সোমবার, ৪ মে ২০২৬
২১ বৈশাখ ১৪৩৩

বাদ পড়ছে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ প্রকল্প

বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা
আপডেটেড
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:৩০

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাদ দেওয়ায় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটে বড় ধরনের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে তা ছেঁটে ছোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একনেকের সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে নেওয়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় অনুযায়ী ভালো ফল বয়ে আনবে বলে মনে হয় না।

একনেক সভা শেষে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় উন্নয়ন বাজেট ছোট হবে।’

চলতি অর্থবছরের চার মাসে রেকর্ড সর্বনিম্ন ৮ শতাংশ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। এই নিম্ন বাস্তবায়ন বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, তাদের ক্ষেত্রে এ হার ১২-১৩ শতাংশ।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি ধীর রয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই থেকে অক্টোবর) এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম একনেক সভায় উন্নয়ন বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গৃহীত অনেক প্রকল্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যয়ের তুলনায় ভালো ফল বয়ে আনবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়নি এগুলো কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে। তাই আমরা সেগুলো বাদ দিয়েছি। সাধারণত সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট কিছুটা সংকুচিত হয়, এবার অনুপাতটা বেশি হবে।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যেত।

‘তবে এবার বাস্তবায়ন পর্যায়ে দুর্নীতিমুক্ত ও অনিয়মমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দায়ী থাকবে’ বলে জানান তিনি।

এ কারণে চলমান প্রকল্পগুলোতে সংশোধন আনা হয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোতেও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হয়েছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ঋণদাতাদের ঋণ দেওয়ার সময় কিছু শর্ত থাকে, তাদের বোঝানোর পর সংশোধন করা হয়।’

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অনেক চলমান প্রকল্প পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ফলে প্রকল্পগুলো সচল রাখতে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে সরকার।

একনেক ব্রিফিংয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, মন্ত্রণালয়গুলো স্থিতিশীল অবস্থায় নেই, তাই নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে সেই প্রস্তুতিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোনো ধাঁচের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প বাদ দিয়ে উদ্ভাবনী ও নতুন ধরনের প্রকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গভীর চিন্তা-ভাবনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রকল্পটি ব্যয়ের বিপরীতে একাধিক ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন।

তারা বলেছেন, নতুন ধরনের এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ বিষয়।

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে।

এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ৬৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা (বরাদ্দের ২৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত।

এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি।

২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বাকি ১ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে পাওয়া যাবে।

নতুন এডিপিতে ১ হাজার ১৩৩টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২১টি সমীক্ষা প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ৮৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের ৮০টি প্রকল্পসহ মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপির মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১১ হাজার ৬৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

সে হিসেবে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ১৩ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার এডিপি নিয়ে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

বরাদ্দের দিক থেকে শীর্ষ ১০ খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ) পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাতে ৩১ হাজার ৫২৯ কোটি টাকা (১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ), আবাসন খাতে ২৪ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা ২০ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৮০ শতাংশ), স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন খাত ১৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ), কৃষি খাত ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৫ শতাংশ) এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা (১ দশমিক ২৫ শতাংশ)।

শীর্ষ ১০ খাতের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা (মোট এডিপির ৯০ দশমিক ২৫ শতাংশ)।

২০২৫-২২ অর্থবছরের নতুন এডিপি অনুযায়ী, বরাদ্দ গ্রহণকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হলো স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৮ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫ শতাংশ), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩২ হাজার ৪২ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিভাগ ২৯ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা (১১ দশমিক ২৮ শতাংশ), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৬ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা (৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ১৩ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা(৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৩ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা (৫ দশমিক ৩১ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১১ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা (৪ দশমিক ৪০ শতাংশ), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা (৪ দশমিক ০১ শতাংশ) এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ)।

১০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বিপরীতে মোট বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা, যা সামগ্রিক এডিপি ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশ।

সূত্র: ইউএনবি


বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ধ হয়ে থাকা বস্ত্র ও পাট খাতের কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সেগুলো পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৪ মে) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খাতটির বিদ্যমান সমস্যা, আর্থিক চ্যালেঞ্জ এবং পুনরুজ্জীবনের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ জানান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কল-কারখানার বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, বৈঠকে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বন্ধ কারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। আজ সোমবার (৪ মে) সকালে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান।

তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চলমান অগ্রগতি নিয়েও পর্যালোচনা করেন এবং উভয় দেশের নতুন সক্ষমতা ও নতুন আকাঙ্ক্ষার দ্বারা চালিত এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার উভয় দেশের নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সকল ক্ষেত্রে জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ভারতের অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনারের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তার নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।


উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত: তিন জেলার আট পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে নদী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে চলা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী স্টেশনের সংখ্যা ৬টি থেকে বেড়ে ৮টিতে পৌঁছেছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং পানির এই ক্রমবর্ধমান চাপ স্থানীয় জনপদে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর পয়েন্টে নলজুর নদীর পানি গত একদিনে ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও জেলার অন্যান্য হাওর অঞ্চলে পানি বাড়ার গতি কিছুটা ধীর এবং ঘণ্টায় গড়ে শূন্য থেকে ১ সেন্টিমিটার হারে বাড়ছে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। অন্যদিকে, নেত্রকোনা জেলায় ধনু-বাউলাই নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মগরা নদীর পানিও নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে বিপৎসীমার যথাক্রমে ৭৯ ও ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপৎসীমার বেশ ওপরে অবস্থান করছে। বর্তমানে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। হবিগঞ্জ জেলাতেও নদ-নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আজমিরিগঞ্জে কালনি নদীর পানি ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সুতাং রেল ব্রিজ পয়েন্টে সুতাং নদীর পানি ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুর-বাগান এলাকায় ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা উজান থেকে পানির প্রবাহ বাড়িয়ে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উজানের পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় অতিবৃষ্টির কারণে হাওর বেসিনের নদীগুলোয় পানি সমতল আগামী কয়েক দিন আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলগুলোতে কৃষি জমি ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস না পেলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের সার্বিক কাজ অনুসন্ধানে কমিশন চেয়ে রিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

এই সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতাও রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রোববার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে বর্তমান সরকারের শপথ ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরও একটি রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন এই আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সেই আবেদনটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে সুপ্রিম কোর্ট অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে আদেশ প্রদান করেন।


সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়

* বাজার সিন্ডিকেট দমন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা * ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধের নির্দেশনা * মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট জোরদারে নির্দেশনা * স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর ওপর গুরুত্বারোপ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের মতো জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সরকার যে রকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানেই যে কোনো সময়ে জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন। রোববার, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন
বাজার সিন্ডিকেট দমন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ; মাদক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট জোরদার; স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীরে ওপর গুরুত্বারোপ করে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, সেখানে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব, সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার ওপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। ৩০ লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি, সব দেশই কমবেশি অ্যাফেক্টেড (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে, বাংলাদেশও হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, সকলের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিং এর জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হবেন, তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই দুর্নীতি পরায়ণতা ও অপেশাদারীত্বের অন্যতম কারণ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন। দেশের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় জনপ্রশাসনের যে কোনো পদে দায়িত্ব পালনে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সঙ্গে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের যে কোন ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা করবেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, বাল্যবিবাহ রোধসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যেগুলো আপনাদের সক্ষমতার মধ্যেই আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন-দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের অবস্থান থেকে পদক্ষেপ নেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’
প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেন:
বাজার সিন্ডিকেট দমন: কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি সহ্য করা হবে না। নিয়মিত বাজার তদারকির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
খালখনন ও কৃষিবিপ্লব: প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচিতে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা। এটি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা।
ডিজিটাল ও স্মার্ট প্রশাসন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাকে আরও দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করা।
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী: কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের সঠিক বণ্টন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন।
মোবাইল কোর্টের কার্যকারিতা: খাদ্যে ভেজাল, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টকে আরও নিয়মিত ও দৃশ্যমান করা।
মাদক ও আইনশৃঙ্খলা: মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ: সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন কোনো অনিয়মের শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা।
স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ জনগণের শহরমুখিতা হ্রাস করতে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা।
জাতীয় ঐক্য ও সেবা: রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মতনির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
সম্মেলন উদ্বোধনকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টামণ্ডলী, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, সশস্ত্রবাহিনীর প্রধানগণ, অন্যান্য উধ্বতন কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনারগণ এবং জেলা প্রশাসকগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট অধিবেশন হচ্ছে ৩৪টি। এর মধ্যে কার্য অধিবেশন ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। ৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীগণ সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে।


পুলিশের ১৬ ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের ১৬ জন ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।


এমপি হিসেবে এনসিপির নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমপি হিসেবে এনসিপির নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম ও মনিরা শারমিন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন জানানো হয়েছে। রোববার (৩ মে) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এই আবেদন জানিয়েছেন দলটির আরেক নেত্রী মনিরা শারমিন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া চিঠিতে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা উচিত হবে না। অন্যথায় তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।

চিঠিতে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয় এবং পরে আপিলও খারিজ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে ৪ মে। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ না করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, মনিরা শারমিনের রিটের রায় অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত যদি তার পক্ষে রায় দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটগ্রহণ হতে পারে। আর রিট খারিজ হলে নুসরাত তাবাসসুমই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত হবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের ৪৯ প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও এই আসনটি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি।


ট্রাফিক আইন অমান্যে আধুনিক নজরদারি: হাজিরা না দিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। ডিএমপির ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই অপরাধগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক ও চালকদের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। মূলত ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা হাজিরা না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নোটিশ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে আদালতের সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রম সম্প্রতি শুরু হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্বলিত উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে লাল বাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো এবং লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা করা হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও এই পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, স্বয়ংক্রিয় নোটিশের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের নামে আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অসাধু চক্র যদি সিসি ক্যামেরা মামলার নাম দিয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেবল বৈধ সরকারি পন্থায় এবং ট্রাফিক বিভাগে সশরীরে হাজির হয়েই জরিমানা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ডিএমপির এই নতুন উদ্যোগটি নগরবাসীর যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে এবং উন্নত নাগরিক সেবা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াও দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত হবে, যা চালকদের আইন মানতে বাধ্য করবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়াকে বেগবান করায় ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগরীর সড়ক ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পর্যায়ক্রমে পুরো শহরকে এই উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে।


১৬ মে চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ৩ মে, ২০২৬ ১৬:৩০
চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর যাচ্ছেন। রোববার (৩মে) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সভা, প্রচার কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সফরকালে তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তিনি সুধী সমাবেশ ও একটি বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর আসবেন। তিনি খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮০ জন বাসিন্দার জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম বলেন, জনসভার স্থান চাঁদপুর স্টেডিয়ামে হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তাবনা কেন্দ্র পাঠিয়েছি। যাছাই-বাছাই জনসভার স্থান নির্ধারত করা হবে। তবে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান চাঁদপুর সফরে এসেছিলেন।


৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। আড়াই মাসে কিছুটা পরিস্থিতিরি উন্নতি হলেও তা এখনও সন্তোষজনক না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে।”

ডিসিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা আপনারা জানেন। তাই দেশকে বন্যা ও খরা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখবেন। সততা, মেধা ও দক্ষতাই সরকাররে নীতি। এসব দেখেই পদন্নতি বা বদলি করবে সরকার, এটাই বিএনপির নীতি।”

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান সরকার প্রধান।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

ডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে আসেন তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।


হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়াও একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ১৭০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।

চলতি বছর এ পর্যন্ত হামে ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩১টি শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৩৮ হাজার ৩০১টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬ হাজার ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫০।


থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছে ডাকাতির কাজে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র–সরঞ্জামসহ দুজনকে আটকের পর এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া। তবে কোন থানার সেটি নির্দিষ্ট করতে পারেনি তারা।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন—চক্রের ‘হোতা’ মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হান।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, দুজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া নম্বরপ্লেট, র‍্যাবের জ্যাকেট, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, স্টিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। তারা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে আসছিল। কখনো র‍্যাব, পুলিশ আবার কখনো যৌথবাহিনীর পরিচয়ে অভিযানের নামে ডাকাতি করত তারা।

কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘আলামিন এই চক্রের অন্যতম নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র‍্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায়ও সে আসামি।’

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে ডাকাতি মামলায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়ায় আলামিন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলার তথ্য পেয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের ‘গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তিনি ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতেন বলে জানায় র‍্যাব।


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন, ৮৩ ল্যাপটপ গায়েব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৮৩টি ল্যাপটপ গায়েব হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা বোরকা পরা এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বরত আনসার সদস্য আনোয়ারুল হঠাৎ নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের ধোঁয়া দেখে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আইয়ুব আলীকে খবর দেন। আইয়ুব আলী ঘটনাটি মোবাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী এমাম হোসেনকে জানালে তিনি ৯৯৯ এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার অস্থায়ী স্টোররুমের তালা কৌশলে খুলে কিছু মালামাল ও ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি ৫ বার ওই কক্ষটিতে প্রবেশ করে। যাওয়ার সময় তিনি কক্ষটিতে আগুন ধরিয়ে সটকে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে দেখা যায়, ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি।


banner close