বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

সবজিতে স্বস্তি থাকলেও অস্থিরতা মাছ-মাংসে

অস্থিরতা কাটেনি চাল-সয়াবিন তেলে
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ২১:৫৭

শীতের সবজি বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় দাম অনেকটাই হাতের নাগালে রয়েছে। ফলে সবজির দামে সাধারণ মানুষ বেশ সন্তুষ্ট দেখা গেছে। শীতের সবজির বাজার যেমন কম তেমনি মাছ-মাংসের বাজারে উল্টো চিত্র রয়েছে। চাল আর সয়াবিন তেলের দামেও অস্থিরতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে শুক্রবার নিত্যপণ্যের দামে এমন চিত্র দেখা যায়।

বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৫০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৩০-৪০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, লাল মুলা ৩০ টাকা, শালগম ২০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০-৭০ টাকা, পেঁয়াজকলি ২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০-৬০ টাকা, ধনেপাতা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে প্রতিটি লাউ ৬০-৭০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০-৫০ টাকা, ফুলকপি ২০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা ২৫ টাকা, লেবু ২৫-৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দামই প্রতি কেজিতে কমেছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া কয়েকটি সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

পান্থপথ বাজারে আসা তন্ময় বলেন, ‘সবজির দাম এখন অনেক কমেছে। এরকম থাকা উচিত সবসময়। এই দাম থাকলে সবাই খেয়ে-পরে বাঁচতে পারবে।’

এদিকে বাজারে সব ধরনের আলুর দাম কমেছে। একইসঙ্গে কমেছে চায়না আদার দামও। মান ও আকারভেদে প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। এর মধ্যে ছোট আকারের পেঁয়াজ ৫০ টাকা এবং বড় আকারের পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি নতুন সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা, নতুন লাল আলু ২৫ টাকায়। নতুন বগুড়ার আলু ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আজ দেশি রসুন ২৪০ টাকা, চায়না রসুন ২২০-২৩০ টাকা, চায়না আদা ২০০-২২০ টাকা, নতুন ভারতীয় আদা ১২০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্রয়লার ও কক মুরগির দাম কিছুটা কমলেও তা স্বস্তিদায়ক নয়। তাছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম কমেনি। একই সঙ্গে অপরিবর্তিত রয়েছে লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম।

প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকায়। খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ওজন অনুযায়ী ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০ টাকা, কক মুরগি ৩০৫-৩১৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮৮-২৯০ টাকা, দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকা, সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ মাছ ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, রুই ৩৫০-৫৫০ টাকা, কাতলা ৪০০-৬০০ টাকা, কালিবাউশ ৪৫০-৬০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, কাঁচকি ৪০০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, শিং ৪০০-১০০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৮০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, শোল ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, মেনি ৬০০-৭০০ টাকা, চিতল ৬০০-৯০০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০-৪০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদির বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ১১০ টাকা, বুটের ডাল ১৩৫ টাকা, মাষকলাই ডাল ১৯০ টাকা, ডাবলি ৭০ টাকা, ছোলা ১২০ টাকা, প্যাকেট পোলাওর চাল ১৫০ টাকা, খোলা পোলাও চাল মানভেদে ১১০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৫৭ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১২৫ টাকা, খোলা চিনি ১২৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১১৫ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়।


আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: স্থবির রাজধানী, চরমে জনভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারির দাবিতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে দ্বিতীয় দিনের মতো টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে অবস্থান নিলে যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাস থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর একটি বিশাল মিছিল নীলক্ষেত অতিক্রম করে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেয়। রাজপথ প্রকম্পিত করে শিক্ষার্থীরা এসময় ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’, ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’—এমন নানা স্লোগান দিতে থাকেন।

আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অনতিবিলম্বে জারি করতে হবে। আমরা আর কোনো কালক্ষেপণ মানব না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না।” সায়েন্স ল্যাবের পাশাপাশি মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় গাবতলী থেকে আজিমপুর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের এই অনড় অবস্থানের ফলে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে সাধারণ নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা জনজীবনে নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত মঙ্গলবারও একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করা হয়েছিল, যার ফলে রাজধানীবাসীকে ব্যাপক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া সাত কলেজের সংকট নিরসনে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে এখনো অনড় রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ থাকলেও শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ‘অধ্যাদেশ’ জারির দাবি জানাচ্ছেন।


রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে গিয়ে এই পরিচয়পত্র দাখিল করেন। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন রাষ্ট্রদূতের মেয়াদকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে উভয় দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রত্যুত্তরে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও গভীর, বহুমাত্রিক এবং ফলপ্রসূ করতে তিনি সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবেন। তিনি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের জন্য রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরিচয়পত্র পেশ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বেতন কমিশন থেকে অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ

আপডেটেড ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বেতন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য পদ থেকে আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সুপারিশ কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্থান না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান বলেন, বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনার আলোকেই দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি দীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে মোট ৩৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সেই প্রস্তাবনাগুলোর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। কমিটির সুপারিশগুলো এভাবে উপেক্ষিত হওয়ার প্রতিবাদেই তিনি কমিশন থেকে সরে দাঁড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবিক চাহিদা পূরণে এই সুপারিশগুলো অত্যন্ত জরুরি ছিল। প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে তিনি উচ্চশিক্ষার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে ও এর উন্নয়নের স্বার্থে উপ-কমিটির প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বসহকারে আমলে নেওয়ার জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই হঠাৎ পদত্যাগ শিক্ষা অঙ্গনে এবং বেতন কমিশনের কার্যক্রমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি: অবৈধ দখলে ২ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের হাওর ও জলাভূমি রক্ষা এবং এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। বুধবার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি প্রকাশ করা হয়। নতুন এই আইন অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি অবৈধভাবে দখল, ভরাট কিংবা এর শ্রেণি পরিবর্তন করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সারা দেশের হাওর ও জলাভূমির একটি সরকারি তালিকা প্রণয়ন করা হবে। জেলা প্রশাসকদের সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রয়োজনে সময় সময় তা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে।

অধ্যাদেশটিতে হাওর ও জলাভূমির সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর এই মহাপরিকল্পনা তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে, যা সরকারের বিদ্যমান নীতি ও কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া হাওর বা জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে অধিদপ্তরের মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে মতামত না নিলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।

নতুন এই আইনে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন অপরাধের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাওর বা জলাভূমির কান্দা অবৈধ দখল, ভরাট, অননুমোদিত খনন, রূপান্তর কিংবা পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অনুমোদন ছাড়া মাটি, বালু, পাথর বা অন্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন করলেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া পানি, মাটি ও পরিবেশ দূষণ করলে ২ বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনভাবে পানি উত্তোলন করা যা জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদের ক্ষতি করে, তার জন্য ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও অধ্যাদেশটিতে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল, বৈদ্যুতিক শক, বিষটোপ বা বিষাক্ত পদার্থ ব্যবহার করে মাছ ধরলে ২ বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। মাছের প্রজনন বা উৎপাদন ব্যাহত হয় এমন কর্মকাণ্ডের জন্য ১ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি বা সংরক্ষিত জলজ প্রাণী শিকার, জলাবন বা কান্দার বন ধ্বংস কিংবা প্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করলে ২ বছরের জেল বা ৫ লাখ টাকা জরিমানার উল্লেখ অধ্যাদেশে করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে হাওর ও জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে তা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারবেন এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশও দিতে পারবেন, যা পালন করা বাধ্যতামূলক।


ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না জামায়াত আমির: মার্থা দাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তারা।

সাক্ষাৎ শেষে ন্যাশনাল খ্রিস্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাস মার্থা দাস বলেন, ‘জামায়াত আমির বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না। এটা আমাদের জন্য খুব ভালো বিষয়। যারা আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যায় কম, তাদের নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে মনে না করার আহ্বানও জানিয়েছেন আমির। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ছোট সম্প্রদায়গুলোকে সন্তানের মত আগলে রাখবেন।’

বনি বাড়ৈ জানান, ‘আমরা এদেশের খ্রিস্টান নাগরিক হিসেবে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই।’

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্তর ইন বাংলাদেশের ফরমার লেজিসলেটর ড. গর্ডন প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এ দেশের সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী সব সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর।


বিজিবি সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ফেলানীর ভাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি পদে শপথ গ্রহণ করেছেন। বোন হারানোর গভীর শোককে দেশপ্রেমের শক্তিতে রূপান্তরিত করে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীতে যোগদান করলেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আরফান হোসেন শপথ নিয়েছেন এবং এখন থেকে তিনি বিজিবির একজন গর্বিত সিপাহি হিসেবে দেশের সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান হোসেন। তিনি দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আরফান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার বোনকে যে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, আজ আমি সেই সীমান্তের রক্ষী। সীমান্তে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় আমি কখনোই চাইব না যে, আমার বোনের মতো আর কারও বোন বা কোনো বাবা-মায়ের সন্তানকে এভাবে হত্যা করা হোক। তিনি শপথ করে বলেন, প্রয়োজন হলে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তিনি সীমান্ত রক্ষা করবেন এবং সীমান্তে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবেন।

এর আগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরফান হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। সে সময় আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। ছেলের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে নিজের যোগ্যতাতেই এই চাকরি পেয়েছে এবং এর পেছনে সবার দোয়া ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, আরফান চাকরিজীবনে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবে। ছেলের এই দেশসেবার মাধ্যমেই তার মেয়ে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিবেকে নাড়া দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনো সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ছোট ভাই আরফানের বিজিবিতে যোগদান শোকসন্তপ্ত এই পরিবারটির মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় বিজিবি কর্মকর্তারাও আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা সর্বদা ফেলানীর পরিবারের পাশে থাকবেন।


বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অভিযোগ তদন্তাধীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাহরাইনে একটি বাসা থেকে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় বাহরাইনে অবস্থানরত এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে এসব ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তিনি বিষয়টি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে আসলে কী ঘটেছে এবং ঘটনার সত্যতা কতটুকু, তা পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া এই পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এত বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গেলে কিছু সমস্যা বা অনিয়মের চেষ্টা হতে পারে, যা মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, রাজনীতির মাঠে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, বিষয়টি এমন নয়। কেউ সুযোগ পেলে এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো যেন কোনোভাবেই এই সুযোগের অপব্যবহার না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখনই কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, তখনই তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তকাজ কতটুকু এগিয়েছে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় মিশনগুলোর ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট প্রদান করে তা ডাকযোগে বা বাই-পোস্ট দেশে পাঠাবেন। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করতে হবে। তবে সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।


স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টে নতুন অধ্যায়: ঢাকায় স্মার্ট মিটার সিস্টেম (এসডব্লিউএম) পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে “স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (SWM) - এর জন্য স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্প”- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা মাল্টিপারপাস হল-এ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনাব আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং মিস হেজং কিম, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, বাংলাদেশে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্পের কারিগরি দিকসমূহ তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাসটেইনেবল ডিএমএ ম্যানেজমেন্ট টুল (SDMT) বিষয়ক একটি বিশেষ কারিগরি উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট মিটার সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির অপচয় হ্রাস, অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণ, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ পাইলট প্রকল্প ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগর পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।

অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


গাজায় সেনা মোতায়েন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনামূলক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই বাহিনীতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন কোনো সামরিক অভিযানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রাখা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে উপদেষ্টা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাময়িকভাবে অনঅ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া চীনের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে নির্মিত সামরিক স্থাপনাগুলো নিয়ে সৃষ্ট জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য কোনো বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৌহিদ হোসেন জানান, সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গাজা মিশনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে এর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংহতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই জটিল বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ডিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে একটি স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিসেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। কমিশনার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে, তাই দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন সামান্যতম পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে বা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অনৈতিক রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি সদস্যকে আইন মেনে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না এবং দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সভা শেষে ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। সভায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার এবং সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত এক বছরে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থা নিয়ে এই ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন। উপদেষ্টা জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের জেদ্দায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে জোরালো চেষ্টা চলছে। এর সুফল হিসেবে গত এক বছরে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হলে দেশবাসীকে তা জানানো হবে।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেই তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের মধ্যে দুইবার টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছে। এই ধারাবাহিক যোগাযোগের পর চলতি সপ্তাহের রবিবার জেদ্দায় দুই দেশের শীর্ষ এই কূটনীতিকরা সরাসরি বৈঠকে বসেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে টেলিফোনে আলাপ এবং এরপর সরাসরি সাক্ষাৎকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনসেবাই সশস্ত্র বাহিনীর মূল লক্ষ্য: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো জাতীয় বিপর্যয়ে জনগণের পাশে থাকাই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) একাডেমিতে আয়োজিত বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিংয়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেনাপ্রধান দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এই ক্যাডেটরা প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং ক্যাডেটদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করেন। প্যারেড শেষে বিএনসিসি ক্যাডেটরা এক মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

এই সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সশস্ত্র বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মাধ্যমে ২০২৫/২৬ বর্ষের বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিংয়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।


নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কঠোর বার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নস্যাৎ করতে দেশের বাইরে থেকে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ট্রেনিং সেন্টারে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবারের নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১টি জেলায় মোট ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। স্বাধীনতার পর থেকে যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিদেশ থেকে বসে বড় বড় কথা না বলে সাহস থাকলে দেশের ভেতরে এসে কথা বলুন। দেশের বাইরে থেকে নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরাকান আর্মির ছোড়া গোলা প্রায়ই বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ছে। তবে সংগঠনটি অবৈধ হওয়ায় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের দাপ্তরিক যোগাযোগ নেই।


banner close