দেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এক হাজার ১৫৬টি নদ-নদীর খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত পানি ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা নির্ধারণ ও অবহিতকরণ বিষয়ক সেমিনারে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞাসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান জানান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর এই খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটি জমির সিএস ও আরএসের মাধ্যমে হয়েছে।
এই তালিকায় এমন ৩৬৫টি নদীর নাম যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ২০১১ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকাশ করা ৪০৫টি নদী এবং ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রস্তুত করা এক হাজার আটটি নদীর তালিকায় ছিল না।
তিনি জানান, ২০১১ সালে পাউবো কর্তৃক প্রকাশিত ৪০৫টি নদীর তালিকায় থাকা ১৮টি নদী এবং ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রকাশ করা এক হাজার আট নদীর তালিকায় থাকা ২২৪টি নদীর নাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রাখা হয়নি। এই বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হবে।
আগামী পহেলা বৈশাখে নদ-নদীর এই তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, এই খসড়া তালিকা প্রস্তুতের সঙ্গে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জড়িত। আমরা এখানে ভূমি মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করব। আমরা তিনটি মন্ত্রণালয় মিলে একসঙ্গে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এই তালিকা চূড়ান্ত করে আমাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, যে নদীগুলোর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেগুলোর যদি রেকর্ড থাকে তাহলে ডিসিদের বলব, যাচাই করে আমাদের পাঠিয়ে দিতে। নদীর সংখ্যাটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। পহেলা বৈশাখের মধ্যে নদীর সংখ্যার চূড়ান্ত তালিকা দিয়েই আমরা থেমে থাকব না। এরপর পর্যায়ক্রমে নদীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, অবস্থাসহ অন্যান্য তথ্য সেই তালিকায় যুক্ত করা হবে। তালিকায় নদীর অফিশিয়াল নামের পাশাপাশি স্থানীয় নামও থাকবে।
মৃত নদী বলে কিছু নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রবাহহীন নদী বলা যায়, কিন্তু মৃত নদী বলার সুযোগ নেই। মৃত নদী বলেই ডিসিদের কেউ কেউ নদীকে লিজ দিয়ে ফেলেন। প্রবাহহীন নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকে। কিন্তু মৃত ঘোষণা করলে নদীর জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এটা আমরা হতে দেব না।
তিনি আরও বলেন, আমরা হাওর ও বিলের তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছি। এরপরে আমরা খালের তালিকা চূড়ান্ত করব। তিন মাসের মধ্যে ডিসিরা এই তালিকা করবেন।
সেমিনারে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অসম্ভব রকমের নদীদূষণ হচ্ছে। এই দূষণ যে শুধু ব্যবসায়ীরা করছে তা নয়, নদীর ভেতরে অনেক ড্রেজার ও ছোট ছোট জাহাজ ডুবে আছে। এভাবে নদীগুলো মরে যাচ্ছে। এগুলো উদ্ধার করতে হবে। নইলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে চর পড়ে যাবে।
তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ব্যবহার না করে যেসব কারখানার নদীর মধ্যে বর্জ্য ফেলছে, তাদের ড্রেনগুলো পাকা করে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নদী উদ্ধার করার এখনই সময়। অবৈধ বালুমহালগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। শুধু সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা না করে নদীগুলো কী অবস্থায় আছে তা বিবেচনা করতে হবে।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোই সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো রিপোর্টটি না দেখে এর আগে দেওয়া তার একটি বক্তব্য তিনি সংশোধন করতে চান।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আজ তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ (অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া) রিপোর্টটি না পড়েই আমি কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে তিনি সেই প্রতিবেদনের ওপর কেবল চোখ বুলিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ জনের বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয় এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ পরিবার এবং জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয়।
তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’
তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন।
তবে দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।’
তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এ জন্য মনে করি, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।’
‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মো. আলী হোসেন ফকির। আজ বুধবার সকালে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে পৌঁছে তাঁর নতুন পদের কার্যভার বুঝে নেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তার কর্মজীবন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের এক দীর্ঘ চিত্র। বাগেরহাট জেলার এই কৃতি সন্তান তাঁর পেশাদার জীবনে একাধিকবার রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রথমবার চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর হারানো চাকরি ফিরে পান এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে অত্যন্ত সফল ছিলেন।
জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি আবারও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের সময় তাঁকে দীর্ঘদিন গুরুত্বহীন পদে ফেলে রাখা হয় এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে তাঁকে রাজশাহী ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের ধারায় তিনি আবারও আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। প্রথমে এসপি হিসেবে ফিরলেও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন।
নতুন আইজিপি হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকিরের নিয়োগকে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার জন্য বাহিনীর ভেতরে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। সদরদপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে অভিবাদন জানান এবং নতুন পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে বাহিনী আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদটি এক সপ্তাহ শূন্য থাকার পর অবশেষে নতুন অভিভাবক পেল মন্ত্রণালয়টি। বিসিএস অষ্টম ব্যাচের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে নবনির্বাচিত সরকার। গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্বরত নাসিমুল গনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পদটি গত কয়েকদিন ধরে খালি ছিল।
মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর প্রশাসনিক ক্যারিয়ার বেশ বর্ণাঢ্য হলেও তিনি দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি নিয়মিত অবসরে যান। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরিতে গঠিত জাকির আহমেদ খান কমিটির সুপারিশে তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ওই কমিটির বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাঁকে সচিব হিসেবে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করেছিল।
বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতার প্রতি আস্থা রেখে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করল। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যোগ্য আসনে বসানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, মনজুর মোর্শেদের এই নিয়োগ তারই একটি প্রতিফলন। নিয়োগপ্রাপ্তির পর তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক মতবিনিময় করেছেন এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গুরুত্বারোপ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
পিলখানা সদরদপ্তরে সংগঠিত নৃশংস সেনা হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর পূর্তিতে আজ বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা এই শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় শোকের এই আবহে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পিলখানা ট্র্যাজেডি বা জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নাগরিক হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা সবার উপলব্ধিতে থাকা একান্ত জরুরি। বর্তমানের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের পেছনের ষড়যন্ত্র এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সেই সময়ে নানামুখী মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি গভীর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি মনে করেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের মান-মর্যাদা, বীরত্ব এবং গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সেই শপথে দেশবাসীকে নতুন করে বলীয়ান হতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে। এই শোকাবহ দিনটি আমাদের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের নতুন এক শপথের কথা মনে করিয়ে দেয়।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আবারও শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ বুধবার সাতসকালেই ঢাকার বাতাস অত্যন্ত দূষিত অবস্থায় রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মেগাসিটি ঢাকা এই দূষণের কবলে থাকলেও আজকের স্কোর জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম সূচকে দেখা যায়, বুধবার সকালে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ২৯৪, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের তীব্র প্রতিযোগিতা আজ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ঢাকার পরপরই ২৪৪ স্কোর নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি বৈশ্বিক তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ২২০-এর বেশি স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর তৃতীয় এবং ১৮০ স্কোর নিয়ে করাচি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৭৩। ঢাকা ও দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনজীবনের ওপর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বায়ুমান সূচক বা একিউআই (AQI) অনুযায়ী, বাতাসের মানের বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত স্কোর শূন্য থেকে ৫০ থাকলে সেই বাতাসকে ‘ভালো’ বলা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ এর ঠিক নিচে অবস্থান করায় তা নগরবাসীর জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই বিষাক্ত বাতাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে ঢাকার বাতাস এই ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ায় ধূলিকণা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকায় দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঢাকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই নগর পরিকল্পনা ও কঠোর পরিবেশ আইনের প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় দীর্ঘস্থায়ী দূষণ নগরবাসীর গড় আয়ু কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
আজ পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে সংঘটিত হয় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এই নৃশংস ঘটনায় তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ও মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকে দিনটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
পিলখানায় সেদিন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার পর অত্যন্ত অমানবিক কায়দায় তাঁদের লাশ গুম এবং পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও করা হয়েছিল অবর্ণনীয় নির্যাতন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই নারকীয় ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর প্রথম বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ফলে দেশের সুরক্ষা কবচ হিসেবে পরিচিত সেনাবাহিনী তাদের অনেক যোগ্য ও মেধাবী সদস্যকে হারায়। এই ঘটনা সমগ্র সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল এবং জাতীয় নিরাপত্তায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিলখানার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিবসটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন করা শুরু হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও একটি বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নাগরিকদের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেজন্য সমগ্র দেশবাসীকে নতুন করে শপথে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিবসটি পালনে রাজধানীসহ দেশব্যাপী সেনাবাহিনী ও বিজিবির পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা শহরে মশার তীব্র উপদ্রব জনজীবন বিপর্যস্ত করছে। শহরের ঘরবাড়ি, রোড ও আবাসিক এলাকার প্রতিটি জায়গায় মশার ঘনত্ব বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। পদক্ষেপ না নিলে মার্চে আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বরে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কাঠামো নড়বড়ে থাকায় মশক নিধন কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্থবির হয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকার এসব কর্মসূচি গতিশীল করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ বাস্তবতা অনুধাবন করেই এরই মধ্যে নতুন নির্বাচিত সরকার ছয় সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে মশা নিধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নাগরিক সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণসহ ছয়টি সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার পরিমাণ ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে। গবেষণায় আরও জানা যায়, এক ঘণ্টায় কামড়াতে আসা মশার সংখ্যা এক মাসে বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি মশা কামড়াতে এলেই সেটি বিশ্বমান অনুযায়ী, বেশ ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। সেখানে বাংলাদেশে এই সংখ্যা ৮৫০।
গবেষকদের মতে, এ বছর মশার প্রকোপ বাড়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, শীতের তীব্রতা কম ছিল এবং স্বাভাবিক সময়ের আগেই শীত বিদায় নেওয়ায় মশার বংশবিস্তার দ্রুত শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তৃতীয়ত, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তদারকি ও সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে- শুধু ওষুধ ছিটিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কার্যকর ড্রেনেজ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। বিভিন্ন খাল-নালায় জমে থাকা নোংরা পানি মশার প্রজনন বাড়াচ্ছে। একটি খাল পরিষ্কার করলে অন্যটি আবার নোংরা হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফগিং বা ধোঁয়া ছিটানো পূর্ণবয়স্ক মশা কমাতে কিছুটা কার্যকর হলেও লার্ভা ধ্বংস হচ্ছে না।
করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগ পর্যন্ত মশক নিধন কার্যক্রম ঠিকমতোই চলছিল। তবে তার পর থেকে মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় এই কার্যক্রম স্থবির পড়ে। এখন যারা মশার ওষুধ ছিটান, তাদের তেমন কোনো জবাবদিহি নেই। ফলে মশাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা শিল্পী আক্তার বলেন, ‘আগে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন কার্যক্রম তদারকি করতেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। তবে গত ৫ আগস্টের পর সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় এখন মশার উপদ্রব নিয়ে কারও কোনো জবাবদিহি নেই।’
বাড্ডায় বসবাসকারী জুনায়েদ বলেন, ‘আগে মশারি ছাড়া ঘুমাতে পারতাম। কিন্তু এখন স্প্রে করেও মশার দূর করা যাচ্ছে না। মশা নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখছি না। মশানিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ।’
শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা পারভিন তালুকদার বলেন, ‘আগে সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণা বেশি থাকত। এখন দিনভরই মশার উপদ্রব। বাসার দরজা-জানালা খোলা রাখার সুযোগ নেই।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফগিং নয়, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্মীয়মাণ ভবন ও ছাদে জমে থাকা পানির নজরদারি এবং সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীতে মশার ভয়াবহ বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিনই থেকে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ, দুর্বল তদারকি এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি অব্যাহত থাকলে মার্চে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মশক নিধন, বনায়ন এবং পরিচ্ছন্ন সিটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। নবনিযুক্ত ছয় সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল জানিয়েছেন, মশার উপদ্রব কমাতে সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে।
তিনি জানান, মশা নিধনের ওষুধ কার্যকর হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বুধবার সিটি করপোরেশনের দুটি ডিপো পরিদর্শন করবেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে এ কার্ড দেওয়া হবে। এর আওতায় প্রতি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেসমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাছাই করা ১৪টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি ইউনিয়ন ও একটি ওয়ার্ডে ‘ইউনিভার্সেল ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে আগামী ১০ মার্চ এ কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা এই কার্ডের সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য রাখা হবে না। এটি হবে সম্পূর্ণ ‘ইউনিভার্সেল’ কার্ড ব্যবস্থা। এ বিষয়ের সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে চার মাস পাইলটিং কার্যক্রম চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর ধাপে ধাপে প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আছে। প্রথমে একটি ওয়ার্ড, পরে একটি ইউনিয়ন এবং পরবর্তী সময়ে আরও এলাকা এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এভাবেই সারা বাংলাদেশ এটার সেবা পাবে এবং সুবিধাভোগী হবে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক), সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আলাদা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একনেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে থাকবেন।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, স্বাস্থমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল, নৌপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সংশ্লিষ্ট এজেন্ডাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরাও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সরকারি কাজে ৫০ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের প্রকল্প একনেকে অনুমোদন নিতে হয়।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই কমিটির সদস্য।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট এজেন্ডাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
উচ্চমূল্যের সরকারি ক্রয় প্রস্তাব পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সরকারের আর্থিক বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকার বেশি এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকার বেশি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য এ কমিটিতে উপস্থাপন করতে হয়।
অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতেও আহ্বায়ক হিসেবে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং আইন মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই কমিটির সদস্য।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট এজেন্ডাভুক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক নীতি বিষয়াদি পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এ কমিটি।
বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশের রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ উদ্যোগের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হবেন, মালিকানা বা অংশীদারত্বের ধরন কেমন হবে, সে বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বিএনপির একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রুগ্ন ও বন্ধ পাটকল ও চিনিকলগুলো খুলে দিয়ে সেখানে পুরাতন শ্রমিকদের বহাল রেখে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, ওই সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৯৭টি।
এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ন/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি, বিএসএফআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন ছয়টি চিনিকল এবং বিএসইসির চারটি কারখানা রয়েছে। এরপর গত দুই বছরে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। তবে, হালনাগাদ কোনো পরিসংখ্যান সরকারের তরফে প্রকাশ করা হয়নি। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কর্মসংস্থান তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলেছেন। এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ শুরু করছে।’
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন জনতার অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তিনি মানবিক মূল্যবোধ ও দৃঢ়তা দিয়ে এ স্থান অর্জন করেছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারিক চয়ন সম্পাদিত ২০১৩ সালে লেখা ১৯টি প্রবন্ধের সংকলন ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ বইয়ের পাঠ উন্মোচন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবিসংবাদিত শব্দটি কোনো চিরকালীন শব্দ নয়; এটি কর্মের মাধ্যমে অর্জন করতে হয় এবং রক্ষা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তা প্রমাণ করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার হিসেবে তিনি পারিবারিক পর্যায় থেকেই এ মানবিক গুণাবলি ও মূল্যবোধ অর্জন করেছেন।’
স্বপন আরও বলেন, একজন রক্ত-মাংসের মানুষের পক্ষে এত চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে টিকে থাকা কেবল তার ব্যক্তিগত দৃঢ়তা ও মানবিক গুণাবলীর কারণেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমান তার সেই মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে জনআস্থা বজায় রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইউসুফ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ। এ সময় বক্তব্য দেন বইটির সম্পাদক তারিক চয়ন।
‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ শীর্ষক সংকলনটিতে দেশের ১৯ গুণী শিক্ষক, লেখক, চিন্তক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধার লেখা স্থান পেয়েছে। বইটিতে প্রধানমন্ত্রীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, তার দর্শন, আদর্শ, স্বপ্ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অনন্যা প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করেন মনিরুল হক।
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদের স্মৃতিতে আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধনের প্রাক্কালে মেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য- বহুমাত্রিক বাংলাদেশ। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বংলাদেশ বিনির্মাণে বই এবং বইমেলা সহায়ক। আমরা আশা করি সকল সম্ভাবনায় আলোকিত হবে এবারের মেলা- আমাদের প্রাণের বইমেলা।
সদস্য সচিব বলেন, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১০১৮টি (গত বছর প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং হয়নিট ছিল ১০৮৪টি)
লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের অবস্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।
এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে তবে কিছু অঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল। টেশন-এর অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির-পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট ৪টি প্রবেশ ও বাহির-পথ থাকবে।
খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা-ঘেঁষে বিন্যস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, খাবারের স্টলগুলোকে এবার বিশেষভাবে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের সুব্যবস্থা থাকবে।
শিশুচত্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝে রাখা হয়েছে, যেন শিশুরা অবাধে বিচরণ করতে পারে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে।
বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে। বংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য স্টল থাকবে মেলার দুই আশেই।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে পর্যন্ত ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (সমা মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মজ্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চাঁনখারপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধূলিবালি-নিবারক পানি ছিটানো এবং নিয়মিত মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার' এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
এবারের বইমেলায় প্রবর্তন হচ্ছে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার' শিরোনামে একটি নতুন পুরস্কার। মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সকল প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম/২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে।
বইমেলার সময়সূচি:
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
মেলা হবে পলিথিনমুক্ত:
এবারের অমর একুশে বইমেলার আয়োজনকে পরিবেশ-সুরক্ষা সচেতন এবং জিরো ওয়েস্ট বইমেলায় পরিণত করার। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে আয়োজনস্থল ও পাশ্ববর্তী এলাকায় স্থাপিতব্য সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুতে পুনঃব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ, যেমন পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা প্রত্যাশিত।
তিনি আরো বলেন, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসাবে থাকছেন বর্তমান বাংলা লিমিটেড।
মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ উপদেষ্টার মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (মির্জা আব্বাস), নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; জাহেদ উর রহমানকে পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি; মাহ্দী আমিনকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দায়িত্ব বণ্টন করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই ১০ জনকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।