রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
১২ মাঘ ১৪৩২

শেখ পরিবারের নামে থাকা ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন

ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৬:২৪

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড পেজে এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

তার পোস্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোণার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শুধু শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছে সরকার।

এছাড়া, নওগাঁর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি করা হয়েছে।

পাশাপাশি, জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এখন থেকে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়াণগঞ্জে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এখন থেকে নারায়াণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বলে ওই পোস্টে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নাম পরিবর্তন করে মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।


গ্যাসের সংকট, দ্বিগুণ দামেও মিলছে না এলপিজি, বাড়ছে খরচের চাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরবরাহ সংকটে রয়েছে। দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, তবু চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাইপলাইনের গ্যাসের সংকট। বাড়ির লাইনে ঠিকমতো গ্যাস না পেয়ে এলপিজি কিনতে ছুটছেন অনেকে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে তারা এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। ফলে ভোগান্তি ও বাড়তি খরচের চাপ বাড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

তিতাস সূত্র বলছে, দিনে তাদের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি।এর মধ্যে সরবরাহ করা হয় ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে শনিবার এটি আরও ১০ কোটি ঘনফুট কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে ঢাকার অনেক এলাকার গ্রাহক চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে এলপিজির দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। কিন্তু সেখানেও আছ সিন্ডিকেট। বাজারে এলপিজির সরবরাহও বাড়ছে না। ফলে মাসের শুরুতেই এলপিজি শেষ। বিদ্যুৎ–চালিত চুলায় রান্না করছেন অনেকে। এতে এক চুলায় রান্না করতে সময় বেশি লাগে। এলপিজির সিলিন্ডার খুঁজে পাচ্ছেন না। পেলেও দাম চাইছে ২ হাজার ২০০ টাকা।

মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে এলাকার সোহেলী বিশ্বাস বলেন, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি ২ হাজার টাকায়। শারমীন আকতারের দাবি, ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে তাকে গুনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর শামীমা সুলতানা নামের একজন গ্রাহকের দাবি, তিনি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৫৫০ টাকায়।

তবে এলপিজি আমদানিকারকরা বলছেন, শীতে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলছে নানা অস্থিরতা। বিশ্ববাজরে এলপিজির সংকট। তাই এখন চাইলেও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি পেলেও তা পরিবহনের জন্য জাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনও (বিপিসি) আমদানির চেষ্টা করছে। আমদানি বাড়ানো গেলেই বাজারে এলপিজির সরবরাহ সংকট কমে আসতে পারে।

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা শহরে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করে সরকারি কোম্পানি তিতাস। সংস্থাটির গ্রাহক আছেন ২৭ লাখ ৭৮ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২৭ লাখ ৫৮ হাজার।

তিতাস সূত্র বলছে, দিনে তাদের চাহিদা ১৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি।এর মধ্যে সরবরাহ করা হয় ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ঘনফুট। গতকাল এটি আরও ১০ কোটি ঘনফুট কমে ১৪৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে ঢাকার অনেক এলাকার গ্রাহক চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। কিছুদিন ধরে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ হচ্ছিল প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য গতকাল একটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এতে সরবরাহ নেমে আসে ৫৮ কোটি ঘনফুটে। গতকাল সকাল ছয়টায় বন্ধ করা টার্মিনাল থেকে রাত পৌনে আটটার দিকে গ্যাস সরবরাহ চালু হয়। তবে সরবরাহ বাড়বে ধীরে ধীরে।

পাইপলাইনে গ্যাসের সংকটের কারণে এলপিজির চাহিদা আরও বেড়েছে। বাসায় গ্যাস না পেয়ে অনেকে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ছুটছেন, তবে বাজারে সংকটের কারণে তা সহজে মিলছে না। কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা।

দেশে এলপিজির গ্রাহক এক কোটির বেশি। জাতীয় নির্বাচন ও রমজান সামনে রেখে এলপিজির ঘাটতি এড়াতে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীরা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বাড়তি এলপিজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে। জাহাজ সংকটের কারণেও আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমদানি বাড়ানো গেলে ধীরে ধীরে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


নির্বাচন প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট কূটনীতিকরা: সিইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর সর্বোচ্চ আস্থা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকরা। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর তারা এ আস্থা জানান বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সিইসি।

এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন যে প্রস্তুতি নিয়েছে, তার সব প্রক্রিয়া কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং কমিশনের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের প্রতি তারা আস্থাশীল বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা লোকচুরির সুযোগ নেই এ বিষয়টিও কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে। কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কূটনীতিকরা জানতে চান উল্লেখ করে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আনসার মোতায়েন থাকবে এ পরিকল্পনার কথাও তাদের জানানো হয়েছে।

সিইসি বলেন, কূটনীতিকরা কমিশনের কর্মপরিকল্পনা ভালোভাবে বুঝেছেন এবং একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনই যে কমিশনের মূল লক্ষ্য, তা তারা উপলব্ধি করেছেন। ভবিষ্যতে তারা নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে দ্য ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে কূটনীতিকদের অবহিত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ চার দিন পিছিয়ে ২৯ জানুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ তারিখ ধার্য করেন।

রাজধানীর পল্টন থানায় করা এ মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল রোববার। কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তারিখ পিছিয়ে নতুন তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পাঁচ দিন পিছিয়ে ২৫ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছিল।

আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি একই আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ওইদিন আদালতে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

নারাজি দিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি করেন বাদী। নারাজি আবেদনে মামলার বাদী দাবি করেন হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত হয়নি। এমনকি মূল রহস্যও উদ্‌ঘাটিতও হয়নি। এ কারণে বাদী আদালতে নারাজি দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন পলাতক রয়েছেন।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

উল্লেখ্য, সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন করে একজন আসামি গ্রেপ্তার করে তারা। প্রধান আসামি ফয়সালের ‘সহযোগী’ রুবেল আহমেদকে গত ২২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।


রূপপুর প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ২৫ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এদিন আরও ২৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরও বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।

মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে।

বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বাড়েনি। কিন্তু টাকার অঙ্কে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।

রূপপুর বিদুৎকেন্দ্রসহ একনেকে অনুমোদন পাওয়া ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

সভায় পরিকল্পনা, অর্থ, পররাষ্ট্র, খাদ্য, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ, পানি সম্পদ, শিক্ষা, বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট, বিমান পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং জেলা সড়ক উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহের আওতায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিবৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ স্থাপনা, ট্রাফিক ইউনিট এবং হাইওয়ে থানা নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পায়।

রেলপথ খাতে দোহাজারী হয়ে রামু অতিক্রম করে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য খাতে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন এবং পুষ্টি সেবা উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন লাভ করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবুজায়ন কার্যক্রম এবং শিল্পভিত্তিক উৎপাদন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পানি সম্পদ খাতে নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ ব্যবস্থাপনা এবং আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ছয়টি পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায়।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো সহিংসতায় দায়ী হবে আ.লীগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে ‘নির্বাচন বানচালে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি’ রয়েছে উল্লেখ করে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি’ বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকার বলছে, দিল্লিতে দেওয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের পতনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর উসকানি দিয়েছেন।

এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে নির্বাচন ভণ্ডুল করতে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, নয়াদিল্লিতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থি।

‘এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’—উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই বেপরোয়া উসকানি প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য সরকার আওয়ামী লীগকে দায়ী করবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরকার বলছে, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আনার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো সে দায়িত্ব পালন করেনি। উল্টো নিজ ভূখণ্ডে তাকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।


মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানো হয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২৫ জানুয়ারি রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দেশের প্রান্তিক ও বিশেষ সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভাতার হার ও আওতা বাড়ানোর নানামুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২০ হাজার টাকা। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতাসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিজিএফ কার্যক্রমকে এই কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে যুক্ত করে মোট ১৫ লাখ মৎস্যজীবীকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

বয়স্ক ও বিধবা ভাতার ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি এখন থেকে ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার জন মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। একইভাবে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ৭০০ টাকা এবং এই শ্রেণিতে ৯০ বছরের বেশি বয়সীরা ১০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন ৯০০ টাকা এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তির হার স্তরভেদে ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত যথাক্রমে ৯৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সভায় জানানো হয়, ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সিরোসিসসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে একজন মা বর্তমানে মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পান। এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ৬০ লাখ পরিবারের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যারা ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা পাবেন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ভাতা ও উপবৃত্তির হার বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।


ডিআরইউর কাছে সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর ইউনেসকোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ইউনেসকোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় আয়োজিত ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

২৫ জানুয়ারি আয়োজিত এই সভায় তিনি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির প্রেক্ষাপট টেনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হলেও সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি। সাংবাদিকতার নিরাপত্তা সংকট শুধু সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই দায় থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এড়াতে পারে না।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, অধিকাংশ গণমাধ্যমই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় হেলমেট বা টিয়ার গ্যাস প্রতিরোধী সরঞ্জামের সংস্থান করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘অথচ যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।’

অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউনেসকোর প্রতিনিধি লিনা ফক্স গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, এই নতুন ডেস্কের মাধ্যমে নির্যাতিত সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা প্রদান আরও সুসংগঠিত হবে। সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের বেতনহীন দুরবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে নিপীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পেশাদার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, এগুলো মিথ্যা প্রচারণা: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন গণভোট নিয়ে চলমান নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অবস্থান নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি ২৫ জানুয়ারি আয়োজিত এই সম্মেলনে বলেন, “একটি মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না, এগুলো সব মিথ্যা প্রচারণা।”

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গণভোট জাতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং এ লক্ষ্যে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, “গণভোট দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেবে। আলোকিত দেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন। সাধারণ নির্বাচনে আপনি যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন।”

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় স্বৈরশাসনের স্থায়ী অবসান ঘটাতে গণভোটে ইতিবাচক রায় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন ধর্ম উপদেষ্টা। উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের প্রতিটি ভোটারকে প্রার্থীর সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে জানান যে, এই ভোটের রায়ই হবে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার মূল মানদণ্ড। তিনি পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখতে নিরপেক্ষতা বর্জনের ডাক দিয়ে বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোট মানে জুলাই অভ্যুত্থান, আর ‘না’ ভোট মানে ফ্যাসিবাদ। মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই। নীরব থাকার কোনো অবকাশ নেই। নীরব থাকা মানে ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা।” ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ইমামদেরকে জনমত গঠনে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান।


রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির দেড় সহস্রাধিক মামলা ও যানবাহন জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো এই বিশেষ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১ হাজার ৫০২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৯৬টি মামলা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল বিভাগে ১৮৯টি, তেজগাঁও বিভাগে ১৪৫টি, লালবাগ বিভাগে ১১২টি, গুলশান বিভাগে ১০৩টি, ওয়ারী বিভাগে ৯৫টি, উত্তরা বিভাগে ৮৯টি এবং রমনা বিভাগে ৭৩টি মামলা করা হয়। মামলার পাশাপাশি ৩৬২টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ১৫০টি গাড়িকে রেকার করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপি মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ২৫ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত তথ্যাদি নিশ্চিত করেন। জননিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


শিশু রোগীদের খোঁজখবর নিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের শয্যাপাশে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ মাহবুবুল হক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা হাসপাতালের অবকাঠামোগত সুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে সেবার গুণগত মান আরও বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।

পরিশেষে ফরিদা আখতার শিশু রোগীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।


৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহারকারী: জাতীয় গবেষণা প্রতিবেদন

বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণার  ফলাফল প্রকাশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ নিয়ে পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই জাতীয় গবেষণাটি পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম মাদকের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘এটা ভাবার কারণ নাই যে কিছু সংখ্যক খারাপ মানুষ মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদক থেকে দূরে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদাকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। সবাইকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই এই ঝুঁকিকে মোকাবিলা করতে হবে।’

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ বা আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যদিও এই পরিসংখ্যানে ধূমপানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২২.৯ লাখ মাদক ব্যবহারকারী থাকলেও ব্যবহারের হারে শীর্ষস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। মাদকের ধরনে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রায় ৬১ লাখ মানুষ সেবন করে; এরপরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা (২৩ লাখ) ও অ্যালকোহল (২০ লাখ)। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ হাসান মারুফ এই সংকট উত্তরণে সামাজিক যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময় ও বাস্তবতা হলো দেশের মানুষ মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সামাজিক আন্দোলন, একটি সামাজিক যুদ্ধের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মাদক এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই হোক প্রতিরোধ তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের একটি বড় অংশই তরুণ। আসক্তদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ শিশু বয়সে (৮-১৭ বছর) এবং ৫৯ শতাংশ ১৮-২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। বিএমইউ এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এই জনস্বাস্থ্য সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিশুরা-তরুণরা যারা জীবনটাকে বুঝতে পারার আগেই মাদকাসক্ত হচ্ছে অবশ্যই আমাদের সবাইকে মিলে এই শিশু ও তরুণ সমাজকে মাদক সেবনের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই হবে।’ প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, আসক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কথা জানিয়েছেন। অথচ চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত; মাত্র ১৩ শতাংশ ব্যবহারকারী পুনর্বাসন বা চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এবং ৬৮ শতাংশ আসক্ত ব্যক্তি সামাজিক বৈষম্য ও অপবাদের শিকার হচ্ছেন। সংকট মোকাবিলায় সরকার ঢাকার বাইরে আরও সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকরা মাদক সমস্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার চশমায় না দেখে একে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ঢাকা মহানগরীর ১৩ আসনে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ১৩টি সংসদীয় আসনে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করেছে সরকার। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা-৪ হতে ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪ এবং ঢাকা-১৬ হতে ঢাকা-১৮—এই ১৩টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন এলাকায় নির্বাচনী তদারকির দায়িত্ব পালন করবে এই টিম। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহ্বায়ক এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ ফজলুর রহমানকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও এপিএমবি) সালমা খাতুন এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) এস. এম নজরুল ইসলাম। তদারকি কার্যক্রমে আরও যুক্ত রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জ আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মোহা. ইয়াছিন আরাফাত এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন।

এছাড়াও প্রশাসনিক ও শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কমিটিতে রাখা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) ও মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজকে। পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলকেও এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


সাবেক এমপি রুবিনা ও তাঁর স্বামীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং তাঁর স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের আয়কর সংক্রান্ত যাবতীয় নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুদকের করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের উপপরিচালক রাসেদুল ইসলাম তদন্তের স্বার্থে এই নথিগুলো জব্দের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রুবিনা আক্তার ‘নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে’ অর্জন ও ভোগ করছেন।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রুবিনা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকার ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, ‘অপরাধলব্ধ অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, রূপান্তর, স্থানান্তর করায়’ গত বছরের ১৪ মে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আবেদনে জানানো হয়েছে যে, ‘রুবিনা আক্তার একজন আয়কর দাতা। তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর নথির শুরু হতে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের মূলকপি ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।’

একইভাবে তাঁর স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের আবেদনে বলা হয়, ‘তারা একে অপরের সহায়তায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকার সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখেন।’ এছাড়া তাঁর ব্যাংক হিসাবেও ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আদালতকে জানানো হয় যে, ‘মোশাররফ হোসেনও একজন আয়কর দাতা। তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আয়কর নথির শুরু হতে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের মূলকপি ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।’ শুনানি শেষে আদালত উভয় ব্যক্তির আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দের অনুমতি প্রদান করেন।


banner close