সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা স্থগিত করা হচ্ছে, তা আইনসিদ্ধ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ‘আদালতের প্রক্রিয়ার বাইরে অন্যায়ভাবে (ব্যাংক হিসাব) ফ্রিজ করাটা আমি নিজেও পছন্দ করি না।’
সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দেশের বর্তমান ব্যবসা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী নেতা। অনুষ্ঠানে ইআরএফের সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমসহ সংগঠনটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিআইএফইউ)। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘এখন যেটা ঘটছে, ইচ্ছা হলেই আরেকজনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আইনসিদ্ধ নয়। বিষয়টি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হওয়া উচিত। যদি উপযুক্ত প্রমাণ থাকে, তাহলে অনুসন্ধান করে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে ফ্রিজ করা যেতে পারে। আমার ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করতে পারে, আপত্তি নেই। কিন্তু যা–ই করুক আইন অনুযায়ী করুক।’
সভায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করায় অর্থনীতির অন্য ভিত্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সুদহার বাড়িয়ে টাকার সরবরাহ কমালে ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমে যাবে। এতে পণ্যের সরবরাহ কমবে। অর্থাৎ মুদ্রা সরবরাহ কমাতে গিয়ে পণ্যের সরবরাহ কমিয়ে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেওয়া হবে। আর পণ্য সরবরাহের ঘাটতি থেকে তৈরি মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। সুতরাং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পাশাপাশি দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
তবে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে বলে মনে করেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এ সভাপতি। তিনি বলেন, তবে ব্যাংক খাতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা এক দিনে ঠিক হবে না। সরকার একদিকে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার এবং অন্যদিকে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ফলে যেসব ব্যাংককে দুর্বল বলা হয়, তারা ক্রমেই ভালো করছে।
পরিস্থিতির পুরোপুরি উন্নতি করতে হলে গণতান্ত্রিক সরকার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। বলেন, একজন উপদেষ্টা বলেছেন যে তারা দায়িত্বে আছেন, ক্ষমতায় নেই। এটা তো ভয়ংকর কথা। গণতান্ত্রিক সরকারের জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকে। তাই অতিসত্বর নির্বাচন দেওয়া, অন্তত নির্বাচন নিয়ে একটা রোডম্যাপ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সব ক্ষেত্রে সংস্কার দরকার নেই উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, যেগুলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, সেগুলো তারা (সরকার) এখনই করতে পারে। তবে সাংবিধানিক সংস্কারগুলোর বিষয়ে সবার সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করে দিতে পারে। তাতে ভবিষ্যতে যে-ই সরকারে আসুক, তারা ওই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবেন।
সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপের পোশাক খাতের ১৬টি কোম্পানির মালিকানা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সরকারের উপদেষ্টা কমিটির এক সভায়। এর বাইরে এই গ্রুপের বেশ কয়েকটি কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘কারা বিক্রি করবে, কেন করবে? কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা প্রতিষ্ঠান নৈতিকও না, অনৈতিকও না। এসব প্রতিষ্ঠান যারা চালায়, তারা যদি অনৈতিক হয়, আইন মেনে তাদের বিচার হওয়া উচিত। এ নিয়ে আমি কিছু বলব না। মালিকদের শাস্তি হোক, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যেন বন্ধ না হয়।’
তিনি বলেন, ‘বেক্সিমকো গ্রুপের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮২ হাজার লোক কাজ করেন। কোনো উৎপাদনশীল খাতে সরকারের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না, যাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হয়।’
পুঁজিবাজারে নতুন কোনো দরবেশের আবির্ভাব হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি কখনো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করিনি এবং পুঁজিবাজার থেকে কোনো মুনাফাও করিনি। আমি কখনো দরবেশ হব না। আমার এক সময় বেক্সিমকো গ্রুপের স্বত্বাধিকারী সালমান এফ রহমানের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়ার ছিল। কিন্তু আমি এর অপব্যবহার করিনি। আমি কখনো সরকারের সঙ্গে কোনো ব্যবসা করিনি। টুকটাক যেটুকু ব্যবসা করেছি, নিজে নিজেই করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু লোক পুঁজিবাজারকে লটারিতে পরিণত করেছে। তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করে শেয়ার কেনা-বেচা করছে। তারা মনে করে আজ যে শেয়ার কিনব, কয়েক দিন পরেই তার দাম বাড়বে। তখন বিক্রি করে মুনাফা করব।’
ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে আমাদের একটা মন–কষাকষি চলছে। এর কারণ, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক ভুলে গিয়ে শুধু একটি দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছে। এখন সেই সরকার আর ক্ষমতায় নেই, এটা ভারতের জন্য মেনে নেওয়া কষ্টকর। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত নীতি হচ্ছে, আগে আপনি (ভারত) ৫ আগস্ট এর নীতিগত স্বীকৃতি ঠিকমতো দেন। এরপর আমরা ভবিষ্যতের দিকে আগাই। আমিও মনে করি, এটা যথাযথ চিন্তাধারা।’
ভারতকে বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়া উচিত। তবে একই সঙ্গে আত্মসম্মান যেন বজায় থাকে।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া সব সার ডিলার বাতিল করেছে সরকার। তাদের পরিবর্তে খুব দ্রুতই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
এ সময় চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট সমাধানে দশ সদস্যের সংসদীয় কমিটি করা হয়েছে। এতে সরকারি দল থেকে থেকে পাঁচজন এবং বিরোধী দল থেকে পাঁচ জন সদস্য রাখা হবে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে সংসদে সর্ব সম্মতক্রমে এই প্রস্তাব পাস হয়।
চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের ডিলাররা নানা রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, সার আত্মসাত করছে। এতে কৃষকরা ঠিক মতো সার পাচ্ছে না। কৃষক যাতে ঠিকমতো সার পায় তার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র এমপি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে দুপুরে বাসের নতুন ভাড়ার ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৪(২) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বর্তমান পরিচালনা ব্যয়জনিত কারণে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হবে।
আন্তজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ২৩ পয়সা হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪৩ পয়সা হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা।
আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে দূরপাল্লার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)/যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
এ ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস/মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এ ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এ ভাড়ার হার গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।
প্ল্যাটফর্মের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ নিজেদের মতো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন। আমাদের অন্ধকারে রেখে তারা ওই অর্থ লোপাট করেছে।’
সিনথিয়া বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত তথ্য বা নথি না করে কেবল মৌখিকভাবে কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে পরে মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব বা প্রমাণ দেখানো হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটিগুলোকে অন্ধকারে রেখে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অডিট ও অনিয়মের বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন।
সিনথিয়া জানান, সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হবে জানতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করিনি। আমাদের কেউ এক টাকাও দাবি করেছে—এমন প্রমাণ যদি দিতে পারে, তাহলে আমাদের বিচার দেশবাসী ও আইন করবে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পুনর্গঠনের দাবিও তোলা হয়। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ‘সংগঠনকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমরা দ্রুত কাউন্সিল করব। কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত প্রভাব নয়, সদস্যদের ভোটেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।’
একই সঙ্গে বক্তারা আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশের দাবি জানান এবং বলেন, ‘গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুইজন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তারা হলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম এবং সাবেক সচিব ড. এম মাহফুজুল হক।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ময়নুল ইসলামকে চুক্তিতে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মাহফুজুল হককে পর্তুগালের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ময়নুল ও মাহফুজুলসহ চার রাষ্ট্রদূতকে গত ৮ মার্চ প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন তাদের নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিল করল সরকার।
দেশের কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের বিদ্যুতের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামের কৃষকরা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পায় এবং ফসল উৎপাদনে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজধানী থেকে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরিয়ে নিয়ে গ্রামীণ জনপদে সরবরাহ করা হবে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের বিপুল চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের বড় একটি ঘাটতি রয়েছে। গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতি মোকাবিলায় সারাদেশে গড়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, যা বাস্তবায়নে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। তিনি জানান, কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবে জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় আমদানির জন্য যুতসই অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত এই সংকট সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যে এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
বর্তমানে একটি কয়লাভিত্তিক এবং একটি আমদানিনির্ভর পাওয়ার প্লান্ট রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কেন্দ্রগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। জনভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তার শপথের মর্যাদা এবং সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বৈষম্য দূর করার এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে সারাদেশে সুষম বিদ্যুৎ বণ্টন নিশ্চিত করবে বলে সরকার আশা করছে।
স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পার হলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো জ্বালানি তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) গড়ে না ওঠায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, জ্বালানি সক্ষমতা যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্পষ্ট। নিজস্ব শোধনাগার না থাকায় অপরিশোধিত তেল থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি খরচ বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির উন্নতি বা সম্প্রসারণ আমরা করতে পারিনি। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে বর্তমান যে উত্তেজনা, তা থেকে বোঝা যায় জ্বালানি সঙ্কট কীভাবে প্রতিটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। সময়মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সক্ষমতা অর্জন করতে না পারাকে তিনি একটি বড়ো সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং আকাশপথের সুরক্ষায় শক্তিশালী বিমানবাহিনী অপরিহার্য। পর্যাপ্ত এয়ারক্রাফট ও নৌযান ক্রয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করার জন্য নয়, যুদ্ধ এড়ানোর সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিই। আর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, যে অর্গানাইজেশনে জবাবদিহিতা নেই, সেটি উন্নতি করবে না। আমরা চাই সামরিক বাহিনী কী করছে, তা দেশের মানুষ আরও বেশি জানুক। সাধারণ মানুষের জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার আছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যার কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তরুণ প্রজন্মকে আরও সচেতন ও দক্ষ হওয়ার আহবান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে যেকোনো ভুলের মূল্য অনেক বেশি। তাই নেতৃত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তায় বেসামরিক-সামরিক সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি।
তিন সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সটি জাতীয় নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণী বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবহণ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা।
নতুন এ ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী।
সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহণের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল পরিবহণ মালিক সমিতি।
বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত রয়েছে বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নতুন এই দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির পূর্বের নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে।এ উদ্যোগকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংসদ, যা দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই নামকরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থানে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথাকে স্থায়ীভাবে ধারণ করার একটি প্রতীকী উদ্যোগ। এর আগে গ্যালারিগুলোর নাম ছিল ফুল ও নদীর নামে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্তি প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, নতুন এই নামকরণের মাধ্যমে সেই স্থানগুলো এখন সরাসরি স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।
এক নজরে নতুন নামকরণ; গ্যালারি-৩: বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ (পূর্বের নাম: শিমুল), গ্যালারি-৪: বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (পূর্বের নাম: শিউলি), গ্যালারি-৫: বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন (পূর্বের নাম: বকুল), গ্যালারি-৬: বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (পূর্বের নাম: শাপলা), গ্যালারি-৭: বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (পূর্বের নাম: যমুনা), ভিআইপি গ্যালারি-১: বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (পূর্বের নাম: পদ্মা), ভিআইপি গ্যালারি-২: বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান (পূর্বের নাম: মেঘনা), এছাড়াও, গ্যালারি-১ ও গ্যালারি-২ সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে (সাংবাদিক গ্যালারি)।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংসদে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো সুদৃঢ় হবে।
এই নামফলক স্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরো দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হলো বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
জাতীয় সংসদে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে গ্যালারির নামকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য উদাহরণ।
দেশের মানুষের স্বার্থে আলোচনায় বসতে বিরোধীদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক।’ বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদল যদি পরামর্শ বা কোনো প্রস্তাব দেয় তবে সে বিষয়ে বিএনপি আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বজুড়ে। সরকার যথাযথভাবে জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সে ক্ষেত্রে বিরোধীদল গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব দিলে গ্রহণ করতে সরকারের আপত্তি নেই। বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘এই সংসদ বহু শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সংসদ দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ কীভাবে সুন্দর করা যায় সেই আশা আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদে আমরা যে যেখানেই বসি না কেন বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। সে কারণে সংসদে যে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে আমরা সেই কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আজকের জ্বালানি তেল নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’
কৃষি উন্নয়নে বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ৭ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্যবিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরের সময় টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচি ছিল প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় কৃষি উন্নয়নে সরকারের ৭ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখছি আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে বিভিন্ন বিষয়। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা। এসব কারণে কৃষি খাত বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আমাদের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কৃষি উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই এবং লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা, যথা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রদান ইত্যাদি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে (প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ) এ কার্ড প্রদান করা হবে।’
আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ: আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার আরও অনেকগুলো সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকার উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য এরই মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ আমরা আগামী পাঁচ বছরে করব। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ভুর্তুকি প্রদান করে ট্রাক্টর হারভেস্টার রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারে হয়েছে।’
‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু: তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশের উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে পতিত জমি চিহ্নিত করে সেগুলো আবাদের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পতিত জমি কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট অঞ্চলে পতিত জমিসহ চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ: কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ধাননির্ভর কৃষিব্যবস্থা এখন ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা, ফুল চাষ খাতে সম্প্রসারণ করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
কৃষকদের প্রণোদনা: তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি প্রদান করা হবে। তা ছাড়া কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং ফসল বিমা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।’
আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিপণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো-মেশিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে, উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
হাসিনা আমলে অর্থপাচারের ১১ মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ওই আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থপাচারের ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থপাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশের মধ্যে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়নার) ৩টির (মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। অন্য সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
নতুন ডিলার নিয়োগ: পুরোনো ডিলারদের বাতিল করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘চিফ হুইপ বলেছেন, উনি যখন বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন তখন আমি খেয়াল করেছি মোটামুটি পুরো সংসদ বিষয়টিকে ওয়েলকাম (স্বাগতম) করেছেন। এ ব্যাপারে যদি পুরো সংসদের সম্মতি থাকে, তবে নিশ্চয়ই সরকার দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
হামের টিকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি।’
বর্তমানে টিকা পেতে ইউনিসেফ সাহায্য করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ হামের ভ্যাকসিনেশন খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে, ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি। প্রায় দুই কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিনেশন আমরা দেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। খুব সম্ভবত একটি কিট দিয়ে তিন শিশুকে টেস্ট করা সম্ভব হয়। কিছু কিট এই মুহূর্তে সম্ভবত ঢাকার কাস্টমসে আছে, এয়ারপোর্টে আছে।’
জাতীয় সংসদে এক সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘মহামান্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করলে, প্রধানমন্ত্রী তাকে শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যকে একটি অনুরোধ করতে চাইব, আপনি আমাকে যখন অ্যাড্রেস করেছেন ‘‘মহামান্য’’ শব্দটি মনে হয় ব্যবহার করেছেন। দয়া করে আমাকে এরপর অ্যাড্রেস করার সময় কখনো এই কথাটি আর বলবেন না।’
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে হলে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয়, বরং গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে সামগ্রিকভাবে জবাবদিহিতার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব কেবল নারী বা পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি আমাদের সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ। রাজনীতি ও গণমাধ্যম- এই দুটি শক্তিশালী মাধ্যম যদি পেশাদারত্ব ও জবাবদিহিতার আওতায় আসে। তখন সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে ওঠবে।’
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী- উভয়কেই সারাক্ষণ জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা ও জনসেবা আর গণমাধ্যমের লক্ষ্য সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে যদি সঠিক জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া না থাকে, তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। কারণ, শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে বিমূর্ত কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার কথা বলা অবাস্তব। জবাবদিহিতা হতে হবে সুনির্দিষ্ট অস্তিত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নজরদারি ও সুস্থ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।
বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে নিজেদের সদিচ্ছার কথা জানিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি বাংলাদেশ চিকিৎসা ও কৃষি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে দলটি। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেইজিংয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে দুটি আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিনিধিদলটি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়র সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যা বিকশিত হয়েছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। এই সম্পর্ককে ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব হিসেবে অভিহিত করে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে।
বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুনর্ব্যক্ত করেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো- সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি চীনের ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের কথা জানান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবন-জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সদিচ্ছা ও অংশীদারিত্বের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ছাড়াও প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি পরিশোধন প্রযুক্তিতে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং হালকা ও মাঝারি শিল্পে চীনের বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল’ স্থাপনের প্রস্তাবের পাশাপাশি রোবোটিক সার্জারি এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়।
চীনের উপরাষ্ট্রপতি এবং সিপিসির শীর্ষ নেতারা বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার এবং যৌথ অগ্রগতির লক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
পড়ার টেবিল ছেড়ে ভয়ংকর সব অপরাধে জড়ানো কিশোর গ্যাং এবার হাত পাকাচ্ছে খুনোখুনিতে। তাদের হাতে উঠছে চাপাতি, পিস্তল ও রিভলবারসহ আগ্নেয়াস্ত্রও। ফলে ছিনতাই, চুরি, খুনসহ পাড়া-মহল্লায় যেকোনো অপরাধ ঘটলেই সবার আগে আসছে কিশোর গ্যাংয়ের নাম। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা বদলেছে দল, কেউবা বদলেছে নেতা, বদলেছে তাদের অপরাধের ধরনও। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এরা হয়ে ওঠে বেপরোয়া। গড়ে তোলে নতুন নতুন গ্যাং। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখন বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের হিরোইজম জাহির করতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবার এমনকি খুনোখুনিতে লিপ্ত হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহর, পাড়া-মহল্লার বাসিন্দারা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদকের আগ্রাসন বেশি। এ আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে কিশোররা। এ কারণে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে দ্বিধা করছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গ্যাং সদস্যরা রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিষফোঁড়ার মতো হয়ে ওঠছে। গত ২০ মাসে এদের হাতে খুন হয়েছে ২৪ জন। আর বিগত ১৬ বছরে ১০০টির বেশি খুন হয়েছে।
সবশেষ গত বুধবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুল (২৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। এর আগে ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরে এলেক্স গ্রুপের প্রধান ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। মূলত ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন নিয়ে এলেক্স গ্রুপের সঙ্গে আরমান-শাহরুখ গ্রুপের দ্বন্দ্বে হত্যা করা হয় এলেক্স ইমনকে। একই দিন সকালে দুই দফায় তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ ঘটনায় আরমান-শাহরুখ গ্রুপের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত এলেক্স ইমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুনসহ ১৮টি মামলা ছিল।
আরেক ঘটনা শেরপুরের। গত ১০ মার্চ শেরপুরের নকলায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় সজীব মিয়া (১৪)। জানা যায়, ১০ মার্চ রাতে সজীবকে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নকলা বাইপাস ব্রিজের নিচে নিয়ে যায় একই গ্রামের মো. রিফাত (১৮) ও আরও তিন-চারজন। পরে একটি মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সজীবের শরীরে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় তার চিৎকার শোনে এলাকাবাসীরা তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর দেখে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চার দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর সজীব মারা যায়।
এ দুই ঘটনাই হত্যাকাণ্ডের। শুধু হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনায় নয়, এমন কোনো অপরাধ নেই যাতে কিশোর গ্যাং সদস্যরা জড়িত নয়। আওয়ামী লীগ আমলের কিশোর গ্যাং সদস্যরা ঘুরেফিরে নতুন নামে নতুনভাবে আবির্ভূত হয়েছে।
রাজধানীর অপরাধের প্রায় ৪০ শতাংশই এখন কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে ছিনতাই ও ছোট-খাটো ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি অন্যতম। কিশোররা এখন দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি বিদেশি পিস্তল ও আধুনিক অস্ত্রও ব্যবহার করছে। এ ছাড়া মাদক পরিবহন ও সেবনে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, অশ্লীল ছবি ছড়ানো এবং হ্যাকিংয়ের মতো কাজেও কিশোরদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, সারাদেশে বর্তমানে ২৩৭টির বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কিশোর গ্যাং রয়েছে ঢাকা মহানগরীতে ১১৮টি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম, যেখানে ৫৭টি গ্যাং সক্রিয়।। এ ছাড়া কুমিল্লা, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহেও এদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রতিটি গ্রুপে সাতজন থেকে শুরু করে ২০ জন পর্যন্ত সদস্য রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তালিকা অনুযায়ী, রমনা বিভাগে ছয়টি, লালবাগ বিভাগে ১০টি, ওয়ারি বিভাগে ১৩টি, মতিঝিল বিভাগে ১০টি, গুলশান বিভাগে ১১টি এবং উত্তরা বিভাগে ১০টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয়।
পুলিশ ও র্যাবের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গত ২০ মাসে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকেই ৪ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনকে। র্যাব গ্রেপ্তার করেছে ১ হাজার ২০০ জনকে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জন রয়েছেন, যারা বিভিন্ন অপরাধী দলের নেতা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোর তৎপরতা, নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও কিছুতেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে গত দুই বছরে বেপরোয়া হয়ে ওঠা কিশোর গ্যাংগুলো এখনো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয়। সেগুলোর মধ্যে বেশি আলোচনায় আসে কবজিকাটা গ্রুপ। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানুষের কবজি বিচ্ছিন্ন করার ভিডিও দেখে মানুষ আঁতকে ওঠে। গ্রুপের প্রধান আনোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের তৎপরতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এলেক্স ইমন গ্রুপের কর্মকাণ্ড থেমে ছিল না। এই এলাকার কিশোর গ্যাংগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে পাটালি গ্রুপ, বেলচা মনির, ডায়মন্ড, ধাক্কা দে, গ্রুপ টুয়েন্টি ফাইভ, মুরগি গ্রুপ, লাল গ্রুপ, টুন্ডা বাবু, লও ঠেলা, কালা রাসেল, ল্যাংড়া হাসান ইত্যাদি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, মোহাম্মদপুরে সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। তিন রাস্তার মোড়, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, চাঁদ উদ্যান, লাউতলা, নবীনগর হাউজিং, বসিলা চল্লিশ ফিট, কাঁটাসুর, তুরাগ হাউজিং, আক্কাস নগর, ঢাকা উদ্যান নদীর পাড়, চন্দ্রিমা হাউজিং, আদাবর, শেখেরটেক ও মনসুরাবাদ কিংবা রায়েরবাজার- সব জায়গায় একই চিত্র। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়া অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। উঠতি বয়সি কিশোরদের কয়েকটি গ্রুপ প্রকাশ্যেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়াচ্ছে। দিনদুপুরেও পথরোধ, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেক কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিল। কিন্তু পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। মোহাম্মদপুর ছাড়াও মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, শাহজাহানপুর, রামপুরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পুরাতন ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, শ্যামপুর, সূত্রাপুর এলাকার মানুষও কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ।’
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘সক্রিয় কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের শনাক্ত করতে র্যাবের সব ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। পাশাপাশি এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করতেও প্রতিটি ব্যাটালিয়ন সমন্বিত কাজ করছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তার বা রাজনৈতিক স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তরুণদের গঠনমূলক কাজে উৎসাহিত করতে হবে এবং অপরাধের বলয় থেকে বের করে আনতে হবে। কিশোর অপরাধ দমনে রাজনৈতিক মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।’
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘অধিকাংশ কিশোর গ্যাংয়ের মামলা জামিনযোগ্য হওয়ায় দীর্ঘসময় তাদের আটক রাখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষীর অভাবেও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। শিশুদের জন্য পৃথক আদালত গঠন করলে এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব।’
ফ্যাসিস্ট আমলের সার ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের এ-সংক্রান্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতা এ প্রতিশ্রুতি দেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লোর নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সার সরবরাহের জন্য যে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তারা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে। ওই ডিলাররা সার উত্তোলন করছেন না এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদের পক্ষ থেকে আমি সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব—সেই ডিলারদের বাতিল করে নতুন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার জন্য, যাতে ফ্যাসিস্টরা বিচ্ছিন্ন হয় এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পায়।’
এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিলে চাপড় দিয়ে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘পুরো সংসদ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে। সংসদের সম্মতি থাকলে সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
অর্থপাচার ও দুর্নীতির শ্বেতপত্র
এদিকে ফ্যাসিস্ট আমলের অর্থপাচার ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (মুন্সিগঞ্জ-৩) কামরুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, অর্থপাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। বাকি সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।