শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
১১ বৈশাখ ১৪৩৩

বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আবারও মুখ খুললেন মঈন ইউ আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৯:৪৮

আলোচিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনি এখনো অনুদ্ঘাটিত। সেই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ তাদের পরিবার সদস্য ও কিছু বিডিআর মিলে মোট ৭৪ জন নিহত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাগ্রহণের এক মাস পর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দুদিন ধরে সংঘটিত এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কীভাবে কার স্বার্থে এবং কার মদদে সংঘটিত হয়েছিল তা খুঁজে বের করতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কারণ, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ধারণা, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এতদিন শুধু ক্ষমতাসীনদের মুখে একতরফা বয়ান উচ্চারিত হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেই সময়ে দায়িত্বরত সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ। গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল) ফ্লোরিডা থেকে টেলিফোনে নিউইয়র্কে একটি গণমাধ্যমকে জেনারেল মঈন সরকারের তদন্ত কমিশন গঠনের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জাতির প্রত্যাশা পূরণে গঠিত কমিশনের তদন্তে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটিত হবে। কারণ ওই হত্যাকাণ্ডের ভিকটিমরা ছিলেন বাংলাদেশের চৌকস অফিসারদের অন্যতম। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে ধ্বংসের অভিপ্রায়ে ওই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছে। সে কমিশনের প্রথম বৈঠক শেষে কমিশনের প্রধান এ এল এম ফজলুর রহমান গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র যদি থেকে থাকে, তা চিহ্নিত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে এই সাবেক সেনাপ্রধান ‘পিলখানায় পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন এবং তা শিগগিরই প্রকাশ হবে। সেখানেও অজানা অনেক তথ্য সন্নিবেশিত আছে বলে উল্লেখ করেন জেনারেল মঈন।

অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল মঈন বলেন, ‘চিকিৎসার প্রয়োজনে ফ্লোরিডায় বাস করছি। এ নিয়েও নানাজনে নানা কথা রটাচ্ছেন। উদ্ভট কিছু মন্তব্যও পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো আমাকে ব্যথিত করে।’

জেনারেল মঈন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যিনি আগে গঠিত কমিশনের প্রধান ছিলেন তার সঙ্গে আমার ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।’

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ২৯ মিনিটের একটি ভিডিও-বক্তব্য সম্প্রতি ইউটিউবে আপলোড করেছেন জেনারেল মঈন। সে ভিডিওর চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, সকাল ৮টা-সাড়ে ৮টা

স্মৃতিচারণমূলক ভিডিওতে তদানীন্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর অব্যবহৃত কিছু অস্ত্র (৮১ মিলিমিটার মর্টার, যেগুলো সেনাবাহিনী ব্যবহার করে না) বিডিআরকে দেওয়া নিয়ে বাহিনীটির তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের (হত্যাকাণ্ডে নিহত) সঙ্গে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে কথা হয়। তিনি অস্ত্রগুলো নিতে রাজি হন।

তখন পর্যন্ত বিদ্রোহ সম্পর্কে তিনি (ডিজি শাকিল) কিছুই জানতেন না বলেই সাবেক সেনাপ্রধানের বিশ্বাস। কারণ, ওই বিদ্রোহের সূচনা হয় পিলখানার দরবারে, ডিজি শাকিলের উপস্থিতিতেই।

জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ বলেন, একটি বৈঠকে থাকার সময় ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ‘আমার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি কর্নেল ফিরোজ সভাকক্ষে প্রবেশ করেন এবং আমাকে কানে কানে বলেন, স্যার পিলখানায় গণ্ডগোল হচ্ছে। আপনার দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।’

মঈন ইউ আহমেদ বলেন, তখন ওই সভা স্থগিত করে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমার অফিসে এলাম। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিডিআরের ডিজির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। এডিসি ক্যাপ্টেন জুনায়েদকে নির্দেশ দিই টেলিফোনে যুক্ত করার জন্য। তাদের তাৎক্ষণিক সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। সামরিক গোয়েন্দারা তখন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে সময় বাঁচাতে কারও নির্দেশ ছাড়াই সেনাবাহিনীর ৪৬ ইনডিপেনডেন্ট পদাতিক ব্রিগেডকে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিই। তারা তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধপ্রস্তুতি শুরু করে, যার নামকরণ করা হয় ‘অপারেশন রিস্টোর অর্ডার’। গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে পিএসও এফডি জেনারেল মবিনকে অবহিত করি। সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে বিডিআরের ডিজিকে ফোনে পাওয়া গেল। আমি ওনাকে বললাম কী হয়েছে। তিনি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। তিনি বলেন, দরবার চলাকালীন দুজন সশস্ত্র সৈনিক দরবার হলে প্রবেশ করে। একজন আমার (ডিজির) পেছনে এসে দাঁড়ায় এবং অজ্ঞান হয়ে যায়। অপরজন দরবার হল ক্রস করে বাইরে চলে যায়। তার পরপরই বাইরে থেকে গুলির শব্দ আসে। গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরবার হলে উপস্থিত সৈনিকবৃন্দ গণ্ডগোল শুরু করে দেয়।

মঈন ইউ আহমেদ বলেন, মনে হলো সব পরিকল্পনার অংশ। ডিজি আরও বলেন, আমি সেক্টর কমান্ডার এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডারকে পাঠিয়েছি তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য, যাতে করে পুনরায় দরবার শুরু করা যায়। মঈন ইউ আহমেদ উল্লেখ করেন, ওই দিন সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোবাইল ফোনে পেলাম। এর মধ্যেই তিনি (শেখ হাসিনা) বিডিআর বিদ্রোহ সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় আমি তাকে অপারেশনের কথা জানালে তিনি জানতে চান, কতক্ষণ সময় লাগবে ব্রিগেডকে তৈরি করতে? আমি বললাম, সাধারণত ছয় ঘণ্টা লাগে। তবে তাড়াতাড়ি করে দুই ঘণ্টার মধ্যে তৈরি করা যায়। ৪৬ ব্রিগেডকে পিলখানায় যাওয়ার অনুমতি শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন বলে জানান মঈন ইউ আহমেদ।

ব্রিগেডটি এক ঘণ্টার মধ্যে যাত্রা করে উল্লেখ করে জেনারেল মঈন বলেন, ৪৬ ব্রিগেডের তৎকালীন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাকিমের নেতৃত্বে ১০ জন কর্মকর্তা ও ৬৫৫ জন সৈনিক পিলখানার উদ্দেশে যাত্রা করে। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্রিগেডের অগ্রবর্তী দল জাহাঙ্গীর গেট অতিক্রম করে। ওদিকে বিদ্রোহীরা বিডিআর গেটগুলোর সামনে আক্রমণ প্রতিহত করতে বিভিন্ন ভারী অস্ত্র মোতায়েন করে বলে উল্লেখ করেন মঈন ইউ আহমেদ। তিনি বলেন, বেলা ১১টায় ৪৬ ব্রিগেডের প্রথম গাড়িটি পিলখানার মেইন গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে বিদ্রোহীরা একটি পিকআপ লক্ষ করে রকেট হামলা চালায়। এতে চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান।

সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, আমার নির্দেশ অনুযায়ী ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আমার অফিস থেকে বিডিআরের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে তা সম্ভব হয়নি। হয়তো এর আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছিল। তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসের ধারণা অনুযায়ী, সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই বেশির ভাগ অফিসারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেনাবাহিনীর ব্রিগেড পৌঁছায় ১১টার পরে। তার মানে আমরা পৌঁছানোর আগেই বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ড ওরা করে ফেলেছে।

মঈন ইউ আহমেদ বলেন, ক্যাপ্টেন শফিকের নেতৃত্বে ৩৫৫ জন র‌্যাব সদস্য পিলখানায় পৌঁছান ১০টার আগেই। এ সময় তিনি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পিলখানায় প্রবেশের অনুমতি চাইলেও তা পাননি। তাকে যদি অনুমতি দেওয়া হতো, (বিদ্রোহীরা তখনো পুরোপুরি সংগঠিত হতে পারেনি, কোনো ক্ষয়ক্ষতিও করতে পারেনি) তাহলে তিনি সহজেই ওদের কনটেন্ট করতে পারতেন।

সাবেক এই সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে পিএসও এএফডি (প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ) তাকে জানান, সরকার রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, কোনো আলোচনার আগে সেনাবাহিনীকে এ এলাকা থেকে চলে যেতে হবে। তাই সরকার আদেশ করেছিল, সেনাবাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে হবে। অন্তত ২ কিলোমিটার উত্তরে চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়।

আনুমানিক বেলা ১২টায় পিএসও ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে আমাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যমুনায় যেতে বলেন। ওই সময় প্রতিটা ক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যা হোক আমি যমুনায় রওনা হলাম। মঈন ইউ আহমেদ বলেন, বেলা ১টার দিকে সাদা পতাকা নিয়ে প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও হুইপ মির্জা আজম আলোচনার জন্য পিলখানায় যান। এরই মধ্যে সরকার থেকে বলা হলো, সেনাবাহিনী পিলখানার প্রধান ফটক এলাকায় থাকবে। র‌্যাব ও পুলিশ আরও দুটি এলাকায়। ডেইরি ফার্ম থাকা এলাকাটি অরক্ষিত ছিল।

মঈন ইউ আহমেদ বলেন, যমুনায় গিয়ে অনেক লোককে দেখি, লোকে লোকারণ্য, হাঁটার জায়গা নেই। যাদের কোনো কাজ ছিল না। মন্ত্রিসভা বৈঠক করছিল। কোনো সিদ্ধান্ত আসছিল না। আমি ভেবেছিলাম, সেখানে পৌঁছার সংবাদ জেনে তিনি আমাকে ভেতরে ডেকে নেবেন। কিন্তু তা করা হলো না। বেলা ২টার পর খবর এল, পিলখানা থেকে একজন অফিসার পালিয়ে যমুনায় এসেছে। আমি তার কাছে ছুটে গেলাম। জানলাম যে বেশ কিছু অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ডিজি বিডিআর সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। সে সময়ই নিশ্চিত হলাম যে বিডিআর বিদ্রোহীরা নিরপরাধ অফিসারদের হত্যা করেছে।

মন্ত্রিসভার পর আরেকটি ছোট বৈঠক করে তিন বাহিনীর প্রধানদের শেখ হাসিনা ডাকেন বলে উল্লেখ করে মঈন ইউ আহমেদ বলেন, তিনি যাওয়ার দেড় ঘণ্টা পরে বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধান যমুনায় এসেছিলেন। শেখ হাসিনা আমাদের বললেন যে, রাজনৈতিকভাবে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম এবং তাপস বিদ্রোহীদের একটি ডেলিগেশন নিয়ে যমুনায় আসছেন এবং তারা (বিদ্রোহীরা) চাচ্ছে সাধারণ ক্ষমা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) বলেন, বিদ্রোহীদের কিছু বলার থাকলে আমরা (তিন বাহিনীর প্রধান) যেন তাদের বলি।

মঈন ইউ আহমেদ বলেন, ‘তখন আমি তাকে (শেখ হাসিনা) বলি, অপারেশন রিস্টোর অর্ডারের শুরুতেই আমাদের একজন সৈনিক নিহত হয়েছে এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছে। এইমাত্র খবর পেলাম বিদ্রোহীরা অনেক অফিসারকে হত্যা করেছে। আমি আরও বলি, বিদ্রোহীদের কোনো শর্ত মানা যাবে না। আপনি তাদের বলবেন, অফিসার হত্যা এ মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে। আর একটি প্রাণও যেন না হারায়। দ্বিতীয়ত. আটক সব অফিসার এবং তাদের পরিবারকে এক্ষুণি মুক্তি দিতে হবে। তৃতীয়ত. অস্ত্র, গোলাবারুদসহ সব বিদ্রোহীকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। চতুর্থত. আমি জোর দিয়ে বলি যে, সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে ১৪ জন বিদ্রোহী আলোচনার জন্য যমুনায় আসে। তাদের একটি বড় রুমে রাখা হয়। আমি আমার এডিসিকে বললাম, দেখ তো এদের মধ্যে নেতা কে, ডেকে নিয়ে এসো। এডিসি জুনায়েদ তৌহিদকে নিয়ে এল। তার কাছে সবিস্তার জানতে চাইলাম কতজনকে হত্যা করা হয়েছে, এখন কী অবস্থা। তিনি (আমাকে) বললেন, ‘সকাল ৯টায় বিদ্রোহীরা আমাকে একটি কক্ষে তালা মেরে রেখেছিল। এখন তালা খুলে আমাকে এখানে এনেছে। আমি কিছুই জানি না।’ এ সময় আমি তাকে বলি যে, ‘আপনার সঙ্গে যারা এসেছেন তাদের কাছে জেনে আমাকে জানান।’ তিনি ভেতরে চলে গেলেন, আর আসেননি বাইরে।

শেখ হাসিনা বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বলে উল্লেখ করে মঈন ইউ আহমেদ বলেন, বৈঠকে শেখ ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম ছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখি ওই ১৪ জনকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বললেন, যেটি আমি শুনেছি যে, তোমরা অস্ত্র-গোলাবরুদ সারেন্ডার করো এবং সবাই ব্যারাকে চলে যাও। পরে উনি (প্রধানমন্ত্রী) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন।

আলোচনা শেষে জনাব নানক অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের জানালেন পরিস্থিতির সারাংশ এবং এটাও বললেন যে, প্রধানমন্ত্রী এই বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। তারা বলেছে এখন আত্মসমর্পণ করবে এবং ব্যারাকে ফিরে যাবে। বিদ্রোহীরা ৬টা ৩৭ মিনিটে যমুনা থেকে পিলখানার উদ্দেশে রওনা দেয়। সেখানে গিয়ে তারা ঘোষণা দেয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমার প্রজ্ঞাপন তাদের হাতে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ করবে না। তারা পুনরায় গোলাগুলি শুরু করে এবং অফিসারদের খুঁজতে থাকে।

মঈন ইউ আহমেদ বলেন, রাত ১২টায় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শেখ ফজলে নূর তাপস ও তৎকালীন আইজিপি পিলখানায় যান আলোচনার জন্য এবং তাদের সঙ্গে বসেন। একপর্যায়ে বিদ্রোহীরা কিছু অস্ত্র সমর্পণ করে এবং আটটি পরিবারকে মুক্তি দেয়। এর মধ্যে শুধু তিনটি পরিবার ছিল সেনা অফিসারদের। পাঁচটি ছিল ডিএডি ফ্যামিলি। সাহারা খাতুন জানতেন, অফিসার এবং পরিবারের সদস্যদের কোয়ার্টার গার্ডে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনি তাদের মুক্তির ব্যাপারে উদ্যোগ নেননি, খোঁজখবরও নেননি। ওই আটটি পরিবার নিয়ে তিনি পিলখানা থেকে বের হয়ে আসেন।

পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার গোলাগুলি শুরু করে বিদ্রোহীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে ডেকে নেন জানিয়ে মঈন ইউ আহমেদ বলেন, তাকে জানানো হয় বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ না করলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি সাভার থেকে ট্যাংক আনার অনুমতি চান। সেটা দেওয়া হয়। তিনি ট্যাংক রওনা দেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন। অন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও ট্যাংক আসার কথা শুনে বিদ্রোহীরা কোনো শর্ত ছাড়া আত্মসমর্পণে রাজি হয়।

শেখ হাসিনা বেলা ২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বিদ্রোহীদের আত্মসমর্পণের সময়সীমা বেঁধে দেন। সেই পরামর্শ তিনি (মঈন) দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর আক্রমণ প্রস্তুতি দেখে বিদ্রোহীরা আলোচনা ও আত্মসমর্পণের জন্য উদ্গ্রীব হয় এবং সাদা পতাকা টানিয়ে দেয়। রাতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি দল পিলখানায় প্রবেশ করে এবং বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করে। এর মাধ্যমে ৩৩ ঘণ্টার বিদ্রোহের অবসান হয়। প্রাণ হারান ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা।


রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: এক যুগেও শেষ হয়নি বিচারিক প্রক্রিয়া

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম শিল্প বিপর্যয় রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে বহুতল ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও কয়েক হাজার মানুষ। এক দশকের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এই মহাবিপর্যয়ের বিচার এখনো আইনি জটিলতার আবর্তে আটকে আছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারের রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ার পর হাজার হাজার শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। কয়েক দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের সেই চিত্র বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। এই ঘটনার দুই বছর পর ২০১৫ সালে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি এবং ২০১৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়।

তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষের দফায় দফায় সময় প্রার্থনা, উচ্চ আদালতে বিচার স্থগিতের আবেদন এবং বিবিধ আইনি মারপ্যাঁচে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় থমকে থাকে। ২০২২ সালে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও এর গতি অত্যন্ত মন্থর। এই হত্যা মামলায় ৫৯৪ জন সাক্ষী থাকলেও গত আট বছরে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের উদাসীনতা মামলা নিষ্পত্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে এই মামলা নিষ্পত্তির জোরালো নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। প্রধান আসামি সোহেল রানার পক্ষ থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে আটক থাকাকে অন্যায় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতদের শোকাতুর পরিবার ও পঙ্গুত্ব বরণকারী শ্রমিকরা আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের মূল দাবি।

দিবসটি স্মরণে শুক্রবার সকালে সাভারে দুর্ঘটনাস্থলে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান নিহতদের স্বজন, শ্রমিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৩০ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপক্ষ যদি সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে, তবেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটা সম্ভব।


পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের কার্যক্রম বন্ধে আইনি নোটিশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তনের চলমান উদ্যোগ স্থগিত এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চারজন আইনজীবী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই নোটিশ পাঠান। নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীরা হলেন মো. শাহিনুজ্জামান, ড. সৈয়দা নাসরিন, জান্নাতুল ইসলাম পিয়া ও সালমা কুলসুম।

প্রশাসনিক এই নোটিশটি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি-র বরাবরে। আইনজীবীরা তাঁদের নোটিশে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পোশাক পরিবর্তনের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের সরে আসা উচিত।

উক্ত নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, এর আগে ২০২৫ সালে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস’ সংশোধন করে ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমতাবস্থায় পুনরায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রং ও নকশা পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং পরিকল্পনাহীনতার পরিচায়ক হবে। আইনজীবীদের মতে, "ইউনিফর্মের রং বদল করলেই পুলিশ বাহিনীতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসে না। প্রকৃত সংস্কারের জন্য পেশাদারিত্ব, মানবাধিকার চর্চা, জবাবদিহি ও সেবার মানোন্নয়ন জরুরি।"

বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে এ ধরনের ব্যয়কে জনস্বার্থবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন নোটিশদাতারা। তাঁদের পক্ষ থেকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউনিফর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা এবং এই খাতে এ পর্যন্ত হওয়া ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা। নোটিশে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।


এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদ সদস্যদের জন্য দীর্ঘকাল ধরে বলবৎ থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে আয়োজিত এক সভায় ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) (সংশোধন) আদেশ ২০২৬’-এর খসড়াটির নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিসভায় সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রস্তাবটি এখন জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে। সেখানে এটি পাস হওয়ার পর সংশোধিত আদেশটি গেজেট হিসেবে জারি হলে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হয়ে যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, "বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

এর আগে ১৯৭৩ সালের ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) অর্ডার’-এর ৩সি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা এই শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। নতুন এই আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। সরকারি ভাষ্যমতে, "অর্থনৈতিক চাপ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এ ধরনের ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।" পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "রাষ্ট্রের ব্যয় কমানো এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

একই সভায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা ওয়াসার প্রশাসনিক সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটিও গৃহীত হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের কিছু অংশকে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ঢাকা জেলার অধীনে আনার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ‘জাতীয় চা দিবস’ ৪ জুনের বদলে প্রতিবছর ২১ মে পালনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

উক্ত সভায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারে সম্মতি মিলেছে। এর একটি হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগে বিদ্যমান ৬৫ বছরের বয়সসীমা তুলে দেওয়া। একই নিয়ম বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, "এসব পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।"

সামগ্রিকভাবে এই পদক্ষেপগুলোকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা আনার প্রয়াস হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের এই বিশেষ সুবিধা রহিত করার বিষয়টি সামাজিক সমতা ও রাষ্ট্রীয় খরচ সাশ্রয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।


ফ‍্যাসিস্ট আমলের সার ডিলারদের বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেবে সরকার: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত আওয়ামী ফ‍্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া সব সার ডিলার বাতিল করেছে সরকার। তাদের পরিবর্তে খুব দ্রুতই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ‍্য জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

এ সময় চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট সমাধানে দশ সদস্যের সংসদীয় কমিটি করা হয়েছে। এতে সরকারি দল থেকে থেকে পাঁচজন এবং বিরোধী দল থেকে পাঁচ জন সদস্য রাখা হবে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিদ‍্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বক্তব‍্য রাখেন। পরে সংসদে সর্ব সম্মতক্রমে এই প্রস্তাব পাস হয়।

চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফ‍্যাসিস্ট আমলের ডিলাররা নানা রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, সার আত্মসাত করছে। এতে কৃষকরা ঠিক মতো সার পাচ্ছে না। কৃষক যাতে ঠিকমতো সার পায় তার জন‍্যই এই উদ‍্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র এমপি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।


প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া বাড়ল ১১ পয়সা, প্রজ্ঞাপন জারি

আপডেটেড ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে দুপুরে বাসের নতুন ভাড়ার ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

ভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৪(২) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বর্তমান পরিচালনা ব্যয়জনিত কারণে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হবে।

আন্তজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ২৩ পয়সা হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪৩ পয়সা হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা।

আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে দূরপাল্লার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)/যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

এ ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস/মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এ ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এ ভাড়ার হার গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়।


বৈষম্যবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

প্ল্যাটফর্মের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ নিজেদের মতো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন। আমাদের অন্ধকারে রেখে তারা ওই অর্থ লোপাট করেছে।’

সিনথিয়া বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত তথ্য বা নথি না করে কেবল মৌখিকভাবে কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে পরে মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব বা প্রমাণ দেখানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটিগুলোকে অন্ধকারে রেখে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অডিট ও অনিয়মের বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন।

সিনথিয়া জানান, সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হবে জানতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করিনি। আমাদের কেউ এক টাকাও দাবি করেছে—এমন প্রমাণ যদি দিতে পারে, তাহলে আমাদের বিচার দেশবাসী ও আইন করবে।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পুনর্গঠনের দাবিও তোলা হয়। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ‘সংগঠনকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমরা দ্রুত কাউন্সিল করব। কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত প্রভাব নয়, সদস্যদের ভোটেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।’

একই সঙ্গে বক্তারা আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশের দাবি জানান এবং বলেন, ‘গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


দুই রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুইজন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তারা হলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম এবং সাবেক সচিব ড. এম মাহফুজুল হক।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ময়নুল ইসলামকে চুক্তিতে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মাহফুজুল হককে পর্তুগালের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ময়নুল ও মাহফুজুলসহ চার রাষ্ট্রদূতকে গত ৮ মার্চ প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন তাদের নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিল করল সরকার।


ঢাকায়ও লোডশেডিং করা হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের বিদ্যুতের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামের কৃষকরা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পায় এবং ফসল উৎপাদনে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজধানী থেকে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরিয়ে নিয়ে গ্রামীণ জনপদে সরবরাহ করা হবে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের বিপুল চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের বড় একটি ঘাটতি রয়েছে। গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতি মোকাবিলায় সারাদেশে গড়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, যা বাস্তবায়নে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। তিনি জানান, কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবে জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় আমদানির জন্য যুতসই অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত এই সংকট সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যে এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

বর্তমানে একটি কয়লাভিত্তিক এবং একটি আমদানিনির্ভর পাওয়ার প্লান্ট রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কেন্দ্রগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। জনভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তার শপথের মর্যাদা এবং সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বৈষম্য দূর করার এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে সারাদেশে সুষম বিদ্যুৎ বণ্টন নিশ্চিত করবে বলে সরকার আশা করছে।


দ্বিতীয় তেল শোধনাগার তৈরি করা জরুরি: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছর পার হলেও দেশে দ্বিতীয় কোনো জ্বালানি তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) গড়ে না ওঠায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, জ্বালানি সক্ষমতা যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে স্পষ্ট। নিজস্ব শোধনাগার না থাকায় অপরিশোধিত তেল থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি খরচ বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির উন্নতি বা সম্প্রসারণ আমরা করতে পারিনি। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে বর্তমান যে উত্তেজনা, তা থেকে বোঝা যায় জ্বালানি সঙ্কট কীভাবে প্রতিটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। সময়মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সক্ষমতা অর্জন করতে না পারাকে তিনি একটি বড়ো সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং আকাশপথের সুরক্ষায় শক্তিশালী বিমানবাহিনী অপরিহার্য। পর্যাপ্ত এয়ারক্রাফট ও নৌযান ক্রয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করার জন্য নয়, যুদ্ধ এড়ানোর সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিই। আর শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, যে অর্গানাইজেশনে জবাবদিহিতা নেই, সেটি উন্নতি করবে না। আমরা চাই সামরিক বাহিনী কী করছে, তা দেশের মানুষ আরও বেশি জানুক। সাধারণ মানুষের জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার আছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যার কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তরুণ প্রজন্মকে আরও সচেতন ও দক্ষ হওয়ার আহবান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বিশ্বে যেকোনো ভুলের মূল্য অনেক বেশি। তাই নেতৃত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তায় বেসামরিক-সামরিক সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি।

তিন সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সটি জাতীয় নিরাপত্তা ও নীতি নির্ধারণী বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


বাস ভাড়া বাড়ালো সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে পরিবহণ ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে শ্রমিক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা।

নতুন এ ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী।

সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ডিজেল চালিত বাসের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচিত হবে না। জ্বালানি তেলের দাম কমে গেলে বাস ভাড়া আবার কমবে। তবে রেল ও নৌ পরিবহণের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল পরিবহণ মালিক সমিতি।

বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত রয়েছে বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।

উল্লেখ্য, শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নতুন এই দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


৭ বীরশ্রেষ্ঠের নামে জাতীয় সংসদের গ্যালারির নামকরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির পূর্বের নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা সাত বীরশ্রেষ্ঠের নামে নামকরণ করা হয়েছে।এ উদ্যোগকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংসদ, যা দেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই নামকরণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্থানে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথাকে স্থায়ীভাবে ধারণ করার একটি প্রতীকী উদ্যোগ। এর আগে গ্যালারিগুলোর নাম ছিল ফুল ও নদীর নামে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্তি প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, নতুন এই নামকরণের মাধ্যমে সেই স্থানগুলো এখন সরাসরি স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।
এক নজরে নতুন নামকরণ; গ্যালারি-৩: বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ (পূর্বের নাম: শিমুল), গ্যালারি-৪: বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান (পূর্বের নাম: শিউলি), গ্যালারি-৫: বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন (পূর্বের নাম: বকুল), গ্যালারি-৬: বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ (পূর্বের নাম: শাপলা), গ্যালারি-৭: বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (পূর্বের নাম: যমুনা), ভিআইপি গ্যালারি-১: বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (পূর্বের নাম: পদ্মা), ভিআইপি গ্যালারি-২: বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান (পূর্বের নাম: মেঘনা), এছাড়াও, গ্যালারি-১ ও গ্যালারি-২ সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে (সাংবাদিক গ্যালারি)।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংসদে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো সুদৃঢ় হবে।
এই নামফলক স্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরো দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হলো বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
জাতীয় সংসদে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে গ্যালারির নামকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতি গভীর সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য উদাহরণ।


মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক: সংসদে প্রধানমন্ত্রী 

* কৃষি উন্নয়নে ৭ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার    * হাসিনাসহ ১১ ব্যক্তির অর্থপাচার মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে * সংসদ চাইলে পুরোনো সার ডিলারদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ * অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি হয়নি * দয়া করে আমাকে মহামান্য বলবেন না
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষের স্বার্থে আলোচনায় বসতে বিরোধীদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে আমরা এক।’ বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এই আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদল যদি পরামর্শ বা কোনো প্রস্তাব দেয় তবে সে বিষয়ে বিএনপি আলোচনা করতে প্রস্তুত আছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বজুড়ে। সরকার যথাযথভাবে জনগণকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সে ক্ষেত্রে বিরোধীদল গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব দিলে গ্রহণ করতে সরকারের আপত্তি নেই। বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত।’

তিনি বলেন, ‘এই সংসদ বহু শহীদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সংসদ দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ কীভাবে সুন্দর করা যায় সেই আশা আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংসদে আমরা যে যেখানেই বসি না কেন বাংলাদেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য। সে কারণে সংসদে যে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে আমরা সেই কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আজকের জ্বালানি তেল নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

কৃষি উন্নয়নে বর্তমান সরকার সময়োপযোগী ৭ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্যবিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরের সময় টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচি ছিল প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ সময় কৃষি উন্নয়নে সরকারের ৭ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখছি আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে বিভিন্ন বিষয়। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা। এসব কারণে কৃষি খাত বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আমাদের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই কৃষি উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই এবং লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা, যথা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রদান ইত্যাদি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে (প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ) এ কার্ড প্রদান করা হবে।’

আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ: আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষির উন্নয়নে বর্তমান সরকার আরও অনেকগুলো সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সরকার উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ সুষম সার ব্যবহারের পাশাপাশি আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ জন্য এরই মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ আমরা আগামী পাঁচ বছরে করব। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ভুর্তুকি প্রদান করে ট্রাক্টর হারভেস্টার রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা বর্তমান সরকারে হয়েছে।’

‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু: তারেক রহমান বলেন, ‘পতিত জমি আবাদের আওতায় আনা এবং জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশের উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হয়। ফলে জমির অপচয় কমে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে পতিত জমি চিহ্নিত করে সেগুলো আবাদের আওতায় আনার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পতিত জমি কৃষির আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট অঞ্চলে পতিত জমিসহ চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ: কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ধাননির্ভর কৃষিব্যবস্থা এখন ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা, ফুল চাষ খাতে সম্প্রসারণ করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’

কৃষকদের প্রণোদনা: তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের জন্য প্রণোদনা ও সহায়তা কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি প্রদান করা হবে। তা ছাড়া কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদের কৃষিঋণ এবং ফসল বিমা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্যও বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।’

আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিপণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো-মেশিন বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা: প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে, উত্তরাঞ্চলকে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

হাসিনা আমলে অর্থপাচারের ১১ মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ওই আমলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থপাচারের ১১টি মামলা সরকারের অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থপাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশের মধ্যে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়নার) ৩টির (মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। অন্য সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

নতুন ডিলার নিয়োগ: পুরোনো ডিলারদের বাতিল করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘চিফ হুইপ বলেছেন, উনি যখন বক্তব্যটি উপস্থাপন করেন তখন আমি খেয়াল করেছি মোটামুটি পুরো সংসদ বিষয়টিকে ওয়েলকাম (স্বাগতম) করেছেন। এ ব্যাপারে যদি পুরো সংসদের সম্মতি থাকে, তবে নিশ্চয়ই সরকার দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

হামের টিকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়নি।’

বর্তমানে টিকা পেতে ইউনিসেফ সাহায্য করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ হামের ভ্যাকসিনেশন খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে, ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি। প্রায় দুই কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিনেশন আমরা দেব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কিট এসে পৌঁছেছে। খুব সম্ভবত একটি কিট দিয়ে তিন শিশুকে টেস্ট করা সম্ভব হয়। কিছু কিট এই মুহূর্তে সম্ভবত ঢাকার কাস্টমসে আছে, এয়ারপোর্টে আছে।’

জাতীয় সংসদে এক সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘মহামান্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে সম্বোধন করলে, প্রধানমন্ত্রী তাকে শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যকে একটি অনুরোধ করতে চাইব, আপনি আমাকে যখন অ্যাড্রেস করেছেন ‘‘মহামান্য’’ শব্দটি মনে হয় ব্যবহার করেছেন। দয়া করে আমাকে এরপর অ্যাড্রেস করার সময় কখনো এই কথাটি আর বলবেন না।’


গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রে জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে হলে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয়, বরং গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে সামগ্রিকভাবে জবাবদিহিতার সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জেন্ডার সংবেদনশীলতার অভাব কেবল নারী বা পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি আমাদের সমষ্টিগত মূল্যবোধের ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ। রাজনীতি ও গণমাধ্যম- এই দুটি শক্তিশালী মাধ্যম যদি পেশাদারত্ব ও জবাবদিহিতার আওতায় আসে। তখন সমাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল হয়ে ওঠবে।’

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে ‘সাংবাদিকতায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা’ বিষয়ক ম্যানুয়ালের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী- উভয়কেই সারাক্ষণ জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হয়। রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা ও জনসেবা আর গণমাধ্যমের লক্ষ্য সংবাদ পরিবেশন। কিন্তু এই দুই ক্ষেত্রে যদি সঠিক জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া না থাকে, তবে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। কারণ, শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই রাজনীতিবিদদের ক্ষমতাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে পারে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউটিউব বা সামাজিক মাধ্যমে বিমূর্ত কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতার কথা বলা অবাস্তব। জবাবদিহিতা হতে হবে সুনির্দিষ্ট অস্তিত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী নজরদারি ও সুস্থ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা।


banner close