স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের অগণতান্ত্রিক এবং একগুয়েমী মনোভাব ও কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ আগস্টের আগে ও পরে তাদের মধ্যে দলটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ‘ঐকমত্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য তৈরি হলে সরকারের জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
আসিফ মাহমুদ আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা বাসস’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকার সহসাই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক দল; যে বা যারাই হই না কেনো, আমরা এ দেশের জনগণকে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করি। ফলে, ৫ আগস্টের পরে জনগণের যে আকাঙ্খা ও চাওয়ার জায়গা আছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। সে জায়গা থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, আমি বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাতে চাই।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও ৪টি আইন রয়েছে, যেখানে সরকার নির্বাহী আদেশে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে, এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জুলাই আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে দলীয় ভাবে নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বাতিল করাসহ যে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করতে পারে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইনের বাস্তয়নের সঙ্গে যুক্ত, সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আওয়া লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে।
তিনি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদশের জনগণের চাওয়া প্রতিফলন ঘটাতে সরকার এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরে আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছি। একটি গণঅভ্যুত্থান যারা ঘটায়, পরবর্তী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে আমরা অতীতে দেখেছি যে, অভ্যুত্থানের অর্জনগুলো সব নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই যারা স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা একটি দল গঠনের চিন্তা করেছে। তাছাড়া ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া অনেকেই কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে যায়নি।
আসিফ বলেন, ‘বর্তমানে তাদের ভেতরেও রাষ্ট্র গঠনের স্পৃহা তৈরি হয়েছে। এই শক্তিটাকে সংহত করার জন্য একটা রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও এ দলের কোন নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।’
ছাত্রদের নতুন দলে সরকারের কোন প্রতিনিধি থাকবে কিনা? এমন প্রশ্নের জাবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের নীতিগত অবস্থান হলো- বর্তমান সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি যারা আছেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের সরকারে থাকাটা ঠিক হবে না। কেউ যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যায় তো অবশ্যই সরকার থেকে পদত্যাগ করে তবেই সেখানে যাবে।
কারণ, এ সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের সংস্কার এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার কাজ শেষ করার দায়িত্বও তাদের উপর অর্পিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন ধরণের ‘কনফ্লিক্ট’ যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দলে তিনি থাকবেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ভাবিনি। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সবাই জানতে পারবে।’
সরকার চায় সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলো চায় নির্বাচন, এক্ষেত্রে বিষয় দুইটি সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি উপদেষ্টা বলেন, না, মোটেই সাংঘর্ষিক নয়। এ বিষয়গুলোর পুরোটাই আমাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সরকার স্পষ্টই একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ৫ আগস্টের পরে মানুষের মধ্যে এই মনোভাবই ছিল যে- যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে যদি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হয়, তবে সেও ওই একই গতানুগতিক ধারায় কাজ করবে। তবে এসব বিষয়ে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এই সরকারও ফেইস করছে। কারণ, সমাজের প্রত্যেকটি কাঠামোতেই স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে।
আসিফ মাহমুদ সংস্কার কমিশন যে ৬ রির্পোট দেয়া হয়েছে প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, এই রিপোর্টগুলো যথাযথ স্টেক হোল্ডারের কনসালটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের মাঠ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনার সময় বলে আসছিল, বিদ্যামান কাঠামোতে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা এখন আবার একই বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচনের কথা কোন গ্রাউন্ড থেকে বলছে এটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। সেটাও তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সংবিধান, আইনকানুন রেখে নির্বাচন করলে সেটা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচন থেকে কতটা আলাদা হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করে কোনো দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিই, তাদের জন্য সরকার চালানো কঠিন হবে। এ কারণেই ছয়টা সংস্কার কমিশনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এগুলো শাসনতান্ত্রিক। বাকি সংস্কারগুলো জনস্বার্থমূলক। সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং আমরা মনে করি, এখানে মিনিংফুল সংস্কারের মাধ্যমেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে এবং সংস্কার কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান বিচারের মাধ্যমেই নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত হবে না; বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। গতকাল রোববার ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেডে’ প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে একটি ‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ নিজেদের স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন এবং কোনো ভয় বা সুপারিশ ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের বিপদ কমবে—এই বিশ্বাস জনগণের মধ্যে তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্ব।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ চাইলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নত করবে।
মাঠপর্যায়ে পুলিশকে সরকারের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, সাইবার সক্ষমতা ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির বিস্তৃত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তর করতে হবে।
সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতি, অনলাইন জুয়া ও মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে, সাইবার বুলিং নারীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাদক সরবরাহকারী ও মাদকের উৎসকে লক্ষ্য করে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জানান, পুলিশের বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসাসেবা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিও অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। তবে ধাপে ধাপে সব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতাই বড় শক্তি। একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। পরে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহের কেক কাটেন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
হামে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে।
রোববার মানবাধিকার সংস্থা ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওসার ও মো. মাকসুদুর রহমান এ রিট আবেদন করেছেন।
আবেদনে বিবাদী হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ ও প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় সুবিধাসহ বিশেষায়িত হাম চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে রিটে।
আদালতের অনুমতি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশিস রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়।
আবেদনে আরও প্রার্থনা করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের মধ্যে সারাদেশে হাম ও জলাতঙ্কের টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি হলফনামা দিতে বলার জন্যও আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে রিটে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বারবার সীমান্তকে রক্তাক্ত করতে থাকলে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে একটি ভালো সম্পর্ক কখনোই গড়ে ওঠে না। দিল্লিকে অবশ্যই এই রক্তপাত বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাইলে তাদের সহিংসতার মনবৃত্তি পরিহার করতে হবে।
রোববার ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের ৪৫তম জাতীয় কাউন্সিল ২০২৬ এ বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
রিজভী বলেন, এত সুন্দর বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক, অনেকেই বলেন, ‘অত্যন্ত চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান ঢাকা-দিল্লির’। তারপরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এগুলো কিসের আলামত? এটা তো পৃথিবী, এটা তো বাংলাদেশ। আমাদের দেশের মানুষ যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করবে। তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই পরিচালনা করবে। তেমনি ভারত আরেকটি দেশ তারা নিজেদের ভাগ্য নিজেরা পরিচালনা করবে। তারা সুখে শান্তিতে থাকুক আমরা সুখে শান্তিতে থাকবো একটি সৎ প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। তাই জনসমাজের প্রতিটি পেশার মানুষ, যাদের উন্নয়ন ও উৎপাদনে অবদান রয়েছে, তাদের স্বার্থ রক্ষা করেই সরকার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ বিষয়ে কোনো ব্যত্যয়ের সুযোগ নেই। যদি এটি স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট কিংবা বিনা ভোটের অগণতান্ত্রিক সরকার হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
রিজভী বলেন, প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বছর পর দেশে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি, সংগ্রাম, রাজপথের আন্দোলন, নিপীড়ন-নির্যাতন, গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার মতো নির্মম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই সংগ্রাম চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করেছে। তাই এই সরকার সবক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে সরকার সড়ক, রেল ও নৌপথের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার সকালে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের লেডিস ক্লাবে আয়োজিত ‘নৌনিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিষ্ঠা ও ত্যাগের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের ঈদযাত্রা যাতে কোনো ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ফিটনেসবিহীন ও অনুমোদনহীন নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি ঈদের আগে এই ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে নৌপুলিশকে জরুরি নির্দেশ প্রদান করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে নৌপথের দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব।
রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার অর্থনীতি গণতন্ত্রীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মূলধারার অর্থনীতির বাইরে আছে, তাদের অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে চাই। নাগরিক হিসেবে এটি সবার অধিকার।
শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র থাকতে হবে।’
রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পিকেএসএফ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ প্রকল্প ‘রেইজ’-এর ২য় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত সময়ে দেশের অর্থনীতিতে অলিগার্ক শ্রেণি (অত্যন্ত ধনাঢ্য) সুবিধা নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল না বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর। সরকার সেটি ভাঙছে বলেও দাবি তার।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নারীরা পুরো পরিবারকে আগলে রাখেন এবং কিভাবে সঞ্চয় করতে হয়, তা তারা ভালোভাবে জানেন। এ জন্য ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এই অর্থ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি করবে।
একইভাবে কৃষক কার্ডও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (১০ মে) সকাল ৯টার পর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত চারদিন ব্যাপী এই সপ্তাহের বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক প্যারেড অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চারদিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে এসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্যারেড কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি একেএম আওলাদ হোসেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির তাঁকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী একটি লাল-সবুজ খোলা জিপে চড়ে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণাঢ্য প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য রাখবেন।
এ সময় পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ব্যাকগ্রাউন্ড উপস্থাপনায় তুলে ধরা হয়।
এবারের বার্ষিক প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি সরকারের আমলে এটিই প্রথম পুলিশ সপ্তাহ।
বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের অতিরিক্ত আইজিগণ, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপারসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত রয়েছেন।
আজ শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি আগামী ১৩ মে পর্যন্ত চলবে।
রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে অনুসরণীয় প্রটোকল (রাষ্ট্রাচার) সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিদেশ যাওয়া ও দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকায় কাটছাঁট করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে গত ৪ মে পাঠানো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি চিঠিতে এ নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে ৭ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। তারা হলেন: মন্ত্রিসভার একজন সদস্য, ডিপ্লোমেটিক কোরের প্রধান, স্বাগতিক দেশের মিশন প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিব ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচার প্রধান।
এর আগে, সবশেষ ২০১৭ সালের ১৬ মে রাষ্ট্রপতির বিদেশযাত্রা ও দেশে ফেরার রাষ্ট্রাচার নিয়ে নির্দেশনাবলি জারি করা হয়েছিল। সেই সময়কার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরে মোট ১৩ জন কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।
দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় আখচাষি, শ্রমিক এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনা—এই তিন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই মিলগুলো বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। তাই এগুলোর সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমরা চাই, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।
শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা চত্বরে আয়োজিত আখচাষিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো চালু করা নিয়েও কথা বলেছেন শিল্পমন্ত্রী।
শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। ফলে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যদি চালা (টিনের চালা) ঠিক না করে চিনি বানানো হয়, তাহলে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে। কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে, কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী মনে করেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে এবং দারিদ্র্য কমবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন ও পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামানসহ আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিকনেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বন্ধ চিনিকল চালুর দাবিদাওয়া–সংবলিত প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি বাণিজ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চিনিকলের শ্রমিক ও আখচাষিরা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাবের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই উন্নয়ন বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।
শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা কমিশনের এক বর্ধিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করার আগে আগামী ১৬ মে কমিশনের আরেকটি বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে।
সভার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত এই উন্নয়ন বাজেট আগামী ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত কার্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বা ৬৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যোগান দেবে। ফলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেটের আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
পরিকল্পনা কমিশনের খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।
শিক্ষা খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত এই পাঁচটি খাতেই মোট এডিপি বরাদ্দের প্রায় ৬২ শতাংশ ব্যয় হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন মেধাবী শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। খণ্ডিত মরদেহ গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে জানাজা শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তারা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জুলাই মাসে দেশে ফেরার কথা ছিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সেই শিক্ষার্থী ফিরলেন লাশ হয়ে। এতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম।
শনিবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বৃষ্টির মরদেহ। দুপুর ২টার দিকে তা নিয়ে যাওয়া হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে। শেষবারের মতো বৃষ্টিকে দেখতে সেখানে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধুরা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
স্বজনরা জানান, সাত মাস আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান বৃষ্টি। ফ্লোরিডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর সহপাঠী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে লিমনের এক মার্কিন রুমমেটের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে লিমন ও বৃষ্টিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার আট দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। পরে ৩০ এপ্রিল উদ্ধার করা হয় বৃষ্টির মরদেহও।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া বৃষ্টির জীবন এভাবেই থেমে গেল বলে মন্তব্য করেন স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হিশাম নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিককে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
বৃষ্টির ফুফাতো বোন জাবিন মরিয়ম বলেন, ‘সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটি এভাবে খুন হবে, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে—এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘যে মেয়ের আনন্দঘন পরিবেশে দেশে ফেরার কথা ছিল, সে লাশ হয়ে ফিরল। এ শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমেরিকার মতো দেশে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনও কল্পনাও করিনি। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা জহির উদ্দিন আকনের একমাত্র মেয়ে ছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। বাদ আসর চর গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ শেষে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয় বৃষ্টিকে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কবিতা ও সাহিত্য আমাদের জাতির প্রেরণার অন্যতম উৎস। রবীন্দ্রনাথের সেই চিরন্তন উচ্চারণ- ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনরে আমি ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা’- আমাদের জাতীয় জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কঠিন সত্যকে ধারণ করেই মানুষ পরিবর্তনের পথ রচনা করেছে এবং সেই সংগ্রাম কখনো তাদের বঞ্চিত করেনি; বরং একটি নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখিয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭-১৯ বছরে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তারাও সত্য ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা রেখেই শক্তি সঞ্চয় করেছেন। এ দেশের মানুষ কঠিন বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচিন্তা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তিনি তার সময়ের চেয়ে বহু অগ্রসর চিন্তার মানুষ ছিলেন। ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা’ কবিতার আবেগ আজও আমাদের সমাজকে জাগ্রত করে। সমাজে যখন স্থবিরতা ও অচলায়তনের সৃষ্টি হয়, তখন তরুণরাই নতুন শক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে সামনে আসে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান বাঙালির প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
চিফ হুইপ বলেন, রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে বিচরণ করেননি। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সুরকার, নাট্যকার ও দার্শনিক। তার সৃষ্টি বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সংগীতকে বিশ্বদরবারে সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রসংগীতের নিজস্ব এক মাধুর্য রয়েছে, যা বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
বর্তমান প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে এবং একটি মানবিক, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, হুমায়ূন আহমেদ-এর মতো শক্তিশালী সাহিত্যিকের অভাব আজ অনুভূত হচ্ছে। নতুন সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিচর্চার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে অপসংস্কৃতি ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বাড়ছে। তাই নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শিকড়ে ফিরে গিয়ে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মাদক, অপশক্তি ও স্বৈরাচারের স্থান থাকবে না; মানুষ সুন্দর, মানবিক ও আলোকিত জীবনযাপন করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চিফ হুইপকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান এবং উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমি, সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান আজ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সুদৃঢ় ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ সময় দুই দেশের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা রাজধানীতে বৈঠক করেন এবং আঞ্চলিক সংযোগ ও দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করলে এ আলোচনা হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততায় সৃষ্ট গতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জোরদারে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় তারা উল্লেখ করেন, বাণিজ্য ও ব্যবসা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করতে, জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তারা।
শামা ওবায়েদ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই পক্ষ দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সম্মিলিত স্বার্থে আরও শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করে।
সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চায় সরকার।
এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির সমালোচনা করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে দোটানায় ছিল হাসিনা সরকার। অত্যাচারী এবং অপরাধী হওয়ায় তাদের কাছে তার কোনো সম্মান ছিল না।
তবে বর্তমান সরকারের ভারসাম্য আনার সুযোগ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ জনগণের ম্যান্ডেট আছে বিএনপির সঙ্গে।