বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩

১.৫ ডিগ্রি: উষ্ণতার সীমা পার করা প্রথম বছর ২০২৪

আপডেটেড
১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৩:২০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৩:১৯

প্রথমবারের মতো প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে ২০২৪ সালে। বিজ্ঞানীরা গতকাল শুক্রবার এ কথা জানান।

ইউরোপীয় জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবা সংস্থা কোপার্নিকাস (সি৩এস) এ তথ্য নিশ্চিত করে সংস্থাটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর তাপমাত্রাকে এমন একপর্যায়ে ঠেলে দিচ্ছে, যা আধুনিক যুগের মানুষ এর আগে কখনো দেখেনি।

কোপার্নিকাস জানায়, ২০২৪ সালে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের (১৮৫০-১৯০০ সাল) গড় তাপমাত্রার তুলনায় ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এই তাপমাত্রা ছিল ২০২৩ সালের ০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে অনেক বেশি।

বিশ্বের উষ্ণতম বছরের রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে উষ্ণ বছর ছিল ২০২৪। আর গত ১০ বছরের প্রতিটি বছরই সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার রেকর্ড গড়েছে।

২০১৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় বিশ্বের দেশগুলো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা নিতে একমত হয়েছিল। যাতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে আরও মারাত্মক সব প্রাকৃতিক দুর্যাগের কবলে পড়া এড়ানো যায়।

তবে ২০২৪ সালে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে, এটি প্যারিস জলবায়ু চুক্তির উষ্ণায়নের ওই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ বর্তমান সময়ের এই তামপাত্রা বৃদ্ধি ঘটেছে সাময়িকভাবে ১-২ বছরের জন্য। আর প্যারিস জলবায়ু চুক্তির তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সময়ের জন্য, ২০ বছরব্যাপী গড় তাপমাত্রার হিসাবে।

তার পরও ২০২৪ সালে তাপমাত্রা যতটা বেড়েছে এই হারে তা বাড়তে থাকলে বলা যায়, আগামীতে তাপমাত্রা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং ২০৩০ সালের মধ্যেই সেটি ঘটতে পারে।

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা গত ১২ মাসে (২০২৩ সেপ্টেম্বর-আগস্ট ২০২৪) আগের যেকোনো সময়ের ১২ মাসের তুলনায় ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ। আর ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ছিল ১ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত বছর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ মূলত মানুষের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বেশি নিঃসরণ করা। এ ধরনের গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ এখনো রেকর্ড পরিমাণ বেশি।


৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা থেকে সম্প্রতি ছুটি ঘোষণা করে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

এর আগে গত ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্তমানে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

ছুটি শেষে আগামী রোববার থেকে সরকারি অফিসের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে শুরু হবে।


আগামীকাল খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন।

সফরকালে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন পরিদর্শনসহ দিনব্যাপী একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। ১০টা নাগাদ আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন।

পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় অবস্থিত নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাট জেলার বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় অংশ নেবেন তিনি।

বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন।

দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি এবং বিকেল ৫ টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


ক্রীড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।

‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ২৩-২৫ অক্টোবর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, এটি কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।

এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রতিভার বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন কিংবা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং একটি পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছে। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ক্রীড়া।

তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মধ্য দিয়ে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তার বিকাশ ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের আহবান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছে, যাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত করতে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

একজন ক্রীড়াবিদ যেন খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে। জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে যেমন সংযত থাকেন, তেমনি পরাজয় থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।

তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সে নারী খেলোয়াড়েরা যেন পিছিয়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভা যেন বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।


সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ঢাকার চিঠির জবাব দেয়নি রিয়াদ

বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো দেয়নি রিয়াদ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো দেয়নি রিয়াদ। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশ মিশনকে কোনো ধরনের পূর্বতথ্য না দিয়েই গত ১৪ অক্টোবর ওই দুই প্রবাসীর দণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ঘটনার পর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ঢাকার পক্ষ থেকে আদালতের রায়ের অনুলিপি, অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিবরণ এবং কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার কারণ বিস্তারিতভাবে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এদিকে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে সে দেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, মামলার চূড়ান্ত নথিপত্র ও তথ্য পাওয়ার পর সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। একই সাথে তিনি এ স্পর্শকাতর বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মরত প্রায় ৩৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের পাঠানো অর্থ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।

বিষয়:

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, পণ্যের প্যাকেটে থাকতে হবে বিএফএসএ নম্বর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ে নিবন্ধন ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই বিধানের গেজেট প্রকাশিত হয়।

এই নতুন আইনের ফলে রাস্তার পাশের ছোটখাটো পিঠা ও পুরির দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবা, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে সম্পাদন করা যাবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত বা আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে।

বিএফএসএ-র অনুমোদন ব্যতিরেখে ব্যবসা পরিচালনা করাকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

পণ্যের গায়ে নিবন্ধন নম্বর মুদ্রিত থাকলে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা ভোক্তাদের জন্য সহজ হবে এবং যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে এই নম্বরটি ব্যবহার করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, নম্বর থাকাই পণ্যের গুণমানের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, মান বজায় রাখতে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

শিশু খাদ্য, বয়স্ক বা রোগীদের জন্য তৈরি বিশেষ পথ্য, সাপ্লিমেন্ট, প্রোবায়োটিক এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসের মতো পণ্যের জন্য আলাদা লাইসেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জিএমও, অর্গানিক, ফোর্টিফায়েড বা স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবিযুক্ত খাদ্যপণ্যের জন্যও অতিরিক্ত অনুমোদন আবশ্যক করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের প্রবিধানমালার তফসিল অনুসারে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে, যেখানে ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত ছোট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি বড় প্রতিষ্ঠানের ফি ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বিএফএসএ-র জেলা কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন জমা নেওয়া হলেও দ্রুত তা পুরোপুরি অনলাইনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নবায়ন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে খাদ্য খাত একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় আসবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা সহজতর হবে।


ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: চীফ হুইপ

দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি
জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে। তাই ঘন ঘন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে জনগণের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

আজ বুধবার, বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জিয়া মঞ্চের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। নানা সংকটের মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসারিতে থেকে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পর দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁকে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ও সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল।

আবু তালেবের সভাপতিত্বে এবং গোলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক বক্তব্য দেন জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের মহানগর ও বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিষয়:

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস, সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার ১

ই একই ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় স্থানীয় থানা-পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি গণমাধ্যম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘সোহাগ নিজেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন। পূজার ছুটিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তাঁর দাবি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মামলার তদন্তে ৩৮ বছর বয়সী সোহাগের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার সোহাগকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। এর আগে এই একই ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৬ অক্টোবর স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়, যাতে মোট ৫ হাজার ৩৮৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বিষয়:

সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার শিশু নিহত

পৌনে সাত বছরে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত বছরে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৫৮ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ জন এবং অন্যান্য যানবাহনের যাত্রী অবস্থায় ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। দেশের ৯টি প্রধান জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব মাঠপর্যায়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট নিহত শিশুদের ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশই ছিল পথচারী। পথচারী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে তিন চাকার যানবাহনের (থ্রি-হুইলার) ধাক্কায়। এছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানের চাপায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ৩১৭ জন এবং মোটরসাইকেলের আঘাতে ৯৮ শিশু নিহত হয়েছে।

সড়কের ধরন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৭১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ জন, জাতীয় মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ জন এবং শহরাঞ্চলের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যায়।

সময়ের হিসাবে বিকেলে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া সকালে ২ হাজার ১৬৮ জন, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ জন, রাতে ৫৯৮ জন, সন্ধ্যায় ৫৪৬ জন এবং ভোরে ২০৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের বয়সসীমা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৪৭ জন। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ জন এবং ৫ বছর পর্যন্ত বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু এ সময়ে প্রাণ হারায়।

প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকালে ২ হাজার ৫১৩ শিশু এবং বসতবাড়ির আশপাশের রাস্তায় খেলার সময় ৯৬২ শিশুর অকালমৃত্যু ঘটেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিশুদের জন্য সড়ক ও পরিবহন কাঠামোর উপযুক্ত না থাকা, অসচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পথচলার নির্দেশনার অভাব, লাইসেন্সবিহীন ও কমবয়সী চালকদের গাড়ি চালানো এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসংকট এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে গ্রামীণ সড়কগুলো শিশুদের জন্য দিন দিন চরম অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

এ সংকট নিরসনে সড়কব্যবস্থা শিশুবান্ধব করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতা তৈরি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ট্রমা চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


তরুণ প্রজন্মকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।

আজ সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা এবং বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।

সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।

তিনি বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে— এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসাথে বসবাস করে আসছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।

ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

এসময় রাষ্ট্রপতি জানান, সকল ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সকল দর্শনার্থী এবং অতিথির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

এসময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


বিজয়া দশমীতে বিদায়ের সুরে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটছে আজ বিজয়া দশমীতে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পর বিদায়ের বিষাদ ছড়িয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটছে আজ বিজয়া দশমীতে। পাঁচ দিনের এই উৎসবের শেষ দিন বুধবার সকালে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দশমীর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

সকালে চণ্ডীপাঠের পর মণ্ডপগুলোতে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয় অপরাজিতা পূজা, দশোপচারে দেবীর বিশেষ অর্চনা, গণেশসহ অন্যান্য দেবদেবীর উপাসনা, আরতি ও সমাপনী পুষ্পাঞ্জলি। মূল পূজার সমাপনী পর্বে দর্পণ ও ঘট বিসর্জনের পর পরই শুরু হয় চিরায়ত দেবীবরণের ক্ষণ।

দেবীবরণের আয়োজনে বিবাহিত নারীরা ভক্তিভরে দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর অর্পণ করেন এবং দেবীকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এর পরপরই ভক্তরা পরস্পরের মুখ ও কপালে সিঁদুর পরিয়ে মেতে ওঠেন ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায়।

এই বিশেষ আচারের মাধ্যমে নারীরা নিজ নিজ পরিবার ও সংসারের অব্যাহত শান্তি, সুখ এবং সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেন। সনাতনী শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর চরণে স্পর্শ করা সিঁদুর ঘরে সংরক্ষণ করলে পারিবারিক জীবনে সার্বিক মঙ্গল নিশ্চিত হয়। ফলে ভক্তরা দেবীর শুভাশিস নিয়ে নতুন উদ্যমে প্রাত্যহিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নানা ধর্মীয় আচার ও আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তিতে এখন কেবলই বিদায়ের সুর। জলাশয় ও নদ-নদীতে অশ্রুসজল চোখে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়েই দেবীকে মর্ত্য থেকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা, যার সঙ্গে যুক্ত থাকবে আগামী শরতে দেবীর পুনরায় আগমনের ব্যাকুল প্রতীক্ষা।


প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে ধরার চেষ্টা, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার

মঙ্গলবার তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হলে রাতেই তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২১
অনলাইন ডেস্ক

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ইউসুফ আলীকে তাঁর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হলে রাতেই তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন।

বর্তমানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. রেজাউল আলম সরকারকে ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

হঠাৎ এই তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক কারণ সরকারি প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। তবে এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, প্রশাসনিক প্রয়োজনেই তাঁকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমেরই অংশ।

এর আগে মঙ্গলবার সরকারি সফরে রাজশাহী যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন বিকেলে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জনসভা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় তিনি নগরী ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিমানবন্দরে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতায় বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী করমর্দনকালে প্রোটোকল ভেঙে কিছুটা ঝুঁকে প্রধানমন্ত্রীর একেবারে কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল লঙ্ঘনের এমন আচরণের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ত্বরিত এ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, বুধবার সকালে অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ আলীকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনে রাতেই দায়িত্ব হস্তান্তর করে একটি গাড়িতে তিনি রাজশাহী ত্যাগ করেন এবং ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।

বিষয়:

বৃহস্পতিবার খুলনা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সরকার গঠনের পর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টের সার্বিক পরিবেশ আকাশপথে পর্যবেক্ষণ করবেন। এরপর তিনি দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। এ সময় প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

সফরের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ সরকারি সফরে দাকোপের নলিয়ানে উপস্থিত হচ্ছেন। সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক কর্মসূচি রাখা না হলেও সরকারপ্রধানের আগমন ঘিরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাঠে নামার পর প্রধানমন্ত্রী কোস্টগার্ডের দ্রুতগতির নৌযানে চড়ে আকরাম পয়েন্টের দিকে রওনা হবেন। পরবর্তীতে তিনি নৌপথে মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন।

মোংলায় পৌঁছে বন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেবেন সরকারপ্রধান। এরপর তিনি বন্দরের জেটি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বিস্তার এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে বিপুল কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকগুলো এ সফরে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও পর্যটন বিকাশ, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ত্বরান্বিত করতেই এ সফর পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে আগামী ৫ নভেম্বর আবারও খুলনায় আসার সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেদিন তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।


রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকায় ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকা ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১ টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজা উৎসবের মহানবমীতে গতকাল রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সকাল ৯টায় তিনি ঢাকা ছাড়েন ।

প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আনন্দে মেতে ওঠে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁকে শারদ প্রণাম জানায়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামরিক বিমানে ঢাকা ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ। সূত্র: বাসস


banner close