লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার শেষের বছরগুলোতে অতিমাত্রায় ঋণ নির্ভর হয়ে পড়ে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ও বিদেশী উৎস থেকে সমান তালে ঋণ নিতে হয়েছে বিগত সরকারকে। শুধুমাত্র শেষের তিন বছরে ঋণ নিতে হয়েছে পৌনে ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি। এ ঋণ স্থিতি দেশের শেষ তিন বছরের গড় বাজেটের প্রায় দেড় গুণ। অর্থাৎ ঋণের অর্থ দিয়েই প্রায় দেড় বছরের বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সরকারের ঋণসংক্রান্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিক বুলেটিনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশের ঘাড়ে দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ তিন অর্থবছরে দেশের মোট ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি যখন সরকারের দায়িত্ব নেয়, তখন দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। সে হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের শাসন আমলে গত ১৫ বছরে দেশে ঋণ স্থিতি বেড়েছে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ঋণসংক্রান্ত বুলেটিনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুন শেষে দেশি-বিদেশি মোট ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ এই প্রথম ১০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুন শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২০ হাজার ২০৫ কোটি টাকায়। ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যার পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। অথাৎ শেষ তিন বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত বছরের জুন শেষে বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৭৭ কোটি টাকায়, ৩ বছর আগে যার পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে ৩ বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ বা ৩ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত সরকারের সময়ে নেয়া বেশিরভাগ বিদেশি ঋণই দর-কষাকষি ও বাছবিচারহীনভাবে নেয়া হয়েছে, যা সরকারের দায়দেনা পরিশোধে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, বিদেশি ঋণ সস্তা, সুদও কম এবং পরিশোধের সময়ও পাওয়া যায় বেশি। তা সত্বেও বিগত সরকার দর-কষাকষি না করে বেশি হারে ঋণে নিয়েছে।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বৈদেশিক ঋণও উচ্চ সুদে নেওয়া হয়েছে। এখন ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে অথচ আছে সক্ষমতার ঘাটতি। ঋণ নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে এবং বিদেশে পাচার হয়েছে এই অর্থ। সরকারকে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা আনতে হবে। কারণ, ঋণের অর্থ পরিশোধের চূড়ান্ত দায় পড়ে জনগণের ঘাড়ে।’
দেশি–বিদেশি এসব ঋণ সরকারি ও সার্বভৌম নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ঋণ হিসেবে পরিচিত। ঋণ নেওয়া, ঋণের সুদ দেওয়া, আসল পরিশোধ করা, আবার ঋণ নেওয়া—বিষয়টি এভাবে চলতে থাকে। স্থিতি হিসেবে উল্লেখ থাকা অর্থ ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য। সরকার স্থানীয় উৎসের মধ্যে সাধারণত ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সুকুকের মাধ্যমে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। অবশ্য ব্যাংক খাতের মধ্যে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি ঋণ নেয়া হয়। এর বাইরে সঞ্চয়পত্র ও সরকারি কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে ব্যাংক-বহির্ভূত উৎস থেকেও ঋণ নেয় সরকার। অন্যদিকে বিদেশি ঋণের মধ্যে সরকার বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো সংস্থা এবং জাপান, চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো দেশের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে। এসব ঋণ নেওয়া হয় মূলত প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থায়ন ও বাজেট–সহায়তা হিসেবে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঋণ পরিস্থিতি
অর্থ বিভাগের বুলেটিনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রকৃত (নিট) ঋণের পরিমাণও উল্লেখ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে সরকার প্রকৃত ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ৭৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ৮৩ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত নেওয়া হয় ৮৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আর সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে নেওয়া হয় ৫ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। ব্যাংকবহির্ভূত খাত ও সঞ্চয়পত্র থেকে এই ঋণ ৩৭ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ঋণাত্মক ছিল।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে ১ লাখ ১১ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা গুনতে হয়েছে সরকারকে। সুদের এই অঙ্ক প্রথমবারের মতো শিক্ষা বাজেটকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শিক্ষা বাজেটের আকার ৯৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এর আগে ২০২২–২৩ অর্থবছরে ঋণের সুদ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সুদ ব্যয় বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বা ১৯ শতাংশ।
জিডিপি অনুপাতে সরকারের ঋণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ
অর্থ বিভাগের হিসাবে গত বছরের ৩০ জুন শেষে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ছিল ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে জিডিপির তুলনায় ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশে। তিন বছর আগে এই হার ছিল ৩২ দশমিক ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণ-জিডিপির হার ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে থাকে।
সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘যে দেশে কর-জিডিপি হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং যে দেশে দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, সে দেশের জন্য ৩৬ দশমিক ৩০ শতাংশ ঋণ-জিডিপি ঝুঁকিপূর্ণ ও দুশ্চিন্তার কারণ।
বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) ওয়েবসাইটে এজেন্সিগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর মধ্যেই এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ কীভাবে হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
ওয়েবসাইটে এজেন্সিগুলোর নাম কবে আপলোড হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থার অধীনে এজেন্সিগুলো কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের কাজ না পাওয়া এবং অন্যায়-অত্যাচারের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে মালয়েশিয়া।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০১টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছিল মালয়েশিয়া।
সে সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত অন্য কোনো এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে নিয়োগের আদেশ পেলেও, তা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তালিকাভুক্ত ওই ১০১ এজেন্সির যেকোনোটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালাতে হতো।
এমন নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতার অভাবের কারণে প্রক্রিয়াটি চরম সমালোচনার মুখে পড়ে।
পরে চলতি বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটিতে সফরে গেলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শ্রম অভিবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা এবং একটি সংশোধিত চুক্তি তৈরির জন্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয় দুই নেতা।
মালয়েশিয়া পরে জানায়, বিদেশী কর্মী নিয়োগে কোটার আবেদন এফডব্লিউসিএমএসের ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হবে।
এর মধ্যেই এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে নতুন করে রিক্রুটিং এজেন্সির নাম দেওয়া হলো। যদিও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং আগের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্যাগুলো নতুন ব্যবস্থায় সমাধান হবে কি না—এমন উদ্বেগও শেষ হয়নি।
এর আগে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রক্রিয়া ঘোষণা না করা পর্যন্ত চুক্তি সই, কর্মীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা কোনো টাকা যেন না নেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছিল যে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে যেকোনো ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বেআইনি বা অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল মন্ত্রণালয়।
এ অবস্থায় ২৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি নির্দিষ্ট করা হলেও কর্মী নিয়োগ এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, চাকরির আদেশ কীভাবে বণ্টন করা হবে বা কর্মীরা কবে থেকে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কিছু পাওয়া যায়নি।
এজেন্সিগুলো হলো—বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অন্বেষা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-ত্বাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-সুপ্ত ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিংকু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিংক, নেইবার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ও দ্য অ্যাংকর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।
এ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও কম্বোডিয়া, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতা ভোগের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।
শনিবার দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করার সময় এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নতুন তথ্যমন্ত্রী। পরে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
স্মৃতিসৌধে যাওয়ার আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর পর গণমাধ্যমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত রেখে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পার্থ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভালো জানেন কখন কাকে কোথায় দায়িত্ব দিতে হবে। যেহেতু অনেক দিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি মিডিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাই আশা করি সবার সহযোগিতায় ভালো কিছু করতে পারব।’
টেলিভিশনের টক-শো ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে তার নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন হয়তো আগের মতো ঘন ঘন কথা বলার সুযোগ হবে না, তবে মিডিয়ার সঙ্গেই থাকব এবং ভিন্ন আঙ্গিকে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কথা বলব।’
সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পার্থ বলেন, ‘জনতাই ক্ষমতার উৎস। এই সত্য আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। রাজনীতিবিদদের আসল সফলতা তখনই আসে, যখন তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় থেকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে নানা ভয়ভীতির মধ্যেও গণমাধ্যম জনগণের কথা বলার চেষ্টা করেছে। নতুন সরকারের সময়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ বা হস্তক্ষেপের কোনো মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি।
আমরা মুক্ত গণমাধ্যমে বিশ্বাসী। তবে মুক্ত মানে ‘কেয়ারলেস’ বা দায়িত্বজ্ঞানহীন হওয়া যাবে না। গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তাই দেশের স্বার্থ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা করতে হবে।’
একনজরে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান:
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণ করে নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পা রাখলেন এক নতুন দিগন্তে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী গত শুক্রবার মধ্যরাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুনর্বন্টিত দপ্তর ও নতুন দায়িত্ব সংবলিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
নতুন চার পূর্ণমন্ত্রী:
আবদুল মঈন খান – স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি
আন্দালিব রহমান পার্থ – চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)
রশিদুজ্জামান মিল্লাত – সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
সাচিং প্রু জেরী – সংসদ সদস্য, বান্দরবান
নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী:
হুমায়ুন কবির – প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন – সংসদ সদস্য, গাইবান্ধা-৪
আন্দালিব রহমান পার্থ'র পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষাজীবন:
১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে আন্দালিব রহমান পার্থের জন্ম।
পারিবারিক পরিচিতি: তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মা শেখ রেবা রহমান। পারিবারিকভাবেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান তিনি।
শিক্ষাজীবন ও আইন পেশা: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে যুক্তরাজ্যে যান। ১৯৯৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার ‘ব্রিটিশ স্কুল অব ল’-এর অধ্যক্ষ হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবন ও সাফল্যের মাইলফলক
রাজনীতিতে অভিষেক:
২০০০ সাল থেকে তিনি বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ২০০৮ সালের এপ্রিলে বাবার প্রয়াণের পর তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
প্রথমবার সংসদে (২০০৮): নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করেন এবং প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ভোট বর্জন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা: জোটগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তার দল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
দ্বিতীয়বার এমপি ও মন্ত্রী পদে আসীন: পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার পার্থ। নির্বাচনে এই অসাধারণ বিজয়ের পরই তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন।
সংসদীয় অভিজ্ঞতা, আইন পেশায় দক্ষতা এবং চমৎকার বাগ্মিতার কারণে তরুণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ব্যারিস্টার পার্থ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেশ সেবায় তার নতুন পথচলা শুরু হলো।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ছয় মাস আগে গঠিত মন্ত্রিসভায় আজ যে সংযোজন ঘটেছে, বিশ্বের সব দেশেই এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যেসব সমস্যা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে ওয়াকিফহাল, সেসব সমস্যা দূর করে বাংলাদেশকে একটি গতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করাই লক্ষ্য।
শনিবার দুপুরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দুঃখজনক বিদায়ের পরে ৮২ সালে বিএনপির হাল ধরেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন করে দেশের হাল ধরেছিলেন এবং তিনি রাজপথে সংগ্রাম করে আপসহীন নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১৯৯১ সালে এসে জনগণের ভোটে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে এসে আবার নতুন করে জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই দেশকে নতুন করে ইনশাআল্লাহ গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য একটি দ্বিতীয় ক্রান্তিকাল। এর আগে আরেকটি ক্রান্তিকালে যখন দেশের সমগ্র মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল, যখন স্বাধীনতার যুদ্ধের উপযুক্ত সময় উপনীত হয়েছিল, যখন এ দেশের একটি রাজনৈতিক দল, যারা নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে, তারা যখন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল— সেই সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নতুন প্রজন্মের জন্য আজ এই ইতিহাসগুলো বলা প্রয়োজন, কেননা বারবার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পরিক্রমা ব্যাহত হয়েছে এবং প্রতিবারই বিএনপি দেশকে নতুন করে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা নিয়েছে।
এ সময় তার সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এবং দুই নতুন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন (ধর্ম মন্ত্রণালয়) উপস্থিত ছিলেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার হ্রাস ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব কথা হলেন। ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান।
বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা তুলে ধরে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ধীরে ধীরে সুদের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে, যদিও এরই মধ্যে ৫০ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, ঘোষিত সিএমএসএমই সহায়তা প্যাকেজের ৫ হাজার কোটি টাকার কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছ তদারকি এবং প্রকৃত উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ হ্রাস এবং আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। সর্বোপরি, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তবে যথাযথ নীতিগত সমন্বয়, কার্যকর সংস্কার, জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের নিবিড় অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।
তাসকীন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ ব্যয় এবং ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। এ পরিস্থিতিকে বিনিয়োগের জন্য উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্য বাধা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসা সহজ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা, চামড়া, পাদুকা ও হোম টেক্সটাইল খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা আরও তিন বছর বাড়ানো এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি নতুন খাতকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।
এছাড়া কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন বাড়ানো, কাস্টমস প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তাসকীন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানির ক্ষেত্রে লিড টাইম কমাতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া আগামী পাঁচদিন পর দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তাড়াহুড়া করে নয়, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনায় অগ্রগতি হলে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ভারত থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত আসছে। তারা স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে—বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শনিবার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটু অগ্রগতি হোক। আলোচনার ভিত্তিতে এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা অবশ্যই যাব, যখন সময়টা উপযুক্ত হবে।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কেন রাখব না? তারা আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের একটি কার্যকর সম্পর্ক থাকা উচিত। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে আমরা কিছু করতে পারি না।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেড় হাজার মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী হিসেবে ভারতে গেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলও এসেছে। আরও অনেক মামলা বিচারাধীন।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো শর্ত বা নতুন কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয় নয়; এগুলো চলমান বিষয়।
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, আরও অপরাধী আছে, যারা পালিয়ে ভারতে আছে। এটা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি এবং তাদের অনুভূতির বিষয়। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে আমরা সম্পৃক্ত হতে চাই।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হব। আমরা একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চাই। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তা করতে হবে।
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আগামীকালও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আগামী সপ্তাহে যেতে পারি, অথবা পরের সপ্তাহেও যেতে পারি। এখানে কোনো তাড়াহুড়া নেই।
প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আলোচনা দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে আলোচনা করার বিষয় আছে, প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয় আছে। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফর তো এমন নয় যে হুট করে গিয়ে হয়ে গেল। এটা কোনো খেলার বিষয় নয়।
তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের আগে কিছু প্রস্তুতি ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে। আমরা সেটিই করছি। ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সেখান থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত আসছে।
বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা দেখছেন, ভারত থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য আসছে। তারা স্বীকার করেছে যে বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে—বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা বিষয়টি লক্ষ্য করেছে।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্ম’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত এক সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান। তিনি জানান, সভায় ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য কাঠামো, পরিচালনা পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যসেবায় এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সম্ভাব্য সমস্যা, ব্যয় ও বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হবে। পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল পর্যালোচনার পর পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিতের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সমন্বিত এই ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এর সুফল পান এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়।
রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যের নিরাপদ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কাছে তা সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্ল্যাটফর্ম তৈরির ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এটি যেন সহজে ব্যবহারযোগ্য, ব্যয়সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনাযোগ্য হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় ন্যাশনাল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেন প্রকৌশলী জাকারিয়া স্বপন। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও ড. শাকিরুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব মো. মামুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, জনপ্রতিনিধি, যুবক, গৃহবধূ ও কিশোরী- ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এসব মৃত্যুর ঘটনায় কোথাও উঠে আসছে পারিবারিক কলহ, কোথাও আর্থিক সংকট, আবার কোথাও মানসিক হতাশা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের তথ্য। সব ঘটনা একই কারণে ঘটেনি; কোনোটি আত্মহত্যা, কোনোটি হত্যা বা সন্দেহজনক মৃত্যু। তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় মানুষের মানসিক সংকট ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকার ইমাম হোসেনের বাড়িতে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা শাহিদ হোসেন (৪৫)। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তা মাসখানেক আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকেই তিনি হতাশা ও পারিবারিক কলহে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। সকালে ড্রয়িংরুমে গুলির শব্দ শুনে স্বজনেরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর পৌনে ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহিদের স্ত্রী শারমিন আক্তারকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগের দিন গত শুক্রবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া এলাকা থেকে মো. সাকিব (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতে পরিবারের সদস্যরা দাওয়াতে ছিলেন। মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে তারা ঘরের ভেতর সাকিবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার সকালে মীরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারের ‘রিল্যাক্স জোন’ আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে রাঙামাটি জেলা পুলিশের এএসআই আমিনুল ইসলাম (৩৫)-এর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের ১০ মাস বয়সি কন্যাশিশুকে খাটের নিচ থেকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে নিজ মুরগির খামার থেকে স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিদারুল আলম মামুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার ফিনলে স্কয়ারের পঞ্চমতলা থেকে নিচে পড়ে মাইনুদ্দিন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৃহবধূ খাদিজা আক্তার কাশফির গলায় দাগসহ মরদেহ রেখে পালিয়ে যান তার স্বামী মারুফ। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে শনিবার সকালে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের হাড়িপাড়া এলাকার ঘনপুকুরপাড়ে ঋণগ্রস্ততার কারণে জিকু সর্দার (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গাছে ঝুলে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। এর আগের দিন শুক্রবার রাতে একই উপজেলার বটতলী এলাকার পূর্ব বরইয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে উম্মে হাবিবা (২২) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এ ছাড়া গত রোববার সন্ধ্যায় নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন কাজীর দেউড়ি ২ নম্বর গলির মান্নান কলোনির বাসা থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী মনিকা আক্তার সোমার (১৪) মরদেহ এবং মঙ্গলবার ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা ফ্লাইওভার থেকে বিএসআরএমের নিরাপত্তাকর্মী আবু কাউসার (২৭)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য ও সমাজবিজ্ঞানী ড. মনজুর-উল আমিন চৌধুরী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল আর্থসামাজিক বাস্তবতা, তীব্র প্রতিযোগিতা, একাকীত্ব এবং পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে পড়া এ ধরনের আত্মঘাতী প্রবণতার অন্যতম কারণ। মানসিক সংকটে থাকা মানুষ পরিবার বা সমাজে নিজের কথা বলার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার নির্ভরযোগ্য জায়গা না পেলে চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া, পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, এসব ঘটনার পেছনে পারিবারিক কলহ, বিষণ্নতা ও আর্থিক অনটনের তথ্য পাওয়া গেলেও প্রতিটি ঘটনা পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। অপমৃত্যু ও হত্যা মামলার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পারিবারিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্পর্কের প্রশ্নও। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের হতাশা, পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক চাপ কিংবা সম্পর্কের সংকটকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সংকটের শুরুতেই পরিবারের সদস্যদের সতর্ক হওয়া এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া জরুরি।
তিন দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) বা এলএনজি টার্মিনাল থেকে শনিবার পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এর আগে এলএনজি কার্গোর ঘাটতির কারণে গত তিন দিন সরবরাহ বন্ধ ছিল। শনিবার দুপুর থেকে রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়। এতে দেশের চলমান তীব্র গ্যাস-সংকটে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটি থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা অপারেশন স্থিতিশীল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আজ দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দুটি এফএসআরইউ থেকে দেশে মোট এলএনজি সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৬৭০ এমএমসিএফডি। অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডিতে।
পেট্রোবাংলার প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) বিভাগের পরিচালক এবং অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. শোয়েব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এক্সিলারেট টার্মিনালটি পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে এবং গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই সরবরাহের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়বে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, এলএনজি সরবরাহকারী জাহাজটি মূলত আগামীকাল টার্মিনালটিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই জাহাজটি পৌঁছে যাওয়ায় আজ থেকেই টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে মজুত এলএনজি শেষ হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট থেকে এই টার্মিনালটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, এতে দেশের বিদ্যমান গ্যাস-সংকটকে আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই এই টার্মিনালটি দীর্ঘ সময় অকেজো ছিল। ওই অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ হ্রাস পায়।
পরবর্তীতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ দ্রুত আমদানির পদক্ষেপ নেয়। মেরামত শেষে এক্সিলারেট আংশিক সরবরাহ শুরু করলেও গত সপ্তাহে এলএনজি মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় তা আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
দেশে এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে সংকট চলছে, তা আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। তবে, পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। একইসঙ্গে এ সংকট কাটাতে সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা খুবই নাজুক ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। এখন তা এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি খাতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। কারণ অর্থনীতির উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সময় লাগবে। সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। তবে, সবকিছু সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকে এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ওপরও পড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিয়েছে। যারা ব্যবসা থেকে বের হয়ে যেতে চান, তাদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোনো ঋণ ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকলেও বাস্তবে যদি তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে শুধু কাগজে ঋণ দেখিয়ে রাখার কোনো অর্থ নেই। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য তৈরি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্যাকেজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। যোগ্য হওয়ার পরও কোনো ব্যাংকে বাধার মুখে পড়লে বিষয়টি সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আমির খসরু। তবে, অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, এবার কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতার সুযোগ রাখা হবে না। আর্থিক খাতে রাজনৈতিক নিয়োগও দেওয়া হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরই ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে হবে। আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা করতে হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
চাঁদাবাজদের নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সারা দেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং এই অপকর্মের সঙ্গে যদি কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাদেরও পৃথক তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ শনিবার বিকেলে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সাতজন সন্ত্রাসীর মধ্যে ইতোমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য তিনি পুলিশের প্রশংসা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার তাগিদ দেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিএমপি এবং দেশের সকল মেট্রোপলিটন এলাকায় চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ব্যর্থ হন, তবে সেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়বদ্ধ করার লক্ষে এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি সাধারণ মানুষকে অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁকে নতুন করে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। আজ শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই রদবদল সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর পরপরই জারি করা অপর এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ অনুযায়ী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদে থাকাকালীন তিনি একজন পূর্ণ মন্ত্রীর যাবতীয় পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তাঁকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উপদেষ্টা পদে তাঁর নিযুক্তিকে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ায় বরিশালসহ তাঁর নির্বাচনী এলাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এখন থেকে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন।
দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করে জানান যে, ভোলার সাথে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিনটি পৃথক প্রস্তাব নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সবদিক বিবেচনা করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটিকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই রুটটি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোলাবাসীকে দীর্ঘদিনের যাতায়াত বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে একটি সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মাধ্যমে এই দ্বীপ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং তিনটি ছোট সেতু তৈরি করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে নদীবেষ্টিত ভোলার মানুষকে যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণভাবে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন এই সড়ক সংযোগ তৈরি হলে নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের মাধ্যমে ঢাকা ও বরিশালের সাথে যোগাযোগ সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করেন।
উক্ত সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং উচ্চপদস্থ প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত এই সড়ক সংযোগের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।