বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

বাদ পড়ছে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রকল্প

বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা
আপডেটেড
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩০

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ দেওয়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা ছেঁটে ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেকের সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় অনুযায়ী ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।

একনেক সভা শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় উন্নয়ন বাজেট ছোট হবে।’

চলতি অর্থবছরের চার মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিম্ন বাস্তবায়ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১২-১৩ শতাংশ।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম একনেক সভায় উন্নয়ন বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গৃহীত অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যয়ের তুলনায় ভালো ফল বয়ে আনবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়নি এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে। তাই আমরা সেগুলো বাদ দিয়েছি। সাধারণত সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়, এবার অনুপাতটা বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত।

‘তবে এবার বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী থাকবে’ বলে জানান তিনি।

এ কারণে চলমান প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঋণদাতাদের ঋণ দেওয়ার সময় কিছু শর্ত থাকে, তাদের বোঝানোর পর সংশোধন করা হয়।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অনেক চলমান প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সচল রাখতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।

একনেক ব্রিফিংয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মন্ত্রণালয়গুলো স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, তাই নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে সেই প্রস্তুতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প বাদ দিয়ে উদ্ভাবনী ও নতুন ধরনের প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি ব্যয়ের বিপরীতে একাধিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।

তারা বলেছেন, নতুন ধরনের এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে।

এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (বরাদ্দের ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত।

এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।

২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে।

নতুন এডিপিতে ১ হাজার ১৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২১টি সমীক্ষা প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ৮০টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সে হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি নিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ ১০ খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ) পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ), আবাসন খাতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা ২০ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন খাত ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি খাত ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৫ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১ দশমিক ২৫ শতাংশ)।

শীর্ষ ১০ খাতের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা (মোট এডিপির ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ)।

২০২৫-২২ অর্থবছরের নতুন এডিপি অনুযায়ী, বরাদ্দ গ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৮ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৮ শতাংশ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা(৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৪০ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা (৪ দশমিক ০১ শতাংশ) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ)।

১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ।

সূত্র: ইউএনবি


মনোনীত হয়েও কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার ‘সাময়িকভাবে স্থগিত’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫–এ মনোনীত হওয়ার পরও পুরস্কার পাননি কবি মোহন রায়হান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি।

এদিন দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

গত সোমবার বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কবিতা বিভাগে মোহন রায়হানের মনোনীত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাকে এ পুরস্করের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’

কী ধরনের অভিযোগ, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। তাই তাকে আপাতত পুরস্কার দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখছি। সেগুলো বিবেচনার পর নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। একটু অপেক্ষা করতে হবে।’

ফেসবুক পোস্টে মোহন রায়হান লেখেন, ‘আপনারা অবগত আছেন এবার ২০২৫ বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার (কবিতায়) আমাকে প্রদান করা হয়েছিল। এই পুরস্কার আমার একদমই প্রত্যাশা ছিল না। আমি একজনের কাছেও পুরস্কারের জন্য তদবির করিনি। পুরস্কার কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাকে নির্বাচিত করে।’

৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডেকে এসএসএফ পুরস্কার গ্রহণের রিহার্সালও প্রদান করে। যথারীতি আজ পুরস্কার গ্রহণের জন্য এসে জানতে পারলাম, ৪১ বছর আগে কর্নেল তাহেরকে নিয়ে লেখা আমার ‘তাহেরের স্বপ্ন’ কবিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিয়ে একটি মহল আমার পুরস্কার বাতিল করিয়েছে।’

পুরস্কার ঘোষণা করে না দেওয়ার বিষয়টি অসম্মান কি না, জানতে চাইলে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মনোনয়ন আমরা দিই না। এটা বাংলা একাডেমি দেয়। আমরা এখন শুধু অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি। এটা সাময়িক সমস্যা। দু-এক দিনের মধ্যেই পুরস্কার ঘোষণা করা হতে পারে।’

বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানকে পুরস্কার না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘মোহন রায়হানের কবিতা ও লেখালেখি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ ওঠায় কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার স্বার্থে সাময়িকভাবে পুরস্কার স্থগিত করেছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে গেলে আমরা অবিলম্বে এটা জানাবো।’


সরকারি কর্মকর্তারা অফিসে দেরিতে এলে কঠোর ব্যবস্থা: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

সচিব বলেন, যারা সময়মতো অফিসে আসবেন না, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সময়নিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টার আগেই অফিসে পৌঁছান। জনদুর্ভোগ কমাতে এবং যানজট এড়াতে অনেক সময় তিনি প্রটোকল ছাড়াই খুব ভোরে সচিবালয়ে আসেন। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে সময় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়েছে এবং ইতিবাচক চাপও তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত অফিস করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নাসিমুল গনি বলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অফিস রয়েছে। তিনি চাইলে যে কোনো দিন সেখানে অফিস করতে পারেন, এটি পুরোপুরি তার সিদ্ধান্ত।

প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সময় হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রতি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।


বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে লাভবান করার চেষ্টা করছে সরকার: জ্বালানিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে কীভাবে লাভবান করা যায়, সে চেষ্টা করছে সরকার। জনগণের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে রাখা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, তিনি একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার ভাষায়, রাতারাতি সব ঠিক করা সম্ভব নয়। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে।

সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার আড়ালে জনগণের ওপর বড় অঙ্কের ঋণের দায় রেখে যাওয়া হয়েছে। “হয়তো বলবেন, আমার সময় ব্ল্যাকআউট ছিল, এখন আলো জ্বলছে। কিন্তু এই আলোর পেছনে জনগণের ওপর ঋণের পাহাড় রেখে যাওয়া হয়েছে,” বলেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, কষ্ট করে থাকা ভালো, কিন্তু ঋণের বোঝা টেনে নেওয়া ঠিক নয়।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে টুকু দাবি করেন, একাধিক তদন্ত বা কমিশন হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার চরিত্র হনন করা হয়েছে এবং ভুল প্রতিবেদনের কারণে তার পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে।

জ্বালানি খাতের আর্থিক সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বড় অঙ্কের ঋণের দায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। সরকারের লক্ষ্য, এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা যাতে রাষ্ট্র ঋণের ঝুঁকি কমায় এবং সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।

তিনি আরও জানান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জ্বালানি খাতের প্রতিটি স্তরে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে।


গণভোটের ফল সংশোধন, নতুন হিসাবে ভোট কমল প্রায় ১১ লাখ

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংবিধান সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন। পূর্বে ঘোষিত ফলের তুলনায় প্রায় ১১ লাখ ভোট কমিয়ে নতুন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত অতিরিক্ত গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়।

সংশোধিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর বিষয়ে জনসম্মতি যাচাই করতে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি ফলাফল গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রথম ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬। মোট প্রদত্ত ভোট দাঁড়িয়েছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। বাতিল ভোট বাদে বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬।

সংশোধিত গেজেটে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট কমে হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। ফলে মোট প্রদত্ত ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। বাতিল ভোট বেড়ে হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬। বৈধ ভোট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।

তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫। মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। একই সময়ে বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি।

সংশোধনের সুনির্দিষ্ট কারণ গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গণভোটের মাধ্যমেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসমর্থন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।


শিগগির এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: মুহিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাচার হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সামাজিক আন্দোলনের মতো সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ জেলা সিরাজগঞ্জে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ খাতে বাজেট বৃদ্ধিসহ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে শীঘ্রই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির সরবরাহ বাড়ানোসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথাও অবৈধ স্থাপনা বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের মতো সমস্যা রয়েছে। এসব সমাধানে শুধু কেন্দ্রীয় নির্দেশনা যথেষ্ট নয়, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এর আগে সকালে সিরাজগঞ্জ সার্কিট হাউসে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। পরে দুপুর ১২টায় জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।


জাতীয় ভোটার দিবসের সব কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশ ইসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২ মার্চ অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপনের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালকবৃন্দ শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান ও ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী।

শুরুতে বিজিএমইএ সভাপতি ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বোর্ড ও পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেও একজন অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো তিনি ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়-

বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় পদ্ধতি সহজ করা: বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে (বর্তমানে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের বিধান রয়েছে) আবেদন জমার সঙ্গে সঙ্গেই যেন অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস দেন।

পুনঃতফসিলীকরণ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল: বৈঠকে বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী টেকনিক্যাল বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না।

ফলে কারখানা সচল হতে পারে না এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি একে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পেলে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবটির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

ব্যবসা সহজ করা ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় হ্রাস: বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজ করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।

অর্থমন্ত্রী ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো সমাধানের কার্যকর উপায় সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা বা তালিকা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতাদের নির্দেশ দেন। বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা সরকারের কাছে পেশ করবেন।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।


শিগগিরই পুলিশের ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তিনি আরও জানান, সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠনের জন্য ইতোমধ্যে পত্র জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।


১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্ব বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মোট দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে যেসব কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সেই পুরো অর্থই মওকুফ করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সুবিধার আওতায় মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষকদের পাওনা সুদসহ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই মওকুফের আওতায় পড়বে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে উৎপাদন কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকেরা নতুন মৌসুমে আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁদের ঋণমান উন্নত হবে, ফলে ব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল।


মবকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার ঘটে যাওয়া মবের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। যেসব কর্মকর্তা মব কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এইচআর নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গভর্নর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বন্ধ কলকারখানা পুনরায় সচল করতে সক্রিয় সহায়তার কথা বলেছেন। অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী ধারায় নিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ‘মব’ তৈরি করে বের করে দেন। তাকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

এদিন বিকেলে আরও একটি ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তার বদলি আদেশে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।


জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বইমেলা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৪
অনলাইন ডেস্ক

বইমেলা জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।

তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে মেলা ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নতুন প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য নিজেদের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মনোনীত প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের পরিবর্তে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য নতুন প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে নবনির্বাচিত সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হবে।

আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এবার এশিয়া মহাদেশ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুর দিকে এই পদের জন্য বাংলাদেশ ছাড়াও প্যালেস্টাইন ও সাইপ্রাস তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল। তবে কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে অন্য কোনো দেশ এই দৌড়ে শামিল না হলে সভাপতি পদের জন্য সাইপ্রাসের প্রার্থীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও সেই গৌরব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের এই নির্বাচনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের কূটনৈতিক মহল।


শিল্প-সাহিত্য ও শিক্ষা চর্চায় রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই একটি সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতিটি শাখায় দেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এই অগ্রযাত্রায় তিনি দেশের বিজ্ঞজনদের গঠনমূলক দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করেন।

একুশে পদকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একুশে পদক কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঘটনাবলির এক অনন্য স্বীকৃতি। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সমাজের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ১২টি ক্ষেত্রে গুণীজনদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক অর্জন।

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাস আমাদের আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস এবং আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম এবং অন্যদিকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক অনন্য স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে তিনি সকল ভাষাশহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারাকে আরও বিকশিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হওয়া সকল জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গুণীজনদের সৃজনমুখর জীবনের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় উজ্জ্বল আলো ছড়াবে। গুণীজনদের কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় করিয়ে দেওয়াকে তিনি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।


banner close