মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বিমান বাহিনীর এয়ার মার্শাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার মার্শাল সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ১৯:০২

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার মার্শাল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার চট্টগ্রামে বাহিনীর ঘাঁটি জহুরুল হক এই সম্মেলন হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বিমান বাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক- এর এয়ার অধিনায়ক অভ্যর্থনা জানান। সম্মেলনে বিমান বাহিনী প্রধান উপস্থিত এয়ার ভাইস মার্শাল পদবীর কর্মকর্তাগণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি দেশের আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি দেশমাতৃকার সেবায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সকল সদস্যবৃন্দের প্রতি আহবান জানান এবং বিমান বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরবর্তীতে তিনি এয়ার ভাইস মার্শাল পদবীর কর্মকর্তাগণের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।


শপথ নিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা

আপডেটেড ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশের আইনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাবর্তন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর আজকের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন বিএনপি নেতারা।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঝপথে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ফলে দীর্ঘদিন বিএনপির কোনো সরব উপস্থিতি ছিল না এই সংসদ ভবনে। ফলে দীর্ঘ ১৫ বছর পর আজ যখন দলটির সংসদ সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে শপথ নিতে কক্ষটিতে প্রবেশ করেন, তখন এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়। শপথগ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একে একে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং নতুন বাংলাদেশের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম ধাপে বিএনপির সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। এর মাধ্যমে দলটির সংসদীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের পরপরই বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনেই বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচন করা হবে, যার মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ চূড়ান্ত হবে।

সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় আজ সকাল থেকেই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে সংসদ সদস্যরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আজকের এই আয়োজনের পর বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন। বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার নবসূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা রয়েছে।


বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা ঢাকায় পৌঁছেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলসহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিতব্য এই নতুন মন্ত্রিসভার অভিষেক অনুষ্ঠানে নেপালের এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত নেপাল দূতাবাস এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য যে, নেপালের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের গভীর কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতেও এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। বর্তমান ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং ফলাফল স্থগিত থাকা আরও দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা আরও ৩টি আসন লাভ করেছেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যান্য শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এই বিশাল জনসমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করছে। আজ বিকেলের রাজকীয় এই অনুষ্ঠানে তিনি ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সাথে শামিল হবেন। বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মধ্য দিয়ে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি, জলবিদ্যুৎ এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে স্বাগত জানাতেই নেপালের এই বিশেষ কূটনৈতিক অংশগ্রহণ। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলেই তিনি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।


নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকা পৌঁছেছেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল। আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পাকিস্তানের এই শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশন আহসান ইকবালের আগমনের তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আজ সকালে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানের এই ফেডারেল মন্ত্রী আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নতুন মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার যে পালাবদল ঘটছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পাকিস্তানের এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে একটি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। আহসান ইকবালের এই সফরের মধ্য দিয়ে আগামীতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা এবং উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন করে সহযোগিতার বাতাবরণ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

উল্লেখ্য যে, আজকের এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিতে ইতিমধ্যে ভারত, মালদ্বীপ, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিকেলের এই শপথ অনুষ্ঠানের আগে আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিজয়ীদের শপথ পাঠ করাচ্ছেন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এই অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ও রাজকীয় পরিবেশ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


মন্ত্রিসভার ৫০ সদস্যকে নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব এ এস এম ইবনুল হাসান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সম্ভাব্য ৫০ জন মন্ত্রিসভার সদস্যের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার সর্বোচ্চ ৫০ জন হতে পারে এমন একটি ধারণা থেকে এই আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রকৃত সদস্য সংখ্যা এর চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে, তবে প্রশাসনিকভাবে ৫০ জন সদস্যের নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক প্রটোকলের যাবতীয় ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রেরিত চিঠিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যরা যাতে শপথ অনুষ্ঠানস্থলে নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের বাসস্থান ও কর্মস্থলে যথাযথ প্রটোকল পান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুলিশের আইজিপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং ডিএমপির প্ররক্ষা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও প্রটোকল গাড়ির ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে আজ দুপুর থেকেই সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন না করার কঠোর বার্তা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন সরকারের এই অভিষেকের মধ্য দিয়ে দেশে যে গণতান্ত্রিক রূপান্তর শুরু হতে যাচ্ছে, তার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল ধাপ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


নতুন সরকারের শপথে উপস্থিত থাকছেন বিদায়ী উপদেষ্টারা: ফিরবেন পতাকাবিহীন গাড়িতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারাও। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপদেষ্টাদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চললেও সরকারের পক্ষ থেকে সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতেই তাঁরা আজ সশরীরে সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকছেন।

গতকাল সোমবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের ‘দেশের গর্বিত সন্তান’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে তাঁরা প্রত্যেকেই বর্তমানে দেশেই অবস্থান করছেন এবং নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে তাঁরা সগৌরবে অংশ নেবেন। প্রেস সচিব একটি বিশেষ প্রতীকী বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে জানান যে উপদেষ্টারা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সংসদ ভবনে যাবেন রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী জাতীয় পতাকা সংবলিত বা ফ্ল্যাগবাহী গাড়িতে করে। তবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁরা সেখান থেকে ফিরে যাবেন, তখন তাঁদের গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না। এটি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার একটি সম্মানজনক ও সাংবিধানিক নিদর্শন।

এদিকে উপদেষ্টাদের মধ্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ইতোমধ্যে তাঁর পুরোনো আবাসস্থলে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে কর্মস্থল থেকে যথাযথভাবে আনুষ্ঠানিক বিদায় গ্রহণ করেই তিনি ঢাকা ছেড়েছেন। তবে অন্য কোনো উপদেষ্টার দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সদস্যরা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির যে কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন, তার চূড়ান্ত সফল সমাপ্তি ঘটছে আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদায়ী উপদেষ্টাদের সসম্মানে বিদায় জানাতে এবং নতুন সরকারের পথচলা মসৃণ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজকের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার নবসূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


শপথ নিতে সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে দীর্ঘ ১৫ বছরের বিরতি শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সংসদ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সকাল ৯টা থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গাড়ি সংসদ ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দেড় দশক পর নিজেদের প্রিয় প্রাঙ্গণে প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তে অনেক সংসদ সদস্যকেই আবেগাপ্লুত হতে দেখা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এই অনুষ্ঠান পরিচালিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সংসদীয় রীতি ও রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ নেবেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন বয়কট এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও কারচুপির অভিযোগে সংসদ থেকে পদত্যাগ করার ফলে দীর্ঘ সময় বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির বাইরে ছিল। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে তারা আবারও দেশের শাসনভার ও সংসদীয় নেতৃত্বে ফিরে এসেছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সংসদ ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংসদ সদস্য হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ রোধে গেটে কড়াকড়িভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য পুরো চত্বর নজরদারিতে রাখছেন। আজকের এই আয়োজনের সফল সমাপ্তির জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের এই আনুষ্ঠানিক শপথের পর আজ বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ অন্তত ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাসহ সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে আসছেন। এই ঐতিহাসিক দিনটির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ আজ, পুনরায় গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ

* দেশি-বিদেশি ১২০০ অতিথি আমন্ত্রিত * মন্ত্রিদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন * সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন সিইসির কাছে  
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। এবার অপেক্ষা প্রত্যাশিত গণতন্ত্রে ফেরার। সেই শুভক্ষণেরও সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় সংসদ ভবনের নির্ধারিত কক্ষে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ সংসদ সদস্যের শপথ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরাও শপথ নেবেন আজ। এ মহাযজ্ঞ ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংসদের প্রবেশপথ ও ভেতরে নেওয়া হয়েছে চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির ১৫ হাজার সদস্য। স্ট্যান্ডবাই থাকবে সোয়াট, বোম্ব ডিস্পোজাল ও বিশেষায়িত সব ইউনিট। এই শপথের মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হতে যাচ্ছে; যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন বাংলাদেশের।

সাধারণত বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও এবার তেমনটা হচ্ছে না। এবার প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই দিন সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন সংসদ-সদস্যদের শপথ পড়াবেন। অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন।

প্রথা অনুযায়ী শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও ঢাকায় আসছেন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিবে বলে ধরণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচন এবং শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতির সামনে এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন ও মানবাধিকার। সরকারের শাসন ব্যবস্থা এমনভাবে দৃশ্যমান হতে হবে-যেন নিশ্চিতভাবে ‘জনগণের সরকার’ হিসাবে আখ্যা দেওয়া যায়।

সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, এটা একটা নতুন যাত্রা। অতীতের স্বৈরশাসনের পরিণতি আমরা দেখেছি। আমরা অবশ্যই আশা করব-যেন সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে মসৃণভাবে সামনের পথ পাড়ি দিতে পারি। তিনি আরও বলেন, স্বৈরশাসন কেন হয়েছিল, সেটার কারণগুলোও মনে রাখতে হবে। কারণ জবাবদিহির অভাব ছিল। সংসদ ঠিকমতো কাজ করত না। বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রাখা হয়েছিল। এখন এগুলো যে রাতারাতি সব ঠিক হয়ে যাবে, এমনটা নয়। কিন্তু এগুলোর দিকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। আমরা চাইব-জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, জাতীয় সংসদ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু যেন সুসংহত থাকে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর প্রথমদিনের যাত্রাটা খুব সুন্দর হয়েছে। বিএনপি বিজয় মিছিল বা সমাবেশ না করে দোয়া ও প্রার্থনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা ভালো পদক্ষেপ ছিল। আমরা আশা করব-নতুন সরকার অতীতের তুলনায় অনেক বেশি জবাবদিহিমূলক হবে। তারা নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার ব্যাপারে সচেতন থাকবে। আইনের শাসনের ব্যাপারেও নজর দেবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাত করবে না। এসব কিছুর একটা মূল্যায়ন নতুন সরকারের প্রথম ৬ মাসের মাথায় করা যাবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রত্যাশিত যে বাংলাদেশ, সেই পথে যাত্রা শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটাকে কতটুকু কাজে লাগানো যায় সেটা দেখতে হবে।

নতুন সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ আমাদের কোনো ব্যাপারেই ঐকমত্য নেই। আমরা একে অপরের সঙ্গে মিলে কাজ করতে পারি না। কিন্তু আমাদের সবাই মিলেই এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ যে সমাজে তরুণ বেশি সেখানে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বেশি।

রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা একটা নতুন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি। কারণ নির্বাচনের পরে ঝুঁকি থাকে সব পক্ষ নির্বাচনকে মেনে নিয়েছে কিনা? শক্তিশালী সরকারের জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার ছিল সেটা তারেক রহমান পেয়েছেন, এখন নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরুর অপেক্ষা মাত্র।


নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩৭ বাড়ি প্রস্তুত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোডসহ আরও কয়েকটি জায়গায় ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।

নতুন সরকারের মন্ত্রীদের আবাসনের বিষয় জানতে চাইলে আদিলুর রহমান বলেন, আমরা ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছি। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে এ বাড়িগুলো রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।

এ ৩৭টি বাড়ির মধ্যে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের বসবাস করা বাড়িগুলোও রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভান কোথায় হচ্ছে জানতে চাইলে শপথের আগের দিনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি আদিলুর রহমান।

তিনি বলেন, ওনারা যেভাবে চান সেভাবে হবে। ওনাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে মঙ্গলবান নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে বলে জানিয়েছেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।


এটি কেবল ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের ভালোমন্দ ভুলে গেলেও জুলাই সনদ জাতি স্মরণ রাখবে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা; নতুন বাংলাদেশের জন্ম। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মানুষ এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের মুক্তি, আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদার দাবি উচ্চারণ করেছিল। সেই সময় দেশ একটি গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও মানবিক সংকটে নিপতিত ছিল। রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল, গণতন্ত্র হয়েছিল ধুলিস্যাৎ, ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। ঠিক সেই সংকটময় সময়ে আমাকে আহ্বান জানানো হয়েছিল—একটি লক্ষ্য সামনে রেখে। বাংলাদেশকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য তিনটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। আমি ও আমার সহকর্মীরা—সবাই আমরা সেই অঙ্গীকার রক্ষার চেষ্টা করে গেছি। কোথায় কতটুকু সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি, কোথায় ব্যর্থ হয়েছি সে বিচারের ভার আপনাদের ওপর থাকল। আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়—এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা; নতুন বাংলাদেশের জন্ম। এই অর্জনের পেছনে যারা ছিলেন—জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সেই সাহসী মানুষ, শহীদ ও আহতরা—তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এই প্রক্রিয়া সফল করতে দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা সবাই সহযোগিতা করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইল। আপনাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট-বড় ভালোমন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না। এই সনদ রচনা এবং গণভোটে পাশ করানোর জন্য আমি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে আজ অভিনন্দন জানাচ্ছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল—তার কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে এবং প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সংস্কারগুলো নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে সেটা নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের ১৬ বছরে এ দেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যে ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তা আমাদের জাতির জন্য এক গভীর ও বেদনাদায়ক শিক্ষা। এই অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত আয়নাঘর সৃষ্টি না হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিচার করা এবং যেন আর কেউ এ ধরনের দুঃশাসন কায়েম করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। বিচার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একাধিক ট্রাইবুনাল বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই একাধিক মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশে যে গুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল সেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও শুরু হয়েছে। বেশকিছু মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন শেষের পথে। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।


রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যাদের নাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভিন্নজনের নাম বলা হচ্ছে।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আলোচনায় আছেন।

তবে মোশাররফ হোসেনের নাম জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানও আলোচনায় আছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ। বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ হবে।

মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নাম সামনে আছে। বেশ কিছু নেতা মন্ত্রী হচ্ছেন, সেটা প্রায় চূড়ান্ত। এর সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে।

নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।’

নতুন সরকার গঠনের পর বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বিষয়টি তিনি গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তখন আরও বলেছিলেন, ‘সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। এতে মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা গেছে যে সম্ভবত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।’

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ আছে মো. সাহাবুদ্দিনের। যদিও সেই সময় পর্যন্ত তিনি পদে থাকছেন না, যা স্পষ্ট হয়েছে রয়টার্সের সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারে।

বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে আগেও আলোচনা হয়েছে। ২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশে দলটির নেতা জি এম সিরাজ বলেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী। আর রাষ্ট্রপতি হবেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

৭৯ বছর বয়সি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি জ্বালানিমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন আদায়ে সংগঠকের ভূমিকায় ছিলেন।

৭৯ বছর বয়সি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা–১ আসন থেকে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে চারবার সংসদ সদস্য হন তিনি (১৯৯১, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন এবং ২০০১)।

এদিকে বিএনপির একটি সূত্র বলছে, খন্দকার মোশাররফ দলের কার্যক্রমে কিছুটা কম সক্রিয়। নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখেন, যাতে তাকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি না হয়।

সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামটি আলোচনায় থাকলেও তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে দলের ভেতর। খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জমায়েতে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দিয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। এবার বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।

নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ মন্ত্রীদের নাম জানা যাবে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে, কে হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি।


৯ বছরের মধ্যে এডিপি ব্যয় সর্বনিম্ন, সাত মাসে বাস্তবায়ন ২১ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে বড় ধরনের ধীরগতি দেখা দিয়েছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা গত ৯ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ২৭ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে থাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়েও বাস্তবায়নের হার ছিল ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ— যা চলতি বছরের চেয়ে সামান্য বেশি।

আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, সরকার পতন ও প্রশাসনিক অস্থিরতার মধ্যেও মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এডিপিতে ৫৯ হাজার ৮৭৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় কমেছে ৯ হাজার ৩২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছিল ৩৯ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। এরপর থেকে প্রতি অর্থবছরেই একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ চলতি বছরের তুলনায় বেশি ছিল। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাস্তবায়ন হার ও ব্যয়ের পরিমাণ সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার অর্থায়নসহ মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থবছরের অর্ধেকের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও বরাদ্দের বড় একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এ ধীরগতির প্রভাব অর্থনীতির সামগ্রিক গতিশীলতায়ও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি ও সামাজিক খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে ব্যয় কমে গেলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারের মূল বেদীসহ সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রং করার কাজ শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্বলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।


হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

১৮ মাসের দীর্ঘ পথচলা শেষে এবং একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ প্রদান করেছেন। মূলত সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুদায়িত্ব পালন শেষে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

মঙ্গলবার নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের আগমুহূর্তে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। ভাষণটি শুরু হয় রাত ৯টা ১৫ মিনিটে। এই বিশেষ ভাষণে তিনি নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি গণতন্ত্রের প্রকৃত তাৎপর্য ও গত ১৮ মাসের অভিজ্ঞতার কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করার মাধ্যমে জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলো একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অচল রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সচল করার যে কঠিন দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছিলেন, মঙ্গলবার নতুন সরকারের শপথের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের সেই মহা মুক্তির দিনটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বিগত ১৮ মাস আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন শেষে, একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেবার জন্য উপস্থিত হয়েছি।” প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন—এই তিনটি মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাঁর সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন যে মানবাধিকার ও দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস হার-জিতের দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।” তিনি উল্লেখ করেন যে যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনআস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা পরাজিত হয়েছেন তাদের ওপরও প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন রয়েছে যা গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী ও সুন্দর দিক। অতীতে রাষ্ট্রযন্ত্রের ওপর মানুষের আস্থা হারিয়ে যাওয়া ও গণতন্ত্র ধূলিসাৎ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে ১৮ মাসে ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন সংস্কার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। বর্তমানে দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সূচনা হতে যাচ্ছে এবং মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।


banner close