বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
১ বৈশাখ ১৪৩৩

বাদ পড়ছে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রকল্প

বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা
আপডেটেড
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩০

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ দেওয়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা ছেঁটে ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেকের সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় অনুযায়ী ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।

একনেক সভা শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় উন্নয়ন বাজেট ছোট হবে।’

চলতি অর্থবছরের চার মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিম্ন বাস্তবায়ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১২-১৩ শতাংশ।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম একনেক সভায় উন্নয়ন বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গৃহীত অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যয়ের তুলনায় ভালো ফল বয়ে আনবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়নি এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে। তাই আমরা সেগুলো বাদ দিয়েছি। সাধারণত সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়, এবার অনুপাতটা বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত।

‘তবে এবার বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী থাকবে’ বলে জানান তিনি।

এ কারণে চলমান প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঋণদাতাদের ঋণ দেওয়ার সময় কিছু শর্ত থাকে, তাদের বোঝানোর পর সংশোধন করা হয়।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অনেক চলমান প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সচল রাখতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।

একনেক ব্রিফিংয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মন্ত্রণালয়গুলো স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, তাই নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে সেই প্রস্তুতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প বাদ দিয়ে উদ্ভাবনী ও নতুন ধরনের প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি ব্যয়ের বিপরীতে একাধিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।

তারা বলেছেন, নতুন ধরনের এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে।

এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (বরাদ্দের ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত।

এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।

২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে।

নতুন এডিপিতে ১ হাজার ১৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২১টি সমীক্ষা প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ৮০টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সে হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি নিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ ১০ খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ) পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ), আবাসন খাতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা ২০ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন খাত ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি খাত ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৫ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১ দশমিক ২৫ শতাংশ)।

শীর্ষ ১০ খাতের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা (মোট এডিপির ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ)।

২০২৫-২২ অর্থবছরের নতুন এডিপি অনুযায়ী, বরাদ্দ গ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৮ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৮ শতাংশ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা(৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৪০ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা (৪ দশমিক ০১ শতাংশ) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ)।

১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ।

সূত্র: ইউএনবি


জুনের মধ্যে হেলথ কার্ড প্রদানের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুলের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত লোকজ মেলার উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।

নতুন বছরে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিককে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া বর্তমান সরকারের গৃহীত কৃষিঋণ মওকুফ, দুস্থদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, টিআর-কাবিখা ও খাল খননসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথাও তিনি এই সময় উল্লেখ করেন।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ৩০টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে হামের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলছে। আগামী ২০ তারিখ থেকে সারাদেশে একযোগে শিশুদের হামের টিকা ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে মনোহরদী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এই আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মেলা উদ্বোধন শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


পহেলা বৈশাখের উৎসবে ধর্ম, বর্ণ বিভেদের স্থান নেই: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পহেলা বৈশাখের উৎসবে ধর্ম, বর্ণ বা কোনো প্রকার বিভেদের স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ মূলত আনন্দের উৎসব এবং এই আনন্দের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। এটি কেবল তাত্ত্বিক সমাজ বিশ্লেষণের বিষয় নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি অনন্য মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে একটি সম্ভাবনাময় বছর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার আগামী বছরজুড়ে বাংলাদেশের কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সমন্বয়ে বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাংলার কৃষি ও কৃষকের অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা।

বর্তমান সরকারের কৃষকবান্ধব নীতির উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী এবার টাঙ্গাইলে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করছেন এবং সেখানে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদও তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।


টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। দেশের প্রখ্যাত এই রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁর টাঙ্গাইল সফরের বিশেষ একটি অংশ সম্পন্ন করেন।

মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তিনি মওলানা ভাসানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জিয়ারত শেষে উপস্থিতদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানী ছিলেন এদেশের গণমানুষের নেতা।

তাঁর আপসহীন আদর্শ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার তাঁর দেখানো গণমুখী পথ অনুসরণ করেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন ভাসানী দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যেই আজ টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সন্তোষ মাজার এলাকায় কয়েকদিন আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্তোষ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং মাজার চত্বরে সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়। উল্লেখ্য যে, মওলানা ভাসানীর এই মাজারটি টাঙ্গাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আসেন।


গাছে আম-জাম যখন ধরবে পাঠাবেন, আমি খাবো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-এর প্রথম দিনে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

কৃষক কার্ড ও গাছের চারা বিতরণের সময় উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘উনাদের গাছের চারা দিচ্ছি। কয়েকজনকে জামগাছ দিয়েছি, আমগাছ দিয়েছি। আমি উনাদের বলেছি, এটি বাসার সামনে রোপণ করতে হবে। যারা আম ও জামগাছ পেয়েছেন, আমি তাদের বলেছি, আম, জাম যখন ধরবে আমি খাবো, আমাকে পাঠাবেন।’

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চার কোটি পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য এই খাতের সঙ্গে জড়িত। ‘আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে জড়িত। দেশের চার কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দেশের প্রধান পেশাই হলো কৃষি। ২২ হাজার কৃষককে আমরা প্রথম পর্যায়ে কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ অন্যতম ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব কৃষকের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ ছিল, তা প্রথম সপ্তাহেই মওকুফ করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে ২২ হাজার কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হলেও আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সরাসরি কৃষির সঙ্গে যুক্ত ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সবসময় কৃষকদের সহায়তায় কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের আস্থার মূল্যায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সচিব রফিকুল-ই মোহামেদ।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেন এবং তাদের মাঝে গাছের চারা তুলে দেন।


কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির অবকাশ নেই: আইনমন্ত্রী

কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, কৃষক কার্ড বিলি করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির অবকাশ রাখা হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার আবাইপুরে বিশেষ এই কার্ড বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের এই আধুনিক সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে সারাদেশের মাঝারি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে এই কৃষক কার্ড বিতরণ করবে সরকার। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই, এমনকি কোনো প্রকার অনিয়মেরও সুযোগ নেই।”

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসন প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে বড় ধরনের খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। আজ কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করা হলো। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।”

উল্লেখ্য যে, দুপুর দেড়টার দিকে শৈলকুপার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা উপস্থিত ছিলেন। পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই প্রথম ধাপে আবাইপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক-কৃষাণীকে এই বিশেষ সেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।


আগামী বৈশাখ থেকে দেশব্যাপী গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা

কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ আর ঢাক-ঢোলের সংমিশ্রণে এক উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন ময়দানে দিনব্যাপী ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’ আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ দুই দশক পর এমন আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই উৎসবে গ্রামীণ জনপদের হারিয়ে যাওয়া মোট ১২টি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা প্রদর্শিত হয়। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশীয় লোকজ ক্রীড়াকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আগামীতে এই ধরণের আয়োজনের ব্যাপ্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘‘মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরণের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।’’ প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্রীড়াবিদদের বিকাশে সরকারের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারী ক্রীড়া সংস্থার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ঘোষণা বা চমক আসতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।’’

সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে আমিনুল হক তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মদ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সব বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব।’’ এই আনন্দঘন আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন চপলসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিকে নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উৎসর্গ করছে সরকার

দেশবাসীকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান তথ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২৪
অনলাইন ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে কৃষিপ্রধান অর্থনীতির ওপর বর্তমান সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বছরের প্রথম দিনে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের অনন্য অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এবারের নববর্ষটি তাদের জন্য নিবেদিত। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কৃষকদের সম্মান ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতে সরকার নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-কে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষি অর্থনীতিকে উৎসর্গ করছে।”

বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন যে, এই উৎসবের মূল শেকড় মূলত গ্রামীণ জনপদ ও কৃষিকাজের সঙ্গে মিশে আছে। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষের প্রচলন শুরু হয়েছিল কৃষকদের ফসলের হিসাব রাখার সুবিধার্থে। বাংলা নববর্ষ একদিকে যেমন আমাদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে, তেমনি কৃষি অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।” আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এছাড়া ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক রূপরেখা তৈরিতে কৃষিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।”


ঝিনাইদহে ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সফরকালীন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঝিনাইদহের এই কর্মসূচির সূচনা করেন। শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অংশগ্রহণ করেন।

পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের মোট ১,৬৭৯ জন নিবন্ধিত কৃষককে এই বিশেষ কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি সেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন, মেট্রো চলাচল সাময়িক বন্ধের পর আবার চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে একটি গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ার কারণে ওই অংশে প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলুনটি সরিয়ে নেওয়ার পর আবার স্বাভাবিক হয় মেট্রোরেল চলাচল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বেলুন আটকে পড়ার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। এরপর দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

অবশেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে কন্ট্রোল রুমে জানানো হয় যে বেলুনটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ওয়ারলেস অপারেটর জানান, কারওয়ান বাজার এলাকার মেট্রোরেল লাইনের উচ্চ ভোল্টেজ তারে একটি গ্যাস বেলুন উড়ে এসে আটকে যায়। যেহেতু এটি হাই-ভোল্টেজ লাইন, তাই বেলুনটি সরাতে কিছুটা সময় লাগছে। অপসারণ সম্পন্ন হলে আবার মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হবে।


বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার যাত্রা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্বরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন এবং এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলাটি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যেখানে দেশীয় কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। যার মধ্যে জামদানি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, চামড়াজাত দ্রব্য এবং বিভিন্ন লোকজ ও কৃষিজাত পণ্যের বিশাল সমাহার রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, শিশুদের রাইড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় কিছু স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি বুথও সক্রিয় রয়েছে।

সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া বিসিক ও বাংলা একাডেমির এই যৌথ আয়োজন এখন বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক অংশে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বক্তব্য রাখেন।


মঙ্গল শোভাযাত্রা, ধানমন্ডিতে পুরোনো নামে নতুন বছর বরণ

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’-এর ব্যানারে এই উৎসবের আয়োজন করা হয় | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। 'মঙ্গল শোভাযাত্রা': ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা মোটিফ, মুখোশ ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত নারী-পুরুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। রঙিন পোশাকে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যের তালে নাচ-গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেন অংশগ্রহণকারীরা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্ষবরণ পর্ষদ। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে সাজানো এ আয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রাখা হয়েছে।

পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানসূচি শুরু হয় সকাল ৯টায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।

জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করা হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা এলাকা ঘুরে একই সড়কের অন্য প্রান্ত হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে এসে এটি শেষ হয়। পরে বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয়। এতে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি এবং একক সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতির পর আবার শুরু হবে বিকালের পর্ব। এ সময়ে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সমবেত সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। একক সংগীতে অংশ নেবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা ও শিল্পী সাহা।

অন্যদিকে একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ও মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া তক্ষশীলা বিদ্যালয় পরিবেশন করবে ব্রতচারী নৃত্য এবং রঙ্গন আহমেদ উপস্থাপন করবেন মূকাভিনয়। পুরো আয়োজনের সমাপ্তি হবে সরদার হিরক রাজা ও তাঁর সঙ্গীদের বাউলগানের পরিবেশনার মাধ্যমে।


টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে পৌঁছানোর কারণে তিনি পূর্বনির্ধারিত মাজার জিয়ারতের সূচি পরিবর্তন করে সরাসরি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। জানা গেছে, বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।” কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে শুরু করে মোট তিনটি ধাপে দেশব্যাপী সফলভাবে কার্যকর করা হবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, যার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি সরঞ্জাম ও সেচ সুবিধা গ্রহণ এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের প্রাপ্যতা। এছাড়া কৃষকরা সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও ভর্তুকির পাশাপাশি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর বিশেষ ছাড় পাবেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারের হালনাগাদ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কার্ডধারী কৃষকরা ফসলের সুরক্ষা ও উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশেষ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি বিমা সুবিধা এবং উৎপাদিত ফসল সরাসরি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির অধিকারও সুনিশ্চিত করা হবে।


রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরাও বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করলেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রার বর্ণিল রূপ উপভোগ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণে বিদেশি অতিথিদের পদচারণা ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে এই আনন্দ মিছিলে সশরীরে অংশ নেন।

ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবে শামিল হয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেক কূটনীতিককে বৈশাখী এই বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ও সেলফি তুলতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, বিদেশি অতিথিরা সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উপভোগ করেছেন। আগত অতিথিদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল।

এবারের শোভাযাত্রাটি সকাল ৯টার পর “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্য নিয়ে চারুকলা অনুষদের সম্মুখভাগ থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় ফিরে এসে সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য যে, রমনা বটমূলে ভোরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-এর বরণ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।


banner close