রোববার, ৭ জুন ২০২৬
২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সীমান্ত সম্পূর্ণরুপে সুরক্ষিত আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ তেজগাঁও ভূমি ভবনের কেন্দ্রীয় সেমিনার কক্ষে সনদপত্র বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৮:১৩

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। জনগণ আমাদের সব সময় সাহায্য করে যাচ্ছে। জনগণের সাহায্য ও সহযোগিতা সব সময় অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, বিজিবি সব সময় সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় আছে। সীমান্ত এখন সম্পূর্ণরুপে সুরক্ষিত রয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে তেজগাঁও ভূমি ভবনের কেন্দ্রীয় সেমিনার কক্ষে আয়োজিত বিসিএস ক্যাডারভুক্ত (প্রশাসন, পুলিশ, বন ও রেলওয়ে) এবং বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ১৩৭তম সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণ কোর্স,(২০২৪-২৫)-এর সনদপত্র বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন ।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তের এই সাইডে কেউ কোন দিন আসতে পারবে না। আমরা যতদিন বেঁচে থাকি, ততদিন আমাদের রক্ত ঝরবে। কিন্তু সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগেতো সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোন পদক্ষেপ ছিল না। এখন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই সীমান্তে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, বর্ডারে ঝামেলা হচ্ছে। দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। বিজিবি সব সময় সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত আছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনা ঘটেছে জমির ধান ও গাছ কাটা নিয়ে। দু’পক্ষের মধ্যেই ঝামেলা হয়েছে। দু’পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছে। আমাদের কোন সীমান্তরক্ষী আহত হয় নাই, জনগণ আহত হয়েছে। আমাদের মিডিয়ায় দেখিনি যে, তাদের দুজন বিএসএফ আহত হয়েছে। মেজর কিছু ঘটেনি। এটা নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ আলোচনায় সমাধান হয়ে গেছে।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁও ভূমি ভবনের কেন্দ্রীয় সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী ও ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মুহম্মদ ইবরাহিম।


সর্ববৃহৎ বাজেটের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

* ভাঙছে আমলাতান্ত্রিক ও পুঁজিপতিবান্ধব খোলস * অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ ও প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নই মূল লক্ষ্য * সংসদ ভবন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবলয়
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পটভূমির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন তথা বহুল প্রতীক্ষিত বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে রোববার (৭ জুন)। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে এই অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ জুন নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে যাচ্ছে ৮ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা থেকে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে; যা কোনো কোনো প্রাথমিক প্রাক্কলনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত স্পর্শ করেছে। চূড়ান্তভাবে এটি অনুমোদিত হলে তা হবে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে, মূল্যস্ফীতির কষাঘাত থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং একটি বৈষম্যহীন সাম্যের অর্থনীতি বিনির্মাণই এই মেগা বাজেটের মূল লক্ষ্য।

বাজেটের চিরাচরিত আমলাতান্ত্রিক ও পুঁজিপতিবান্ধব খোলস ভেঙে এক অভিনব অর্থনৈতিক দর্শন সামনে এনেছে বর্তমান সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেছেন, এবারের বাজেটের মূল দর্শন হলো ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুফল যেন কেবল গুটিকয়েক উচ্চবিত্তের হাতে কুক্ষিগত না থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছায়।

বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে তৈরি হয়েছিল চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য। নতুন সরকার এই বৈষম্যের দেয়ালে আঘাত করতে চায়।

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, বাজেটে এ যাবৎ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই সরকার বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং এতদিন অবহেলায় থাকা নারী ও প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষকে অর্থনৈতিক মূলধারায় নিয়ে আসাই এই নতুন দর্শনের মূল ভিত্তি।

মেগা বাজেটের মূল রূপরেখা ও লক্ষ্যমাত্রা: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বাজেটের আকার যেমন বিশাল, তেমনি এর অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রাগুলোও বেশ উচ্চাভিলাষী। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক রূপরেখাটি নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

বাজেটের সম্ভাব্য আকার: ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (সর্বোচ্চ প্রাক্কলন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা)।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা: প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। কর জালের সম্প্রসারণ এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP): সম্ভাব্য আকার ৩ লাখ কোটি টাকা। অনুৎপাদনশীল খাতের ব্যয় কমিয়ে এই অর্থ সরাসরি জনকল্যাণমূলক ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণ।

প্রান্তিক মানুষের সুরক্ষায় যুগান্তকারী উদ্যোগ: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’; নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা কেবল বাড়ানোই হচ্ছে না; বরং এর বিতরণ প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে আমূল সংস্কার। অতীতে সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা বা অনুদান বিতরণে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের লুটপাটের যে সংস্কৃতি ছিল, তা কঠোরভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড: নিম্ন আয়ের পরিবার এবং বিশেষভাবে গৃহিণীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি প্রকৃত উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ফার্মার্স কার্ড: দেশের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি মূল্যে সার-বীজ এবং স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।

সরকার মনে করে, কৃষি খাতের প্রকৃত আধুনিকায়ন ও কৃষকের ক্ষমতায়ন ছাড়া মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদদের প্রধান ক্ষোভ ছিল, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অনুপাতে সরকারি ব্যয় অত্যন্ত কম। নতুন সরকার এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট দূরীকরণে মানবসম্পদ খাতকে ব্যয়ের মূল কাঠামোতে পুনর্বিন্যাস করেছে। শীর্ষ ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রস্তাবিত বাজেট প্রাক্কলন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির হার অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে অনেক বেশি।

শিক্ষা খাতের নতুন আশাবাদ: শিক্ষা খাতকে মেধাভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার মূল হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়: প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করতে এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা থেকে একলাফে ৪২,১৪০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি।

উন্নয়ন বাজেটে চমক: আরও বড় পরিবর্তন আসছে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন বাজেটে (ADP)। এখানে বরাদ্দ ১১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা করা হচ্ছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ: এই বিভাগের বরাদ্দ ৪৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার: দেশের সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পকেটের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলতে হয়। এই ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’ বা পকেটের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোকে সরকার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার (সার্বজনীন ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা) সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসাসেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি স্বনামধন্য বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পৃক্ত করার নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

নতুন দিগন্ত: ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতি: এই বাজেটের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং প্রগতিশীল দিক হলো ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতির অন্তর্ভুক্তি। প্রচলিত অর্থনীতিতে কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মীদের অবদানকে জিডিপির খেরোখাতায় তেমন মূল্যায়ন করা হতো না। নতুন অর্থমন্ত্রী এই ধারণার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। তিনি মনে করেন, জিডিপি কেবল বড় বড় ধোঁয়া ওড়ানো শিল্প-কারখানা থেকে আসে না; সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কারুশিল্পের মতো সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে পারে। এই লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে এই অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কর্মসূচির রূপরেখা থাকছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, আধুনিক ডিজাইন সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সরাসরি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’: বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার জন্য সরকার ‘লাইসেন্স রাজ’ ও আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আইনি নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিলম্ব দূর করে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ (Deregulation of Economy) গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এখন থেকে ব্যবসার বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন একটি নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। এই নিয়ম বাস্তবায়নে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা দুর্নীতি করতে চাইলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প পর্যবেক্ষণে ড্যাশবোর্ড: এই অপচয় ও দুর্নীতি রোধে নতুন বাজেটে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালু করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কাজ বিলম্বিত হলে বা অনিয়ম হলে দায়ী কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

পুঁজিবাজার পুনর্গঠন: ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হচ্ছে। শিগগিরই রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে অত্যন্ত পেশাদার, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হবে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হতে পারেন।

সরকারের এই মানবসম্পদমুখী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়ানোর এই উদ্যোগ ঐতিহাসিক এবং প্রশংসনীয়। তবে কাগজের এই বরাদ্দ বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হবে, তা নিয়ে তারা কিছুটা চিন্তিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনের দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পুরোপুরি দূর করা না গেলে ড্যাশবোর্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উন্নত প্রযুক্তির সুফলও ভেস্তে যেতে পারে। তাই বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করাই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সংসদ ভবনে কঠোর নিরাপত্তা: এদিকে, ঐতিহাসিক এই বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সংসদ ভবনের চারপাশের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব ধরনের অস্ত্র বহন, মিছিল, জনসভা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদ কক্ষের কারিগরি প্রস্তুতিসহ অধিবেশন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ দেশের এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন বসেছিল। সেই প্রথম অধিবেশনটি দীর্ঘ ২৫ কার্যদিবস ধরে চলে এবং ৯৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস ও ১৩৩টি জরুরি সরকারি অধ্যাদেশ উত্থাপনের এক অনন্য রেকর্ড গড়ে গত ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।


স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করবে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তির বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরিসংক্রান্ত সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাসান শিপলু জানান, সরকার জনগণের দোরগোড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আরও জানান, প্রথমে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে এই প্রকল্পের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির কাজ শুরু হবে। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে এবং আমদানি নির্ভরতাও কমবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, তিন পর্যায়ে সেবা দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী-এই তিন ধরনের অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশে অ্যাম্বুলেন্সের চাহিদা পূরণ হবে। ফলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জরুরি রোগী পরিবহন ব্যবস্থাতেও উন্নয়ন ঘটবে।

প্রেস উইং আরও জানায়, সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্ট এবং জরুরি সেবার বিভিন্ন সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনা আছে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক যোগাযোগ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এসব যানবাহনের ডিজাইন করা হবে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ এহসান, অধ্যাপক জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক আবদুল সালাম আখন্দ, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সীমান্তে থামছে না পুশইন, রুখে দিচ্ছে বিজিবি

১০০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শনিবারও (৬ জুন) দেশের কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালায় তারা। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থানের মুখে কয়েকটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করা ১০০ জনকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে তারা। একইসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে রুখে দিচ্ছে এমন অপতৎপরতা। খবর দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিদের।

ঠাকুরগাঁও: মশালগাঁও সীমান্ত দিয়েও ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিহত করে বিজিবির সদস্যরা। পরে পতাকা বৈঠকে বিষয়টি অস্বীকার ও সীমান্তে শূন্য রেখায় অবস্থান করা ১১ জনকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে বিএসএফ।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর: হিলির ঘাসুড়িয়া সীমান্ত দিয়েও চলে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা। ৫ জনকে ভোরে এপারে ঠেলে দিতে গেলে, তা রুখে দেয় বিজিবি। অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

লালমনিরহাট: জেরার ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, সীমান্তে পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।

নওগাঁ: সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে টানা ১৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাতেই ওই ব্যক্তিদের আবারও ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পঞ্চগড়: সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় দীর্ঘ ৩৫ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন পুশইন হওয়া ১০ জন। তাদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিজিবি-বিএসএফ।

এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে অধিনায়ক পর্যায়ে বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

শেরপুর: নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের (অবৈধ অনুপ্রবেশ) চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বিশেষ মাইকিং করেছে বিজিবি। ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধীনস্থ নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১১৮-এর নিকটবর্তী চেরাংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাবুরামবিল ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় ৫-৬ জন লোককে ভারতের মেঘালয় থেকে ধরে এনে বাংলাদেশে পুশইনের জন্য জড়ো করে রেখেছিল বিএসএফ। কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকা দিয়ে গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় সুযোগ বোঝে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় সীমান্তবাসীর সম্মিলিত ও তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় এই অপপ্রয়াস সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

এই ঘটনার পর ৩৯ বিজিবির অধীনস্থ সকল বিওপিতে (বর্ডার আউটপোস্ট) তাৎক্ষণিকভাবে জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পুশইনের সম্ভাব্য ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি টহল দলগুলোর সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক অবস্থায় রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক জরুরি সভা করা হচ্ছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় কোনো দালাল এই চক্রের সাথে জড়িত আছে কি না, সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ জানান, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা রক্ষায় এবং যেকোনো প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সদা জাগ্রত থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে মাদকপাচার, চোরাচালানি মালামাল রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন রোধকল্পে বিজিবি জিরো টলারেন্স বা কঠোরতা নীতি অনুসরণ করছে।

মেহেরপুর: গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। ফলে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে কোনো দেশেই আশ্রয় না পেয়ে রোদে পুড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে অনাহারে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঝোঁপের মধ্যে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ভারত থেকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া ৬ জন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়াসংলগ্ন সীমান্তের মেন পিলার ১০৪-এর সাব পিলার ৫-এর কাছ দিয়ে বিএসএফ ওই ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে।

এ সময় বিজিবি ও গ্রামবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা ভারতের সীমান্তের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

তবে বিএসএফ তাদের পুনরায় গ্রহণ না করায় ওই ৬ জন বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। আটকে পড়া এই দলে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১ শিশু রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২০ সালে তারা ভারতে যাওয়ার পর সেখানে কারাভোগ করেন। পরে গত শুক্রবার বিএসএফ তাদের আটক করে সীমান্তের কাছে নিয়ে এসে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়।

এ ঘটনার জেরে গতকাল শনিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই রাজেন্দ্র কুমার পোয়ালে এবং বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন কোম্পানি কমান্ডার এসআই ওসিকুর রহমান।

বৈঠক হলেও কোনো দেশই তাদের নিতে রাজি হয়নি। ফলে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে ভারতীয় কাঁটাতারের কাছে চরম অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই সকল মানুষ দাবি করছে তারা বাংলাদেশের বাসিন্দা। তারপরও অনাহারে রোদে পুড়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে কষ্ট করছে। হ্যাঁ এটা ঠিক আমরা তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছি।

এ ছাড়া শুক্রবার রাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭ জন। খবর পেয়ে বান্দরবানের রেমাক্রি হৈকু খুমি পাড়া থেকে তাদের হেফাজতে নেয় বিজিবি। এরপর তাদের পুশব্যাক করানো হয়।’


অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেলেন পাঁচ কর্মকর্তা, গ্রেড-১ পেলেন দুজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুলিশের পাঁচজন উপমহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের দুই অতিরিক্ত আইজিপিকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পদোন্নতি পাওয়া পাঁচ কর্মকর্তা হলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-২ প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাদের যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা এবং পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেনকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ পদোন্নতি ও পদমর্যাদা প্রদান বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।


ভিসা ছাড়া যে ৩৬ দেশে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ পিছিয়ে এখন ৯৬তম স্থানে নেমেছে, যা আগের তালিকায় ছিল ৯৫তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর মে মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, এই অবস্থান পরিবর্তন সত্ত্বেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৬টি দেশে কোনো ধরনের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।

এই তালিকায় ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের বার্বাডোজ, ভুটান, কম্বোডিয়া, ফিজি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সেশেলস, বাহামাস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, ভানুয়াতু, সামোয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জিবুতি ও মাদাগাস্কারসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ও দ্বীপ রাষ্ট্র রয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য সব দেশে ভ্রমণের নিয়ম এক নয়। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও অনেক দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণের পূর্বে অনলাইনে ই-ভিসা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এদিকে মে মাসের এই বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। সূচকে দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে অবস্থান করছে এশিয়ার দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত।

এ ছাড়া শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে এককভাবে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে সুইডেন। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউরোপের একাধিক ক্ষমতাধর দেশ, যার মধ্যে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যৌথভাবে অবস্থান করছে।


৬৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়েনি: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে কোনো দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি জানান, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের আগের দামই বহাল থাকবে, যার ফলে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ বিগত সরকারের আমলের নানা অপরাধের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির চক্র থেকে দেশকে বের করে আনার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছে বর্তমান সরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী নীতির চেয়ে আমদানি-নির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তৎকালীন সময়ে যদি আমদানি-নির্ভরতার চেয়ে উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করা হতো, তাহলে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি সফল করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে।

আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি, চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদন সংক্রান্ত আরেকটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় স্থানীয় প্রযুক্তি, মেধা ও উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং কম খরচে মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা যায়, তার সম্ভাবনা ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


প্রধানমন্ত্রীর সাথে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। সফরের প্রথম দিকে শুক্রবার তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং রাতেই পুনরায় রাজধানীতে ফিরে আসেন। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে আজ বিকেলেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।


ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুরু হচ্ছে মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান

সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হবে। শনিবার সকালে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী এবারের ডেঙ্গুর ধরণ হতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক, যাকে ‘হেমোরেজিক’ বলা হচ্ছে। এই ধরণের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দ্রুত রক্তক্ষরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীকে সতর্ক করার কাজ জোরদার করা হবে।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি এলাকার ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যদি জনগণ ও সিটি করপোরেশন প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবেই এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।


জাতিসংঘের মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

আজ শনিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত এই বীর যোদ্ধাদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করেন। নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে পদকগুলো গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী। সম্মাননাপ্রাপ্ত এই শান্তিরক্ষীরা হলেন—কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব পালনকালে এক আকস্মিক ড্রোন হামলায় শাহাদাত বরণ করেন।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে এই মরণোত্তর পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী শোক বইতে স্বাক্ষর করে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকটি ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মাননা। এটি মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ বিসর্জনকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অসামান্য অবদান ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।


সীমান্তে বাড়ছে ‘পুশইন’

* চার জেলায় ৮৮ জনের প্রবেশ ঠেকাল বিজিবি   * অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত: জয়সাওয়াল * সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বিজিবি * অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করবে না  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক   

কাগজে-কলমে ‘মৈত্রীর সোনালী অধ্যায়’ আর মুখে সৌহার্দ্যের ফুলঝুরি ছড়ানো হলেও, ভারতের বর্তমান সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত ও আচরণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বন্ধুত্বের চেয়ে তিক্ততার ছায়াই আজ বেশি দৃশ্যমান। কারণ, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে হঠাৎ করেই এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর এবং চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং ন্যূনতম মানবিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সীমান্ত পথ দিয়ে জোরপূর্বক নারী, শিশু ও পুরুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) এক ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং সে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথিত ‘অবৈধ নাগরিক’ পুশ-ব্যাক করার প্রস্তুতির খবরের পরপরই সীমান্তের এই আকস্মিক রূপবদল জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৮৮ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ৮৮ জনই বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেননি।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, পুশ-ইন ইস্যুটিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশেরই যুক্তি ও মানবিকতা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক ব্রিগেডিয়ার জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ারের (অব.) মতে, পুশইনের মতো সংবেদনশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এক ধরনের চাপ বজায় রাখছে। এসব কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। সম্পর্কোন্নয়নের বদলে তিক্ততা ও অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে।

এদিকে, বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া যত দ্রুত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে, তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য যে কোনো দেশের নাগরিক হোক, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হবে।

যদিও গত মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা পাঠিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আইনগত নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন সরকারের কাছে ঝুলে নেই।

বিজিবি সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ও বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করা হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। পুশইনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বে থাকা অনেক সদস্যের ছুটিও সীমিত করা হয়েছিল।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আলোতে বিএসএফের সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে ১০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তবে বিজিবির কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে নিয়ে ভারতীয় সীমানার ভেতরে সরে যেতে বাধ্য হয়।

যদিও বিএসএফ তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে না নিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবরুদ্ধ করে রেখে দেয়।

নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে যে এই ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু এর সপক্ষে তারা কোনো বৈধ প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে পারেনি।

লমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চারটি ভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একযোগে বড় ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকায় ৫ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুকে মারধর করতে করতে কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) পঁয়ছড়াবাড়ি ক্যাম্পকে অবহিত করেন। বিজিবি ও স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়।

একই সময়ে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন সীমান্তে ১১ জনকে এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও দিঘলটারী সীমান্তে আরও ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। দবে বিজিবির ১৫ ও ৬১ ব্যাটালিয়নের জোয়ানরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে প্রতিটি পয়েন্টে বিএসএফকে রুখে দেয়। ৩৩ জন ভারতীয় শূন্যরেখার ২০ গজের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।

বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান জানান, বিএসএফের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির পামাপাশি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি। রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য পুশ-ইন এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির জোয়ানরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।

দিনাজপুর: প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের আশঙ্কায় দিনাজপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ করছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথগুলোতে দিবা-রাত্রিকালীন অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করার পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন নাইট ভিশন গগলস এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় জনগণকে নিয়ে ছোট ছোট ‘সতর্কতামূলক স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো দালাল চক্র পুশ-ইনে সহায়তা করতে না পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের বাঙ্গাবাড়ী ক্যাম্প এবং বিপরীতে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে গভীর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা। তবে বিজিবির টহল দলের তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে বিএসএফের এই অপারেশন ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই দুই দিন ধরে ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।

বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে কথা বলে জানা গেছে যে বিএসএফ তাদের যে সামান্য খাবার দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে এবং তাদের মধ্যে এক বয়স্ক নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এই ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। তারা দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন।

বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ পুশ-ইনের কথা স্বীকার করেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি জানায়নি। ফলে এই ২৮ জনের ভাগ্য এখনো মহাকাশে ঝুলছে।

নওগাঁ : শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে (২৩৮/এমপি পিলার) বিএসএফ-এর পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা আকস্মিকভাবে জোরপূর্বক ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। এই অনুপ্রবেশের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে।

তবে বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) হাঁপানিয়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোয়েন্দা সূত্রের খবর পেয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পা রাখতে বাধা দেয় এবং ভারতীয় শূন্য লাইনের ভেতরেই তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং শূন্য রেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পুরোপুরি ফেরত পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মেহেরপুর: জেলার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জটিল, কারণ এর তিন দিক জুড়েই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। দীর্ঘ ৯৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) ও মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার ১৯টি বিওপি এবং একটি আইসিপির মাধ্যমে মোট ৮১টি বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই টহলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সীমান্ত এলাকার কাথুলী গ্রামের বাসিন্দা জামাল ও খাইরুল ইসলামের মতো শত শত যুবক লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইটের মতো দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে দল গঠন করে সারারাত বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা বিএসএফের নড়াচড়া দেখামাত্রই তারা বিজিবি ক্যাম্পে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।

বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই যৌথ প্রতিরোধ বিএসএফের পুশ-ইনের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি রুখে দিয়েছে।

নেত্রকোনা : জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলের সাথে যুক্ত। পাহাড়, জঙ্গল এবং সোমেশ্বরী নদীর চরাঞ্চল ঘেরা এই সীমান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও দুর্গম। চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই সীমান্ত দিয়েও পুশ-ইনের চেষ্টা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, বিজিবি এই পাহাড়ি সীমান্তের প্রতিটি তল্লাশি চৌকিতে জনবল দ্বিগুণ করেছে। মেগাফোন, সার্চলাইট এবং স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ যেন কোনো অন্যায্য সুবিধা না নিতে পারে, সে জন্য বাহিনীটি শতভাগ প্রস্তুত ও জাগ্রত রয়েছে।

প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি।


অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিনিয়োগ রোড শোর উদ্যোগ সরকারের

* ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের * একক প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে * ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারী তহবিলের ঋণ পাবে না * তহবিল স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন হলে গতি ফিরবে রপ্তানিতে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেকটাই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে সামস্টিক অর্থনীতি। অর্থনীতিকে সচল করতে সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে মূলধনের যোগান দেওয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোডশোসহ নানা কর্মকরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন: কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের: গত ২৩ মে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন এই ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সেই উদ্যোগেরই অংশ। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত-সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

একক প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে:

দেশের বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ ১৪ শতাংশেরও বেশি। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে।

ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারী তহবিলের আওতায় আসবে না: রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করতে চায়, তারাও এ সুবিধা পাবে। তবে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের রেকর্ড থাকলে তারা এ তহবিলের আওতায় আসতে পারবে না।

ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। এছাড়া ঋণগ্রহীতারা প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে। এই ঋণের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কেনায় ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এই অর্থ ব্যবহার করে পুরনো কোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয় করা যাবে না।

ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিয়মিত তদারকি করবে। প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও যে কোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তাদের মতে, ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে তারল্য সংকট কাটিয়ে কয়েকশ বন্ধ বা আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার সম্ভব হবে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।


বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘রোড ডিভাইডারে গাছ লাগাই সবুজে সাজাই শহর সবাই’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে তেজগাঁওয়ের বিএসটিআই ও আমাদের সময়ের মাঝখানের সড়ক বিভাজকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ও দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার, আমাদের সময়ের অনলাইন ইনচার্জ বিপুল হাসান, সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ ক্বাফী, গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য গিরীশ গৈরিক, এমিলিয়া খানম, লাবণ্য লিপি, আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লাসহ সংগঠনের সদস্যরা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা করেছে শিকদার এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আমিনুল ইসলাম।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও বাসযোগ্য করতে হলে পরিবেশের বিকল্প নেই। যেহেতু এই পৃথিবী দিন দিন উষ্ণ হয়ে ওঠছে। আজ থেকে ১০ বছর আগে এই দেশে গড় তাপমাত্রা কত ছিল? এখন কত? বিষয়গুলো সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। বাসযোগ্য দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আমরা আজকে এখানে নিম গাছ রোপণ করলাম। প্রশ্ন আসতে পারে নিম গাছ কেন? কারণ নিম গাছ বেশি অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বেশি করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটা নাগরিকদের স্বস্তি দেবে। সবুজ পৃথিবী গড়তে প্রত্যেকের অন্তত একটা করে গাছ লাগানো উচিত। বর্তমান সরকার পরিবেশের বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনাজুড়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার।

গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী উষ্ণায়ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসকে ঘিরে আজ গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তেজগাঁও এলাকায় রোড ডিভাইডারের মাঝখানে গাছ লাগানো হলো। আমরা এখানে অনেকগুলো নিম গাছের চারা রোপণ করেছি। এটা একটা ঔষধিগাছ। আপনারা জানেন নিম গাছ খুবই উপকারী একটি গাছ। এটি মানুষের রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যচর্যায় বিভিন্ন উপকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আসুন সবাই একটি করে হলেও গাছ লাগাই। সবুজে ভরে উঠুক সারা পৃথিবী।’

গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার বলেন, ‘আজ আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে একত্রিত হয়েছি- সড়কের ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে। একটি গাছ শুধু পরিবেশ সুন্দর করে না, এটি আমাদের জীবন রক্ষা করে, বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়, তাপমাত্রা কমায় এবং শহরকে বাসযোগ্যও করে তোলে। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র গরম, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সচেতন প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সবুজ নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ডিভাইডারে রোপিত প্রতিটি চারা হবে দূষণের বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিবাদ, উষ্ণতার বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিরোধ এবং জীবনের পক্ষে একেকটি সবুজ ঘোষণা। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বৃক্ষ সংরক্ষণেও সমানভাবে দায়িত্বশীল হব। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করা।’

গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক বলেন, ‘পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা দেশব্যাপী গাছ লাগাতে চাই। এই প্রত্যাশা নিয়ে আজকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। সরকারের সবুজায়নের উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে গ্রিন কনসার্নস সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’


banner close