বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
৫ চৈত্র ১৪৩২
আইটিজেপি ও টিজিআইয়ের প্রতিবেদন

ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুধু ১৯ জুলাই নিহত হন ১৪৮ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫১

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানটি শুরুতে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কোটা সংষ্কার আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা সংস্কার করে কমানোর দাবিতে গত বছরের ১ জুলাই রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ও পরে শাহবাগে এ কর্মসূচির শুরু। ওই মাসের প্রথম ১৪ দিন ওই এলাকাতেই ছিল আন্দোলন। এতে সড়ক অবরোধের কারণে শহরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ১৫ জুলাই চীন থেকে ফিরে এসেই সংবাদ সম্মেলন করার সময় এক প্রশ্নের জবাবে এই ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘কোটা মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতি পাবে নাকি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে’বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করায় তাতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয় আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্ররা। সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ও পরে টিএসসিতে ‘চেয়েছিলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার’জাতীয় স্লোগানে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিলে পরদিন থেকেই ক্যাম্পাসে ও শাহবাগে পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্মম হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। সেইদিন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। ঢাকাতেও নিহত হন দুজন। ১৭ জুলাই ছিল আশুরা। সেদিন টিএসসিতে আবু সাইদের প্রতীকী জানাজা পড়তে চাইলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পুলিশের সহযোগিতায় আন্দোলনরত ছাত্রদের বেধড়ক পেটায়। সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ছাত্রলীগের উন্মুক্ত হওয়া অস্ত্র আর বন্ধ হয়নি। ১৮ জুলাই শতাধিক ছাত্র-পথচারী সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।

তবে এ আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯ জুলাই। সেদিন রাজধানীসহ সারাদেশে ১৪৮ জন মানুষ হত্যার শিকার হন। হত্যাকারীরা এতটাই নির্মম ছিল যে তাদের ছোড়া গুলিতে ৫৪ জন মাথায় বা গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এদের অধিকাংশেরই বয়স ৪০ বছরের মধ্যে। হতাহতের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ঢাকায় একটি হাসপাতালে আক্ষরিক অর্থে গজ এবং ব্যান্ডেজ ফুরিয়ে যায়। ঢাকা একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো হয়ে ওঠে। ‘ব্লাডশেড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (আইটিজেপি) এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (টিজিআই)। তারা হাসিনা সরকার পতনের কয়েকদিন পর থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করতে মাঠে নামে এবং পরিবারগুলো ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নেয়।

প্রতিবেদনের পাশাপাশি আইটিজেপি, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং আউটসাইডার মুভি কোম্পানি দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করে। এতে সামাজিক মাধ্যমে প্রাপ্ত পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রমাণগুলো একত্রিত করে কী ঘটেছিল তা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। একটিতে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ বিপুল সংখ্যক তরুণ আন্দোলনকারীদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করছে। অন্যটিতে মোহাম্মাদ হৃদয় নামে এক তরুণকে ৫ আগস্ট গাজীপুরে পুলিশ ধরে এনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করে।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, শহীদ হৃদয়ের বোন জেসমিন ও শহীদ মুনতাসীর রহমান আলিফের বাবা গাজীউর রহমান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, আইটিজেপির নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন সুকা, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাবহানাজ রশিদ দিয়া বক্তব্য রাখেন।

৬০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে উঠে আসে, নিহতদের পরিবারগুলোর একটি যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যেখানে তারা ‘পা রক্তে ভিজিয়ে’ পুলিশের গুলিতে আহত সন্তানদের খুঁজতে হাসপাতালের মর্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন। আহত কিংবা শহীদ পরিবারগুলোর কাছে অপরিচিত লোকজন ফোন করে গুলিবিদ্ধ সন্তান কিংবা ভাইবোনের খবর দিতেন। এরপর টালমাটাল অবস্থায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করা অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় কোনোমতে বেঁচে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল মানসিক আঘাতের মধ্যেও শোকাহত পরিবারগুলোকে ক্ষমতাসীনদের বৈরিতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। প্রিয়জনের মৃতদেহ দাফনের জন্য মৃত্যুসনদ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সংগ্রহ করতেও নানা ঝুঁকি-ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। ভয় ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন ছিল দাফনের আয়োজন, যেখানে কিছু পরিবার বাধা এড়াতে ভোরের আলো ফোটার আগেই গোপনে দাফন সম্পন্ন করেছে, যেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীদের কোনো বাধার মুখে পড়তে না হয়।

এতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে কোনো অহিংস উপায় গ্রহণ করেনি ও কোনো সতর্কতা জারি করেনি। পুলিশ আহতদের চিকিৎসায় কোনো সহায়তা তো করেইনি বরং প্রায়শই চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিহতদের স্বজনরাও। নিহত হৃদয়ের বোন জেসমিন বলেন, আমার ভাই ৫ আগস্ট মিছিলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গোলাগুলি থেকে জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। ভিডিওতে দেখছেন- কীভাবে ধরে নিয়ে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। লাশটা নিয়ে গেছে। লাশটা আর দেয়নি। লাশ কোথায় গুম করল, লাশটা কই গুম করল। আমি ওত কথা বলতে পারি না, আমি শিক্ষিত না। বড় বড় আইনজীবীরা এখানে আছে আমার ভাইরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করছে, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।

কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জেসমিন। বলেন, পাঁচ-ছয় মাসেও আমার ভাইয়ের বিচার পাইনি, সরকারের কোনো সহায়তা পাইনি। সরকারের কেউ বাবা-মায়ের খোঁজ নিতে যায়নি। আমার বাবা খুব অসহায়, একটা ভাই ছিল খুব আদরের। কত কষ্ট করে বড় করছি, রোজগারের জন্য ঢাকায় আসছে। মরার আগে কথা বলছে, আপা আমি রাতে কথা বলমু। সেই ভাই আর ফিরে আসল না।

তিনি আরও বলেন, মাইরা আবার পুলিশ লাশটা নিয়ে গেছে, লাশটারে দেয়ও নাই। ভাইয়ের খোঁজ পাইনি। কোথায় রাখল, কোন জায়গায় রাখছে, খুঁজেই পাইলাম না। আপনা-গো কাছে একটাই দাবি আমার ভাইয়ের লাশটা কোন জায়গায় কী করছে তদন্ত কইরা খুঁজে আইনা দেন। হাড্ডিটা পাইলেও দেশের বাড়িতে ভাইরে মাটি দিমু। অন্তত দেখমু ভাই বাড়ির পাশে আছে।

শহীদ মুনতাসিরের বাবা গাজীউর রহমান বলেন, আজ পর্যন্ত যত মামলা হয়েছে যাত্রাবাড়ী ছাড়া আর কোথাও কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে দেখি নাই। তাহলে কী হইতেছে, আজ পাঁচ-ছয় মাস হয়ে গেল কোনো পুলিশ হেলমেট বাহিনী অন্তত আমার মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এদের যদি বিচার না হয় তাহলে আমাদের কী হবে, আমরা প্রত্যেকে তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা জানি না, আমাদের আর কত কাল রক্ত দিতে হবে। আমরা সন্তান সবই দিয়েছি। আর কী দেব। আমাদের জীবন বিপন্ন, অনেকে বাড়িতে থাকতে পারছে না। এগুলো দেখার কেউ নাই। এ জাতির জন্য দেশের জন্য সবই দিয়েছি, কিন্তু আমরা ঘরে থাকতে পারি না।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, যখনই অত্যাচারে মৃত্যুর দৃশ্য দেখি মনে হয় বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই। আমাদের প্রসিকিউশন টিম তদন্ত টিম কাজ করছে, আমি কথা দিচ্ছি এটার সুবিচার নিশ্চিত করবই। এ সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে সুবিচার নিশ্চিত করা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার চেয়ে আমাদের বিচার যে ভিন্ন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের মতো আমাদের তাড়না থাকে। কালকেই যদি বিচার হয় খুশি হতাম। কিন্তু আমাদের তো প্রসেস মেইনটেইন করতে হবে। আমাদের এত অকাট্য প্রমাণ এত সাক্ষী আছে, ডিউ প্রসেস মেইনটেইন করে বিচার করতে পারব।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তারা যে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে, তাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি এটা বের করা জরুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠল? কেন রাষ্ট্র এ পর্যায়ে গিয়েছিল, কার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছিল? এগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। এভাবে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা সর্বত্র হয়েছে, একই মাত্রায় একই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে হত্যার গায়েবি নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে সেটা যদি বের করা যায় তাহলে বোঝা যাবে সুপিরিয়র কমান্ড কতটুকু সম্পৃক্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের পর্বতসম বেদনা আমরা বুঝি। তাদের ন্যায়বিচার দিতে হবে পাশাপাশি জাস্টিস প্রক্রিয়া যেন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য করা যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অতীতের মত ট্রাইব্যুনালকে কলঙ্কিত করা হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, কারা পেছন থেকে এ কাজটা করেছিল, কার নির্দেশে এটা হয়েছিল। এটার সঙ্গে কমান্ডারের কীভাবে হুকুম করা হয়েছিল এই সূক্ষ্ম কাজ উদঘাটন না করা হলে পুরোপুরি জাস্টিস নিশ্চিত করতে পারব না। শহীদ পরিবারদের দ্রুত বিচার চাওয়ার প্রক্রিয়াকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব। সেটা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক সময় না হয় সেজন্য আমরা সক্রিয় এবং সচেতন আছি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, হেলিকপ্টার দিয়ে অপারেশন চালানো হয়েছে। অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা তা প্রমাণের আগেই তদানীন্তন নির্বাহী প্রধান বলেছিলেন হেলিকপ্টার দিয়ে পানি ছিটিয়েছি। তার মানে নির্দেশনা তার থেকে এসেছিল। এখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছিল সেটা তদন্তে প্রমাণ করার বিষয় আছে। শহীদ পরিবার, আন্তর্জাতিক মহল জাতির কাছে এটা আমাদের অঙ্গীকার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, একটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরে একটা রিকনসিলিয়েশনের (পুনর্মিলন) মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করবে। আমরা কখনও এই দিন দেখব না শাসকরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ক্রিমিনালাইজ করে সিভিলিয়ানদের হত্যা করবে এমন বাংলাদেশ যেন আর ফিরে না আসে সেজন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।


ঈদ ঘিরে বাংলাদেশ ভ্রমণে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ২০:১৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে এবং সেবামূলক কার্যক্রম সীমিত হতে পারে। এই সময়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং তীব্র যানজটের কারণে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি সাশ্রয় ও মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি ক্রয়ের ওপর সীমা নির্ধারণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও সাধারণ পরিষেবা গ্রহণে ভ্রমণকারীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাগরিকদের দ্রুত পাসপোর্ট নবায়নের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


পাটুরিয়া নৌপথ পরিদর্শনে নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে এবারের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি এবং যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক গতিতে চলছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আন্তরিকতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ ছেড়ে না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় দুইজন নিহত, নিখোঁজ ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সদরঘাটে ট্রলার দিয়ে লঞ্চে ওঠার সময় দুই লঞ্চের মাঝখানে চাপা পড়ে দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানায়, একটি লঞ্চে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী তোলার সময় এমভি জাকের-৩ নামক একটি লঞ্চ পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে সদরঘাট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, সাভারে তিন সড়কে গণপরিবহনের ধীরগতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারে ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়কে বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ। তবে ঘরমুখো মানুষের চাপ ও গণপরিবহনের বাড়তি চাপে সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক ও আব্দুল্লাহপুর - আশুলিয়া - ডিইপিজেড সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, উল্লাইল, গেন্ডা, সিন্ডবি ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সড়কে ৩ কিলোমিটার গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাইপাইল, নবীনগর, ডিইপিজেড ও জিরানী সড়কে ৩ কিলোমিটার এবং আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কের জামগড়া, জিরাবোতে ২ কিলোমিটার সড়কে গাড়ির ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।

রংপুরগামী সাভার পরিবহনের যাত্রীরা বলেন, আমি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে রংপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। তবে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত আসতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।

বাসের চালক বলেন, সড়কে কিছু জায়গায় আজকে দাঁড়াতে হচ্ছে। গতকালের থেকে আজ যাত্রী ও গাড়ির চাপ বেড়েছে। তাই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাজাহান বলেন, সড়কে যাত্রীর চাপ ও গাড়ি চাপ তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।


ডিজিটাল হেলথ কার্ডে রোগীর সব তথ্য রেকর্ড থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বকুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বিজ্ঞানসম্মত ডিজিটাল হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও গরিব জনসাধারণের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর জিন থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী চিকিৎসার সমস্ত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগীকে মুখে কিছু বলতে হবে না, কার্ড দেখেই চিকিৎসক সব বুঝতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যা দিয়েছি তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের কথা রেখেছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসেই আমরা সারা বাংলাদেশে এই কার্ড বিতরণ করব।’

কৃষকদের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষকের কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা সমুদয় সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী মাসের ভেতরে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেয়া হবে। এভাবে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখে সরকার কাজ শুরু করেছে, যাতে জনগণের উপকার হয়।

সরকারের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেই ভোট দিয়েছেন তার বিনিময়ে এই দুনিয়ায় যেন কিছু কল্যাণ দিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টাই আমরা করছি। যেন আপনারা বোঝেন, ভোট দিয়ে যাদের এমপি বানিয়েছেন তারা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আপনাদের খোঁজখবর রাখাসহ আমাদের জবাবদিহিতাও আছে।


বৃহস্পতিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক

আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন-এর সম্মেলন কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে আরও বলা হয়, এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭- এই ফোন নম্বরগুলোতে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সূত্র: বাসস।


ঈদের ছুটিতেও বাসভবন থেকে সরকারি জরুরি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতেও গুলশানে নিজের বাসভবন থেকে সরকারি জরুরি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঈদের ছুটি শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী গুলশান এভিনিউ’র বাসভবন থেকে সরকারি জরুরি কাজ সারছেন। পাশাপাশি খোঁজ খবরও নিচ্ছেন কোথায় কী হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি যাচাই করছেন। কাজের গতি, সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও তদারকি করছেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যোগাযোগ রাখছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গেও।

গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ছুটি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভা এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন।

সরকারি ছুটি ১৭ মার্চ (গতকাল) থেকে শুরু হয়েছে, যা ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

সূত্র: বাসস


ঈদযাত্রা শুরু, বাস-ট্রেনে বাড়ছে যাত্রীচাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সেহরির পর থেকেই ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

মহাখালী, কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে অধিকাংশ বাস নির্ধারিত সময় মেনেই ছেড়ে যাচ্ছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদে টিকিট বিক্রি আশানুরূপ নয়। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনে। যদিও তাদের আশা, সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ আরো বাড়বে।

অন্যদিকে যাত্রীদের ভাষ্য, অতীতের মতো টিকিট পেতে তেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। অনলাইনে সহজেই ন্যায্য দামে টিকিট পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিক যাত্রার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

এদিকে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও বেড়েছে যাত্রীচাপ। বুধবার সকালে বিভিন্ন রুটের ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নেই ট্রেনে যাতায়াত করছেন তারা।

রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।

তবে যাত্রীচাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই নিয়ম ভেঙে ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টাও করছেন। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।


যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের দিন কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সেদিন সকাল ১০টায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হবে।

বুধবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সকাল ১০টায় যমুনাতে যাবেন। সেখানে কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

তিনি বলেন, পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, শিল্পী-সাহিত্যিক, উচ্চ পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, এ উপলক্ষে বড় ধরনের কোনো সংস্কার নয়, মূলত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে।

গত আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহ্যগত সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবনের ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবন নির্ধারণের চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ অবস্থায় যমুনাকেই সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। তবে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে এসব স্থানের দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি সুবিধাজনক বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং করা, হাইজিনিক ওয়াশসহ ছোটখাটো সংস্কার কাজ চলছে।

সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশেও মেরামত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে যমুনায় দুই দফায় ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু হবে বলে জানা গেছে।

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরে বাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রামমুখী লেন ৪ দিন বন্ধ থাকবে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অবস্থিত সেতুর জরুরি মেরামত কাজের কারণে আগামী ২২ মার্চ থেকে চারদিন চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই লেন দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।

এরপর ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেন দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল চালু রাখা হবে।

সওজের ফেনী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেরামতকাজ চলাকালে যান চলাচলের জন্য কয়েকটি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিকল্প পথের বেশিরভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং ভারী যানবাহনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে শহরের ভেতরে যানজট ও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট। বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করায় এই সময়ে লেন বন্ধ থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

এদিকে সড়ক বিভাগের দাবি, ঈদ পরবর্তী সময়ে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং ভারী যান চলাচলও সীমিত থাকে। তাই এই সময়টিকেই মেরামতের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাময়িক কিছু চাপ থাকলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।


গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে উল্লেখ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। রাস্তায় কোনো ধরনের যানজট নেই।

বুধবার (১৮ মার্চ) গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। কোনো ধরনের যানযট নেই। যে দুই-তিনটি অভিযোগ আসছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, রাজধানী থেকে সময়মতো বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন।

এ সময় যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৩২ হাজারের বেশি যান পারাপার হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট হওয়ার গুঞ্জনের মধ্য মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনে কোনো ধরনের তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত দেওয়া হচ্ছে।


ঈদের দিনে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী শুক্র বা শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এ দুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (১৮ মার্চ) আবহাওয়া অফিসের ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গত রোববার রাতে সংঘটিত রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি ছিল, তবে পরবর্তীতে অনিবার্য কারণবশত সেই ব্রিফিং স্থগিত করা হয়। বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল গত রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলির শিকার হয়ে নিহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায় যে, সেদিন কয়েকজন যুবক আকস্মিকভাবে এসে প্রথমে রাকিবুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন একজনকে চাপাতিসহ আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘাতকদের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বিশেষভাবে ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত রাকিবুলের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায় এবং তাঁর পিতা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী।


banner close