রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাচার

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২০:২২

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের মূলহোতা ফাবিহা জেরিন তামান্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাসে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় মানবপাচার করছে একটি চক্র। ওই দেশে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হলে তাদের ওপর চালানো হয় শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন। এ জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে অনেকেই পালিয়ে যান।

জসীম উদ্দিন খান জানান, গ্রেপ্তার তামান্না ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের অংশীদার। তিনি মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম সদস্য। এই চক্রের সদস্যরা রাশিয়ায় মাসে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা বেতনে চকলেট ফ্যাক্টরি, ক্লিনার অথবা বাবুর্চির কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ১০ জনকে প্রথমে সৌদি আরব ওমরাহ ভিসায় পাঠায়। সেখানে ওমরা হজ করানোর পর তাদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে এক সুলতানের কাছে বিক্রি করে দেয়। সুলতান তাদের দাস হিসেবে রাশিয়ান সৈন্যদের কাছে হস্তান্তর করে।

সেখানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দিয়ে ভুক্তভোগীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। তারা অনিচ্ছা প্রকাশ করলে চালানো হয় নির্যাতন। খাবার বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মানসিক শক্তি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তারা বাধ্য হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন।

সিআউডি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, যুদ্ধে নাটোর সিংড়া থানার হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের আমিনুল নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সিআইডি কর্মকর্তা জানান, ওই ১০ জনের একজন নরসিংদীর পলাশ থানার বাসিন্দা মো. আকরাম হোসেন (২৪) প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি নিজ ব্যবস্থাপনায় গত ২৬ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি অন্যান্য ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমিনুলের স্ত্রী গত ২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে পাচারকারী চক্রের সদস্য তামান্নাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গেপ্তার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন তামান্না। একইভাবে ১০ জনের আরেকটি দল সৌদি আরবে অবস্থান করছে। প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তারা রাশিয়া যেতে অস্বীকার করেছে। এতে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাই তারা সৌদি আরবে কাজ করতে পারছে না, দেশেও ফিরতে পারছে না। এ চক্রের আরেক সদস্য তামান্নার ভাই তুহিন ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় যেতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সিআইডি যোগাযোগ করছে বলেও জানা এ সিআইডি কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে; সর্বোপরি চেইন অব কমান্ডের ওপর।’

তিনি বলেন, ‘একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি ওই ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।’

জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়ত স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই পতাকা অর্জনের অর্থ হলো অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের নতুন শপথ। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। পরদিন ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’

দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সৈনিক সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরন ও কৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীর সর্বক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের প্রতিরক্ষার দায়িত্বই পালন করে না; দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র্যাং ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত


নির্বাচিত

জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভারে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনা পরিবেশেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। তাই ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও এ ধরনের পরিবেশ তার জন্য নতুন নয়।

পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেছে উল্লেখ করে তাদের অভিনন্দন জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। জাতীয় পতাকার গৌরবময় উড্ডয়ন প্রতিনিয়তই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। পতাকার মান রক্ষা করা সকল সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেন। পরে তিনি বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন। পরদিন ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এই ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক গৌরবজনক অধ্যায়।

আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, এর প্রকৃত শক্তি শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে নিহিত। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড।

তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশেই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদনে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সেনাসদস্যদের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান উন্নয়নে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।’


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর সাত ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন এবং জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুদ্ধকালীন অথবা শান্তিকালীন সময়ে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোট সাতটি চৌকস ইউনিটকে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পতাকা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার সকালে সাভার সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ৯ম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এই জাতীয় পতাকা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

চলতি বছর জাতীয় পতাকা অর্জনের গৌরব অর্জনকারী ইউনিটসমূহ হলো—প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট, ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এডি রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

এর আগে নির্ধারিত সময়ে প্রধানমন্ত্রী সাভার সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাকে সশস্ত্র সালামের মাধ্যমে অভিবাদন জানানো হয়। অনুষ্ঠানটিতে অন্যান্যের মধ্যে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

লোকসান ক্ষতিয়ে দেখতে সংসদীয় কমিটির তদন্তের উদ্যোগ

কর্ণফুলী টানেল । ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদগুলোতে শুধু পদ পূরণ নয়, সুপরিকল্পিত কর্মভার (স্ট্র্যাটেজিক লোড) নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা গৃহীত হয়।

বিগত সভার কার্যবিবরণী কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দৃঢ়ীকরণ করা হয়। এরপর পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এসব প্রকল্পের জন্য গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরে বর্তমানে প্রকল্পগুলো কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে কমিটিকে বিস্তারিত অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দেশের আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল। টানেলটির প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর বর্তমান বিপুল আর্থিক লোকসানের কারণগুলো নিয়ে বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়। এসব বিষয়ের গভীরে গিয়ে তদন্তের লক্ষ্যে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে, কর্ণফুলী টানেল সম্পর্কিত প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন এবং লোকসানের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

এ ছাড়া, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদ্বয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রবাসীদের ঘামে সচল অর্থনীতি, সুরক্ষায় অবহেলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশের শ্রমবাজারে লাখো বাংলাদেশির ঘাম ও শ্রমে সচল দেশের অর্থনীতি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার, স্বস্তি পাচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি হলে তার পাশে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়ায়, সেই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিস্তারিত, বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তারা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না, তা প্রকাশ্যে আসেনি।

বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়।

ঘটনাটি শুধু দুই নাগরিকের মৃত্যুর প্রশ্ন নয়; বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা এবং দূতাবাসের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অর্থনীতির চালিকাশক্তি প্রবাসীরা: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৩.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এই বিপুল অর্থের পেছনে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চালক, কারিগরি পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণির প্রবাসী। তাদের পাঠানো অর্থে চলে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ বাংলাদেশি। কিন্তু শ্রমবাজারের এই বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা যাচ্ছে?

বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ, দোভাষী, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয়ই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। এর ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আটক বিদেশি নাগরিককে কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকার জানাতে হয় এবং তিনি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হয়।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩৯৫ জন অভিবাসী শ্রমিক। তাদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ১১ জন।

বিদেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির তুলনায় আইনি সহায়তার পরিধি কতটা পর্যাপ্ত? বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সময়মতো আইনজীবী ও কনস্যুলার সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী?

নারী কর্মীদের ঝুঁকি আরও বেশি: নারী অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্যাতন, বেতন আটকে রাখা, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অনেক নারী শ্রমিকের কাছে সহায়তা চাওয়ার মতো ফোন বা প্রয়োজনীয় নথিও থাকে না। ফলে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়, স্বাধীন তদন্ত, দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা এবং দায়ী নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি চাই জবাবদিহি: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় এখন প্রয়োজন বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, আইনি প্রতিনিধিত্বের বিবরণ এবং কনস্যুলেটকে অবহিত না করার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা। একই সঙ্গে বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি আইনি সহায়তা, মৃত্যুদণ্ডের মামলার পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন বা কত রেমিট্যান্স এলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। সংকটে কতজন নাগরিক সহায়তা পেলেন, কতটি নির্যাতনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হলো এবং কতজনের অধিকার রক্ষা করা গেল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নন; তারা রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য যেমন আছে, তেমনি আছে জীবন, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার।


নির্বাচিত

সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে। পূজা কমিটির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের, যে মতের, যে বর্ণেরই হই না কেন, দেশটি আমাদেরই। সকল অপশক্তি নির্মূল করে একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা আমাদের লক্ষ্য।’

পুলিশপ্রধান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারও নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি—বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকল অপশক্তি, সকল অন্যায়, বৈষম্য দূর করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সবার জীবনমান উন্নয়নে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

এদিকে, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।

এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর তখনই সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’

যুবসমাজের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য তরুণ রয়েছেন, যারা কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা আজ এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় যারা সাফল্য অর্জন করেন, তাদের অধিকাংশই তরুণ। একইভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও হয়তোবা প্রবীণরা তাদের মেধা, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু সরাসরি মাঠে থেকে তরুণসমাজই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

তিনি বলেন, দেশের যেকোনো বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো এখন শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষেরও। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্টার্টআপ ফান্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তরুণদের শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভাবলে চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

এ ছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। প্রতিটি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে তিনজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তরুণ ও যুবকদের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।


নির্বাচিত

ওআইসি অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে হুমায়ুন কবির

ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি— দুটি মৌলিক স্তম্ভ’ প্রতিপাদ্যে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী আজ অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য তুলে ধরবেন। এছাড়া, অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমপর্যায়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামীকাল তিনি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করবেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাগতিক দেশ ইরাক তুরস্কের কাছ থেকে এক বছর মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।


নির্বাচিত

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা আরও বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।’

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।’

তিনি এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে তাদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনে তাদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রগতি হবে।

সরকার সর্বাত্মকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যাপ উপহার এনেছেন জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ সময় বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বক্তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।


নির্বাচিত

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন ড. নাহরিন ইসলাম খান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় তথ্য কমিশনের সর্বোচ্চ পদে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান দেশের নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। একই প্রক্রিয়ায় তথ্য কমিশনের অন্য দুটি শূন্য পদে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান এবং খান মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে।

গত শনিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগসংক্রান্ত পৃথক দুটি দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রাসঙ্গিক আইনের নির্ধারিত ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের দাপ্তরিক পদমর্যাদা, আর্থিক পারিশ্রমিক, নিয়মিত ভাতা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট করা হবে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জারি করা এই আদেশের কার্যকারিতা অবিলম্বে শুরু হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

মিরপুর-১০ এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকার হকারমুক্ত ও দখলমুক্ত ফুটপাতগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তিনি সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের নানা সুবিধা ও অসুবিধার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

শনিবার প্রাতঃকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুর-১০ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে সেখানে উপস্থিত হন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তাঁর সরকারি প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক।

পরিদর্শনকালে সরকারপ্রধান পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি জানতে চান যে পূর্বে হকার ও অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাতগুলো উচ্ছেদ করার ফলে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে কতটা স্বস্তি এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে হাঁটাচলার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না। এছাড়া রাজধানী ঢাকার সামগ্রিক ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি বিশদ খোঁজখবর নেন।

জনসাধারণের সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সরাসরি মতবিনিময় করে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যেন রাজধানী শহরের ফুটপাতগুলো কেবল পথচারীদের নিরাপদ ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে বজায় রাখা হয়, সড়ক ও ফুটপাতের সুশৃঙ্খল পরিবেশ রক্ষা করা হয় এবং জনসাধারণের চলাচলের পথে তৈরি হওয়া যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিরতরে দূর করা হয়।

এ সময় তিনি মন্তব্য করেন যে নগরীর ফুটপাতগুলো মূলত সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্যই নির্ধারিত, তাই যেকোনো মূল্যে ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে নাগরিকদের স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।


নির্বাচিত

শিশু হাসপাতালে ধূমপান, চিকিৎসককে বরখাস্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নিজ কক্ষে ধূমপানরত এক চিকিৎসককে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে চিকিৎসকের কক্ষ অপরিচ্ছন্ন থাকায় ক্ষোভ জানান তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে একজন চিকিৎসকের এমন আচরণ এবং কর্মস্থলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

পরে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ সময় হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।

উপ প্রেস সচিব জানান, এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।

এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ

পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন-এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close