দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
বিগত দেড় দশকে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, এই সময়ে শুধু অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও কার্যকারিতা হারিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং আগামীর যাত্রা কোথায় হবে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এই দল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং দেশের উন্নয়নে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার একটি চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়লেও ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে, আর মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিতে ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণদের বড় অংশ কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে, যা ছদ্ম বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। কৃষিতে কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা নিম্ন উৎপাদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে টাকার মান অবমূল্যায়িত হয়ে ডলারের বিপরীতে ৬৭.২ টাকা থেকে বেড়ে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে, ফলে আমদানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, মুদ্রা সরবরাহ ও রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহও কমেছে। ১৮.৩ শতাংশ থেকে তা নেমে ৬.৫ শতাংশে এসেছে, যা বিনিয়োগে স্থবিরতার ইঙ্গিত বহন করে। রাজস্ব আহরণেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বড় বড় প্রকল্পগুলো যথাযথ যাচাই ছাড়া বাস্তবায়ন হওয়ায় জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি, বরং বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে বাধার মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে এবং হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগুরুত্বহীন এবং দীর্ঘদিন অর্থায়নহীন ‘জম্বি প্রকল্প’ চিহ্নিত করে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছেন।
বিচারের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
মামলায় অভিযুক্ত বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।
এছাড়া, আরও ৮ আসামিকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।
গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। তার আগে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’
মামলায় পলাতক থাকা আসামিরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, বেরোবির লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান ও বেরোবির সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। এরপর গত ৫ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানান, এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
আবু সাঈদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা এবং পটভূমির সাক্ষী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।
আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। তার ডেথবডিতেও (মরদেহ) কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
আইনজীবী দোলন জানান, আসামিপক্ষের পক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিতভাবে খালাস না পাওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নীতিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চারদিন আগে এ বিষয়ে টেলিকম উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইআরএফ ও সিটিজেন প্লাটফর্ম’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার, সিটিজেন প্লাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর সম্পাদক জাহিদ হোসেন, প্রথম আলোর হেড অফ অনলাইন শওকত হোসেন মাসুমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার হলো বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ ব্যবহার রোধ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া একটি বিটিআরসি-পরিচালিত সিস্টেম। এটি গ্রাহকের এনআইডি ও সিমের সাথে হ্যান্ডসেটের ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর সংযুক্ত করে বৈধতা যাচাই করে এবং অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া ফোন ব্লক করে দেয়।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে কেউ গুম কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের বয়স ৪২ দিন, চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু গত ৪২ দিনে দেশে একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। চাইল্ডহুড সোজ দ্য ম্যান, মর্নিং সোজ দ্য ডে। আমরা মানবাধিকারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মানবাধিকার বিল ২০২৬ উত্থাপনের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পরে আর কেউ হয়নি। আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমার বন্ধুরা, তারা বিগত ১৭ বছরে অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। অনেকের পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন তাদের অনেকে মানবাধিকার কী জিনিস সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় পরিবার হলো বিএনপি পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের শিকার হলো বিএনপি পরিবার এবং জিয়া পরিবার। আমাদের সামনে বসে আছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম শিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো পিছুটান নেই।
২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সেই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি, অতীতে এই কমিশনকে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কমিশন বিএনপিকে দমনের বৈধতা দিয়েছিল। এমনকি আমরা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো বৈধ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া এই সংসদের জন্য একটি ‘ব্যাকওয়ার্ড মুভ’ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল) হয়ে থাকবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি।’
আইনমন্ত্রী বিলে উল্লিখিত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিলের প্রথম লাইনেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা, যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোতে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশেই আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয় এবং ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল না করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বার্তা যাবে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশনই নেই। বিতর্ক শেষে স্পিকারের হস্তক্ষেপে বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হয় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ডিজিএফআই এবং সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে তা হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করছে। এরপর সেই পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের যোগাযোগ করা হয় না। কেউ যদি সেনা কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট নম্বরসহ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জানানো হয়, প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ায় পাবনা-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের বিলটির বিরোধীতা করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দিলে বিরোধী দলের সদস্যের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর বিল পাসের প্রতিবাদ করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
বিল পাসের প্রক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, ‘আইনটি পাস হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের মধ্যে আরেকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো— দলীয় প্রতীকে যে নির্বাচন হতো, এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় এবং দলীয় প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা এই আইনে করা আছে। এই কারণে আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি।’
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলীয় মনোনয়ন নির্বাচন না করার স্বার্থে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিলটি সংসদে পাস না হলে আসলে কারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে এটা কিন্তু বিবেচনার বিষয়। উনারা কাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে? রক্তপিপাসু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা পুলিশের সাথে আমাদের হামলা করেছে, অস্ত্র ব্যবহার করেছে, হামলায় যারা আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধি, এই আইনটি পাস না হলে আবার তারা পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ফিরে আসবে। এই কারণেই এই অধ্যাদেশটি করে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং এই জায়গাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম আট দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৯৭.৫ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৭.৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে গত বুধবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। বছরে মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০.৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় পূর্বের মতোই তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পরে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলটি নিয়ে আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের বিরোধিতা করে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও তিনি কোন ধারায় সংশোধন চান তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এ কারণে স্পিকার তার আপত্তির ওপর আলাদা করে কোনো ভোট গ্রহণ করেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়, যা বর্তমান সংশোধনীতে বহাল রয়েছে।
বিলের বিষয়ে আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারগুলো, যেমন জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার আমলেও আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলের নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিষয়টি প্রথম যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও কিছু পরিবর্তনসহ সেই ধারা বজায় রাখে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।
শফিকুর বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।
আলোচনা শেষে স্পিকার উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি, বরং সাধারণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেন এবং তা পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিক এমপি’র নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং এর অব্যাহত অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনোয়ার ইব্রাহিমকে শুভেচ্ছা জানান এবং একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। শ্রমিকদের শোষণ রোধে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং দক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষই তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উভয় দেশই পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন।