গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জুলাই হত্যাকাণ্ডে শত শত খুন ও ১৫ বছরের মেয়াদে আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে দুই শতাধিক মামলা। এরমধ্যে অনেকগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিচার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এটি সেই ট্রাইব্যুনাল যেখানে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা ও বিএনপির সাকা চৌধুরীসহ কিছু নেতার বিচার ও সর্বোচ্চ সাজা হয়েছিল। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার দুটি পাসপোর্ট বাতিল করেছে, এরইমধ্যে ভারতের কাছে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরতও চেয়েছে। যদিও ফেরতের বিষয়ে নীরব থেকে শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসব মামলায় আসামি সাবেক মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাসহ দলীয় সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন পদে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীরা। অপরাধী যেই হোক, প্রতিটি মামলাতেই আসামির সংখ্যা শত থেকে সহস্রজনের মতো। মামলায় নাম উঠেছে আওয়ামী লীগ শাসনামলে সরকারের ও পুলিশের অতি উৎসাহী শত শত কর্মকর্তাদেরও। হাসিনা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে আছেন কারাগারে, আসামি হিসেবে নিত্য হাজিরা দিচ্ছেন অভিযোগ ওঠা মামলাগুলোতে। তবে সাবেক সরকারের বেশির ভাগ মন্ত্রীসহ দলীয় নেতারা ‘গায়েব’ হয়ে ‘অজ্ঞাতবাসে’ চলে গেছেন । এদের একটা অংশ নানা কৌশলে সীমানা পাড়ি দিয়ে ভারতসহ ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ঠাঁই নিয়েছেন। দেশে যারা আছেন তারাও আছেন ফেরার হয়ে। আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের দাবির মুখে সরকারি প্রচেষ্টায় ও আদালতের আদেশে এরইমধ্যে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ছাত্রলীগের নেতারাও এখন ঘরছাড়া, দেখা গেলেই হচ্ছেন সহিংস হামলার শিকার। সাবেক সরকারের গত ১৫ বছরে দেশ থেকে লুট ও পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে সরকার, চলছে ফেরত আনার চেষ্টা ও মামলা। এক সময় বিরোধী দলে থাকা দেশের সব রাজনৈতিক দলও সারা দেশে আওয়ামী লীগকে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না রাজনৈতিক মহলে উঠেছে সে প্রশ্নও। এমন পরিস্থিতিতে ভারতে বসে দলকে পুনর্গঠনের একটি চেষ্টা চালাচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সেখানে ‘দিকনির্দেশনামূলক’ ভাষণ দেবেন এবং উদ্যোগটি সফল হলে এটিই হবে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার নেতা-কর্মীদের প্রথম বৈঠক। যদিও এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি বৈঠকে গত নভেম্বরে ভার্চুয়ালি বক্তৃতা করেছিলেন শেখ হাসিনা।
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবির্ভূত হবে।’ তবে সেটি কীভাবে হতে পারে সে সম্পর্কে কোনো ধারণা তিনি দেননি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরাফাতকে গ্রেপ্তারের কথা চাউর হলেও পরে সেনাবাহিনী জানায় সে তথ্য সত্য নয়। এরপর থেকে তিনি দেশে নাকি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তা জানা যায়নি।
‘অজ্ঞাতবাসে’ থাকা দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ দলের নেতারা এর মধ্যেই তৃণমূলের ইউনিট নেতাদের সাথে কথা বলতে শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের চল্লিশ ভাগ ভোটার আওয়ামী লীগের। সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হলে নির্বাচনেও যাব। এটাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। আমরা দলকে সংগঠিত করার কার্যক্রম শুরু করেছি।
দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কার্যক্রম চালাতে পারবে কি না সে বিষয়ে বাহাস থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সে কারণে তিনি তার দলের নেতা-কর্মীদের সাথে বৈঠক করতেই পারেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, এমন বৈঠক হলে সেটি হয়তো হবে দলটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে একটি রাজনৈতিক কৌশল। তবে দেখার বিষয় হবে সে বৈঠকে শেখ হাসিনা কী বার্তা দেন।
কী করছে আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশে আত্মগোপনে থাকার পাশাপাশি কলকাতা ও লন্ডনে অবস্থানরত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা পাওয়া গেছে তা হলো জেলের বাইরে থাকা নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলটির নেতারা ধারণা দিয়েছেন কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন লেভেল পর্যন্ত দলটির সাবেক এমপি ও শীর্ষ নেতারা আটক হওয়ার কারণে সম্ভাব্য বিকল্প নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনা এর মধ্যেই ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশের আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের বেশ কিছু নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিতর্কিত কয়েকজনকে কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়া এবং গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের হয়ে কোনো মন্তব্য না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- এমন তথ্য পাওয়া গেলেও তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর মধ্যেই খবর এসেছে যে আগামী ১৯ জানুয়ারি শেখ হাসিনা তার দলের নেতাদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন কিংবা নেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।
লন্ডনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত উদ্দীন খান বলেছেন, আমরা জানতে পেরেছি নেত্রী ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন। তার ভাষণে দিকনির্দেশনা দেবেন। বৈঠকটির জন্য আমরা গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আওয়ামী লীগ এভাবেই সব প্রতিকূলতা জয় করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে।
দলের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে চাইছে আওয়ামী লীগ। যদিও দলটির সাবেক এমপি ও মন্ত্রীদের অনেকেই জেলে আর বাকিরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুক খান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও কাজী জাফরউল্লাহ বিভিন্ন মামলায় আটক হয়ে এখন কারাগারে।
অন্যদিকে, বেগম মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আর আত্মগোপনে আছেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য এবং এদের মধ্যে অনেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি কারাগারে থাকলেও মাহবুব উল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আত্মগোপনে রয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আহমদ হোসেন আটক হয়ে কারাগারে আছেন। বাকিরা দেশে কিংবা বিদেশে আত্মগোপনে আছেন। সম্পাদকমণ্ডলীতে যারা ছিলেন তাদের অবস্থান সম্পর্কেও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর নেই দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ারও।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো অবশিষ্ট সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে যাবতীয় দাপ্তরিক ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর কফিনগুলো নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। পরবর্তীতে শেষকৃত্য ও দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি নওগাঁ ও নাটোরে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ওই ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তবে অবশিষ্ট সাতজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে ঝলসে যাওয়ায় শুরুতে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করার পরই তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানোর পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে। সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশের পাশাপাশি ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগে তৃতীয় কোনো দেশকে যুক্ত করা কিংবা বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক আঞ্চলিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘বিগ-বি’ সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগ। এর সঙ্গে অন্য কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়নি।
বিগ-বিকে ‘শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ বা অভিন্ন সমৃদ্ধির পর্যায়ে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে নেপাল, ভুটান ও ভারতকে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, জাপানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। যৌথ বিবৃতিতেও তৃতীয় কোনো দেশের উল্লেখ নেই।
তিনি বলেন, যৌথ যোগাযোগ বিবৃতিতে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তৃতীয় কোনো দেশ কিংবা বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কোনো আলোচনারও উল্লেখ নেই। বিগ-বি মূলত বাংলাদেশ ও জাপানের একান্ত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের উদ্যোগ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখা ও বাড়ানোর বিষয়ে জাপানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতিকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন।
গত ২৬ অক্টোবর জাপানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে জাপানের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করতে পারে বলেও আলোচনা হয়েছে।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ইয়েন-ঋণ প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তিও হয়েছে।
সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও সহযোগিতার অগ্রগতি হয়েছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
সফরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ পর্যায়ে উন্নীত করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও আইসিটি অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়নে কাজ করবে দুই দেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশকে বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়ন, প্রকল্পের অগ্রগতি এবং দুই দেশের ধারাবাহিক সহযোগিতার ওপর।
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। তার দাবি, ঘটনার রাতে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ইউনিফর্মধারী ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এদিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে সংস্থাটি। সেটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে দীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এ সময় তিনি ঘটনার রাতের বিবরণ দেন। পিবিআই জানায়, ঘটনাটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নৌপুলিশের তদন্তের পাশাপাশি তারাও ছায়া তদন্ত করছে এবং নৌপুলিশকে সহযোগিতা করছে।
পিবিআইয়ের এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, দীপের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি তাহসিফকে নিয়ে তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ কোনোমতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে দীপ বলেন, দূর থেকে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করছিলেন। তখন তিনি ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে দাঁড়ান, যাতে ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিরা তাকে দেখতে না পান। তাহসিফ দৌড়ে গেলেও তিনি দৌড়াননি; হেঁটে সেখান থেকে চলে আসেন বলে দাবি করেন।
তবে দীপের বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তদন্তকারীদের। পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, দীপের বক্তব্যে তারা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না। মামলার অন্যান্য দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পিবিআই। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। স্থানীয় চায়ের দোকানি জুবায়দা বেগম জানান, মোটরসাইকেলটি গত দুই দিন ধরে তার দোকান থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার দূরে সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখেছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পুলিশ সেটি নিয়ে যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। সংস্থাটির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক এনায়েতুর রহমান মান্না জানান, পিবিআই উত্তর বিভাগের একটি দল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে তাকে হেফাজতে নেয়।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের শনাক্ত করা সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে যেতে দেখা যায়। ওই যুবকই তার জুনিয়র বন্ধু দীপ বলে জানান স্বজনেরা। তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম জানান, ছেলের মা বারবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীর পাড়ে বাঁধা একটি স্পিডবোটে আটকে ছিল তার মরদেহ।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে দীপের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য আলামত যাচাই করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পিবিআই।
দেশে ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ হার ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে ভুক্তভোগীদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন। পুলিশের কাছে যাওয়া নারীদের ৮১ দশমিক ৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের মামলায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে অথবা কোনো অগ্রগতিই হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বোঝা ও মোকাবিলা’ শীর্ষক গবেষণার তথ্য রাজধানীর মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণী ও শিক্ষার্থীরা অনলাইন সহিংসতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন। হয়রানি, অর্থনৈতিক প্রতারণা, ছবি ও যৌন নির্যাতন, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা, সাইবার অনুসরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও এ সহিংসতার উল্লেখযোগ্য ধরন। ফেসবুক ও মেসেঞ্জার এ ধরনের সহিংসতার প্রধান মাধ্যম।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ৫৬ শতাংশ ভুক্তভোগী। এ ছাড়া ৭১ দশমিক ৬ শতাংশ নারী মনে করেন, অনলাইন সহিংসতার ঘটনায় সমাজে ভুক্তভোগীদেরই দোষারোপ করা হয়। ৬৭ শতাংশ নারী কখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ পাননি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি জানান, গবেষণাটির লক্ষ্য সহিংসতার কাঠামোগত দুর্বলতা ও সংকট চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের করণীয় তুলে ধরা। গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহারজনিত সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান গবেষক সায়েমা চৌধুরী বলেন, ‘ডিজিটাল সচেতনতার অভাব ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে না জানার কারণে নারীরা অর্থনৈতিক শোষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম বলেন, ‘ভুয়া পরিচয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করা, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ ও দ্রুত তদন্তে পুলিশকে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ডিজিটাল রাইটসের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন নারী অধিকার, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা ও আরও কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, আটা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে পর্যায়ক্রমে নতুন পণ্য যুক্ত করা হবে।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পণ্যগুলো প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে সংস্থাও সামান্য মুনাফা অর্জন করছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়াই সংস্থাটির লক্ষ্য।
ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় নির্ভর করবে বিক্রির পরিমাণ ও পরিচালন দক্ষতার ওপর।
বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, নতুন পণ্য বিক্রি শুরুর পর গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চান তারা। নতুন পণ্য যুক্ত হলেও ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে বিক্রি হওয়া পণ্যের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এসব পণ্য আগের দামেই বিক্রি অব্যাহত থাকবে।
নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম রাখা হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, ধাপে ধাপে পণ্যের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্য হলো, যাতে ভোক্তারা টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় পরিবারের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারেন।
এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।
পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়ন ও পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করছে টিসিবি। তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং এপিআইয়ের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। এ ছাড়া পরিবহন ও পণ্য ওঠানো-নামানোর ব্যয় কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থা চালু করেছে সংস্থাটি।
ফয়সল আজাদ বলেন, শুধু ব্যয় কমিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব নয়, পাশাপাশি আয়ও বাড়াতে হবে। ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্য বজায় রেখেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পণ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি জানান, চিনি ও অন্য নিয়মিত পণ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না টিসিবি। বাজার পরিস্থিতি ও সরকারের প্রয়োজন বিবেচনায় এসব পণ্য সংগ্রহ করা হয়।
তিনি বলেন, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে টিসিবি পেঁয়াজ কিনেছিল। বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজের সংকট না থাকায় নতুন করে কেনার পরিকল্পনা নেই। ভবিষ্যতে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার প্রয়োজন মনে করলে পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহ করা হবে।
টিসিবির প্রত্যাশা, নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে একদিকে ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগোতে পারবে সংস্থাটি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশে কিছুটা বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে সেই ঘাটতি কমেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ভালুকায় আবাসিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিটিআরএস) কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে ঋণ নিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। অথচ মুখে মুখে শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা বলেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যা বলে, তা করে। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন, আমরাও সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ উন্নয়নের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা দেখেছেন, উন্নয়নের কিছুই হয়নি।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) ও বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বাড়িতে ২০ কিলোওয়াট পিক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানার বাড়িতে ৫ কিলোওয়াট পিক সক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ সময় ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফিরোজ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে আবাসিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা হবে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন বরাদ্দ নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন সরকারি চাকুরিজীবী আবাসন সুবিধা বরাদ্দ নিয়ে নিজে বসবাস না করে অন্য কারো কাছে বাসা বা ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন—এমন সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে সরকার।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এর মধ্যে এসব বাসা থেকে ভাড়াটে ও সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বাসা বাতিলের পাশাপাশি শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এ বিষয়ে জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনাটি জানানো হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু সরকারি চাকরিজীবী তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসার এক বা একাধিক কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া বা সাবলেট দিয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ অংশ বা আংশিক কোনো অংশই অন্যের কাছে ভাড়া কিংবা সাবলেট দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে যারা এ ধরনের ব্যবস্থা করেছেন, তাদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই সংশ্লিষ্ট বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে।
নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো সরকারি বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতা পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিধিমালার ১৪(৩) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব বাসা যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকে সেখানে বসবাস না করে অন্যদের কাছে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অনিয়ম চলে আসছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস এবং ৭৯টি বাংলো রয়েছে। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি এবং গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি বাসা বরাদ্দ রয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি, গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি এবং শুধু গ্রেড-৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে ১২ ও ১৩ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৮৪টি, ১৪ ও ১৫ গ্রেডের জন্য ১ হাজার ৫৭৪টি, ১৬ ও ১৭ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি এবং ১৮ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য ২ হাজার ৬১টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী চার কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক এয়ার কমডোর মো. নিয়ামুল কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং) এই তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন) এবং ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি)। এ ছাড়া কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)-কে। গঠিত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে উড়োজাহাজটিতে সংঘটিত কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন উদ্ঘাটন এবং উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ফ্লাইট বিলম্ব, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তাও নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মীর দায়িত্বে অবহেলা কিংবা প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা যাচাই করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিটি।
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে উড়োজাহাজটির ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটে উড়োজাহাজের স্পয়লার-সংক্রান্ত ত্রুটির একটি সতর্কবার্তা দেখতে পান পাইলট। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড্ডয়ন বাতিল করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন করে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
অনেক মসজিদে জুমার খুতবা চলাকালীন মুসল্লিদের পারস্পরিক কথোপকথন, অনর্থক গল্প কিংবা উচ্চস্বরে দরুদ পাঠ করতে দেখা যায়। আবার ঈদের জামাতেও ইমামের সঙ্গে সমস্বরে উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরে তাশরিক বলার প্রচলন দেখা যায় অনেকের মাঝে। তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জুমআ ও ঈদের খুতবা পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে নীরবে শ্রবণ করা প্রত্যেক মুসল্লির জন্য ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন যেকোনো ধরনের কথাবার্তা বলা, পার্থিব কাজে লিপ্ত হওয়া এবং এমনকি তাসবিহ-তাহলিল বা ব্যক্তিগত জিকির-আজকারে মশগুল থাকাও শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
হাদিস গ্রন্থ সহিহ ইবনে খুযাইমায় বর্ণিত একটি ঘটনায় খুতবার গুরুত্ব ও কথা বলার পরিণতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। হজরত আবু যার (রা.) বর্ণনা করেন, একবার খুতবা দেওয়ার সময় মহানবী (সা.) সুরা তাওবা (বারাআত) পাঠ করছিলেন। সে সময় আবু যার (রা.) পাশে থাকা সাহাবি হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.)-কে নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করেন যে এই সুরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে। প্রশ্ন শুনে উবাই (রা.) কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকেন এবং পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও নিরবতা বজায় রাখেন। নামাজ শেষে কারণ জানতে চাইলে উবাই (রা.) বলেন, খুতবার সময় কথা বলার কারণে আবু যার (রা.) মূলত জুমার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নবীজি (সা.)-এর কাছে উত্থাপন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, উবাই একদম সঠিক কথাই বলেছেন।
খুতবার সময় চুপ থাকার গুরুত্ব এতটাই কঠোর যে, অন্য কাউকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কথা বলাও শরিয়তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) উল্লেখ করেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন—ইমাম যখন খুতবা দিচ্ছেন, তখন যদি তুমি তোমার পাশের ব্যক্তিকে কেবল ‘চুপ থাকো’ বলেও নির্দেশ দাও, তবে তুমি নিজেও একটি অনর্থক বা ভুল কাজ করলে। এ ছাড়া তাবেয়ি হজরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও ইমাম যুহরি (রহ.)-এর মতো প্রখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিতদের মতে, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নফল নামাজ পড়া যায় না এবং তিনি খুতবা শুরু করার পর কোনো কথা বলার অনুমতি থাকে না।
এসব নির্ভরযোগ্য হাদিস ও সাহাবিদের আমলের আলোকে ফকিহ ও ইসলামিক স্কলাররা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, খুতবা চলাকালে মুক্তাদিদের পুরোপুরি নীরবতা বজায় রাখা আবশ্যক। তাই খুতবার ভেতরে মুখে কোনো তাসবিহ পড়া, উচ্চৈঃস্বরে দরুদ পাঠ করা কিংবা ইমাম সাহেবের সঙ্গে সঙ্গে জোরে তাকবিরে তাশরিক বলা থেকেও মুসল্লিদের সম্পূর্ণ বিরত থাকা জরুরি। ইমামের বক্তব্য নিবিষ্টচিত্তে শোনাই খুতবার একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিধান।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। একই সিদ্ধান্তের আওতায় প্রতিবেশী দেশ নেপালকেও সমপরিমাণ বর্ধিত সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের উত্তরণের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মূলত অর্থনৈতিক খাতগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন এবং প্রক্রিয়াটি টেকসই করতে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সময় বৃদ্ধি করা হলো।
জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, বিশ্ব বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অভিঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। এ ছাড়া সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এলডিসি উত্তরণ কাঠামোয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনকে প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির নিয়মিত কারণ হিসেবে গণ্য না করা হলেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জটিল পরিস্থিতি ও বিশেষ বাস্তবতা আলাদা বিবেচনার দাবি রাখে। বর্ধিত এই সময়ে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জাতীয় মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ইউএনসিডিপিকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের দুই দিনের মাথায় সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (ইউএনসিডিপি) কাছে সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ইউএনসিডিপির ২৮তম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের মূল্যায়নের পর অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) হয়ে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য আসে। এ প্রক্রিয়ায় জি-৭৭ ভুক্ত দেশসমূহ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায়। এই তিন বছর সময় বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী পণ্যগুলোতে গড়ে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হলো। ফলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৩৮টি দেশ ও বাণিজ্য জোটে এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, যা দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৭৩ শতাংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
উল্লেখ্য, মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক (ইভিআই)—এই তিনটি মানদণ্ডই সফলভাবে পূরণ করে ২০১৮ ও ২০২১ সালের ধারাবাহিক পর্যালোচনায় উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের পর্যালোচনায়ও বাংলাদেশ নির্ধারিত সব মানদণ্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল; যেখানে মাথাপিছু আয়ের নির্ধারিত সীমা ১ হাজার ৩০৭ ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশের আয় ছিল ২ হাজার ৬৮৪ ডলার। তবে বিশ্বের বৃহত্তম এলডিসি হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতিকে সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য বহিরাগত ধাক্কা মোকাবিলা করে একটি টেকসই ভিত্তি নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আজ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য প্রযোজ্য আবহাওয়ার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্বাভাসের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় ঢাকা ও আশপাশের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এছাড়া অঞ্চলটিতে উত্তর-পূর্ব অথবা উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকা ও বৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে দিনের তাপমাত্রায় কিছুটা শীতল ভাব বজায় থাকতে পারে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সে সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ। আজ ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে আগের দিন বৃহস্পতিবার নগরীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন অংশে সামান্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ শুক্রবার রাজধানীতে সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির (Sanae Takaichi) আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কমিশন ও বাজারজাতকরণের বিভিন্ন ধাপের চার্জ বাড়াতে একযোগে দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ব্যবসায়ীদের দাবির তুলনায় কম হারে কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি। সুপারিশ কার্যকর হলে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হতে পারে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, সরবরাহসংকট ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তা প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব ও আপত্তি উঠে আসে। শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত মতামত জমা দেওয়ার জন্য ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী সপ্তাহে নতুন দাম ঘোষণা করা হতে পারে। এদিকে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
কমিশন বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের: বর্তমানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন ২০০ টাকা। এটি বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বিইআরসির কারিগরি কমিটি কমিশন ২৮০ টাকা করার সুপারিশ করেছে। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি আমদানিকারকদের কমিশন ৮০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।
অন্যদিকে পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। কারিগরি কমিটি খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৭০ টাকা করার সুপারিশ করলেও পরিবেশকদের দাবির বিষয়ে একই ধরনের সুপারিশ করেনি। অটোগ্যাস স্টেশন মালিকেরাও প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এলপিজি মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর দাবিও এসেছে। বর্তমানে অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে পরিবেশক পর্যন্ত পরিবহনসহ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। ব্যবসায়ীরা তা ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কারিগরি কমিটি এই চার্জ ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করেছে।
পরিবেশক পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতার আঙিনা পর্যন্ত পরিবহনসহ চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ছিল ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতার চার্জ প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি।
সব খরচ বিবেচনায় কারিগরি কমিটির হিসাবে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা হতে পারে। এ হিসাবে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াবে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা। অর্থাৎ, সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়তে পারে ১৩৯ টাকা।
ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি ব্যবসায়ীদের: কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর পক্ষে যুদ্ধের প্রভাব, জাহাজভাড়া, পরিবহন এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা।
মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগে জাহাজভাড়াসহ প্রিমিয়াম প্রতি টনে ৮০ থেকে ১২০ ডলার থাকলেও এখন তা বেড়ে ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। সব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কেউ গ্যাস বিক্রি না করেন।
নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ: ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধির দাবির বিপরীতে ভোক্তা প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রাহকেরা কেন বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাচ্ছেন না। অক্টোবরে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপরও অনেক গ্রাহককে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব। তা না হলে গণশুনানির উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। তিনি দাম না বাড়ানোর পাশাপাশি কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বারবার দাম বাড়ানো হলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের আস্থা কমতে পারে। নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা এবং বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক সৈয়দ মিজানুর রহমানও মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগে কয়েকটি কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সেসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগেই কমিশন বৃদ্ধির শুনানি হচ্ছে। তার দাবি, বাড়তি দামে বিক্রির মাধ্যমে এক মাসে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ১১ লাখ টাকা জরিমানার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, এই জরিমানার মাধ্যমে অতিরিক্ত আদায় করা অর্থের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে কি না। শুনানিতে এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে শুনানি বর্জনের ঘোষণা দেন।
সরবরাহসংকট নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: শুনানিতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা আমদানিকারক ও অপারেটরদের বিরুদ্ধে সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, সংকট দেখা দিলে কোম্পানিগুলো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এতে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হওয়ায় বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, আমদানি করতে না পারা কয়েকটি কোম্পানির পক্ষ থেকে বাজারে পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
জবাবে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি জোরদার করা হচ্ছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলছে।
গণশুনানি শেষে কমিশন জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব, কারিগরি কমিটির সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নভেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম: এদিকে নভেম্বর মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
বর্তমান নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এসব দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল।
জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ কার্যকর হলে রান্নার গ্যাসের জন্য পরিবারগুলোর ব্যয় বাড়বে। বিশেষ করে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের মধ্যে নতুন দাম কার্যকর হলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসায়ীদের ব্যয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর গ্রাহকদের।