দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতেই আগামীদিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেললে চলবে না, লেখাপড়াও করতে হবে। এর পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কোরআন-কেরাত থেকে শুরু করে নতুন নতুন ইনোভেটিভ কাজেও নিজেদের যুক্ত করতে হবে। তোমরা যদি সব কিছুতে নিজেদের পারদর্শী করতে পারো, তবেই আমরা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।
ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তোমরা যারা আজ এখানে খেলছো বা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় আছি, আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। বড় হয়ে তোমাদেরই এই দেশ চালাতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চালাতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।
শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
খেলাধুলার প্রসারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে গত দেড় মাসে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমনি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গ্যালারি ভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন পড়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি।
বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮টি। তদন্তের পর অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন। এছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ চলছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অসুবিধা নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে।
সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে, ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, ১২৬টি আবেদন। সৌদি আরবে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬টি। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি। জাপানে আবেদন জমা পড়েছে ৩০৯টি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি। মালদ্বীপে ২৯৮টি ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।
প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক: বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) বিশেষ অভিযানে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিনগত রাতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু মার্কেট এলাকার আশপাশে বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
‘অপস কুতিপ’ নামের এ অভিযানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে সবাইকে আটক করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় (৭ পুরুষ ও ২১ নারী), ২৬ জন মিয়ানমার নাগরিক (১৩ পুরুষ ও ১৩ নারী), ৫ জন ভিয়েতনামি (৩ পুরুষ ও ২ নারী), ৪ জন নেপালি, দুজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং দুজন চীনা নাগরিককে (১ পুরুষ ও ১ নারী) আটক করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবস্থান)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুতসহ দেশে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।
উল্লেখ্য, ধানের এই পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে (১০০:৬৫ অনুপাতে) মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।
১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।
আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগই চাল (৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি।
শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫.১২ হাজার মে. টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের এই মজুতের পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া।
তিনি বলেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা খুবই নিরাপদ।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। খাদ্য মজুত এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।
অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
খাদ্য সচিব জানান, আমদানিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে খাদ্য মজুত আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।
দেশের বন্ধ এবং অলাভজনক শিল্পকারখানাগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগের গতি ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে আরও গতিশীল রাখতে বন্ধ ও লোকসানি কারখানাগুলোকে নতুন পুঁজিতে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে বিদ্যমান চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান।
উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ রোড শোতে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন।
বিনিয়োগের এই বড় মেলবন্ধনে দেশের প্রথম সারির শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল, স্কয়ার, ট্রান্সকম, আকিজ এবং লাল তীর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
একই সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের জোর আশা, এই রোড শোর মাধ্যমে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ও লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাপানি ও দেশীয় বড় বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে, যা দেশের বেকার সমস্যার সমাধান, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ে আটকের পরপরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথিপত্র আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান। এর মধ্যে একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রগতির তথ্য জানানো হবে।
প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর ১২ জুন দুবাইয়ে আটক হন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। পরদিন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর এজাহার, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণ আবেদন আরব আমিরাতের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দেশটির আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও থাকবে বেনজীর আহমেদের।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত চীন সফরে ঠিক কী হতে পারে বা কী ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা গভীরভাবে জানতে তৎপর হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ।
চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতারই একটি অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে গিয়ে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে যখন তিনি মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কাছে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন কোনো সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য বা চীন সফর নিয়ে কথা না বলে, ফুটবল বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত চতুর, বুদ্ধিমত্তা ও কূটনৈতিক পন্থায় সাংবাদিকদের জবাব দেন।
উল্লেখ্য, গত রাতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত ও স্মরণীয় জয় পেয়ে বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র দল।
সেই রোমাঞ্চকর জয়ের সূত্র ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে গণমাধ্যমকে বলেন, গত রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত জয় পেয়ে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দল, তাই তিনি মূলত এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সমস্ত বাংলাদেশিকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে এসেছিলেন যেন তাঁরা সামনের ম্যাচগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দলকে প্রাণভরে সমর্থন করেন।
বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শেষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে যোগ করেন, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কখনোই ভুল হওয়ার বা পস্তানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।
মার্কিন ভিসার সঠিক ও বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সব ভ্রমণকারীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।
শনিবার (২০ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়।
এক ফেসবুক পোস্টে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজের ভিসার সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা মূলত সংশ্লিষ্ট ভ্রমণকারীর নিজেরই আইনি দায়িত্ব।
ভিসার শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী কোন ভিসায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট করে ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, বি১ কিংবা বি২ (B1/B2) ক্যাটাগরির ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মূলত পর্যটন, ছুটি কাটানো, কেনাকাটা করা, সে দেশে অবস্থানরত বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।
এর পাশাপাশি এই নির্দিষ্ট ভিসার আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা সে দেশের ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করা এবং যেকোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সভা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও যোগ দিতে পারবেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পরিবর্তে ‘মাফিয়া পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; একটা মাফিয়া পার্টি। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।” নিষিদ্ধ এই দলটির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটি উক্ত দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তা অন্য রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, তাকে ইতিমধ্যে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতিমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।” আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার অপরাধ দমন প্রসঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এ মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।” পুলিশ সদস্যরা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিতভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, "রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন।" তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে বিশাল এক শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আর সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজ দেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব।
শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
ওই সভায় রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।"
তিনি আরও জানান, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘকাল আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।’
শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠেয় ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সে জন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারাদেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।
‘বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।’
সুস্থ মননশীলতা গঠন এবং সামাজিক মেলবন্ধনের আবহ ধরে রাখতে ফল উৎসবের সংস্কৃতিকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রেস ক্লাবের এ ধরনের উদ্যোগ কেবল একটি ছোটখাটো উৎসব নয়, এর পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শন রয়েছে। পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এই মৌসুমে একসঙ্গে ফল বিনিময় এবং ফল আহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফল উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের এই ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের সংস্কৃতিকে কেবল শহরের গণ্ডিতে আটকে না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।
রকমারি দেশি ফলের সম্ভার ও দেশাত্মবোধক গানের আয়োজনে গতকাল সকাল থেকে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের থিম সং ‘প্রেস ক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে সমাজে সুস্থ অনুভূতি বিনিময়ের মাধ্যম থাকে না, সামাজিকতা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান থাকে না; কেবল ক্ষমতা দখলের দলাদলি আর হিংস্র প্রতিযোগিতা চলে— তা কখনো সভ্যতার মানদণ্ড হতে পারে না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির উদাহরণ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সব ধর্ম ও সমাজেই মৌসুমি ফল ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের রীতি রয়েছে। এই মাটির প্রতি পরম করুণাময়ের রহমত ও আশীর্বাদ আছে বলেই আমাদের প্রকৃতি এত চমৎকার সব বৈচিত্র্যময় ফলমূল মানুষকে উপহার দেয়। ফল উপভোগ করার মধ্য দিয়ে মূলত প্রকৃতির ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, প্রেস ক্লাবের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যখন এই সুন্দর সংস্কৃতিকে ধরে রাখে এবং চর্চা করে, তখন গণমাধ্যমের কল্যাণে তা দেশব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সুস্থ মনোজগতকে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে তা একটি সুস্থ ও মানবিক জাতি গঠনে বড় অবদান রাখবে।
এবারের উৎসবে আম্রপালি, ফজলি, হাঁড়িভাঙ্গা, জাম্বুরা, কলা, কামরাঙ্গা, আমলকি, আমড়া, পেঁপে, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, করমচা, লটকন, ড্রাগন, ডেউয়া, জামরুল, তাল, আপেল, লেবু, বাতাবিলেবু, লিচুসহ প্রায় ৪২ ধরনের বৈচিত্র্যময় দেশি ফলের প্রদর্শনী ও রস আস্বাদনের ব্যবস্থা করা হয়।
ফলের এই সমাহারের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দেশাত্মবোধক ও লোকজ গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পী তামান্না হক, শাহরিয়ার রাফাত, মিনি আলাউদ্দিন ও বাবু।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই ফল উৎসব ও সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, বখতিয়ার রানা, সৈয়দ আবদাল আহমদ, একেএম মহসিন, মাসুমুর রহমান খলিলীসহ ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
কোনো প্রশ্ন করা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট খাতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিলে অ-প্রদর্শিত অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। আবাসন ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, আরেকটি বেগম পাড়া তৈরি ঠেকাতে এ সুযোগ কাজে আসবে। তবে, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির মতে, অ-প্রদর্শিত অর্থ যে নামেই অভিহিত হোক না কেনো, এ সুযোগ দুর্নীতিকে উস্কে দেবে, সমাজে বাড়াবে বৈষম্য।
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে, বাজেটের অর্থ বিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিলে সংশোধন এনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিতভাবে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ কিংবা ক্রয়ের সময় অ-প্রদর্শিত আয় ঘোষণা করে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারবে না সরকার।
আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌজা রেট-এর তুলনায় জমির বর্তমান দাম অনেক বেশি। বেশি দামে কেনাবেচা হওয়া অতিরিক্ত এই অর্থ কোনোভাবেই কালো টাকা বলতে নারাজ তারা। এছাড়া, অ-প্রদর্শিত অন্যান্য টাকাও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বাড়াবে বলে তারা আশা করছেন।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘এখন ব্যবসায়ীরা টাকাটা কী করবে। তারা তো সিস্টেমে আনতে পারছে না। আমরা বলছি সেটা সিস্টেমে নিয়ে আসা হোক। বরং সরকার কিছু ট্যাক্স পাবে। সিস্টেমে যদি আসে তাহলে বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোতে যে তারল্য সংকট রয়েছে সেটা দূর হবে। এবং এ অর্থটা কিন্তু মেইনস্ট্রিমের বাইরে চলে গেছে। বালিশের নিচে আছে, আলমারিতে আছে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে। সেটাকে আপনি মূল ধারায় নিয়ে আসেন।’
অ-প্রদর্শিত যেকোনো অর্থ এনবিআর এর চোখে অবৈধ। প্রায়ই এনবিআরের অভিযানে এসব অর্থ জব্দ করার অভিযোগ করছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এজন্য অতিরিক্ত কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগকেই উত্তম বিকল্প হিসেবে দেখছেন তারা।
এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘ইনকাম ট্যাক্সের লোক আসছে একেবারে ডেভেলপারের গলা চেপে ধরে টাকাগুলো নিয়ে যাচ্ছে। যে টাকাগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের পকেটে নিচ্ছে তার ৫০ শতাংশও যদি রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেয় দেশ অনেক উন্নত হবে।’
তবে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থার বাংলাদেশ শাখা-টিআইবি মনে করেন এ সুযোগে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও তীব্র হবে। নিরুৎসাহিত হতে পারেন নিয়মিত কর পরিশোধকারীরাও।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে খাতগুলোতে এ সুবিধা দেয়া হবে সে খাতগুলোকে যারা পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত তাদের কতৃত্বাধীন করে দেয়া হচ্ছে। যারা সৎভাবে উপার্জন করেন তাদের পক্ষে এ খাতে অংশ নেয়ার সুযোগ ক্রমাগতভাবে কমছে।’
মৌজা রেট কম থাকার সুযোগে অ-প্রদর্শিত অর্থের জন্ম হচ্ছে, আবাসন ব্যবসায়ীদের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।