অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ দেওয়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা ছেঁটে ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেকের সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় অনুযায়ী ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।
একনেক সভা শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় উন্নয়ন বাজেট ছোট হবে।’
চলতি অর্থবছরের চার মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিম্ন বাস্তবায়ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১২-১৩ শতাংশ।
সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম একনেক সভায় উন্নয়ন বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গৃহীত অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যয়ের তুলনায় ভালো ফল বয়ে আনবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়নি এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে। তাই আমরা সেগুলো বাদ দিয়েছি। সাধারণত সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়, এবার অনুপাতটা বেশি হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত।
‘তবে এবার বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী থাকবে’ বলে জানান তিনি।
এ কারণে চলমান প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঋণদাতাদের ঋণ দেওয়ার সময় কিছু শর্ত থাকে, তাদের বোঝানোর পর সংশোধন করা হয়।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অনেক চলমান প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সচল রাখতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।
একনেক ব্রিফিংয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মন্ত্রণালয়গুলো স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, তাই নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে সেই প্রস্তুতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প বাদ দিয়ে উদ্ভাবনী ও নতুন ধরনের প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি ব্যয়ের বিপরীতে একাধিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।
তারা বলেছেন, নতুন ধরনের এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে।
এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (বরাদ্দের ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত।
এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।
২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে।
নতুন এডিপিতে ১ হাজার ১৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২১টি সমীক্ষা প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ৮০টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি।
স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সে হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি নিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ ১০ খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ) পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ), আবাসন খাতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা ২০ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন খাত ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি খাত ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৫ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১ দশমিক ২৫ শতাংশ)।
শীর্ষ ১০ খাতের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা (মোট এডিপির ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ)।
২০২৫-২২ অর্থবছরের নতুন এডিপি অনুযায়ী, বরাদ্দ গ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৮ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৮ শতাংশ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা(৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৪০ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা (৪ দশমিক ০১ শতাংশ) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ)।
১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ।
সূত্র: ইউএনবি
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় না উঠে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নিজের বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে নিজের বাসায় থাকবেন। সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠছেন না। তারেক রহমান গুলশানের নিজের যে ছোট বাসাটি, তাতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সে জন্য তিনি দেশে ফেরার পর এই বাসায় উঠেছেন। সেভাবেই বাসাটি সাজানো-গোছানো হয়েছে।
রুমন আরও জানান, পবিত্র ঈদের দিন সকাল আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করবেন।
নামাজ শেষে সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের সব ঈদগাহ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম হয় এমন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখার আহমেদ বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের অতিরিক্ত র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ সব ঈদগাহ ময়দান, বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাটসহ যেসব জায়গায় জনসমাগম হয় এসব জায়গায় র্যাবের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মোবাইল পেট্রোলিং এবং ফুট স্টার্টিং টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট এবং সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে এবং এই কার্যক্রমটা এবার অনেক জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের যে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধীসহ অন্যান্য যে কোনো অপরাধের বিষয়ে অভিযান আমাদের অব্যাহত আছে।
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, আমাদের সাইবার ক্রাইম গুজব ও উসকানি প্রতিরোধের জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক মনিটর করছে। যে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এবারের ঈদ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে বলে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি।
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে কোথাও শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সকল ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিরা যেন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আরও একদিন রোজা পালন করে শনিবার (২১ মার্চ) আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে ধর্মমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ মার্চ সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা-ইলিশা রুটের আসা-যাওয়া-৫ এবং ঢাকা-দৌলতদিয়া-যশোরহাট রুটের এমভি জাকের স্মার্ট-৩ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবুল ইসলামকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এস এম শাহেদ রেজা, নৌপরিবহন অধিদফতরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার মোহাম্মদ এহতেছানুল হক ফকির এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ কে এম শামসুজ্জোহা।
এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. মেহেদী হাসান এই কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানী ঢাকায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭২০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
মো. সরওয়ার বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। আর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে প্রথম জামাত শুরু হবে সকাল সাতটায়। এছাড়া আগারগাঁওয়ে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগের দিন ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার অন্যান্য সব স্থানে অনুষ্ঠিতব্য ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তার শঙ্কা নেই, তারপরেও আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মনিটরিং করছে। যদি কিছু হয় আমাদেরকে জানাবে। সেই অনুযায়ী আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রাখার জন্য।
জাতীয় ঈদগাহে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব এবং শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।
তিনি বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং ব্যবস্থা থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারী বা মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট এবং পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দান এবং আশেপাশের এলাকায় সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড সুইপিং এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম সুইপিং করবে। আমাদের ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরা এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি এবং সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
মুন্সিগঞ্জের ১৫ জন জুলাইযোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছে সরকার। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’–এর সিডিউল-১ অনুযায়ী এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’―এর ১১ (৪) ধারা অনুসারে দেওয়া ক্ষমতাবলে এসব গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের ‘জুলাই শহীদ’ এবং আহত ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’―র মর্যাদা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আহতদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে সরকার।
বাতিল হওয়া তালিকায় শ্রেণি ‘ক’ (অতি গুরুতর) থেকে ১ জন, শ্রেণি ‘খ’ (গুরুতর আহত) থেকে ১ জন এবং শ্রেণি ‘গ’ (আহত) থেকে ১৩ জন রয়েছেন।
শ্রেণি ‘ক’–তে সাদ্দাম হোসেন মৃধা এবং শ্রেণি ‘খ’–তে মো. রাব্বি হোসেনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া 'গ'-শ্রেণির বাতিল করা ‘জুলাইযোদ্ধা’দের মধ্যে রয়েছেন মো. মহসীন, মো. সোহেল, মো. আসিফ, মোসা. মানছুরা, মো. শাকিল বেপারী, রোমেল, মো. বাদল বেপারী, রমজান হোসেন, এহসানুল হক সোহাগ, রুনা আক্তার ছোঁয়া, আল আমিন, মো. মামুন হোসেন এবং রনক বেপারী।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণকে এই আনন্দময় উৎসবের আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
শুভেচ্ছা বার্তায় মোদী উল্লেখ করেন, বিগত এক মাস ধরে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পবিত্র রমজান মাস পালন করেছেন এবং রোজা ও প্রার্থনার মাধ্যমে পুণ্যময় সময় অতিবাহিত করেছেন।
নরেন্দ্র মোদী তার বার্তায় আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের এই উদযাপন আমাদের সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব ও একতার মতো চিরন্তন মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বিশ্বজুড়ে মানুষের শান্তি, সম্প্রীতি, সুস্বাস্থ্য এবং সুখের জন্য প্রার্থনা করেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার সর্বোচ্চ সম্মানের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেছেন, সেই কারণে আমাদের কিছু ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটেছে। সবগুলো না, দুটি ট্রেন। একতা এবং নীলসাগর। এতে পরিবেশ কিছুটা নষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে তিনি এ কথা বলেন। হাবিবুর রশীদ হাবিব বলেন, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে স্টেশন মাস্টার ও ট্রেনের দুই লোকোমাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আপাতত আমাদের ট্রেন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। রেলের মাঠ পর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। সবাই মাঠের সক্রিয় আছেন।
তিনি বলেন, দুইটা ট্রেনের সময় বিলম্বিত হওয়ায় যাত্রীসেবা কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। আমি সেটা পরিদর্শন করতে এখানে এসেছি। আমি আসার এক ঘণ্টা আগেও আপনার নিশ্চয় জানতেন না আমি এখানে আসব।
এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় ভাড়া আদায়ের এই নৈরাজ্য গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে দাবি করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদে বাসে ও মিনিবাসে শুধুমাত্র অতিরিক্ত ভাড়া হিসেবেই যাত্রীদের পকেট থেকে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি হাতিয়ে নেওয়া হবে।
তবে যাত্রী কল্যাণ সমিতির এই প্রতিবেদন সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভাড়া-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দুটি ট্রেন ছাড়া বাকি ট্রেনগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ঈদের পর পুরো ব্যবস্থার মূল্যায়ন করা হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং সিটি সার্ভিসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস ও মিনিবাসেই সরকারি চার্ট অমান্য করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিও বরাবরের মতো এখানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ফলে এবার একসঙ্গে দুই ভিভিআইপিকে নামাজ আদায় করতে দেখা যাবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, জাতীয় এই ময়দানে নারীসহ প্রায় ৪০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জামাত শেষে সাধারণ মুসল্লিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি ঈদগাহ ময়দান নামাজ আদায়ের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র ও বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমসহ প্রধান জামাতগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে এবং পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবন এলাকাকে এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ঈদগাহের আশপাশের রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ ও পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা সিটিটিসি, ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ওয়াচ টাওয়ার, ফায়ার সার্ভিস এবং মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নারীদের জন্য ঈদগাহে প্রবেশের পৃথক গেট ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঈদগাহ ও জামাতগুলোতেও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব পালন করতে পারেন।
নামাজে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জামাতে আসার সময় মুসল্লিরা কেবল জায়নামাজ, মোবাইল ফোন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছাতা বহন করতে পারবেন। তবে দেশলাই, লাইটার বা যেকোনো ধরনের দাহ্য বস্তু সঙ্গে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলার সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশের টহল জোরদার করা হবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ লাইনের বিশেষ পাহারা থাকবে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এবারের ঈদ উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
বগুড়ার সান্তাহার বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনা গামী যাত্রীবাহী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসো চিলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহারের বাগবাড়ী এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।
রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম জানান, গতকাল দুর্ঘটনা হওয়ার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সারারাত ব্যাপী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগি গুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং রেললাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারবো। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে যাত্রীসহ প্রথমে যাবে। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করবে। সেই সাথে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বুধবার দুপুর ২টায় বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপে গভীর রাত থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে ঈদে বাড়ি ফেরা হাজার হাজার মানুষের। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও ধীরগতির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও যাত্রীরা জানান, ভোররাত থেকেই মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গোড়াই, মির্জাপুর বাইপাস, পাকুল্যা, করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস ও এলেঙ্গা এলাকায় গাড়ি প্রায় থেমে আছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
বগুড়াগামী যাত্রীরা গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে বাসে উঠলেও সকাল ৮টা পর্যন্ত তারা মির্জাপুর বাইপাসেই আটকে আছেন। সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রা পার হতেই তাদের ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার রাস্তায় চলমান উন্নয়ন কাজ ও খানাখন্দের কারণে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময় বাসে বসে থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যানজট নিরসনে সেতুর উভয় প্রান্তে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেনসহ ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে।
এদিকে মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত যান দ্রুত সরাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকার।
ঢাকা থেকে ছেড়ে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন পৌঁছানোর পর থেকে উদ্ধারকাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দুপুরের পরপরই লাইন সচল করা সম্ভব হবে।
রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবুজার গাফফার জানান, নওগাঁ সদর হাসপাতালে ১০০ জনের বেশি আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস ব্যবহার করে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হবে। খুলনা-নীলফামারী রুটে সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস দিয়ে একই ব্যবস্থা চালু থাকবে। এছাড়া পার্বতীপুর, রাজশাহী ও চিলাহাটি রুটেও কয়েকটি ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস বগুড়া হয়ে চলবে এবং বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের কয়েকটি ট্রিপ আংশিক পরিবর্তন ও কিছু যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার বেলা ২টার দিকে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে।
বগুড়ার শেরপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশু কন্যা, যাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরগামী একটি মাইক্রোবাস বগুড়ার শেরপুর এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটির বাবা-মাসহ আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহত শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করে শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভারও প্রধানমন্ত্রী নিজে বহন করবেন।
গুরুতর আহত দেড় বছরের শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বগুড়ার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ রংপুরের কাউনিয়ায় নেওয়া হয়েছে। সেখানেই তাদের দাফন সম্পন্ন হবে। নিহতরা পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একই গাড়িতে করে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে শেরপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।