রাষ্ট্রীয় শত শত কোটি কোটি টাকা অপচয় করে বিদেশ ভ্রমণ ও ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনে সাবেক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর প্রকাশ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ সফরে গেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ভাড়া করতেন সরকারি টাকায়। নিয়ে যেতেন সফরসঙ্গীদের বিশাল বহর। টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে প্রায় প্রতি জাতিসংঘের অধিবেশনে সরকার প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই নিউইয়র্ক নিয়ে যেতেন বিশাল বহর। শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে ২২৭ জনের একটি দল নিয়ে নিউইয়র্কে ৭০তম সাধারণ অধিবেশন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যান। ২০১৪ সালে ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে এই সংখ্যা ছিল ১৭৮ এবং ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩৪।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে বিমানের বোয়িং ৭৭৭ ও ৭৮৭ সিরিজের অত্যাধুনিক উড়োজাহাজে যেতেন। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থাটি ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮টি ভিভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এসব সফরে শেখ হাসিনা ব্যয় করেছেন প্রায় ২০০ কোটি টাকা। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে স্থানীয় সময় বিকেলে হেলসিঙ্কি-ভান্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১৯০২ যোগে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভুয়া ডক্টরেট সংগ্রহ করেছেন। দেশের সরকারি টাকা লবিস্ট এর পিছনে ব্যয় করে মানদন্ড ভংগ করে সংগ্রহকৃত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভুয়া ডক্টরেট হলো-ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় অব ব্রাসেলস, ভারতের বিশ্ব-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
পোস্টে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।
আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন। শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এলে প্রতিরক্ষা সচিব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টাকে প্রতিরক্ষা সচিব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড, উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
উপদেষ্টা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করণের জন্য কাজ করবে।
এসময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণকল্পে মন্ত্রণালয়ের সকলে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাধীন-সার্বভৌম, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মতোই যত দ্রুত সম্ভব কৃষক কার্ড চালু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিগতভাবে অনেক আগেই কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই আজ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতো পাইলট প্রকল্প আকারে কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে। প্রকৃত কৃষকরা এ কার্ড পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সুবিধা পাবেন কৃষক। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন সুবিধা নিতে পারে সেজন্যই স্মার্ট কৃষক কার্ড। পর্যায়ক্রমে সব কৃষক এ কার্ড পাবেন।’
সচিবালয়ে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে চীনের প্রেসিডেন্ট আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিং প্রদান করেন। তিনি জানান চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সফরের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এই সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি চীনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসিত হয়েছে।
সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাঁর নির্ধারিত দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাজ পরিধান করান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতিশীলতা আনছেন। চীনের রাষ্ট্রদূতের এই সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক অবস্থানের গুরুত্বকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। আগামীতে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে এখনই মন্তব্য করেননি। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয়। মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশলী বার্তার পাশাপাশি বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তারা অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসবিসি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হারুন-অর-রশিদ এই অভিনন্দন প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালে কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তাঁরা। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীমা শিল্পের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কায়সার রশিদ চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পদোন্নতি সূচক ব্যাজ পরানো হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর দাপ্তরিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নতুন মহাপরিচালককে এই সামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থেকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মেজর জেনারেলকে ব্যাজ পরিয়ে দিতে সহায়তা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত থেকে কায়সার রশিদ চৌধুরীকে অভিবাদন জানান। নতুন মহাপরিচালকের অধীনে সংস্থাটির গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে আরও গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।
পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কায়সার রশিদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই র্যাংক ব্যাজ পরিধানের মাধ্যমে তাঁর নতুন দাপ্তরিক যাত্রার এক আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলো। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আজ সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত সরকারপ্রধান তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সফরটি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি তদারকি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অফিসের প্রথম দিনে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন ‘র্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রশাসনিক ও প্রচার শাখার কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর এই দাপ্তরিক কাজের সূচনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেনানিবাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির উদ্দেশে যাত্রা করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে নতুন র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশাসনিক ও কৌশলগত সমন্বয় সাধনে সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের সামরিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বর্ণাঢ্য। তিনি ১৯৯১ সালের ২১ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে (কোর অব ইনফেনট্রি) কমিশন লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশনামূলক পদে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), সেনাসদরের সামরিক সচিব এবং প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের (ডিজিডিপি) মহাপরিচালক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও পদটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে এই পদের ভূমিকা অপরিসীম। নতুন সরকারের অধীনে প্রতিরক্ষা খাতের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানের অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব বিশেষ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের কার্যক্রমে নতুন গতির সঞ্চার হবে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এই দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। প্রধান প্রসিকিউটর পদ থেকে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সেই পদে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে। নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম দেশের আইনি অঙ্গনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পিলখানা বিডিআর হত্যাকাণ্ড মামলায় আসামিপক্ষের অন্যতম প্রধান আইনজীবী হিসেবেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মূলত জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের গুম-খুনের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতেই তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। তাজুল ইসলামের অধীনে ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে সরকার প্রসিকিউশন টিমে নতুন নেতৃত্ব আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এখন থেকে ট্রাইব্যুনালের আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানে ঘটা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই এখন নতুন প্রসিকিউশন টিমের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রদবদল ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, নতুন নেতৃত্বের অধীনে আইনি লড়াই ও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরও গতিশীলতা ফিরে আসবে।
জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা ৮৭৯টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ১৮ মাসের শাসনে এ পরিবর্তন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি নাম পরিবর্তন করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার। এ মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০৫টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ বিভাগের অধীন ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরে দেশের ৯৭৭টি অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানের নাম শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদদের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে সেনানিবাস, বিমানঘাঁটি, নৌবাহিনীর জাহাজ, মেগাসেতু, সড়ক, স্থাপনা, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, গবেষণাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
গত ১৮ মাসে শেখ পরিবারের নামে করা ৮৭৯টি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, তার তালিকাও দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলেজ বা মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, একাডেমিক বা বিজ্ঞান ভবন, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজ, ছাত্রাবাস বা হোস্টেল, গ্রন্থাগার বা পাঠাগার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।
অন্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে— সেনানিবাস, নৌজাহাজ, থানা ও পুলিশের স্থাপনা, পদক/বৃত্তি/ট্রফি, স্যাটেলাইট ও ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, জাদুঘর, কমপ্লেক্স, স্কয়ার, অডিটোরিয়াম, সম্মেলন কেন্দ্র ও নভোথিয়েটার, সড়ক, মহাসড়ক, সরণি, সেতু, টানেল, ফ্লাইওভার, রেলওয়ে স্টেশন, উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক স্কিম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পার্ক, ফ্লিম সিটি, উদ্যান, পুনর্বাসন কেন্দ্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনা, স্টেডিয়াম ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ম্যুরাল, কর্নার, মঞ্চ, বিদ্যুৎকেন্দ্র. পানি শোধনাগার, চর, বাজার, গ্রাম, বাস টার্মিনালসহ ২৯ ধরনের প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে— নেত্রকোনার শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তিত নাম করা হয়েছে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুরের মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির নাম বদলে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নাম বদলে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাম বদলে ডা. মমতাজ বেগম ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, জামালপুরের মেলানদহের শেখ ফজিলাতুনন্নেছা মুজিব ইউনিভার্সিটির নাম বদলে ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি নামকরণ করা হয়েছে।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন
অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে। এছাড়া খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও পরিবর্তন করে যথাক্রমেÑখুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করে। শেখ পরিবারের নামে করা ৩৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।
একাডেমিক বা বিজ্ঞান ভবনের নাম পরিবর্তন
ঢাকা কলেজের শেখ জামাল একাডেমিক ভবনের নাম পরিবর্তন করে জুলাই ৩৬ একাডেমিক ভবন, শরীয়তপুর সরকারি কলেজ শেখ লুৎফর রহমান একাডেমিক ভবনের পরিবর্তে ডা. গোলাম মাওলা একাডেমিক ভবন, সরকারি তিতুমীর কলেজের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের পরিবর্তে নতুন বিজ্ঞান ভবন, সরকারি তিতুমীর কলেজের শেখ কামাল প্রশাসনিক ভবনের পরিবর্তে প্রশাসনিক ভবন রয়েছে।
স্টেডিয়ামের বা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা ২০৫টি স্টেডিয়ামের বা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ তালিকায় রয়েছেÑজাতীয় স্টেডিয়াম ঢাকা, ফ্যাসিবাদ আমলে এর নামকরণ করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। এছাড়াও শেখ জামাল জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা ঢাকার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় টেনিস কমপ্লেক্স, রমনা ঢাকা ও শেখ কামাল মিলনায়তন, প্রধান ভবন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পল্টন ঢাকার নাম পরিবর্তন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পল্টন ঢাকা করা হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২৮টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৯৯টি কলেজ/মহাবিদ্যালয়, ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়, ১২টি একাডেমিক বা বিজ্ঞান ভবন, ৩৪টি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ১৩টি ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজ, ৩৫টি ছাত্রাবাস ও হোস্টেল, ১৫টি গ্রন্থাগার ও পাঠাগার, ১৪টি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, ৯টি সেনানিবাস, ১১টি নৌজাহাজ, চারটি থানা ও পুলিশের স্থাপনা, ছয়টি পদক বৃত্তি ও ট্রফি, তিনটি স্যাটেলাইট ও ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত রোববার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আব্দুস সালাম। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পরিচালনার ভার দেওয়া হয়েছে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে। শিল্পাঞ্চল ও বিভাগীয় শহরগুলোর প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনে খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। সিলেট সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জন্য মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মো. শওকত হোসেন সরকারকে মনোনীত করা হয়েছে।
নিয়োগকৃত এই কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলোতে মেয়রের যাবতীয় ক্ষমতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নির্বাচিত বোর্ড বা করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে বহাল থাকবেন। দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তাঁরা বিধিমোতাবেক নির্ধারিত সম্মানী ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জনগণের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শহরগুলোর উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নতুন প্রশাসকদের যোগদানের মাধ্যমে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের পথ সুগম হবে।
দেশের নাগরিকদের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলেই এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে গত রবিবার ইসির এনআইডি অনুবিভাগ একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকরা নিবন্ধনের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। এর আগে ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত এনআইডি প্রাপ্তির সুযোগ ছিল না। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
পরিপত্রে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০-এর প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আবেদনের তারিখে যাদের বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে, তারা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানায়, এই বয়সীদের তথ্য অগ্রিম সংগ্রহ করে রাখা হবে। আবেদনকারীদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব এই প্রক্রিয়ার যান্ত্রিক ও আইনি দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন। মূলত এনআইডি প্রাপ্তি এবং ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কিশোর বয়সেই জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, যেখানে এনআইডি একটি অপরিহার্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলা, পাসপোর্ট তৈরি কিংবা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। পরিচয়পত্র না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন নাগরিক সেবা গ্রহণে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো। এই সমস্যা সমাধানেই বয়সের সময়সীমা কমিয়ে এনে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়া মাত্রই নিবন্ধনের পথ সুগম করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর একটি বড় সংখ্যক তরুণ জনবল জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত হবে। এখন থেকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখের জন্য অপেক্ষা না করে ১৬ বছর পূর্ণ হওয়া নাগরিকরা বছরের যেকোনো সময় ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ আরও সহজতর হবে।