দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
তৃণমূলের ক্ষমতায়ন ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী দিনের মূল কারিগর।’
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকায় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন।’
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন ঘটছে এ আয়োজনে।
এবারের আয়োজনের বিশেষত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ‘দেশের ৬৪টি জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই উৎসবে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে বন্যাকবলিত ৭টি জেলার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির খুদে শিক্ষার্থীরাও রয়েছে।’
তারা প্রবল বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে আজ এখানে উপস্থিত হয়েছে। প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার এই অদম্য মানসিকতাই প্রমাণ করে, আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারি এরাই।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান অনন্য। তার হাত ধরেই দেশজুড়ে ‘‘গণশিক্ষার’’ আলো ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ‘‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’’ পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।’
আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়ে ভালো শিক্ষক, ভালো শিক্ষার্থী এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই ধারা বজায় রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহদী আমিন জানান, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ দেশের প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একযোগে ২ লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পরিচর্যা করবে।
এ ছাড়া অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘প্রাইম-মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে বছরজুড়ে দেশব্যাপী মেধা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা চালু রাখার নতুন রূপকল্পও ঘোষণা করেন তিনি।
খুদে শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘এটিই প্রমাণ করে একজন জনগণের নেতা রাষ্ট্র পরিচালনায় এলে কীভাবে দেশের ভাগ্য বদলে যায়।’
তিনি দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মিলনায়তনে ‘নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আমার আপনার সকলের দায়িত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা দীর্ঘদিনের। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় রাজধানীতে মানুষের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে নগর ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকায় নগর ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মিশ্র প্রভাব রয়েছে। নাগরিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে একটি আধুনিক নগর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এআই নির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ চাইলে নিয়ম মেনে চলতে পারে। কার্যকর তদারকি ও সচেতনতার মাধ্যমে যেমন ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রবণতা বাড়ছে, তেমনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সরকার, সিটি করপোরেশন এবং নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মীর শাহে আলম বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বয়হীনতার সংকট দূরীকরণে সিটি কর্পোরেশনগুলোকে স্বাবলম্বী ও পূর্ণাঙ্গ কার্যকর সংস্থায় পরিণত করা সময়ের দাবি। এর মাধ্যমে রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, ট্রাফিক পুলিশসহ নগর উন্নয়নে নিয়োজিত সকল সংস্থাকে একটি একক সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ বিষয়ে সদিচ্ছা রয়েছে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সাথে নিয়ে একটি দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে ঢাকার আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইলে দুটি ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ (Waste-to-Energy) প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা ও উন্নত নাগরিক বোধ তৈরির লক্ষ্যে আগামী বছরের প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে নৈতিকতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোঃ আমিনুল হক বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল সরকারের একক প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায় থেকে ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এটিকে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহারকারী সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রকে রুখতে এবং মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই আইনের জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অপরাধীদের প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত কৌশলের সাথে সংগতি রেখে বাংলাদেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে এখন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।” তিনি আরও জানান, এই আইনের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বিস্তারের বিধান রাখা হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ করে ভুক্তভোগীদের অন্যায্য শাস্তি না দেওয়ার বিষয়টিও আইনত নিশ্চিত করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, “নতুন আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।” স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং পুলিশ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কাতারের আধুনিক রূপকার এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম সুহৃদ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে আজ বুধবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই শোক পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে আজ দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সকল কূটনৈতিক মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
মরহুম আমিরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “আধুনিক কাতারের অন্যতম স্থপতি, বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের একজন অকৃত্রিম বন্ধু এবং দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি এ বছরের ১২ জুলাই ইন্তেকাল করেন।” রাষ্ট্রীয় শোকের অংশ হিসেবে আজ সারা দেশের মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ অন্যান্য সকল ধর্মীয় উপাসনালয়েও তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আধুনিক কাতার বিনির্মাণে অসামান্য ভূমিকা রাখা এই বিশ্বনেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। আজ রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি সকল ভবনে জাতীয় শোকের চিহ্ন হিসেবে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ কার্যকর রয়েছে।
দেশকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে কোমলমতি শিশুদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রতিটি শিশুকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন।
আজ বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
একযোগে ২ লাখ চারা রোপণ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সারা দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে একটি ‘নিম’ গাছের চারা রোপণ করে এই মহতী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
গাছ নিয়ে গবেষণার পরামর্শ
উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর একটি করে গাছ রোপণ করতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক বা বাসার আশপাশে। যেখানে জায়গা পাবে সেখানেই একটি করে গাছ লাগাবে।’
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের শুধু গাছ লাগাতেই উৎসাহিত করেননি, বরং গাছ নিয়ে জ্ঞান অর্জনেরও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘গাছটি কী পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং মানুষের কী কী উপকারে আসে, এই বিষয়গুলো তোমরা ইন্টারনেট ঘেঁটে রিসার্চ (গবেষণা) করবে। এভাবে প্রতি বছর তোমরা একেকটি গাছ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য জানতে পারবে।’
পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব
গাছের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘স্কুলে লাগানো গাছ বড় হলে সেটি তোমাদের ছায়া দেবে, ক্লান্তিতে বিশ্রাম নিতে পারবে। আর বাসায় গাছ লাগালে তার নির্মল বাতাস ঘরকে শীতল রাখবে।’ আজকের দিনটিকে পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে একটি ‘স্মরণীয় দিন’ হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
বৃক্ষরোপণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের মেধার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বছরে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ বা ঔষধি গাছ লাগানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠান শেষে তিনি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। উপজেলা হতে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের হাতে এদিন প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬’ তুলে দেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এদিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ১৫টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১২ হাজার ৩৮৪ জন ব্যক্তি এবং ৬৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্য হতে নির্বাচিত সেরাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিশুদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃক্ষরোপণ অভিযানের সূচনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, শৈশব হতে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
পেট্রোলের ঝাঁঝালো গন্ধ, সীসা-মিশ্রিত কালো ধোঁয়া আর ইঞ্জিনের কানফাটা গর্জন পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। ধুলোবালি আর যানজটের চাদরে ঢাকা এই বদ্বীপে নিঃশব্দে এক বিপ্লবের বীজ বোনা হচ্ছে, যার নাম ইলেকট্রিক মোবিলিটি বা ইভি (EV)। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শুল্কের লৌহকপাট ভেঙে সরকার যে অভূতপূর্ব কর ছাড় ও প্রণোদনার ডালি সাজিয়েছে, তা দেশের অটোমোবাইল ইতিহাসে এক স্মরণীয় জোয়ার এনেছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলো কেবল আমদানির খোলস ছেড়ে বেরিয়ে নিজস্ব কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের এক মহাপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
তবে, স্বপ্নের এই সিল্ক রুটে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের চেয়েও বড় দুটি স্পিডব্রেকার দাঁড়িয়ে আছে—প্রথমটি হলো গ্রিডের অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্বল কারিগরি মান, আর দ্বিতীয়টি হলো কোটি কোটি টাকার চার্জিং স্টেশনের দীর্ঘমেয়াদি লোকসান ও অনিশ্চিত লাভজনকতা (ROI)।
বাংলাদেশের ইভি সাম্রাজ্যের নতুন সারথী: বাংলাদেশি শিল্পোদ্যোক্তারা এবার আর দর্শক সারিতে নেই। তারা চীনের বিওয়াইডি (BYD) কিংবা মার্কিন টেসলার (Tesla) মতো বিশ্বসেরা মডেলের সমকক্ষ ইকোসিস্টেম দেশেই তৈরি করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। নিচে পাইপলাইনে থাকা প্রধান বিনিয়োগকারী ও তাদের যুদ্ধকৌশল বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড: চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের বৃহত্তম সমন্বিত ইভি কারখানা গড়ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মূল লক্ষ্য: কেবল গাড়ি সংযোজন নয়, ব্যাটারি থেকে শুরু করে চ্যাসিস ও বডি—সবকিছুই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা।
প্রযুক্তির চমক: তাদের উৎপাদিত প্রথম সারির গাড়িগুলো একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারবে। আর আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটে শূন্য থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব হবে।
রানার অটোমোবাইলস ও বিওয়াইডি অংশীদারিত্ব: বিশ্বের এক নম্বর ইভি নির্মাতা BYD-এর সাথে হাত মিলিয়ে রানার ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের রাস্তায় ১,০০০-এর বেশি প্রিমিয়াম ইভি নামাতে সক্ষম হয়েছে।
মূল লক্ষ্য: রানার ধাপে ধাপে ২৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদন ও এসেম্বলি লাইন তৈরি করছে।
অবকাঠামো: BYD গ্রাহকদের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া ও কক্সবাজারে নিজস্ব ব্র্যান্ডেড চার্জিং হাব তৈরি করেছে এবং দক্ষ মেকানিক গড়ে তুলতে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করেছে।
নাসির গ্রুপ ও আকিজ মোটরস : শিল্প খাতের দুই জায়ান্ট নাসির ও আকিজ গ্রুপ প্রত্যেকে ৫০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে। আকিজ মোটরস মূলত সাশ্রয়ী মূল্যের মিনি ইভি এবং পণ্য পরিবহনের উপযোগী লাইট কমার্শিয়াল ইভি বা ছোট ইলেকট্রিক ট্রাক তৈরির দিকে নজর দিচ্ছে, যা দেশের ই-কমার্স ডেলিভারি খাতে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
ওয়ালটন ও প্রাণ-আরএফএল: দেশের ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন এবং ফুড অ্যান্ড প্লাস্টিক জায়ান্ট প্রাণ-আরএফএল মূলত টু-হুইলার তথা ই-বাইক, ইলেকট্রিক স্কুটার ও ই-থ্রি-হুইলারের বাজার ধরতে প্রত্যেকে ২০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করেছে। তাদের লক্ষ্য—মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করা।
অডি বাংলাদেশ ও ‘এখন চার্জ’ (ইকোসিস্টেম পার্টনার): লাক্সারি সেগমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়া অডি বাংলাদেশ এবং দেশের বৃহত্তম চার্জিং নেটওয়ার্ক ‘এখন চার্জ’ দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ ইভি সল্যুশন হিসেবে যৌথভাবে কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যে ১৫০টির বেশি হোম চার্জিং ইউনিট স্থাপন করেছে এবং মহাসড়কগুলোতে ৫টি হাই-স্পিড বাণিজ্যিক চার্জিং স্টেশন সচল রেখেছে।
গ্রিডের অগ্নিপরীক্ষা: ইভি খাতের উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হলো বিদ্যুতের গুণগত মান এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান এই কারিগরি জটটি চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
হোম চার্জিং বনাম আল্ট্রা-ফাস্ট হাইওয়ে চার্জিং: প্রতিটি গাড়ির সাথে দেওয়া হোম চার্জার দিয়ে সাধারণ গৃহস্থালি লাইন (220V) থেকে চার্জ করা যায়। এতে সময় লাগে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা। এটি সাধারণ গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না।
বাণিজ্যিক চার্জিং (ডিসি আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জার): হাইওয়েতে বা জরুরি প্রয়োজনে একজন চালক সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে চাইবেন। এই ফাস্ট-চার্জিংয়ের জন্য ১০০ কিলোওয়াট থেকে ৩৫০ কিলোওয়াট বা তার চেয়েও বেশি ক্ষমতার সরাসরি বিদ্যুৎ (DC) সংযোগ প্রয়োজন।
গ্রিডের দুর্বলতা ও সাবস্টেশনের রাজকীয় খরচ: বাংলাদেশের বর্তমান গ্রিড লাইনে যে পরিমাণ ভোল্টেজ ফ্ল্যাকচুয়েশন বা লোডশেডিং হয়, তাতে এই আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জারগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন। একটি হাই-স্পিড চার্জিং স্টেশন স্থাপন করতে কেবল চার্জিং মেশিন কিনলেই হয় না, তার জন্য দরকার নিজস্ব ডেডিকেটেড সাবস্টেশন ও বড় ট্রান্সফরমার।
একটি সাধারণ লেভেল-২ স্টেশনের খরচ যেখানে প্রায় ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা, সেখানে সাবস্টেশনসহ একটি হাই-স্পিড আল্ট্রা-ফাস্ট চার্জিং স্টেশনের পেছনে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়ে যায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা!
সৌর-ভিত্তিক চার্জিং: গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে স্রেডা এখন সৌরশক্তি চালিত (Solar-powered) ইভি চার্জিং হাব তৈরির দিকে জোর দিচ্ছে।
ইভি বিপ্লব সফল করার ৩টি চাবিকাঠি: বাংলাদেশের ইভি রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ কেবল ‘বিনিয়োগের ঘোষণা’ বা খবরের কাগজের হেডলাইনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (DCCI)-এর সাবেক সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের মতে, এই বিপ্লব সফল করতে নিচের তিনটি মহৌষধ প্রয়োজন:
সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাজারের শুভসূচনা: বাজার যখন প্রাথমিক ধাপে থাকে, তখন কেবল বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়ে চার্জিং স্টেশন বসাতে বাধ্য করা অন্যায়। সরকারকে শুরুতে এগিয়ে আসতে হবে। হাইওয়ের সরকারি ফিলিং স্টেশন বা বিআরটিসি ডিপোগুলোতে নিজস্ব খরচে চার্জিং নেটওয়ার্ক বসিয়ে বাজারকে চাঙ্গা করতে হবে।
অপ্রাতিষ্ঠানিক যানকে মূলধারায় আনা ও সঠিক ডেটাবেজ: বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা বা ইজি বাইক) চলছে। এগুলো সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক গ্রিড থেকে বা চোরাই লাইনে চার্জ হচ্ছে। এই ৬০ লাখ যানবাহনকে যদি আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে দক্ষ থ্রি-ফেইজ চার্জিংয়ের আওতায় আনা যায়, তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং সরকারের রাজস্ব কোটি কোটি টাকা বাড়বে।
গ্রিন গ্রিড ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বয়: বিদ্যুতের ঘাটতি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বহাল রেখে যদি আমরা হাজার হাজার ইভি রাস্তায় নামাই, তবে তা পরিবেশবান্ধব হবে না। গাড়ি চলবে কয়লার বিদ্যুতে, যা প্রকারান্তরে পরিবেশের ক্ষতিই করবে। তাই ইভি চার্জিংকে অবশ্যই নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ)-এর সাথে ট্যাগ করতে হবে।
প্রতি কিলোমিটারে ৭০শতাংশ সাশ্রয়ই কি তুরুপের তাস: অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইভির কোনো বিকল্প নেই। মহাসড়কে একবার ফুল চার্জ দিতে খরচ হয় মাত্র ৩০৮ থেকে ৭৫৯ টাকা। যেখানে একটি পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ির প্রতি কিলোমিটারের ব্যয়ের তুলনায় ইভি চালানো প্রায় ৭০ শতাংশ সাশ্রয়ী।
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত এই বিপুল সাশ্রয়ের অংকটি বুঝতে শুরু করেছে। কিন্তু এই ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সফল করতে হলে এবং গ্রাহকের মনের ভয় দূর করতে হলে সরকারকে অতি দ্রুত মহাসড়কগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন, ডেডিকেটেড গ্রিড লাইন এবং কারিগরি স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (যেমন সব গাড়ির জন্য একই চার্জিং পোর্ট বা প্লাগ) নিশ্চিত করতে হবে। তবেই বাংলাদেশের সড়কগুলোতে রচিত হবে দূষণমুক্ত, শব্দহীন এক নতুন গতিময় ইতিহাস।
আইসিটি বিভাগ থেকে স্টার্টআপের জন্য ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবী উদ্যোক্তাদের সহযোগীতা করতে সরকার প্রস্তুত। আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত একজন স্ট্যার্টআপ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আপনাদের অনেকে বেশ এগিয়ে গেছেন। মানুষ ও সমাজের জন্য, সামগ্রিকভাবে দেশের উপকার করছেন। দেশের লাখো কোটি মানুষের আপনাদের প্রয়োজন। এই দেশেরও প্রয়োজন আপনাদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে বেলা ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চিন্তা করেছি, এমন উদ্যোক্তা থাকে যাকে ব্যাংকের হ্যাচেলগুলো সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে হয়, এটি যাতে ফেস করতে না হয়, সে জন্য কমিটি করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা নেই। নিরপেক্ষ কমিটি, তারা বিষয়টি দেখবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করে বলেন, বাবার জমি বা সম্পত্তি দেখে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হয়। কিছু ভিন্ন উপায়ও আছে। তবে তা যথার্থ নয়। যাদের ভালো স্টার্টআপ ধারণা আছে, কিন্তু জামানত নেই, তাদের ঋণ পাওয়া সহজ করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট দেখে তারা ফান্ড করবে।
এ সময় অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে হেল্প করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি পটেনসিয়াল থাকে, ফের ফান্ডের বিষয়টি চিন্তা করা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই ভালো করে না। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সূচনা বক্তব্য দিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং স্বাগত বক্তব্য দিয়েচেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জানিয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী গঠিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে সহায়ক হবে।
প্রসঙ্গত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি উদ্যোক্তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি লঞ্চপ্যাড হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা কর্মসূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বিনিয়োগের সুযোগ, অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা এক জায়গা থেকেই জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়বে এবং দেশে আরও কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।
দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন এবং রেফ্রিজারেটেড পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এখানে বিপুল জনগোষ্ঠীর বসবাস। দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নজরুল ইসলাম খান জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কৃষি কার্ড কর্মসূচির এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিশেষ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কার্যক্রমের উল্লেখ করেন।
তিনি চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব এলাকায় সৌর বিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষি উৎপাদন, সেচ, পণ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আমসহ বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন এবং রেফ্রিজারেটেড পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এসব অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
তিনি বাংলাদেশে আসা মার্কিন পণ্য বন্দরে খালাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনা এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে কাজ করছে। শিগগিরই এসব সমস্যার সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রশংসা করে বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ ইতিবাচক।
এ সময় নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরকার এমন একটি শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে, একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিবেশও বজায় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ শিল্প খাতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও শ্রমমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম শক্তিশালী করা, শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান জরুরি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এবং মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ অব্যাহত রাখা দরকার। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি জটিল সংকট এবং এর সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতের আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যোগ্যতা যাচাই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের বিষয় উঠে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রেখেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা পরিচালিত হবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ স্টুয়ার্ট এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিটিএ) রাজস্ব বৃদ্ধি তথা সেবার মান বৃদ্ধিসংক্রান্ত একগুচ্ছ নির্দেশনা পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেছেন অতিরিক্ত সচিব ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম। এ অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি এবং সচিব জাকারিয়া গত রোববার (১২ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সভায় যে সকল সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয় তা হল- এক. কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সংরক্ষণ ড্রেজিংকে ব্যয় সাশ্রয়ী পূর্বক অধিকতর প্রয়োজনীয় স্থানে খননের ব্যবস্থা করা। দুই. নৌসওপ বিভাগের কঞ্জারভেন্সী ও পাইলটেজ খাতে রাজস্ব আয়ে অধিকতর দৃষ্টিপাত। তিন. নৌনিট্রার বিভিন্ন নৌপথে সময়সূচি প্রদানে অধিকতর শর্ত আরোপ হ্রাস করে খাতভিত্তিক রাজস্ব আদায়ে মনোনিবেশ। চার. বন্দর বিভাগের আয় বৃদ্ধিতে বিশেষত ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করা এবং ঘাট/পয়েন্ট সংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। পাঁচ. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে সয়ংক্রিয় পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা। ছয়. ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথে চলাচলে বিভিন্ন ঘাট পয়েন্টের সংস্পর্শে নৌযান চলাচলে সহায়ক ভূমিকা পালন করা। সাত. কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যে কোন একটি ঘাট/পয়েন্টকে আধুনিকায়ন করা। আট. অননুমোদিত ডক ইয়ার্ডকে লাইসেন্সের আওতায় আনা। নয়. সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী কর্তৃক কর্তৃপক্ষের লিজ/লাইসেন্স প্রদানকৃত জায়গায় কর্তৃপক্ষের পক্ষে দৃশ্যমান স্থানে প্লট নম্বর, মৌজা ও অবস্থান ভিত্তিক সাইনবোর্ড স্থাপন করা। দশ. দেশের বিভিন্ন নৌপথে অপেক্ষাকৃত ছোট কিন্তু দ্রুতগামী নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা। এগার. দ্রুত নদীর বর্জ্য পরিষ্কারের জন্য আধুনিক বর্জ্য পরিস্কার করার মেশিন সংগ্রহ করা।
উক্ত সভায় প্রতিষ্ঠানটির সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য যুগ্মসচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য রকিবুল ইসলাম তালুকদারসহ সকল বিভাগীয় প্রধানগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার শুরুতে তিনি উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায়সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।’ তিনি বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয়।’ একই সঙ্গে তিনি সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
সভায় বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র মূল্যায়ন করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নতুন বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রোগব্যাধি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
চীনের ইয়াংঝৌ শহরে অনুষ্ঠিত চায়না মেরিটাইম ফোরাম ২০২৬ ও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন শিপ টেকনোলজি অ্যান্ড সেফটি ২০২৬-এ অংশ নিয়ে বৈশ্বিক মানের সামুদ্রিক মানবসম্পদ গড়ে তোলায় বাংলাদেশের অগ্রগতি ও অঙ্গীকার তুলে ধরেছে চার সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ. বি. এম. শামীম। তিনি মূল প্রবন্ধে স্মার্ট, গ্রিন ও ইন্টেলিজেন্ট শিপিংয়ের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে বাংলাদেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
এছাড়া নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কন্ট্রোলার অব মেরিটাইম এডুকেশন ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দক্ষ নাবিক তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফোরামে বাংলাদেশ-চীন সামুদ্রিক শিক্ষা, প্রযুক্তি বিনিময় ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অংশগ্রহণ বৈশ্বিক সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
মেধাবী উদ্যোক্তাদের স্বপ্ন পূরণে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্টার্টআপগুলোর জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব হাসান আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ৫ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট রাখা হয়েছে। ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত একজন স্ট্যার্টআপ উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি মূলত উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যেখান থেকে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং এবং সরকারি সহায়তার সব তথ্য পাওয়া যাবে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে জামানত ও কাগজপত্রের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা চিন্তা করেছি, এমন উদ্যোক্তা থাকে যাকে ব্যাংকের হ্যাচেলগুলো সিকিউরিটি বা কাগজ দিতে হয়, এটি যাতে ফেস করতে না হয়, সে জন্য কমিটি করা হয়েছে। এতে মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা নেই। নিরপেক্ষ কমিটি, তারা বিষয়টি দেখবে।"
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তরের পর্বে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, জামানত ছাড়াই প্রকল্পের গুণমান বিচার করে এই তহবিল দেওয়া হবে। তিনি বলেন, "এ সংক্রান্ত নিরপেক্ষ কমিটি সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার প্রজেক্ট দেখে তারা ফান্ড করবে।" সরকার এই অর্থকে জনগণের সম্পদ হিসেবে দেখছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান যে, সম্ভাবনা থাকলে কোনো উদ্যোক্তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যে হেল্প করা হবে, সেটি পাবলিক মানি। যদি পটেনসিয়াল থাকে, ফের ফান্ডের বিষয়টি চিন্তা করা হবে। কারণ অনেকের ব্যবসা শুরুতেই ভালো করে না। সে ক্ষেত্রে সম্ভাবনা থাকলে দ্বিতীয়বার সুযোগ পাবে।"
নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এর আলোকে গঠিত এই ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড দেশের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এছাড়া আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে একটি কার্যকর স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।