অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ দেওয়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা ছেঁটে ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেকের সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় অনুযায়ী ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।
একনেক সভা শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় উন্নয়ন বাজেট ছোট হবে।’
চলতি অর্থবছরের চার মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিম্ন বাস্তবায়ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১২-১৩ শতাংশ।
সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম একনেক সভায় উন্নয়ন বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গৃহীত অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যয়ের তুলনায় ভালো ফল বয়ে আনবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়নি এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে। তাই আমরা সেগুলো বাদ দিয়েছি। সাধারণত সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়, এবার অনুপাতটা বেশি হবে।’
তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত।
‘তবে এবার বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী থাকবে’ বলে জানান তিনি।
এ কারণে চলমান প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঋণদাতাদের ঋণ দেওয়ার সময় কিছু শর্ত থাকে, তাদের বোঝানোর পর সংশোধন করা হয়।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অনেক চলমান প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সচল রাখতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।
একনেক ব্রিফিংয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মন্ত্রণালয়গুলো স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, তাই নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে সেই প্রস্তুতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প বাদ দিয়ে উদ্ভাবনী ও নতুন ধরনের প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।
সূত্র জানায়, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি ব্যয়ের বিপরীতে একাধিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।
তারা বলেছেন, নতুন ধরনের এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে।
এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (বরাদ্দের ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত।
এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।
২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে।
নতুন এডিপিতে ১ হাজার ১৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২১টি সমীক্ষা প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ৮০টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি।
স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সে হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি নিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ ১০ খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ) পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ), আবাসন খাতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা ২০ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন খাত ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি খাত ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৫ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১ দশমিক ২৫ শতাংশ)।
শীর্ষ ১০ খাতের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা (মোট এডিপির ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ)।
২০২৫-২২ অর্থবছরের নতুন এডিপি অনুযায়ী, বরাদ্দ গ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৮ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৮ শতাংশ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা(৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৪০ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা (৪ দশমিক ০১ শতাংশ) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ)।
১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ।
সূত্র: ইউএনবি
সবার অংশগ্রহণে সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকে, তাদের একচোখ অন্ধ, আর যারা অতীত ভুলে যায়, তারা দুই চোখ অন্ধ। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অতীতকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সঠিক ইতিহাস চর্চা করতে হবে, নইলে সামনের পথে অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাস এবং এর গৌরব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও বহমান থাকবে। তবে এ বিষয়ে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য চরিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জিয়াউর রহমানের দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল, যা ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তার নিজের লেখা নিবন্ধে প্রকাশিত হয়। তার সেই লেখাগুলো নিয়ে কখনো কোনো আপত্তি ওঠেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে বিকেল আড়াইটার দিকে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিশিষ্টজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানো যাবে না। একাত্তর আগে, বাকি সব পরে। বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না।’
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জেনে এসেছে যে স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তি এবং নেতৃত্বদানকারীদের অবদান সরকার স্বীকার করে। আমরা কারো বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না। সবাইকে একসঙ্গে একাত্তরের ইতিহাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্মান জানাতে হবে। একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে তা মিলবে না।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে (৭৬) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরের দিকে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড় এলাকার মৃত আজিমদ্দিনের ছেলে এবং জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার।
অভিযান প্রসঙ্গে ওসি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি বগুড়ার একটি বিশেষ দল ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার রমনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর নামে গত বছরের ৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক সংশ্লিষ্ট আরও অন্তত ১০টি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশের প্রতি অবিচল সমর্থন ও সংহতির কথা আবারও জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি নবগঠিত সরকারের প্রতিও আন্তরিক শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট গুরুত্ব পায় বৈঠকে মহাসচিব বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদারতা ও নেতৃত্বকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক তেল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এর প্রভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. খলিলুর রহমান সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব আমন্ত্রণটি সাদরে গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে এটিই তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হওয়ায় অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা তাদের ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পরস্পর কুশল বিনিময় করেন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় উভয়ই গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে শৈশব ও কৈশোরে তার বঙ্গভবনে আগমনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই রাষ্ট্রীয় শীর্ষ ব্যক্তিত্বের এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশের ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক দিনটি স্বাধীনতা ও ভবিষ্যতের আশার প্রতীক, যা দেশটির অব্যাহত উন্নতির পথে সকল নাগরিককে অনুপ্রাণিত করবে। মালদ্বীপ বাংলাদেশকে একটি বিশ্বস্ত প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে বলে তিনি তার বার্তায় পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান নিবিড় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজকের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে ১৯৭১ সালের সেই মুহূর্তটিকে, যখন ৫৫ বছর আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার ডাক এসেছিল। ২৬ মার্চ ভোরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনার মাধ্যমে রচিত হয়েছিল বাঙালির ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অধ্যায়।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের এই শুভেচ্ছা বার্তা দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান ইতিবাচক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভ্রাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে এবং বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বুধবার (২৫ মার্চ) পদ্মা নদীতে বাস পড়ে এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ৩নং পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ডুবে যাওয়া বাসটি নদী থেকে টেনে তোলার পর ভেতর থেকে আরও ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
বর্তমানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বাসের ভেতর আর কেউ আটকে আছে কিনা তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
এই শোকাবহ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে নিহতদের দাফনকার্যের জন্য পরিবারপ্রতি ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজ তদারকি করছেন এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউজে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’- এর সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউজে এই অনুষ্ঠান হয়। এই সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টির অধিক দেশের ফাস্ট লেডি ও রাষ্ট্র নেতাদের সহধর্মিণী অংশগ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তার আমন্ত্রণেই জুবাইদা রহমান দুই দিনের সম্মেলনে অংশ নেন। তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক সার্জন শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান।
মিডিয়া সেল জানায়, বুধবার সকালে হোয়াইট হাউজে মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও সম্মেলনের আয়োজক মেলানিয়া ট্রাম্প জুবাইদা রহমানসহ আগত সব অতিথিদের স্বাগত জানান। জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে দুই নেত্রী শিশুদের কল্যাণে একযোগে কাজ করার জন্য একমত হন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জুবাইদা রহমান।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট লেডি ছাড়াও বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশলাদি বিনিময় করেন জুবাইদা রহমান।
গত ২৩ মার্চ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিটে’ যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন জুবাইদা রহমান। লন্ডন যাত্রা বিরতি করে তিনি যুক্তরাষ্ট্র যান। পরে ডা. জুবাইদা ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। তার বক্তব্যে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
বিএনপির মিডিয়া সেল জানায়, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শিশুদের কল্যাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের পক্ষে জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সাক্ষাৎকারে জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞানার্জন এবং বিশ্বের সব শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অন্যান্য ফার্স্ট লেডি ও স্পাউসদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। জুবাইদা রহমান এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলের জন্য জোরদার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৫ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান।
তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্যের লাখ লাখ শিকারদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা সাহসী মানুষের অদম্য মানসিকতার প্রশংসা করেন। ড. খলিলুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাস বাণিজ্য মানবজাতির ওপর এক স্থায়ী দাগ রেখে গেছে।
দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা ও সকল প্রকার নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্য প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।
১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদিও দাসত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে, এর প্রভাব আজও সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান।
তিনি মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় এবং দাসত্ব ও দাস বাণিজ্যের মানব ও সভ্যতাগত ক্ষতির বিষয় সম্পর্কে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
নানা আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, এ ব্লকের দ্বিতীয়তলায় বিএমইউ এর ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে রোগীদের জন্য উন্নতমানের খাবার পরিবেশন ইত্যাদি। এছাড়া রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়ার মাজারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বীরউত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে বিএমইউ প্রশাসন। এসময় বিএমইউর শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন। পরে বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সেখানে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬ইং তারিখ সকালে বিএমইউ ক্যাম্পাসে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। এসময় সেখানে সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, সার্জারি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, নার্সিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মোঃ মনির হোসেন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আয়েশা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন), কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, ডীনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানবৃন্দ, অফিস প্রধানগণ, শিক্ষকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অপর্ণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের এবং জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীন হয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশে এখন গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে। এখন সময় ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার। সেই লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।
এসময় সম্মানিত প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার সেই লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই নারীদের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষ পূর্তিতে আমাদের প্রত্যাশা নারী-পুরুষসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে উন্নত ও মর্যাদার উচ্চ শিখরে সু প্রতিষ্ঠিত হবে।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ গণতন্ত্রের আলোর পথে আবার চলতে শুরু করেছে। এই পথেই বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, মানুষের মুখে হাসি ফোটবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল খাতে সাফল্যের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
বিএমইউর উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় দিবসের এ সকল কর্মসূচীতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ আদনান হাসান মাসুদ, ড্যাবের উপদেষ্টা ও বিএমইউ এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার (আইন) ডা. আবু হেনা হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম নওরোজ, বিএমইউ এর চিকিৎসক ডা. আকবর হোসাইন, উপ-রেজিস্ট্রার সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ হুমায়ুন কবীর, কর্মকর্তা জিসান উদ্দিন আহমেদ, মোঃ ইলিয়াছ খাঁন প্রমুখসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ।
এরপর বিএমইউ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ শহীদ জিয়ার মাজারে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে এবং সেখানে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিএমইউ ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিএমইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এর সঞ্চালনায় বিএমইউর ভারপ্রাপ্ত ভাইস-চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার ছাড়াও ড্যাব নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মহাসচিব ডা. মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কেনান, ড্যাবের উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ডাম্বেল, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক, বিএমইউ ড্যাবের সভাপতি ও বিএমইউ এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক জননেতা তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই দেশবাসীকে ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, খাল খনন কর্মসূচী শুরু করেছেন, আগামীতে হেলথ কার্ড দিবেন। ভবিষ্যতে মানুষের ভাগ্য্যের উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিভিন্ন জাতীয় দিবস ছাড়াও দুর্যোগ ও সংকটকালে সময়োপযোগী কর্মসূচী পালন করে আসছে। আগামী দিনেও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর মতো মহতী আয়োজন অব্যাহত থাকবে। ড্যাবের উদ্যোগে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশে অবস্থিত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) মিচেল লি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে মিচেল লি প্রতিমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠক চলাকালে সিডিএ প্রতিমন্ত্রীকে চলমান দ্বিপক্ষীয় কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী জনগণের সম্পর্কের ওপর আলোচনা করেন। তিনি সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ইতিবাচক সুনামের কথা উল্লেখ করেন।
মিচেল লি জানান, চাঙ্গি বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালসহ আসন্ন বৃহৎ অবকাঠামো ও ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে দক্ষ ও আধা-দক্ষ উভয় ধরনের বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স দ্রুত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (বিএসএফটিএ) সম্পাদনে সিঙ্গাপুরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পে অব্যাহত সহযোগিতার অনুরোধ জানান।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং অগ্রগতি সহজতর করবে। প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে, বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো খাতে সিঙ্গাপুরের বৃহত্তর বিনিয়োগকে আমন্ত্রণ জানান।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে ডিজিটাল সুশাসন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে, বিশেষ করে আইসিটি-সম্পর্কিত খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা প্রদানে দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ব্যয় হ্রাসের ওপর সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগে বিনিয়োগসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করে। সিঙ্গাপুর পক্ষ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সুযোগ অন্বেষণে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য পণ্য চিহ্নিত ও প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিঙ্গাপুরের পক্ষ থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাদ্য আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। তারা সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেট চেইনগুলোর মাধ্যমে আম ও সামুদ্রিক খাবারের মতো কৃষিপণ্যসহ বাংলাদেশ থেকে সম্ভাব্য আমদানির ওপর আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী পাট, সিরামিক এবং চামড়ার পণ্যের মতো বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্যও উৎসাহিত করেন। উভয় পক্ষ লক্ষ্যভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে। প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের সম্ভাব্য বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং সরকারের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতির ওপর আলোচনা করেন।
উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং এ বছর ঢাকায় পরবর্তী পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভার আয়োজনের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানায়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পৃথক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি এই বন্ধুত্বপূর্ণ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এই বার্তার মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং তাঁর অভিনন্দন বার্তায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, চীন ও বাংলাদেশ কেবল ভালো প্রতিবেশী নয়, বরং একে অপরের অকৃত্রিম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত অংশীদার। শি জিনপিংয়ের মতে, দীর্ঘকাল ধরে দুই দেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে এবং একে অপরের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি মনে করেন, ঢাকা ও বেইজিংয়ের এই সুসম্পর্ক বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র-রাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল বা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শি জিনপিং তাঁর বার্তায় আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করা এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
একই দিনে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বার্তায় তিনি দুই দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। এছাড়া, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন। এসব বার্তায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক অগ্রগতির প্রশংসা করে বেইজিং আশা প্রকাশ করেছে যে, সামনের দিনগুলোতে এই বন্ধুত্ব আরও টেকসই ও শক্তিশালী হবে। স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ মুহূর্তে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আসা এই উচ্চপর্যায়ের অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী কূটনৈতিক মেরুকরণেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, এমপি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।