দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় সচিবালয়ে প্রবেশ করলে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সভার পাশাপাশি আজ দিনভর প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী কল্যাণে গঠিত বিশেষ কমিটির সভায় যোগ দেবেন। এই বৈঠকে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত চলমান প্রকল্পগুলোর সবশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন তিনি। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সভার মাধ্যমে তারই প্রতিফলন ঘটছে।
দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে আইসিটি ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন প্রাধান্য পাবে। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলো পরিচালনার জন্য গঠিত কমিটির বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। দেশের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তদারকিতে এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরবর্তীতে দুপুর ২টায় দক্ষতা বিষয়ক সরকারি সনদ প্রদান ও এর মান নির্ধারণে (প্রমিতকরণ) গঠিত কমিটির বৈঠকে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নিবিড় তদারকি ও নিয়মিত বৈঠকগুলোর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ, আইসিটি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই আলোচনাগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। দিনভর এসব বৈঠক শেষে বিকেলের দিকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ত্যাগের কথা রয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক কাজকে আরও সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও অস্থিরতার জেরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) একদিনেই আরও ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে গত ছয় দিনে মোট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১০টিতে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ৩৪টি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ)। এছাড়া কাতার এয়ারওয়েজ, কুয়েত এয়ারওয়েজ, জাজিরা এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি করে এবং গালফ এয়ার ও ইউএস-বাংলার ২টি করে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগের দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি এবং ৪ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। টানা এই ফ্লাইট বাতিলে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংকট তৈরি হলে বিকল্প উৎস থেকেও তেল ও গ্যাস আমদানির কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি সাময়িক সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগসমূহ সফল করার জন্য জনগণকে ধৈর্যধারণ করে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পবিত্র মাহে রমজানে যাতে জনদুর্ভোগ না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের আলোকসজ্জ্বা পরিহার করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার কমিয়ে পাবলিক বাহন ব্যবহারের অনুরাধ জানানো হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর ফলে অনিবার্যভাবে দেশের জ্বালানি খাতেও সাময়িক সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পেতে পারে বা সাময়িক সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রভাবে বিদ্যুৎ ও সারের উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
খোলাবাজারে ডিজেল, পেট্রোল বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে জ্বালানি পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় গতকাল সকালে জরুরি সভা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সভায় জানানো হয়, জ্বালানির সম্ভাব্য উৎসসমূহ থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে জ্বালানির সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি সংগ্রহ স্বাভাবিক রাখতে সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব, বিপিসির চেয়ারম্যান, পিডিবির চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের জ্বালানির সরবরাহ চেইনের আপাতত কোনো আশঙ্কা নেই। হরমুজ প্রণালি অফিসিয়ালি বন্ধ করেনি ইরান। যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আমাদের জ্বালানি আমদানিতে কিছুটা প্রভাব পড়বে। সেই সংকট মোকাবিলায় আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছি। জ্বালানি তেল, এলপিজি ও এলএনজি আমদানির বিকল্প উৎস নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।
বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান বলেন, আমাদের হাতে এখন ১৫ দিনের মতো জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে আমাদের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না। কারণ আমাদের পরিশোধিত জ্বালানির বেশিরভাগ আমদানি হয় সিঙ্গাপুর, চায়না, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।
তিনি বলেন, আমাদের অপরিশোধিত ক্রুডগুলো আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এ মাসে এক লাখ টন ক্রুডের একটি চালান আসার কথা রয়েছে। জাহাজটি ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসার কথা। তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে সারাবিশ্বে এর প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশেও এ প্রভাবের বাইরে নয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘বিপিসির ক্রুড অয়েলগুলো আমরা পরিবহন করি। এক লাখ টন ক্রুড লোড করতে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আছে আমাদের চার্টারের একটি জাহাজ। কিন্তু আরামকোতে ইরানের মিসাইল হামলার পর রাস তানুরা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি সরকার। এখন আমাদের জাহাজটিতে ক্রুড লোড করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি এখন রাস তানুরাতে অবস্থান করছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে ক্রুড না এলে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে পুরো জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব তৈরি করবে।’
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সহ-মহাব্যবস্থাপক (শিপিং) শাহিনুর তালুকদার বলেন, ‘আমাদের ক্রুড আনার জন্য নর্ডিক পোলাক নামের জাহাজটি রাস তানুরা বন্দরে গেছে। আজকালের মধ্যে এটি লোড হওয়ার কথা ছিল। লোড হলে এটিকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আসতে হবে। এখন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে হবে।’
তবে বর্তমানে মজুত থাকা ক্রুড দিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্ল্যান্ট আরও এক মাস চালানো যাবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শরীফ হাসনাত।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৮শ থেকে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে দৈনিক ২৬শ থেকে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা। চাহিদার অবশিষ্ট গ্যাস এলএনজির মাধ্যমে আমদানি করতে হয়।
পাইপলাইনের মাধ্যমে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও শিল্পে এসব গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়। দেশে গ্যাসের মোট চাহিদার ৩০-৩৫ শতাংশ এলএনজি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করে। পাশাপাশি বৈশ্বিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কেনে পেট্রোবাংলা।
চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানি হয়েছে। এসব এলএনজির ৬৫ শতাংশই এসেছে কাতার থেকে। হরমুজ প্রণালি হয়েই এসব গ্যাস বাংলাদেশে এসেছে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন্স) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো এলএনজিবাহী তিনটি কার্গো পথে রয়েছে। এগুলো হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এসেছে। এগুলো দিয়ে দুই সপ্তাহ সরবরাহ দেওয়া যাবে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি করবে।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধের কবলে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এখন পর্যন্ত দুই বাংলাদেশি কর্মীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল কেন্দ্র উপসাগরীয় ছয়টি দেশে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গালফ কো–অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত (জিসিসি) তেলসমৃদ্ধ ছয়টি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে জিসিসিভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশগুলো থেকে।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার ও কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী আছেন।
আকাশসীমা বন্ধ, যাত্রা অনিশ্চিত: সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনে বাংলাদেশ মিশন সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, আটকে পড়েছেন বহু কর্মী।
আবার কোনো কোনো দেশে বাংলাদেশের কর্মীদের ভিসা, বিশেষ করে এন্ট্রি ভিসা শেষ হওয়ার পথে, তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে নতুন করে কর্মী পাঠানো কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ ছুটি বা জরুরি প্রয়োজনে দেশে এসে আটকে গেছেন, এমন কর্মীদের ফিরে যাওয়াও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, এই দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে নতুন কর্মীর যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হলেও ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এরই মধ্যে কাতার এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্য দেশগুলোও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে।
যেসব কর্মীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তা কীভাবে সুরাহা করা হবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, যারা বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেটেছেন, তাদের টিকিট রিশিডিউল করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসে যাঁরা টিকিট কেটেছিলেন, তারাও যেন বাংলাদেশের কর্মীদের টিকিট রিশিডিউল করে দেয়, সে ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কাতার থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সেখানকার গণমাধ্যম দোহা নিউজ জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী এক মাসের জন্য কার্যকর হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার কাতার সরকার বিদেশি কূটনীতিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, সোমবার কাতার সরকার বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছিল। ওই ব্রিফিংয়ে বেশির ভাগ দেশ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। কাতার সরকার ওই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য কোনো ফি দিতে হবে না এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হওয়া বা কোনো আবেদন জমা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যেসব ভিসার মেয়াদ শেষে হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধের পরই মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতারের বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আইনি অবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
প্রবাসী আয়ে জিসিসির অবদান: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ লাখ, ওমানে ৭ লাখ, কাতারে ৪ লাখ ৫০ হাজার, বাহরাইনে ১ লাখ ৫০ হাজার ও কুয়েতে ১ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী আছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) মোট প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩৪৪ কোটি টাকা, যা মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে নতুন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে, পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের প্রবাহেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী দাগি আসামিদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ঢাকা থেকে শুরু হবে, সারাদেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগি আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জনগণের উদ্দেশে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের সব জনগণ সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আশা করি আমরা খুব শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার পরিদর্শনে এসেছিলাম। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এডিশনাল কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, এডিসি এবং ৫০ থানার ওসিদের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি এবং আমাদের যে ইনস্ট্রাকশন সেগুলো আমরা জানিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা এবং জনগণে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমরা সবাই জানি।
বিগত সরকারের আমলে পুলিশের কালিমা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। জনমনে যাতে আস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পারি।
তিনি দাবি করে বলেন, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি এবং মানুষ যাতে মনে করে পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু এবং সেই হিসেবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালিত করবো। আমি সবার মধ্যে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পেয়েছি তারা সবাই সংকল্পবদ্ধ। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেওয়া হয়েছিল সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু সংখ্যক লোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের উপরে এসে পড়েছে। সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে আমাদের এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে সবাই কাজ করে, এখানে যেন কোনো ব্যক্তি সিস্টেম গড়ে না ওঠে। রুল অব ল’ আমরা প্রতিষ্ঠা করব এবং পুলিশ আইনানুগভাবেই চলবে। এখানে কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক কোনো নির্দেশ পালিত হবে না। আইন যেভাবে বলে সেভাবেই যাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেভাবে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে স্ব স্ব বিভাগ পরিচালিত করবে। তারা সেই সংকল্প আজকে প্রকাশ করেছে। আমি তাদের জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে আইন শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সেগুলো স্মরণ করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমি আশা করি, তারা জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।
মতবিনিময় সভায় পুলিশের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির, ডিএমপি কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ারসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘরমুখী মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে ছুটির বিষয়টি অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণা করা হলে ঈদুল ফিতরে টানা সাত দিন ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
চলতি বছর রমজান মাস ৩০ দিন ধরে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছে সরকার। ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা আছে।
ঈদের ছুটি শুরুর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের সরকারি ছুটি। এরপর ১৮ মার্চ অফিস খোলা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব করেছে। আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হবে বলে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ১৮ মার্চ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বুধবার (৪ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঈদকে ঘিরে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বে। কিন্তু গণপরিবহন-সংকট, স্টেশন ও সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে স্বল্প সময়ে এত বিপুল যাত্রীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হলে মানুষ ধাপে ধাপে গ্রামে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে একসঙ্গে চাপ কমবে, সড়ক দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি কমবে।
১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিন ঈদের ছুটি পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঈদের ছুটি শেষে ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকবে। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২৭ ও ২৮ মার্চ শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ঈদের ছুটির পরেও টানা তিন দিনের ছুটি পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
ঢাকা সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে ওয়াশিংটন যে প্রত্যাশা করেছিল, তার চেয়েও বেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘পল কাপুর স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটনে আমার সফরের সময় বলেছিলাম, আমরা নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে চাই। তখন তারা ভেবেছিলেন এটি আদৌ সে রকম হবে কিনা। পরে তারা দেখেছেন যে, এটি সত্যিই উৎসবমুখর নির্বাচনে পরিণত হয়েছে।’
খলিলুর আরো বলেন, বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতও অনুরূপ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, কিছু ভোটকেন্দ্রে মেলার মতো পরিবেশ ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভ করেছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দনপত্র পাঠিয়েছিলেন।
খলিলুর রহমান বলেন, তিনি পল কাপুরকে সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং জাতীয় স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রগতি লাভ করতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখার ঢাকার কৌশল তুলে ধরেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনা ও আরো আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, বৈঠকে প্রতিরক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসেনি এবং জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ) ও অ্যাকুইজিশন ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (এসিএসএ)-এর উল্লেখ করা হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততাসহ বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পল কাপুর শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অব্যাহতভাবে আরো শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্টের বিধানসমূহ বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা কামনা করেন।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ককে আরো গভীর করবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, পল কাপুর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বুধবার (৪ মার্চ) ২০ সদস্যের নিকার গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প এবং আইনমন্ত্রী; জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে নিকারে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এর বাইরে জনপ্রশাসন, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, সমন্বয় ও সংস্কার, আইন ও বিচার বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবকে নিকারের সদস্য করা হয়েছে।
নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং পরিদপ্তর স্থাপন, পুনর্গঠন এবং নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনা করে নিকার। এ ছাড়া নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, থানা গঠন বা স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনা এবং বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, থানার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব বিবেচনা করে নিকার।
জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের নীতি হচ্ছে চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবনসমূহ চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, শুধুমাত্র এলজিইডির পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে ১৭০টি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে পরিত্যক্ত ভবনগুলো রয়েছে, সেগুলো ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভায় দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতক জন্ম নেয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, নবজাতক জন্মের এই পরিসংখ্যানে বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হতে বলা হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী (যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী ও ২০ শতাংশ পুরুষ) নিয়োগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।
এ ছাড়া দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যেন চিকিৎসকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন, সেজন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে তাগাদা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফাওজুল কবির খান, আসিফ মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) খোদা বখস চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়ে তাদের অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তাদের ব্যাংক একাউন্টগুলো থেকে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে সংস্থাটি তদন্ত করছে।
চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সব তথ্য নথিভুক্ত করে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফাওজুল কবির খান ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা।
আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আদিলুর রহমান খান গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন। খোদা বখস চৌধুরী ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।
তিনজন সেনা কর্মকর্তাকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে তাদের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার। বুধবার (৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।
সেনা কর্মকর্তারা হলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) সাবেক কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ।
সম্প্রতি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদে রদবদল করে সরকার।
এসব রদবদলের ফলে এই তিন সেনা কর্মকর্তার জায়গায় নতুনদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, আমরা কেবল তাদের সেবক।” অতীত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ বুধবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা।”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাহী বিভাগকে দলীয় প্রভাব ও অপব্যবহারমুক্ত রেখে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঈদের আগেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র ও কৃষিঋণসহ বিভিন্ন সেবা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা কার্যক্রম চালুর কথা তুলে ধরে বলেন, এ ক্ষেত্রেও কার্ডভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।
সেখানে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। কাজেই জনগণকে ক্ষমতায়িত করতে আমরা সেবকই থাকতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়নের জন্যই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নামফলক স্থাপন করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সেটি গোপন করে রাখা হয়েছিল। আবার সে নামফলক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রেস ক্লাবকে এগিয়ে নিতে হবে।”
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় সভায় আবু সুফিয়ান এমপি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সাংবাদিক মো. শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও মিয়া মোহাম্মদ আরিফসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, চট্টগ্রাম পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. সাঈদ হাসান, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃক নির্ধারিত বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ঠিকাদাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। বুধবার লালবাগের শহিদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় মশক নিধনে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাক-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
সম্প্রতি মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসির উদ্যোগে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ডিএসসিসির ২৪ নং ওয়ার্ড এলাকায় এ প্রোগ্রামের আয়োজিত হয়। বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ২০০ জন কর্মী অংশ নেন। তারা খাল, ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পরিষ্কারের পাশাপাশি মশার ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি কেউ দাবি করলে, আপনারা সিটি কর্পোরেশনে জানাবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ময়লা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হবে।"
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএসসিসির কবরস্থানে লাশ দাফন ও শ্মশানে লাশ দাহ্য বাবদ নিবন্ধন ফি ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার ঘোষণাও দেন প্রশাসক।
তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঢাকা শহর বাংলাদেশের মুখ। সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এলে ঢাকা দেখেই দেশের অবস্থা বোঝা যায়। তাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রীন ঢাকা’ কর্মসূচির কথা বলেছেন।
পুরান ঢাকাকে আদি ঢাকা উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, আমরা চাই দক্ষিণ সিটির মধ্যে পুরান ঢাকাই সবচেয়ে উন্নত হোক। এখানে রাস্তার লাইট ঠিকমতো জ্বলবে, বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার হবে এবং মশা নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।
দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কারও ব্যবসা নেই, কারও ঘরবাড়ি নেই, কেউ পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের বিষয়েও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যেমন ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জাহানে ফেরদৌসসহ বিভাগীয় প্রধানগণ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।