বায়ুদূষণে পৃথিবীতে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রায় দিনই শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসছে ঢাকার বায়ুমান মাত্রা। দূষণে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে। এই বাতাসে বুকভরে শ্বাস নেওয়াই কঠিন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া স্বত্বেও সকালে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে শীর্ষে ছিল ঢাকা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ২৬২। বায়ুর এই মানকে খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছুটির দিনে সাধারণত যানবাহন চলাচল কম থাকে, বন্ধ থাকে অনেক কলকারখানা। এসব ঢাকার বায়ুদূষণের বড় উৎস। বিশ্বে বায়ুদূষণে ২১৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বায়ু দূষণের মধ্যে বাস করছে বাংলাদেশের মানুষ। গত ৮ বছরে মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বায়ুতে শ্বাস নিতে পেরেছে সবাই। তবে এ বছর নভেম্বরে একদিনও মানুষের জন্য নিরাপদ বায়ু ছিল না। ফলে বেড়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।
বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই ২৬৪ ছিল, বায়ুমানের এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। ফলে ঢাকা তখন ছিল দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষে। তবে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকাকে টপকে শীর্ষে উঠে যায় পাকিস্তানের লাহোর। এ সময় ঢাকার একিউআই ছিল ১৮১ আর লাহোরের ১৯৪।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ঢাকা। এছাড়া চলতি মাসের ২ ও ৫ তারিখে ঢাকার বায়ু ছিল দুর্যোগপূর্ণ। বায়ুমান ৩০০–এর বেশি হলেই তা দুর্যোগপূর্ণ হয়। আর পরপর তিন দিন টানা তিন ঘণ্টা করে দূষণ এ পর্যায়ে থাকলে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার রীতি আছে।
বায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দূষণ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এটা কেবল মানব শরীর বা পরিবেশ নয়, মানুষের গড় আয়ুতেও আঘাত করছে।
বাংলাদেশে যত মানুষ অকালে মারা যায়, তাদের ২০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ বায়ু দূষণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণায় ।
‘বিশুদ্ধ বায়ু পাওয়ার চেষ্টা: দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্য' শীর্ষক ওই প্রতিবেদন জানিয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দশ শহরের নয়টিই দক্ষিণ এশিয়ায়, তার মধ্যে ঢাকা একটি।
নভেম্বর মাস থেকেই প্রকৃতিতে আসে শীত। আর বাতাসে আসতে থাকে দূষিত কণা। শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই অস্বাস্থ্যকর ও বিপৎজনক মাত্রায় দূষিত থাকে দেশের বাতাস।
বায়ুদূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের গবেষণা অনুযায়ী, শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমের নভেম্বর থেকে মার্চ- এই ৫ মাসে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে ৫৭ শতাংশ। গবেষণা বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার মানুষ মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বাতাসে শ্বাস নিতে পেরেছে। চলতি বছরের নভেম্বরে ঢাকার মানুষ একদিনও স্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় দূষণের জন্য নির্মাণ কাজ, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা ধোঁয়াই প্রধানত দায়ী। এছাড়া যানবাহন, আন্তঃদেশীয় বায়ুদূষণের দায়ও কম নয়।
বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা বলছে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে মারা গেছে, ৭৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার মানুষ। সে বছর শ্বাসতন্ত্রজনিত নানা জটিলতায় রোগে ভুগেছেন ২ লাখ। বেশি মানুষ।
আশঙ্কার কথা হচ্ছে, শুধু ঢাকাই নয়, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলাতেও বেড়েছে বায়ুদূষণ। এতে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য।
বাতাসের মান নির্ভর করে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম-১০) এবং অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণের (পিএম ২.৫) ওপর, যা পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম) এককে। দূষণের মাত্রা বুঝতে পিএম ২.৫, পিএম ১০ ছাড়াও সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও গ্রাউন্ড লেভেল ওজোনে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিবেচনা করে তৈরি করা হয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু ধরা হয়। ৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। আইকিউএয়ারের ঢাকার ১০টি স্টেশনের মধ্যে সকালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এলাকায় ৩৬৬ এবং গুলশান-২ নম্বর এলাকার একিউআই ছিল ৩৪১। আর বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বুধবার পর্যন্ত প্রকাশিত বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর থেকে কয়েকদিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ঢাকার বায়ুমান ১৫০ এর উপরেই থাকছে।
এই ৫৪ দিনের মধ্যে কেবল ১২ দিন বায়ুমান সূচক ১৫০ এর নিচে ছিল এবং ৯ দিন ২০০ এর উপরে ছিল ঢাকার বায়ুমান। এর মধ্যে গত ১৬ নভেম্বর বায়ুমান ছিল ২৪২। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ঢাকার গত ৮ বছরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, এ সময়ের ২৭০২ দিনে মাত্র ৫৭ দিন নির্মল বাতাস পেয়েছে রাজধানীবাসী। বাকি দিনগুলোর বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক ছিল। তিনি বলেছেন, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারা বছরের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ বায়ুদূষণ হয়।
বুকভরে শ্বাস নিতে চাওয়ার আকুতি
এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে অনতিবিলম্বে জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকাকে বায়ুদূষণমুক্ত করতে সরকারকে এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে না। কর্মসূচির আয়োজক জনভাষ্য ও ই-আরকি।
কর্মসূচিতে ই-আরকির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিমু নাসের বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রধান কাজ হলো সমস্যাকে আগে স্বীকার করা। বায়ুদূষণ যে ১ নম্বর সমস্যা, তা সরকার ভাবেই না। বায়ুদূষণ কমাতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ দেখা যায় না। কারণ, তারা তো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে (এসি) থাকে। শীতকালে দূষণের কারণে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে লোকজন নানান ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
ঢাকায় সবাই বুকভরে শ্বাস নিতে চায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে চায় বলে মন্তব্য করেন অভিনেতা সুমন আনোয়ার। তিনি বলেন, অথচ পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ চলায় ঢাকা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বায়ুদূষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ঢাকা বড় হচ্ছে। ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা ঠিকই তাঁদের কার্যালয়, বাসা ও গাড়িতে এসি স্থাপন করে দূষণমুক্ত রাখছেন। দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
কর্মসূচিতে ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই’, ‘বায়ুদূষণকারী প্রকল্প নয়’, ‘পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চাই’, ‘ঢাকা অবাসযোগ্য গ্যাস চেম্বার’, ‘ধোঁয়ার বদলে সবুজ চাই’, ‘নির্মল বায়ু আইন পাস করো’, ‘আমাদের শ্বাস নিতে দাও’, ‘নির্মাণকাজে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করো’, ‘পরিষ্কার বাতাস ও সুস্থ জীবন চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান পরিবেশকর্মী, অধিকারকর্মী ও তাঁদের শিশুসন্তানেরা।
কর্মসূচিতে নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি বলেন, বায়ু ও পরিবেশদূষণের দায় প্রত্যেকের। রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে পরিবেশ নিয়ে অবহেলা ও দুর্নীতি ছিল। সেই সরকারকে উৎখাত করেছে মানুষ। এখন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারকাজ করছে। এই সময়ে তাদের উচিত আইন, নীতি ও বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। এ বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান কর্মসূচি দেখতে চায় জনগণ।
প্রশ্নের মাধ্যমে কাউকে জবাবদিহির মধ্যে আনার চর্চা নেই বলে মন্তব্য করেন উন্নয়নকর্মী সাবিনা পারভীন। তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে যত প্রশ্ন করা হয়, তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি প্রশ্ন করা উচিত বায়ুদূষণ নিয়ে। যাঁরা পরিবেশ নিয়ে কথা বলতেন, তাঁরাও ক্ষমতায় গেলে তা ভুলে যান। বায়ুদূষণ ঠিক না করলে কোনো সংস্কারই মানুষের কাজে আসবে না।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হওয়া ৯ বছরের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান না ফেরার দেশে চলে গেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানল এই নিষ্পাপ শিশুটি। হুজাইফার মামা মাহফুজুর রহমান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনায় থাকাকালীন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় বিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শিশুটি মারা যায়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মংডু টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই যুদ্ধে জান্তা বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা, ড্রোন হামলা এবং মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে। প্রায়শই ওপার থেকে ছোড়া মর্টার শেল ও গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশের সীমানায়, যা সাধারণ মানুষের জানমালের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু হুজাইফার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির এমন অবনতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এলাকাবাসী এই ধরণের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে তিন বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোট বিদেশি ঋণ ৯২ শতাংশ বেড়ে ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের জুনে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাজেটের জন্য অর্থ সংস্থান এবং টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নই এর মূল কারণ। রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সরকার প্রকল্প ঋণের চেয়ে বাজেট সহায়তা ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কারণ এই ঋণ দ্রুত পাওয়া যায়।
২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত অর্থবছরেই (২০২৪-২৫) এসেছে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা ঋণ আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রকল্প ঋণ কমেছে ২৯ শতাংশেরও বেশি।
পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণেও ঋণের বোঝা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকারের মোট ঋণ ১ শতাংশ বেড়ে ২১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। মোট ঋণের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে, বাকিটা বিদেশি ঋণ।
ঋণের বোঝা বাড়ার কারণে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৯ শতাংশ বাড়লেও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ট্রেজারি সিকিউরিটিজ খাতে ব্যয় ২১ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
রাজধানীর শাহবাগে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক নতুন ও জরুরি বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাত ৯টা ১৩ মিনিটে তাদের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয় যে, চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এমন আশঙ্কায় সংগঠনটি তাদের কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পোস্টে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সকল বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পূর্বনির্ধারিত তারিখেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র-জনতা।
এই অবরোধের ফলে শাহবাগ ও এর চারপাশের রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে এসময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’ এবং ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত রাখতে দেখা যায়। মূলত পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় ইনকিলাব মঞ্চ এখন তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সবাইকে নিরাপদ অবস্থানে ফেরার ডাক দিয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে একই দিন বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়েও পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের বড় ধরনের সংঘাত হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয় যে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সেই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে। আপাতত কোন জমায়েত করবেন না। আমরা আহতদের চিকিৎসা দিয়ে আবার রাজপথে আসব।”
রাজধানীর জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেশ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে যমুনার দিকে যাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এই অভিযানে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিছু অসাধু ব্যক্তি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।” পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান যে, দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে, বিক্ষোভকারীরা যমুনা ও সংলগ্ন নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সরকার দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, ‘এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।’
এই সংঘাতের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সরকার নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের কারো শরীরেই আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পাওয়া যায়নি। সরকার পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারে তারা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। এই লক্ষ্যে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার বিষয়টি বর্তমানে আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকার সবাইকে চরম ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ এবং বহু বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে দেশে অবস্থান করছেন। আসন্ন নির্বাচনকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।’ একটি উৎসবমুখর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের উসকানি বা বিচ্যুতি কাম্য নয় বলে সরকার মনে করে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় সব নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস পোষণ করে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক ও সুসংগঠিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে এখন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলায় বাহিনীর এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ায় সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও বাহিনীর সম্মান রক্ষায় সদস্যদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকা ও বাহিনীর পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে; পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের আমানত, জাতীয় পতাকা এবং বাহিনীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।”
নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক জানান যে, সততা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই হলো যেকোনো প্রোপাগান্ডার মোক্ষম জবাব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, অতীতের অনিয়মকারী কুশীলবরা বর্তমানে তরুণদের স্বচ্ছ ডিজিটাল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে AVMIS ও STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় এবং আড়াই লক্ষ নবপ্রশিক্ষিত সদস্যের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। বিশেষ করে সদস্যদের ভাতা প্রদানে অটোমেশন ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণেও বাহিনী সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।”
সদস্যদের কল্যাণে আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও সভায় আলোচনা করা হয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে জনআস্থা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় আনসার বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। মহাপরিচালক প্রত্যাশা করেন যে, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আগামীর গণতান্ত্রিক পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবেন।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে। এ সময় উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে কয়েক দফায় আলটিমেটাম প্রদান করেছিলেন এবং আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচি ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে দেখা যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।”
প্রেস সচিব যখন এই ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনের সদস্যরা যমুনার দিকে অগ্রসর হয়ে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান। মূলত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এখন এই মামলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন ৮ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন উপসচিব মাহবুবুর রহমান।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি এম এ জলিল এবং এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সায়ফুজ্জামান ফারুকীকে ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীর সারদার অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাবেদুর রহমানকে সিআইডিতে এবং একই প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম আশরাফুজ্জামানকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
রাজশাহীতে সংযুক্ত রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. রশীদুল হাসানকে রংপুরের পিটিসি-তে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজশাহীর সারদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি এসপি) সাহেব আলী পাঠানকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন ভূইয়ার অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটে (এটিইউ) পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির আগের আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিহতের স্ত্রী ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ডাকসুর সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। অবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে ফাতিমা তাসনিম জুমা গণমাধ্যমকে জানান, ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহিদের স্ত্রী।’ এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে ইনকিলাব মঞ্চ সবাইকে সহযোগিতা করলেও তাদের প্রয়োজনে অন্যদের কাছ থেকে আশানুরূপ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না।
কর্মসূচি চলাকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি আশ্বাস পাওয়ার আগ পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বিঘ্ন হতে পারে এই বিবেচনায় আমরা অল্প কয়েকজন মানুষ এসেছি। আমরা চাইলে আরও মানুষ আনতে পারতাম। প্রধান উপদেষ্টার আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। বিচারের পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেলে আমরা অবস্থান কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’ তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ হাদি হত্যার ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এই কর্মসূচি ছেড়ে যাব না।’
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে ছাত্র-জনতাকে এই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের পূর্বঘোষিত ১ ঘন্টা সময় শেষ হয়েছে। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতাকে যমুনার প্রবেশমুখগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’ উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিতেই পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সুসংগঠিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সমাবেশে তিনি দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও ঐক্য সুদৃঢ়করণ এবং সম্মিলিত শক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও আগ্রাসন প্রতিহত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, “মৌলিক প্রশিক্ষণের আলোকে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনই একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রধান ভিত্তি।”
রাজশাহী, নওগাঁ ও ময়মনসিংহ জেলায় সরাসরি সম্প্রচারিত এই সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যের সম্মিলিত প্রতিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, “বাহিনীর ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য হলো দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সচেতনতা আরও জোরদার করা। জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং; তবে সম্মিলিত প্রস্তুতি ও দায়িত্ববোধ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।” তিনি মনে করেন, সম্মিলিত প্রস্তুতির মাধ্যমেই যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বাহিনী দেশের মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, “রাষ্ট্রসেবার মানসিকতায় গড়ে ওঠা এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের দিকে আজ সারা দেশের মানুষ প্রত্যাশাভরে তাকিয়ে আছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন। সেই স্বপ্নের গর্বিত বাহক হিসেবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা বাহিনীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।” তিনি সদস্যদের ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদির সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত পোশাক-পরিচ্ছদ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানান যাতে বাহিনীর জনআস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন যে, অপশক্তির প্রভাবমুক্ত থেকে জাতিকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া একটি পবিত্র আমানত। জন্মভূমির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অতীতের মতোই অটল থাকবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী ও গণতন্ত্রবান্ধব নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত আরও মজবুত হবে—এটিই বাহিনীর মূল অঙ্গীকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
কাস্টমস প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে কমিশনারসহ ৩৮ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পৃথক পাঁচটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এই বদলির নির্দেশনা জারি করা হয়।
বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩ জন কমিশনার, ৪ জন যুগ্ম কমিশনার, ৫ জন অতিরিক্ত কমিশনার, ৮ জন উপ-কমিশনার এবং ১৮ জন সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। এসব আদেশের একটি গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এবং অপর চারটি বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় এই কর্মকর্তাদের ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজে এবং বিভাগীয় শহরগুলো থেকে ঢাকায় স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
বদলির তালিকায় থাকা তিন কমিশনার হলেন—আবুল বাশার মো. শফিকুর রহমান, চলতি দায়িত্বে থাকা মো. মাহাফুজুর রহমান ও মো. জাকিন হোসেন। যুগ্ম কমিশনারদের মধ্যে রয়েছেন মো. আল আমিন, সুমন দাস, মাজেদুল হক ও মহিবুর রহমান ভুঞা। অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বদলি হয়েছেন কামনাশীষ, মোহাম্মদ সেলিম শেখ, রাকিবুল হাসান, মিনহাজ উদ্দিন ও আব্দুল রশিদ মিয়া। উপ-কমিশনার পদে রদবদল হওয়া কর্মকর্তারা হলেন মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, প্রভাত কুমার সিংহ, নুরুন নাহার লিলি, তানজিলা ইয়াসমিন, জোবায়দা খানম, রবীন্দ্র কুমার সিংহ, মো. মশউর রহমান ও আলী রেজা হায়দার।
এছাড়া সহকারী কমিশনার হিসেবে শুভ্র দেব মণ্ডল, অপূর্ব সাহা, আবদুস সাত্তার, ফয়ছাল আহম্মদ, মো. শওকত হোসেন, দীপু রাম রায়, সামিয়া নিশাত, মো. আইয়ুব, ফিরোজ হোসেন বিশ্বাস, আসিবুল হক, রেবেকা সুলতানা রীমা, আবু সালেহ আব্দুন নূর, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ সৌরভ, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. আবদুল্লাহ, একেএম জামিউল আলম, আব্দুস সালাম ও মোস্তফা কামালকে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রয়োজনে কাস্টমসের এই শীর্ষ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের একযোগে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হলো।