মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
২২ বৈশাখ ১৪৩৩

অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে হাসিনার সমালোচনায় সমর্থন দিচ্ছে না ভারত: মিসরি

ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৮:২১

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকার নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনার পক্ষে অবস্থান নেয়নি ভারত। এটিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য ছোটখাটো ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন তারা।

গতকাল বুধবার কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিসরি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ভারতের মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মিসরি বলেন, শেখ হাসিনা তার মতামত প্রকাশের জন্য 'বেসরকারি যোগাযোগের চ্যানেল' ব্যবহার করছেন। ভারত তাকে তার মাটি থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুবিধা দেয়নি।

অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির কথা তুলে ধরেন তিনি।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনার ভিডিও বার্তা প্রচারে পরই এই ব্রিফিং করা হয়।

মিসরি কমিটিকে জানান, এ সপ্তাহের শুরুতে ঢাকা সফরের সময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল’ বা নির্দিষ্ট সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয় এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকবে।

পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফরেন অফিস কনসালটেশনসহ বেশ কয়েকটি বৈঠক করতে সোমবার ঢাকায় আসেন বিক্রম মিসরি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব জসিম উদ্দিনের সঙ্গে পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে 'ইতিবাচক, গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক' হিসেবে দেখতে চান বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে এই পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক অব্যাহত না রাখার কোনো কারণ নেই।

এসব বৈঠকে মিসরি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা তুলে ধরেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল অংশীদার হলো জনগণ।

তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সংযোগ, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে বহুমুখী সম্পৃক্ততা সবই বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণের জন্য।


চট্টগ্রামের নতুন পুলিশ সুপার হলেন ডিসি মাসুদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলমকে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার প্রতিদিন লাখও মানুষের কাছে এক অসময় লড়াই।

স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার।

মঙ্গলবার (৫ জুন) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসেবায় সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তাবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার প্রতিদিন লাখও মানুষের কাছে এক অসময় লড়াই। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ, বেশি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও সার্বভৌম দেশ। আমাদের লক্ষ্য, আর কোনদিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়। নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠ্য সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়। অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনেরা জটিল সমস্যার সমাধান এবং চিকিৎসা যেন সহজে ও দ্রুত পায়। এই এলাকায় মূলত তাদের বসবাস, যারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাকশিল্পকে উজ্জ্বল করেছে। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু শতকরা ৪২.৬ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিনেরে স্বাস্থ্য সমস্যার সমধান খুঁজে স্থানীয় ফার্মেসিতে। তারা যে কোনো মূল্যে সুস্থ হতে চায়। যেন অসুস্থার জন্য ছুটি নিতে না হয়, যা সত্যিই অভাবনীয়।

এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ-খবর নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (ডা. জুবাইদা রহমান) যিনি আজকে আপনাদের সামনে এসেছেন। এটা দায়বদ্ধাতার প্রতিফলন। নির্বাচনের আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এই আসনের (ঢাকা-১৭) মানুষের সঙ্গে যেভাবে মিশেছেন, সেই দায়বদ্ধতা থেকে আজকেও এখানে আসা।


প্রধানমন্ত্রী কাছে ১৭ মন্ত্রণালয়ের ৩৮ অডিট রিপোর্ট জমা, উত্থাপন হবে সংসদে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অডিট রিপোর্ট জমা দেন সিএজি মো. নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৩৮টি অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। এগুলো জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

সরকারের ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এগুলোর আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের ওপর এই কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্টগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। যাতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা আছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থিত হয়ে এই রিপোর্টগুলো জমা দেন বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং এগুলোর অধীনে থাকা অধিদপ্তর, দপ্তর ও প্রকল্পসমূহের কর্মকাণ্ডের ওপর কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিট পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতিটি রিপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।

রিপোর্টগুলো জমা দেওয়ার সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ঈদযাত্রা: ট্রেনের অগ্রিম ও ফিরতি টিকিটের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বরাবরের মতো এবারও রেলওয়ের সব টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হবে। আগামী ১৩ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে যাত্রীরা রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। ঈদে যাত্রীদের সুবিধার্থে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালুর পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ ‘ক্যাটল ট্রেন’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১৩ মে পাওয়া যাবে ২৩ মে’র যাত্রার টিকিট। একইভাবে ১৪ মে ২৪ মে’র, ১৫ মে ২৫ মে’র, ১৬ মে ২৬ মে’র এবং ১৭ মে ২৭ মে’র টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে’র টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রেলওয়ে। ঈদযাত্রাকে সুশৃঙ্খল রাখতে একজন যাত্রী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ একবার ৪টি টিকিট কিনতে পারবেন। তবে উৎসবের ভিড় ও বিশেষ ব্যবস্থাপনার কারণে ঈদে কেনা টিকিট ফেরত বা রিফান্ডের কোনো সুযোগ থাকবে না।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রির তারিখও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২১ মে থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে, যা চলবে ২৫ মে পর্যন্ত। ২১ মে পাওয়া যাবে ৩১ মে’র টিকিট। পর্যায়ক্রমে ২২ মে ১ জুনের, ২৩ মে ২ জুনের, ২৪ মে ৩ জুনের এবং ২৫ মে ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। অগ্রিম টিকিটের মতো ফিরতি টিকিটও কেবলমাত্র অনলাইনেই পাওয়া যাবে। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে টিকিট কাটতে পারেন সেজন্য সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কারিগরি বিভাগ।

যাঁরা অনলাইনে টিকিট পাবেন না, তাঁদের জন্য যাত্রার দিন আসনবিহীন বা স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ (উচ্চ শ্রেণি ব্যতীত) স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। অন্যদিকে, পশু খামারিদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২২ ও ২৩ মে ঢাকা-জামালপুর রুটে দুটি ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন পরিচালিত হবে। রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এবার এনআইডি ছাড়া টিকিট ইস্যু করা হবে না। টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই রেলওয়ের মূল লক্ষ্য।


দেশের কোথাও লোডশেডিং নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের কোথাও লোডশেডিং নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করা হয়েছিল। যারা ডিজেল চুরি এবং এই কৃত্রিম সংকটের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের কোথাও লোডশেডিং নেই। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়ত কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকায় টানা এক সপ্তাহ কোনো লোডশেডিং হয়নি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, আগের তুলনায় এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে। ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যার কারণে আগে উৎপাদনে ঘাটতি ছিল, তবে বর্তমানে সেই সমস্যা নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতেও শূন্য লোডশেডিং ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে এখন মূল লক্ষ্য হলো কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করা। তেল ও গ্যাস সীমিত থাকায় সেগুলো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যবহার করতে হয়। বর্তমানে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট এরই মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে এবং আরেকটি ইউনিট শিগগিরই যুক্ত হবে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) চাহিদা, উৎপাদন ও লোডশেডিং পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট। একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, ফলে সেদিন কোনো লোডশেডিং হয়নি।

এছাড়া গত ২৮, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১১ হাজার ৪৭৫, ১১ হাজার ৩৬ এবং ১২ হাজার ৬১৪ মেগাওয়াট। এসব দিনেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় লোডশেডিং হয়নি। মে মাসের শুরুতেও একই ধারা অব্যাহত থাকে। ১, ২ ও ৩ মে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল যথাক্রমে ১০ হাজার ৪৬২, ১১ হাজার ৯২ এবং ১২ হাজার ৭৪৫ মেগাওয়াট। এসব দিনেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।


এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব ধাপে নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকার খাতে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতির তদন্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিষয়ক কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে পারলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে। ডিসি সম্মেলনে আমরা তাদের সামনে এ কথাটাই বলার চেষ্টা করেছি।

উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডিসিদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে। আমাদের সরকারের, বিশেষ করে তারেক রহমান সাহেবের নেওয়া কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার তাগিদ দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জনগণকে সঙ্গেই নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ জনগণই এই দেশের মালিক। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষই সবকিছু নির্ধারণ করেন।

ডিসি সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এমন মতবিনিময় অত্যন্ত ফলপ্রসূ। ভবিষ্যতে এ ধরনের মতবিনিময় ও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় সরকারের জায়গাটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে যে, ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেসব বিষয় মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আমরা তদন্ত করবো। একইসঙ্গে সেগুলো যেন ভবিষ্যতে না ঘটে, সেটাও দেখবো। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যেসব কর্মসূচি রয়েছে, সেসব বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবো।


রাতে বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়, কমছে দুই ট্রেনের মধ্যকার ব্যবধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাতে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সুবিধার্থে বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরও ৪০ থেকে ৫০ মিনিট বেশি সময় ট্রেন চালানোর কথা ভাবা হচ্ছে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) বর্তমানে এই বাড়তি সময় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মে মাসের শেষ দিকে অথবা পবিত্র ঈদুল আজহার পরপরই এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের সর্বশেষ ট্রেনটি এখনকার রাত ১০টা ১০ মিনিটের পরিবর্তে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে, উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের সর্বশেষ ট্রেনটি রাত ৯টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন সকালে ৬টা ৩০ মিনিটে উত্তরা থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়লেও ভোরের সময়সূচিতে আপাতত কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই। রাতে চলাচলকারী যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপের কথা বিবেচনায় নিয়েই মূলত শেষ ট্রেনের সময় বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সময়ের পাশাপাশি দুই ট্রেনের মাঝখানের বিরতি বা ‘হেডওয়ে’ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) পাঁচ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করলেও নতুন সূচি অনুযায়ী তা কমিয়ে সাড়ে ৪ মিনিট করা হবে। এতে প্রতিদিনের মোট ট্রিপ সংখ্যা বর্তমানের ২৯৭টি থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। বাড়তি এই চাপ সামলাতে পিক আওয়ারে নিয়োজিত ট্রেনের সংখ্যা ১২ সেট থেকে বাড়িয়ে ১৪ সেটে উন্নীত করা হবে। ট্রেনের বিরতি কমলে স্টেশনে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমে আসবে এবং যাতায়াত আরও দ্রুততর হবে।

মেট্রোরেলের নিয়মিত যাত্রীরা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে যারা রাতে দেরিতে অফিস বা কর্মস্থল থেকে ফেরেন, তারা বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসে বা বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে সোয়া চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে ভ্রমণ করেন এবং কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ চালু হলে এই সংখ্যা প্রায় পৌনে সাত লাখ ছাড়িয়ে যাবে। ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লোকবল সংকট কাটিয়ে ধাপে ধাপে মধ্যরাত পর্যন্ত সেবা চালুর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।

বর্তমানে অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগ নতুন এই সময়সূচি ও বিরতি নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পেলেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সময়সূচির ঘোষণা আসবে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিরতি কমানোর ফলে যাত্রীসেবার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় অধিকতর শৃঙ্খলা ও গতির সঞ্চার হবে।


পুশইনের ঘটনা ঘটলে ব‍্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে পুশইনের ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ ব‍্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে ঢাকায় সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের আমলে হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেবে ভারত।

ড. খলিলুর রহমান জানান, জুন মাসে বন্ধু দেশ চীন বা ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীন সফরে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।


তাৎপর্যপূর্ণ সফরে আজ বেই‌জিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই তার প্রথম চীন সফর। সফরে তার সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

গত এপ্রিলের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করেছিলেন। এর এক মাসের ব্যবধানে এখন বেইজিং সফরকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার (৬ মে) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন খলিলুর রহমান।

সং‌শ্লিষ্টরা জা‌নি‌য়ে‌ছেন, বৈঠ‌কে জ্বালানি সংকট, ব্যবসা-বা‌ণিজ্য, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নের বাস্তবায়ন, চীনে কাঁঠাল রপ্তানি, গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু, চীনা শিল্প স্থানান্তর, রোহিঙ্গা সংকট এবং চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আলোচনায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে চীনের সমর্থন চাওয়ার প্রতি জোর দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৃহত্তম উন্নয়ন অংশীদার চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা, উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ সহযোগিতা জোরদার করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চীনের ‘গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’সহ অন্যান্য উদ্যোগ ব্যবহার করে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্ব দিতে পারে।

বৈঠ‌কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়েও আলোচনা হবে। আশা করা হ‌চ্ছে, জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধের মধ্যে সরকারপ্রধান বেই‌জিং সফর কর‌বেন। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যু ও মিয়ানমারসহ আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিভিন্ন সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে দুই দেশ আলোচনা করতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক নেতার সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে।


দুবাইয়ে মারা গেছেন সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ন্যাশনাল ব্যাংক-এর সাবেক পরিচালক এবং আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার মারা গেছেন।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা।

রন হক সিকদার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা বিতর্কে আলোচনায় ছিলেন। ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার নাম বারবার উঠে আসে।

২০২৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন তার ও তার ভাই রিক হক সিকদারের বিরুদ্ধে প্রায় ৭১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে এবং পরে অভিযোগপত্রও অনুমোদন করে। অভিযোগে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের সীমার বাইরে বিপুল অঙ্কের ডলার খরচ করে পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।

এর আগে ২০২০ সালে একটি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এছাড়া আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরও তদন্ত চলছিল।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি রন হক সিকদারকে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলে খবর রয়েছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের মতে, লিভারের জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তার মৃত্যু হয়।


নুসরাতকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানান ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক। তিনি বলেন, সোমবার রাতে ইসির সচিব (রুটিন দায়িত্বে) কে এম আলী নেওয়াজ স্বাক্ষরিত গেজেটটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নুসরাত তাবাসসুমকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

যদিও মনোনয়নপত্র বাতিল নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চআদালতে জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের রিটের শুনানি হতে পারে আজ মঙ্গলবার। এতে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা এলে ইসি কী করবে- জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা নেই। এর আগে নুসরাত তাবাসসুমের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল। আমরা তা বাছাই করার পর তিনি বৈধ হয়েছেন। আইন অনুযায়ী, বাছাইয়ে বৈধতার পর এমন ক্ষেত্রে একদিন অপেক্ষা করা যায়। আমরা দু’দিন অপেক্ষা করেছি, কোনো আদেশ নেই। কাজেই যদি মঙ্গলবারের শুনানিতে অন্য কোনো নির্দেশনা আসে, সে অনুযায়ী কাজ করব।’

এর আগে সরকারি চাকরি থেকে থেকে পদত্যাগের তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া সংক্রান্ত জটিলতায় গত ২৩ এপ্রিল মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করলে ২৮ এপ্রিল শুনানিতেও তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট করেন মনিরা।

অন্যদিকে, মনিরার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে, এমন আলোচনার মধ্যেই ২১ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টার ১৯ মিনিট দেরিতে নুসরাত মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের পর দাখিল করায় তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নুসরাত হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তার মনোনয়ন গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী, গত শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা বাছাই করে নুসরাতের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা এবং রোববার বৈধ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যার অনুপাতে নির্বাচন কমিশন বিএনপি জোটকে ৩৬টি, স্বতন্ত্র জোট একটি এবং জামায়াত জোটকে ১৩টি আসন বণ্টন করে দেয়। নুসরাত-মনিরার আসনটি ছাড়া বাকি ৪৯টিতে ৪৯ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ইসির গেজেট প্রকাশের পর গত রোববার রাতে শপথ নিয়েছেন তারা।


ইউনূস সরকারের ব্যর্থতায় খালি হচ্ছে শত মায়ের কোল: একদিনেই হামে ১৭ মৃত্যু

* টিকা সংগ্রহে গাফিলতিতে হামের প্রাদুর্ভাব, ৫০ দিনে মৃত্যু ৩১১ * বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করলেও আমলে নেয়নি    * ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করে টিকা কেনায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহানের স্বেচ্ছাচারিতা  * কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় হাম পরিস্থিতির অবনতি ঘটে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের চরম অদক্ষতা ও উদাসীনতায় হামে ঝরছে কোমলমতি শিশুদের প্রাণ; খালি হচ্ছে শত মায়ের কোল। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) মৃত্যু হয়েছে ১৭ শিশুর; যা ৫০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১১–এ। এদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৯ শিশু আর হামে ৫২ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে সোমবার (৪ মে) নিশ্চিত হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদন মতে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১২ শিশুই ঢাকা বিভাগের আর ৫টি শিশু চট্টগ্রাম বিভাগের। এছাড়া নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ৩০২টি শিশুর মধ্যে। তাদের মধ্যে ৬১৮ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (১৯২), রাজশাহী (১৬৮) ও বরিশাল (১৩৩) বিভাগ। দেশের ৮ বিভাগে এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৬ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ বিভাগে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৬১ জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হাম ও উপসর্গে ঢাকার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে—৭৩ জনের। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে তিনজন ও উপসর্গে ৭০ জন মারা গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৩০ জন (উপসর্গে ২৫), সিলেট বিভাগে ১৭ জন (উপসর্গে ১৪) ও বরিশাল বিভাগে ১৫ জনের (উপসর্গে ১০) মৃত্যু হয়েছে।

খুলনায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু না থাকলেও উপসর্গে ১৩ জন মারা গেছে। ময়মনসিংহ বিভাগে নিশ্চিত হামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে উপসর্গে কোনো মৃত্যু নেই। রংপুর বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম বা উপসর্গে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য একসময় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি সদ্য সাবেক এই সরকারের ১৮ মাসের আমলে কার্যত ভেঙে পড়ে। ফলে শুরু হয় হামের প্রাদুর্ভাব।

বিশেষজ্ঞরা টিকাদান কর্মসূচির আওতা কমে যাওয়ার বিষয়ে বারবার সতর্ক করলেও অন্তর্বর্তী সরকার তাদের পুরো মেয়াদে কোনো বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেনি। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে একটি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি চালানোর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম ও রুবেলা (এমআর-১ ও এমআর-২) টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া, নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতিকে সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির ৬০টি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, এটাই হবে এই কর্মসূচির শেষ ধাপ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি ‘এক্সিট প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তার বদলে ২০২৫ সালের মার্চে পুরো এইচপিএনএসপি বাতিল করে দেয় মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত হয়, টিকাদানসহ সব ‘ওপি’র অধীন থাকা সেবাকে সরাসরি সরকারের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সমন্বয় বাড়ানো ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে চতুর্থ ধাপের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা এবং ওষুধ, টিকা ও অন্য জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কয়েকটি ‘ব্রিজিং প্রকল্প’ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এসব প্রকল্প অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অনুমোদনই মেলেনি। পরে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিতেও কেটে যায় আরও কয়েক মাস। ফলে ক্রয়প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় সেবা স্থবির হয়ে পড়ে।

শুধু টিকাই নয়, ওপি বাতিলের প্রভাবে দেশের ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ কমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য চালু ৪৫০টি এনসিডি কর্নারেও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।

তহবিল সংকটে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। কারণ, জ্বালানি ও চালকদের বেতন ওই কর্মসূচির অর্থ থেকেই দেওয়া হতো। জাতীয় পর্যায়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি—কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ ও ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন—এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হাম পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যায়।

বিশেষ করে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম হামের টিকার চাহিদার বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করে টিকা কেনায় স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নেন। এতে টিকা সংকট সৃষ্টি হয় এবং হামে শিশু মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। যার জন্য তাকে দায়ী করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

ইউনিসেফের সতর্কবার্তা উপেক্ষা: অভিযোগ রয়েছে, টিকা কেনার প্রক্রিয়া পরিবর্তনের সময় ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রাণা ফ্লাওয়ার্সের সতর্কবার্তা গ্রাহ্য করা হয়নি।

টিকা সংকট: সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা থেকে সরে এসে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতি চালু করে, তখন টিকা সরবরাহ বিঘ্নিত হয় এবং রুটিন টিকাদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

শিশুমৃত্যু ও দায়: দেশজুড়ে হামে শিশুদের মৃত্যুর জন্য সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও ড. ইউনূসকে দায়ী করে তাদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।

জনরোষ: হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক রোগনিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, বহু পরীক্ষিত এই কর্মসূচি খামখেয়ালিভাবে বন্ধ করা উচিত হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সরকার চাইলে সেগুলো সমাধান করতে পারত। কিন্তু পুরো কর্মসূচি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এমআর নির্মূলবিষয়ক জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান ও এপিডেমিওলজিস্ট অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, অপারেশন প্ল্যান স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন ডিরেক্টর ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকদের কার্যক্রমও থেমে যায়। এতে জনবলের বড় শূন্যতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সদর দপ্তরে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা ছিলেন। এটাই ছিল সমস্যার বড় কারণগুলোর একটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরো খাতটি অপারেশন প্ল্যাননির্ভর থাকায় নতুন ব্যবস্থায় যেতে আন্তবিভাগীয় ব্যাপক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কিন্তু তাতে যে এত সময় লাগবে, তা অন্তর্বর্তী সরকার আগে বুঝতে পারেনি। কর্মকর্তারা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া এবং নতুন উদ্যোগ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই মূলত বিলম্ব হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশের শর্তে বলেন, আগের ব্যবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক অনুমোদনেই লাইন ডিরেক্টর ইউনিসেফকে টিকার অর্ডার দিতে পারতেন। কিন্তু রাজস্ব বাজেটের অর্থে টিকা কিনতে গেলে অন্য জটিলতার পাশাপাশি দুটি মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাগে, যা পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়। অন্যদিকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার অভিজ্ঞতাও বর্তমান কর্মকর্তাদের কম। প্রতিটি টিকার জন্য আলাদা দরপত্র করতে হয়, ফলে সময় আরও বেড়ে যায়।

তার ভাষ্য, সংকটের খবর আসতে শুরু করলে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউনিসেফের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকার টিকা বাকিতে কেনে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। মার্চের মধ্যে সদর দপ্তরে হামসহ ছয় ধরনের টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়। অথচ আগের কর্মসূচিতে অন্তত তিন মাসের অতিরিক্ত মজুত থাকত।

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, বাস্তবতা হলো—টিকা সংগ্রহে বিলম্বের কারণে টিকাদানের আওতা ঠিকভাবে বজায় রাখা যায়নি, যার ফলেই এই প্রাদুর্ভাব। দায় যদি কাউকে নিতে হয়, তাহলে তা অন্তর্বর্তী সরকারের। তারা যথাযথ টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি বা সমষ্টিগত সুরক্ষা তৈরি হয়নি।


চিফ হুইপের সাথে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউনাইটেড ন্যাশন্স ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)-এর একটি প্রতিনিধিদল।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপি-এর সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সহকারী প্রোগ্রাম উপদেষ্টা (গভর্ন্যান্স) ড্রাগন পপভিচ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় স্ট্রেংদেনিং পার্লামেন্ট, ই-গভর্ন্যান্স, ই-পার্লামেন্ট, দারিদ্র্য দূরীকরণ, পরিবেশ উন্নয়ন, বাক স্বাধীনতা, জাতীয় সংসদের অধিবেশন ও কার্যপ্রণালি বিধি প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।

এ সময় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, বাংলাদেশে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব মোকাবিলায় বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সংসদকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়। জ্বালানি খাতে বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। চিফ হুইপ বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার ভিত্তিতেই একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্র অপরিহার্য।

ড্রাগন পপভিচ বলেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে ইউএনডিপি ও সংসদ একসাথে কাজ করতে আগ্রহী। সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


banner close