অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ দেওয়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা ছেঁটে ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেকের সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় অনুযায়ী ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।
একনেক সভা শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় উন্নয়ন বাজেট ছোট হবে।’
চলতি অর্থবছরের চার মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিম্ন বাস্তবায়ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১২-১৩ শতাংশ।
সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম একনেক সভায় উন্নয়ন বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গৃহীত অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যয়ের তুলনায় ভালো ফল বয়ে আনবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়নি এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে। তাই আমরা সেগুলো বাদ দিয়েছি। সাধারণত সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়, এবার অনুপাতটা বেশি হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত।
‘তবে এবার বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী থাকবে’ বলে জানান তিনি।
এ কারণে চলমান প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঋণদাতাদের ঋণ দেওয়ার সময় কিছু শর্ত থাকে, তাদের বোঝানোর পর সংশোধন করা হয়।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অনেক চলমান প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সচল রাখতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।
একনেক ব্রিফিংয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মন্ত্রণালয়গুলো স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, তাই নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে সেই প্রস্তুতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প বাদ দিয়ে উদ্ভাবনী ও নতুন ধরনের প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি ব্যয়ের বিপরীতে একাধিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।
তারা বলেছেন, নতুন ধরনের এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে।
এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (বরাদ্দের ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত।
এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।
২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে।
নতুন এডিপিতে ১ হাজার ১৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২১টি সমীক্ষা প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ৮০টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি।
স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সে হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি নিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ ১০ খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ) পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ), আবাসন খাতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা ২০ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন খাত ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি খাত ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৫ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১ দশমিক ২৫ শতাংশ)।
শীর্ষ ১০ খাতের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা (মোট এডিপির ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ)।
২০২৫-২২ অর্থবছরের নতুন এডিপি অনুযায়ী, বরাদ্দ গ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৮ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৮ শতাংশ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা(৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৪০ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা (৪ দশমিক ০১ শতাংশ) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ)।
১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ।
সূত্র: ইউএনবি
বাংলাদেশ থেকে সৌদি পৌঁছেছেন ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে মক্কায় নঈমুদ্দিন মন্ডল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। তিনি মক্কায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
হজ বুলেটিন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুলেটিন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পর্যন্ত ২০ হাজার ৫৬৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ২ হাজার ৮৭০ জন ও বেসরকারি মাধ্যমে ১৭ হাজার ৬৯৩ জন।
এর মধ্যে মোট ৫১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৯টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ১৮ ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ১৪টি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ৮৫৫ জন হজযাত্রী। সৌদি এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৭ হাজার ১৫ জনও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিবহন করেছে ৫ হাজার ৬৯৩ জন হজযাত্রী।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৬ মে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালনে পরিপত্র জারি করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার এই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।
এ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাকে পরিপত্রে অনুরোধ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রতি বছর ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন করার জন্যও পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে আবার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। সরকারি ছুটি হিসেবে দিনটি পালিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গণি ব্রিফিংয়ে জানান, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিগত ১৬ বছর এ দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। এখন থেকে এটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে এবং এদিন সরকারি ছুটি থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ৬ জুলাই জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তবে এদিন সরকারি ছুটি থাকবে না।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণ ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৮তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের পরিমাণ কত; উক্ত ঋণ পরিশোধে এই পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করেছে কিনা; করলে, তা কী?
আমির খসরু জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮.০৬৭ (আটাত্তর দশমিক শূন্য ছয় সাত) বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করে থাকে। প্রতি অর্থবছর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের জন্য ঋণের আসল ও সুদ বাবদ সম্ভাব্য মোট ব্যয় কত হতে পারে তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সে পরিমাণ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ বাজেটে সংস্থান রাখা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করেই সারাবছর পরিশোধ সূচি অনুসরণ করে ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার না করার এবং প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিরোধী দলও এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।
এর আগে সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ উপজেলায় অফিস পেয়ে ধন্যবাদ জানাতে দাঁড়িয়ে সরকারের কাছে গাড়ির আবদার করেন।
তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের জন্য সরকারি গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের জন্য এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াত করতে হয়, যা লোকলজ্জার কারণে কাউকে বলাও যায় না। মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ আরও সহজ করতে সরকারের কাছে একটি গাড়ির সুব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা কোনো বিলাসিতা বা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে শুরুতেই অনুশাসন দিয়েছেন। এমনকি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের জন্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধাও বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানোসহ সরকারি কর্মকর্তাদের লোন সুবিধাও সীমিত করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্যের দাবির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো বিহিত ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সে বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছোটদের আবদারে সবসময় ‘না’ বলতে নেই। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো তরুণ সংসদ সদস্যের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে এটি বিবেচনার আশ্বাস দিলে আরও খুশি হতাম।
তবে আলোচনার শেষ পর্যায়ে স্পিকার পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ অংশে বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছেন।
দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কারো সাথে বৈরী আচরণ করতে চান না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- নোয়াবের সদস্যদের সাথে আয়োজিত এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কারো সাথে বৈরী আচরণ করতে চান না তিনি। আগের সরকার যে পথে হেটেছে সে পথে যাবে না বর্তমান সরকার।
এসময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হয়রানি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা কারণে কেউ জেলে থাকলে তাদের জামিনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে। সংবাদপত্রের বকেয়া বিলের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে নোয়াব সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সংবাদপত্র শিল্প অর্থনৈতিক চাপসহ নানা চাপের মধ্যে আছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবিদাওয়াও তুলে ধরেন নোয়াব সদস্যরা। এসময় ওয়েজবোর্ড নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে নোয়াব সদস্যরা জানান, প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সাথে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকার উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে এবং বিষয়টিকে ইতিবাচক বলেছেন সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানান, এখন থেকে তিন মাসে একবার সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সাথে বসবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সম্পাদক ও মালিকদের সাথে সরকারের দূরত্ব কমবে বলে মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা সরকারের সময় ১৬-১৭ বছরে একবার এবং বিগত ইউনূস সরকারের সময় ১৮ মাসে একবার মালিক ও সম্পাদকদের সাথে সরকার প্রধানের বৈঠক হয়েছে।
মাদক ও তামাকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার লক্ষ্যে গণমাধ্যম ও চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মাদকবিরোধী সংগঠন ‘মানস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাদক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। কেবল আইন করে নয় বরং গণমাধ্যমের শক্তিশালী প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই চলচ্চিত্র নাটক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক বা তামাকের ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন নিরুৎসাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় মানসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী মাদক ও তামাকের ভয়াবহতা এবং বর্তমানে এর বিস্তার রোধে তার সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি গণমাধ্যম, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তামাক ও মাদকদ্রব্যের প্রদর্শনের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ সময় মানসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার মাদক ও তামাকমুক্ত একটি সুস্থ সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত। তিনি এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহযোগিতায় সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। এসময় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, আমরা ধীরে ধীরে ট্যাক্স হলিডে (কর রেয়াত) কালচার থেকে বের হতে চাই। কর কম হোক, বেশি হোক- সবাইকে দিতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস)-সহ ১০টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আর এই ট্যাক্স হলিডে কালচার কন্ট্রোল করতে পারছি না। এটার সাইড এফেক্ট অনেক বেশি। আমাদের দেশের একটা গ্রুপের নানা ধরনের ব্যবসা থাকে। ওনাদের ইন্ডাস্ট্রি, মিডিয়া থেকে শুরু করে নানারকম ব্যবসা থাকে। কোনো একটা জায়গায় ট্যাক্স ছাড় দেওয়া হলে তখন সব ব্যবসা ওই জায়গায় চলে যায়। এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে। এগুলো কিন্তু লিকেজ তৈরি করে টোটাল সিস্টেমে।’
আবদুর রহমান খান বলেন, সে কারণে আমরা ধীরে ধীরে এই হলিডে কালচার থেকে বের হতে চাই। ট্যাক্স কম হোক বেশি হোক সবাইকে দিতে হবে। ট্যাক্স দিয়ে তারপরে আপনি দেখবেন যে আপনার নেট প্রফিট যদি ইতিবাচক ও টেকসই হয় এই ব্যবসায় আসবেন। নাহলে আসবেন না। কিন্তু ট্যাক্স হলিডে দিলে ব্যবসা করব, নাহলে ব্যবসা করবো না এইখান থেকে ফিতে হবে আমাদের।
সভায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) প্রতিনিধি ও এএইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হারেস মোহাম্মদ অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল নিয়ে নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু পূর্বের রিটার্নগুলো সিস্টেমে হালনাগাদ না থাকায় অনলাইনে জমা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ হালনাগাদের প্রক্রিয়াও জটিল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাইয়ের নামে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই অনলাইন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। পূর্বে জমা দেওয়া ম্যানুয়াল রিটার্ন করদাতাদের নিজ উদ্যোগে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোথায় কত রিটার্ন ঝুলে আছে, কী কারণে আটকে আছে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের ডেকে দ্রুত সমাধান করতে হবে।
চেয়ারম্যান নির্দেশ দেন, ৩১ মার্চ নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও যেসব রিটার্ন এখনো ঝুলে আছে, সেগুলোর কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে কোনও ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সভায় করদাতাদের সমস্যার বিষয়ে খোলামেলা মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা নির্দ্বিধায় সমস্যাগুলো তুলে ধরুন, আমরা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে ভ্যাট ব্যবস্থা আরও সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিইএ), বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ারস (বিএমএটিএস) বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা), অ্যাক্যুমুলেটর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এবিএমইএবি) এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) বিভিন্ন শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাসের প্রস্তাব দেয়।
গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার শনাক্তকরণ এবং উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত গত সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজার নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি -এর জোনাল বিক্রয় অফিস-মেঘনাঘাট আওতাধীন আষাঢ়িয়ার চর, মৃধাকান্দি ও পিরোজপুর, সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এলাকার ৪টি স্পটে অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
অভিযানে অবৈধ ২টি চুনা কারখানা ও অবৈধ ২টি ঢালাই কারখানা সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ হোজ পাইপ আনুমানিক ১৫০ ফুট স্পটে কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে। এতে, দৈনিক প্রায় ২,৬৯,০০০/- টাকার গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
একই দিনে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকারের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর মেট্রো ঢাকা বিক্রয় বিভাগ-১ আওতাধীন শহীদনগর, মাতুয়াইল মেডিকেল, আদর্শনগর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও রাজাখালী, ডেমরা, ঢাকা এলাকার ৩টি স্পটে অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, সিফাত মোরব্বা ঘর ও হারুন মোরব্বা ঘর এবং ১৬ টি বাড়ির আনুমানিক ৬০ ভাবল চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ স্টার বার্ণার ০৪ টি, করাই ছোট/বড়- ১০ টি, আবাসিক রেগুরেটর-১৬ টি, এমএস পাইপ ৩/৪" -১৬০ ফুট, এমএস পাইপ ১" -১৩০ ফুট, চুলার ড্রাম- ০১ টি, করাই স্থানান্তর এর চাকার রিং- ৪ টি ও চুলার উপরের রিং-২ টি অপসারণ/জব্দ করা হযেছে। এ সময়, সর্বমোট ২০০,০০০/- টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এ ছাড়া, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর আঞ্চলিক বিক্রয় ডিভিশন -ময়মনসিংহ -এর ইমারজেন্সি ও জোবিঅ শাখা -ময়মনসিংহ, আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স শাখা -ময়মনসিংহ, আঞ্চলিক রাজস্ব শাখা -ময়মনসিংহ, জোবিঅ শাখা-জামালপুর, আঞ্চলিক রাজস্ব শাখা -ভালুকা ও জোবিঅ-ভালুকা ও জোবিঅ -কিশোরগঞ্জ আওতাধীন এলাকায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, অবৈধভাবে, অনুমোদন অতিরিক্ত ও বকেয়ার কারণে মোট ২৪ টি আবাসিকের ৪৯ ডাবল ও ৯টি সিঙ্গেল চুলার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদগুলোতে এখন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার সংসদে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্যদের এই সুসংবাদ দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরোনো কমপ্লেক্স ভবনের দ্বিতীয় তলায় যেখানে যে অবস্থা রয়েছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও উন্নতমানের আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে।’ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকল সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও বিপুল উৎসাহে টেবিল চাপড়িয়ে বিষয়টিকে স্বাগত জানান।
তীব্র, ক্লান্তিকর, কখনো কখনো যেন একটু দমবন্ধ, বলছি রাজশাহীতে গ্রীষ্মের কথা। প্রচণ্ড রোদে দিনের ছোট ছোট কাজও যেন হয়ে ওঠে পরিশ্রমসাধ্য। তবুও এই তপ্ত সময়ের মাঝেই আছে এক অটুট আনন্দ, আর তা হলো আম। এই গরমের ভেতরেও আমের উপস্থিতিই যেন রাজশাহীর ঋতুকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখার মতো করে তোলে।
আর সেই ঋতুর আসল রূপ দেখাতে ব্র্যাকের পর্যটন বিষয়ক উদ্যোগ ‘অতিথি’ নিয়ে এসেছে রাজশাহী ম্যাঙ্গো অর্চার্ড এক্সপেরিয়েন্স প্যাকেজ। এতে আছে দুই দিন-এক রাতের ভ্রমণ প্যাকেজ, যা আপনাকে নিয়ে যাবে রাজশাহীর বিশেষ সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে।
ভ্রমণের সূচিতে রয়েছে সবুজ আমবাগানের ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো, বাতাসে ভেসে থাকা মিষ্টি গন্ধে ডুবে যাওয়া, আর গাছ থেকে পেড়ে নেওয়া টাটকা আমের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ। বিশেষ করে যারা শহরে থাকি, এই আয়োজনটি এনে দেয় তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ— বাগানেই আম উপভোগ করার।
অতিথির এই বিশেষ প্যাকেজটি শুধু আমবাগানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজশাহীর ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীরতাও তুলে ধরে। ভ্রমণের অংশ হিসেবে আরও থাকছে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ঘুরে দেখা, পদ্মার তীরের শান্ত সৌন্দর্য অনুভব আর স্থানীয় সিল্ক হাউসগুলোয় যাত্রা, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্য।
গত বছর অতিথির সঙ্গে এই ভ্রমণে অংশ নিয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জ্যান-রলফ জানোস্কি।
অতিথির ম্যাঙ্গো অর্চার্ড এক্সপেরিয়েন্স রাজশাহীর তীব্র গরমকে ভিন্নভাবে অনুভব করার এক অনন্য উপায়, যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর আমের সহজ আনন্দ মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় যাত্রা। তাহলে আর অপেক্ষা কীসের? ঘুরে আসুন রাজশাহীর অতিথি হয়ে।
প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ;
যেকোনো তথ্যের জন্য কল করুন +8809610800700 অথবা WhatsApp করুন +8801332550542 নম্বরে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে কৃষি, বনায়ন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এ সময় উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান উল্লিখিত খাতগুলোতে চীনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি হুয়াং মৌছং উপস্থিত ছিলেন।
সম্পন্ন হলো পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ’ সম্প্রসারণ বিষয়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম। দেশব্যাপী এই আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী কর্মসূচিতে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি লিড ব্যাংক হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করে। আয়োজনের প্রথম দিন (১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার) সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী অতিথি ও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা শহর প্রদক্ষিণ করেন। র্যালি শেষে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক জনাব আ.ন.ম. মঈনুল কবীর এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক জনাব আরিফ হোসেন খান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আবুল বসার, নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), বরিশাল অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক; জনাব কিশোর রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), পটুয়াখালী; জনাব মো. তামিম নূর ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পটুয়াখালী এবং জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংক। সেমিনারে বক্তারা ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এ সংক্রান্ত সমষ্টিগত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এছাড়া,উক্ত সেমিনার স্থলে বিভিন্ন বুথে অতিথিদের কিউআর (QR) কোড ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা প্রদান করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ২০ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার) পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মাঝে ক্যাশলেস প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে গজারিয়া, মেঘনাঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলসহ তিতাসের অধিভুক্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
পরিস্থিতির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস জানায়, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।