দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ সাল) রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে (ওএসডি) পাঠিয়েছে সরকার। তারা বর্তমানে যুগ্মসচিব পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়, যেহেতু তাদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং সরকার জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন মর্মে বিবেচনা করে। সেহেতু সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হয়েছে।
বিধি অনুযায়ী এসব কর্মকর্তা অবসরজনিত সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন বলেও প্রজ্ঞাপনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৫ জুলাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুলিশ সুপারের (এসপি) দায়িত্বে থাকা ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। বিসিএস ২০তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তার চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছিল।
এছাড়া ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ২২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য আলাদা করা এবং অপতথ্য বা ভিত্তিহীন তথ্য ফিল্টারিং করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘বরিশাল বিভাগের সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমকে দুই ধরনের মানুষ ব্যবহার করছেন, যাদের উভয়ের কাছেই সাংবাদিকতার কার্ড রয়েছে। এদের একদল সাংবাদিকতার বৈশ্বিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন, অন্যদিকে অন্যদল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পেশাটিকে দূষিত করছেন। ফলে অনেকেই মনে করছেন সাংবাদিকতা পেশার একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও যোগ করেন, কোনটা অপসাংবাদিকতা বা ব্ল্যাকমেইলিং এবং কোনটা সমাজের জন্য অনিবার্য- এই বিভাজন নিশ্চিত করতে না পারলে রাষ্ট্র বা সমাজ বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারবে না। আর এই কাজ কেবল সরকারের পক্ষে একা করা সম্ভব নয়, এর জন্য সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশীদারত্ব প্রয়োজন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে গণমাধ্যমকে আয়নার মতো ভূমিকা পালন করতে হয়। রাষ্ট্রকে প্রতিমুহূর্তে আয়নার সামনে দাঁড় না করালে তা ভুল পথে চালিত হতে পারে, যা জনগণের জন্য ক্ষতিকর। সাংবাদিকতা ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশায় বিত্তবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে নিজের বিবেক ও মেধা চর্চার বিশাল সুযোগ রয়েছে। যারা জেনে-বুঝে এই মহৎ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা।
আধুনিক সাংবাদিকতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতা ডেটা, ভিডিও ও অডিও কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই রূপান্তরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারলে পেশাগতভাবে পিছিয়ে পড়তে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগের তিন জেলার ৩৯ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় ২৫ জন, ঝালকাঠির ৬ জন এবং পটুয়াখালীর ৩ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কল্যাণ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাওছার হোসেন খন্দকার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু এবং বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন।
২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সব দাপ্তরিক চিঠিতে নজরুল বর্ষের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গত রোববার এ নির্দেশনা দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সরকার চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গত ২ জুলাই ‘নজরুল বর্ষ’র নির্ধারিত লোগো উন্মোচন করেন।
এতে আরো বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও সৃষ্টিকে জাতির কর্ম ও মননে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সব দাপ্তরিক পত্রে নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুরোধ জানিয়েছে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নির্দেশনা জারি করেছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এ সময়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার জানানো হয়, রোববার মালেতে রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে পৌঁছালে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের বিভিন্ন শাখার বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির স্বাধীনতার ৬১তম বার্ষিকী উপলক্ষে শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও জাতীয় গৌরব তুলে ধরা হয়।
প্যারেড শেষে ড. খলিলুর রহমান একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যেখানে দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়। পরে বর্ণাঢ্য আতশবাজি প্রদর্শনীর মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
এর আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ঘোষিত ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রজেক্ট’-এর অংশ হিসেবে মালের লোনুজিয়ারাই পার্কে একটি ক্রিস্টিনা গাছের চারা রোপণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গাছের চারা রোপণ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ উপস্থিত ছিলেন।
ড. খলিলুর রহমান মালদ্বীপে সবুজায়ন সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের বনায়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নেতাদের নেওয়া এসব উদ্যোগ পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জলবায়ু কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে সুরক্ষিত রাখার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বিপুলসংখ্যক নিম গাছ রোপণ করা হয়েছিল, যা ‘জিয়া ট্রিজ’ নামে পরিচিত।
মালদ্বীপ সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে বর্তমানে মালদ্বীপ সফর করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগের তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য তিনি এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তিনি কোনো গবেষণা সংস্থা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নিজের পছন্দের বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবেন এবং গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-কে অবহিত করবেন।
এছাড়া তিনি যে প্রতিষ্ঠান বা গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সেখানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেবেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তার গবেষণার অগ্রগতি সম্পর্কে ইউজিসির চেয়ারম্যানকে অবহিত করবেন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে পাঠাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর গ্রেড-১ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে এ সময় তিনি অন্য কোনো বেতনভুক্ত চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন না।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, দাপ্তরিক প্যাড, সরকারি লোগো ও স্মারক নম্বর জাল করে একটি ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) পত্র তৈরি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে জমা দিয়ে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রচারিত ও বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা ওই ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি এবং এর সঙ্গে জাতীয় সংসদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
সংসদ সচিবালয় জানায়, রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের নাম, সরকারি লোগো, দাপ্তরিক প্যাড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা একটি গুরুতর ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা নজরে আসার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা এড়াতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের নামে কোনো ডিও বা সরকারি পত্র প্রাপ্ত হলে তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে এবং এটি এখন একটি গভীর জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। গৃহ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—উভয় স্থানই নারী ও কন্যাশিশুর জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, তদন্তে বিলম্ব, সাক্ষ্য-প্রমাণের দুর্বলতা এবং ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করার সামাজিক প্রবণতা অপরাধীদের দায়মুক্তিকে উৎসাহিত করছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ‘বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র-২০২৫’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ সব কথা বলা হয়েছে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনার ভিত্তিতে এই সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা যায়, কন্যাশিশুরা দলবদ্ধ ধর্ষণ (১৪২), আত্মহত্যা (২০৩) এবং ধর্ষণের চেষ্টা (১১৭) মামলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্ক নারীরা হত্যা (৭৫৬), ধর্ষণ (৩৭৬) ও যৌন হয়রানির (১২৫) ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫৩ শতাংশ এবং সহিংসতার শিকার হয়ে হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ শতাংশ। পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গৃহিণীরা হত্যার ৫৮ শতাংশ, আত্মহত্যার ৬৩ শতাংশ এবং যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতার ৯৪ শতাংশের শিকার। এ ছাড়া শিক্ষার্থী কন্যাশিশুরা ধর্ষণের চেষ্টা (৮০ শতাংশ), আত্মহত্যা (৬৭ শতাংশ), দলবদ্ধ ধর্ষণ (৩৯ শতাংশ) এবং বাল্যবিবাহের (১০০ শতাংশ) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘সমীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী—জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। বিশেষ করে ছয় থেকে নয় বছর বয়সি শিশুকন্যাদের ধর্ষণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হওয়া সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। ধর্ষণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও বাড়ছে। ফলে নারী শুধু যৌন সহিংসতার শিকারই হচ্ছেন না, তাদের জীবনও ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এটি কেবল নারীর সংকট নয়, বরং পুরো সমাজের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার সংকট।’
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু ঘটনা প্রকাশ নয়, বরং সহিংসতার সামাজিক ও কাঠামোগত কারণও তুলে ধরা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশে সংবেদনশীল থাকার পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় ও দায়ও সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্ষণ, হত্যা ও এ ধরনের সহিংসতা ফৌজদারি অপরাধ। এসব ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আপসের চেষ্টা আইনসম্মত নয় এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের অপরাধের বিচার অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, জবাবদিহি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ অবৈধ পথে লিবিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় আট মাস ধরে তারা মানব পাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে জনপ্রতি ২৭ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি।
জিম্মি হওয়া তরুণরা হলেন খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুনুর রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।
শাহাদাত হোসেন খিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদের ভাগনে এবং মেহেদী হাসান তার শ্যালক। হারুনুর রশিদ জানান, প্রতিদিনই ছয় তরুণের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভিডিও করে তাদের স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের জন্য ২৭ লাখ টাকা দিলে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। অন্যথায় হত্যা করে মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সপ্তাহখানেক আগে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর তারা পাননি।
পরিবারগুলোর ভাষ্য, কেউ আট মাস আগে, আবার কেউ ৯ মাস আগে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে তাদের ইতালিতে পাঠানোর কথা ছিল। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় ২০ দিন আগে তাদের মাফিয়া চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দালালদের যোগসাজশেই এই ঘটনা ঘটেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার পর সম্প্রতি ছয় তরুণকে আরেকটি মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হয়। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশে প্রতিদিন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। কখনো ভিডিও কল চালু রেখে স্বজনদের সামনে নির্যাতনের ঘটনাও দেখানো হচ্ছে।
হারুনুর রশিদ বলেন, ছয় পরিবারের কারোরই নতুন করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই। আগেই ঋণ, ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে দালালদের টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন তারা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিক ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে প্রায় ৯ মাস আগে ২০ লাখ টাকা নেন। একই গ্রামের মানুষ হওয়ায় তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু ছেলেকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মানিক বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। দেশে তার হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন ভাই সামছুল আলম।
এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সামছুল আলমসহ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, ১৮ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সব লেনদেন হয়েছিল সামছুল আলমের মাধ্যমে। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে পাঠানো ছেলেকে এভাবে নির্যাতিত হতে হবে, তা কখনো ভাবেননি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানান, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ফের পিছিয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান নেমে এসেছে ৯৭তম স্থানে। বছরের শুরুতে এ সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ছিল ৯৫তম স্থানে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়াও। লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ২১ জুলাই তাদের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ সূচক প্রকাশ করে।
বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি সম্ভাব্য ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। কোনো দেশের নাগরিক আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় কতটি দেশে প্রবেশ করতে পারেন, সেটিই এই সূচকের মূল ভিত্তি।
সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়া বা অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২০২৫ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। অর্থাৎ, ছয় মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুইটি ভিসামুক্ত বা সহজ ভিসা সুবিধার গন্তব্য হারিয়েছে।
তবে ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা কমলেও ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি জুলাই মাসে তিন ধাপ উন্নত হয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০তম।
নতুন সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ২০২৫ সালের জুলাই মাসের সূচকে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ছিল ৯৯তম। সর্বশেষ হালনাগাদে দেশটির অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়েছে এবং বাংলাদেশ ও কাতার একই কাতারে এসেছে।
বাংলাদেশের মতো উত্তর কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে মোট ৩৫টি দেশে কোনো অগ্রিম ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত দেশের সংখ্যা প্রায় ৮ থেকে ১০টি। বাকি প্রায় ২৫ থেকে ২৭টি দেশে উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসা অন অ্যারাইভাল বা পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা পান।
যে ৩৫ দেশে ভিসামুক্ত ও অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচবক অনুসারে, বর্তমান অবস্থাানের জোরে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত সুবিধা পাবেন ১৭টি দেশ ও অঞ্চলে। এই দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং বিমানবন্দরে নেমেও কোনো ভিসার আবেদন করতে হবে না; সরাসরি পাসপোর্ট ও রিটার্ন টিকিট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে। এই দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো রুয়ান্ডা, বাহামা, বার্বাডোজ, জাম্বিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, কুক আইল্যান্ডস, ভানুয়াতু, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।
এছাড়া অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাবেন আরও ১৪টি দেশে। এই দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সীমান্ত ইমিগ্রেশন কাউন্টার থেকে সরাসরি ভিসা সংগ্রহ করতে হয় (কিছু দেশ এর জন্য নির্দিষ্ট ফি নিয়ে থাকে)। দেশগুলো হলো—ভুটান, বুরুন্ডি, মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া, তিমুর-লেস্তে, কোমোরোস দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, সিয়েরা লিওন, নিউই, সামোয়া ও টুভ্যালু।
এছাড়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন সুবিধা পাওয়া যাবে শ্রীলঙ্কা, কেনিয়া, ও সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস— এই চার দেশে। এ দেশগুলোতে যাওয়ার আগে অনলাইনে একটি ফ্রি বা স্বল্প খরচের ‘প্রাক-ভ্রমণ অনুমোদন’ বা ইটিএ ফরম পূরণ করে অনুমতি নিতে হয়। এটি কোনো প্রথাগত কনসুলার ভিসা নয়, তবে বোর্ডিংয়ের আগে এটি বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশের পাসপোর্টের ২০ বছরের পশ্চাৎযাত্রা
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ২০০৬ সূচকে বাংলাদেশে পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৬৮তম। তারপর থেকে প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে পেছাচ্ছে পাসপোর্টের মান। ২০১৫ সালে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের সূচকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ৯৯তম। তবে এ সূচকের ইতিহাসে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় পৌঁছেছিল ২০২১ সালের জুলাইয়ে। সেবার পাসপোর্টের মান নেমে গিয়েছিল ১০৮তম অবস্থানে। তারপর থেকে অবশ্য উন্নতি হতে থাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থানের, তা খুব ধীর গতিতে।
২০২২ সালে অবস্থান হয় ১০৩তম এবং ২০২৩ সালে ১০১তম। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে উঠে আসে। ২০২৫ সালে নেমে যায় ১০০তম অবস্থানে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে উন্নতি হয়ে ৯৫তম হলেও জুলাইয়ে তা আবার ৯৭তম হয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাই সূচকে অন্যান্য দেশের অবস্থান
সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের মর্যাদা ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ১৯২টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশযোগ্য গন্তব্য ১৮৮টি।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন, যার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৭টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ১৮৫টি গন্তব্য। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। সপ্তম স্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া। অষ্টম স্থানে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও এস্তোনিয়া। নবম স্থানে লিচেনস্টেইন ও লিথুনিয়া এবং দশম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।
এবার ও একই অবস্থানে রয়েছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুটি দেশের অবস্থান ১৬তম এবং তাদের নাগরিকরা আগাম ভিসা ছাড়াই ১৬৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। যুদ্ধরত ইউক্রেন রয়েছে ৩১তম এবং রাশিয়া ৪৭তম অবস্থানে। ইউক্রেনের নাগরিকরা ১৪২টি এবং রাশিয়ার নাগরিকরা ১১৪টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান।
ইসরায়েল রয়েছে ১৮তম অবস্থানে। দেশটির নাগরিকরা ১৬৬টি দেশে ভ্রমণ করতে পারেন। অন্যদিকে ইরান ও ফিলিস্তিন যৌথভাবে ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে ভিসামুক্ত গন্তব্য ৩৭টি। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব রয়েছে ৫৪তম অবস্থানে। চীন কসোভোর সঙ্গে যৌথভাবে ৬০তম এবং হাইতি ও ভিয়েতনাম রয়েছে ৮৭তম স্থানে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের। দেশটি ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের নাগরিকরা ৯৩টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশ সুবিধা পান। এরপর রয়েছে ভারত, যার অবস্থান ৮১তম এবং ভিসামুক্ত গন্তব্য ৫৫টি। ভুটান রয়েছে ৮৮তম স্থানে, মিয়ানমার ৯১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৯৪তম অবস্থানে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স সূচকে বাংলাদেশের ঠিক পরেই অর্থাৎ ৯৮তম স্থানে রয়েছে নেপাল। নেপালের নাগরিকরা তাদের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ৩৪টি দেশে সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন। অন্যদিকে পাকিস্তান রয়েছে ১০১তম অবস্থানে এবং তাদের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্য ২৯টি। সিরিয়া ১০৩তম, ইরাক ১০২তম এবং আফগানিস্তান ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের নাগরিকরা মাত্র ২২টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন, যা সূচকের সর্বনিম্ন।
আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের নীরব প্রতিযোগিতার মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কেবল প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা নয়, বরং ভূকৌশলগত সুবিধা গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার দৃঢ় বার্তা দিল। দীর্ঘ এক দশকের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, প্রশাসনিক অচল অবস্থা ও জটিলতার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন—সিইআইজেড)। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া এই মেগাপ্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নির্মাণ নয়; এটি চীন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্র বদলে দেওয়ার মতো এক মেগা ইভেন্ট।
বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান একে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মেরুকরণের এই যুগে আনোয়ারা ইকোনমিক জোনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান বহুগুণ শক্ত করবে।
│
আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটিকে চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল (বঙ্গবন্ধু টানেল) এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রিপল-কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক ও লজিস্টিকস আদান-প্রদান দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মেগাপ্রকল্প বাস্তবে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নিজেকে একটি "গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড লজিস্টিক হাব" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।২. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) ও আঞ্চলিক প্রভাবপ্রকল্পটি চীন-বাংলাদেশ জি-টু-জি (G2G) কাঠামোর অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে চিনের সরাসরি শিল্প বিনিয়োগ ঘনীভূত হবে, যা এশীয় সরবরাহ শৃঙ্খলে (Asian Supply Chain) বাংলাদেশকে এক অপরিহার্য অংশীদার বানাবে।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ২০১৬ সালের জমি অধিগ্রহণ সত্ত্বেও প্রকল্পটিতে বহু বছর ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছিল। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন বিলম্ব এবং উপযুক্ত ডেভেলপার নিয়োগের অভাবে এটি ঝুলে ছিল। বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও বলিষ্ঠ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই মেগাপ্রকল্পটি আজ আলোর মুখ দেখল।
দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই প্রকল্পটি পুনরায় গতি লাভ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর। চীনের বেইজিং এবং ডালিয়ানে দেশের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথে সরকারের ফলপ্রসূ আলোচনা প্রকল্পটির পথ সুগম করে। ওই সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা স্থবির প্রকল্পে অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বিশ্বখ্যাত চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেইজিংয়ের ৩০টিরও বেশি শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রাথমিক ধাপে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ দেখিয়েছে।
প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন-এর উপস্থিতিতে আনোয়ারার মাঠ পর্যায়ে কাজের শুভ সূচনা হয়। অর্থনৈতিক সংস্কার ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করায় সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু একটি বিশেষ শিল্প প্রকল্প নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা মোকাবিলা করে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন বিশ্বদুয়ার উন্মোচন করবে।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হকের মতে, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আয়কারী তৈরি পোশাক (RMG) খাতের কাঁচামাল, ফ্যাব্রিক্স ও অ্যাকসেসরিজের সিংহভাগ চীন থেকে আমদানি করতে হয়। আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা প্রযুক্তি ও কাঁচামাল সরাসরি উৎপাদিত হলে:আমদানি ব্যয় এবং ট্রানজিট সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার একটি দৃঢ় সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগের এই নতুন অধ্যায় প্রমাণ করে যে—সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুসংগঠিত অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা ভেঙে মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০৩১ সালের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ হলে এটি শুধুই একটি শিল্পাঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগ, আধুনিক শিল্প এবং লজিস্টিকসের অপরিহার্য আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বর্তমান প্রজন্ম সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নানা ধরনের সমস্যা থাকলেও থেমে থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তারেক রহমান বলেন, খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্ম যে পেশায় নিজেদের গড়ে তুলতে চায়, সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের শুধু নিজেদের দক্ষতা বাড়ালেই হবে না, প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে এবং দেশের সম্পদ সংরক্ষণেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে না পারা দেশের ব্যাংকবহির্ভূত পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর জন্য প্রাথমিকভাবে যে অর্থের প্রয়োজন তা সরকার থেকে সরবরাহ করা হবে।
এরই মধ্যে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তার আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। শিগগিরই এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়ন করা হবে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
তথ্য মতে, এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ২৭ হাজার আমানতকারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এরই মধ্যে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশাসক নিয়োগের পর শুরুতে ব্যক্তি আমানতকারীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। পরে অন্যদের ব্যবস্থা করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক লিকুইডেশন বা অবসায়ন আইন অনুযায়ী যে গ্রাহক আগে টাকা পাওয়ার কথা, সে অনুযায়ী টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এর জন্য আগে পাঁচ প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।
আমরা এরই মধ্যে সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, প্রথমে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিলেও অনুরোধের ভিত্তিতে চারটি প্রতিষ্ঠানকে কিছুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। তারা উন্নতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের উন্নতিতে সন্তুষ্ট হয় তাহলে তারা অবসায়ন বা বন্ধ হবে না। যদি তেমন কোনো উন্নতি না হয় তাহলে তারাও অবসায়নের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর ছোট ছোট আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে সরকারের সম্মতি পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার পরও প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮.৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩.৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯.৪৪ শতাংশ, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতভাগ ঋণই খেলাপি।
প্রতিষ্ঠান পাঁচটির মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (এস আলম)। অন্য চারটির নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেলেঙ্কারির দায়ে বহুল আলোচিত ব্যক্তি প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের। তাদের মেয়াদে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নামে-বেনামে টাকা তুলে নেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। সদ্যোবিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এসব প্রতিষ্ঠান সচল বা অবসায়ন করে আমানতকারীদের দুর্ভোগ লাঘবের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কাজটি তারা শেষ করে যেতে পারেনি। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। এ জন্য ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এনবিএফআই বন্ধ করা হবে না মর্মে গত বছরের মে মাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখান থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে ছয়টি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখন জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে বাদ দেওয়া হয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রিমিয়ার লিজিংকে বাদ দিয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। সরকারি দলের একজন নেতা প্রিমিয়ার লিজিং সচল করার উদ্যোগ নেবেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছেন। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আপাতত অবসায়নের তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান ১২ জুন বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে ১২ বছর ধরে সমস্যা হচ্ছে। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাবেন।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, ‘সবার আগে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা উচিত। যদি পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সব আমানতকারী টাকা ফেরত পান তাহলে ভালো। দেশের ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভালো। তবে ভবিষ্যতে এ রকম সিদ্ধান্ত বারবার নেওয়া ঠিক হবে না। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ট্যাক্স পেয়াররা টাকা দিয়ে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা করে না। এখানে সুশাসন বাড়াতে হবে।’
শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু শেয়ার কিনলে বছর শেষে আপনি লাভ পান। সুতরাং কম্পানি লোকসান করলে সেটার ভাগও আপনাকে নিতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর লোকসানের দায়ভার সরকার নেয় না। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সুশাসনের অভাব। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা যে এত খারাপ, সেটা কেউ আগে বুঝতে পারেনি। প্রতিবছর অডিট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। কম্পানিগুলো লভ্যাংশ দিয়েছে। তার কারণেই বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করেছে। যেহেতু তখন বোঝার কোনো সুযোগ ছিল না, তাই সরকার এগিয়ে আসছে।
দেশের বাজারে ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের (প্লাস্টিক কণা) উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এই রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্যসচিব, শিল্পসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।
গত রোববার পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এক গবেষণার ফল প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট সংগ্রহ করে এ গবেষণা চালানো হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, দেশে উৎপাদিত ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা দুটি নমুনার উভয়টিতে, থাইল্যান্ডের একটি ও ভারতের একটি নমুনায়ও এ কণার উপস্থিতি মিলেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেলে। এরপর ক্লোজআপ রেড হট, ক্লোজআপ মেনথল ফ্রেশ, কোদোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা, সিগন্যাল গ্রিন টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার ও সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কণা পাওয়া যায়। তবে আটটি নমুনায় কোনো শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক মেলেনি।