রাজনৈতিক পালাবদলের পর ব্যাংক খাতে সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার শেষে কোটি টাকার বেশি ডিপোজিট থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ও ডিপোজিটের পরিমাণ কমে এসেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে কোটি টাকার বেশি ডিপোজিট থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমেছে এক হাজার ৬৫৭টি। একইসঙ্গে এসব অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট কমেছে ২৬ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন বলছে, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার অ্যাকাউন্টে। জুন প্রান্তিক শেষে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল এক লাখ ১৯ হাজার।
অবশ্য জুন প্রান্তিকে ব্যাংকে কোটিপতির অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছিল প্রায় তিন হাজারের মত। মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ১৬ হাজার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন প্রান্তিক শেষে কোটি টাকার ওপর এসব অ্যাকাউন্টে আমানতের পরিমাণ ছিল সাত লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা যেটি সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকায়।
কোটি টাকার অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কেন কমছে জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদুর রহমান বলেন, আগস্টে ক্ষমতার পালাবদলের পর অনেকেই তাদের অ্যাকাউন্টের টাকা তুলে নিয়েছে। কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট কমার এটি একটি বড় কারণ। এছাড়া ইনফ্লেশনের চাপ থাকায় পারিবারিক খরচ ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এসব কারণে প্রাতিষ্ঠানিক কোটি টাকার একাউন্টেও টাকা কমতে পারে।
ব্যাংকের প্রতি আস্থাহীনতা কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট কমার একটি কারণ মন্তব্য করে এ ব্যাংকার বলেন, গত কয়েকমাস ধরে ব্যাংক খাত নিয়ে গ্রাহকেরা কিছুটা আস্থাহীনতার মধ্যে আছেন। আমরা সেগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তবে এ ধারাবাহিকতায় ডিপোজিট কিছুটা কমতে পারে বড় একাউন্টগুলোতে। একইসঙ্গে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে ভালো রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বড় বড় ব্যাংক ডিপোজিটররা সেদিকে ঝুঁকছেন, ফলে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট কমছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ বলছে, একক ব্যক্তিদের পাশাপাশি কর্পোরেট কোটি টাকার বেশি ডিপোজিট থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমে এসেছে।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকখাতে একক ব্যক্তি কোটিপতিদের অ্যাকাউন্ট সংখ্যা কমেছে ৬২০টি। এছাড়া এসব অ্যাকাউন্টে ডিপোজিটের পরিমাণ কমেছে আট হাজার ৯২৩ কোটি টাকা।
একক ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট হিসাবে চলতি বছর সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোটিপতিদের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৬১টিতে। জুন প্রান্তিক শেষে এসব অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩৪ হাজার ৪৮১টি।
সেপ্টেম্বর শেষে এসব অ্যাকাউন্টে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। জুন শেষে ডিপোজিটের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা।
৫ আগস্টে সরকার পতনের পর অন্যান্য খাতের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতেও সংস্কার শুরু হয়। কয়েকটি ব্যাংক বন্ধ হওয়ে যাওয়ার গুজবে ব্যাংকখাত থেকে আমানত তুলে নেয় গ্রাহকরা। বিশেষ করে এই গুজবের প্রভাব পড়ে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকগুলোর ওপর। তাছাড়া প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকাররা।
বাংলাদেশের অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ বেশ কয়েকটি বড় বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজ সভায় দীর্ঘ বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা মোটেও সঠিক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত সাধারণত স্বল্পমেয়াদি হলেও তারা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণ করছে। অথচ বড় বিনিয়োগের অর্থায়ন হওয়া উচিত পুঁজিবাজারের মাধ্যমে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আর্থিক কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ব্যাংকঋণনির্ভর ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে আছে। এ কারণে সরকার বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থায়নের কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বাইরেও নতুন অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আমীর খসরু বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশ বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য ব্যবহার করছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। এখন সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বন্ডের সুদের হার ব্যাংকঋণের সুদের হারের তুলনায় কম। এ ছাড়া ইকুইটিভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগও রয়েছে। ফলে অর্থায়নের ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।’
পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে পরিবর্তন এবং পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধিবিধানে সংস্কারের ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের কাছ থেকে সরকার ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। শুধু এক বা দুজন নন, বেশ কয়েকজন বড় ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ ব্যাংকও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
তবে অর্থমন্ত্রী মনে করেন, দেশের বাজার মূলধন এখনো অনেক ছোট। তাই আরও বেশি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
ব্যাংক খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থিক খাত, বিশেষ করে অনেক ব্যাংক বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। এসব ব্যাংকে মারাত্মক মূলধন ঘাটতি রয়েছে। অর্থপাচার এবং উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ তুলতে পারছেন না। আবার অনেক ব্যবসায়ী কার্যকর মূলধন, ঋণপত্র খোলা এবং অন্যান্য অর্থায়নসংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন। ফলে ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সরকারি সহায়তা, উদ্ধার তহবিল এবং অন্যান্য পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কর ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, ব্যবসায়ীদের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো করব্যবস্থার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি ও দুর্নীতি। এসব সমস্যা দূর করে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত শুধু বিশ্বের তুলনায় নয়, আঞ্চলিক মানদণ্ডেও অনেক কম। এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি অংশে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি অংশ নীতিনির্ধারণ করবে, অন্যটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে একই ব্যক্তিরা করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে দেওয়া হবে, যাতে নীতিনির্ধারণের সময় ব্যবসা, করদাতা, রাজস্ব আহরণ এবং ভোগব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া যায়।’
তিনি আরও জানান, পুরো করব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে, তারপরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি কার্যকর হলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে কর ফেরত পাওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে এবং দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশন নীতির কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দেশে অতিনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই একটি ওয়েবসাইট চালু করা হবে, যেখানে ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের বাধার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিদিন এসব অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করবে।’
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকারের নতুন নীতির কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের বাইরে যেসব উদ্যোক্তা রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের সবাইকে শুল্কমুক্ত বন্ডেড লাইসেন্স দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন কোনো রপ্তানিপণ্য নিয়ে কেউ এগিয়ে এলে তিনি বন্ডেড গুদাম সুবিধা, করমুক্ত সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের সুবিধা পাবেন। আর যারা বন্ডেড গুদাম ব্যবহার করতে চান না, তারা ব্যাংক গ্যারান্টির আওতায় একই ধরনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।’
বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সমস্যার কথাও এ সময় তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির অগ্রগতি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে এসব সমস্যার পুরোপুরি সমাধান খুব দ্রুত সম্ভব নয়।’
তিনি জানান, গ্যাস খাতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, স্থলভিত্তিক সংরক্ষণব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়লেও সঞ্চালনব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমীর খসরু বলেন, ‘সরকার একটি সমন্বিত জ্বালানি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। সেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক জ্বালানির মধ্যে সমন্বয় থাকবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে শক্তিশালী ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শক্তিশালী ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, এমন দাবি সরকার করছে না। তবে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে সরকার সবসময় আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান প্রমুখ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি; বরং শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রোববার দুপুর ১টায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করতে হবে। কোনো শিশু যেন অর্থের অভাবে বিদ্যালয়ে যেতে না পারে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় পাটজাত পণ্যের ব্যবহারও বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ দেশের পাটশিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।’
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোট ও সমর্থনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
আগামীদিনের বাংলাদেশ শিক্ষা, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতন, দক্ষ ও মানবিক নতুন প্রজন্মই দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
অনুষ্ঠানে সালথা উপজেলার আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নতুন পোশাক, ব্যাগ ও জুতা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব আজাদ জনি, সালথা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিন কুমার চাকী, সালথা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মহা. তাশেম উদ্দিন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, সালথা উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, এনায়েত হোসেন ও কামরুল ইসলামসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রশ্ন অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, আমাদের প্রচলিত সংবিধান অনুযায়ী আমাকে পথ চলতে হবে। সেই সংবিধানে যেখানে বাধা আছে, সেই বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাকে সংসদ থেকে সংশোধন করতে হবে। এর বাইরে না। রাস্তাঘাটে বলে লাভ নেই।
রোববার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর ইসি ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বড় অন্তরায় ৭০ অনুচ্ছেদ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটা পরের চ্যাপ্টার। সংসদ যদি বিবেচনা করে সবাই মিলে, এটা হতে পারে। এখন এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন সৃষ্টি করার মতো।’
তিনি বলেন, ‘এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এই প্রশ্নটা অবান্তর এবং কনফিউশন সৃষ্টি করার মতো।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ও সমর্থনকারী ছিলাম আমি। আপনাদেরকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বৈধ ঘোষিত হয়েছেন। এখন আমরা অপেক্ষায় থাকব ২০ আগস্ট ভোটের জন্য।’ রাজনৈতিক দল সংবাদ
এ সময় ইসি ভবনে বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?’ শীর্ষক সিপিডির সংলাপে এই সুপারিশ করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের দিকে এগোনোর মতো সময় হাতে নেই। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।
রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়?’ শীর্ষক সিপিডির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে দেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট চলছে। প্রতিদিন শিল্প উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিচ্ছে। এর বড় কারণ দেশের অধিকাংশ জ্বালানি অবকাঠামো গ্যাসনির্ভর। এর পাশাপাশি ডিজেলের ওপরও ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে গ্যাস সরবরাহ করা হওয়ায় শিল্প-কারখানাগুলোও গ্যাসনির্ভর হয়ে পড়ে। পোশাক কারখানার বয়লার, সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে।
‘কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। গ্যাসের মজুত শেষের দিকে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও প্রত্যাশিত গতিতে শুরু হয়নি। ফলে সবাই বিকল্প হিসেবে দ্রুত এলএনজির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু এলএনজি বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এখনই বিকল্প জ্বালানিনির্ভর শিল্প ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে পূরণ করা, গ্যাসচালিত বয়লারের বিকল্প খোঁজা এবং পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
কৃষি খাতেও ডিজেলের পরিবর্তে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, সোলারভিত্তিক সেচ ব্যবস্থায় যেতে হবে। এসব সমাধানের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই বলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, ‘এখন একদিকে ফায়ার ফাইটিংয়ের সময়। প্রতিদিন অপেক্ষা করার বা ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো সমাধান হবে এমন পরিস্থিতি আর নেই।’
তিনি বলেন, সরকারের এখনই জ্বালানি খাতের জন্য একটি জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করা দরকার। এই টিম জরুরি ভিত্তিতে সমস্যাগুলোর সমাধান বাস্তবায়নে কাজ করবে। স্বাভাবিক প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় টেন্ডারসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। তাই নিয়ম মেনে কীভাবে এসব প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রসঙ্গে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর কাছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডেরও কার্বন নিঃসরণ কমানোর নিজস্ব লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারেরও কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ পোশাক খাত থেকেই শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের পোশাক খাত অতীতে বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং বর্তমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নতুন সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এই খাতের রয়েছে।
সংলাপে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বিজিএমইএর সহসভাপতি ব্যারিস্টার বিদ্যা অমৃত খান, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান। রোববার রংপুর অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কৃষি সচিব এসব কথা জানান।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম এনডিসি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমসহ রংপুর বিভাগের সার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ।
মতবিনিময় সভায় কৃষি সচিব বলেন, দেশের কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কৃষক যাতে হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সারে ভর্তুকি প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বাড়ানো এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
কৃষি সচিব কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ করতে হবে। অতিরিক্ত সার ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সারের বাজারে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে কৃষি সচিব বলেন, কোনো অসাধু সার ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুদ বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না।
তিনি কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। কৃষকদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় রংপুর অঞ্চলের সার সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের সারপ্রাপ্তির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে কৃষি সচিবকে অবহিত করেন।
পরে কৃষি সচিব রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামের কৃষক অহিদুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি বেসড ভার্মিকম্পোস্ট খামার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খামারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন।
ফল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে মার্জিন সংরক্ষণের শর্ত তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন এ ধরনের পণ্যে এলসি খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হতো। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বিলাসী পণ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এতদিন ফল আমদানির জন্য এলসি খুলতে ১০০ শতাংশ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হতো। তবে জনসাধারণ বিশেষ করে শিশু, রোগী, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়ের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় ফল অপরিহার্য খাদ্য উপাদান। তাই জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের বিষয়টি বিবেচনা করে ফল আমদানিতে শতভাগ মার্জিন সংরক্ষণের শর্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শতভাগ মার্জিনের পরিবর্তে ব্যাংকগুলো ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ হার নির্ধারণ করতে পারবে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্দেশনার ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এতে পণ্যটির সরবরাহ বাড়লে কমবে দাম।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, এই প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়াটি কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে না। এটি পুরোপুরি আদালতের আইনি বিচারালয়ে নিষ্পত্তি হবে, যেখানে খতিয়ে দেখা হবে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য কি না।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় যা খতিয়ে দেখা হবে তা হলো যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের প্রচলিত আইনি কাঠামোতেও অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ কি না।’
অপরদিকে আরেক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা নিজেও আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, তাই আমি ডিসেম্বরেই ফিরে যেতে চাই।’
শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘আমরা আমাদের নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। এ সংক্রান্ত নতুন কোনো তথ্য থাকলে পরবর্তীতে জানানো হবে।’
একই সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র যুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের বরাতে আরও উল্লেখ করা হয়, দিল্লিতে সুরক্ষিত স্থানে (সেফ হাউস) অবস্থান করে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শেখ হাসিনা। সরাসরি বৈঠকের পাশাপাশি তিনি নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলছেন।
তবে ভারতের আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তা আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা করছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদের যুক্তি হতে পারে ওই রায়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে দেওয়া হয়েছিল, যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
আইনি বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে।
যদিও চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ অপরাধ হস্তান্তরের আওতামুক্ত, তবে হত্যা, নরহত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো ১২টি গুরুতর অপরাধ এর ব্যতিক্রম। পুরো বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা (সিপিভি) বিভাগ এবং আদালতের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করে দেখবেন।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে এবং সরকার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যেকোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।
বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে কিছু সমস্যা আছে, এটাও আমরা চেষ্টা করছি। আপনারা লক্ষ করছেন, কিছু জ্বালানি এবং বিদ্যুতের কারণে হয়তো প্রোডাকশন চেইন একটু ডিস্টার্ব (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
স্বাধীনতা পরে বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন পর্যন্ত মোট আটবার পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ পে স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গত ১৭ বছরে যতগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সব হত্যার বিচার করা হবে। দেশে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।
রোববার বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির আধুনিক দশতলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১/১১-এর সময় বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল, দেশ ছেড়ে গেলে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে এবং রাজনীতি করতে হবে না। এমনকি তার দুই সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি। অন্যদিকে আরেক নেত্রী দেশের কথা না ভেবে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিদেশে চলে গেছেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিককে এসব কার্ডের আওতায় আনা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর জন্য ঢাকায় ২৮টি গাড়ির পরিবর্তে ৪টি গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন যানজট কমেছে, অন্যদিকে কমেছে সরকারি ব্যয়। প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি ১০০ টাকার বেশি মূল্যের খাবার গ্রহণ করেন না- এমন উদাহরণ দিয়ে তিনি সরকারের ব্যয় সংযম ও সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।’
তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিগত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একসময় ‘লাল টেলিফোনের’ মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল। সেই সংস্কৃতি দূর করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
মতবিনিময়কালে আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন, মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে। তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।’
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।’
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।’
এর আগে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরোয়ার।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন।
লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।
গত ৩ আগস্ট রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।
এভাবে টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি। এ সময় আমাদের উদ্ধার করতে দালালের লোকজন কিংবা অন্য কোনো সংস্থা এগিয়ে আসেনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। খাবার ও পানির অভাবে চোখের সামনেই নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দুজন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।
এ বিষয়ে মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শরিফ এবং স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের বাদরান নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে দূতাবাসের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ দূতাবাসকে জানিয়েছে, তারা মোট ৩০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
দূতাবাস আরও জানায়, হাসপাতালে ভর্তি আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। আহত বাংলাদেশি নাগরিকরা সুস্থ হয়ে উঠলে মিশরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটক বাংলাদেশিদের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
দেশজুড়ে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে মোট প্রাণহানি ৭০ জনে দাঁড়াল। অন্যদিকে গত একদিনে নতুন করে ৮০৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া তিনজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি (৪১৭ জন) ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে ৯৭ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২, বরিশাল বিভাগে ৮০, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫, রাজশাহী বিভাগে ৫৫, রংপুর বিভাগে ৭ এবং সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু নিয়ে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে রোববার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ৩৩ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ১৫ জন ছাড়াও বরিশাল বিভাগে ৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ জন এবং রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুতে একজন করে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (গত শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৮০টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২১।
রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৮০৯টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৯টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৯০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, ৯৬৩টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৭, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৮০। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৭ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অভিনব এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। লটারির মাধ্যমে অধিদপ্তরের আরও ৪০৯ জন প্রকৌশলীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। আজ রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত পূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে এই লটারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবরণ অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে ১৫২ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ৬৭ জন সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম), ১৩৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এবং ৫৫ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে (ই/এম) নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে, যার সংখ্যা সহকারী প্রকৌশলী পর্যায়ে ১০০ এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পর্যায়ে ৭৯ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কার্যালয়ে আনুপাতিক হারে প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা ব্যক্তিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে পদায়ন নিশ্চিত করতেই এই লটারি পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে। লটারি কার্যক্রম চলাকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলমসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এর আগেও জুলাই ও আগস্ট মাসের শুরুর দিকে একইভাবে কয়েক দফায় সহস্রাধিক উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছিল।