বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
আইটিজেপি ও টিজিআইয়ের প্রতিবেদন

ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুধু ১৯ জুলাই নিহত হন ১৪৮ জন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:৫১

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানটি শুরুতে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কোটা সংষ্কার আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ সংরক্ষিত কোটা সংস্কার করে কমানোর দাবিতে গত বছরের ১ জুলাই রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ও পরে শাহবাগে এ কর্মসূচির শুরু। ওই মাসের প্রথম ১৪ দিন ওই এলাকাতেই ছিল আন্দোলন। এতে সড়ক অবরোধের কারণে শহরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দিলেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ১৫ জুলাই চীন থেকে ফিরে এসেই সংবাদ সম্মেলন করার সময় এক প্রশ্নের জবাবে এই ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘কোটা মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতি পাবে নাকি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে’বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করায় তাতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয় আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্ররা। সে রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ও পরে টিএসসিতে ‘চেয়েছিলাম অধিকার হয়ে গেলাম রাজাকার’জাতীয় স্লোগানে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ঘটনায় ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিলে পরদিন থেকেই ক্যাম্পাসে ও শাহবাগে পুলিশের উপস্থিতিতে সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্মম হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। সেইদিন আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। ঢাকাতেও নিহত হন দুজন। ১৭ জুলাই ছিল আশুরা। সেদিন টিএসসিতে আবু সাইদের প্রতীকী জানাজা পড়তে চাইলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা পুলিশের সহযোগিতায় আন্দোলনরত ছাত্রদের বেধড়ক পেটায়। সাধারণ ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও ছাত্রলীগের উন্মুক্ত হওয়া অস্ত্র আর বন্ধ হয়নি। ১৮ জুলাই শতাধিক ছাত্র-পথচারী সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।

তবে এ আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯ জুলাই। সেদিন রাজধানীসহ সারাদেশে ১৪৮ জন মানুষ হত্যার শিকার হন। হত্যাকারীরা এতটাই নির্মম ছিল যে তাদের ছোড়া গুলিতে ৫৪ জন মাথায় বা গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এদের অধিকাংশেরই বয়স ৪০ বছরের মধ্যে। হতাহতের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ঢাকায় একটি হাসপাতালে আক্ষরিক অর্থে গজ এবং ব্যান্ডেজ ফুরিয়ে যায়। ঢাকা একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো হয়ে ওঠে। ‘ব্লাডশেড ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (আইটিজেপি) এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট (টিজিআই)। তারা হাসিনা সরকার পতনের কয়েকদিন পর থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করতে মাঠে নামে এবং পরিবারগুলো ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নেয়।

প্রতিবেদনের পাশাপাশি আইটিজেপি, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং আউটসাইডার মুভি কোম্পানি দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করে। এতে সামাজিক মাধ্যমে প্রাপ্ত পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রমাণগুলো একত্রিত করে কী ঘটেছিল তা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। একটিতে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ বিপুল সংখ্যক তরুণ আন্দোলনকারীদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করছে। অন্যটিতে মোহাম্মাদ হৃদয় নামে এক তরুণকে ৫ আগস্ট গাজীপুরে পুলিশ ধরে এনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করে।

অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, শহীদ হৃদয়ের বোন জেসমিন ও শহীদ মুনতাসীর রহমান আলিফের বাবা গাজীউর রহমান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান, আইটিজেপির নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন সুকা, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক সাবহানাজ রশিদ দিয়া বক্তব্য রাখেন।

৬০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে উঠে আসে, নিহতদের পরিবারগুলোর একটি যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। যেখানে তারা ‘পা রক্তে ভিজিয়ে’ পুলিশের গুলিতে আহত সন্তানদের খুঁজতে হাসপাতালের মর্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন। আহত কিংবা শহীদ পরিবারগুলোর কাছে অপরিচিত লোকজন ফোন করে গুলিবিদ্ধ সন্তান কিংবা ভাইবোনের খবর দিতেন। এরপর টালমাটাল অবস্থায় এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করা অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় কোনোমতে বেঁচে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবল মানসিক আঘাতের মধ্যেও শোকাহত পরিবারগুলোকে ক্ষমতাসীনদের বৈরিতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। প্রিয়জনের মৃতদেহ দাফনের জন্য মৃত্যুসনদ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট সংগ্রহ করতেও নানা ঝুঁকি-ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। ভয় ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন ছিল দাফনের আয়োজন, যেখানে কিছু পরিবার বাধা এড়াতে ভোরের আলো ফোটার আগেই গোপনে দাফন সম্পন্ন করেছে, যেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীদের কোনো বাধার মুখে পড়তে না হয়।

এতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে কোনো অহিংস উপায় গ্রহণ করেনি ও কোনো সতর্কতা জারি করেনি। পুলিশ আহতদের চিকিৎসায় কোনো সহায়তা তো করেইনি বরং প্রায়শই চিকিৎসার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছে।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নিহতদের স্বজনরাও। নিহত হৃদয়ের বোন জেসমিন বলেন, আমার ভাই ৫ আগস্ট মিছিলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গোলাগুলি থেকে জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিল। ভিডিওতে দেখছেন- কীভাবে ধরে নিয়ে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। লাশটা নিয়ে গেছে। লাশটা আর দেয়নি। লাশ কোথায় গুম করল, লাশটা কই গুম করল। আমি ওত কথা বলতে পারি না, আমি শিক্ষিত না। বড় বড় আইনজীবীরা এখানে আছে আমার ভাইরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করছে, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।

কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জেসমিন। বলেন, পাঁচ-ছয় মাসেও আমার ভাইয়ের বিচার পাইনি, সরকারের কোনো সহায়তা পাইনি। সরকারের কেউ বাবা-মায়ের খোঁজ নিতে যায়নি। আমার বাবা খুব অসহায়, একটা ভাই ছিল খুব আদরের। কত কষ্ট করে বড় করছি, রোজগারের জন্য ঢাকায় আসছে। মরার আগে কথা বলছে, আপা আমি রাতে কথা বলমু। সেই ভাই আর ফিরে আসল না।

তিনি আরও বলেন, মাইরা আবার পুলিশ লাশটা নিয়ে গেছে, লাশটারে দেয়ও নাই। ভাইয়ের খোঁজ পাইনি। কোথায় রাখল, কোন জায়গায় রাখছে, খুঁজেই পাইলাম না। আপনা-গো কাছে একটাই দাবি আমার ভাইয়ের লাশটা কোন জায়গায় কী করছে তদন্ত কইরা খুঁজে আইনা দেন। হাড্ডিটা পাইলেও দেশের বাড়িতে ভাইরে মাটি দিমু। অন্তত দেখমু ভাই বাড়ির পাশে আছে।

শহীদ মুনতাসিরের বাবা গাজীউর রহমান বলেন, আজ পর্যন্ত যত মামলা হয়েছে যাত্রাবাড়ী ছাড়া আর কোথাও কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে দেখি নাই। তাহলে কী হইতেছে, আজ পাঁচ-ছয় মাস হয়ে গেল কোনো পুলিশ হেলমেট বাহিনী অন্তত আমার মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এদের যদি বিচার না হয় তাহলে আমাদের কী হবে, আমরা প্রত্যেকে তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা জানি না, আমাদের আর কত কাল রক্ত দিতে হবে। আমরা সন্তান সবই দিয়েছি। আর কী দেব। আমাদের জীবন বিপন্ন, অনেকে বাড়িতে থাকতে পারছে না। এগুলো দেখার কেউ নাই। এ জাতির জন্য দেশের জন্য সবই দিয়েছি, কিন্তু আমরা ঘরে থাকতে পারি না।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, যখনই অত্যাচারে মৃত্যুর দৃশ্য দেখি মনে হয় বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই। আমাদের প্রসিকিউশন টিম তদন্ত টিম কাজ করছে, আমি কথা দিচ্ছি এটার সুবিচার নিশ্চিত করবই। এ সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে সুবিচার নিশ্চিত করা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার চেয়ে আমাদের বিচার যে ভিন্ন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনাদের মতো আমাদের তাড়না থাকে। কালকেই যদি বিচার হয় খুশি হতাম। কিন্তু আমাদের তো প্রসেস মেইনটেইন করতে হবে। আমাদের এত অকাট্য প্রমাণ এত সাক্ষী আছে, ডিউ প্রসেস মেইনটেইন করে বিচার করতে পারব।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, তারা যে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে, তাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি এটা বের করা জরুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠল? কেন রাষ্ট্র এ পর্যায়ে গিয়েছিল, কার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছিল? এগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। এভাবে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা সর্বত্র হয়েছে, একই মাত্রায় একই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে হত্যার গায়েবি নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে সেটা যদি বের করা যায় তাহলে বোঝা যাবে সুপিরিয়র কমান্ড কতটুকু সম্পৃক্ত হয়েছিল।

তিনি বলেন, শহীদ পরিবারের পর্বতসম বেদনা আমরা বুঝি। তাদের ন্যায়বিচার দিতে হবে পাশাপাশি জাস্টিস প্রক্রিয়া যেন আন্তর্জাতিক এবং জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য করা যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে অতীতের মত ট্রাইব্যুনালকে কলঙ্কিত করা হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, কারা পেছন থেকে এ কাজটা করেছিল, কার নির্দেশে এটা হয়েছিল। এটার সঙ্গে কমান্ডারের কীভাবে হুকুম করা হয়েছিল এই সূক্ষ্ম কাজ উদঘাটন না করা হলে পুরোপুরি জাস্টিস নিশ্চিত করতে পারব না। শহীদ পরিবারদের দ্রুত বিচার চাওয়ার প্রক্রিয়াকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তবে বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়ার জন্য ধৈর্য ধরার অনুরোধ করব। সেটা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক সময় না হয় সেজন্য আমরা সক্রিয় এবং সচেতন আছি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, হেলিকপ্টার দিয়ে অপারেশন চালানো হয়েছে। অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা তা প্রমাণের আগেই তদানীন্তন নির্বাহী প্রধান বলেছিলেন হেলিকপ্টার দিয়ে পানি ছিটিয়েছি। তার মানে নির্দেশনা তার থেকে এসেছিল। এখন হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো হয়েছিল সেটা তদন্তে প্রমাণ করার বিষয় আছে। শহীদ পরিবার, আন্তর্জাতিক মহল জাতির কাছে এটা আমাদের অঙ্গীকার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, একটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরে একটা রিকনসিলিয়েশনের (পুনর্মিলন) মাধ্যমে নতুন যাত্রা শুরু করবে। আমরা কখনও এই দিন দেখব না শাসকরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ক্রিমিনালাইজ করে সিভিলিয়ানদের হত্যা করবে এমন বাংলাদেশ যেন আর ফিরে না আসে সেজন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।


জুনের মধ্যে সব সেনা ফিরবেন ব্যারাকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে।

শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানো হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠ পর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রবল আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই থেকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আছে।

তারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

সেনাবাহিনী নিজস্ব ক্ষমতায় গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারত, কিন্তু বর্তমানে তারা এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।


চাঁদপুর ও ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১৮:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৬ মে) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।

পদ্মা ব্যারেজ সম্পর্কে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। একনেকে উপস্থাপন হবে। পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ১৮০ দিনে কী কী কাজ সম্পন্ন হবে সে বিষয়েও কথা হয়েছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়তোবা আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারবো। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি কন্টিনিউ করব।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।’


গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর। গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এই খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।”

সচিবালয়ে বুধবার (৬ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল। ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়।”

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন এবং তথ্যমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।


‘পুশইন’ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বিজিবিকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চারদিন ব্যাপী চলা ডিসি সম্মেলনের শেষ দিন আজ বুধবারে (৬ মে) বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে ১ মাসের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাদক ও অনলাইন জুয়া বন্ধে নতুন আইন করার কথা জানান মন্ত্রী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর সে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর আঁচ বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বাংলাদেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও এরইমধ্যে সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আশাকরি পুশইন করা হবে না। তবু সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে দুপুরের সেশনে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের তালিকা, লাইসেন্সকৃত অবৈধ হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, জুলাই আন্দোলনের সময়ের মামলা তালিকা করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতেও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা জানানো হয় বৈঠকে। এছাড়া, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “সড়ক-মহাসড়ক ও রেললাইনের জাল-জালিয়াতিরোধে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। জাল টাকা শনাক্তেও মেশিন দেওয়া হবে। ৭ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ফেরিঘাটে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে বাস ফেরিতে উঠতে হবে; এ বিষয়ে নজরদারি করা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অনলাইন জুয়াসহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেসব অপরাধ হচ্ছে, সেগুলো দমনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।”


অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইপিআই প্রোগ্রাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘‘পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।’’

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউনিসেফের দেওয়া অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি (৯০,০০০ ভায়াল) ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী জানান, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইপিআই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি সফল কর্মসূচি এবং গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘Vaccine Hero’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

একটি যৌথ গবেষণা অনুযায়ী এই কর্ম সূচি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ পরিচালনা করেছে। প্রতি বছর ইপিআই প্রোগ্রাম প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করে এবং প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ করে।

তিনি আরও জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করেন এবং ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানান। সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ইউনিসেফকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দিয়েছে।

টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি রোগ প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ করা হচ্ছে। ইউনিসেফের সহযোগিতায় ক্যাম্পেইনটি ১৯ এপ্রিলের পরিবর্তে ৫ এপ্রিল থেকেই শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি রানা ফ্লাওয়ার্সকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে দিয়েছে, যার মাধ্যমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ১০ ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সরকারের অর্থপ্রাপ্তি ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হওয়ার পর, ইউনিসেফ ৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রথম চালানে ১,৫০৫,০০০ ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আজ, ৬ মে ইউনিসেফ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি (৯০,০০০ ভায়াল) ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।

আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘ইউনিসেফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে, আমরা ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর বাকি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে।’’

তিনি জানান, ‘‘বর্তমানে আমাদের কাছে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে দেশে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনও ঘাটতি থাকবে না।’’


সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না, গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুবাহী ট্রাকে বা সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৬ মে) গাবতলী পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় কোরবানির আগে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও, এবার নির্বাচিত সরকারের আমলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হবে না। ব্যবসায়ী ও খামারিরা যাতে নির্বিঘ্নে পশু পরিবহন করতে পারেন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের পাশাপাশি নকল টাকা রোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে হাটে মেডিক্যাল বুথও বসানো হবে।

পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। তিনি জানান, এবার অত্যন্ত স্বচ্ছ উপায়ে সঠিক করদাতাদের পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ২৭টি হাটের বাইরে যত্রতত্র কোনো পশুর হাট বসালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ মোট ১৬টি হাট বসার কথা রয়েছে।

হাট পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


এমপি হিসেবে শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোট-সমর্থিত প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পর তিনি জাতীয় সংসদে শপথ নেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানটি সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় স্পিকারের কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় বিকেল ৪টা থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম ৪টা ১৯ মিনিটে তা জমা দেন। সময়সীমা অতিক্রম করায় প্রাথমিকভাবে ইসি তার মনোনয়ন গ্রহণ করেনি। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

আদালতের নির্দেশে ইসিকে তার মনোনয়ন গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।


সরকারি ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব ধরনের সরকারি ভাতা যাতে কেবলমাত্র যোগ্য ও প্রকৃত মানুষের হাতে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। এ লক্ষ্যে যোগ্য সুবিধাভোগীদের নতুন করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এজন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যতগুলো ভাতা প্রদান করা হয় সেই ভাতা যোগ্য গ্রহণকারীদের নতুন করে তালিকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য আমাদের কমিটিও গঠিত হয়েছে‌। ‘জি-টু-পি অর্থাৎ গভর্নমেন্ট টু পারসন’ ভাতা যাদের চাহিদা আছে দল-মতো সব কিছুর ঊর্ধ্বে রেখে যারা এটার জন্য যোগ্য, তাদের তালিকা আমরা তৈরি করছি।”

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের এই সেবাগুলো নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যাতে যোগ্যরা বঞ্চিত না হন। তিনি বলেন, “সরকারি ভাতার জন্য যারা সুবিধাভোগী, যোগ্য তাদের কাছেই যেন পৌঁছায় সেটা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এসব কারণে আমরা জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি এবং এ বিষয়ে সঠিকভাবে কাজ পরিচালনার জন্য তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।”

সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জেলা প্রশাসকরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, “ডিসিদের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমগুলো যেন সাধারণ মানুষের কাছে, সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় সেজন্য সেতুবন্ধনে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বা সরকারের সেবাগুলো মানুষের কাছে একদম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডিসিরা যেন সার্বিকভাবে কাজ করেন, সেসব বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।” স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দুর্নীতি রোধে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানান।


দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১০:১০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ ভোরে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর ১টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সারাদেশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।


আমরা একা এ চুক্তি করিনি, অন্যান্য দেশও করেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে মার্কিন চুক্তি ভালো বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, আমরা একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়া এ রকম ২৩১টি শর্তে রাজি হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্য যারা চুক্তি করেছে তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে জিনিসটা ভালো বুঝবেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে ‘বেঁধে ফেলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা তুলনা করে দেখেন আমরা কী পেয়েছি, কী পাইনি। এই আলোচনাটা ওভাবে হওয়া উচিত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে তোমাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ যেমন আমাদের ৩৯ বা ৩৭ শতাংশ দিয়েছিল, অন্য সব দেশ দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, যেমন ভিয়েতনাম। আর আমরা ১৯ পেয়েছি। সবার এই এগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট ও অন্যান্য দেশের এগ্রিমেন্ট তুলনা করে পড়েন। তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি, পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের পারচেজ কমিটমেন্ট কত? আমাদের কত, সব মিলিয়ে দেখেন।


শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে সারা দেশে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় প্রধান আসামি হবেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ কথা বলেছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া, সরকারের হেফাজতে ইসলামকে নিধনের উদ্দেশ্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ঘটনায় ৯০ শতাংশ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে৷ আগামী ৭ জুনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে প্রসিকিউশন। মামলায় ৩০ জনের বেশি আসামি করা হতে পারে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, তদন্তের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।


আরব আমিরাতে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা ইউএইতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবনসহ বেসামরিক নাগরিকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই অঞ্চলে চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে আটজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সকল বিরোধ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এই অঞ্চলের ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকাতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।


১৩ মে থেকে ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৩ মে থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এদিন পাওয়া যাবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। এবারও অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট, ১৪ মে বিক্রি হবে ২৪ মে যাত্রার টিকিট, ১৫ মে ২৫ মের, ১৬ মে ২৬ মের এবং ১৭ মে ২৭ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে।

আগের মতো এবারও সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট এবং বেলা ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন।

এদিকে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে। ওই দিন ৩১ মে যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ২২ মে ১ জুন, ২৩ মে ২ জুন, ২৪ মে ৩ জুন এবং ২৫ মে ৪ জুন যাত্রার ফিরতি টিকিট বিক্রি করা হবে।

এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী একবার করে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট (উচ্চ শ্রেণি ছাড়া) স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকবে দুটি (ক্যাটল স্পেশাল) পশুবাহী বিশেষ ট্রেন।

যাত্রীবাহী বিশেষ ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এ দুটি ট্রেন ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে।

এছাড়া জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহের উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।

অন্যদিকে, কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য বিশেষ দুটি ক্যাটল ট্রেন ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাবে।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘১৩ মে থেকে পর্যায়ক্রমে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে এবং ঈদের আগপর্যন্ত তা চলবে।’


banner close