বাংলাদেশের কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
তার স্বামী সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
তিন বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে চলা একুশে পদকপ্রাপ্ত এই সংগীতশিল্পীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল বুধবার তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও দুই মেয়ে জারা সারোয়ার ও জিশা সরওয়ার পাপিয়াকে রেখে গেছেন।
বরিশালের এক সংগীতপ্রেমী পরিবারে জন্ম নেওয়া পাপিয়া সরওয়ার ভারত সরকারের বৃত্তির মাধ্যমে ১৯৭৩ সালে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত শেখেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনিই প্রথম এই বৃত্তি লাভ করেন।
এর আগে তিনি ১৯৬৬ সালে ছায়ানটে প্রখ্যাত গুরু আতিকুল ইসলাম, ওয়াহিদুল হক, সন্জীদা খাতুন এবং জাহিদুর রহিমের কাছ থেকে তার প্রাথমিক সংগীত প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নিয়মিত ছিলেন।
পাপিয়া সারোয়ার তার বর্ণাঢ্য সংগীত জীবনে রবীন্দ্রসংগীতে দক্ষতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা এবং অসংখ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
১৯৯৬ সালে, তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের মাঝে তার জ্ঞান বিতরণের জন্য গীতোসুধা নামে একটি সংগীত দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তার গাওয়া আধুনিক গান 'নাই টেলিফোন নে রে পিঁও নেই রে টেলিগ্রাম' বাংলা সংগীতপ্রেমীদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
এছাড়া নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে টেলিভিশন জগতে সুপরিচিত ও প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন তিনি।
দেশের সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য পাপিয়া সারোয়ার ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি থেকে রবীন্দ্র পুরস্কার, ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি ফেলোশিপ এবং ২০২১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।
একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় পর্যায়ের একাধিক ক্যাম্পেইন এবং মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশেই এখন ফিরে এসেছে ভয়াবহ হাম। শুধু কয়েক হাজার নয়, আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে; প্রায় ২০ হাজার রোগীর সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার পেরিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখে থাকা দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স বলেছে, এটি নিছক একটি সংক্রামক রোগের বিস্তার নয়। এর পেছনে উঠে আসছে টিকাদানের ধারাবাহিক ঘাটতি, নিয়মিত কর্মসূচির দুর্বলতা, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে যাওয়া, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে বড় প্রশ্ন—প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ কেন এমন পর্যায়ে গেল এবং বর্তমান সংকটের জন্য কার কতটা দায়?
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হামের উপসর্গে নতুন করে আরও ৩ জন মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে চলতি বছর এক হাজার ২ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গে ৯০২ জন মারা গেছে।
অধিদপ্তর জানায়, নতুন করে ৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৯ হাজার ৯০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরাই আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল। নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা সাধারণ নিয়মে হাম টিকার বয়সে পৌঁছায় না। ফলে তাদের সুরক্ষা অনেকাংশে নির্ভর করে আশপাশের মানুষের উচ্চ টিকাদান কভারেজের ওপর। কিন্তু সেই সুরক্ষার দেওয়ালেই বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও প্রতিরোধের কার্যকর উপায় বহু বছর ধরেই পরীক্ষিত—টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় রাখা গেলে ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় এই মাত্রার কাছাকাছি কভারেজ ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। কিছু কর্মসূচি পিছিয়েছে, কিছু বাতিল হয়েছে। ফলে টিকার বাইরে থাকা শিশুদের একটি বড় জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। মহামারি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও কয়েক বছর পর তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে নিশ্চিত হাম রোগী ছিল মাত্র ৩১১ জন, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২৪ সালে ২৪৭ এবং ২০২৫ সালে ১৩২ জন। অথচ ২০২৬ সালে সংখ্যা কয়েক হাজার পেরিয়ে প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন বাংলাদেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা কতটা গভীরে গেছে, সেই প্রশ্নই সামনে আনে।
ইউনূস সরকারের সময়ে নীতির পরিবর্তন: সংকটের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন।
রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে যে প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হতো, সেটি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রের দিকে যাওয়া হয়। এ পরিবর্তন নিয়ে ইউনিসেফ উদ্বেগ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আশঙ্কা ছিল, নতুন প্রক্রিয়ায় সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে। এখানেই বর্তমান সরকারের নীতিগত দায়ের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কারণ, কোনো প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা একটি মৌলিক বিষয়। সম্ভাব্য বিলম্বের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরবরাহ ঝুঁকি কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সংকট দেখা দেওয়ার পর কেন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
তবে পুরো বিপর্যয়ের দায় এককভাবে ইউনূস সরকারের ওপর চাপানোও বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র হবে না। টিকাদানের দুর্বলতা এক দিনে তৈরি হয়নি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ের নজরদারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে নীতিগত পরিবর্তন ও সরবরাহ বিলম্ব যদি সংকটকে আরও বাড়িয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায়ও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আরেকটি বড় প্রশ্ন জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যায়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে জরুরি কর্মসূচি শুরু করতে হয়। অর্থাৎ সংক্রমণ যখন ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, তখনো দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় টিকাদান কার্যক্রম মাঠে নামেনি।
৫ এপ্রিল প্রথমে ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সহায়তায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি শিশু টিকার আওতায় আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই উদ্যোগ যদি আরও আগে নেওয়া হতো, তাহলে কি সংক্রমণের বিস্তার এতটা ভয়াবহ হতো? আরেকটি অসঙ্গতি উঠে এসেছে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রায়।
জরুরি কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। অথচ একই বয়সি শিশুদের নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ। দুই কর্মসূচির হিসাবের পার্থক্য প্রায় ৪৬ লাখ।
এই ব্যবধানের ব্যাখ্যা জরুরি। একই বয়সি শিশুদের তালিকা যদি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে এত বড় হয়, তাহলে হাম টিকাদানের সময় সেই শিশুদের একটি বড় অংশ কোথায় গেল—এ প্রশ্নের উত্তর ছাড়া টিকাদান কর্মসূচির প্রকৃত কভারেজ বোঝা কঠিন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের বক্তব্যে সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—মাইক্রো-প্ল্যানিং।
নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে প্রথমে টিকার উপযোগী শিশুদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, টিকাদানের স্থান ও সময় নির্ধারণ এবং বাড়ি, স্কুল বা স্থানীয় কেন্দ্রে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। জরুরি কর্মসূচিতে দ্রুত মাঠে নামার কারণে এই প্রস্তুতি যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোথাও মানুষকে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ বা মাইকিংয়ের মতো উদ্যোগ যথেষ্ট ছিল না। ফলে যারা নিজেরা কেন্দ্রে আসতে পারেনি, তাদের একটি অংশ বাদ পড়ে গেছে।
বিশেষ করে ভাসমান, ঠিকানাবিহীন ও পথশিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকলে কাগজে কভারেজ বাড়লেও প্রকৃত জনগোষ্ঠী সুরক্ষিত হয় না। টিকাদানের ঘাটতির সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সংকটকে তীব্র করেছে।
ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ সামলাতে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩৫০ রোগীর সক্ষমতার হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে একই সময়ে দুই সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে।
হামের রোগীদের ক্ষেত্রে শিশুদের অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই শুধু টিকা নয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন পরিবারের কথাও, যাদের সন্তান অসুস্থ হওয়ার পর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে। এক শিশুর মা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়ার সময় সন্তান অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা দেখায়, সমস্যাটি শুধু ‘মানুষ টিকা নেয়নি’—এত সরল নয়। কোথাও পরিবার টিকা দিতে পারেনি, কোথাও টিকা মেলেনি, কোথাও কর্মসূচির তথ্য পৌঁছেনি। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহ—দুই দিকেই ঘাটতি ছিল।
ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, শুধু টিকা নিতে আসা শিশুদের টিকা দিলেই হবে না; যারা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি টিকাবঞ্চিত শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যেও টিকাদানের ঘাটতি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে ভাসমান শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ব্যবস্থা, উপজেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর রোগীদের স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। জ্বরের ক্ষেত্রে হাম ও ডেঙ্গু—দুই সম্ভাবনাই বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ জরুরি।
বাংলাদেশে হামের এই বিপর্যয়কে শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি রাষ্ট্রীয় টিকাদান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়ে বড় পরীক্ষা।
দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার দায় যেমন আগের সময়গুলোর ওপর রয়েছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন, সরবরাহ বিলম্ব এবং জাতীয় কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তগুলোর দায়ও খতিয়ে দেখা দরকার।
বিশেষ করে ইউনিসেফের সতর্কতার পরও যদি সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তাহলে সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছিলেন, কী ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা কেন আগে নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। টিকা সংগ্রহের নথি, ক্রয় প্রক্রিয়া, সরবরাহের সময়সূচি, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের কভারেজ—সবকিছুর স্বাধীন পর্যালোচনা জরুরি।
কারণ হাম প্রতিরোধযোগ্য। শিশুর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল না। বহু বছর যে রোগকে টিকার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল, সেটিই যদি আবার হাজার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন শুধু ভাইরাসের নয়—প্রশ্ন রাষ্ট্রের প্রস্তুতি, সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির।
বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি কাজ—সংক্রমণ থামানো এবং কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার উত্তর খুঁজে বের করা। প্রথমটি জরুরি, দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
উন্নয়ন প্রকল্প বারবার সংশোধন করে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা যাচাই শক্তিশালী করা, বাস্তবায়ন পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি বাড়ানো এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোকে তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে আসলে পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না, বরং অনেকগুলো কারণ থাকে। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি হয়।’ প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে শেষ না হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্বল প্রকল্প প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ঘাটতি, সঠিক ব্যয় নির্ধারণে সমস্যা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বেড়ে যায়। এসব সমস্যা ঠেকাতে অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন শুরুর প্রস্তুতিও দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের বিদ্যমান নির্দেশনা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ও ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং পুরো রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইলেকট্রিক ট্রেন চালানোর উদ্দেশ্যে ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের সময়সূচি নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি চালু হলে ট্রেনের গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গতি বাড়বে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই এবং নিয়মিত পর্যালোচনাও জোরদার করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।’
যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন, পুনর্বিন্যাস কিংবা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় যাচাই করে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: শিল্প খাতে আকস্মিক গ্যাস সংকটের প্রভাব কমাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে।
সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কাজও চলছে।
ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে মূল ভূখণ্ডে নিতে লাগবে ৭ বছর: ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
ভোলায় গ্যাসভিত্তিক একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গ্যাসনির্ভর শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন এলএনজি টার্মিনালসহ ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা: বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা।
এর আগে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে পরিবেশবান্ধব ও দ্রুতগতির ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে এই ট্রেন চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা জরিপ ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই কাঙ্ক্ষিত মেগা প্রকল্পটির বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্তে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’ ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত, সময় ও দূরত্ব কমানোর জন্য সরকারের নেওয়া এই পরিকল্পনা সংসদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে। আশা করি, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং গড় গতি বাড়বে। অল্প সময়ের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম আধা ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রশ্ন ও সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত ও ১ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ জন সৈনিক নিহত এবং ১ জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
আইএসপিআর আরও জানায়, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে যথাযথ ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) যৌথ আয়োজনে ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘টেকসই তামাক ও ধূমপানমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালু থাকবে।’
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। পাশাপাশি প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএর সব কার্যালয়কে তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা; পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।
চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের ফলে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। ফলে ধূমপান না করেও একই ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বক্তারা বলেন, ‘বিআরটিএর আওতাধীন পাবলিক পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের জন্য যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যাতে যাত্রী, চালক বা হেলপার—কেউই পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে না পারেন।’
পাশাপাশি, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত-২০১৩) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা লেখার সুপারিশ করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক (প্রোগ্রামস) ড. মাহিন মালিক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের অধীনে রয়েছে। আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুতই এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গত ২ সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার মুখে রয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব শিগগিরই আদেশ জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও উচ্চ উভয় গ্রেডেই মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। যেমন—২০তম গ্রেডের বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা তিন ধাপে মূল বেতন হবে যথাক্রমে ১৪,১২৫ টাকা, ১৭,০৬২.৫০ টাকা এবং ২০,০০০ টাকা। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৬,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১,০৯,২০০ টাকা, ১,৩২,৬০০ টাকা এবং ১,৫৬,০০০ টাকা। এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে এই গ্রেডের বেসিক হবে যথাক্রমে ৩০,৮০০ টাকা, ৩৭,৪০০ টাকা এবং ৪৪,০০০ টাকা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করা হবে।
নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বা বেসিক বাড়লেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একই সময়ে কার্যকর হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় এসব ভাতা প্রদান করা হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকারের রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আমলযোগ্য হওয়ায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ বুধবার দুদকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি দুদকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কারণ এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুযায়ীই সংস্থাটি অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়।
‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে দুদকের অবস্থান
ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে। এর আগে তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় দুদকের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বুধবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে বারবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। জবাবে দুদক সচিব বলেন, মুখপাত্রের আগের বক্তব্যকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো স্লিপ অব টাং হিসেবে বের হয়ে গেছে। আমরা এটাকে অফিশিয়ালি গ্রহণ করছি না। আইন যেভাবে বলেছে, সেভাবেই আমরা প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করছি।’
এরপর সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে দুদক আদৌ কোনো প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কি না। জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এখনো এটা বলার সময় হয়নি। আরও অনুসন্ধান হবে। এ পর্যায়ে এটা বলার কোনো সুযোগ নেই।’
যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান
অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে দুদক সচিব বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করে। এরপর ওই কমিটির মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর অবশ্যই কোনো মন্তব্য, সুপারিশ বা মতামত থাকে। সেই মতামতের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।’
আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘এই অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথি ও ফাইল চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’
সাংবাদিকেরা জানতে চান, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল কি না। জবাবে সচিব বলেন, প্রতিবেদনটি এ মুহূর্তে তাঁর কাছে নেই। ফলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।
কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নিয়ে দুদকের অবস্থান
অনুসন্ধান চলাকালে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশনের তিন সদস্য সব বিষয় পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনজন কমিশনার রয়েছেন। কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে।’
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, কেউ সংক্ষুব্ধ মনে করলে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। দুদকও আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করবে।
ব্রিফিংয়ের শেষে দুদক সচিব বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তাঁর সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আগের চেয়ে কিছুটা ভালো এবং উন্নতির দিকে রয়েছে।
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর পরিচিত লোকজন তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তাঁর পাকস্থলী ওয়াশ করেন এবং চিকিৎসা দিয়ে একটি সাধারণ ওয়ার্ডে রাখেন।
তবে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ জানান, মেঘমল্লার বসুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল ছিল। ফুসফুসে কফ জমে যাওয়া এবং অজ্ঞান থাকার কারণে নিজে থেকে কাশতে না পারায় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে ফুসফুসের কফ পরিষ্কার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের স্বার্থেই চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।
বুধবার রাতে মাঈন আহমেদ আরও নিশ্চিত করেন যে মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে রয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাড গুরুতর (ক্রিটিক্যাল) ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ত্রুটি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলেও সবগুলো গুরুতর নয়। এর মধ্যে ৪৯৭টি ত্রুটি ‘মাইনর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত।
মন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
’ একইসঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এরই মধ্যে ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট ও ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।
চিহ্নিত ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৬টি পিলারের ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে।
ফাটল পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র অবলোকনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।" এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও তার সঙ্গে ছিলেন।
বুধবার বেলা এগারোটার দিকে জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান। এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান।
সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো টিকিট কেটে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন। বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং আয়নাঘরের রেপ্লিকা ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বলপ্রয়োগে গুম ও নির্যাতনের নানা সামগ্রী প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুক্তিকামী শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, স্মারক ও ব্যক্তিগত চিঠি দেখে তিনি গভীরভাবে আবেগতাড়িত হন। একইসঙ্গে ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে অশ্রুসিক্ত হন তিনি। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি ব্যক্ত করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
রাষ্ট্রপ্রধান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।" তিনি বীর শহীদদের অবদান ও আহতদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এ অনুষ্ঠানে জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিদর্শনকালে জাদুঘরের গবেষণাদলের প্রতিনিধি জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথিপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
বিবাহ ও বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও তথ্য জালিয়াতি প্রতিহত করতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এদিন আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, নতুন এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে এক ক্লিকেই যে কারও বৈবাহিক সংক্রান্ত সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, পাশাপাশি জালিয়াতিও রোধ হবে।’ এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিসা আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক তথ্যাদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাইয়েও এই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম হিসেবে এই ডিজিটাল নিবন্ধন চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে এ প্রকল্পে ব্র্যাককে অংশীদার করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার জন্য নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতেই এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক তাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাজ করছে। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাজিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় নয়। আমরা শুধু তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়।
মঙ্গলবার জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস