এই বছরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া জরুরি বলে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপী ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারকে জানিয়েছে বিএনপি। এমনকি একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা জরুরি বলেও মনে করে দলটি।
রোববার গুলশানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন বিএনপির নেতারা।
বৈঠকে বিএনপির চার সদস্যের প্রতিনিধির মধ্যে চেয়ারপারসনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষ সহযোগী উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয় নিয়ে আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, সবার মনে প্রশ্ন আছে, সেই বিষয়গুলো বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে নির্বাচন। কবে নির্বাচন হতে যাচ্ছে? নির্বাচন নিয়ে আমাদের ভাবনা কী? মূলত, নির্বাচনের রোডম্যাপ- এই প্রশ্নটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
‘অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসলে দেশ বেশি দিন চলতে পারে না। সুতরাং অগণতান্ত্রিক সরকারের রাজনৈতিক ওয়েট থাকে না, রাজনৈতিক মবিলাইজেশন থাকে না, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে না এবং জনগণের ফিডব্যাক থাকে না। সেদিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি’- বলেন আমির খসরু।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা (ইইউ) জানতে চেয়েছেন- আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে কি না? আমাদের পক্ষ থেকে বিএনপির অর্থনৈতিক সফলতা সম্পর্কে পরিষ্কাভাবে বলেছি। অর্থনীতিকে গর্ত থেকে তুলে আনার জন্য যে প্রোগ্রাম বিএনপি এরই মধ্যে দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করব। এই সরকারের আমলে যদি কোনো অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটা আমরা অবশ্যই সমর্থন করব এবং বাংলাদেশের স্বার্থে সেই কাজ অব্যহাত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির নিজস্ব প্রোগ্রাম আছে। নির্বাচিত হলে সেগুলো আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। ওদের বিনিয়োগকারীরা এখানে আসছে, জানতে চাচ্ছে আগামী দিনে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা যাবে কি না? এ ব্যাপারে আমরা বলেছি, আমরা বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আছে।’
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস করা হয়েছে। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছি। অনেক পর নির্বাচিত সরকার এডিপি পাস করেছে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা। তবে এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকারও বেশি।
এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার অনেক বেশি। কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এক মাসের ব্যবধানে সরকারি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা হারে বাড়িয়েছে সরকার। এর আগে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতেও পণ্যটির দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা হারে বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই মাসের ব্যবধানে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ।
সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি ফার্নেস অয়েলের মূল্য সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সোমবার রাত ১২টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্লাটস রেটের গড় এবং মে মাসে মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিপিসির সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো।
বর্তমানে দেশে মোট ১৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫৬টি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে যেগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৫৪১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি ১৫টি এবং বেসরকারি ৪১টি। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে ফার্নেস তেল আমদানি করে থাকে।
এক দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলার তদন্ত শেষ হয়নি এখনো। বারবার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সিআইডি। এ নিয়ে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ মোট ৯৫ বার পেছাল।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিনও মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ২ জুলাই নতুন দিন ঠিক করে দেয় বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ওই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়।
তৎকালীন সময়ে দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরে একই বছরের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ফিলিপাইনের তিনটি ক্যাসিনোতে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পৌঁছে যায়। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশকে ফেরত দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি।
ঘটনার তিন বছর পর ২০১৯ সালে অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে আরসিবিসি মামলাটি খারিজের আবেদন করে।
২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা খারিজ করে দেয়। রায়ে বলা হয়, ওই আদালতের এ মামলায় পর্যাপ্ত এখতিয়ার নেই।
এরপর বাংলাদেশ বাংকের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ আদালতে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল।
র্যাবকে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচালনার জন্য নতুন আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। সেই আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স থাকবে, যারা নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নতুন বাহিনীটি র্যাবের বর্তমান কাঠামোর সংস্কার হতে পারে, আবার নতুন নামেও গঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সরকার এখনো চিন্তাভাবনা করছে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই বাহিনীর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় সদরদপ্তরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, অথরিটি থাকবে, রেসপন্সিবিলিটিও থাকবে। একই সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি ও অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করা হবে আইনের মাধ্যমে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়। অতীতের রাজনৈতিক শাসনামলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহৃত হওয়ায় সেগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে র্যাবের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কিনা সরকার সেটি বিবেচনা করছে। এছাড়া এলিট ফোর্স পরিচালনায় নতুন আইন হবে কি না কিনা— তা এখনো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যেকোনো এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হবে।
চলতি অর্থবছরের নবম মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের শেষ মাসগুলোতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ফলে নতুন বিক্রির তুলনায় আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আগের আসল-সুদ পরিশোধের তুলনায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নেতিবাচক ধারা দেখা যায়। একক মাস হিসেবে শুধু ফেব্রুয়ারিতে আসল ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি নেতিবাচক ছিল। ওই সময়ে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি সহায়তায় আরও ৩৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার এ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বিশ্বব্যাংকের ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অতিরিক্ত অর্থায়নের অংশ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি ও মূল্য অস্থিরতা বেড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যার সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তা পেট্রোবাংলাকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহে সহায়তা করবে। ফলে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী হবে।
অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় আইডিএ পেমেন্ট গ্যারান্টি-সমর্থিত একটি অর্থায়ন সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির অর্থপ্রদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান ডিভিশনাল ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই সহায়তা বাংলাদেশকে স্থিতিশীল এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতে সহায়তা করবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলায়িঙ্কা এডেবিরি বলেন, অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় গ্যাস অপেক্ষাকৃত কম দূষণকারী ও সাশ্রয়ী জ্বালানি। নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং ব্যয়বহুল তরল জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আর্থিক সাশ্রয়ও করবে।
এর আগে, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ৩৫ কোটি ডলারের মূল প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন দেয় বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। প্রকল্পটির মেয়াদ চলবে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টানা ১৩ দিন দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে গত ১৩ মে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো।
সরকারের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের দিনসহ ঈদের আগের সাত দিন এবং পরের পাঁচ দিন ফিলিং স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে।
এদিকে, রোজার ঈদের মতো এবারও এ ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে। তবে ঈদের ছুটির আগে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। আজ সোমবার সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীর সই করা ছুটির নোটিশে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংবাদপত্রে ২৬ থেকে ৩০ মে ঈদুল আজহার ছুটি উদ্যাপন করা হবে। সে হিসাবে ২৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।
এর আগে, দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জানালেন, দেশের আকাশে এরই মধ্যে দেখা গেছে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ। ফলে আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
এর আগেও, গতকাল সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়। এ ছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঘোষণা করেছে ঈদুল আজহার তারিখ। এসব দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে। ইসলামি চন্দ্রবর্ষের শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা।
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী শনিবার দেশের তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা খোলা থাকবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দিয়েছেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়ি থেকে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে, ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় রিমান্ডের পর ৪ মে মিরপুর থানার বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বিভিন্ন মামলায় মোট আট দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১১ মে অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘একটি আধুনিক জনবান্ধব আইশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস। এই আস্থা অর্জন অটুট রাখা আমাদের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক এবং মানবিক মূল্যবোধ সমৃদ্ধ।’
সোমবার দুপুরে র্যাব সদরদপ্তরে বাহিনীটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আমাদের সকল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দায়িত্ব পালনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাব ফোর্সেস সন্ত্রাসবাদ দমন, বনদস্যু, জলদস্যু প্রতিরোধ, মাদক নির্মূল, চোরাচালান রোধ এবং কিশোর অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন ধরনের সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করে আসছে।’
তিনি বলেন, ‘র্যাব তাদের পেশাদারিত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার সাথে এটি কার্যকর বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
আলী হোসেন বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, র্যাব ভবিষ্যতেও তাদের অর্জিত সুনাম অক্ষুন্ন রেখে আরও উন্নত আধুনিক জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি তাদের পেশাগত সাফল্য, সুস্বাস্থ্য, সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করছি।’
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সোমবার (১৮ মে) সকালে তিনি দেশে পৌঁছান। বঙ্গভবনের প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ৯ মে চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে যান রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।
রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এবার তিনি যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
রাজধানী ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সচিবালয়ে আজ স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় ঢাকা শহরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করতে হলে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে নগরবাসী দ্রুত এর সুফল ভোগ করতে পারে।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশজুড়ে পালিত হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।
সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
এর আগে রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায় বলে জানায় দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি। ফলে সৌদিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে (বুধবার)। এছাড়া আরাফাত দিবস হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা যাক না যাক, বহু বছর ধরে সৌদি আরবের একদিন পরই বাংলাদেশে ঈদ পালনের রীতি চলে আসছে। সেটি ঈদুল ফিতর হোক কিংবা ঈদুল আজহা।
ফলে বাংলাদেশে যে ঈদুল আজহা ২৮ মে উদযাপিত হবে, তা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। বাকি ছিল শুধু জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার। অবশেষে সেই ঘোষণাও এলো।
এদিকে এবার ঈদুল আজহায় সাত দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের আনন্দকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতেই টানা এই ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।