বাংলাদেশে বায়ুদূষণের প্রভাবে প্রতিবছর ৫ হাজার ২৫৮ শিশুসহ ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। একই কারণে প্রতিবছর ৯ লাখ মায়ের অকাল প্রসব হচ্ছে এবং প্রায় ৭ লাখ কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণ করছে। আর এ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে প্রতিবছর ৬ লাখ ৭০ হাজার রোগী জরুরি বিভাগে ভর্তি হচ্ছেন, যার ফলে সম্মিলিতভাবে বছরে ২৬৩ মিলিয়ন কর্মদিবস হারাচ্ছেন। সেন্টার ফর রিসার্চ অন অ্যানার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সিআরইএ ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে `বাংলাদেশে সূক্ষ্মকণা বায়ু দূষণে জনস্বাস্থ্য প্রভাব‘ শীর্ষক আলোচনায় এই গবেষণা প্রকাশ করে।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের শীর্ষ দূষিত দেশের তালিকায় স্থান হয়েছে বাংলাদেশের। যেখানে প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বালু কণার বার্ষিক মান ৭৯ দশমিক ৯ মাইক্রোগ্রাম; যা বার্ষিক জাতীয় মানদণ্ড ৩৫ মাইক্রোগ্রামের দ্বিগুণের বেশি। উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস হচ্ছে। ২০১৯ সালে সার্বিকভাবে এই ব্যয়গুলো ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। যা বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড ৫ মাইক্রোগ্রামের তুলনায় ১৫ গুণ বেশি। বাতাসের এমন চরম দূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর অনিবার্য পরিণতি ডেকে আনছে। বিভিন্ন বয়সীরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হবার পাশাপাশি ৫ বছর কম বয়সী শিশুদের ওপর সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বায়ুদূষণের প্রভাবে উদ্বেগজনক স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যেই ২০২২ সালে সরকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ধূলি কণার জাতীয় মান ১৫ মাইক্রোগ্রাম থেকে বাড়িয়ে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; যা গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টির পাশাপাশি বায়ুর মান অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে বলেও মনে করছেন গবেষকরা।
সিআরইসিএ-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশের জাতীয় বায়ুমানের মানদণ্ড (৩৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার) পূরণ করা সম্ভব হলেও তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এতে মৃত্যুহার ১৯ শতাংশ, আয়ুষ্কাল জনিত সমস্যা ২১ শতাংশ এবং অক্ষমতার সাথে বসবাস করা বছর ১২ শতাংশ কমতে পারে।
এছাড়া ডব্লিউএইচও-এর ২০২১ সালের কঠোর নির্দেশিকা বায়ুর মান প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম অর্জন করা সম্ভব হলে মৃত্যুহার ৭৯ শতাংশ হ্রাস পাবে। যা প্রতি বছর ৮১ হাজার ২৮২ মানুষের জীবন রক্ষা করবে। সেইসঙ্গে হাঁপানি-শ্বাসকষ্ট প্রায় সমস্ত জরুরি চিকিৎসক ভিজিট, অকাল প্রসব এবং বার্ষিক ২৬৩ মিলিয়ন কর্মদিবস অসুস্থতাজনিত ছুটি এড়ানো যাবে।
সুপারিশ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে নিজস্ব জাতীয় নির্দেশিকা মেনে চলার পাশাপাশি তা প্রয়োগ করতে হবে। মাঝারি মেয়াদে ২০০৫ সালে ডব্লিউএইচও এর নির্দেশিকা প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১০ মাইক্রোগ্রামের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসাবে ২০২১ সালের ডব্লিউএইচও নির্দেশিকা প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম অর্জন করা উচিত।
কয়লা ও ডিজেলের মত কার্বণ নিঃসরণকারী জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎসাহিত করা উচিত। এছাড়া ক্লিন পরিবহন ব্যবস্থা ও শিল্প সম্প্রসারণ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম। কঠোর শিল্প নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যানবাহন এবং কলকারখানার নির্গমন মান বাড়াতে হবে। ভূমিভিত্তিক এবং স্যাটেলাইট ডেটা একত্রিত করে জাতীয় পর্যবেক্ষণ কাঠামো তৈরি করতে হবে, স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
সিআরইএ এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্লেষক এবং প্রধান লেখক ড্যানিয়েল নেসান বলেছেন, বিভিন্ন বায়ু মানের মানদণ্ড, বাংলাদেশের বর্তমান মান এবং ২০০৫ ও ২০২১ সালের ডব্লিউএইচও এর নির্দেশিকা তুলনা করে দেখা গেছে যে, পিএম ২.৫ স্তরে সামান্য উন্নতিও জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা এনে দিতে পারে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে বায়ু দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সিআরইএ এর বায়ু মান বিশ্লেষক ড. জেমি কেলি বলেন, বাংলাদেশের বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার অপরিণত শিশু, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং শিশু মৃত্যু ঘটছে। এই পরিস্থিতি এমন হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, যা সবচেয়ে অরক্ষিতদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম। দূষণ প্রতি বছর প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন কর্মদিবসের ক্ষতি সৃষ্টি করে, যা উৎপাদনশীলতার বড় ধরনের ক্ষতি করে ব্যবসা ও পরিবারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দেয়। বাংলাদেশের বায়ু দূষণ সমস্যার সমাধান জনস্বাস্থ্য এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সমতুল্য।
ক্যাপস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা শুধু মানুষের শরীরেই প্রভাব ফেলছে না, বরং বিপর্যস্ত করে তুলছে মানসিক স্বাস্থ্যকেও। এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৪ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশগুলোর মানুষের গড় আয়ু ২ দশমিক ৭ বছর হ্রাস পেয়েছে। তবে উক্ত প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে নাগরিকদের গড় আয়ু হ্রাস পেয়েছে ৪ দশমিক ৮ বছর।
দেশের বর্তমান জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি এবং এর চারপাশের উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে এক বড় ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জননিরাপত্তা এবং দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) জ্বালানি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় প্রধান তেল ডিপোগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং দেশীয় বাজারে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সামরিক প্রহরা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বার্তা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের পাম্প ও ডিলারদের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে চাহিদার বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় বিভিন্ন অঞ্চলের তেল বিপণন কেন্দ্র এবং ডিপোগুলোতে শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং কেপিআইভুক্ত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় জ্বালানি গ্রিডে তেলের মজুদ ও বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকার প্রাথমিক তালিকায় বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিপোকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান তেল স্থাপনা, খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের প্রধান জ্বালানি ডিপো। এসব এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুদ থাকায় এদের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। ইতিমধেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েনের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং চালুর পর থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও ডিপোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এর রেশ ধরে যাতে কোনোভাবেই নাশকতামূলক বা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ডিলার এবং বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে শৃঙ্খলার সাথে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকদের মাঝে তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে এবং বণ্টন ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীল হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আলী হোসাইন।
তাকে মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়ে সোমবার (০৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
একইসঙ্গে তার চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তজনা এবং ওই অঞ্চলের আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমানের ফ্লাইট আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানের ঘোষণা অনুযায়ী, কাতার ও কুয়েতসহ আরব আমিরাতের বেশ কিছু গন্তব্যে বিমান চলাচল বন্ধ থাকছে। এর মধ্যে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অন্যদিকে, দুবাই ও আবুধাবি রুটে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত সকল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশপথ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনা ব্যবস্থায়। ইরান, ইরাক, বাহরাইন ও জর্ডানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতা জারি থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, সোমবার পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। এর মধ্যে রবিবারও বাতিল হয়েছে অন্তত ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় কেবল বিমান বাংলাদেশ নয়, রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত সব এয়ারলাইনসও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এয়ার অ্যারাবিয়া (৬টি), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস (৫টি), কাতার ও এমিরেটস এয়ারলাইনস (৪টি করে) এবং জাজিরা এয়ারওয়েজ (৪টি)। এছাড়া সৌদি অ্যারাবিয়ান, কুয়েত এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার ও ইউএই ভিত্তিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইটগুলোও নিয়মিত সিডিউল অনুযায়ী যাত্রা করতে পারছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংকট ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে। রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আকাশপথে এমন অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসী কর্মী আটকা পড়ে বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা দ্রুত প্রশমিত না হলে এভিয়েশন খাতের এই ক্ষতি ও অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় এক নজিরবিহীন জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, যদিও একটি রাজনৈতিক মহল নারীদের খাটো করে দেখে ও ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এলজিইডি কর্তৃক নির্বাচিত ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ২০২৬ অনুষ্ঠানে’ এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্রথম ঢাকায় নেমে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আশা, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেও শিগগিরই ইতিবাচকভাবে সব ঘুরে দাঁড়াবে। এসময় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ৯ জন নারীকে সম্মাননা দেয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাহরাইন ও দুবাইয়ে ১ জন করে এবং সৌদি আরবে ২ জন নিহত হয়েছেন।
দুবাইয়ে নিহত আহমদ আলীর লাশ গ্রহণকালে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নিহতের স্বজনরা।
নুরুল হক আরো জানান, নিহত প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার।
তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা যেন যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সেসব এলাকা এড়িয়ে চলে। সতর্কতার সাইরেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ওইসব দেশের আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় না দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমরা এখানে এসেছি খুবই হৃদয়বিদারক একটা অবস্থায়, বলার কিছুই নেই। আমরা সব সময় বলে এসেছি যে বাংলাদেশের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
আহমেদ আলীর মরদেহ আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইট যোগে ঢাকা পৌঁছে। নিহতের লাশ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট বিমানবন্দরে গ্রহণ করে সেখান থেকে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করবেন।
দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক স্বাবলম্বিতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের এই বিশেষ পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক এই প্রকল্পে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কর্মসূচিটির সুচারু বাস্তবায়নে আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ৪০ হাজার কার্ড বিতরণ শেষ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় চলতি মার্চ মাস থেকেই প্রতি মাসে ১০ হাজার করে নতুন কার্ড সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। জুন পর্যন্ত মোট চার ধাপে এই ৪০ হাজার অভাবী পরিবারের তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধানের নামে কার্ডটি ইস্যু করা হবে এবং মাসিক এই ভাতার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহও এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য সম্বলিত পরিবার, হিজড়া, বেদে এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার। এছাড়া যেসব কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ দশমিক ৫ একর বা তার চেয়ে কম, তাঁরাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার যে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের এই নতুন নীতিমালাটি সেই পথের অন্যতম বড় পদক্ষেপ।
তবে জনস্বার্থ রক্ষায় এই সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞাও রাখা হয়েছে। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া রোধ করতে নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা পেনশনভোগী চাকরিজীবী হলে তাঁরা কার্ড পাবেন না। এছাড়া বাড়িতে এসি বা গাড়ি ব্যবহারকারী এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী কোনো বড় ব্যবসায়ী বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিকদেরও এই সুবিধার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে এবং সেখানকার হতদরিদ্র মানুষ ঈদের আগেই এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমানে বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছে সরকার।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামান।
সোমবার (৯ মার্চ) তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
মুহা. মনিরুজ্জামান প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন বলে অফিসে আদেশে জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম ব্যাপারী পদত্যাগ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর তা গৃহীত হয়।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি দেশের শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সাক্ষাৎকালে বেপজা চেয়ারম্যান বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের আটটি ইপিজেড-এর সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
নৌ-পুলিশের প্রধান কুসুম দেওয়ানসহ একযোগে বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক ৫ প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।
অবসরে পাঠানো বাকি চারজন অতিরিক্ত আইজিপি হলেন–আবু হাসান মুহম্মদ তারিক, মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ, মো. মাসুদুর রহমান ও মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী। তাদের মধ্যে আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ও মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদ বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে মন্ত্রণালয় ন্যস্ত আছেন।
এছাড়া মো. মাসুদুর রহমান মিয়া পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকায় (টিআরপদে) এবং তওফিক মাহবুব চৌধুরী সারদা রাজশাহীতে অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দলের সংসদীয় সভা আগামী ১১ মার্চ (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওইদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত সরকারি দলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আজ (সোমবার) সংসদ সচিবালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ নেতার সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সরকারি দলের সকল সংসদ সদস্যকে (এমপি) যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
সংসদ সচিবালয় জানায়, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংসদীয় কার্যক্রমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সভায় আলোচনা হতে পারে। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আসন্ন ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, গণহত্যা দিবসের গাম্ভীর্য ও শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এক মিনিটের জন্য প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালন করা হবে। তবে কেপিআই (কী পাওয়ার ইন্সটলেশন) ও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এবারের স্বাধীনতা দিবসে বর্ণিল আলোকসজ্জার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৫শে মার্চ রাতে কোনোভাবেই আলোকসজ্জা করা যাবে না এবং ২৬শে মার্চের জাতীয় দিবসটি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হলেও তাতে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে নতুন প্রজন্মের কাছে ২৫শে মার্চের কালরাত ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরাই হবে এসব অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এছাড়া ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে সারা দেশের সিটি করপোরেশন এলাকার ডিজিটাল মিনিপোলগুলোতে গণহত্যা সংক্রান্ত দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পুলিশের আইজিপি এবং জেলা প্রশাসকদের এই কর্মসূচিগুলো নির্বিঘ্ন করার জন্য সমন্বয় করে কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও পালিত হবে। ২৫শে মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবে। সভা শেষে জানানো হয়, জাতীয় গুরুত্বের এই দুই দিবসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সভায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এবার সারাদেশে কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না। মূলত জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং সরকারি কৃচ্ছ্রসাধনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন এবং ঈদুল ফিতর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।’
রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রথাগতভাবে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে তা পরিহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকট যাতে না হয় এবং আমরা যাতে সাশ্রয়ী হতে পারি, সেজন্য দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তবে আলোকসজ্জা না থাকলেও দিবসটির গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষায় কোনো ত্রুটি রাখা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তবে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পমাল্য অর্পণসহ সব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
আসন্ন ঈদুল ফিতর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সড়কে যানজট ও ভোগান্তি রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।’
ঈদের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রস্তুতি সমন্বয়ে শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন, যাতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে।’
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত মব জাস্টিস ও বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মবের বিষয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস। বাংলাদেশ থেকে মব কালচার বিলুপ্ত করা হবে।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকেও পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
রাজধানীর অনেক বাজারেই ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দেখা যাচ্ছে। এখনো খুচরা পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। কিন্তু ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভোক্তাদের খোলা সয়াবিন ও পাম তেল কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। যুদ্ধের অজুহাত ঈদ সামনে রেখে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের গায়ের দাম (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। ডিলারের কাছ থেকে আগে তারা এই তেল ৯৩০ টাকায় কিনতেন, বেচতেন ৯৪০ টাকায়। ১০ টাকা লাভ থাকত। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে তারা ৫ লিটারের বোতল কিনছেন ৯৫০ টাকায়, বিক্রি করেন ৯৫৫ টাকায়। অর্থাৎ ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। তাতে খুচরা বিক্রেতাদের ৫ টাকা লাভ কমেছে। অন্যদিকে ভোক্তাদেরও আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হচ্ছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকটের মধ্যে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে খোলা সয়াবিন তেল কেজি আকারে বিক্রি হয়। গত চার দিনের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৯৮–২০০ টাকায়। চার দিন আগে এ দাম ছিল ১৯৩–১৯৫ টাকা। প্রতি কেজি খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকায়, যা চার দিন আগে ছিল ১৬৫ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, যুদ্ধের সুযোগ নিতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ডিলার পর্যায়ে বেড়েছে বোতলজাত তেলের দাম। এতে খোলা তেলের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্রেতাদের অনেকেই যুদ্ধের আতঙ্কে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিনছেন। এভাবে যদি আরও দু-তিন দিন তেলের বাজারে টানাপড়েন থাকে, তাহলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম আরও বাড়তে পারে।
তবে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বলছেন, ডিজেল সংকটে তেলবাহী পরিবহন পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। এ কারণে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বেড়েছে। এর কিছুটা প্রভাব পড়েছে বাজারে।
সরবরাহ কমার কারণে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ডিলাররা। কোম্পানি পর্যায়ে বাড়েনি, কিন্তু ডিলার পর্যায়ে দাম বেড়েছে কেন জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের তীর ব্র্যান্ডের ডিলার এটিএন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সেলিম বলেন, তীরের তেলের বেশ সংকট রয়েছে। শনিবার মাত্র ৫০ কার্টন তেল পেয়েছেন তিনি। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে দুই থেকে আড়াইশ কার্টন তেল পেতেন।
সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে টি কে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আথহার তাসলিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবহন সংকটে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যবাহী ট্রাক চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না। সে জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও ট্রাকের সংকটে বিভিন্ন স্থানে তেল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। এচাড়াও সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এসব কারণে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম।
খোলা তেলের ব্যাপারে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বোতলজাত তেলের কয়েক দিন ধরে সংকট চলছে। খোলা তেলের বাজারেও কিছুটা টান রয়েছে। এ কারণে বাজার বাড়তি।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা সব সময় অজুহাত খোঁজেন। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল পরিবহনে সংকট হলেও এ কারণে ভোগ্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে কিছুটা হলেও সময় লাগবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তার আগেই দাম বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, প্রতিদিনই বাজারে তদারকি করা হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে জানা নেই। অধিদপ্তরের কয়েকটি টিম পাঠিয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।