স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের অগণতান্ত্রিক এবং একগুয়েমী মনোভাব ও কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ আগস্টের আগে ও পরে তাদের মধ্যে দলটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ‘ঐকমত্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য তৈরি হলে সরকারের জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
আসিফ মাহমুদ আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা বাসস’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকার সহসাই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক দল; যে বা যারাই হই না কেনো, আমরা এ দেশের জনগণকে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করি। ফলে, ৫ আগস্টের পরে জনগণের যে আকাঙ্খা ও চাওয়ার জায়গা আছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। সে জায়গা থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, আমি বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাতে চাই।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও ৪টি আইন রয়েছে, যেখানে সরকার নির্বাহী আদেশে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে, এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জুলাই আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে দলীয় ভাবে নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বাতিল করাসহ যে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করতে পারে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইনের বাস্তয়নের সঙ্গে যুক্ত, সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আওয়া লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে।
তিনি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদশের জনগণের চাওয়া প্রতিফলন ঘটাতে সরকার এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরে আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছি। একটি গণঅভ্যুত্থান যারা ঘটায়, পরবর্তী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে আমরা অতীতে দেখেছি যে, অভ্যুত্থানের অর্জনগুলো সব নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই যারা স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা একটি দল গঠনের চিন্তা করেছে। তাছাড়া ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া অনেকেই কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে যায়নি।
আসিফ বলেন, ‘বর্তমানে তাদের ভেতরেও রাষ্ট্র গঠনের স্পৃহা তৈরি হয়েছে। এই শক্তিটাকে সংহত করার জন্য একটা রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও এ দলের কোন নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।’
ছাত্রদের নতুন দলে সরকারের কোন প্রতিনিধি থাকবে কিনা? এমন প্রশ্নের জাবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের নীতিগত অবস্থান হলো- বর্তমান সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি যারা আছেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের সরকারে থাকাটা ঠিক হবে না। কেউ যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যায় তো অবশ্যই সরকার থেকে পদত্যাগ করে তবেই সেখানে যাবে।
কারণ, এ সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের সংস্কার এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার কাজ শেষ করার দায়িত্বও তাদের উপর অর্পিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন ধরণের ‘কনফ্লিক্ট’ যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দলে তিনি থাকবেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ভাবিনি। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সবাই জানতে পারবে।’
সরকার চায় সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলো চায় নির্বাচন, এক্ষেত্রে বিষয় দুইটি সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি উপদেষ্টা বলেন, না, মোটেই সাংঘর্ষিক নয়। এ বিষয়গুলোর পুরোটাই আমাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সরকার স্পষ্টই একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ৫ আগস্টের পরে মানুষের মধ্যে এই মনোভাবই ছিল যে- যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে যদি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হয়, তবে সেও ওই একই গতানুগতিক ধারায় কাজ করবে। তবে এসব বিষয়ে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এই সরকারও ফেইস করছে। কারণ, সমাজের প্রত্যেকটি কাঠামোতেই স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে।
আসিফ মাহমুদ সংস্কার কমিশন যে ৬ রির্পোট দেয়া হয়েছে প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, এই রিপোর্টগুলো যথাযথ স্টেক হোল্ডারের কনসালটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের মাঠ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনার সময় বলে আসছিল, বিদ্যামান কাঠামোতে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা এখন আবার একই বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচনের কথা কোন গ্রাউন্ড থেকে বলছে এটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। সেটাও তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সংবিধান, আইনকানুন রেখে নির্বাচন করলে সেটা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচন থেকে কতটা আলাদা হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করে কোনো দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিই, তাদের জন্য সরকার চালানো কঠিন হবে। এ কারণেই ছয়টা সংস্কার কমিশনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এগুলো শাসনতান্ত্রিক। বাকি সংস্কারগুলো জনস্বার্থমূলক। সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং আমরা মনে করি, এখানে মিনিংফুল সংস্কারের মাধ্যমেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে এবং সংস্কার কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান বিচারের মাধ্যমেই নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।’
দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড-সিইউএফএল সার কারখানা।
মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথমে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
দীর্ঘদিন পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
সিইউএফএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন), উত্তম চৌধুরী স্টার নিউজকে জানান, কারখানা পুরোপুরি সচল রাখতে পঁয়তাল্লিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি পাওয়ায় সকাল থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে গত চার মার্চ বন্ধ হয়ে যায় সিইউএফএল এর সার উৎপাদন। কারখানা বন্ধ থাকাকালীন সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অল্প সময়ের মধ্যেই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়ায় অবস্থিত সিইউএফএল কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা হয়।
বর্তমানে এই সার কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া ও ৮০০ টন অ্যামোনিয়া।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রি-পেইড মিটার রিচার্জে দেখা দেওয়া জটিলতা দূর হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে প্রি-পেইড সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা হয়। ফলে বর্তমানে প্রি-পেইড মিটারের রিচার্জ সংক্রান্ত সব সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ওজোপাডিকোর প্রি-পেইড ডাটাবেজ সার্ভারের সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারের লজিক্যাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে ওজোপাডিকোর বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকেরা প্রি-পেইড মিটারে ভেন্ডিং বা রিচার্জ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন।
পরবর্তীতে কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে প্রি-পেইড সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা হয়। বর্তমানে রিচার্জ সংক্রান্ত সব ধরনের সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ওজোপাডিকো।
এ ঘটনায় সাময়িক ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।
ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং গ্রাহকদের আন্তরিক সহযোগিতা ওজোপাডিকোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্তদের ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনা ও অন্যদের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ওয়ার্কিং এনগেজমেন্টের জন্য এসব বিষয় ভারত সরকারের বিবেচনা করা উচিত।
শেখ হাসিনাকে আমরা চাইছি। সেখানে ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন—প্রশ্ন রেখে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি ভারত সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার বর্বরতা শুধু জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়, এটা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এ কারণে যারা বিভিন্নভাবে এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে অন্য দেশের মাটিতে অবস্থান করছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের এই ‘মাফিয়া রেজিমের’ সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দল হিসেবে বর্তমান সরকার দায়িত্বে রয়েছে। তাই বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা সরকার করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পসহ অন্যান্য খাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে| এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চাবাগান, বন, হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল| আমি বিশ্বাস করি এসব খাতে আরো উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন মাঠে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্পে অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
এ সময় চা শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিলেটের চাবাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয় সারা বিশে^ বিখ্যাত, সেজন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।’
সিলটে মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার হাওড়গুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা আছে এবং এখানে যে মিনারেলস আছে সেগুলো দিয়ে এখানে অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে।
এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, গ্যাস এসব সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান|
পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তিনি কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছিলেন, এখান থেকে চা নিয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা এখান থেকে চা আমদানি করবে| আমাদের এটার কোর্ডিনেট করা দরকার|’
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন|’
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা|
তিনি আরও বলেন, ‘আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে ইস্যুগুলো আছে সেই ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হই| একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই|’
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসাথে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যে বাংলাদেশে কমিউনাল হারমিনি আছে।’
সিলেটবাসীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যাক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।
এসময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও ˆবদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ড. মাহমুদুর রহমান গত ১৪ সেপ্টেম্বর নীলফামারী, মহেন্দ্রনগর (লালমনিরহাট) ও কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত বিসিআইসির সারের গুদাম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে গুদামে মজুতকৃত সার খামালভিত্তিক গণনা করে মজুতকৃত সারের সঠিকতা পায়। নভেম্বর পর্যন্ত দেশের চাহিদাকৃত ইউরিয়া সার গুদামের মজুত সার দিয়েই পূরণ করা সম্ভব।
এ ছাড়া স্থানীয় ৩টি সার কারখানায় প্রতিদিন ৫০০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে এবং বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি চলমান রয়েছে, যা দিয়ে আগামী পিক সিজনে সারের চাহিদা পূরণ করা হবে। দেশে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে বিসিআইসির চেয়ারম্যান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপপরিচালক, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি অফিসার, বিএফের নেতারা ও ডিলারদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। ওই মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান জানান, দেশে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সারের মজুত রয়েছে। চাহিদানুযায়ী ডিলারদের বিসিআইসির কারখানা ও বাফার গুদাম থেকে যথাসময়ে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সারের কৃত্রিম সংকট, সারের মূল্য বৃদ্ধি এবং অপপ্রচার গুজব ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিং বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিটি কারখানা ও বাফার গুদামে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। শুক্র-শনিবারসহ সপ্তাহে সাত দিনই গুদাম থেকে সার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে যা বিসিআইসি থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান, বিসিআইসির সাথে পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) মু. খায়রুজ্জামান ও ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. মঞ্জুর রেজা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করে দেশের সম্পদে পরিণত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত সম্ভাবনায় ভরপুর। তাদের সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য সবুজ খোলামাঠ ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কন্যাশিশুদের উচ্চতর পর্যায়ে পড়াশোনা অবৈতনিক করার উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশুরা নিজেদের যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা, ৫০৩টি উপজেলা, ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন ও ৯ হাজার ৯০টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলায় ঝরে না পড়ে—এ সুযোগ আমাদের সবাইকে তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক শিশু যেমন তার বাবা-মা ও পরিবারের কাছে প্রিয়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছেও তারা মূল্যবান সদস্য।
তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন রয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের মনোবল শক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেনের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুরা প্রমাণ করেছে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা কত সুন্দরভাবে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে। সবাই মিলে একসঙ্গে একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার শিক্ষা শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা খেলাধুলার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, তারা নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।
এ সময় তিনি বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন। নারীর ক্ষমতায়নে সংগঠনটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা দৃষ্টিনন্দন কারুশিল্প তৈরি করছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নারী হওয়ায় তাদের দক্ষতা ও ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে রাজধানীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেন পরিদর্শন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে দেশীয় উৎসের উৎপাদনের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের বড় অংশ অর্থাৎ ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এসেছে দেশীয় বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে এবং ঘাটতি পূরণে অবশিষ্ট ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এই চাহিদার বিপরীতে গত রবিবার জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট এবং সোমবার সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। ফলে মঙ্গলবার ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গ্রিডে সরবরাহ বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট এবং আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের এই ইতিবাচক সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বৃহৎ শিল্প খাতসহ অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ (পিএসসি)-এর পরিচালনা পর্ষদের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বিভিন্ন প্রকৌশল বিদ্যায় পারদর্শী বিপুলসংখ্যক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বিশেষায়িত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাইবার সুরক্ষায় একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দাঁড় করানোর কাজ চলছে। বর্তমানে খণ্ডকালীন ও পৃথকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি এবং ডিএমপির সাইবার টিমের মাধ্যমে অনলাইন অপরাধের তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে একটি কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা ও পেশাগত মনোবল বাড়াতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করতে অভ্যন্তরীণ কোর্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে প্রয়োজনে বিদেশি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এনে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে পুলিশ সদস্যদের বৈশ্বিক মানে গড়ে তোলা হবে।
পিএসসির পরিচালনা পর্ষদের এই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
একদিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে মাজারের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে তিনি দেশ ও সমগ্র জাতির সার্বিক মঙ্গল, সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতি অপর প্রখ্যাত ওলি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাষ্ট্রপতির মাজার এলাকায় আগমন ও প্রস্থানকালে সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনতা তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে মহানগর বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানান।
এর আগে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় নগর ভবনের সম্মুখভাগে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত বিশাল নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ঘোষিত সম্ভাব্য তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে অনুষ্ঠেয় এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে একই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছিলেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্বালোচনা করেনি এবং সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানে না। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বাজেট, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বিত বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার প্রতিষ্ঠিত রীতি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সাত ধাপের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা পূর্বাবগতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তারিখ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের স্বাধীন এখতিয়ারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো বৃহৎ কর্মযজ্ঞে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ও বাজেট বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক মহড়ায় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিহত সৈনিকদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ শোকাহত পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত সেনাসদস্যদের স্থায়ী ঠিকানায় তাঁদের পরিবারের জন্য একটি করে পাকা বাড়ি নির্মাণ, তাঁদের স্ত্রীদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য নিয়মিত মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে কর্তব্যরত অবস্থায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শহীদ হন সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের বাবা আব্দুল ওহাব, মা পারভীন আক্তার, স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি ও কন্যাসন্তান ফাতেমা সিদ্দিকা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তাসনিম রিফায়াতের পক্ষে তাঁর বাবা মো. আসাদুল হক, স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন এবং শিশুকন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে সোমবার প্রথমবারের মতো হাঁটু প্রতিস্থাপন অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। রোগীর নাম বিবিজান (৬০)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা।
চিকিৎসকরা জানান, বিবিজান দীর্ঘদিন ধরে অস্টিও আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগছিলেন। তার হাঁটু ক্ষয়ের মাত্রা খুব তীব্র ছিল। এরকম হাঁটু অনেকটা জ্যাম হয়ে যায়, বেঁকে যায় এবং তীব্র ব্যাথা থাকে। এই পর্যায়ে গেলে হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে হয়।
এই অপারেশনে অংশ নেন রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আলমগীর হোসেন, ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, ডা. সফিকুল ইসলাম, ডা. সাইদ আহমেদ, ডা. মাতিউল ইসলাম, ডা. সালেহীনসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক।
প্রফেসর ডা. আলমগীর হোসেন জানান, এই অপারেশনের ফলে রোগীর হাঁটু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। শুধু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও জানান, এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে এই অপারেশনের ধারা চলমান থাকবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষ ভীষণ উপকৃত হবে এবং ঢাকা বা বিদেশ যাওয়ার কষ্ট লাঘব হবে।
ডা. মনোয়ার তারিক সাবু জানান, ঢাকায় এই অপারেশন অনেক হয়। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটাই প্রথম। হাসপাতালে অপারেশন করতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। ছয়জনের টিম মিলে এই অপারেশন করা হয়েছে। দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চিকিৎসকরা এই অপারেশন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে নিয়মিত এই অপারেশন করা হবে। অপারেশনের পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।