স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের অগণতান্ত্রিক এবং একগুয়েমী মনোভাব ও কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ আগস্টের আগে ও পরে তাদের মধ্যে দলটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ‘ঐকমত্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য তৈরি হলে সরকারের জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
আসিফ মাহমুদ আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা বাসস’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকার সহসাই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক দল; যে বা যারাই হই না কেনো, আমরা এ দেশের জনগণকে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করি। ফলে, ৫ আগস্টের পরে জনগণের যে আকাঙ্খা ও চাওয়ার জায়গা আছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। সে জায়গা থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, আমি বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাতে চাই।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও ৪টি আইন রয়েছে, যেখানে সরকার নির্বাহী আদেশে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে, এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জুলাই আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে দলীয় ভাবে নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বাতিল করাসহ যে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করতে পারে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইনের বাস্তয়নের সঙ্গে যুক্ত, সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আওয়া লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে।
তিনি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদশের জনগণের চাওয়া প্রতিফলন ঘটাতে সরকার এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরে আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছি। একটি গণঅভ্যুত্থান যারা ঘটায়, পরবর্তী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে আমরা অতীতে দেখেছি যে, অভ্যুত্থানের অর্জনগুলো সব নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই যারা স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা একটি দল গঠনের চিন্তা করেছে। তাছাড়া ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া অনেকেই কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে যায়নি।
আসিফ বলেন, ‘বর্তমানে তাদের ভেতরেও রাষ্ট্র গঠনের স্পৃহা তৈরি হয়েছে। এই শক্তিটাকে সংহত করার জন্য একটা রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও এ দলের কোন নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।’
ছাত্রদের নতুন দলে সরকারের কোন প্রতিনিধি থাকবে কিনা? এমন প্রশ্নের জাবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের নীতিগত অবস্থান হলো- বর্তমান সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি যারা আছেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের সরকারে থাকাটা ঠিক হবে না। কেউ যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যায় তো অবশ্যই সরকার থেকে পদত্যাগ করে তবেই সেখানে যাবে।
কারণ, এ সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের সংস্কার এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার কাজ শেষ করার দায়িত্বও তাদের উপর অর্পিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন ধরণের ‘কনফ্লিক্ট’ যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দলে তিনি থাকবেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ভাবিনি। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সবাই জানতে পারবে।’
সরকার চায় সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলো চায় নির্বাচন, এক্ষেত্রে বিষয় দুইটি সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি উপদেষ্টা বলেন, না, মোটেই সাংঘর্ষিক নয়। এ বিষয়গুলোর পুরোটাই আমাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সরকার স্পষ্টই একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ৫ আগস্টের পরে মানুষের মধ্যে এই মনোভাবই ছিল যে- যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে যদি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হয়, তবে সেও ওই একই গতানুগতিক ধারায় কাজ করবে। তবে এসব বিষয়ে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এই সরকারও ফেইস করছে। কারণ, সমাজের প্রত্যেকটি কাঠামোতেই স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে।
আসিফ মাহমুদ সংস্কার কমিশন যে ৬ রির্পোট দেয়া হয়েছে প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, এই রিপোর্টগুলো যথাযথ স্টেক হোল্ডারের কনসালটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের মাঠ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনার সময় বলে আসছিল, বিদ্যামান কাঠামোতে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা এখন আবার একই বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচনের কথা কোন গ্রাউন্ড থেকে বলছে এটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। সেটাও তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সংবিধান, আইনকানুন রেখে নির্বাচন করলে সেটা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচন থেকে কতটা আলাদা হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করে কোনো দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিই, তাদের জন্য সরকার চালানো কঠিন হবে। এ কারণেই ছয়টা সংস্কার কমিশনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এগুলো শাসনতান্ত্রিক। বাকি সংস্কারগুলো জনস্বার্থমূলক। সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং আমরা মনে করি, এখানে মিনিংফুল সংস্কারের মাধ্যমেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে এবং সংস্কার কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান বিচারের মাধ্যমেই নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ৮ সেপ্টেম্বর। তার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করবেন।
জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।
জাইমা রহমান আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হন।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে রাকিবুল হাসানকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। ওই অডিওতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্য শোনা যায়।
অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ডিএমপির অফিস আদেশে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে এক ব্যক্তিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ এবং পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। পাশাপাশি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথাও অডিওতে ছিল।
অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ডিএমপির উপকমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ছিলেন এবং কমিটি তদন্ত শুরু করেছিল।
পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাকিবুল হাসানকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ডিবির পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ছড়িয়ে পড়া অডিও নিয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাকিবুল হাসান অবশ্য ওই অডিওর বক্তব্য অস্বীকার করেছিলেন। তার দাবি ছিল, অডিওটি তার নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের একাধিক সূত্র অডিওটির কণ্ঠ রাকিবুল হাসানের বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল। তবে অডিওটির সত্যতা বা কণ্ঠের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশের তথ্য আগে পাওয়া যায়নি।
অডিওকাণ্ডের এক সপ্তাহের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো। আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
তবে মামলাটি কে করেছেন, কখন মামলা হয়েছে এবং মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে—এসব বিষয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
আদালতে হাজির করার পর তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়েও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির পর ভাইরাল অডিও, এর উৎস ও সত্যতা এবং সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া এখন কোন দিকে যায়, সেটিই দেখার বিষয়।
নারীরা যত দিন রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদার হতে না পারবেন, তত দিন তাদের প্রতি অবজ্ঞা দূর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজের প্রধান আহ্বায়ক ড. দিলারা চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ‘জুলাই আন্দোলন ও নারী অধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। আধিপত্যবাদ বিরোধী নাগরিক সমাজ এ সেমিনারের আয়োজন করে।
দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসংখ্য নারীর সাহসী অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ আন্দোলনকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ওই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভবিষ্যৎ তৈরির প্রত্যাশা করেছিলেন নারীরা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সেই প্রত্যাশার প্রতিদানে আজ অসংখ্য নারী অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশার শিকার হচ্ছেন।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে নারীর ওপর সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একের পর এক ঘটনা গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। নারী নির্যাতন, নারীর মর্যাদাহানি, প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর, অপমান ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের মতো ঘটনা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। এসব ঘটনা শুধু নারীর মৌলিক অধিকার ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে না, একই সঙ্গে আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের নাগরিক সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।’
সেমিনারে বক্তারা গত কয়েক মাসে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নারী নির্যাতন বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নারীর অধিকারের বিষয়ে সব নাগরিকের ইতিবাচক ভূমিকা জরুরি। পুরুষের সঙ্গে নারীর অধিকার সাংঘর্ষিক নয়।’ দেশের বেশির ভাগ মসজিদে নারীদের প্রবেশাধিকার না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতাদের নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক উপস্থিতির বিষয়ে সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তাজুল ইসলাম।
সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, ‘দেশের ২ শতাংশ মানুষ বাদে বাকি ৯৮ শতাংশ মানুষের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। কেউ জুলুমের শিকার হয়ে জুলুমবাজ হয় না; অথচ আমরা এমন একটি সমাজ তৈরি করছি, যেখানে সবাই জুলুমবাজ হতে চায়।’
অল্টারনেটিভসের সংগঠক ডা. তাজনূভা জাবীন বলেন, ‘জুলাইয়ের নারীরা প্রতি মুহূর্তে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।’ নারীদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘রাজনীতি ও নির্বাচনে শুধু নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দাবি করলেই হবে না। নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত না করতে পারলে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে না।’
সংগঠনের সহআহ্বায়ক ফাহিম মাসরুরের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আরেক সহআহ্বায়ক রুবি আমাতুল্লাহ।
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে ৪০০ কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে তিনি এসব পোনা অবমুক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ১৬০ কেজি রুই, ১২০ কেজি কাতলা, ৮০ কেজি মৃগেল এবং ৪০ কেজি কালিবাউশ মাছের পোনা পুকুরে ছাড়েন। পোনা অবমুক্তকরণ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করে বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমামের পরিচালনায় এক বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, জন বিভাগের সচিব, প্রেস সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট কেটে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি পরিবহন ও বীমা ব্যয়ের পরিবর্তনের প্রভাবও দেশের বাজারে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে যেসব উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, সেসব অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও বীমা খরচও বেড়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরকার দীর্ঘ ছয় মাস দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও স্থিতিশীল বা কমতে পারে। তখন দেশের বাজারেও দ্রুত মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই; আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের পাশাপাশি আমদানি-সংশ্লিষ্ট ব্যয় বেড়েছে বলে তিনি জানান। ফলে দেশের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক তেলের দাম নয়, পরিবহন ও বীমা ব্যয়ের মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের যোগান বাড়াতে বাসাবাড়ি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে মানসম্মত সরঞ্জাম আমদানির জন্য নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
মেহেরপুরের সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবল সংকটের বিষয়েও কথা বলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদ থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। এসব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জেলার নাগরিক সেবার মান বাড়ানো যায়।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন, বিজিবি-৬-এর পরিচালক নাজমুল হাসান, পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এক দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সকালে সড়কপথে কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরে যান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পরে তিনি জেলার বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবন জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশ বলা হয়েছে-“স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তা-কে তাঁহার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদবি ও কর্মস্থলে স্ব-বেতন স্কেলে বদলি করা হইল। বর্ণিত কর্মকর্তা আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হইতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করিবেন; অন্যথায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ণে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হইবেন। একই সাথে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব (৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না করা পর্যন্ত) প্রদান করা হইল।” বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, সেতুতে বাঁশ কান্ডের ঘটনাটি এখন সারাদেশে বেশ আলোচনার কেন্দুবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দফায় দফায় চলছে তদন্ত। এ ঘটনায় মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত একজন উপ-সহকারীকে বরখাস্ত ও একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক। গত বুধবার দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।
দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি। এখানে রডের পরিমাণটা কম রয়েছে। রড ততটুকু থাকা দরকার, সেটুকু নেই। একই ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি দিনাজপুরের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরী। প্রায় ২২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হলেও শিল্প এলাকায় এখনো নেই সীমানা প্রাচীর ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও দুর্বল। বর্ষায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এসব সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন উদ্যোক্তারা। নতুন উদ্যোক্তারাও এখানে শিল্প স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় ৩৫ দশমিক ১৪ একর জমির ওপর ১৯৬২ সালে ৪৫ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়। প্রতিষ্ঠাকালে ১৮৯টি শিল্প প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব প্লটের আয়তন ২৮ দশমিক ৭৪ একর।
বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিল্পনগরীতে ৫৪টি শিল্প ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি উৎপাদনে রয়েছে। ব্যাংকঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর ঋণখেলাপি হওয়া এবং আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় মেসার্স হাবিবা এ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড ও মেসার্স রুপন ওয়েল অ্যান্ড ফিডস (প্রা.) লিমিটেড বন্ধ রয়েছে।
শিল্পনগরীতে খাদ্যজাত শিল্প, চালকল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল, বনজ, বেকারি, সিলভার, স্বয়ংক্রিয় ময়দা তৈরির কারখানা এবং ডাল-তেল মিলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প রয়েছে।
প্লটের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ১৫ হাজার বর্গফুটের এ-টাইপ প্লট রয়েছে ৩৩টি, ৯ হাজার বর্গফুটের বি-টাইপ ৪২টি, সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুটের সি-টাইপ ৬৪টি এবং ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের ডি-টাইপ প্লট রয়েছে ৬৫টি।
বিসিকের হিসাব অনুযায়ী, শিল্পনগরীতে প্রায় ৪ হাজার ৮২৫ শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ৩৭৭ এবং নারী ১ হাজার ৪৪৮ জন। শিল্প ইউনিটগুলোতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২২৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা এবং বছরে মোট উৎপাদনের মূল্য ৩০২ দশমিক ৫৮ কোটি টাকা।
শিল্পনগরী থেকে বিভিন্ন খাতে সরকারের বার্ষিক আয় ২০১ দশমিক ৫৪ লাখ টাকা বলে বিসিকের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর ও ভ্যাট ১৬৫ লাখ টাকা, টেলিফোন ০ দশমিক ০৩ লাখ, বিদ্যুৎ ১ দশমিক ৩৫ লাখ, ভূমি উন্নয়ন কর ৪ দশমিক ২৬ লাখ, পৌর কর ০ দশমিক ৯০ লাখ এবং সার্ভিস চার্জ ও হস্তান্তর ফি বাবদ ৩০ লাখ টাকা রয়েছে।
এত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিপরীতে অবকাঠামোগত দুর্বলতাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিল্প এলাকায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় বর্ষাকালে পানি জমে যায়। এতে শ্রমিকদের চলাচলের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য আনা-নেওয়ায়ও ভোগান্তি হয়।
শিল্প এলাকার চারপাশে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা জমে থাকার অভিযোগও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, শিল্পনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত সেবা নিশ্চিত না হলে বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনাও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছর প্রতি বর্গফুটে ৩ টাকা ৫০ পয়সা সার্ভিস চার্জের সঙ্গে ভ্যাট ও খাজনা মিলিয়ে মোট ৪ টাকা ৩১ পয়সা পরিশোধ করতে হয়। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
দিনাজপুর চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান সরকার বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে বিসিককে উদ্যোগ নিতে হবে।
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, আস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও অটো রাইস মিল মালিক আলহাজ মো. আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, বছরে বছরে সার্ভিস চার্জ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত সেবা ও সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব নয়।
তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাহেদুল ইসলাম সীমানা প্রাচীর না থাকা, রাস্তা, ড্রেন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শিল্পনগরীটি সংস্কার করা প্রয়োজন। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের প্রাক্কলন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিল্পনগরীতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়লেও মৌলিক অবকাঠামো ও সেবার ঘাটতি কেন কাটছে না। তাদের মতে, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা গেলে দিনাজপুর বিসিক শুধু পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জায়গা নয়, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। বিশ্ব সংস্থার সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি তাঁর প্রথম ভাষণ দেবেন।
নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। তাঁর ভাষণের জন্য ১৫ মিনিট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরবেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম এর আগে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং বিশ্ব নেতাদের সামনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, বিশ্ব শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধান তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, ভাষণে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রতিফলিত হবে। একইসঙ্গে এই সফরে রোহিঙ্গা সংকট একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তাঁর পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করবে।
তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।
ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছিলেন।
এছাড়া তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দেন।
জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।
এছাড়া খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশুদের বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের জন্য ৮১তম অধিবেশন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু ও উদ্বোধনী বক্তব্যও দেওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং ‘ফ্রম কমিটমেন্ট টু একশন: ইন্টিগ্রেটিং মিডওয়াইফ ইনটু প্রাইমারি হেলথ কেয়ার টু ইন্ড প্রিভেন্টেবল মেটারন্যাল এন্ড নিউবর্ন ডেটথ’ বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
দিনের কর্মসূচির মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।
৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকে তারেক রহমান বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক উচ্চ-পর্যায়ের অনুষ্ঠান, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
২২ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় এবং এরপর ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
দিনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হোসেন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমে, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে বৈঠক।
২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের সাইড আলোচনায় যোগ দেন।
এছাড়া তিনি ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপাক্ষীয় বৈঠক করেন এবং ‘ক্লাইমেট একশন এন্ড দ্যা জাস্ট ট্রান্জিশন’ বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্ব নারী নেতৃবৃন্দের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের এক সভায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় বিশ্বের শীর্ষ নারী কূটনীতিক ও রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তিনি শামিল হন। সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার এবং নেতৃত্ব জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ উইমেন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ও জাতিসংঘ উইমেনের যৌথ উদ্যোগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘ আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল ও জাতিসংঘ উইমেনের নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহাউস।
তিনি বলেন, শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নীতি নির্ধারণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বজুড়ে যেসব নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা বিদ্যমান বাধা ভেঙে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সিমা বাহাউস জানান, জেন্ডার স্ন্যাপশট প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে বর্তমানে প্রতি সাতটি দেশের মধ্যে মাত্র একটি দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন নারী। এ ছাড়া বর্তমান অগ্রগতির ধারায় পূর্ণাঙ্গ লিঙ্গ সমতা অর্জন করতে বিশ্বের আরও ১৭১ বছর সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেয়ার তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির নকশা তৈরির ক্ষেত্রে নারীদের জোরালো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং জাতিসংঘে নারী মহাসচিব নির্বাচনের প্রতিও সমর্থন জানান বিশ্ব নেতারা।
ডা. জুবাইদা রহমানের পাশাপাশি এ সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী জুডিথ সুমিনওয়া তুলুকা এবং ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ। এছাড়া আন্ডোরার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইম্মা তোর ফাউস, আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি, ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র সচিব থেরেসা লাজারো, আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগের্দুর কাত্রিন গুনারসদোতির, জ্যামাইকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামিনা জনসন স্মিথ এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এই সভায় অংশ নেন।
গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে পুরোনো চুক্তি নবায়নের বদলে নতুন চুক্তি চায় বাংলাদেশ। নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার পাশাপাশি দেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে নদী নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি নদী। তবে শিল্পায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নদীগুলোর ওপর পড়ছে। নদী দূষণের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ পরিস্থিতিকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্যপানি তৈরি হয়। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন লিটার বর্জ্যপানি নদীতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
অনুষ্ঠানে রাজধানীর নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরীক্ষাসহ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও উপনির্বাচনসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, পাবলিক পরীক্ষা বাদ দিয়ে পরবর্তী সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটি নিয়ে চিন্তা করছে কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন হচ্ছে না। আশা করি, জানুয়ারিতে নির্বাচন শুরু হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিলাম। পরে দেখলাম সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু। আবার বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাসহ অন্যান্য বিষয়গুলো পিছিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও রয়েছে। কাজেই রমজান, ঈদ, পূজা, এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব দিক বিবেচনা করে নির্বাচন আয়োজনের কথা চিন্তা করছে ইসি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকারের কোনো চাপে নির্বাচন কমিশন তারিখ পেছায়নি। বরং, বাস্তবতা, আইন ও সংবিধান সবকিছু বিবেচনা করেই কমিশন তারিখ ঘোষণা করে।
শুধু শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা একটি ভালো পদে অধিষ্ঠিত হলেই হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি।
আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ‘নবীন বরণ ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পীকার বলেন, “আপনারা মেধাবীদের মধ্যে সেরা মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মই হয়েছিল প্রতিভাবানদের জন্য। বিশ্বের যে প্রান্তেই যান, আপনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে এসে মনে হচ্ছে, যেন আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জাতীয় মুক্তির ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয় পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, “দেশ যখনই কোনো সংকট, দুর্যোগ বা জাতীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। কঠিন সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতির জন্য আশা, প্রেরণা ও সম্ভাবনার প্রতীক।”
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডেপুটি স্পীকার বলেন, “মেধা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মেধার সঠিক বিকাশ ঘটে অধ্যবসায়, সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বিসিএস দিয়ে একটি সুন্দর চেয়ারে বসলে হবে না; দেশের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। নিজেকে স্বনামধন্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।”
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “আমরা আর কখনো রাজপথে গিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা মেধা ভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”
অনুষ্ঠানে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন করে আরও ১১টি এয়ারক্রাফট ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় চাহিদা অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতেই বিমান কিনবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’ বোয়িং প্রতিনিধিদল পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক হয়েছে। এতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে এবং সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানান, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়েই সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের জাতিসংঘ সফরের আরও দুই দিন কর্মসূচি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামীকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তব্য দেবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।