড়ে তোলাই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য ইতালিতে বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালে বিভিন্ন খাতে অ-ইইউ দেশ থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন কর্মী নেওয়ার কোটা নির্ধারণ করেছে দেশটি। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।
ইতালির ‘ডেক্রেতো ফ্লুসি’ বা ‘ফ্লো ডিক্রি’র আওতায় এসব কর্মী দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। ২০২৬ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০টি নন-সিজনাল অধীনস্থ কাজ, ৮৮ হাজারটি মৌসুমি কাজ এবং ৬৫০টি স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নির্ধারিত।
বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব কোটার আওতায় আসতে পারবেন। ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সংশ্লিষ্ট দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে ইতালিতে কাজের জন্য আবেদন সরাসরি কোনো কর্মীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভিসা আবেদনের মতো নয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ইতালির নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের জন্য কাজের অনুমতির আবেদন করতে হয়। আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ALI পোর্টালের মাধ্যমে।
২০২৬ সালের জন্য কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন পাঠানোর নির্ধারিত দিন ছিল ১২ জানুয়ারি, পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মীদের জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি। নন-সিজনাল কর্মীদের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পারিবারিক সহায়তা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইতালির এই কর্মী নিয়োগ কর্মসূচি ২০২৬-২০২৮—তিন বছরের জন্য নির্ধারিত। এ সময়ে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে যারা বৈধভাবে ইতালিতে কাজের জন্য যেতে চান, তাদের সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের পরিবর্তে ইতালির সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি-ভিডিও ধারণ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই), সংরক্ষিত এলাকা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ বা কোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ করা যাবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রচার থেকেও বিরত থাকতে হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার। জাতীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বন্দরের নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত বন্দর এলাকা হিসেবে বিবেচিত। ফলে বন্দরে অবস্থানরত ও বন্দর ব্যবহারকারী সবাইকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল স্থাপনার দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ বা তা কোনো মাধ্যমে প্রচার করা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
পুলিশ সদরদপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের নতুন এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ সুপার কামারুম মুনিরা। তিনি এ এইচ এম শাহাদাৎ হোসাইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) পদে যোগ দিয়েছেন কামারুম মুনিরা। তিনি ২৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি ঢাকা জেলায়।
এর আগে কামারুম মুনিরা পুলিশ সদরদপ্তরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগে এআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পুলিশ সুপার এ এইচ এম শাহাদাৎ হোসাইনকে পুলিশ সদরদপ্তরের আইসিটি বিভাগের এআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় জার্মানির লুফথানসার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী সরকার। একই সঙ্গে দেশে মেইনটেনেন্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) স্থাপনে লুফথানসার বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা চান তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজের নেতৃত্বে লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিমান চলাচল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত এভিয়েশন প্রতিষ্ঠান লুফথানসা বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের এভিয়েশন হাবের অগ্রযাত্রায় এমআরও স্থাপনের ক্ষেত্রে লুফথানসার বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দেশেই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে লুফথানসা বিমানের সঙ্গে কাজ করতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যাওয়া কার্গোর ক্ষেত্রে ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ (এইচআরসিএম) স্ট্যাটাসের বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে আসা কার্গোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত এই স্ট্যাটাস বহাল রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিরাপত্তাসহ সব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি সম্পন্ন নিরাপত্তা অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯০ শতাংশের বেশি রেটিং অর্জন করেছে। তাই এইচআরসিএম প্রত্যাহারের বিষয়ে জার্মানির সহযোগিতা সরকারের কাম্য।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উন্নয়নের অংশ হিসেবে ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান বিমানমন্ত্রী। তবে এয়ারবাসের ডেলিভারির সময় এগিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের আগেই এয়ারবাসের ডেলিভারি শুরু হওয়া জরুরি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।
বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশেও এক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে এবং এক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও সুযোগ রয়েছে।
এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, আইটি, আউটসোর্সিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
এ সময় কানাডার হাইকমিশনার দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
একইসাথে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডা সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রদান করেছে।
অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।
তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে কারিগরি, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। তাদের সেই প্রতিভা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারে।’
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে পরিবারের পাশাপাশি দেশের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে। আমাদের সকল শিশুকে সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারলে আমাদের দেশের ভিত্তিটা অনেক মজবুত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।'
শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো হলেই হবে না। খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভালো করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের আজ পড়ালেখার কথা বলব না। আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিশু ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, আবার কেউ নাচ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী। প্রত্যেক শিশুকে তার পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সরকার সুযোগ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে প্রায় ২২ লাখ শিশু (১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে) ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।’
এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গেলে তাদের মধ্য থেকেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার বিকাশেও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চায় প্রতিটি শিশু শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাক।’
তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন এসব সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুল পর্যায় থেকেই আর্ট, কালচার, স্পোর্টস ও মিউজিকের সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অনেকটা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুকে তার পছন্দ অনুযায়ী গান শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিসহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ শিশুদের জন্য সৃষ্টি করা হবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য যারা বিদেশে যাবে, তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা জানা অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।’
শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা একাধিক ভাষা জানলেই একজন মানুষ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে মানবিক হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে। এই দেশের প্রকৃতি, পশুপাখির প্রতিও তোমাদের মানবিক হতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সরকার এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, প্রকৃতি ও প্রকৃতির সৃষ্টির প্রতিও সদয় হবে।’
তিনি শিশুদের গাছপালা ও পশুপাখির যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করে তুলতে হবে। একইভাবে আশপাশের পশুপাখির প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে। আমরা যদি প্রকৃতির প্রতি সদয় হই, অবশ্যই প্রকৃতিও আমাদের প্রতি সদয় হবে।'
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিশুদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো বড় মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে দেখলে বিনয়ের সঙ্গে তাকে সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার কথা বলতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তুমি ছোট হিসেবে তাকে বলতে পারো-ময়লাটি সঠিক জায়গায় ফেলুন।আপনি যদি পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে বাংলাদেশের লাখো-কোটি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।’
অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের মধ্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালালে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, মানবিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরিবেশনায় অংশ নেওয়া শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এ সময় শিশুদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যান এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাঁকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, শিশুদের শৈশব হতে হবে নিরাপদ। তাদের ভবিষ্যৎ হতে হবে সুরক্ষিত। তবেই নতুন উদ্যমে শিশুরা তাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সফল হবে।
তিনি বলেন, 'প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই অপার সম্ভাবনা ও প্রতিভা লুকিয়ে আছে। সেই প্রতিভা বিকাশে শিশুদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।'
আজ শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু-কিশোরদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, 'আজ থেকে ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুদের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ দশক ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'শিশু একাডেমির আঙিনায় ছবি আঁকা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে অগণিত শিশু-কিশোরের প্রতিভা বিকশিত হয়েছে। শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।'
শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা এবং মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।'
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, 'শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তীর এই শুভক্ষণে নতুন উদ্যোগে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিকে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সব শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আগামী দিনেও শিশু একাডেমি শিশুদের স্বপ্ন ও প্রতিভা বিকাশের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হয়ে থাকবে। '
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্নেহের ছোট্ট বন্ধুরা, সকল বাধা-বিপত্তি ছিন্ন করে তোমরা প্রস্ফুটিত হবে। আশা-আকাঙ্ক্ষার সার্থকতার আলোকরশ্মি দু’হাতে বরণ করবে।’
প্রত্যেক শিশুর মাঝেই অপার সম্ভাবনা ঘুমিয়ে আছে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, 'সেই প্রতিভাকে প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। নতুন উদ্যম ও নতুন উদ্যোগে শিশুরা ইনশাআল্লাহ সফল হবে।'
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শৈশব হোক নিরাপদ, প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত-এই আমাদের কামনা।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাদের স্বাগত জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র গ্যালারিও তাঁরা পরিদর্শন করেন। সূত্র: বাসস
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চলতি অক্টোবরের শেষভাগে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ অক্টোবর তিনি জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করতে পারেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে। সে বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।’ তবে সরকারপ্রধানের ঢাকা ছাড়ার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
এর আগে গত ১২ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় জাপানের জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু তাঁর দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। একই সাথে তিনি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও টোকিও সফরের নিমন্ত্রণ জানান। এর জবাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের পাল্টা আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একইসাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অবৈধ অভিবাসনকে উসকে দিতে পারে।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ারপার্সন আফসানা বেগম এমপি’র নেতৃত্বে সফররত একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলের। বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে তারা তাদের সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে এপিপিজি’র ধারাবাহিক আগ্রহের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে এপিপিজি’র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সাথে আরও সম্পৃক্ততা বাড়াতে গ্রুপটির সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে পারস্পরিক মতামত বিনিময় করেন এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষী ফোরামের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাধ্য হয়েই সরকারকে এলপিজি গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্যে যেন সাধারণ মানুষ এলপিজি পেতে পারেন, সেজন্য জেলা প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে কঠোর নজরদারি পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির সুবিধা দ্বিগুণ করেছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলো এখন থেকে প্রতি দফায় ১০ কেজির স্থলে ২০ কেজি করে খাদ্যসহায়তার চাল পাবেন। এ ছাড়া গত ২ অক্টোবর বহুল প্রতীক্ষিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে বলেও তিনি অবহিত করেন।
শিশুদের অন্তর্নিহিত মেধা ও গুণাবলির পূর্ণ বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক ভিত আরও সুদৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, একটি পরিবারের সার্বিক অগ্রগতি যেমন সন্তানদের সুষ্ঠু বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি পুরো জাতির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধিও শিশুদের সঠিক বিকাশের ওপর নির্ভরশীল।
মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিশুদের প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি মূলত শিশুদের জন্যই নির্ধারিত, তাই বড়দের দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে শিশুদের কথা শোনাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। এ সময় একাডেমি প্রাঙ্গণে নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আজকে তোমরা শিশু হিসেবে যেমন এখানে উপস্থিত হয়েছো, একদিন আমিও এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম। শিশু হিসেবেই এসেছিলাম। একজন শিশু অতিথি হিসেবে আমি এই শিশু একাডেমিতে এসেছিলাম।” অতীতে এই প্রতিষ্ঠানের ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে নিজের ও ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশের ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রদর্শনী বোর্ডে সেই পুরোনো গল্প দেখে শৈশবের বহু স্মৃতি তাঁর মনে পড়েছে।
শিশুদের কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের আজকে আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।” তিনি বলেন, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোসহ প্রতিটি শিশুর ভেতরেই বিশেষ কোনো না কোনো সুপ্ত গুণ থাকে এবং তা বিকশিত করতে দরকার উপযুক্ত পরিবেশ। সরকারের তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারাদেশে ১১ লাখ ছাত্র ও ১১ লাখ ছাত্রীসহ মোট ২২ লাখ শিশুর অংশগ্রহণে ফুটবল প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে, যেখান থেকে ভবিষ্যতে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা দেশব্যাপী পুনরায় সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ পরিবারের পক্ষে ব্যক্তিগত খরচে এসব সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এই সুযোগগুলো সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি বাচ্চার মধ্যে কোনো না কোনো কিছু একটা কোয়ালিটি আছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটা করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারবে।” প্রস্তুতি শেষে আগামী ২০২৭ কিংবা ২০২৮ সাল নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলার বিভিন্ন ক্ষেত্র পছন্দের সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিশ্বমঞ্চে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কুল পর্যায় থেকেই বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান কিংবা জাপানিজের মতো অতিরিক্ত একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সাথে শিশুদের সংবেদনশীল নাগরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “তোমাদেরকে কিন্তু মানবিক হতে হবে। তোমাদেরকে এই দেশের প্রকৃতি, এই দেশের পশুপাখির প্রতিও কিন্তু তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে।”
একটি উন্নত, জ্ঞানভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি বিনির্মাণে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকের শিশুই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের সুস্থ বিকাশ, আনন্দময় শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা এবং মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের ওপরই নির্ভর করছে একটি সমৃদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ। তাই প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও স্নেহ-মমতায় পরিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”
তিনি জানান, শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষাবলয় সুদৃঢ় করতে এবং সার্বিক বিকাশের পথ সুগম করতে সরকার বহুবিধ কল্যাণমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। এ ক্ষেত্রে উন্নত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষাঙ্গন থেকে ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের যুগোপযোগী প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান এবং শিশুবান্ধব বিচারিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাঝে এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার আবশ্যকতা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি দেশের ৬৪টি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণ, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ক্রীড়া ভাতা প্রবর্তনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার যৌথ সম্মিলনে শিশুরা দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ হয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবে।
শিশু অধিকার দিবসের সঙ্গে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তির সংযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বিগত পাঁচ দশক ধরে সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, আবৃত্তি ও সাহিত্যচর্চাসহ সৃজনশীল নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের মেধা বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিশেষে দিবসের সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ, আনন্দঘন ও সম্ভাবনাময় করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।