যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় এসেছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। শনিবার (১১ জানুয়ারি) চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, অ্যাড ইন্টেরিম হিসেবে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যোগ দিয়েছেন তিনি।
মূলত, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেভিড স্লেটন মিলকে মনোনীত করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পাওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট মনোনীত প্রার্থীকে সিনেটের শুনানিতে অংশ নিতে হয়। সেই শুনানি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডেভিড মিলের ঢাকায় আসা হচ্ছে না। সে কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে ঢাকায় এসেছেন ট্রেসি অ্যান।
আজ শনিবার ট্রেসি অ্যানকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশে আমাদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা উচ্ছ্বসিত। কূটনীতিতে ব্যাপক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কসোভোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এবং শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাষ্ট্রদূত জ্যাকবসন নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে ঢাকা মিশনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।’
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, ট্রেসি অ্যান সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে নিকটপ্রাচ্য বিষয়ক ব্যুরোতে ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। তার আগে তিনি ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, অ্যাড ইন্টেরিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লাটভিয়ার রিগায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাম্বাসেডরও ছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল অব প্রফেশনাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজের ডিন এবং ন্যাশনাল ফরেন অ্যাফেয়ার্স ট্রেনিং সেন্টারের উপ-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ট্রেসি অ্যান।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শাওগাতুল আলম। তিনি অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদা পাবেন।
গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ঢাকা নভোথিয়েটারের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন মো. শাওগাতুল আলম।
প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা আর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউনূস সরকারের আমলে কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য না থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা। তাদের অনেকেই এখন অপরাধ জগতে পুরো মাত্রায় সক্রিয়। তাদের কেউ কেউ সন্দেহ আর অবিশ্বাসের জগতে পুরনো হিসাব মেলাতে খাটাচ্ছেন মাথা। এতেই অস্থির হয়ে উঠেছে অপরাধ জগৎ। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। তেবে যারা টিটনের হত্যায় জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন ছিলেন। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহিদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টিটনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এতে অপরাধীদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। এরপর একই সরকারের আমলে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাবের তৎপরতায় অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল, কেউ কেউ পালিয়েও গিয়েছিল। আবার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক সন্ত্রাসী প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে কারাগারকেই বেছে নিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কারামুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারামুক্ত হয় ৯০ দশকে তেজগাঁও এলাকার ত্রাস সুইডেন আসলাম, মিরপুরের আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগ এলাকার খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ও খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। এ ছাড়া কারামুক্ত হয়ে হাজারীবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার আতঙ্ক সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন পাড়ি জমান বিদেশে। তাদের মধ্যে সুইডেন আসলাম নিষ্ক্রিয় থাকলেও অন্য সবাই সক্রিয়।
এর আগে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তকমা মুছে কারামুক্ত হয় জোসেফ আহমেদ। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকার অপরাধ জগতের একচ্ছত্র অধিপতি সেজে ছিলেন।
এসব সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই এক থেকে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ছিল কারাগারে। এখনো কারাগারে আছে— এমন সন্ত্রাসীর কেউ কেউ মুক্তির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরনো ও নতুন গজিয়ে ওঠা অপরাধীদের হালনাগাদ তথ্য নেই তাদের কাছে। কাজ চলছে নতুন তালিকা তৈরির।
তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে বড় অংশই এখন দেশের বাইরে। মারা গেছে কেউ কেউ। তাদের বাইরে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই দুয়েকটি মামলা ছাড়া অন্যগুলোয় খালাস পেয়ে কিংবা জামিন নিয়ে কারাগারে অবস্থান করছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন তারা জামিনে বের হয়ে আসছে।
২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ করে। তাতে নাম ছিল আব্বাস, হেলাল, টিটন ও রাসুর। এই চারজনসহ জামিনে বের হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ আরও মামলা রয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তাদের সাজাও হয়। আবার কোনো কোনো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতিও পায় কেউ কেউ।
ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অপরাধীদের মামলা, জামিন, গ্রেপ্তার ও সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবসময় করত নজরদারি। তবে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাঠামোয় ভঙ্গুর অবস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা খুব সহজেই বের হয়ে আসে। তাদের ওপর কোনো নজরদারি ছিল না।
যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ যাতে নতুন করে অপরাধে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিতে সক্রিয় তারা। তিনি বলেন, জামিনে বের হয়ে কেউ যেন নতুন করে অপরাধমূলক কাজে জড়াতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী, গডফাদার বা যেকোনো পরিচয়েই হোক, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
কোনো অপরাধী কারামুক্ত হলে তাতে অপরাধের মাত্রা বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয় বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হকের মত, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগারে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করত বাইরের অপরাধ। তাই জামিনে মুক্ত হলে তাদের অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।’
বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই বাড়ছে। আগে যেখানে খুচরা দোকানগুলোতে থরে থরে সাজনো থাকতো বোতলজাত সয়াবিন তেল, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্য পণ্য গ্রহণের শর্তে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যেই বাড়ল দাম। প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেলের মূ ল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নতুন এই মূল্য গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
এদিকে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সমস্যা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয়ের জন্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছর একই সময়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এই বাস্তবতায় আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১ হাজার ২৮২ ডলার এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছায়। ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় আরো বেড়েছে।
সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে সরকারি দলের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র ও অন্য দল থেকে থাকবেন ৫ জন সদস্য। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্য দল থেকে রাখা হয়েছে পাঁচজনকে।
বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে,’ বলছিলেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় স্পিকার বলছিলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। এভাবে গঠন করা হবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সমান। এই অর্থ প্রদান করা হবে রেডক্রসের কাছে। যেসব পরিবারের সদস্য হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইইউ এ তথ্য জানিয়েছে।
তারা বলেছে, এ সহায়তা বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহের মানুষের উপকারে কাজে লাগবে।
রেডক্রস এই অর্থ দিয়ে চলমান ভ্যাকসিন কার্যক্রম আরও দৃঢ় করবে। এছাড়া হাম প্রতিরোধেও এগুলো ব্যয় করা হবে। যারমধ্যে থাকবে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
মূলত নগদ অর্থ দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত এবং অসুস্থের সেবা করতে গিয়ে যাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।
বিবৃতিতে ইইউ আরও জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের অন্যতম দাতা সংস্থা। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই মানবিক সহায়তা হিসেবে ২৩ মিলিয়ন ইউরো বাংলাদেশের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাকে দিয়েছে তারা। যারমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ইউরো এবং ৭ মিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ সংক্রান্ত প্রস্তুতি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থিতিস্থাপকতা অর্জনে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের কৃষিমন্ত্রী ও দেশটির সরকারের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান জাপানের কৃষিমন্ত্রী।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দু’দেশের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সুজুকি নরিকাজু।
বিশেষ দূত বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে কৃষি খাত, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে দক্ষ জনবল পাঠানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নেন।
বৈঠকে জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মেট্রোরেল প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
জাপানি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৭ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেন।
এছাড়া জাপানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে জাপানে সরকারি সফরের আশা ব্যক্ত করেন।
দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি তথ্য ও সেবা পাওয়ার প্রধান ভরসা জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ গভীর সংকটে রয়েছে। একদিকে তীব্র জনবল সংকট, অন্যদিকে অপ্রাসঙ্গিক বা ‘উটকো’ ফোনের বিড়ম্বনায় বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি সেবা কার্যক্রম। চালুর সময় ৬৫ জন কর্মী থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩০ জন নিয়ে তিন শিফটে ধুঁকছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সম্প্রতি সচিবালয় ও ৩৩৩-এর কনটাক্ট সেন্টার (কল সেন্টার) ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর পরিসংখ্যান (এপ্রিল ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৬) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ১২ কোটি ছয় লাখ কলের মধ্যে রিসিভ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ। এর মধ্যে বড়ো একটি অংশই অপ্রয়োজনীয় কল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোট কলের ২১ শতাংশই কৌতুকপূর্ণ বা প্রাঙ্ক কল এবং ১৩ শতাংশ নীরব কল।
সেবাপ্রদানকারীরা জানান, সাহায্যপ্রার্থীদের ভিড়ে অনেক সময় প্রেমের আবদার, মোবাইল রিচার্জ চাওয়া কিংবা বান্ধবীর বিয়ে ঠেকানোর মতো বিচিত্র সব উটকো ফোন কল আসে, যা প্রকৃত অভাবী মানুষকে অপেক্ষমাণ রাখছে।
সিনেসিস আইটি পিএলসির চিফ সলিউশন অফিসার আমিনুল বারী শুভ্র জানালেন বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুযায়ী একজন কল টেকার আট ঘণ্টায় ১০০ বেশি কল রিসিভ করা কঠিন হলেও বর্তমানে ৩৩৩-এর একেকজন কর্মীকে ২০০-এর বেশি কল সামলাতে হচ্ছে। যা অমানবিক। এর ফলে সব সাহায্য প্রার্থীকে সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। শুরুতে ৬৫ জন কল টেকার থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ জনে। এতে সেবার মান ও গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখার আহ্বান তাদের।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল হিসেবে ৩৩৩-এর ৮০ শতাংশ কলই আসে গ্রাম থেকে। কৃষক, জেলে ও দিনমজুররা সরাসরি বাটন ফোনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য, বাল্যবিয়ে রোধ এবং দুর্যোগের পূর্বাভাস পান। তবে শহরের মানুষের কাছে এটি এখনো ততোটা পরিচিতি পায়নি।
‘তথ্য ও সেবা সবসময়’ কোভিড-১৯ মহামারির সময় টেলিমেডিসিন ও স্বাস্থ্যসেবা এবং ২০২৪ বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ত্রিপল থ্রি হটলাইন। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময়ও তাদের ভূমিকা ছিলো বেশ। আর প্রতিদিনই বাড়ছে কলের সংখ্যা।
এটুআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি দুই দফা মেয়াদ বাড়ার পর আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। লোকবল কমা এবং প্রকল্প সমাপ্তির শঙ্কায় কর্মীদের মধ্যেও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুর রফিক বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেবা বন্ধ হবে না। কার্যক্রম চলবে তিনিও স্বীকার করেন লোকবল বাড়ানো প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ৩৩৩-এর মতো প্ল্যাটফর্মকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং প্রাঙ্ক কলের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে বছরে সড়কে ৩১ হাজার ৫৭৮ জন নিহত হয়। আর প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে মৃত্যু ঘটে ৬৭ জনের। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
‘গতি নিয়ন্ত্রণে গতিসীমা নির্দেশিকা ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী রোডক্র্যাশে মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশের জন্য অতিরিক্ত গতি দায়ী। বাংলাদেশে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ রোডক্র্যাশ অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে ঘটে। রোডক্র্যাশে নিহতদের ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং মোটরসাইকেল চালক, যারা উচ্চগতির দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার শুভ্র দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, দৈনিক ভোরের আওয়াজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহছান শিপু, দৈনিক যুগান্তরের ক্রাইম ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক যায়যায়দিনের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল গফ্ফার, ঢাকা পোস্টের চিফ অব ক্রাইম এন্ড আরবান এ্যাফেয়ার্স জসিম উদ্দীন ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি মো. তোফাজ্জল হোসাইন কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান।
রোডক্র্যাশের বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে রোডক্র্যাশে প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার (১.১৯ মিলিয়ন) মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এছাড়াও মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে। রোডক্র্যাশ সব বয়সি মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১২তম প্রধান কারণ। ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন রোডক্র্যাশ।
সভা থেকে রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি কমাতে যেসব সুপারিশ তুলে ধরেন। ১. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গাইডলাইন/ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. যানবাহনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্পিড গভর্নর সিল’ স্থাপন করতে হবে, যাতে চালক অতিরিক্ত গতিতে যান চালাতে না পারেন।
৪. পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ও যানবাহন নিশ্চিত করতে সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র। গত প্রায় দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল পেতে পাম্পগুলোতে যেখানে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মাত্র কয়েক দিনেই সেই উপচেপড়া ভিড় উধাও হয়ে গেছে। অনেক স্টেশনে দীর্ঘ সময় কোনো গাড়ি না আসায় কর্মীদের জিরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার পর রাজধানীর মুগদা, রাজারবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন ও মতিঝিল এলাকার অন্তত আটটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে মুগদা শান্ত সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মাত্র দুটি মোটরসাইকেল অপেক্ষায় আছে। ওই সময় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একটি গাড়ি থেকে স্টেশনটিতে অকটেন তেল নামানো হচ্ছিল। স্টেশনটির কর্মীরা জানান, গত রোববার থেকেই তারা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন। সোমবার সকালে কিছুটা ভিড় থাকলেও বিকেল থেকে তা কমতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার এই স্টেশনে বড় কোনো জটলা দেখা যায়নি; সর্বোচ্চ ১০-১২টি গাড়ির বেশি লাইন দীর্ঘ হয়নি।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মতিঝিলের মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশন ও করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি স্টেশনেই কোনো মোটরসাইকেল নেই। কিছু সময় পরপর দু-একটি গাড়ি এলেও পরক্ষণেই আবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে পাম্প। এই সুযোগে স্টেশনের কর্মীরা আশপাশে ঘোরাঘুরি ও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কাউকে কাউকে ফুয়েল ডিসপেনসার বা পাম্প মেশিনের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।
দৈনিক বাংলার নাভানা সিএনজি স্টেশনে দুপুর পৌনে ১টার দিকে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের কোনো লাইন নেই। তবে স্টেশনটিতে বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) তেল নিতে অপেক্ষায় ছিল। কর্মীরা জানান, এখানে মোটরসাইকেলের তেল দেওয়া হলেও এখন চাপ না থাকায় অনেকক্ষণ পরপর দু-একটি মোটরসাইকেল আসছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে এখন পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ায় গ্রাহকরা এখন আর বাড়তি তেল কিনে বাসায় মজুত করছেন না। গত কয়েক দিন ধরে গ্রাহকরা চাহিদামতো জ্বালানি নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ যানবাহনেই এখন পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন ফিলিং স্টেশনগুলো বেশি ফাঁকা থাকছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারসহ শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও সুদৃঢ়। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল বলেও তিনি স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশে ‘চাইনিজ ইপিজেড’ স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি, সোলার পাওয়ার, আইসিটি, ই-ভেহিকলস, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কৃষি খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষ করে টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস খাতে চীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, চীন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক (ভোকেশনাল) শিক্ষার প্রসারে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রদূত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক-বাস (ই-বাস) চালু এবং সোলার পাওয়ার ও আইসিটি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন দুদেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীনের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর চলমান প্রকল্প রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতকারে এ কথা জানান তিনি।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন— ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন ফারহানা শাহনাজ এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রজেক্ট লিড শাকিল এম ফয়সাল।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষের মধ্যে পুলিশ প্রশিক্ষণ ও সংস্কার, মিডিয়া ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজকে স্বাগত জানান। ভাইজ নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ বলেন, ‘পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর চলমান প্রকল্প রয়েছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।’
মন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সুসান ভাইজ জানান, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এসপি ও ওসি পদমর্যাদার ৭ শত পুলিশ অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ইউনেস্কোর সহযোগিতায় প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি এতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মিডিয়া শাখায় কর্মরত অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশিক্ষণটি ফলপ্রসূ হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সুসান ভাইজ জানান, মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য অনুরূপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে ইউনেস্কো।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে এর সঙ্গে জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপ-সচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিজ জেলার শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সংসদীয় অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ পদের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখলেও বর্তমান রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। নিজান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন, "আমি তাদের মায়েদের কথা দিয়েছি—মহামান্য রাষ্ট্রপতির চেয়ারকে সম্মান করতে হবে। ওই চেয়ারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, কিন্তু মহামান্য রাষ্ট্রপতি ব্যক্তি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাহেবকে আমি ধন্যবাদ জানাতে পারলাম না বলে দুঃখিত।"
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নিজান।
গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘সংসদ ভবনে লুকিয়ে আছে শুনে (তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা) প্রতিটি রুম ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কোটি কোটি টাকা এ সংসদ ভবনে পেয়েছিল। গণভবনের ইট নিয়ে গিয়েছিল। এটা বিএনপির লোকেরা নেয়নি, জামায়াতের লোকেরা নেয়নি, এটা জুলাই শহীদের মায়েরা নেয়নি, এটা বাংলাদেশের রিকশাওয়ালা, শ্রমিক-জনতা সকলের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল।’
নবম জাতীয় সংসদের স্মৃতিচারণ করে নিজান বলেন, ‘আমার মায়ের (খালেদা জিয়া) সংসদে বসার মতো ভাষা সংসদে ব্যবহার হয়নি। সংসদ নেতা যিনি ছিলেন—ফ্যাসিস্ট হাসিনা; তিনি টোকেন দিতেন যুব মহিলা লীগের নেত্রীদের—কীভাবে মন্দ বলা যায়। কীভাবে দাঁড়ি, কমাসহ মন্দ বলা যায়। কীভাবে খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্দ বলা যায়। তারপরও আমরা সংসদে ছিলাম।’বিরোধী দলের প্রতি সেই সময়কার অগণতান্ত্রিক ও প্রতিহিংসামূলক আচরণের কথা স্মরণ করে তিনি বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার লক্ষে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বন্ধ ও কম ব্যবহৃত বিমানবন্দরগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগিতা যাচাই করতে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত অভ্যন্তরীণ আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে ভারসাম্য রক্ষা করাই সরকারের এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক, অভ্যন্তরীণ এবং সামরিক ঘাঁটিসহ মোট ১৭টি বিমানবন্দর অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা), শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (চট্টগ্রাম) এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (সিলেট) দিয়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ধরনের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর বাইরে সৈয়দপুর, যশোর, বরিশাল, কক্সবাজার ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরগুলো নিয়মিত অভ্যন্তরীণ যাত্রীসেবা প্রদান করছে। তবে দেশের একটি বড় অংশের জেলা শহরগুলোতে বিমানবন্দর থাকলেও সেগুলো দীর্ঘকাল ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সরকার সেগুলোর আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, কুমিল্লা ও পটুয়াখালী—এই ছয়টি স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন-অবতরণ (এসটিওএল) সুবিধাসম্পন্ন বিমানবন্দর বর্তমানে বন্ধ বা নামমাত্র ব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। যদিও কুমিল্লা বিমানবন্দরে কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট বর্তমানে ওঠানামা করে না, তবে এটি বিদেশি উড়োজাহাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও নেভিগেশন সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরটি বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়মিত যাত্রীসেবা প্রদান করা হয় না।
সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোকে ধাপে ধাপে আকাশপথে সংযুক্ত করে একটি কার্যকর জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বন্ধ বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উপযোগিতা যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের বগুড়া বিমানবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনচাহিদা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এসব বন্দর সচল করার ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আকাশপথে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পর্যটন ও বাণিজ্যিক বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে প্রান্তিক জেলাগুলোর সাথে রাজধানীর সরাসরি ও দ্রুত সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং সময়ের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।