শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৫, আহত ৯৮৭ জন

নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৮, আওয়ামী লীগের ৬ এবং জামায়াতের নেতা-কর্মী ১ জন * দলীয় অন্তর্কোন্দলে প্রাণ হারিয়েছেন বিএনপির ৫ ও আওয়ামী লীগের ৪ নেতা-কর্মী * এ মাসে রাজনৈতিক মামলা দায়ের ২৫টি, মোট আসামি সাড়ে ৫ হাজারের বেশি * জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার অন্তত ২২৮ জন * ১৯টি হামলার ঘটনায় নির্যাতন ও হয়রানির শিকার কমপক্ষে ২৮ জন সাংবাদিক
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২১:১৭

জানুয়ারি মাসে সারা দেশে ১২৪টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ৯৮৭ জন আহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদনের আলোকে সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সারা দেশে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ঘটে যাওয়া সহিংসতাগুলোর পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডসহ মারামারির ঘটনায় আহত হওয়ার বেশির ভাগ কারণই ছিল দলীয় অন্তর্কোন্দল। বিশেষত গত মাসে ১৫ জন নিহতের মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলেই নিহত হন পাঁচজন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬৭৭ জন। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন না থাকার পরেও আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অন্তর্কোন্দল, বিএনপি-আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অন্তর্কোন্দল এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে সংঘটিত সংঘর্ষে ৩১০ জন আহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মাসজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা, হেফাজতে ও নির্যাতনে মৃত্যু, গণপিটুনিতে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, পাহাড়ি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া ভারত সীমান্তে সংঘর্ষ, উত্তেজনা, বিএসএফের বিধি লঙ্ঘন করে বেড়া নির্মাণ, উসকানি, এমনকি নিরীহ বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা এবং মিয়ানমারের আরাকান আর্মি কর্তৃক বাংলাদেশি জাহাজ আটক এবং সীমান্তে গুলি, মাইন ও মর্টারশেল বিস্ফোরণের মতো বিভিন্ন বিষয় মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীতে বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসির দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে ঢাকার সাত কলেজ আন্দোলনে নামলে ঢাবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া জেল-হাজত, থানা ও পুলিশের ওপর হামলা করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অন্তত ৪টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টের অভিযোগ রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদন বলছে, জানুয়ারি মাসে কমপক্ষে ১২৪টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৯৮৭ জন। সহিংসতার ১২৪টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৬৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬৭৭ জন ও নিহত ৫ জন, ২২টি বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ১০৬ জন ও নিহত চারজন, ৩টি বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৬০ জন ও নিহত ১ জন, ৩টি আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দলে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৫০ জন ও নিহত ৪ জন, ৫টি বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের অন্তর্কোন্দলে, ৬টি ছাত্রলীগ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে এবং ১৭টি ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন দলের মধ্যে।

নিহত ১৫ জনের মধ্যে অন্তর্কোন্দলে বিএনপির পাঁচজন ও আওয়ামী লীগের চারজন নিহত হয়েছেন। বাকি ৬ জন নিহত হয়েছেন বিরোধী পক্ষের হামলায়। ১৫ জন নিহতের মধ্যে আটজন বিএনপির, ছয়জন আওয়ামী লীগের এবং ১ জন জামায়াতের কর্মী সমর্থক। এ ছাড়া সারা দেশে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তের হামলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আরও অন্তত সাতজন রাজনৈতিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে কমপক্ষে ৯টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪৩ জন।

রাজনৈতিক মামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের তথ্য জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নামে কমপক্ষে ২৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৭২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪৯০৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ মাসে কমপক্ষে ৩০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী অন্তত ২২৮ জন। এ মাসে অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ১৯ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ২ জন ও গ্রেপ্তার হয়েছেন একজন। এ ছাড়া ২টি মামলায় ছয়জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, ভিকটিমের পরিবার ও এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী জানুয়ারি মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে চারজন এবং বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। ২ জানুয়ারি সকালে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কাট্টলি বিল এলাকার কিচিংছড়ায় এ অজ্ঞাত ইউপিডিএফ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

৬ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পুলিশের পিটুনিতে ইয়াসিন মিয়া নামে একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে আটকের পর নির্যাতন ও চিকিৎসা না দেওয়ায় সোনাপুর ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান (৩৪) হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। গত ২৫ জানুয়ারি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা সেতুর পাশে এসআই নওশের আলির পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মিলন ব্যাপারী (৫৫) নামের এক মুদির দোকানদারকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

এ ছাড়া ৩১ জানুয়ারি গভীর রাতে বাড়ি থেকে যৌথবাহিনীর হাতে আটকের পর অমানবিক নির্যাতনের কারণে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. তৌহিদুল ইসলামের (৪০) মৃত্যু ঘটেছে। অন্যদিকে এ মাসে সারা দেশে কারাগারে কমপক্ষে ৭ জন আসামি মারা গিয়েছেন। ৭ জনের মধ্যে ৩ জন কয়েদি ও ৪ জন হাজতি। এ মাসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ৫টি হামলার ঘটনায় ২ জন বাংলাদেশি নিহত, আহত ২ জন ও ১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

গণপিটুনি, প্রতিমা ভাঙচুর এবং শ্রমিক নির্যাতন প্রসঙ্গে এইচআরএসএস জানায়, জানুয়ারিতে গণপিটুনির ১৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ জন। এ ছাড়া এ মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ভবনের সামনে ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্রজনতা’র ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় ১৮ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া এ মাসে ৩৯টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৬ জন এবং আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৭ জন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ৫ জন শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে মারা গেছেন।

এ প্রতিবেদনে পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণে হতাহতদের পরিসংখ্যান ও তথ্য উপস্থাপন করেছে এইচআরএসএস। এতে বলা হয়, জানুয়ারি মাসজুড়ে কমপক্ষে ১২৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫৪ জন, যাদের মধ্যে ২৮ জন ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু। এটা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, ১৪ জন নারী ও কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন নারী। ১৬ জন নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তন্মধ্যে শিশু ৯ জন।

যৌতুকের জন্য নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ জন ও আহত হয়েছেন দুজন। পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২৫ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ২০ জন নারী। এসিড সহিংসতার শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ১ জন নারী।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে- এ মাসের ৩১ দিনে সারা দেশে ৮৮ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে যাদের মধ্যে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫২ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।


ডিএসসিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: প্রতি শনিবার পালিত হবে ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা জনদুর্ভোগ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সরাসরি সমাধান করতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। এই বিশেষ দিনে সাধারণ নাগরিকরা কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন।

ডিএসসিসির এক সাম্প্রতিক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগর ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সর্বসাধারণের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের জন্য এই দিনটি বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নগর ভবনের দুয়ার এখন আরও অবারিত হলো। মূলত নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (রমজান মাস উপলক্ষে) এবং বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দারা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলাই সংক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক অভিযোগ সরাসরি প্রশাসকের কাছে জানাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান অথবা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের এই ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’-তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণ করলে একদিকে যেমন দুর্নীতির সুযোগ কমবে, তেমনি অন্যদিকে নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান নিশ্চিত হবে। এই নতুন উদ্যোগটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।


সংসদীয় সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির অতীত নেতিবাচক ও খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি উন্নত ও আধুনিক সংসদ উপহার দিতে চায়। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবেন এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদের স্বাদ পাবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই বিশেষ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (কনস্টিটিউশন), সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর), সংসদীয় রীতিনীতি (কাস্টমস) এবং কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদে যে ধরণের উন্নত চর্চা হয়, সেসব বিষয় নিয়েও নবনির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অতীতের সব নেতিবাচক স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়া এবং এমন একটি সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা যা জাতি দীর্ঘকাল প্রত্যাশা করে এসেছে।’

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর দলের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন এমপিদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা নবীন, তারা সতেজ মনে ভালো শিক্ষাটা পাবেন। একটি শিশু যেমন জন্মের পর নতুন পরিবেশ থেকে শুদ্ধ সংস্কৃতি শেখে, আমাদের নতুন সংসদ সদস্যরাও তেমনিভাবে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধানের সঠিক শিক্ষা নিয়ে দেশ সেবায় নামবেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।

উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দলীয়ভাবে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের এমপিদের এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিএনপি আশা করছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংসদ সদস্যরা গঠনমূলক আলোচনা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।


বাংলাদেশ আইন সমিতির নির্বাচনে আফজাল সভাপতি ও মাহবুব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আইন সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এ কে এম আফজাল উল মুনীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচিত কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও একঝাঁক প্রতিভাবান আইনজীবীকে দেখা গেছে। সহ-সভাপতি পদে ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, হাসিনা মমতাজ মিষ্টি এবং সুপ্রিয়া দাসসহ মোট ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মামুনুর রশিদ ও নুসরাত ইয়াসমিন সুমাইয়া। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সালেহ আকরাম সম্রাট ও মো. কামরুল হাসান এবং অর্থ সম্পাদক পদে মো. আরমান হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বেল্লাল হোসাইন ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সাত্তার রনি নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে হাফিজুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট ১১ জন জয়লাভ করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত কমিটি তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতারা বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাংলাদেশ আইন সমিতি সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।

ভোট গ্রহণ শেষে ভোটার ও অতিথিদের সম্মানে এক জমকালো ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ আইনজীবীরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সদস্যদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল সমিতি উপহার দেবেন। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আন্দোলনে তাঁরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।


৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটের ফ্লাইট বাতিল করলো বিমান

আপডেটেড ৭ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই পতাকাবাহী সংস্থা। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আরও কয়েক দিন বাড়ানো হলো।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবু ধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত সিটি। এই রুটের যাত্রীদেরকে বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে বিমানের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিমানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে যারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের বিমানের কল সেন্টার অথবা নিকটস্থ সেলস অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব এখন বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।


সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কোনো আপস করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে অত্যন্ত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কেবল কঠোর আইন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব।

বিদেশি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে একটি সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তার সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

ইফতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাম পাশে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।


জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানিসম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেলসংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎ তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল।

সেখানেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল। পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে আগামী রোববার পর্যন্ত তেলের মজুত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেই শেষ হবে তেল। ফলে বাইকারদের আতঙ্কে যশোরে সৃষ্টি হতে চলছে তেলের তীব্র সংকট।


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তিতে খারাপ কিছু দেখছে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ হচ্ছে, এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনারা যদি কোনও নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখবো। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, এ চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে— যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তির বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এটি সই করেছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি।

মন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সব চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আর কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে— যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে, যেগুলোর ওপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি।

তিনি বলেন, আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে এটি একটি বাস্তবতা।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম— সেটি হলো, আমেরিকান উচ্চতর আদালতে টেরিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়রের যে ধারায় টেরিফ ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারা এই টেরিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এটি ছিল আমার কথা।


গ্যাস সংকটে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ চার ইউরিয়া সার কারখানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্যাস সংকটের কারণে দেশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানায় ১৫ দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন পাঁচটি কারখানার মধ্যে বর্তমানে চালু আছে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড।

ঘোড়াশালের পলাশ ফার্টিলাইজার, চট্টগ্রামের ইউরিয়া ফার্টিলাইজার, যমুনা ফার্টিলাইজার ও আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিসিআইসির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মনিরুজ্জামান শুক্রবার (৬ মার্চ) বলেন, ১৫ দিনের জন্য বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এরপর কী সিদ্ধান্ত হবে, জানি না।

এর বাইরে বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। ফলে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিতেই বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ।

মনিরুজ্জামান বলেন, বিসিআইসির পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। চালু থাকা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।


কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিল

কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ মার্চ, ২০২৬ ১৯:২৯
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে বিশেষ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই আয়োজন করা হয়।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারের আগে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।


সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ৬ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয় প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধীদলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।


ঈদের ছুটি নিয়ে যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ছুটির বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি মন্ত্রিপরিদ বিভাগ। তবে ছুটির তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আগামী ১৮ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত একটানা সাত দিন ছুটি থাকছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। চলতি বছর রমজান ৩০ দিন ধরে ঈদের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হলে ঈদ হবে ২১ মার্চ।

চলতি বছরের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২১ মার্চ ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ২২ ও ২৩ মার্চ ঈদের আগে-পরে দুই দিন করে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। সে হিসাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ঈদের ছুটি আগে থেকেই মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। তবে ঈদের আগে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবেকদরের ছুটি রয়েছে।

এরপর ঈদের নির্ধারিত ছুটি শুরু হওয়ার আগে মাঝখানে এক দিন (১৮ মার্চ) অফিস খোলা ছিল। তাই ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটির মাধ্যমে টানা সাত দিনের ছুটির ব্যবস্থা করল সরকার। এখন ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে ১৭ মার্চ, চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত।


আমিরাত থেকে ৪০৫ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনলো ইউএস-বাংলার দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া ৪০৫ যাত্রীকে নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৬টা ৭ মিনিটে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে দেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরে স্থানীয় সময় রাতে দুবাই থেকে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ৩৭৮ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসে। ওই ফ্লাইটে থাকা ৩৭৮ জনের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৭ জন ক্রুও ছিলেন।

জানা গেছে, ৪৩৬ আসনের এয়ারবাস-এ ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এই দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, এমিরেটস ও এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইনসকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যেসব বাংলাদেশি যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বা শিগগির শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই ফ্লাইটগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


banner close