বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৮৫তম বাফা কোর্স, ডিরেক্ট এন্ট্রি-২০২৪ বি এবং এসপিএসএসসি-২০২৪ বি কোর্স এর কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (শীতকালীন)-২০২৪ আজ বৃহস্পতিবার যশোরস্থ বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন।
অফিসার ক্যাডেট জান্নাতুল ফেরদৌস মোহনা ৮৫তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’, অফিসার ক্যাডেট মো. রহমত উল্লাহ শিশির উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ এবং অফিসার ক্যাডেট মো. ফাহিম মোর্শেদ রাতুল জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’লাভ করেন।
এছাড়াও ৮৫তম বাফা কোর্স (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) এ সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মো. ফাহিম মোর্শেদ রাতুল ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ লাভ করেন।
উল্লেখ্য, এই শীতকালীন সেমিস্টারে বীর উত্তম বদরুল আলম স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিমান বাহিনী প্রধান বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে দুঃসাহসিক আকাশ যুদ্ধ পরিচালনাকারী কিলো ফ্লাইটের সদস্যদের স্মরণ করেন, যাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, বিভিন্ন জটিল সমস্যা মোকাবেলা করে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের গতি সচল রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।
বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিমান বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা দেশের আপামর জনগণের স্বার্থে যে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে তা অবিস্মরণীয়। বিশেষ করে গত আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বিমানসেনারা যেভাবে পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সাথে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে তা নির্ভেজাল দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে; বাহিনীতে সংযোজিত হচ্ছে নতুন নতুন সব সর্বাধুনিক বিমান, র্যাডার, সিমুলেটর এবং সরঞ্জামাদি।
এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, বিশ্ব শান্তিরক্ষাসহ দেশের অভ্যন্তরে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দূর্যোগ মোকাবেলা এবং অন্যান্য দেশে মানবিক সাহায্য প্রেরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে।
তিনি বিমান বাহিনী একাডেমির প্রশিক্ষণকে বিশ্বমানের বলে অভিহিত করেন, যার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের অফিসার ক্যাডেটরা এ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। তিনি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির সকল সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান।
এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ১২ জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৭৪ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার আসিফ মাহমুদ আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব দেন। কুচকাওয়াজ শেষে বিমান বাহিনী একাডেমির বিভিন্ন প্রকার বিমানের মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট, আকর্ষণীয় এ্যারোবেটিক ডিসপ্লে এবং বিমান বাহিনীর চৌকশ প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সামরিক ও অসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বাগেরহাটের এই বাসিন্দা।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর আগে গত বুধবার খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন আদালত। আপিল বিভাগের এই আদেশের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে গেল।
মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বাগেরহাটের তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ে প্রধান আসামি শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, খান মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলার অপর আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদার বিচার চলাকালীন কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের সেই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন খান আকরাম হোসেন। দীর্ঘ সময় পর আপিল বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে নির্দোষ হিসেবে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে মামলার প্রধান আসামি সিরাজ মাস্টারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশটি বহাল রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত রয়েছেন।
এবার দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করা হবে।
এরপর দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি মতিঝিলস্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের হাল ধরলেন। এর আগে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে পূর্ববর্তী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।
নিয়োগের শর্তানুযায়ী, মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পেশাগত জীবনে ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কর্মকর্তা দেশের আর্থিক ও শিল্প খাতের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) মোস্তাকুর রহমান করপোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষাজীবনে মো. মোস্তাকুর রহমান ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) একজন ফেলো সদস্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ পদে আসার আগে তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর্থিক খাতের গভীর জ্ঞান এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে জারি করা এই নিয়োগ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান।
এ বছর শিল্পকলা, শিক্ষা, স্থাপত্য ও সাংবাদিকতাসহ নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, অভিনয় বিভাগে পদক পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়েছে প্রয়াত গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুকে। এছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং স্থাপত্যে বিশ্বখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এই গৌরবময় পদক লাভ করেছেন।
অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, নৃত্য বিভাগে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। পাশাপাশি দেশের সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ চার দশকের যাত্রায় বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’কে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে এবারের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক, সম্মাননা সনদ ও চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা গুণীজনদের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
মেট্রোরেল স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সব ধরনের ভিডিও ধারণ ও কনটেন্ট তৈরির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। মূলত যাত্রীসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকা, প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স হল, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ এবং ট্রেনের ভেতরে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা যাবে না। বিশেষ করে ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য শর্ট ভিডিও তৈরি, লাইভ স্ট্রিমিং এবং ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফটোগ্রাফি ও শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তবে যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মেট্রোরেল এলাকায় শুটিং বা ফটোগ্রাফি করতে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্যিক কাজের ক্ষেত্রে ‘বাণিজ্যিক স্পেস ভাড়া/ইজারা নীতিমালা ২০২৩’ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগেভাগেই লিখিত অনুমতি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেল প্রাঙ্গণে অপেশাদার কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। কর্তৃপক্ষের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে মেট্রোরেলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন থেকে অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন দিয়ে কোনো ধরনের কনটেন্ট তৈরির সুযোগ আর থাকছে না।
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মাস ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ পর্দা উঠছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের মেলা দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
এবারের মেলায় রেকর্ড সংখ্যক ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে ৬৩টি এবং লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি স্টল থাকছে। সাধারণ দিনগুলোতে মেলা দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাঠকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বরাবরের মতোই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলো নতুন বইয়ের ওপর ২৫ শতাংশ কমিশন দেবে।
মেলার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। এছাড়া এবার রমজান মাস বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে নতুন প্রকাশকদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদদীন স্মৃতি পুরস্কার’, যা গুণগত মান বিচারে সেরা নতুন প্রকাশনীকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মেলা শেষে চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী ও কাইয়ুম চৌধুরীসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি পুরস্কারগুলোও প্রদান করা হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, মেলায় কোনো ধরনের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই, তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রেখেছে। বিশেষ নজরদারি রাখা হবে উসকানিমূলক বা ধর্ম অবমাননাকর বইয়ের দিকেও। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও হারানো-প্রাপ্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং মেলা প্রাঙ্গণকে পুরোপুরি পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর এবং নিরাপদ পরিবেশে পাঠকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত একুশে বইমেলা।
আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই সাহসী যোদ্ধা। তাঁর স্মরণে এবং অসামান্য বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
নূর মোহাম্মদ শেখের শৈশব কেটেছে অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। খুব অল্প বয়সেই তিনি তাঁর বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসাকে হারান। দারিদ্র্য ও অভিভাবকহীনতার কারণে তাঁর পড়াশোনা সপ্তম শ্রেণির বেশি এগোতে পারেনি। তবে নিজের মনোবল ও দেশপ্রেমের কারণে তিনি ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর), যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), যোগদান করেন। বাহিনীতে থাকাকালীন দীর্ঘ সময় দিনাজপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নূর মোহাম্মদ শেখ দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরবর্তী সময়ে মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক বীরত্বপূর্ণ লড়াই পরিচালনা করেন।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে এক ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন নূর মোহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা। যুদ্ধের একপর্যায়ে সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে এবং অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর এই অসামান্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০৮ সালে তাঁর জন্মভূমি মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে বীরের সম্মানে ‘নূর মোহাম্মদনগর’ রাখা হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ চিরকাল বাঙালি জাতির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।
পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ এর একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রাধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।
তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধূর দিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধূর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।
তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যবৃন্দ বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।
পিলখানা ট্র্যাজেডিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো নির্দোষ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ‘শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে সেনাপ্রধান বলেন, ‘পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহীদ পরিবারগুলোর যে সংগ্রামী জীবন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহীদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা বড় হওয়ার পথে মা-বাবার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে তারা একা নয়; শহীদদের প্রতিটি সন্তান আমাদেরই সন্তান।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় এসব পরিবারের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সেই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দুই বাহিনী আজও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না হয়, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তার এই উপস্থিতি শোকাতুর পরিবারগুলোর মাঝে নতুন করে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে।’ এ সময় তিনি সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
পরিশেষে সেনাপ্রধান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য তিনি সেনা সদরের এজি শাখা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-কে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
এর আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি পদে নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা।
জানা গেছে, তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে প্রথমে চাকরিচ্যুত এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এসপি পদমর্যাদায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। পরবর্তীতে সুপার নিউমারারি পদে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান এবং সর্বশেষ আইজিপি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সরকারের এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয় সেই কমিশনের রিপোর্ট এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। তার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে রিপোর্ট পেয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
গেল ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন বলেছিলেন, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সেই বক্তব্যের সংশোধনী এনে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেন, আমি দুয়েকদিনে দেখেছি (প্রতিবেদন)। কয়েকদিন আগে এই রিপোর্ট পুরো না দেখে কিছু কথা বলেছি, এগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই। আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন করব না, যেহেতু জাতীয় একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। তারা যথোপযুক্ত... পেয়েছে। আমি এক নজরে যা দেখেছি. তাতে যে সমস্ত সুপারিশমালা এসেছে, ৭০টির মত, আরো দেখবে। এই সুপারিশমালার অনেকগুলো বাস্তবায়ধীন।
তিনি আরও বলেন, ‘আর বিচারিক যে মামলাগুলো আছে, কিছু আপিল পর্যায়ে আছে, কিছু অ্যাপিলেট ডিভিশনে। এই জুডিশিয়াল প্রসেসগুলো সময়মত করা হবে। আর অন্যান্য যে সমস্ত সুপারিশ আছে সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।’
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সরকার হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশে ছিল তা খুঁজে বের করার জন্য যে কমিটি করেছিল, তার রিপোর্টগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমরা যেন আর না দেখতে পাই। সেজন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা লক্ষ্য ছিল। সেটা তাদেরই থাকতে পারে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সর্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না, দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে দেখতে চায়।’
সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআরের চৌকস ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার ও কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল এই দিনে। একসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দেশের জনগণ।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার বড় সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। অতীতের মতো দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য বলে বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
এ সময় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল।
বইমেলা ঘিরে নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বইমেলায় নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই। তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। গোয়েন্দা সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন।
সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে আর্চওয়ে ব্যবস্থা থাকবে। মেলা আগের মতোই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা প্রাঙ্গণে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সরওয়ার বলেন, উসকানিমূলক কোনো বইও মেলায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের বইমেলায় কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য নেই। মব সৃষ্টি করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবে। বইমেলার ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে নিয়োজিত থাকবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মাজার রোড, হাকিম চত্বর, দোয়েল চত্বর, টিএসসিতে মেলা চলাকালে যানজট কমাতে ডাইভারশন চলবে। ধারালো ও বিস্কোরক দ্রব্য নিয়ে মেলায় প্রবেশ করা যাবে না।
মেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে বোম্ব ডিসপোজাল (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ) ইউনিট, সোয়াটসহ ডগ স্কোয়াড থাকবে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখা হবে।
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের বইমেলা।