বায়ুদূষণে পৃথিবীতে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রায় দিনই শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসছে ঢাকার বায়ুমান মাত্রা। দূষণে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে। এই বাতাসে বুকভরে শ্বাস নেওয়াই কঠিন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া স্বত্বেও সকালে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে শীর্ষে ছিল ঢাকা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ২৬২। বায়ুর এই মানকে খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছুটির দিনে সাধারণত যানবাহন চলাচল কম থাকে, বন্ধ থাকে অনেক কলকারখানা। এসব ঢাকার বায়ুদূষণের বড় উৎস। বিশ্বে বায়ুদূষণে ২১৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বায়ু দূষণের মধ্যে বাস করছে বাংলাদেশের মানুষ। গত ৮ বছরে মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বায়ুতে শ্বাস নিতে পেরেছে সবাই। তবে এ বছর নভেম্বরে একদিনও মানুষের জন্য নিরাপদ বায়ু ছিল না। ফলে বেড়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।
বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই ২৬৪ ছিল, বায়ুমানের এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। ফলে ঢাকা তখন ছিল দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষে। তবে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকাকে টপকে শীর্ষে উঠে যায় পাকিস্তানের লাহোর। এ সময় ঢাকার একিউআই ছিল ১৮১ আর লাহোরের ১৯৪।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ঢাকা। এছাড়া চলতি মাসের ২ ও ৫ তারিখে ঢাকার বায়ু ছিল দুর্যোগপূর্ণ। বায়ুমান ৩০০–এর বেশি হলেই তা দুর্যোগপূর্ণ হয়। আর পরপর তিন দিন টানা তিন ঘণ্টা করে দূষণ এ পর্যায়ে থাকলে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার রীতি আছে।
বায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দূষণ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এটা কেবল মানব শরীর বা পরিবেশ নয়, মানুষের গড় আয়ুতেও আঘাত করছে।
বাংলাদেশে যত মানুষ অকালে মারা যায়, তাদের ২০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ বায়ু দূষণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণায় ।
‘বিশুদ্ধ বায়ু পাওয়ার চেষ্টা: দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্য' শীর্ষক ওই প্রতিবেদন জানিয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দশ শহরের নয়টিই দক্ষিণ এশিয়ায়, তার মধ্যে ঢাকা একটি।
নভেম্বর মাস থেকেই প্রকৃতিতে আসে শীত। আর বাতাসে আসতে থাকে দূষিত কণা। শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই অস্বাস্থ্যকর ও বিপৎজনক মাত্রায় দূষিত থাকে দেশের বাতাস।
বায়ুদূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের গবেষণা অনুযায়ী, শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমের নভেম্বর থেকে মার্চ- এই ৫ মাসে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে ৫৭ শতাংশ। গবেষণা বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার মানুষ মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বাতাসে শ্বাস নিতে পেরেছে। চলতি বছরের নভেম্বরে ঢাকার মানুষ একদিনও স্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় দূষণের জন্য নির্মাণ কাজ, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা ধোঁয়াই প্রধানত দায়ী। এছাড়া যানবাহন, আন্তঃদেশীয় বায়ুদূষণের দায়ও কম নয়।
বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা বলছে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে মারা গেছে, ৭৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার মানুষ। সে বছর শ্বাসতন্ত্রজনিত নানা জটিলতায় রোগে ভুগেছেন ২ লাখ। বেশি মানুষ।
আশঙ্কার কথা হচ্ছে, শুধু ঢাকাই নয়, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলাতেও বেড়েছে বায়ুদূষণ। এতে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য।
বাতাসের মান নির্ভর করে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম-১০) এবং অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণের (পিএম ২.৫) ওপর, যা পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম) এককে। দূষণের মাত্রা বুঝতে পিএম ২.৫, পিএম ১০ ছাড়াও সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও গ্রাউন্ড লেভেল ওজোনে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিবেচনা করে তৈরি করা হয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু ধরা হয়। ৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। আইকিউএয়ারের ঢাকার ১০টি স্টেশনের মধ্যে সকালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এলাকায় ৩৬৬ এবং গুলশান-২ নম্বর এলাকার একিউআই ছিল ৩৪১। আর বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বুধবার পর্যন্ত প্রকাশিত বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর থেকে কয়েকদিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ঢাকার বায়ুমান ১৫০ এর উপরেই থাকছে।
এই ৫৪ দিনের মধ্যে কেবল ১২ দিন বায়ুমান সূচক ১৫০ এর নিচে ছিল এবং ৯ দিন ২০০ এর উপরে ছিল ঢাকার বায়ুমান। এর মধ্যে গত ১৬ নভেম্বর বায়ুমান ছিল ২৪২। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ঢাকার গত ৮ বছরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, এ সময়ের ২৭০২ দিনে মাত্র ৫৭ দিন নির্মল বাতাস পেয়েছে রাজধানীবাসী। বাকি দিনগুলোর বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক ছিল। তিনি বলেছেন, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারা বছরের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ বায়ুদূষণ হয়।
বুকভরে শ্বাস নিতে চাওয়ার আকুতি
এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে অনতিবিলম্বে জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকাকে বায়ুদূষণমুক্ত করতে সরকারকে এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে না। কর্মসূচির আয়োজক জনভাষ্য ও ই-আরকি।
কর্মসূচিতে ই-আরকির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিমু নাসের বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রধান কাজ হলো সমস্যাকে আগে স্বীকার করা। বায়ুদূষণ যে ১ নম্বর সমস্যা, তা সরকার ভাবেই না। বায়ুদূষণ কমাতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ দেখা যায় না। কারণ, তারা তো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে (এসি) থাকে। শীতকালে দূষণের কারণে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে লোকজন নানান ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
ঢাকায় সবাই বুকভরে শ্বাস নিতে চায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে চায় বলে মন্তব্য করেন অভিনেতা সুমন আনোয়ার। তিনি বলেন, অথচ পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ চলায় ঢাকা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বায়ুদূষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ঢাকা বড় হচ্ছে। ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা ঠিকই তাঁদের কার্যালয়, বাসা ও গাড়িতে এসি স্থাপন করে দূষণমুক্ত রাখছেন। দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
কর্মসূচিতে ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই’, ‘বায়ুদূষণকারী প্রকল্প নয়’, ‘পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চাই’, ‘ঢাকা অবাসযোগ্য গ্যাস চেম্বার’, ‘ধোঁয়ার বদলে সবুজ চাই’, ‘নির্মল বায়ু আইন পাস করো’, ‘আমাদের শ্বাস নিতে দাও’, ‘নির্মাণকাজে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করো’, ‘পরিষ্কার বাতাস ও সুস্থ জীবন চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান পরিবেশকর্মী, অধিকারকর্মী ও তাঁদের শিশুসন্তানেরা।
কর্মসূচিতে নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি বলেন, বায়ু ও পরিবেশদূষণের দায় প্রত্যেকের। রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে পরিবেশ নিয়ে অবহেলা ও দুর্নীতি ছিল। সেই সরকারকে উৎখাত করেছে মানুষ। এখন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারকাজ করছে। এই সময়ে তাদের উচিত আইন, নীতি ও বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। এ বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান কর্মসূচি দেখতে চায় জনগণ।
প্রশ্নের মাধ্যমে কাউকে জবাবদিহির মধ্যে আনার চর্চা নেই বলে মন্তব্য করেন উন্নয়নকর্মী সাবিনা পারভীন। তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে যত প্রশ্ন করা হয়, তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি প্রশ্ন করা উচিত বায়ুদূষণ নিয়ে। যাঁরা পরিবেশ নিয়ে কথা বলতেন, তাঁরাও ক্ষমতায় গেলে তা ভুলে যান। বায়ুদূষণ ঠিক না করলে কোনো সংস্কারই মানুষের কাজে আসবে না।
জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা ৭১ ও ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গঠনে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। বেকারত্ব দূর করতে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসময় নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষায় উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার কথাও জানান। রান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সারাদেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।
ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়ার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ২৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে।
এ সময়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো-লক্ষ মানুষ দেশ গড়ার জন্য আছেন…আলহামদুলিল্লাহ। আসুন, আজকে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। কারণ এদেশ আপনার, এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সকলের, সকল বাংলাদেশির।
তিনি আরও বলেন, আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গত ৫০ বছর পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে, পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যেই সিঙ্গাপুরকে নিয়ে আমরা মাঝে মাঝে গল্প করি, সেই সিঙ্গাপুরের অবস্থা ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ ছিল। আজ ৫০ বছরে তারা কোথায় চলে গিয়েছে! তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না? ইনশাল্লাহ আমরাও পারবো; এ দেশের মানুষ পারবে।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তারেক রহমানের প্রথম যশোর সফর। তার এই সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিকেল সাড়ে চারটার পর তিনি সভামঞ্চে উপস্থিত হয়ে হাত উঁচিয়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। এদিন তিনি শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খনন করা উলশী খালটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হলে স্থানীয় প্রায় ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে এবং ৭২ হাজার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। খাল খননের পর দুই পাড়ে তিন হাজার গাছ লাগানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।
সরকার প্রধান আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করাই এই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। বলেছেন, ‘জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। এই নির্বাচনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্যই হলো জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, সেমিকোলন ও দাঁড়ি-কমা হুবহু বাস্তবায়ন করা।’
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, জি কে গউছ ও আখতারুজ্জমান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া এবং কামার, কুমার, তাঁতী, স্বর্ণকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যদি আপনার ভাই কাজ না পায় এবং প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রের সার্থকতা কোথায়? মানুষের জীবনের প্রথম মৌলিক চাহিদা হলো অন্ন। এই চাহিদা পূরণের জন্যই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস থাকা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে এবং সামাজিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে, তবে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী কারো জীবনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।’
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ শাসনামলে এ দেশের মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সেই সময় বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। বাকশালের সেই অন্ধকার সময়ে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি জাতিকে তিন বছরের মাথায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়াও ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে সোজা করার কাজ করেছেন। কিন্তু বিগত দেড় দশকের শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে আবারো চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। ২৭ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হওয়ার ফলে অর্থনীতি এখন এক ভঙ্গুর অবস্থার মুখে দাঁড়িয়েছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংসদ সংবিধানের ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ১৫৩টি আর্টিকেলের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের ভিত্তিতেই শপথ নিয়েছে। কিন্তু জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই সংবিধান সংশোধন করার বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত মেনে চলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন যাদের সংসদীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে শিখতে আরো কয়েকটা অধিবেশন সময় লাগবে। তবে বিরোধীদের মধ্যেও অনেক চৌকস ও শিক্ষিত সদস্য আছেন। তাদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং জুলাই সনদের আলোকে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেব।’
চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতা তুলে ধরে বলেন, ‘মাত্র ২ মাস ১২ দিন বয়সে সরকার প্রতিটি সেক্টরে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মাত্র ৫ দিনে ১৩৩টি অর্ডিন্যান্সের ওপর কাজ করা একটি অসম্ভব কাজ ছিল, যা এই সরকার করে দেখিয়েছে। সরকার প্রধান সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে রাষ্ট্রকে একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।’
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনাদের ৫ হাজার সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।’ তাই দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত এবং কঠোর সাঁড়াশি অভিযানে নামবে সরকার। এই অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন মন্ত্রী।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ কথা জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আরেকটি প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, এতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও মেরামত, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তফসিল-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অন্তত ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন।
নতুন দুই বিভাগ সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলা—ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর নিয়ে ফরিদপুর বিভাগ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নেওয়া হবে।
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ডেলিগেটেড পারচেজ পদ্ধতিতে ইভিএমগুলো সংগ্রহ করা হয়। গত বছরের ১৩ মে প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিভাগে পাঠানো হলেও, এখনো মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, অডিট বিভাগ প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনও বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে।
নির্বাচন কমিশন কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, ইভিএমগুলো বর্তমানে বিভিন্ন গুদাম, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান জরুরি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন তিনি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন দূত।
সাক্ষাতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারসহ দুই দেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনার ওপরও জোর দেন।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে বিশ্বের সকল দেশকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, সরকার গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। এসব বৈঠক থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কার্যকর একটি কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও পেশাদার সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্যাটাগরিতে নিয়মিত বৃত্তি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও পেশাজীবীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন।
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল এসময় তথ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম ও তার স্বামীর নথিপত্র পেতে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাঈদা মুনা তাসনিম। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত বছরের জুনে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়, তার স্বামী জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে মিলেমিশে ১২টি বাণিজ্যিক কোম্পানি এবং নামসর্বস্ব ভুয়া কোম্পানির নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেন। এসব নথিপত্র পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে দুদক। তলব করা হলেও হাজির হননি তারা।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে গাবতলী হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্পসহ বিভিন্ন দুর্নীতির নথিপত্র সংগ্রহ শেষে যাচাই-বাছাই করছে সংস্থাটি।
এরই মধ্যে দুদকের আবেদনে উত্তরের সাবেক প্রশাসককে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং ৮০০-৯০০ মেগাওয়াটে নেমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘ফোর্থ বাংলাদেশ-চীন রিনিউএবল এনার্জি ফোরাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ বাকি রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছে। বকেয়ার কারণে কয়লা ও তেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পেমেন্ট ক্লিয়ার করতে।
বিদ্যুৎ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে বলেও জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে ভূমির সংকট কাটাতে রেলওয়ে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে নদী ভাঙার ফলে জেগে ওঠা চরগুলোতে বড় আকারের সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এই কাজ শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সৌর বিদ্যুতের প্রসারে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনা এবং ট্যাক্স সুবিধার কথা ভাবছে সরকার। এছাড়া, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তামাক খাতের অসম কর কাঠামোর কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্র প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে বলে দাবি করেছে ন্যাশনাল সিগারেট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
‘সিগারেট ইন্ডাস্ট্রি ওভারভিউ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাজারের একটি বড় অংশ কর জালের বাইরে চলে যাওয়া এবং অবৈধ সিগারেটের দাপট বেড়ে যাওয়ায় এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে সরকারকে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এদিন প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আবুল খায়ের টোব্যাকোর কর্মকর্তা শেখ শাবাব আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএটি, জাপান টোব্যাকো ও ফিলিপ মরিসের কর্মকর্তারা।
শেখ শাবাব বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাতের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৪ শতাংশ। অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটের পর বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ ভলিউম বা সিগারেট বিক্রির সক্ষমতা হারিয়ে গেছে। এই হারিয়ে যাওয়া ২০ শতাংশ ভলিউম থেকেই মূলত ৮,৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির হিসাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ বছরে উচ্চবিত্তদের সিগারেটের কর মাত্র ২ শতাংশ বাড়লেও নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত লো সেগমেন্ট বা কম দামি সিগারেটে কর বেড়েছে ১০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ হলেও এই সেগমেন্টে দাম বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। অতিরিক্ত কর বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনকারীদের জন্য লো সেগমেন্ট এখন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। যেখানে অন্যান্য উচ্চস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ইতিবাচক, সেখানে নিম্নস্তরের সিগারেটের উৎপাদন মুনাফা ২ শতাংশ কমে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাজারে বিক্রিত মোট সিগারেটের প্রায় ১৫ শতাংশই অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া। প্রায় ১৮০০ কোটি স্টিক সিগারেট এখন কর জালের বাইরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে ৩০টিরও বেশি সিগারেট কারখানা এবং তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থাকলেও কঠোর নজরদারির অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ বিদেশি সিগারেটের বাজারে লাগাম টেনে ধরতে সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর বা এআর কোড অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন যে, পণ্যটি থেকে সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কি না।
এনবিআর চেয়ারম্যান এ সময় সিগারেটের ওপর থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন। তবে দাম বাড়ানো হতে পারে জানিয়ে সেটি কীভাবে বা কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে, তা নিয়ে উৎপাদনকারী এবং এনবিআরের নীতি অনুবিভাগের একত্রে কাজ করার কথা বলেন তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা মোটামুটি ডিটারমাইন্ড (দৃঢ়প্রতিজ্ঞ) যে ৮৩ শতাংশের ওপরে (করভার) আর যাওয়ার সুযোগ নেই এবং সেটা নিয়ে আমরা চিন্তা করছি না। এখন নেক্সট যেটা করতে হবে, সেটা আইদার আপনারা যেটা বলেন যে সিগারেটের প্রাইস মেকানিজমটা ঠিক করে অথবা এটাকে পার স্টিক করে অথবা মিক্সড পদ্ধতি করে। মানে সারা পৃথিবীতে যতগুলো পদ্ধতি চালু আছে, সেগুলো যাচাই করব।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘ভেরি ভেরি ইমপরট্যান্ট পারসন’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমানো হয়েছে। সে হিসাবে আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর এ মর্যাদা পাবেন না। এরপর থেকে তাকে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিকের মতোই চলতে হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ এক বছরের জায়গায় ছয় মাস করা হয়েছে। ফলে তিনি ১০ আগস্টের পর আর ভিভিআইপি নিরাপত্তা পাবেন না।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে নিজেই নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়।
তবে সেটি এখন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে নেই। সাধারণত সরকারের সব গেজেট এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পুরনো সব গেজেটও এখানে পাওয়া যায়।
তখনকার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লা পান্নার সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তার দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই করা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে এসএসএফের নিরাপত্তাসুবিধা পাচ্ছেন। একজন ভিভিআইপি হিসেবে তার বাসভবন ও কর্মস্থলে দায়িত্বপালন করছেন এসএসএফ সদস্যরা। তার উপস্থিতিতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি থাকে এবং দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করায় ওই দিনই ইউনূস সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার।
এরপর প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ছাড়েন।
ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গোলামি’ চুক্তি করাসহ পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতায় এসেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে হওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত সব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। ব্যক্তিগত ও গ্রামীণ নামের প্রতিষ্ঠানের হাজার কোটি টাকা কর মওকুফের ঘটনা ঘটেছে। অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, ড. ইউনূস ও তার সরকারের উপদেষ্টারা দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেউলিয়া করে দিয়েছেন। যত দিন যাচ্ছে ততই বেরিয়ে আসছে অন্তর্বর্তী সরকারের নানা দুর্নীতি-অপকর্মের তথ্য।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কারণেই আমরা আজ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদে বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে বলেন, ‘তার জন্য, তার পরিচয় দিয়ে এবং তার গঠন করা দল দিয়ে আমরা আজ রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।’
নিজ নির্বাচনী এলাকা নান্দাইলের মানুষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তিনি নান্দাইলের মানুষের সেবক। এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষের স্বপ্নই তার স্বপ্ন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি নান্দাইলের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় উপজেলার প্রায় সাড়ে ১২০০ কিলোমিটার সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়টি সরকারের নজরে আনেন।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মুখে একসঙ্গে কাজ করার কথা বললেই হবে না। মুখে মধু, অন্তরে বিষ রেখে লাভ নেই। দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, না হলে খাল কেটে কুমির আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে দেশে আবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘কাঙালের ধন চুরি করতে করতে তারা এমন অবস্থায় গিয়েছিল যে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল।’
বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তার বক্তব্যের সমর্থন জানানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আপনারাও খেয়াল রাখবেন, যেন আপনাদের পরিণতি এমন না হয়।’
এছাড়া তিনি জানান, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে। জুলাই সনদের ক্ষেত্রেও কোনো ‘ইফ’ বা ‘বাট’ নেই।’
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। বলেছেন, ‘জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। এই নির্বাচনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্যই হলো জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, সেমিকোলন ও দাঁড়ি-কমা হুবহু বাস্তবায়ন করা।’
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, জি কে গউছ ও আখতারুজ্জমান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া এবং কামার, কুমার, তাঁতী, স্বর্ণকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যদি আপনার ভাই কাজ না পায় এবং প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রের সার্থকতা কোথায়? মানুষের জীবনের প্রথম মৌলিক চাহিদা হলো অন্ন। এই চাহিদা পূরণের জন্যই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস থাকা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে এবং সামাজিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে, তবে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী কারো জীবনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।’
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ শাসনামলে এ দেশের মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সেই সময় বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। বাকশালের সেই অন্ধকার সময়ে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি জাতিকে তিন বছরের মাথায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়াও ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে সোজা করার কাজ করেছেন। কিন্তু বিগত দেড় দশকের শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে আবারো চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। ২৭ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হওয়ার ফলে অর্থনীতি এখন এক ভঙ্গুর অবস্থার মুখে দাঁড়িয়েছে।’রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংসদ সংবিধানের ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ১৫৩টি আর্টিকেলের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের ভিত্তিতেই শপথ নিয়েছে। কিন্তু জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই সংবিধান সংশোধন করার বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত মেনে চলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন যাদের সংসদীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে শিখতে আরো কয়েকটা অধিবেশন সময় লাগবে। তবে বিরোধীদের মধ্যেও অনেক চৌকস ও শিক্ষিত সদস্য আছেন। তাদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং জুলাই সনদের আলোকে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেব।’
চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতা তুলে ধরে বলেন, ‘মাত্র ২ মাস ১২ দিন বয়সে সরকার প্রতিটি সেক্টরে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মাত্র ৫ দিনে ১৩৩টি অর্ডিন্যান্সের ওপর কাজ করা একটি অসম্ভব কাজ ছিল, যা এই সরকার করে দেখিয়েছে। সরকার প্রধান সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে রাষ্ট্রকে একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।’
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনাদের ৫ হাজার সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।’ তাই দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের কয়েকটি অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আবহাওয়া অফিসের বিকেল ৪টা থেকে পরবর্তী দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এছাড়া এসব অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকার নদী বন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে ৪৯ বৈধ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মোট ৪৯ জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির ৩৬ জন, তাদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র জোটের একজন এবং জামায়াত জোটের ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বিএনপির বৈধ প্রার্থীরা হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার।
এ ছাড়াও রয়েছেন, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। একইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক (শ্রাবণ-জুয়েল কমিটির) সহ সভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই-এর মনোনয়ন বৈধতা পায়।
জামায়াত জোটের বৈধ প্রার্থীরা হলেন- নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ, সামসুন নাহার, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান, মাহবুবা হাকিম ও রোকেয়া বেগম।