স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমত এটা অত্যন্ত ইতিবাচক যে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ‘ঐকমত্য’ তৈরি হচ্ছে। দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের অগণতান্ত্রিক এবং একগুয়েমী মনোভাব ও কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ আগস্টের আগে ও পরে তাদের মধ্যে দলটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ‘ঐকমত্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য তৈরি হলে সরকারের জন্য যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।
আসিফ মাহমুদ আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা বাসস’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকার সহসাই কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক দল; যে বা যারাই হই না কেনো, আমরা এ দেশের জনগণকে ‘রিপ্রেজেন্ট’ করি। ফলে, ৫ আগস্টের পরে জনগণের যে আকাঙ্খা ও চাওয়ার জায়গা আছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেয়াটাই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। সে জায়গা থেকে বিএনপি’র পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, আমি বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাতে চাই।
অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও ৪টি আইন রয়েছে, যেখানে সরকার নির্বাহী আদেশে যে কোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে, এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই জুলাই আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে দলীয় ভাবে নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বাতিল করাসহ যে কোনো ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করতে পারে। তবে বিষয়টি যেহেতু আইনের বাস্তয়নের সঙ্গে যুক্ত, সেক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আওয়া লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসবে।
তিনি বলেন, আমি আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদশের জনগণের চাওয়া প্রতিফলন ঘটাতে সরকার এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গে সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তনের পরে আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছি। একটি গণঅভ্যুত্থান যারা ঘটায়, পরবর্তী প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে আমরা অতীতে দেখেছি যে, অভ্যুত্থানের অর্জনগুলো সব নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি বলেন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরেও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করেই যারা স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়েছে তারা একটি দল গঠনের চিন্তা করেছে। তাছাড়া ৫ আগস্টের পর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া অনেকেই কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে যায়নি।
আসিফ বলেন, ‘বর্তমানে তাদের ভেতরেও রাষ্ট্র গঠনের স্পৃহা তৈরি হয়েছে। এই শক্তিটাকে সংহত করার জন্য একটা রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও এ দলের কোন নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি।’
ছাত্রদের নতুন দলে সরকারের কোন প্রতিনিধি থাকবে কিনা? এমন প্রশ্নের জাবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাদের নীতিগত অবস্থান হলো- বর্তমান সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি যারা আছেন তাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাদের সরকারে থাকাটা ঠিক হবে না। কেউ যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যায় তো অবশ্যই সরকার থেকে পদত্যাগ করে তবেই সেখানে যাবে।
কারণ, এ সরকার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করার দায়িত্ব নিয়েছে। পাশাপাশি, দেশের সংস্কার এবং ফ্যাসিস্টদের বিচার কাজ শেষ করার দায়িত্বও তাদের উপর অর্পিত রয়েছে। সেক্ষেত্রে কোন ধরণের ‘কনফ্লিক্ট’ যেন তৈরি না হয় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দলে তিনি থাকবেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি ভাবিনি। কিছু বিষয় পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সবাই জানতে পারবে।’
সরকার চায় সংস্কার, রাজনৈতিক দলগুলো চায় নির্বাচন, এক্ষেত্রে বিষয় দুইটি সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি উপদেষ্টা বলেন, না, মোটেই সাংঘর্ষিক নয়। এ বিষয়গুলোর পুরোটাই আমাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সরকার স্পষ্টই একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ৫ আগস্টের পরে মানুষের মধ্যে এই মনোভাবই ছিল যে- যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে যদি ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া হয়, তবে সেও ওই একই গতানুগতিক ধারায় কাজ করবে। তবে এসব বিষয়ে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ এই সরকারও ফেইস করছে। কারণ, সমাজের প্রত্যেকটি কাঠামোতেই স্বৈরাচারের দোসররা রয়ে গেছে।
আসিফ মাহমুদ সংস্কার কমিশন যে ৬ রির্পোট দেয়া হয়েছে প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, এই রিপোর্টগুলো যথাযথ স্টেক হোল্ডারের কনসালটেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি সুষ্ঠ নির্বাচনের মাঠ তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনার সময় বলে আসছিল, বিদ্যামান কাঠামোতে নির্বাচন সম্ভব নয়, তারা এখন আবার একই বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচনের কথা কোন গ্রাউন্ড থেকে বলছে এটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। সেটাও তাদেরকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সংবিধান, আইনকানুন রেখে নির্বাচন করলে সেটা স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচন থেকে কতটা আলাদা হবে সেটা আমার বোধগম্য নয়।’
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করে কোনো দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিই, তাদের জন্য সরকার চালানো কঠিন হবে। এ কারণেই ছয়টা সংস্কার কমিশনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এগুলো শাসনতান্ত্রিক। বাকি সংস্কারগুলো জনস্বার্থমূলক। সেগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ সুতরাং আমরা মনে করি, এখানে মিনিংফুল সংস্কারের মাধ্যমেই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হতে পারে এবং সংস্কার কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান বিচারের মাধ্যমেই নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে।’
ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. আল ফোরকান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং উচ্চশিক্ষার তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপাচার্য ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অন্যদিকে, ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে। অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দেশের প্রাচীনতম এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইউজিসির শীর্ষ পদে অধ্যাপক মামুন আহমেদের নিয়োগ উচ্চশিক্ষা খাতের তদারকি ও সমন্বয় সাধনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে পূর্ববর্তী শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের মাধ্যমে। ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে আজ সোমবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি চেয়েছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তিনি তাঁর মূল কর্মস্থল অর্থাৎ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। মূলত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন।
ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের জনগণের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবদুর রহমান সানী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিনিধি নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তারেক রহমান। পরে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
আজ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, ‘ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারেক রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের (ঢাকা-১৭) জনগণের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনের সুবিধার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আবদুর রহমান সানীকে এই আসনের প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হলো।’
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) ও উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার আটজন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিনকে বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। র্যাবের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া) মো. আহসান হাবীব পলাশ।
এছাড়া পুলিশ অধিফতরের অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদকে সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিগবাত উল্লাহকে পুলিশ অধিদফতরের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজকে এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রামে মহানগর পুলিশের কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুর সফরকালে স্বজনদের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি নানি বেগম তৈয়বা মজুমদার, নানা ইস্কান্দার মজুমদার এবং বেগম খালেদা জিয়ার খালাতো বোন মীমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কবরস্থানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
জিয়ারতের সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
এর আগে একই দিনে কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং খালের পাড়ে গাছ রোপণ করেন। পরে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশেও যোগ দেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
সোমবার (১৬ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া উল্লেখ করেছেন, ব্যক্তিগত কারণে তিনি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তাকে এই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সরকারের সাবেক সচিব।
তারল্য–সংকটে থাকা এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
একই সঙ্গে এসময় তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী।
সাহাপাড়ায় নিজে কোদাল হাতে খাল খননে নামেন প্রধানমন্ত্রী। খাল খনন কর্মসূচিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এতে পানির সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন তারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেছেন, মুসল্লিদের ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য জাতীয় ঈদগাহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে ঠিক করা হয়েছে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। তবে বৃষ্টি হলে সময়ের পরিবর্তন হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান।
প্রশাসক বলেন, জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন। যেহেতু আবহাওয়া গরম তাই কিছু অংশে শীতাতপ নিয়ন্ত্রের চেষ্টা করবো ঈদগাহে।এছাড়া পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইটের ব্যবস্থা থাকবে। সবার জন্য ওযুখানাসহ মহিলাদের জন্য আলাদা প্রবেশ পথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন, সেকারণে এখানকার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন, এটা ঢাকার নাগরিকদের জন্য আনান্দের। নগরবাসী যারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে চান, তাদের নির্ধারিত সময়ে জাতীয় ঈদগাহে আমন্ত্রণ জানাই। যারা এখানে নামাজ আদায়ে আসবেন, তারা নির্দেশনা মেনে নিরাপত্তায় ব্যহত হয় এমন কিছু সঙ্গে বহন করবেন না, ঈদগাহে প্রবেশের সময়।
জাতীয় ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছে।
মিরপুর স্টেডিয়ামে রোববার (১৫ মার্চ) এই ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক বিবৃতিতে তিনি ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সাহসী তরুণেরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজকের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১১ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে প্রমাণ করেছে, ঐকান্তিক এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের নজরকাড়া পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। আমি আশা করি, আমাদের তরুণদের এই সাফল্য জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ। ভারতের কোলকাতা বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘এইচ টি পাইনিওর’ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন এবং ভিয়েতনাম পতাকাবাহী ‘হোয়াংটন-৮৯’ জাহাজে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে।
রোববার বিদেশি জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘সেভেন সিয়েস’র ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানিয়েছেন, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এই চাল আমদানি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোলকাতা বন্দর থেকে মোংলা বন্দরে আসা জাহাজ দুটি থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোববার সকাল থেকে চাল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করা চাল নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি গুদামে পাঠানো হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি দুটি জাহাজ থেকে পুরোপুরি চাল খালাসের কাজ শেষ হবে।
মোংলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবাহান সরদার বলেন, জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে সরকার ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে ৮ লাখ টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়া চালের এটি নবম চালান।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ বাড়াতে ভারত থেকে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি শুরু হয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত এই চালের মধ্যে নন-বাসমতি চালের পরিমাণই বেশি, যা দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে নিয়মিতভাবে ভারতের পেট্রাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল দেশে প্রবেশ করছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের অযৌক্তিক ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত এ কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
রোববার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য দামের ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানি নির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
বিদেশি ফল আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন আপেল, আঙুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তবে অত্যধিক দামি বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা।
রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় প্রাকৃতিক জ্বালানি বাষ্পের তীব্র সংকটের কারণে প্রায় এক বছর ধরে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকায় রাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারখানা সূত্র অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সমমূল্যের সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় একশত পঁয়ষট্টি কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই যাবতীয় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় এর কোটি কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সচল অবস্থায় না থাকলে এই ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করে অবিলম্বে উৎপাদন শুরু করার দাবিতে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও এখন পর্যন্ত কারখানা চালুর বিষয়ে দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরের সার উৎপাদন ব্যাহত করছে। তাঁদের দাবি, কারখানার পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্রেফ অবহেলার কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আশুগঞ্জ সার কারখানাটির দৈনিক বিপুল পরিমাণ সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই কারখানাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পার্শ্ববর্তী সাতটি জেলার কৃষকদের সারের চাহিদা মিটিয়ে আসছিল। কিন্তু কারখানাটি পুরনো হওয়ার কারণ দেখিয়ে বর্তমানে সরকার এখানে জ্বালানি সরবরাহে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে কারখানার কারিগরি কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাষ্পের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মাত্র পনেরো থেকে কুড়ি দিনের মধ্যেই পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব।
সার কারখানাটি দ্রুত সচল করা না হলে রাষ্ট্রকে কেবল বিশাল অংকের অর্থই হারাতে হবে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতেও। স্থানীয় পর্যায়ে সারের সরবরাহ কমে গেলে কৃষকদের চাষাবাদের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এবং দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পবিত্র এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে সবাইকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রোববার এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।’
তিনি বলেন, ‘লাইলাতুল কদর মহিমামন্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’
বাণীতে তিনি আরও বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।
আসুন, আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি-তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।’
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা আমাদের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এই কামনা করি।’