দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে সঞ্চয়পত্র অত্যন্ত জনপ্রিয়। অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় পরিবারের খরচ চালান। গত সপ্তাহে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে বেশি ঋণ নিতে মুনাফার হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী এ হার বেড়ে হতে যাচ্ছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই এখনই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চালু সঞ্চয় কর্মসূচির (স্কিম) সংখ্যা ১১। এগুলোর মধ্যে ৪টি সঞ্চয়পত্র, ২টি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক হিসাব, ১টি ডাক জীবন বীমা, ১টি প্রাইজবন্ড এবং ৩টি প্রবাসীদের জন্য বন্ড। সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগের বিপরীতে সুদ বা মুনাফার হার ভিন্ন। সুদ বা মুনাফার ওপর উৎসে কর কর্তনের হারও ভিন্ন।
বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা উত্তোলনের ব্যবস্থা ডিজিটাল হয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ৭১টি সঞ্চয় ব্যুরো কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কার্যালয়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, ডাকঘর ছাড়াও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সঞ্চয়পত্র কেনা ও ভাঙানো যায়।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয় কর্মসূচিগুলোর (স্কিম) মুনাফার হার বাড়ছে। বর্ধিত হার নির্ধারণের আদেশ জারি করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) গত ৮ জানুয়ারি অনুরোধ জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। চিঠির সঙ্গে অর্থ বিভাগ দুটি সংযুক্তিও দিয়েছে, যাতে সঞ্চয়পত্রের ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হারের কথা উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোনো সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ১২ শতাংশের কম হবে না। সবচেয়ে কম মুনাফা পাওয়া যাবে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের বিপরীতে। এর হার ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে, যে হার হবে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও বেশি হার রাখারও সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ।
বিনিয়োগকারীদের দুটি ধাপ হচ্ছে
শুধু সুদের হারের পরিবর্তন নয়, বিনিয়োগকারীদের ধাপেও পরিবর্তন আনার কথা বলেছে অর্থ বিভাগ। বর্তমানে ধাপ রয়েছে তিনটি- ১৫ লাখ টাকা; ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং ৩০ লাখ ১ টাকার বেশি। প্রতিটি ধাপে রয়েছে আলাদা মুনাফার হার। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। আর ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে সাড়ে ৯ শতাংশ।
নতুন নিয়মে দুটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। একটি ধাপে থাকবেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা। আরেকটি ধাপে থাকবেন এর ওপরের বিনিয়োগকারীরা।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের উদাহরণ দিয়েই বলা যায়, নতুন হারে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন সামান্য কম অর্থাৎ ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অন্যগুলোর ক্ষেত্রেও এভাবে দুটি করে হার হবে। বরাবরের মতো নতুন হারেও সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচের বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে মেয়াদপূর্তির আগে ভাঙালে সব সঞ্চয়পত্রের বিপরীতেই মুনাফার হার কমবে।
কোন সঞ্চয়পত্রের কত মেয়াদ
নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছরের মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও দুটি সঞ্চয়পত্রই পাঁচ বছর মেয়াদের। এ ছাড়া রয়েছে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।
কারা কোন সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন
সবাই সব ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন না। এ ব্যাপারে সরকার কিছু শর্ত ঠিক করে দিয়েছে। যেমন ১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সি বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রও কিনতে পারেন না সবাই। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত সরকারি চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরা এ সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।
পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। তবে নাবালকের পক্ষে সঞ্চয়পত্র কেনার এখন আর সুযোগ নেই।
সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কোনো কারণে মারা গেলে টাকা পাবেন তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি। সঞ্চয়পত্রে এক বা একাধিক নমিনি করার সুযোগ রয়েছে। যদিও নমিনি মনোনয়ন বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে নগদায়ন ঝামেলা এড়াতে গ্রাহকরা সাধারণত নমিনি মনোনয়ন করে থাকেন। নাবালককেও নমিনি করা যায়। গ্রাহকের মৃত্যুর তিন মাসের মধ্যে আদালত থেকে উত্তরাধিকার সনদ নিয়ে সঞ্চয়পত্রের নগদায়ন করতে হয়। গ্রাহক ও নমিনি উভয়ই মারা গেলে সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে পারেন আইনানুগ উত্তরাধিকারীরা।
ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে যা যা লাগে
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়পত্র কিনতে গেলে তাকে ৮ থেকে ৯ ধরনের কাগজ জোগাড় করতে হয়। প্রথমেই লাগবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি। দুই লাখ বা তারও বেশি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে লাগবে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদের ফটোকপি।
বিনিয়োগের পরিমাণ দুই লাখ টাকার মধ্যে হলে নগদে পরিশোধ করা যাবে, তবে দুই লাখ টাকার বেশি হলেই তা পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে। যে নামে সঞ্চয়পত্র কিনতে ইচ্ছুক, চেক দিতে হবে সেই নামের ব্যাংক হিসাবেরই। একক নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে একক নামে ব্যাংক হিসাবের চেক এবং যুগ্ম নামে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে যুগ্ম নামে ব্যাংক হিসাবের চেক দিতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে নমিনির এনআইডির ফটোকপিও দিতে হবে। নমিনি নাবালকও হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে নমিনির জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের ফটোকপি দিতে হবে। নাবালক নমিনির পক্ষে দিতে হবে মনোনীত অভিভাবকের এনআইডির ফটোকপিও। ব্যক্তি ছাড়া প্রতিষ্ঠানও নমিনি হতে পারবে। সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের সনদ বা স্থানীয় সরকারের (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন) প্রত্যয়নপত্র লাগবে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা বা গ্রাহকের এবং নমিনির দুই কপি করে পাসপোর্ট আকারের ছবি লাগবে। গ্রাহকের ছবি সত্যায়ন করবেন ইস্যুকারী কর্মকর্তা এবং নমিনির ছবি সত্যায়ন করবেন সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক।
প্রভিডেন্ট ফান্ড
ভবিষ্য তহবিলের (প্রভিডেন্ট ফান্ড) অর্থ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা যায়। এ বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। প্রথমেই সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বীকৃতপত্র নিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল সংরক্ষণবিষয়ক সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনের কপি।
ভবিষ্য তহবিলের নামে যে টিআইএন সনদ আছে সেটা এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী জমা দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
অটিস্টিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের জন্য গড়ে উঠেছে, এখন সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছরমেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের আগে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারত না।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শুধু অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, যেসব প্রতিষ্ঠান অটিস্টিকদের সহায়তায় কাজ করে, তারাও এ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৫০ লাখ বা যৌথ নামে এক কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ থাকলেও অটিস্টিকদের জন্য গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগের কোনো সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি।
তবে যে প্রতিষ্ঠানই এই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে যাবে, তার আগে সেই প্রতিষ্ঠানকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হবে। জমা দিতে হবে টিআইএন সনদ এবং ব্যাংক হিসাবের চেক ও হিসাব বিবরণী। যে প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের কার্যবিবরণী এবং আবেদনকারীদের নাম, পদবি ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সবশেষে লাগবে একটি ফরওয়ার্ড লেটার।
পেনশনার
এ সঞ্চয়পত্র যেখান থেকে কেনা হয়, সেখানে ভবিষ্য তহবিলের চূড়ান্ত মঞ্জুরিপত্র দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া লাগবে প্রাপ্ত আনুতোষিকের মঞ্জুরিপত্র এবং পেনশন বইয়ের ফটোকপি। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একটি সনদও দাখিল করতে হয় এ সঞ্চয়পত্র কেনার আবেদনের সঙ্গে।
দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দিবাগত রাত ১টার মধ্যে টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার নিয়মিত পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৩২ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ ৫০ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৬ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ ১৩৩ জন, গুলশান বিভাগ ২৩ জন, উত্তরা বিভাগ ৫০ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ৫ জনকে গ্রেফতার করে।
অভিযানকালে একটি দেশীয় রিভলবার, ৪ রাউন্ড গুলি, ৬ হাজার ৩২৪ পিস ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা ও ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল অবকাঠামোকে রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষার আওতায় এনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, জাহাজ চলাচল, শুল্ক ও রাজস্ব প্রক্রিয়াকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বন্দরের ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় সাইবার হামলা বা কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দেশের বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোর অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর চবক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে বন্দরের তথ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে বন্দরের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাগুলোতে উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রতিপালন করতে হবে। এর মধ্যে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিচালনা কেন্দ্র ও সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা মোকাবিলা দল পরিচালনা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, বার্ষিক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, নিয়মিত ঝুঁকি নিরূপণ, দুর্বলতা মূল্যায়ন ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সংকেতায়িত ও অফলাইন সংরক্ষণব্যবস্থা, ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা বিধান লঙ্ঘন কিংবা এতে অননুমোদিত প্রবেশ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা দল গঠন, তথ্য পরিকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, নিরাপত্তা নীতিমালা হালনাগাদ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বের একটি সুস্পষ্ট স্বীকৃতি। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বন্দরের নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল কার্যক্রম নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বন্দরের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে নয়, বন্দরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ও ডিজিটাল সেবা সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে বাংলাদেশে ৩৬টি সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বন্দরের তথ্যকেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্যভান্ডার, সফটওয়্যারভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্রসহ সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের আওতায় আসবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার অর্থ বন্দরের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করছে না। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষই নিজস্ব অবকাঠামোর মালিক ও পরিচালনাকারী থাকবে। তবে এসব অবকাঠামো জাতীয় পর্যায়ের উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান ও নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধান পরিপালনের আওতায় থাকবে।
শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানান।
এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সব সময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।
মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।
এসময় বিগত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এসময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডাটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি এসময় আনসার বাহিনীর সংস্কার বিশেষ করে আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি আনসার বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে
আগত দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাত রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম ও বনাঞ্চল বেষ্টিত এলাকা-সহ সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারিকে আরো কার্যকর ও সহজতর করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে “সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের যেসব দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত (ওয়াইল্ড) এলাকা রয়েছে, যেখানে সরেজমিন জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর, সে সমস্ত জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপর পক্ষের তৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা সহজ হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগেও ড্রোনের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ড্রোন স্কুলে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সেই সাথে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে ‘মব’ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিজিবি'র সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পূর্বে মন্ত্রীকে 'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)' সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবি'র দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিজিবি'র একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ স্কুল/কেন্দ্র হিসেবে SSSDW-এর যাত্রা শুরু হলো। কেন্দ্রটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আধুনিক আকাশভিত্তিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের বন্ধন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমার জায়গায় যে থাকবে, সে একই জিনিস চাইবে। কারণ, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর।” মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। একই সাথে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, “অভ্যন্তরীণ যে রাজনীতি তা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, তা নির্বাচিত সরকার বুঝবে। সাধারণ মানুষের যা কিছু ভালো হয়, সে বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে। আমরা স্বপ্ন শেয়ার করি। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়, আমি এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি।” তাঁর মতে, দুই দেশের উন্নয়নে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। বরং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য বা ফ্রি ট্রেড সম্প্রসারণের গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান যে, ভারতীয় হাইকমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে ভারতের অভিজ্ঞতাগুলো বিনিময় করেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা জানিয়েছি, চলতি অর্থবছরে নির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার।” এই সৌজন্য সাক্ষাৎ মূলত দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
কোনো আন্তর্জাতিক চাপে নয় বরং দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী বিমান বহরের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ের ক্ষেত্রে, আরও রুটে পরিষেবা দেওয়া দরকার। এ জন্য আমাদের আরও বিমানের প্রয়োজন আছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ১৫০টির বেশি বিমান আছে। সেই জায়গায় আমাদের ডিমান্ড আছে ৭০-৮০টির মতো- আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী অর্ডার করিনি, তবে অবশ্যই আমরা আরও বিমান কিনবো।’ তিনি আরও জানান যে, প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এয়ারবাসও যুক্ত করা হতে পারে এবং নীতিগত চুক্তি অনুসারে সেই ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
ক্রয় সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিদেশি চাপ কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনও প্রেশারে না, এটা আমাদের অ্যাভিয়েশনের ডিমান্ড অনুযায়ী। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। অন্যথায় আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না, আমরা নতুন রুট খুলতে পারি না, অর্থ হারাচ্ছি।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিমান না কিনলে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলানো সম্ভব হবে না, যা প্রকারান্তরে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন বিমান বহরে যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাভিয়েশন খাতের টার্নওভার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সম্প্রতি দেওয়া বোয়িং ক্রয় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তো চুক্তি আছেই, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিমান কিনবো।’ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয়ের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। মূলত বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি শক্তিশালী 'অ্যাভিয়েশন হাব' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এবং ভোলার গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মাধ্যমেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, বর্তমান লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হলো জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যা এবং অর্থনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাহিদা। তবে এই সংকট নিরসনে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসন করেছে। এ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আগে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন রেখে গ্রামে অতিরিক্ত লোডশেডিং দেওয়ার যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ছিল, আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এখন সাময়িক কষ্টের বোঝা শহর ও গ্রামে সুষমভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।’
ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে কিছু সময় লাগলেও ভোলার গ্যাস গ্রিডে আনতে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং বাপেক্সের দেড়শ কূপ খননের কাজ পুরোদমে চলছে। রূপপুর প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক চালুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণ স্কেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এর ফলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরে বিদ্যুৎ খাত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ও আনইন্টারাপ্টেড (নিরবচ্ছিন্ন) অবস্থায় পৌঁছাবে।’
শ্রম বাজার নিয়ে এক সুখবর দিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, মালয়েশিয়া সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার নতুন কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এখন ৩১২টি সহযোগী সংস্থাকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসনে তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জানান যে, এটি কোনো নতুন সংকট নয় এবং পরিসংখ্যান আগের বছরগুলোর মতোই। নিখোঁজ হওয়া প্রত্যেকটি শিশুর উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সারের মজুত নিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে ১২ লাখ ৮৬১ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, যা গত বছরের চেয়েও বেশি। ফলে সার নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদকর্মীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে একই আইনি কাঠামোর নিচে এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা তৈরি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সফল পরিণতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত।
ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গত ২৮ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াশিংটন ডিসি’র বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে আলড্রিচ জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।
সারাহ আলড্রিচ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নানা জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়েছে।" এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, "বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।" তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
স্মরণ সভার শুরুতে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, সেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর আন্দোলনে নারীদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ ও ত্যাগের চিত্র নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘মক্কা জোটে’ অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিবের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি আমরা অনুসরণ করে থাকি। এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। জোটে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের জন্য এখনও কোন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি। তবে এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।’
এর আগে প্রতিমন্ত্রী আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সাধুবাদ জানায় সংস্থাটি। এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরত এসেছে। আইপিইউ মহাসচিবের সফর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’
বৈঠকে দেশের আইনসভায় তরুণ সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে আইপিইউ প্রতিনিধি দল। এছাড়া মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি হয়তো আগের কোনো চুক্তির ধারাবাহিকতায় করা হয়ে থাকতে পারে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সার্ভিস লেনটি আগামীকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি এই মেগা প্রকল্পের প্রথম কোনো অংশ, যা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সার্ভিস লেন চালু হওয়ার ফলে রাজধানীর উত্তরা থেকে আশুলিয়া অভিমুখে যাতায়াতকারী যানবহনগুলোর যাতায়াত উভয় দিক থেকেই অনেক সহজ হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটিই প্রকল্পের আওতায় প্রথম অংশ, যার সুবিধা জনসাধারণ আগামীকাল থেকে ভোগ করতে পারবেন। সার্ভিস লেনটি আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে।’
এর আগে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান যে, এই প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনের দুটি পৃথক সার্ভিস সেতু সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। আগামীকাল ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ধউর সেতুর ওপর সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্ভিস লেনটি উন্মুক্ত করবেন।
প্রকল্পের নথিপত্র অনুসারে, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সার্ভিস লেন ও এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেন নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশেষ নকশার কারণেই স্থানীয় যানবাহনের সুবিধার্থে উড়ালপথে পৃথক দুটি সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশের নির্মাণকাজের পাশাপাশি পিচ ঢালাই ও রোড মার্কিংয়ের কাজ গত আগস্ট মাসেই সম্পন্ন হয়েছে।