বায়ুদূষণে পৃথিবীতে সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে রাজধানী ঢাকা। প্রায় দিনই শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসছে ঢাকার বায়ুমান মাত্রা। দূষণে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে। এই বাতাসে বুকভরে শ্বাস নেওয়াই কঠিন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া স্বত্বেও সকালে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে শীর্ষে ছিল ঢাকা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বায়ুর মান ছিল ২৬২। বায়ুর এই মানকে খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছুটির দিনে সাধারণত যানবাহন চলাচল কম থাকে, বন্ধ থাকে অনেক কলকারখানা। এসব ঢাকার বায়ুদূষণের বড় উৎস। বিশ্বে বায়ুদূষণে ২১৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বায়ু দূষণের মধ্যে বাস করছে বাংলাদেশের মানুষ। গত ৮ বছরে মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বায়ুতে শ্বাস নিতে পেরেছে সবাই। তবে এ বছর নভেম্বরে একদিনও মানুষের জন্য নিরাপদ বায়ু ছিল না। ফলে বেড়েছে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা।
বায়ুদূষণের পরিস্থিতি নিয়মিত তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে। আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বাতাসের একিউআই ২৬৪ ছিল, বায়ুমানের এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। ফলে ঢাকা তখন ছিল দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষে। তবে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকাকে টপকে শীর্ষে উঠে যায় পাকিস্তানের লাহোর। এ সময় ঢাকার একিউআই ছিল ১৮১ আর লাহোরের ১৯৪।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৬ নগরীর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ঢাকা। এছাড়া চলতি মাসের ২ ও ৫ তারিখে ঢাকার বায়ু ছিল দুর্যোগপূর্ণ। বায়ুমান ৩০০–এর বেশি হলেই তা দুর্যোগপূর্ণ হয়। আর পরপর তিন দিন টানা তিন ঘণ্টা করে দূষণ এ পর্যায়ে থাকলে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার রীতি আছে।
বায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দূষণ কমাতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এটা কেবল মানব শরীর বা পরিবেশ নয়, মানুষের গড় আয়ুতেও আঘাত করছে।
বাংলাদেশে যত মানুষ অকালে মারা যায়, তাদের ২০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ বায়ু দূষণ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণায় ।
‘বিশুদ্ধ বায়ু পাওয়ার চেষ্টা: দক্ষিণ এশিয়ায় বায়ু দূষণ ও জনস্বাস্থ্য' শীর্ষক ওই প্রতিবেদন জানিয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দশ শহরের নয়টিই দক্ষিণ এশিয়ায়, তার মধ্যে ঢাকা একটি।
নভেম্বর মাস থেকেই প্রকৃতিতে আসে শীত। আর বাতাসে আসতে থাকে দূষিত কণা। শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই অস্বাস্থ্যকর ও বিপৎজনক মাত্রায় দূষিত থাকে দেশের বাতাস।
বায়ুদূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের গবেষণা অনুযায়ী, শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমের নভেম্বর থেকে মার্চ- এই ৫ মাসে বায়ু দূষণ হয়ে থাকে ৫৭ শতাংশ। গবেষণা বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকার মানুষ মাত্র ৪৯ দিন নিরাপদ বাতাসে শ্বাস নিতে পেরেছে। চলতি বছরের নভেম্বরে ঢাকার মানুষ একদিনও স্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় দূষণের জন্য নির্মাণ কাজ, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা ধোঁয়াই প্রধানত দায়ী। এছাড়া যানবাহন, আন্তঃদেশীয় বায়ুদূষণের দায়ও কম নয়।
বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা বলছে, ২০১৯ সালে বায়ু দূষণজনিত রোগে বাংলাদেশে মারা গেছে, ৭৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার মানুষ। সে বছর শ্বাসতন্ত্রজনিত নানা জটিলতায় রোগে ভুগেছেন ২ লাখ। বেশি মানুষ।
আশঙ্কার কথা হচ্ছে, শুধু ঢাকাই নয়, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলাতেও বেড়েছে বায়ুদূষণ। এতে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য।
বাতাসের মান নির্ভর করে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণ (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম-১০) এবং অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণার পরিমাণের (পিএম ২.৫) ওপর, যা পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম (পার্টস পার মিলিয়ন-পিপিএম) এককে। দূষণের মাত্রা বুঝতে পিএম ২.৫, পিএম ১০ ছাড়াও সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও গ্রাউন্ড লেভেল ওজোনে সৃষ্ট বায়ুদূষণ বিবেচনা করে তৈরি করা হয় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৫১ থেকে ১০০ হলে তাকে ‘মাঝারি’ বা ‘গ্রহণযোগ্য’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু। স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু ধরা হয়। ৩০১ থেকে তার ওপরের স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। আইকিউএয়ারের ঢাকার ১০টি স্টেশনের মধ্যে সকালে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এলাকায় ৩৬৬ এবং গুলশান-২ নম্বর এলাকার একিউআই ছিল ৩৪১। আর বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বুধবার পর্যন্ত প্রকাশিত বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর থেকে কয়েকদিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ঢাকার বায়ুমান ১৫০ এর উপরেই থাকছে।
এই ৫৪ দিনের মধ্যে কেবল ১২ দিন বায়ুমান সূচক ১৫০ এর নিচে ছিল এবং ৯ দিন ২০০ এর উপরে ছিল ঢাকার বায়ুমান। এর মধ্যে গত ১৬ নভেম্বর বায়ুমান ছিল ২৪২। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ঢাকার গত ৮ বছরের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, এ সময়ের ২৭০২ দিনে মাত্র ৫৭ দিন নির্মল বাতাস পেয়েছে রাজধানীবাসী। বাকি দিনগুলোর বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর ও বিপজ্জনক ছিল। তিনি বলেছেন, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পাঁচ মাসে সারা বছরের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ বায়ুদূষণ হয়।
বুকভরে শ্বাস নিতে চাওয়ার আকুতি
এদিকে শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে অনতিবিলম্বে জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবিতে এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকাকে বায়ুদূষণমুক্ত করতে সরকারকে এখনই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে না। কর্মসূচির আয়োজক জনভাষ্য ও ই-আরকি।
কর্মসূচিতে ই-আরকির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিমু নাসের বলেন, যেকোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে প্রধান কাজ হলো সমস্যাকে আগে স্বীকার করা। বায়ুদূষণ যে ১ নম্বর সমস্যা, তা সরকার ভাবেই না। বায়ুদূষণ কমাতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ দেখা যায় না। কারণ, তারা তো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে (এসি) থাকে। শীতকালে দূষণের কারণে ঢাকার বাতাস ভারী হয়ে লোকজন নানান ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
ঢাকায় সবাই বুকভরে শ্বাস নিতে চায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে চায় বলে মন্তব্য করেন অভিনেতা সুমন আনোয়ার। তিনি বলেন, অথচ পরিকল্পনাহীনভাবে কাজ চলায় ঢাকা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বায়ুদূষণের স্থানে পরিণত হয়েছে। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ঢাকা বড় হচ্ছে। ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা ঠিকই তাঁদের কার্যালয়, বাসা ও গাড়িতে এসি স্থাপন করে দূষণমুক্ত রাখছেন। দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
কর্মসূচিতে ‘বাসযোগ্য ঢাকা চাই’, ‘বায়ুদূষণকারী প্রকল্প নয়’, ‘পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চাই’, ‘ঢাকা অবাসযোগ্য গ্যাস চেম্বার’, ‘ধোঁয়ার বদলে সবুজ চাই’, ‘নির্মল বায়ু আইন পাস করো’, ‘আমাদের শ্বাস নিতে দাও’, ‘নির্মাণকাজে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করো’, ‘পরিষ্কার বাতাস ও সুস্থ জীবন চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়ান পরিবেশকর্মী, অধিকারকর্মী ও তাঁদের শিশুসন্তানেরা।
কর্মসূচিতে নারী উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি বলেন, বায়ু ও পরিবেশদূষণের দায় প্রত্যেকের। রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা রয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে পরিবেশ নিয়ে অবহেলা ও দুর্নীতি ছিল। সেই সরকারকে উৎখাত করেছে মানুষ। এখন অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারকাজ করছে। এই সময়ে তাদের উচিত আইন, নীতি ও বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। এ বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান কর্মসূচি দেখতে চায় জনগণ।
প্রশ্নের মাধ্যমে কাউকে জবাবদিহির মধ্যে আনার চর্চা নেই বলে মন্তব্য করেন উন্নয়নকর্মী সাবিনা পারভীন। তিনি বলেন, রাজনীতি নিয়ে যত প্রশ্ন করা হয়, তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি প্রশ্ন করা উচিত বায়ুদূষণ নিয়ে। যাঁরা পরিবেশ নিয়ে কথা বলতেন, তাঁরাও ক্ষমতায় গেলে তা ভুলে যান। বায়ুদূষণ ঠিক না করলে কোনো সংস্কারই মানুষের কাজে আসবে না।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে বিশ্বরোড এলাকায় গিয়ে তিনি দুর্ঘটনার কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুটি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এর একটি হচ্ছে যেখানে যেখানে রেলের লেভেল ক্রসিং রয়েছে সেখানে আন্ডারপাস ও ওভারপাস করা হবে। আরেকটি হচ্ছে অটোমেটিক সিস্টেম, মানে রেলে ক্রসিং এর কাছাকাছি রেল আসার সঙ্গে সঙ্গে অটোমেটিক সিস্টেমে গেট পড়ে যাবে, এসব ক্রসিং এ গার্ডও দায়িত্ব পালন করবে।”
এর আগে শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রেল ক্রসিংয়ের দুজন গার্ড ও স্টেশন মাস্টারের অবহেলার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে, ইতিমধ্যে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল আওতায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সুতরাং এই ব্যাপারে কোনো রকম গাফিলতি সহ্য করা হবে না।”
নিহতদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “যারা নিহত হয়েছে ইতিমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতি জনের জন্য ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”
আহতদের চিকিৎসা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রির সঙ্গে কথা বলেছি, যারা দ্রুত রাখতে হয়েছে তাদের মধ্যে যদি কাউকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হয় আমরা সেই ব্যবস্থাও করব। এছাড়াও যারা আহত হয়েছেন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন।”
এদিকে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “এই ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে, এই ঘটনায় আরো যদি কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই রেল ক্রসিং এলাকায় ওভারব্রিজ থাকার পরও কিন্তু বাসচালকরা ওভার দিয়ে না গিয়ে নিচের রেল ক্রসিং ব্যবহার করেছেন, এই বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। হাইওয়ে সড়কগুলোতে এভাবে রেল ক্রসিং রাখা নিরাপদ নয়, স্থানীয় গাড়িগুলোর জন্য আমরা আন্ডারপাস ব্যবস্থা করব।”
তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ এলাকায় রেলের অনুমোদন ছাড়াই রেল ক্রসিং করা হয়েছে সেটার বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নেবো। যেগুলো হয়ে গেছে সেগুলোতে আমরা গেটম্যান নিয়োগ দেব।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রেজা হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর সূত্রে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজন যশোর জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই শিশু কন্যা খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩), চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) এবং কোহিনূর বেগম (৫৫)। এছাড়া নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির বাবুল চৌধুরী (৫৫) ও ফাজিলপুরের নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) রয়েছেন নিহতদের তালিকায়।
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের জুহাদ বিশ্বাস (২৪), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (২৫) এবং লক্ষ্মীপুরের শিশু সাঈদা (৯)।
শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হন এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার পর রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে আসা উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়া হলে সকাল ১১টার পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। আটকে থাকা মহানগর প্রভাতি ও কর্ণফুলী ট্রেনও গন্তব্যে রওনা দেয়।
ঘটনার পর সকাল থেকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ে। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের প্রতিবন্ধক অক্ষত রয়েছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাসের ভাঙা কাচ। রেললাইনের কিছু দূরে বাসের দুটি চাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। কাছেই রেলের কর্মীদের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট গেটম্যান পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুই গেটম্যান মেহেদি হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’
তদন্তে আসা পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনার সময় গেটম্যান গেট না ফেলায় বাস রাস্তা ফাঁকা পেয়ে রেল লাইনে উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, আহতদের মধ্যে ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন, বর্তমানে পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা সিগন্যালম্যানের অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারা আরও জানান, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘বাস চালকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূল দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ও আলমগীর হোসেনকে পুলিশ রিমান্ড শেষে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এর আগে অভিযুক্তদের শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তারা সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদ এবং ঢাকার ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘ কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন। পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করার সময় গত ৭ মার্চ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করে তাদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এই হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এ প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।
প্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শুরু হওয়া অপারেশন সার্চলাইট চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের ইসলামপন্থী সহযোগীরা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে সব ধর্মের বাঙালিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিশেষভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়।
প্রস্তাব উত্থাপনের সময় ল্যান্ডসম্যান বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের অভিযান জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী গণহত্যার মধ্যে পড়ে। এই স্বীকৃতি অনেক আগেই দেওয়া উচিত ছিল।’
এদিকে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ‘হিন্দু অ্যাকশন’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ওই শুনানির আয়োজন করা হয়।
নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার দিলিপ নাথ জানান, ওই আলোচনার পরই প্রস্তাবটি আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী আবার সক্রিয় হয়েছে।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের আস্কারায় জামায়াত আবারও মানবতাবিরোধী জঘন্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ১৯৭১ সালের অপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্র আবারও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে পারে।’
কারামুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যার এই সৌজন্য আলাপের বিষয়টি আনিস আলমগীর নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন ফোন পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে এই সাংবাদিক গণমাধ্যমকে বলেন, 'সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। আমি খুব সারপ্রাইজড। তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কারাগারে থাকার কথা শুনেছেন।' কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনিস আলমগীর আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি আজকে ঈদের নামাজে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখিয়েছেন।' তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে তারেক রহমান অতীতে নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেননি।'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের আগে আনিস আলমগীর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষ থেকে করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলাতেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও আইনি লড়াইয়ের পর সব মামলায় জামিন পেয়ে গত ১৪ মার্চ তিনি মুক্তি লাভ করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে যমুনায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এরপর সকাল সোয়া ৯টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়।
এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এরমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের সঙ্গে হাত মেলান ও কোলাকুলি করেন। দেশের সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেকে। তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। তবে আমন্ত্রিত হয়েও অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
শুধু কার্ডধারীদেরই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন এসএসএফ সদস্যরা। পাঁচটি সিরিয়ালে লোকজনের উপস্থিতি প্রধান ফটকের সামনে থেকে সামনের সড়ক ছাড়িয়ে কাকরাইল ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। অতিথীদের জন্য ছিল বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) তিনি মরহুম মা-বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। নামাজ শেষে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘ কয়েক বছর পর নিজ দেশের মাটিতে ঈদ উৎসব পালন করতে পারায় মহান আল্লাহর দরবারে গভীর শুকরিয়া প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ঠিক যে ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করে যাবে।
পবিত্র এই ঈদের দিনে তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন যেন সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে (দক্ষিণ প্লাজার নিচে) ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লী এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে এ বছর প্রথমবারের মত নারীদের জন্য ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
স্পীকারের নির্দেশনা মোতাবেক মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে টানেলের নীচে জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে খেজুর পরিবেশন করা হয়।
জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র ইমাম মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ঈদের জামাত শেষে স্পিকার মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদের জামাতে এবার অংশ নিয়েছেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষায়।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে দু’টি পরপর তিনবার শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাতে দাঁড়ানোর সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য মোনাজাত করা হয়।
এবারের ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই জামাতকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারের ১৯৯তম আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি, পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকেও সঙ্গে দেখা গেছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে ভোর থেকেই ঢল নামে মানুষের। সকাল সাড়ে আটটা থেকে যমুনা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন যমুনা প্রাঙ্গণে। জনস্রোত বিস্তৃত হয়ে তা পৌঁছায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত। আর পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর উপস্থিতি দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
এর আগে সকালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনের পথে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে। এর আগে ২০০৭ সালে শেষবার দেশে ঈদ করেছিলেন তিনি। ১৯ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর এবারই প্রথম ঈদ তারেক রহমানের।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গা হয়ে উঠেছে । শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তবে সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় মুসল্লিদের ঢল। রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আগেই উপস্থিত হন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।
শোলাকিয়া ঈদগাহয়ে নিরাপত্তায় রয়েছেন ১১০০ পুলিশ সদস্য, ৪ প্লাটুন সেনা সদস্য, ৫ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন আনসার, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারোভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ এক ঈদের মোনাজাতে মুসল্লিদের সমাগমকে ‘সোয়া লাখ’ বলে উল্লেখ করেন। সেখান থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।
অন্য একটি মতে, এক ঈদ জামাতে প্রায় সোয়া লাখ (১ লাখ ২৫ হাজার) মুসল্লির উপস্থিতির পর এই নামটি প্রচলিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াক্ফ করেন। বর্তমানে মাঠটি ৭ একর জায়গার উপর অবস্থিত।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কখনো ভাটা পড়েনি।
ঐতিহাসিক ও জনসমাগমের দিক থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই ঈদগাহ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারেক রহমান এবং শাহবাজ শরিফ টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই টেলিফোন আলাপের বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। এক এক্স পোস্টে তারা উল্লেখ করে, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথোপকথনের সময় শাহবাজ শরিফ তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
আলাপচারিতায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পোস্টে আরও বলা হয়, উভয় নেতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। মতপার্থক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর তারা জোর দেন।
শাহবাজ শরিফের শুভেচ্ছার জবাবে তারেক রহমান পাকিস্তানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান। এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।