সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৬ চৈত্র ১৪৩২
আইটিজেপি ও টিজিআইয়ের প্রতিবেদন

ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুধু ১৯ জুলাই নিহত হন ১৪৮ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫১

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানটি শুরুতে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কোটা সংষ্কার আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা সংস্কার করে কমানোর দাবিতে গত বছরের ১ জুলাই রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ও পরে শাহবাগে এ কর্মসূচির শুরু। ওই মাসের প্রথম ১৪ দিন ওই এলাকাতেই ছিল আন্দোলন। এতে সড়ক অবরোধের কারণে শহরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ১৫ জুলাই চীন থেকে ফিরে এসেই সংবাদ সম্মেলন করার সময় এক প্রশ্নের জবাবে এই ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘কোটা মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতি পাবে নাকি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে’বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করায় তাতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয় আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্ররা। সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ও পরে টিএসসিতে ‘চেয়েছিলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার’জাতীয় স্লোগানে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিলে পরদিন থেকেই ক্যাম্পাসে ও শাহবাগে পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্মম হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। সেইদিন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। ঢাকাতেও নিহত হন দুজন। ১৭ জুলাই ছিল আশুরা। সেদিন টিএসসিতে আবু সাইদের প্রতীকী জানাজা পড়তে চাইলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পুলিশের সহযোগিতায় আন্দোলনরত ছাত্রদের বেধড়ক পেটায়। সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ছাত্রলীগের উন্মুক্ত হওয়া অস্ত্র আর বন্ধ হয়নি। ১৮ জুলাই শতাধিক ছাত্র-পথচারী সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।

তবে এ আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯ জুলাই। সেদিন রাজধানীসহ সারাদেশে ১৪৮ জন মানুষ হত্যার শিকার হন। হত্যাকারীরা এতটাই নির্মম ছিল যে তাদের ছোড়া গুলিতে ৫৪ জন মাথায় বা গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এদের অধিকাংশেরই বয়স ৪০ বছরের মধ্যে। হতাহতের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ঢাকায় একটি হাসপাতালে আক্ষরিক অর্থে গজ এবং ব্যান্ডেজ ফুরিয়ে যায়। ঢাকা একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো হয়ে ওঠে। ‘ব্লাডশেড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (আইটিজেপি) এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (টিজিআই)। তারা হাসিনা সরকার পতনের কয়েকদিন পর থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করতে মাঠে নামে এবং পরিবারগুলো ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নেয়।

প্রতিবেদনের পাশাপাশি আইটিজেপি, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং আউটসাইডার মুভি কোম্পানি দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করে। এতে সামাজিক মাধ্যমে প্রাপ্ত পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রমাণগুলো একত্রিত করে কী ঘটেছিল তা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। একটিতে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ বিপুল সংখ্যক তরুণ আন্দোলনকারীদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করছে। অন্যটিতে মোহাম্মাদ হৃদয় নামে এক তরুণকে ৫ আগস্ট গাজীপুরে পুলিশ ধরে এনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করে।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, শহীদ হৃদয়ের বোন জেসমিন ও শহীদ মুনতাসীর রহমান আলিফের বাবা গাজীউর রহমান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, আইটিজেপির নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন সুকা, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাবহানাজ রশিদ দিয়া বক্তব্য রাখেন।

৬০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে উঠে আসে, নিহতদের পরিবারগুলোর একটি যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যেখানে তারা ‘পা রক্তে ভিজিয়ে’ পুলিশের গুলিতে আহত সন্তানদের খুঁজতে হাসপাতালের মর্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন। আহত কিংবা শহীদ পরিবারগুলোর কাছে অপরিচিত লোকজন ফোন করে গুলিবিদ্ধ সন্তান কিংবা ভাইবোনের খবর দিতেন। এরপর টালমাটাল অবস্থায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করা অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় কোনোমতে বেঁচে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল মানসিক আঘাতের মধ্যেও শোকাহত পরিবারগুলোকে ক্ষমতাসীনদের বৈরিতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। প্রিয়জনের মৃতদেহ দাফনের জন্য মৃত্যুসনদ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সংগ্রহ করতেও নানা ঝুঁকি-ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। ভয় ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন ছিল দাফনের আয়োজন, যেখানে কিছু পরিবার বাধা এড়াতে ভোরের আলো ফোটার আগেই গোপনে দাফন সম্পন্ন করেছে, যেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীদের কোনো বাধার মুখে পড়তে না হয়।

এতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে কোনো অহিংস উপায় গ্রহণ করেনি ও কোনো সতর্কতা জারি করেনি। পুলিশ আহতদের চিকিৎসায় কোনো সহায়তা তো করেইনি বরং প্রায়শই চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিহতদের স্বজনরাও। নিহত হৃদয়ের বোন জেসমিন বলেন, আমার ভাই ৫ আগস্ট মিছিলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গোলাগুলি থেকে জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। ভিডিওতে দেখছেন- কীভাবে ধরে নিয়ে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। লাশটা নিয়ে গেছে। লাশটা আর দেয়নি। লাশ কোথায় গুম করল, লাশটা কই গুম করল। আমি ওত কথা বলতে পারি না, আমি শিক্ষিত না। বড় বড় আইনজীবীরা এখানে আছে আমার ভাইরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করছে, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।

কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জেসমিন। বলেন, পাঁচ-ছয় মাসেও আমার ভাইয়ের বিচার পাইনি, সরকারের কোনো সহায়তা পাইনি। সরকারের কেউ বাবা-মায়ের খোঁজ নিতে যায়নি। আমার বাবা খুব অসহায়, একটা ভাই ছিল খুব আদরের। কত কষ্ট করে বড় করছি, রোজগারের জন্য ঢাকায় আসছে। মরার আগে কথা বলছে, আপা আমি রাতে কথা বলমু। সেই ভাই আর ফিরে আসল না।

তিনি আরও বলেন, মাইরা আবার পুলিশ লাশটা নিয়ে গেছে, লাশটারে দেয়ও নাই। ভাইয়ের খোঁজ পাইনি। কোথায় রাখল, কোন জায়গায় রাখছে, খুঁজেই পাইলাম না। আপনা-গো কাছে একটাই দাবি আমার ভাইয়ের লাশটা কোন জায়গায় কী করছে তদন্ত কইরা খুঁজে আইনা দেন। হাড্ডিটা পাইলেও দেশের বাড়িতে ভাইরে মাটি দিমু। অন্তত দেখমু ভাই বাড়ির পাশে আছে।

শহীদ মুনতাসিরের বাবা গাজীউর রহমান বলেন, আজ পর্যন্ত যত মামলা হয়েছে যাত্রাবাড়ী ছাড়া আর কোথাও কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে দেখি নাই। তাহলে কী হইতেছে, আজ পাঁচ-ছয় মাস হয়ে গেল কোনো পুলিশ হেলমেট বাহিনী অন্তত আমার মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এদের যদি বিচার না হয় তাহলে আমাদের কী হবে, আমরা প্রত্যেকে তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা জানি না, আমাদের আর কত কাল রক্ত দিতে হবে। আমরা সন্তান সবই দিয়েছি। আর কী দেব। আমাদের জীবন বিপন্ন, অনেকে বাড়িতে থাকতে পারছে না। এগুলো দেখার কেউ নাই। এ জাতির জন্য দেশের জন্য সবই দিয়েছি, কিন্তু আমরা ঘরে থাকতে পারি না।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, যখনই অত্যাচারে মৃত্যুর দৃশ্য দেখি মনে হয় বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই। আমাদের প্রসিকিউশন টিম তদন্ত টিম কাজ করছে, আমি কথা দিচ্ছি এটার সুবিচার নিশ্চিত করবই। এ সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে সুবিচার নিশ্চিত করা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার চেয়ে আমাদের বিচার যে ভিন্ন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের মতো আমাদের তাড়না থাকে। কালকেই যদি বিচার হয় খুশি হতাম। কিন্তু আমাদের তো প্রসেস মেইনটেইন করতে হবে। আমাদের এত অকাট্য প্রমাণ এত সাক্ষী আছে, ডিউ প্রসেস মেইনটেইন করে বিচার করতে পারব।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তারা যে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে, তাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি এটা বের করা জরুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠল? কেন রাষ্ট্র এ পর্যায়ে গিয়েছিল, কার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছিল? এগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। এভাবে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা সর্বত্র হয়েছে, একই মাত্রায় একই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে হত্যার গায়েবি নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে সেটা যদি বের করা যায় তাহলে বোঝা যাবে সুপিরিয়র কমান্ড কতটুকু সম্পৃক্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের পর্বতসম বেদনা আমরা বুঝি। তাদের ন্যায়বিচার দিতে হবে পাশাপাশি জাস্টিস প্রক্রিয়া যেন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য করা যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অতীতের মত ট্রাইব্যুনালকে কলঙ্কিত করা হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, কারা পেছন থেকে এ কাজটা করেছিল, কার নির্দেশে এটা হয়েছিল। এটার সঙ্গে কমান্ডারের কীভাবে হুকুম করা হয়েছিল এই সূক্ষ্ম কাজ উদঘাটন না করা হলে পুরোপুরি জাস্টিস নিশ্চিত করতে পারব না। শহীদ পরিবারদের দ্রুত বিচার চাওয়ার প্রক্রিয়াকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব। সেটা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক সময় না হয় সেজন্য আমরা সক্রিয় এবং সচেতন আছি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, হেলিকপ্টার দিয়ে অপারেশন চালানো হয়েছে। অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা তা প্রমাণের আগেই তদানীন্তন নির্বাহী প্রধান বলেছিলেন হেলিকপ্টার দিয়ে পানি ছিটিয়েছি। তার মানে নির্দেশনা তার থেকে এসেছিল। এখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছিল সেটা তদন্তে প্রমাণ করার বিষয় আছে। শহীদ পরিবার, আন্তর্জাতিক মহল জাতির কাছে এটা আমাদের অঙ্গীকার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, একটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরে একটা রিকনসিলিয়েশনের (পুনর্মিলন) মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করবে। আমরা কখনও এই দিন দেখব না শাসকরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ক্রিমিনালাইজ করে সিভিলিয়ানদের হত্যা করবে এমন বাংলাদেশ যেন আর ফিরে না আসে সেজন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে স্বাগত জানান।

আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।

বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা নামাজ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।

জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলী নেতা। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত আলাচারিতা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা দেখান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যতা দেখে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তাঁর কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে তার স্বাভাবিক সৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন।


বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয় পেশাও: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিভিন্ন পেশার খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। সেই প্রতিশ্রতি রক্ষায় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলায় সাফল্য পাওয়া অ্যাথলেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া কার্ড তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয় ক্রীড়া একটি পেশাও। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবেনা।’

‘নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণে কাজ শুরু করেছি, আজকের এই অনুষ্ঠান তার প্রমাণ। একজন খেলোয়াড় যেন অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তা পায়, সে জন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম ক্রীড়াবিদদের সন্মানী ভাতা দেয়া শুরু হলো।’

খেলোয়াড়দের খেলার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি করতে হবে। কথা কম খেলতে হবে বেশি। দেশ প্রেম, টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্য আসবেই। পেশাদারি জীবনে কোন রাজনেতিক দলের হবেন না বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

আজ (সোমবার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।

তারেক রহমান বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।


জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত এবং পাচার রোধে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সহায়তাকারীকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যারা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অথবা তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হবে।

আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ‍্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।


দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন, শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এ সময় মরহুমার বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপি মহাসচিব ও ডেপুটি স্পিকার। পরে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার প্রতিনিধি, সংসদের স্পিকার, হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা।

বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

অধ্যাপক দিলারা হাফিজের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন। শনিবার সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


ক্রীড়াকার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লক্ষ টাকা পৌঁছে যায়।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন।

এর আগে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুউল আলম।

এরপর ক্রীড়া বিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। এতে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোর অবদান তুলে ধরা হয়।

এমনকি খেলোয়াড়দের জীবন মান উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি, তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় তুলে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনার চিত্রও তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে গান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ... জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’

সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়রা ২০ ডিসিপ্লিনের ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই কর্মসূচির আওতায় সম্মাননা পেয়েছেন। এ কর্মসূচির ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হলো। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগান বাস্তবে রূপ নিলো। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদরা এখন থেকে বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। তবে ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই তালিকার বাইরে থাকবেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, যেসব ক্রীড়াবিদ বেতনের আওতায় আসবেন, প্রতি চার মাস পরপর তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। আর পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

তিনি আরও জানান, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।


সাবেক ডিজিএফআইয়ের পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)

রোববার (৩০ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। রোববার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবির এই কর্মকর্তা।

এর আগে এক-এগারো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তারা বর্তমানে ডিবির কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।

জানা গেছে, আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। কর্নেল আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই।


আজও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) মোট ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৮।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র গনমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৪টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ২৮টি, ১৭ মার্চ ২৬টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি, ২৫ মার্চ ২০টি, ২৬ মার্চ ২২টি, ২৭ মার্চ ২২টি, ২৮ মার্চ ২১টি এবং ২৯ মার্চ ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ৪টি ফ্লাইট।


অফিসে জ্বালানি সাশ্রয় ও অবস্থান নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিস কক্ষে অবস্থান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তার অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এর আগে পাঠানো দুটি চিঠি অনুসরণ করে ১১টি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১১ নির্দেশনা হলো-

১. প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ সময়সীমা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

২. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।

৩. অফিস চলাকালীন শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।

৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে।

৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।

৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

৭. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।

৮. সরকারি নির্দেশনা ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।

৯. জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

১০. অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি, সিঁড়ির হাতল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

১১. এসব নির্দেশনা প্রতিপালন বা মনিটরিংয়ের জন্য সব দপ্তর/সংস্থা/কার্যালয়কে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে।


চার বছরের মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য চালু হয়ে গেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চললেও ধীরে ধীরে কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হবে। সব ঠিকঠাক চললে আগামী চার বছরের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড রূপান্তরিত হবে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ডে’। অর্থাৎ, সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই কার্ড।

রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম (Jean Pesme) এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা জানান।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে, যা হবে নাগরিক হিসেবে একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যারা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন।

এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। সেইসঙ্গে বর্তমান সরকার কর্তৃক পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুর উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব নার্গিস খানম এবং যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আহসান প্রমুখ।


মধ্যপ্রাচ্য সংকটে সার ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শঙ্কা

* জ্বালানি সাশ্রয়ে চারটি ইউরিয়া কারখানা বন্ধ * ২৬ লাখ টন ইউরিয়ার চাহিদা, ১৬ টন আমদানিনির্ভর * ওষুধের কাঁচামাল আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে ব্যাহত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ অনেকটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এরই মধ্যে বিকল্প উৎসের সন্ধান খোঁজ করা শুরু করেছে। বিকল্প উৎসের সন্ধান না বের করতে পারলে কৃষি খাত ও ওষুধশিল্পে নেচিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) একলাখ টন করে মোট দুই লাখ টনের দুটি দরপত্র আহ্বান করেও তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

বিসিআইসি সূত্র জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে প্রথমে সব সার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি চালু করা হয়েছে। বাকি চারটি ইউরিয়া কারখানা এবং একটি করে ডিএপি ও টিএসপি উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে ইউরিয়া সারের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩০০ ডলার বেড়ে এখন ৭০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ডিএপি ও টিএসপির দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে ডিএপির দাম ৮৫০ ডলার এবং ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে টিএসপির দাম ৬৫০ ডলারে উঠেছে। চীন রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ইউরিয়া ও ডিএপির দাম বাড়ছে।

জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৬ লাখ টন ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিসিআইসির নিজস্ব কারখানাগুলো থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। বাকি অংশ আমদানি করতে হয়। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া মিলিয়ে দেশে প্রতিবছর ৬০ লাখ টনের বেশি সারের চাহিদা রয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় বোরো ও আমন মৌসুমে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প উৎসগুলোতেও সংকট রয়েছে। চীন আপাতত সার রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজেদের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবে, এরপর সুযোগ থাকলে রপ্তানি করবে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ সরাসরি সেখান থেকেও আমদানি করতে পারছে না।

বিসিআইসি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ইউরিয়া আমদানির জন্য নিবন্ধিত ১৭ জন সরবরাহকারীকে সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এসব সরবরাহকারী নির্ধারিত সময়ে সার সরবরাহ করতে পারবে কিনা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগের দরপত্র বাতিল করে এখন উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের যেকোনো দেশের সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারে।

বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানি করে। কাতার ও আমিরাত থেকে ইউরিয়া এবং সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া ও ডিএপি আমদানি করা হয়।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি পরিমাণ সার আমদানির কথা ভাবছে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে চীন, মিসর ও রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ বিবেচনায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে রাশিয়া বৈশ্বিক বড় সরবরাহকারীদের অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের নির্ধারিত সরবরাহকারীদের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাই আগের টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যাতে বিকল্প উৎসের সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারে।

তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সারের সংকট হবে না। তবে জুনে শুরু হওয়া আমন মৌসুমের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে ইউরিয়া আমদানি নিশ্চিত না হলে কৃষিতে প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব সার কারখানাগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার চালু রয়েছে। অন্যগুলো উৎপাদনে নেই। তাই এখনই সারের মজুত বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা যায় কিনা—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি যোগ করেন, আমরা একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছি, যাতে যেকোনো সরবরাহকারী অংশ নিতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে—তাদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সারের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া কারখানার জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা আবেদন করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সরকারের জিটুজি চুক্তি রয়েছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে তিন লাখ টন সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাংলাদেশকেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশ :

মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধাবস্থা ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেশে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প সমিতিকে আমদানির ক্ষেত্রে একক কোনো অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের ওষুধ উৎপাদন যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির প্রধান উপাদান ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট’ (এপিআই) আমদানিতে চীন ও ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য সম্ভাব্য দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে ওষুধ শিল্প সমিতিকে অনুরোধ করেছে সরকার।

গত ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির আগাম প্রস্তুতি’ বিষয়ক এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সভায় গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশের ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দ্রুত এপিআই আমদানির বিকল্প উৎস বা দেশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


প্রিপেইড মিটারে মাসিক চার্জ থাকছে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া (মিটার চার্জ) প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরণের অস্বস্তি ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যেই আমরা এই মিটার চার্জ পদ্ধতিটি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ‘মিটার ভাড়া’ হিসেবে গুনতে হয়। গ্রাহকদের মূল অভিযোগ ছিল— মিটারের নির্ধারিত দাম পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এই চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে। এই চার্জ বাতিলের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মার্চের ২৮ দিনেই রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস গড়েছে। চলতি মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশে প্রবাসীরা ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।

এর আগে গত বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬৯ কোটি ডলার।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য আমাদের প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। যুদ্ধের কারণে এসব দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে কেউ কেউ জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। আবার প্রবাসীরা রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের খরচ মেটাতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। এসব কারণেই প্রবাসী আয় বাড়ছে। রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবার ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এতে হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

এদিকে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার। গত ১৬ মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।


banner close