দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল মঈন খানকে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এমপি আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের পরিবার-দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।
দেশে অবৈধ মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে ‘জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর)’ পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদেশ থেকে আনা অবৈধ, চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থাও থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর কথা বিবেচনায় নিয়ে ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।
২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বহিষ্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ ১৫৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে বহিষ্কৃত এই অভিবাসীদের সবাইকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) কেদাহ রাজ্যের বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা এসব অভিবাসীকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল-১ দিয়ে নিজ দেশে পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। তবে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা জানা যায়নি।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) কেদাহ রাজ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ১৫৭ জনের মধ্যে ১২৮ জন পুরুষ, ২৬ জন নারী এবং তিনজন ছেলে শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
এসব অভিবাসীকে কেদাহ রাজ্যের সিক এলাকার বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছিল। মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালার আওতায় তাদের সাজা ভোগ সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফেরত পাঠানোর পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন কেদাহ অভিবাসন বিভাগের ২১ কর্মকর্তা। তাদের নেতৃত্ব দেন বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের বিমানভাড়া বহন করেছেন সংশ্লিষ্ট আটক ব্যক্তিরা, তাদের পরিবারের সদস্যরা এবং নিজ নিজ দেশের দূতাবাস। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে বিমানভাড়ার ব্যয় মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হয়নি।
এদিকে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে দেশটির অভিবাসন বিভাগের ব্যবস্থায় তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
কেদাহ অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান, নজরদারি, আটক, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল মঈন খানকে।
গতকাল (বুধবার) রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ।
তিনি আরও জানান, আজ ২২ অক্টোবর দুপুর ২টায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এমপি আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের পরিবার-দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস আজ। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে।
সড়ক নিরাপত্তাকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার প্রত্যয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা, নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়ক নিরাপত্তাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেশাদার গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা, মাদক পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, সড়কের সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দক্ষতার ভিত্তিতে পেশাদার চালকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও ম্যারাথন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব।
বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ১৪০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে সেফটি ইমপ্রুভমেন্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পেশাদার মোটরযানচালকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চালানোর প্রবণতা কমানো এ ধরনের প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৪০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাশাপাশি মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যান চলাচল পর্যবেক্ষণে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম এবং একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনার রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন এবং যানবাহনের গতিসীমা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে স্পিড ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। চালকের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং পথচারীদের অসচেতনতার মতো বিষয় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পাশাপাশি সড়কের নকশাগত ত্রুটি, পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যালের অভাব, ফুটপাত দখল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও নিরাপদ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
এ পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিতকরণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবার দায়িত্ব। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যাত্রীদের চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা, মোটরসাইকেলে চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর আইন প্রয়োগ, উন্নত সড়ক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে এমন একটি সড়কব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারকে যেন প্রিয়জন হারানোর বেদনা বহন করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও জোরদার করতে হবে।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়।
ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক ডিকেন বলেন, মন্ত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী থেকে বিএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানেই তার চিকিৎসা করা হবে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মিজানুর রহমান মিনুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সকাল থেকে হাসপাতালের কেবিনে তার চিকিৎসা চলছিল। রক্তশূন্যতা হওয়ায় তাকে একাধিক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।
তিনি নিজের সুস্থতার জন্য রাজশাহীবাসীসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
এদিকে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে এক নজর দেখতে হাসপাতালে ভিড় করেন। সবার কাছেই তিনি দোয়া কামনা করেন।
সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। এ বিষয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল (বুধবার, ২১ অক্টোবর) রাতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য আইন আমরা সংশোধন করার চেষ্টা করছি। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, তাদের সঙ্গে বসছি। বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করছি, কীভাবে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া যায়। যাতে আপনারা (সাংবাদিক), আমরা এবং সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পান। এটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি, সামনে এ বিষয়ে ভালো কিছু আসবে।’
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে থেকেই এ বিষয়ে কথা বলে আসছেন তিনি। এবার হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষকে যথেষ্ট নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।’
এদিকে নেত্রকোণায় সাংবাদিক হত্যার ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সাংবাদিক না, এটা যে কারোই যদি ঘটনা হয়ে থাকলে, তাহলে প্রচলিত আইনে যা আছে সেভাবেই হবে।’
এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বিজেপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো এবং খাদ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসাকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এ ব্যবস্থায় বড় রেস্তোরাঁ, বেকারি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পেঁয়াজুর দোকানকেও নিবন্ধন নিতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন হবে বিনামূল্যে।
খাদ্য কোথায় তৈরি হচ্ছে, কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা বাড়ানোই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। নিবন্ধনের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায়ীদের পরিচিতি ও কার্যক্রমের তথ্য কর্তৃপক্ষের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে নিবন্ধন নম্বর থাকায় ভোক্তাদের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য জানা এবং অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিএফএসএ’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এ নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণের বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ রেস্তোরাঁ, ফুটপাতের খাবারের দোকান, বেকারি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ওপর নির্ভর করেন। এসব খাবারের নিরাপদ প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণ ও পরিবেশন জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শুধু বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষুদ্র ও অস্থায়ী খাবারের দোকানকেও নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএফএসএ।
নতুন প্রবিধানমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও স্থাপনার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মিষ্টির দোকান ও দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনের নির্ধারিত ব্যবসাও এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রেতাদেরও নিবন্ধন নিতে হবে। এতে খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নিবন্ধন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তবে খাবার তৈরির পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও সংরক্ষণব্যবস্থা পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ খাদ্য ব্যবসার পাশাপাশি বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এ তালিকায় রয়েছে শিশুদের ফর্মুলা দুধ, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির পণ্য। বয়স্ক ব্যক্তি ও বিশেষ রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি কিছু খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া জৈব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য এবং অভিনব খাদ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এসব পণ্যের নিরাপত্তা ও গুণগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে ভোক্তাদের আস্থা তৈরিতে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার সময় স্বাস্থ্যগত উপকার বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি করা হলে ‘নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫’-এর বিধানও অনুসরণ করতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএ’র নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারবেন। কোনো পণ্য বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করেও তা জানানো যাবে। এই ব্যবস্থা খাদ্য ব্যবসায়ীদের পরিচিতি শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে নিবন্ধন নম্বর থাকাই কোনো পণ্যের নিরাপত্তার চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নয়। খাবারের মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিএফএসএ জানিয়েছে, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।
বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনার লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আয়তন অনুযায়ী। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিএফএসএ’র সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে শতভাগ অনলাইন আবেদন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং নিবন্ধন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিএফএসএ’র প্রত্যাশা, নতুন প্রবিধানমালার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়ন হলে খাদ্য ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও শক্তিশালী হতে পারে।
ঘোড়ায় চড়ে এসেছিলেন দেবী, ফিরে গেলেন নৌকায় ভেসে। তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। রাজধানীর বুড়িগঙ্গার তীর থেকে দেশের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের বিসর্জন ঘাট—সবখানেই ভক্তদের চোখে ছিল বিদায়ের অশ্রু, কণ্ঠে ছিল মঙ্গলকামনা। উৎসবের আনন্দ ফুরিয়ে গেলেও রয়ে গেল সম্প্রীতির প্রত্যাশা আর আগামী শরতে মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পূজা-অর্চনা, দেবী বরণ ও সিঁদুর খেলার পর দুপুর থেকে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জন ঘাটগুলো। কোথাও নদীর তীরে, কোথাও হ্রদের জলে, আবার কোথাও সমুদ্রসৈকতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় প্রতিমা বিসর্জন।
রাজধানীর ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা আনা হয় ঘাটে। পরে নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দেবীর বিদায়লগ্নে কারও চোখে ছিল অশ্রু, কারও কণ্ঠে বন্দনা। কেউ পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন, কেউ নদীর পানি নিজের ও স্বজনদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।
মহাখালী থেকে বাবার সঙ্গে বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়স্মিতা জানায়, দশমীর লগ্ন শুরু হলেই মন খারাপ হতে থাকে। কয়েক দিন দেবীকে ঘিরে আনন্দে কেটেছে। এবার তার প্রার্থনা, দেশ থেকে সব অপশক্তি দূর হোক, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং সবাই ভালো থাকুক।
ধানমন্ডি থানা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজিব কুন্ডু বলেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা দেবীকে বিদায় জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দেশে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বজায় থাকবে, অন্যায়-অপরাধ দূর হবে এবং সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
বিসর্জনের আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পালিত হয় বিজয়া দশমীর বিশেষ অনুষ্ঠান। সকালে দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে তাকে বরণ ও বিদায় জানান নারীরা। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা বিনিময় করেন। পরিবার ও স্বজনদের মঙ্গল, সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় অংশ নেন ভক্তরা।
রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের তীরে ভক্তদের সমাগম ঘটে। পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনা শেষে শোভাযাত্রা নিয়ে হ্রদের ঘাটে আসেন তারা। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি এ জেলায় শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তদের প্রার্থনায় উঠে আসে দেশ ও মানুষের কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং সম্প্রীতির প্রত্যাশা।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে তিলাই নদীর তীরে দেখা যায় বিসর্জন ঘিরে ভক্তদের ভিড়। বিকেলে নতুন বাজার বারোয়ারী পূজামন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে কালীবাড়ী মন্দিরে মিলিত হয়। পরে পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামন্দিরের প্রতিমা একত্রে তিলাই নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ বছর পার্বতীপুর উপজেলায় ১৫০টি মন্দিরে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল। নীলফামারীতে এ বছর ৮৬৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হয়। বিজয়া দশমীর পূজা-অর্চনা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে দেবীবরণ ও বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। সিঁদুর খেলা, শোভাযাত্রা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিসর্জন আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
পটুয়াখালীতেও ছিল বিদায়ের আবহ। এ বছর জেলায় ১৯৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়। দশমীর সকালে পূজা-অর্চনা শেষে নারীরা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। পরে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয় এবং নির্ধারিত স্থানে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আনন্দের পাশাপাশি দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনাও ছিল ভক্তদের মনে।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টেও প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এসে মিলিত হয় সৈকতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরের জলে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও পর্যটকরাও এ আয়োজন দেখতে উপস্থিত হন।
রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওয়াইজঘাট ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশের বিশেষ দল, আনসার, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দায়িত্ব পালন করে। বিসর্জন ঘিরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শোভাযাত্রার পথ নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন জানান, বিসর্জন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গতবার বিসর্জনের জন্য একটি স্থান থাকলেও এবার তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে প্রতিমাবাহী ট্রাক নির্ধারিত পথে প্রবেশ করতে পারে এবং বিসর্জন শেষে সহজে বের হয়ে যেতে পারে।
পুলিশের পাশাপাশি নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিসর্জন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সবাই এদেশের নাগরিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।’
এ সময় তিনি সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসাথে বসবাস করে আসছে।’
এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’
তিনি বলেন, ‘এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।’
এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সকল ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত সকল দর্শনার্থী এবং অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানত না বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নাজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিটি আখতার, যিনি সুইটি আখতার নামেও পরিচিত, নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগাম কোনো তথ্য দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বন্দিদের তালিকায় তাদের সাজাসংক্রান্ত তথ্য না থাকায় মামলা পর্যবেক্ষণে কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দুই বাংলাদেশির বিচারপ্রক্রিয়া, আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার সেবা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি এবং তাদের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে গত রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ওই দুই নাগরিক পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় তাদের সাজাসংক্রান্ত তথ্য ছিল না। অন্য বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজার বিবরণ উল্লেখ থাকলেও তাদের বিষয়ে তা না থাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এইচআরএফবি জানতে চেয়েছে, বন্দিদের তালিকা পাওয়ার পর কনস্যুলেট তাদের মামলা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিল কি না এবং সাজার তথ্য না থাকার কারণ অনুসন্ধান করেছিল কি না। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করা হয়নি বলে গণমাধ্যমে খবর এলেও, সংগঠনটির মতে, এতে কনস্যুলেটের নিজস্ব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই বাংলাদেশি নিজেদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ, গোপনীয়তার সঙ্গে আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ এবং আদালতের কার্যক্রম বোঝার জন্য দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে এইচআরএফবি। পাশাপাশি আপিল ও ক্ষমা প্রার্থনার কার্যকর সুযোগ ছিল কি না, সেটিও যাচাই করতে বলেছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) পক্ষভুক্ত। চুক্তির ৬ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সুরক্ষা এবং ১৪ অনুচ্ছেদে ন্যায়বিচার ও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনসের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার বিধান রয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে রায়ের অনুলিপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। এইচআরএফবি মনে করে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা।
ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। ওই সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের ৪৯০ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০১১ সালের অক্টোবরে। ডাকাতির সময় একজন মিসরীয় নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত আট বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে সে সময় উদ্বেগ জানিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সৌদি আরবে ৩৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাদের মধ্যে ১৩৮ জন বিদেশি নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি ছিলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৬ জন, ২০২৪ সালে একজন এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য পাওয়া যায়। তবে বছরভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি কি না, তা নিশ্চিত নয়।
সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই বিদেশে আটক ও বিচারাধীন বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় কূটনৈতিক মিশনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এইচআরএফবি মনে করে, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের মামলার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়ের ভিত্তি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি কনস্যুলেটের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির দাবি, অবহেলা বা ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই নাগরিকের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। এর আগে চলতি মাসে কেন্দ্রটির জন্য ইউরেনিয়ামের চালান এসেছিল। নতুন চালান পৌঁছানোর মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে আরও অগ্রগতি হলো। তবে কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নতুন চালান পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন। পরে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
পুরো যাত্রাপথে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
জ্বালানি সরবরাহে ধারাবাহিকতা: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎস বাড়বে এবং গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতার চাপ কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
চলতি বছরের ৩ ও ১১ অক্টোবর রূপপুরে ইউরেনিয়ামের চালান পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। গতকাল বুধবারের চালানটি এ ধারাবাহিক সরবরাহ কার্যক্রমের অংশ। তবে নতুন চালানটি প্রথম না দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য, সে বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য ছাড়া নির্দিষ্ট ইউনিটের নাম উল্লেখ করা সমীচীন নয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর কেন্দ্র। এর জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি, আন্তর্জাতিক পরিবহন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি নিরাপত্তায় কী ভূমিকা রাখবে: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এ পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ইউরেনিয়ামভিত্তিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তুলনামূলক অল্প পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কেন্দ্রটি নিয়মিত উৎপাদনে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া পরিচালনাকালে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কম হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালু হলেই জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা শেষ হবে না। ইউরেনিয়াম, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবস্থাপনার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও বিকল্প পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।
রূপপুরে জ্বালানি পৌঁছানো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে জ্বালানি পৌঁছানোর পরও রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন, বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনও এক বিষয় নয়।
কেন্দ্রটি চালু হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল, বিকিরণ নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রকল্পটির আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণ ব্যয়ের পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাত কতটা সুফল পাবে।
সব মিলিয়ে, রূপপুরে ইউরেনিয়ামের ধারাবাহিক চালান পৌঁছানো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এখন নির্ধারিত সময়ে নিরাপদে উৎপাদন শুরু, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যয় সাশ্রয়ী পরিচালনা নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির সাফল্যের প্রধান শর্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সিউলে দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সিউলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকগুলোতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (NESA) এবং ‘কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (CAK)-এর প্রতিনিধিদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
ইপিএস বৃদ্ধি ও নতুন খাতে সহযোগিতার আহ্বান-
NESA-এর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (EPS)-এর আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা ও কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিয়মিত কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষাশিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোরিয়ার স্থানীয় শ্রমবাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, যোগ্য ও মানসম্মত জনশক্তি সরবরাহ করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
বৈঠকে NESA-এর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশি কর্মীদের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। কোরিয়ায় পৌঁছানোর আগেই কর্মীদের ব্যবহারিক কোরীয় ভাষা দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা কোরিয়ার কাজের পরিবেশের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
লাভজনক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি-
পরবর্তীতে ‘কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (CAK)-এর সাথে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার লাভজনক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যুক্ত করার আহ্বান জানান এবং স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির জোর তাগিদ দেন। আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অভিবাসী কর্মীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখছে।
CAK ও কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা, ভাষাভিত্তিক যোগাযোগ এবং কারিগরি জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা স্বীকার করেন, পর্যাপ্ত ভাষা ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বাংলাদেশি কর্মীদের কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে যুক্ত করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
যৌথ বাস্তবায়নে জোর-
উভয় বৈঠকেই প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যথাযথ প্রাক-বহির্গমন প্রস্তুতি এবং নতুন কর্মসংস্থান অনুসন্ধানে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়। প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এবং সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বিকাশ ও সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিতে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করে যাবে।