আইন লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগে সৌদি আরবে অবৈধ প্রবাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৯ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সময়ে সৌদি থেকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ১০ হাজার ৩১৯ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাত দিনের অভিযানে ১৯ হাজার ৪১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে আবাসিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১১ হাজার ৭৮৭ জনকে, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪ হাজার ৩৮০ জনকে এবং ৩ হাজার ২৫১ জনকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ২২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪২ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৬ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে ১৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় এবং নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবে বর্তমানে ৩০ হাজার ২৬১ জন পুরুষ এবং তিন হাজার ৩১৫ জন নারীসহ মোট ৩৩ হাজার ৫৭৬ জন প্রবাসী বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের মধ্যে রয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২৩ হাজার ৯৯১ জনকে ফেরত পাঠানোর আগে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৮৬৯ জনকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া১০ হাজার ৩১৯ জনকে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেউ যদি কাউকে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশে সহযোগিতা করে এবং কাউকে পরিবহন সুবিধা ও আশ্রয় দেয়, তাহলে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এছাড়া ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে তার সম্পত্তি এবং যানবাহনও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ‘ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন’ (আইজিসি ফাউন্ডেশন) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মাদকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নেতিবাচক পরিবেশও আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। ক্যাম্পের সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের এই বিপুল উপস্থিতির কারণে স্থানীয় কক্সবাজারের সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্যাম্পের জনঘনত্ব যত বাড়বে, আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি ও মানবিক সংকট ততটাই তীব্র হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের পথ নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত মানবিক সহায়তা খুবই জরুরি। তবে এই মানবিক সহায়তা অবশ্যই একটি সাময়িক ব্যবস্থা, প্রত্যাবাসনের বিকল্প নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। এ লক্ষ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
পরিশেষে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি যেন বিশ্বনেতাদের গুরুত্বের তালিকায় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই মানবিক সংকটটি চাপা না পড়ে যায়।
রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নৌপথের উন্নয়ন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বালু নদীর দূষণ রোধ, বর্জ্য অপসারণ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য গৃহীত পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নদী সংলগ্ন খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো প্রকার গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
উক্ত সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরকারি অধীনে হজ করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজীর অনুকূলে ব্যয়ের উদ্বৃত্ত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সৌদি আরব অংশে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়নি, সেই অব্যয়িত অর্থই এখন হাজীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং হাজিদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাক্সক্ষার প্রতীক।
তিনি জানান, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবেন।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অধিকার ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
তার এই নির্বাচনকে জাতীয় গৌরবের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে এই পদের জন্য প্রচারণা চালালেও বাংলাদেশ এই সভাপতিত্ব লাভ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের ৮৩টি মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার কারণেই এই কূটনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগের কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশেষ সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সেবা দিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে এবং কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ করছে।এছাড়া নাগরিকদের সব তথ্য একটি একক ডেটাবেজে নিয়ে আসতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজতর করতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ, ঐতিহ্য, পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর প্রচারণায় প্রবাসীদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানব পাচারকারী চক্রের নানাবিধ কর্মকাণ্ড বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম একটি পৃথক মাইগ্রেশন উইং (অভিবাসন শাখা) চালু করা হয়েছে। নতুন এই শাখা অবৈধ অভিবাসন, প্রবাসীদের নানা সমস্যা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বৈধ উপায়ে দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করতে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাথে কাজ করছে। ইতোমধ্যে যেসব জেলা থেকে অবৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ব্যবসা, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিসভা সম্প্রতি বাংলাদেশের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আরও বেশি অতিথিপরায়ণ ও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা। এর পাশাপাশি বিমানবন্দর সেবা ও পর্যটন খাতের সংস্কারের কাজও চলছে বলেও তিনি জানান।
জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং একক কোনো বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অতিরিক্ত উৎসের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির সুযোগগুলোকেও সরকার এগিয়ে নিচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ইতোমধ্যে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি, বিশেষ করে নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা, মসলিন, কুটির শিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাট একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব পণ্য উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচারণা চালাবে। এছাড়া তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনেও টেকসই প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে পাটকে তুলে ধরতে একটি স্টল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে এ বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, আরাকান আর্মি, আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বার্থের সংঘাতের কারণে এই সংকট দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
‘আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন হবে’ উল্লেখ করে তিনি টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আর কেবল বন্যা, দুর্যোগ কিংবা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর দেশ হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। পর্যটন, ব্যবসা এবং বিনিয়োগে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিশ্ব মানচিত্রে দেশটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ আমাদের আছে।
বর্তমান সরকার প্রকৃত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন এবং এর জন্য নাগরিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে সঠিক উপায়ে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছি। সরকার একা সবকিছু করতে পারে না, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশির চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক উন্নয়নগুলো তুলে ধরতে তাদের বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা জোরদার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা।
সূত্র: বাসস
রোদ, বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত, যাই হোক না কেন, প্রতিদিনই দুটি নির্দিষ্ট সময়ে কিছু মানুষ রাস্তার পাশে একই জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন, শুধু একজন মানুষকে দেখার অপেক্ষায়।
তাঁর গাড়ি কখন সে পথ দিয়ে যাবে কারও সেটা ঠিক জানা নেই, তবুও প্রতিদিনের আসা-যাওয়ার রুটিন মাথায় রেখে তারা সকালে ও রাতে প্রিয় সেই মানুষটিকে দেখার প্রতীক্ষায় থাকেন। বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের নয়নমণি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে প্রতিদিন একই জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। অপেক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কখন এই পথ দিয়ে যাবে। প্রত্যাশা একটাই, প্রিয় তারেক রহমানকে এক নজর দেখা। তাদের কেউ কেউ প্রথম দিন থেকেই অফিসে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এখনও থাকেন। আবার কেউ জেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ।

আবার কখনো দেখা যায়, রিকশার হ্যান্ডেলে হাত রেখে কেউ দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ দোকানের সামনে, কেউবা ফুটপাতে নিত্যকার ব্যস্ততার মধ্যেও অপেক্ষা করেন। তাদের অপেক্ষা, সেই কাঙিক্ষত ক্ষণটির জন্য। গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটিকে একবার চোখের দেখা দেখবেন বলে।
দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়ানো এই মানুষগুলো এখন প্রধানমন্ত্রীরও চেনা মুখ। গাড়িবহর সেই জায়গাগুলোয় পৌঁছালে গতি একটু ধীর হয়। রাস্তার পাশ থেকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। গাড়ির ভেতর থেকেও প্রধানমন্ত্রী হাত উঠিয়ে সাড়া দেন হাসিমুখে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রমনা থানার পাশে যমুনা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখে, হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়ে তারপর নাশতা সেরে কাজে যোগ দিতেন।

তিনি বলেন, এখন এটিএম বুথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ। চাকরিটিও আর নেই তার। তবু প্রতিদিন সিকিউরিটি গার্ডের সেই ইউনিফর্ম পরে, হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি চলে আসেন পুরোনো জায়গাটিতে। দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়। একসময় গাড়িবহরটি সামনে আসে। কয়েক সেকেন্ডের দেখা। এই কয়েক মুহূর্তের জন্যই তার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। দেখা হওয়ার পর মনে একরাশ প্রশান্তি নিয়ে নাশতা সারেন তিনি। চলে যান নিজ গন্তব্যে সেই বৃদ্ধ। এ যেন পথের পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ, আর চলন্ত গাড়ির ভেতরের মানুষটির মধ্যে গড়ে ওঠা এক অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছে নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুজন রিকশাচালক। প্রতিদিনের জীবিকার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন তারা। গাড়ি কাছাকাছি এলে চোখের তারায় এক অদ্ভুত দ্যুতি খেলে যায়, রচিত হয় এক আবেগময় মুহূর্ত। এ যেন অপেক্ষা আর চোখের দেখায় গড়ে ওঠা হৃদয়ের সংযোগ।
তিনি বলেন, বনানী কাঁচাবাজারের কাছেও আছে কিছু পরিচিত মুখ। ফুল ও ফল বিক্রেতাদের কেউ কেউ প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। ফুটপাতের হকারদের মধ্যেও আছেন এমন অনেকে। কাজ থামিয়ে সেই মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন, গাড়ির ভেতরে থাকা প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখবেন বলে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আঁধার রাতে কামাল আতাতুর্ক রোডে একজন অপেক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ফেরার পথে। কখনো সেই অপেক্ষা গড়িয়ে যায় গভীর রাত পর্যন্ত। নাম জানা নেই, কিন্তু দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় মুখটি আর অপরিচিত থাকেনি। রাতে সেখানে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতি একটু কমে যায়। গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে হাত নেড়ে অপেক্ষমাণ মানুষটির অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, কাজ শেষে রাতে প্রধানমন্ত্রী যখন ফেরেন, গুলশান ২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের রেস্তোরাঁ ও হোটেলের অনেক কর্মচারী তখন অপেক্ষায় থাকেন। তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ির ভেতরের বাতি জ্বালিয়ে দেন, যেন পথের ধারে অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তাঁকে স্পষ্ট দেখতে পান। আলো জ্বলে উঠতেই চেনা মুখগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ।
তিনি বলেন, কেউ হাত নাড়েন, কেউ অপলক চেয়ে থাকেন। চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে অভিবাদনের জবাব দেন। কথাহীন সেই অভিবাদনেই বিনিময় হয়ে যায় অনেক না-বলা কথা। পুরো ঘটনাটা মাত্র কয়েক মুহূর্তের। গাড়ি থামে না, কাছে এসে কুশল বিনিময় হয় না, কথাও হয় না। তবু দিনের পর দিন এই ক্ষণিক দেখাতেই গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত মায়ার সম্পর্ক।
তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে অপেক্ষাটা ছিল শুধু পথের পাশের মানুষগুলোর। তারা জানতেন, এই পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী যাবেন। তাই কাজের ফাঁকে কেউ এসে দাঁড়াতেন রাস্তার ধারে, কেউ অপেক্ষা করতেন শুধু একঝলক প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখবেন বলে।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, একসময় সেই অপেক্ষা আর একপক্ষের থাকেনি। পরিচিত জায়গাগুলো কাছাকাছি এলে প্রধানমন্ত্রীও খুঁজে ফেরেন মানুষগুলোকে। সেই চেনা মুখগুলো কি আজও দাঁড়িয়ে আছেন পথের পাশে? এই সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। কোনো মঞ্চ নেই, নেই বক্তৃতা কিংবা করতালির আয়োজন। আছে শুধু অপেক্ষা, পরিচিত কিছু মুখ আর পরস্পরকে খুঁজে নেওয়ার এক নীরব টান। এ যেন অদৃশ্য এক সুতোয় গাঁথা ভালোবাসার মালা।
তিনি বলেন, একদিকে পথের ধারে অপেক্ষমাণ সেইসব মানুষ, অন্যদিকে চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে তাদের খুঁজে ফেরা প্রধানমন্ত্রী। মাঝখানে কয়েক হাতের দূরত্ব, কয়েক মুহূর্তের দেখা-তবু সেই ক্ষণিকের মধ্যেই নীরবে গড়ে উঠেছে এক নিঃস্বার্থ বন্ধন।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সভা শুরু হয়।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আগামীতে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সেভাবেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বিএনপি।
স্বৈরাচারী শাসনামলে কিছু রাজনৈতিক দল ‘গুপ্ত’ বেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। বর্তমানে তারাই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার আমলে দেখেছি একটি রাজনৈতিক দল গুপ্ত বেশ ধারণ করেছিল। তারা স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দেখছি তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে তা স্বীকার করেছে।’
দেশের জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনও তো হতে পারে যে, যে গুপ্তরা স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল; এখন হয়তো তাদের ভেতরে স্বৈরাচারীরা লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে। যদি তাই হয়, তাহলে তো বলতে হবে, গুপ্তরাই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করছে। কারণ, কয়েকদিন আগে আমরা দেখলাম, গুপ্তদের এক নেতা বলেছে যে, তারা এলে আমাদের আপত্তি নেই। তাহলে তো দেখাই যাচ্ছে, উভয় পক্ষ একজন আরেকজনকে নানাভাবে গুপ্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেই। কারণ, এই গুপ্ত বাহিনী ৭১ সাল থেকে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময়-অসময়ে একজন আরেকজনকে আড়াল করেছে। একজন আরেকজনকে আশ্রয় দিয়েছে। কাজেই আজ তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী দলের নাম বিএনপি বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি কেউ নিশ্চিত করে থাকে, সেই রাজনৈতিক দলটির নাম বিএনপি। সে কারণেই প্রত্যেকটি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু—সবকিছুর পেছনেই জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির যুগান্তকারী অবদান রয়েছে।’
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেশ গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করেছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তীতে দেশকে একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে পরিচিতি দেয়।
সংকট মোচনে বিএনপির অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং ৯০-এর স্বৈরাচার-পরবর্তী সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
গত ১৬-১৭ বছরে সরকারের অন্যায়-অত্যাচার এবং নির্যাতনের পরেও বিএনপি রাজপথে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং সফলতা অর্জনের পূর্ণ কৃতিত্ব এ দেশের আমজনতার। তাদের সঙ্গে থেকে বিএনপি এই লড়াই সফল করেছে।’
বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রথমে জাতীয় সংগীত এবং পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে জাতীয়তাবাদী দলের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনে গত মঙ্গলবার পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়। আজকের এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো।
তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি নির্মূলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি বিশিষ্টজনদের। রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক গোলটেবিল আলোচনায় এই দাবি জানানো হয়। এসময়, বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানান আলোচকেরা। তারা বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ঢেলে সাজাতে হবে আমলাতন্ত্র। কেননা এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক।
বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বিশিষ্টজনেরা।
সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা প্রান্তিক পর্যায়ে দাপট দেখাচ্ছেন অভিযোগ করে তা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান আলোচকেরা। বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমও হারিয়ে গেছে। এসময়, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবি জানানো হয়।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে– সেটা নিয়ন্ত্রণে সরকার চেষ্টা করছে জানি, কিন্তু সরকারি দলের তৃণমূল পর্যায়ের যারা কর্মী তারা যখন সরাসরি চাঁদাবাজিতে যুক্ত হয়, এবং তারা যখন তৃণমূল ও স্থানীয় পর্যায়ে দলের পরিচিতি দিয়ে দাপট দেখায়, তখন এটা একটা বড় সমস্যা।’
আলোচকেরা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর কথা ভাবি, আমরা যদি অতীত স্মরণ করি সেইসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পেশাজীবী সংগঠন আরেকটা ছিল, স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা; সেখানে একজন সহকারী অধ্যাপক পাওয়া যায়নি দাঁড়ানোর জন্য।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এছাড়া সব জায়গায় যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ছিল তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘আজকে বিদ্যুতের মতো–জ্বালানির মতো এরকম দরকারি পণ্য নিয়ে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এটা আপনারা নিশ্চয়ই বোঝেন। তবে এটা খুবই স্বাভাবিক যে, জনগণ একদিকে যেমন এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কারণে ভোগান্তির মধ্যে আছেন। আমাদের এই ভোগান্তির মধ্যদিয়ে বেশ কিছুদিন যেতে হবে।’
আলোচনায় সুশাসন, সংসদীয় রাজনীতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভালো শিক্ষার্থী শুধু নয়, ভালো মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরির্দশক (আইজিপি) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, “মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয়, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। এজন্য শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলে চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে।”
শনিবার পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে ‘পুলিশ মেধাবৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন বলে পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার পরামর্শ দেন আইজিপি।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রযুক্তি তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।”
দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলা এবং অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন আলী হোসেন ফকির।
মাদক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, “সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচণা মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ।”
একই সঙ্গে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজী মো. তানান হোসেন, সৈয়দা সাবিহা মুশাররাত মুমু, মো. আদনান জাওয়াদ ও মুস্তাইনা মঞ্জুর মেধাবৃত্তি পাওয়া নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মেধাবৃত্তি প্রদানের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এই শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের এ মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বেশি করে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ডিআইজি শম্পা ইয়াসমিন এবং পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফারুকুজ্জামান।
২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮০১ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৮৪৫ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় ১৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়ে পুলিশ মেধাবৃত্তি পেয়েছে।
তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানে ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিজিবি’র যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির সন্নিকটে অবস্থিত সমাধিস্থলে বিজিবি’র পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখকে গার্ড অব অনার প্রদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এরপর তার রুহের মাগফেরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
এ সময় যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ ও সহকারী পরিচালক মো. মাছেদুল ইসলাম খাঁনসহ বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বাসসকে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নতুন বাংলাদেশের’ অগ্রযাত্রার বার্তা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে জাতিসংঘে যাবেন এবং সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার সকালে সিলেটের একটি হোটেলে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে জাতিসংঘে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।’ তবে ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও আলোচনার দ্বার খোলা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিন তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতের সাথে হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ নেই। প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক থাকাই উচিত।’
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের সমালোচনা করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বুঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সঙ্কট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোটে অংশগ্রহণ ও বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান ক্রয়ের বিষয়টি কোনো মহলের চাপে নয় বরং প্রয়োজনীয়তার কারণেই হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’
শ্রমবাজারের সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সিন্ডিকেটের কারণেই মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে এবং এখন থেকে ধাপে ধাপে শ্রমিক রপ্তানি শুরু হবে। উক্ত মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সফর নিয়ে বর্তমানে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকালে সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলমান। তবে সফরের দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।’
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রগতির বার্তা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে যাবেন। ওই সফরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ‘সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে।’
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জোটে অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন যে, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছুই নয়। জাতীয় ইন্টারেস্টের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে।’ একইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির বিমান ক্রয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে।’
দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার নতুন ও বিকল্প উৎসের অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে আফ্রিকা থেকেও জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার সকালে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকার বর্তমানে পোশাক খাতের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য নিয়েও নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার এটি একটি অনন্য সুযোগ।
আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই বিশ্ব দরবারে দেশের জাতীয় স্বার্থকে তুলে ধরা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে, যা দেশের সার্বিক উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় গত দুই মাসে পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা-এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়।
বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও।
তিনি বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সেজন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।
এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।
এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।
সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি।
কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রপ্তানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা।
মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।
উল্লেখ্য, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।
সুত্রঃ বাসস