গত বছরের ৪ আগস্টের পর সারা দেশের ৪০টি মাজার (মাজার/সুফি কবরস্থান, দরগা) ও তার সঙ্গে সম্পর্কিত ৪৪টি স্থাপনা ভাঙচুর ও হামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
এসব হামলায় মাজার ভাঙচুর ও ভক্তদের ওপর হামলা, মাজারের সম্পত্তি লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের অভিযোগ গ্রহণ ও পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন থানায় ১৫টি নিয়মিত মামলাসহ ২৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শনিবার পুলিশের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
প্রেস উইং জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে মাজারে (মাজার/সুফি কবরস্থান, দরগা) হামলার বিষয়ে পুলিশের রিপোর্টে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মাজার-দরগায় যেকোনো আক্রমণের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মামলাগুলো কঠোরভাবে তদন্ত করে হামলার ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর (মাজার ও দরগাহ) নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলে তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ১৭টি মাজারে ভাঙচুর, লুটপাট হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১০টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭টি মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহ বিভাগের শুধু শেরপুর জেলায় একটি মাজারে চারবার হামলা হয়েছে।
এই ৪৪টি হামলার ঘটনার সবকটিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ১৫টি নিয়মিত মামলা এবং ২৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)। এসব মামলা ও ডায়রি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে করেছে। এসব ঘটনায় ফৌজদারি মামলায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুটি নিয়মিত মামলায় এরই মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আরও ১৩টি নিয়মিত মামলা ও ২৯টি সাধারণ ডায়েরির তদন্ত চলছে।
বিজ্ঞঘপ্তিতে আরও জানানো হয়, এসব হামলায় মাজার/দরগাহ এবং ভক্তদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, মাজারের সম্পত্তি লুটপাট ও মাজারে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিবাদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে শান্তি বৈঠকের আয়োজন করে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং প্রচেষ্টার মাধ্যমে জনসাধারণ এবং ইসলামিক নেতাদের অংশগ্রহণ বজায় রেখে সংবেদনশীলকরণ কর্মসূচিতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে চলতি বছর হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশই হাম-রুবেলা টিকার কোনো ডোজ পায়নি। গত ১৫ মার্চ থেকে গত শনিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসেরও কম। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের হিসাবে, নির্দিষ্ট সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬১৫ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোগতত্ত্ববিদদের মতে, প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গে ঘটা প্রতিটি মৃত্যুকেই হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয়।
কলম্বোতে ২২ ও ২৩ জুন অনুষ্ঠিত ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের হাম-রুবেলাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন হাম ও রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম যাচাইয়ের জাতীয় কমিটির (এনভিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক। প্রতিনিধিদলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সহকারী সচিব, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং ডব্লিউএইচও ঢাকা কার্যালয়ের রোগ প্রতিরোধবিষয়ক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, শিশুদের হাম প্রতিরোধক্ষমতার অভাব এবং টিকাদান কর্মসূচিতে নজরদারির ঘাটতি এই সংকটের প্রধান কারণ। দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ৯ মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার প্রথম ডোজ ও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার বিধান থাকলেও মৃত শিশুদের মাত্র ৮ শতাংশ এই টিকার আওতায় এসেছিল।
কলম্বোর সভায় উপস্থাপিত বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯ মাসের কম বয়সি শিশুর মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে ২ থেকে ৫ বছর বয়সি ১৮ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সি ১৪ শতাংশ, ১ থেকে ২ বছর ও ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি ১৩ শতাংশ করে, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সি ৪ শতাংশ এবং ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১২ শতাংশ। এই চিত্র থেকে স্পষ্ট যে শিশুদের পাশাপাশি বড় বয়সিরাও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ হাজার ২৬৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৯৪ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২৮৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, কলম্বোতে উপস্থাপিত তথ্য জুন মাসের প্রথমার্ধের। তাতে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ হাম-রুবেলার টিকা পায়নি। জুনের শেষ সপ্তাহে মৃত্যু বেড়ে সাতশর বেশি হয়েছে, সে ক্ষেত্রেও টিকা না পাওয়ার হার একই থাকবে বলে আমার ধারণা।
জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল টিকাদান কর্মসূচির ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘বহু শিশুকে টিকা না দিয়েই বলা হয়েছে টিকা পেয়েছে, টিকার সাফল্যের কথা গাওয়া হয়েছে। সব পরিসংখ্যান ছিল বানোয়াট। তথ্য-উপাত্তে কারচুপি করা হয়েছে। নজরদারির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না কোনো জবাবদিহি। এত সব অনাচারের মূল্য দিতে হলো শিশুদের।’
চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড ও মালদ্বীপে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কলম্বোর সভায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। গত ২৫ জুন ডব্লিউএইচও এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হাম মোকাবিলায় জরুরি ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধও জানানো হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাম নির্মূলের অগ্রগতি মূল্যায়ন করে। দেশের প্রতিটি জেলায় ডব্লিউএইচওর মেডিকেল কর্মকর্তারা হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগের তথ্য সংগ্রহ করেন, যা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন আঠারো মাসের দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা। অন্তর্বতী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে তিনিই চিকিৎসাবাবদ সর্বোচ্চ খরচ নিয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল নিয়েছেন। তবে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা খরচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশের একটি গণমাধ্যম।
এছাড়াও সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা; সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা; সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা; সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা; সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মাত্র ১৮ মাসে বিদেশে চিকিৎসা খরচের ব্যয় হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা।
এদিকে, চিকিৎসা বাবদ ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। ওই ব্যাখায় অপারেশনের খরচে ডিসাকাউন্ট ও নিজের পরিচর্যার জন্য তার সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর খরচ নিজে বহন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। ডিসকাউন্ট না পেলে ও পরিচর্যার খরচ যুক্ত হলে বিল ৮২ লাখেরও অনেক বেশি আসত বলে জানান তিনি।
রোববার (২৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে চিকিৎসা বাবদ ব্যয়ের ব্যাখ্যায় তিনি এ কথা জানান।
অপারেশন ব্যয়ের ব্যাখ্যায় ধর্ম উপদেষ্টা বলেছেন, ‘বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বিল দিই প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। যার বিল আরো অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ দূতাবাসের কারণে ডিসিকাউন্ট পাওয়া যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘পবিত্র হজের দায়িত্ব পালন শেষে আবারও অসুস্থতা অনুভব করায় আমি দেশের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হই এবং তারা দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ প্রদান করেন। বিগত জানুয়ারি মাসে আমার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে বিল দিই প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। এ সংক্রান্ত সমস্ত বিলের কপি আমি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছি।
আইনানুসারে সরকার কর্তৃক মন্ত্রী/উপদেষ্টার চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার শুধুমাত্র আমার হাসপাতালের বিল, অপারেশন বিল ও মেডিসিনের ব্যয় বহন করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমার পরিচর্যার জন্য সঙ্গে যাওয়া আমার সহযাত্রীর সমস্ত খরচ আমি বহন করেছি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার হোটেলে বসবাসের বিল, খাওয়ার বিল, যাতায়াত খরচও ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছি। সরকার প্রদত্ত প্রতিটি পয়সার প্রকৃত বিল, ভাউচার, রিসিপ্ট আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। যে কেউই চাইলে হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ব্যয়ের ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করতে পারবেন।
নিজের সততার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এবং নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা তসরুপ করা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি। কিন্তু কিছু মিডিয়া বৈধ, নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ফ্রেমিং করছে যেন জনমানসের মনে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়। আমি এসব সংবাদ ও মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের তীব্র নিন্দা জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি সেখানে যান। এটি তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের কাজের খোঁজখবর নেন।
স্পারসো চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে সংস্থার কার্যক্রম এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী কাজ ও গবেষণা প্রকল্পগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পারসোকে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী, স্বনির্ভর এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, স্পারসো দেশের মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ প্রযুক্তি এবং দূর অনুধাবন প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রয়োগে নিয়োজিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
মাঠ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগে সারাদেশে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে কমেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সারা দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মাসিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য উঠে আসে। সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা পরামর্শ ও সহযোগিতা করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে জঘন্য বা গুরুতর অপরাধ ২৪টি বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কমেছে। আবার ২০২৫ সালের মের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাসে এ ধরনের অপরাধ কমেছে ২৩৭টি বা ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার কর্মকর্তারা বাসসকে জানান, প্রতি মাসে জেলা প্রশাসকরা সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে এসব তথ্য-উপাত্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও পাঠানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, ‘প্রতি মাসে জেলায় পরিচালিত কার্যক্রম বিভাগীয় কমিশনারদের সভায় উপস্থাপন করা হয়। সেখানকার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। জেলা প্রশাসকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করে। এভাবেই মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়, আর অবনতি হলে করণীয় নির্ধারণ করা হয়।’
বাংলাদেশের আইনে যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সেগুলোকে গুরুতর বা জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণ ও ধর্ষণের ফলে মৃত্যু, যৌতুকের কারণে নারীর মৃত্যু, মুক্তিপণের জন্য বা হত্যার উদ্দেশে অপহরণ (দণ্ডবিধির ৩৬৪-ক ধারা), রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধের উদ্যোগ (দণ্ডবিধির ১২১ ধারা), সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওই সভায় উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়— ঢাকা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৫২১টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ছিল ৪৬৬টি এবং মে মাসে তা দাঁড়ায় ৪৮৫টিতে। রাজশাহী বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৩৪৯টি। ২০২৬ সালের মে মাসে তা কমে ২৬১টিতে নেমে আসে। খুলনা বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ২৭১টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ছিল ২১৯টি এবং মে মাসে ২৪২টি। বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ২২২টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ২২১টি। সিলেট বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৯৩টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ছিল ১১৯টি এবং মে মাসে ১২৩টি। রংপুর বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৩১৩টি। ২০২৬ সালের মে মাসে তা কমে ২৬৩টিতে দাঁড়ায়। ময়মনসিংহ বিভাগে ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ১৬৩টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ১৬২টি।
অপরাধের তুলনামূলক তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকায় ২০২৫ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ ছিল ৪৮৮টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা কমে ৪১১টিতে এবং মে মাসে আরও কমে ৪০২টিতে নেমে আসে।
সারাদেশে ২০২৫ সালের মে মাসে মোট ২ হাজার ৮০৯টি গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৬টি এবং মে মাসে কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৭২টিতে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করে জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ের তথ্য গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আমার কাছে যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেখা গেছে ২০২৫ সালের তুলনায় অপরাধ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই অপরাধ কমেছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী (বুস্ট আপ) করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখায় তিনটি আলোচিত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্য, দৌলতদিয়ার নৌ দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নৌপুলিশের তিন সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চার আসামিকে গ্রেপ্তারে অবদান রাখা তিন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
সূত্র: বাসস
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। এদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি), ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি-পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি এবং এনএসআই-এর পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডি’র অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত আইজি এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামানকে র্যাবে, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এ কে এম আক্তারুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এবং মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আল মামুনকে মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে বেতবুনিয়া পিএসটিএস-এর কমান্ড্যান্ট এবং এন্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে সারদা বিপিএ-এর অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে রংপুর পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি এবং কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) এর কার্যালয়ের প্রলয় চিসিমকে নোয়াখালী পিটিসির ডিআইজি এবং সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণিকে রংপুর পিটিসির ডিআইজি এবং এসবির ডিআইজি একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে খুলনা পিটিসির ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচজন কর্মকর্তাকে নতুন স্থানে পদায়ন করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমানকে সারদা বিপিএ-এর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সালমা সৈয়দ পলি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। সবশেষে, ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মো. শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ টেলিকমের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ভারতের পর্যটন ভিসা চালু হয়েছে। ঢাকাসহ ৫টি ভিসাকেন্দ্র থেকে ভিসা ইস্যু করা হবে। তবে ভিসা আবেদনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। রোববার (২৮ জুন) থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন শুরু করেছেন ভিসা প্রত্যাশীরা। একইসঙ্গে বুকিং দিচ্ছেন অ্যাপয়েন্টমেন্ট।
স্লট প্রাপ্তি সাপেক্ষে সোমবার (২৯ জুন) থেকে পাসপোর্ট জমা নেবে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রত্যাশীরা আবারও ভারতে ভ্রমণের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন। এদিকে এতদিন সীমিত পরিসরে জরুরিভাবে আবেদন করা অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরি আরো সহজ করার দাবি জানিয়েছেন ভিসা প্রত্যাশীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা ইস্যু স্থগিত করে।
এ সময়ে জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় সীমিত আকারে মেডিকেল, ব্যবসায়িক, শিক্ষার্থী ও সরকারি কিছু ক্যাটাগরির ভিসা ইস্যু করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।
সারাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে; যাতে অন্তত ৩৫০ জনের প্রাণহানি হয়। রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িতে আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ তথ্য দেওয়া হয়।
রিজিওন্যাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (রাইমস) আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ খান মো. গোলাম রাব্বানি এ তথ্য তুলে ধরে বলেন, সুনামগঞ্জ ও সিলেট বজ্রপাতের ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রপাতের প্রবণতা সর্বাধিক থাকে।
বজ্রপাতে প্রাণহানি রোধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বজ্রপাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন বা সিপিআর দিলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, বজ্রপাতের সময় মানুষকে ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় নিতে হবে, বড় গাছের নিচে অবস্থান করা যাবে না এবং খোলা মাঠে আটকা পড়লে দলবদ্ধভাবে না থেকে পরস্পর থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে। ঘরের ভেতরে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করা গেলেও বজ্রঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক সকেটে সংযুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা উচিত।
রাইমস, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি), ইউনিসেফ, ব্র্যাক ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাইমস আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে।
এর আগে দেশে আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস পালন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির উদ্বোধন করেন। এবার এই অনুষ্ঠানের মূল স্লোগান ‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরাতে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে দেশে প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। একই সঙ্গে তিনি দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাংক রয়েছে উল্লেখ করে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোরও আহ্বান জানান।
রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, অনেক মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তারাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। এই অবস্থায় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে সেই বিপুল অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের টাকার বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তারা নির্দিষ্ট হারে—২০ থেকে ২৫ শতাংশ—কর দিয়ে সেই অর্থ বৈধ করার সুযোগ পেতে পারেন। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে ফিরে আসবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।
দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। দেশে এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে এখন দুর্বল ব্যাংকগুলোকে জোর করে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।’ তাই ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চীন-মিয়ানমার করিডোরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ট্রাকযোগে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও চট্টগামে ৮০০ একরের একটি চাইনিজ শিল্প পার্ক স্থাপনের ব্যাপারে কিছুদিন আগেই মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানকারী নবীন আইনজীবীদের কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী, শীর্ষ নেতারা ও বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক চীনা বিনিয়োগ আসবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমবে।
তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে আমাদের সব পণ্য শুল্কমুক্ত করে দিয়েছে। আমাদের কাছে একটাই সম্ভাব্য উপায় যেটি আমরা অনুসরণ করছি। আর তা হলো, বাংলাদেশে বেশি বেশি চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
শাহজালাল মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রে বিচারহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সামাজিক চুক্তি ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার- সমতা, বৈষম্যহীনতা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে আইনজীবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় অনলাইন জুয়া প্রতিরোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছিলাম। এ লক্ষ্যে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, যা সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই পাস হবে। একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ রয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইনজীবী এবং সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে বহু বিচারপতি ও আইনজীবী ব্যক্তিগত ও পেশাগত ঝুঁকি নিয়েও আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করেছেন। সিলেটের আইনজীবী ও বিচারকরাও এ ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
তিনি বলেন, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক ও নিয়মিত প্রশিক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইনবিষয়ক গবেষণা, কেস স্টাডি বিশ্লেষণ এবং আদালতে কার্যকর উপস্থাপনার ওপর ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইনজীবীদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দক্ষ আইনজীবী ও বিচারক তৈরিতে সহায়ক হবে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহ-ইয়া চৌধুরী সুহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের বখত জুবের, ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ, বিভাগীয় স্পেশাল জজ এম আলী আহমদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসাম ইমাম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে। ইসি জানিয়েছে, আইন ও বিধিমালায় এনআইডি নবায়নের বিষয়টি থাকলেও তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে বিষয়টি এখন বাধ্যতামূলক করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ১৫ বছর দীর্ঘ সময়। এই সময়ের মধ্যে মানুষের চেহারায় অনেক পরিবর্তন আসে। অনেকে ইচ্ছাকৃত পরিবর্তন করেন। অনেকেই সার্জারির মাধ্যমে জেন্ডার চেঞ্জ করেন। আবার মানুষের আঙুলের ছাপেরও পরিবর্তন আসে কোয়ালিটি কমে যাওয়ার মাধ্যমে। ব্যক্তির পরিচিতি নিশ্চিত করতে এমন ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাই নবায়ন বাধ্যতামূলক করার আলোচনা চলছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০১০ এর ধারা ৭(১)-এ বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো নাগরিককে প্রদত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ হবে, তা প্রদানের তারিখ থেকে ১৫ বছর। আইনের ২ ধারাতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে বা পরে নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে কমিশনের কাছে আবেদন করতে হবে।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালার ৫ বিধিতে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিক বা ক্ষেত্রমতো তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-৫ অনুযায়ী সরাসরি অথবা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
সরাসরি আবেদনের ক্ষেত্রে, বিধি ৮-এর উপবিধি (২) অনুসারে ফি পরিশোধপূর্বক রশিদের কপি আবেদনের সহিত সংযুক্ত করে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসাবে দাখিল করতে হবে অথবা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ফি পরিশোধপূর্বক রশিদের স্ক্যানকৃত কপি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ‘জরুরি’ বা ‘সাধারণ’ হিসেবে দাখিল করতে হবে।
‘জরুরি’ আবেদন কমিশনে এবং ‘সাধারণ’ আবেদন স্থানীয় কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে এবং আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন ফরম এর অংশ ‘ক’ স্বাক্ষর করে তা আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফেরত দেবেন অথবা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবক বরাবর মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানায় অংশ ‘ক’ পাঠাবেন।
তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদনপত্রে কোনো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা পরিলক্ষিত হলে তিনি অংশ ‘ক’-এ তা উল্লেখ করে ওই ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে আবেদনপত্রটি ফেরত দেবেন এবং আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবক ওই ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে দ্রুত আবেদনপত্র পুনরায় দাখিল করবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তুষ্ট হলে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক ফিচার দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণপূর্বক অংশ ‘ক’ দেবেন।
সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে অংশ ‘ক’-এ উল্লিখিত তারিখে কমিশন বা স্থানীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হইয়ে বায়োমেট্রিক ফিচার প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করতে হবে। এখানে বায়োমেট্রিক ফিচার বলতে আঙুলের ছাপ, হাতের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের আইরিশ, মুখাবয়ব, ডিএনএ, স্বাক্ষর ও কণ্ঠস্বরকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমানে কেবল আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ নেওয়া হচ্ছে।
বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক ফিচার গ্রহণসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করে আবেদন ফরম এর অংশ ‘খ’ স্বাক্ষর করে আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে দেবেন।
এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হবার পর কমিশন অংশ ‘খ’-এ উল্লিখিত তারিখে পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র ফেরত প্রদান সাপেক্ষে পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নপূর্বক আবেদনকারী বা তার আইনানুগ অভিভাবককে ফরম-২ বা ফরম-৪ অনুসারে একই নম্বরে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
বিধিমালায় জরুরি আবেদনের জন্য সাতদিন ও সাধারণ আবেদনের জন্য ৩০ দিন সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি আবেদনের জন্য ১৫০ টাকা এবং সাধারণ আবেদনের জন্য ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর হলে নবায়ন করার বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এটা হচ্ছেই। কেউ চাইলে যখন তখন নবায়ন করতে পারেন; আবেদন করে নতুন এনআইডি নিচ্ছেন হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে।
১৫ বছরে চেহারায় বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যক্তির যে পরিবর্তন আসে, এতে অনেকেই কারসাজির আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পায়—এমন বিষয় উত্থাপন করা হলে ইসি সচিব বলেন, বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, তাও আমরা ভেবে দেখব, আলোচনা চলছে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নথিতে উত্থাপন করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি খুব করে চাই। কেননা, বিধিতে আছে। তবে সেখানে ফি নির্ধারণের বিষয় আছে। ফি ছাড়াই করা যায় কি না, সেটাও ভাবা হচ্ছে। তবে এই প্রস্তাব আমরা জোরালোভাবে দেব। কেননা ১৫ বছরে কেউ দাড়ি রাখতে পারেন, কারো চেহারায় অন্য পরিবর্তন আসতে পারে। কাজেই অসদুপায় অবলম্বনের একটা সুযোগ থেকে যায়।
নির্ধারিত ফি কত টাকা: সাধারণত মানুষ এনআইডি নষ্ট বা পুরাতন হয়ে গেলে নিজ থেকেই নতুন এনআইডির জন্য আবেদন করেন। এক্ষেত্রে ফি কিছুটা বেশি। প্রথমবার আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণ হলে ২০০ টাকা, জরুরি হলে ৩০০ টাকা; দ্বিতীয়বার আবেদন করলে সাধারণ ৩০০ টাকা ও জরুরি ৫০০ টাকার আর পরবর্তী যে কোনোবার সাধারণ আবেদনের জন্য ৫০০ টাকা এবং জরুরি হলে ১০০০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। এক্ষেত্রে দুই ধরনের অসুবিধা আছে। প্রথমত, হারানো বা নষ্ট হওয়ার জন্য নতুন এনআইডি পেতে যে আবেদন করা হয়, সে জন্য এনআইডির তথ্যে কোনো পরিবর্তন হয় না। টাকাও লাগে বেশি। দ্বিতীয়ত নবায়ন করা হলে ছবি, আঙুলের ছাপ, আইরিশের মতো তথ্যে পরিবর্তন হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির পরিচয় যাচাই আরও সহজ হয়। টাকাও লাগে কম।
এ বিষয়ে এনআইডি মহাপরিচালক এএইচএম আনোয়ার পাশা বলেন, এখনো বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। দেখা যাক কী হয়।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শনিবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, রাজস্ব আদায় বাড়াতে মুদি দোকান, প্রসাধন সামগ্রীর দোকানসহ ১৬টি খুচরা ও সেবামূলক খাতকে সুনির্দিষ্ট করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে। কিন্তু অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কীভাবে ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করবেন তা স্পষ্ট নয়। তারা বলেন, রাজস্বের বেশিরভাগই আসে বড় প্রতিষ্ঠান থেকে। ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ অনেক বেশি এসব প্রতিষ্ঠানেই। তাই খুচরা পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।
ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থাপিত তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৮ লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে লার্জ ট্যাক্সপেয়ার্স ইউনিটের (এলটিইউ) মাত্র ১০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে আসে মোট ভ্যাটের ৬০ শতাংশ। বৃহৎ ৫০০টি প্রতিষ্ঠান দেয় মোট ভ্যাটের ৯৮ শতাংশ, আর বাকি লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর অবদান মাত্র ২ শতাংশ। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, এ বাস্তবতায় রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত বড় করদাতাদের ওপর।
দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, দেশে প্রকৃত ভ্যাটদাতার সংখ্যা বাড়াতে খুচরা পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি) চালু করা হোক। একই সঙ্গে এনবিআরকে খুচরা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বড় খাতগুলো থেকে এবং উৎস পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের দাবি জানান হেলাল উদ্দিন।
প্রস্তাবিত বাজেটে ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক নির্মাণে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। শনিবার সকালে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে দীর্ঘ লাইনের এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়।
এ সময় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত, নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কুয়াকাটায় বিমানবন্দর করার দাবিও আসে। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
আলাল বলেন, ‘জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহি করতে হয়। মানুষ বড় প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন ও বিভাগ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো স্মরণ রেখেই তারা আশা করছে, বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকার বরিশালের প্রতি ন্যায্য দৃষ্টি দেবে।
দেশের সব অঞ্চলের উন্নয়ন হোক, সেটিই তারা চান বলে জানান তিনি। বরিশালের ন্যায্য দাবি ও প্রাপ্যকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, মনে করেন আলাল।
তারা সরকারের অংশ না হলেও সংসদে বরিশালের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে জানিয়ে আলাল বলেন, ‘স্পিকার, চিফ হুইপ, বরিশালের কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। তাই বরিশালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করা উচিত।’
তার দাবি, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ৬ লেন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। একই সঙ্গে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, সহকারী, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
আলাল বলেন, ‘শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে বরিশাল মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা উচিত।’ একই সঙ্গে নদীভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই ওই এলাকাকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে।’
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে আলাল বলেন, ‘সৈকতের অনেক অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্যও নষ্ট হচ্ছে।’ এ বিষয়ে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদে বিষয়টি জোরদারভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দেশটিতে বর্তমানে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার ব্যাপারে দেশটির সরকার ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে শনিবার (২৭ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কূটনৈতিক সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করার পাশাপাশি সেখানে নানা জটিলতায় অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। এর পাশাপাশি মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে ঢাকাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। একই সাথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রভাবশালী আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে (ASEAN) বাংলাদেশের সদস্যপদ বা ডায়ালগ পার্টনারশিপ অর্জনের চলমান প্রচেষ্টায় কুয়ালালামপুর দৃঢ় সমর্থন জানাবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী খলিলুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছেছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আন্তরিক পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শেয়ার করা ঐতিহ্যবাহী ‘মহাজাদু’ গানটিও এখন দুই দেশের মধ্যকার গভীর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের নানাবিধ সুদূরপ্রসারী অর্জনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের উত্তর বর্গের অর্থনৈতিক লাইফলাইন খ্যাত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা তিস্তা প্রকল্প’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে চীন। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিতে দুই দেশই যৌথভাবে একমত প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে সামগ্রিক মূল্যায়ন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জোরালোভাবে বলেন, এবারের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও অনেক বেশি গভীর, মজবুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।