দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পত্তিতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, তাদের সম্পত্তির ওপর হামলা চালালে তারা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের সুযোগ পাবে এবং তাদের সাজানো গল্প ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি হলে তা বিশ্বে ভুল বার্তা দেবে।
আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সরকারি বিবৃতিতে এসব কথা জানান।
বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, (শেখ হাসিনার এ কর্মকাণ্ড) দেশকে তার নিপীড়নের যুগ থেকে পুনরুদ্ধার হতে বাধাগ্রস্ত করছে। অবিলম্বে সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করতে হবে। কোনো অজুহাতে শেখ হাসিনার পরিবার ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ দলের রাজনীতিবিদদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে বা কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা করা যাবে না।
তিনি বলেন, যারা (আওয়ামী লীগ নেতাদের) সম্পত্তির ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে তাদের ক্ষোভ বোঝা যায়। কারণ তারা ও তাদের আত্মীয়-স্বজন শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকার বুঝতে পারে যে, শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েও তার সন্ত্রাসীদের সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। তবে এই বাস্তবতা বোঝার পরও, সরকার সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে, আমাদের অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে। বিশ্বকে দেখাতে হবে যে আমরা আইনের শাসনকে সম্মান করি। আইনের শাসন মেনে চলাই আমাদের নতুন বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য, যা পুরোনো ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে আমাদের আলাদা করেছে। আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিকে দুর্বল করা যাবে না। আইনের প্রতি কোনো অবজ্ঞা নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
ড. ইউনূস বলেন, যেসব নাগরিক শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে জুলাই ও আগস্ট মাসে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের ও বিশ্বের বন্ধুদের সামনে প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা ন্যায়বিচারের পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরস্পরের নাগরিক ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইন মেনে চলার বিষয়ে অবিচল। একটি ন্যায়সঙ্গত নতুন বাংলাদেশের পক্ষের সংগ্রামীদের এমন কিছু করা উচিত নয়, যা বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণকে আগের স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ তৈরি করে।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এ বিষয়ে সচেতন। সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সব বাংলাদেশির জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। যদি কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য উসকানিমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেবে। যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী নেতারা দেশকে চরম দুর্দশার মধ্যে ফেলে গেছেন। যতদিন আমরা সজাগ থাকবো এবং নৈতিক উচ্চতা ধরে রাখবো, ততদিন তারা ফিরে আসার কোনো সুযোগ পাবে না। তাদের সম্পত্তির ওপর হামলা চালালে তারা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের সুযোগ পাবে এবং তাদের সাজানো গল্প ছড়ানোর চেষ্টা করবে। আমরা তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের আওতায় আনছি। সারাবিশ্ব আমাদের সঙ্গে আছে। আইনশৃঙ্খলার কোনো অবনতি হলে তা বিশ্বে ভুল বার্তা দেবে।
দেশের সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যেন এমন একটি দেশ গড়ে তুলি, যেখানে সব বাংলাদেশি নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারে। এজন্য আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ উদ্যোগে নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।
সরবরাহ সংকটের কারণে জ্বালানি খাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে দেশটির জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ সময় মন্ত্রী এ সহায়তা চান।
জবাবে মার্কিন জ্বালানি সচিব বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেন তিনি।
জবাবে মার্কিন জ্বালানি সচিব বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানির সম্ভাবনা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করেন।
এ সময় উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
সব দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা এগিয়ে নেবে বিএনপি। এমনটা জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিগত সরকার (আওয়ামী লীগ) ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে বিকৃত করেছিল, কিন্তু বিএনপি কোনোভাবেই ইতিহাসের বিকৃতি হতে দেবে না।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, অতীতের ভুল সংশোধন করার জন্য অতীতের যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর আইন লঙ্ঘনকারীদেরকে আমরা অবশ্যই সাজার আওতায় আনব। আমরা প্রতিটি ঘটনাকে আইনের আওতায় আনবো। কিন্তু আইনের বাইরে এবং ইতিহাসকে বিকৃত করার কোন কাজের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করবো না। আমরা মনে করি না যে এই দেশ শুধু আমাদের একার। আমরা মনে করি এই দেশ সকলের।
ইতিহাস থেকে শহীদ জিয়াকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নেবে বিএনপি।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে বলে জানান ইশরাক হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে শিক্ষামন্ত্রীকে বিকল্প খুঁজতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলন এবং গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাক্ষাৎ করেছেন।
তিনি আরও জানান, রাজধানীতে স্কুলের সময়ে যেভাবে যানজট হয়, তা কীভাবে নিরসন করা যায় এবং এ বিষয়ে বিকল্প ব্যবস্থা কী কী হতে পারে— তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা তৈরি করে উপস্থাপন করতে বলেছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে— রাজধানীর একটি স্কুলে ১৫০ শিক্ষার্থীর জন্য ১০০ গাড়ি স্কুলের সামনে ভিড় করে। এতে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে বেগ পেতে হয়। সমস্যাগুলো অ্যাড্রেস করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিকল্প খুঁজতে মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ এবং বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণার দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেছেন। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফশিল উদ্ধৃত করে গত বছরের জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর আইনি অসারতা ব্যাখ্যা করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এই ফরম দাখিল করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি এটি করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য একটি ব্যালট দিয়েছিল। সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কোনো আলাদা ব্যালট ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে, অস্তিত্বহীন কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।
বিগত সরকারের জারি করা আদেশটিকে ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ (শুরু থেকেই বাতিল) আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। সুতরাং যে আদেশের জন্মই অবৈধ, তার ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান করা যায় না। এই আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি প্রতারণার দলিল। এটি না অধ্যাদেশ, না আইন। এটি সার্বভৌম পার্লামেন্টের অধিকার ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে জানান তিনি।
সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ৮ দাবি জানিয়েছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা। এমন অবস্থায় দৈনিক ১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখতে চান মালিকরা। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে জনসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এই দাবি উত্থাপন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি রেশনিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে পাম্প মালিকরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পাম্পগুলোতে ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন স্থানে সঠিক তথ্য না জেনে পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। এই অস্থিরতা নিরসনে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পেট্রোল পাম্প মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করে আসছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সঠিক তথ্য না জেনে পেট্রোল পাম্পে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে—যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্যের বরাতে সংগঠনের নেতারা জানান, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই এবং বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে অনেক গ্রাহক অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
মালিকরা স্পষ্ট করেছেন, সবাই যদি কেবল নিজের গাড়ির ট্যাঙ্ক পূর্ণ করার প্রতিযোগিতায় নামে, তবে জরুরি প্রয়োজনে অন্য কেউ তেল পাবে না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির উত্থাপিত ৮ দফা দাবির মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো পেট্রোল পাম্পগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পাম্প কর্মীদের ওপর হামলা ও সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এছাড়া তেল বিক্রির সময়সীমা নির্দিষ্ট করা, বাস্তবতার নিরিখে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ সমন্বয় করা এবং ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি জ্বালানি নিয়ে অপপ্রচার ও গুজব রোধে সরকারি মনিটরিং জোরদার করা এবং রেশনিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষারোপ বন্ধ করার দাবি জানান নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পাম্পে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষারোপ না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাম্পে হামলা ও সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
আমদানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসির) চেয়ারম্যানকে পাঠানো অফিস আদেশে জানানো হয়, ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বর্তমান মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা ও কেরোসিন ১১২ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে এই মূল্য কার্যকর হবে।
এক দিন আগে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বিশ্ববাজার পরিস্থিতির আলোকে দাম সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা পড়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণ শেষে সরকারের কাছে সঠিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হবে।
গত সোমবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, গত ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দরের তুলনায় ১-২৯ মার্চ সময়ে দাম ৯৮ শতাংশ বেড়েছে, অকটেনের বেড়েছে ২৬ শতাংশ। সরকার জনগণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিচ্ছে। এই দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ও অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা, মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির জন্য এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বর্তমান অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি-বিশেষ করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অপর এক প্রস্তাবের ভিত্তিতে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকের (ইএমকেআই) কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আরেক প্রস্তাবের ভিত্তিতে জিটুজি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান পি.টি. বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন), ইন্দোনেশিয়া থেকে চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস অয়েল ০.৫ শতাংশ ‘এস’ (ডিজেল) ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন সময়সূচি চালুর পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে অনলাইন ও সরাসরি ক্লাস মিলিয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতি চালুর ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রস্তাবটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় নেওয়া হবে।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিনের ক্লাসের মধ্যে তিন দিন সরাসরি এবং বাকি তিন দিন অনলাইনে পাঠদান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর একান্ত সচিব জি. এম. ফারহান ইসতিয়াক জানান, শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতির চাপ কমাতে ‘অল্টারনেট ডেইজ’ বা একদিন পরপর ক্লাস নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং এতে উপস্থিত সবাই সম্মতি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, অনলাইন ক্লাসের দিনেও শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠদান চালাতে হবে। এই উদ্যোগ মূলত জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি পরিকল্পনার অংশ।
এর আগে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় নিয়ে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখার পরিকল্পনা করছি। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে অনলাইনে ক্লাসের এই চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তীতে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার-বীজ সরাসরি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘কৃষকরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষিকাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কেবলমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে এসব বিতরণ করা হবে।’
মন্ত্রী জানান, কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এতে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।
মন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচকাজে বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে মার্চ/২০২৬ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ লাখ কোটি টাকা এবং ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।
কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আহমেদ আজম খান জানিয়েছেন, ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ বা জালিয়াতির মাধ্যমে যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ঢুকিয়ে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন, তাদের খুব দ্রুত চিহ্নিত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে বিগত সরকারের আমলে বাদ পড়া ও হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী বলেন, আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ধরনের অমুক্তিযোদ্ধা, যারা ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তাদের সন্তানদের চাকরি দিয়েছেন এবং নিজেরাও বিভিন্নভাবে অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন-আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি।
শিগগিরই এর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় অল্প দিনের মধ্যেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে ও তা জাতির সামনে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে।
বিগত সরকারের আমলের অনিয়মের কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আরও অনেক অভিযোগ এসেছে। সংসদ সদস্যরা যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, সেটিও দেখা হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।
আহমেদ আজম খান বলেন, এসব অনিয়মের মধ্য দিয়ে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভাতা ও অন্যান্য অবৈধ সুবিধা নিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। তিনি সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করে তা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি সদ্য বিদায়ী পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ মার্চ এই দুই কর্মকর্তা নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহণ ও অর্পণ করেন। ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স শাখার নতুন এই প্রধান কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন।
শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি অত্যন্ত মেধাবী। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে ডিফেন্স স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট।
দেশের আরও ১৪ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর ধারা ৩ দ্বারা জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২৭(১) মোতাবেক ব্যক্তিগণকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পার্শ্বে উল্লিখিত জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরীকে নীলফামারী, এ কে এম মমিনুল হককে লালমনিরহাট, মোহাম্মাদ জহুরুল ইসলামকে পাবনা, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান আলেককে নড়াইল, মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লাকে বরগুনা, মোঃ সিরাজুল হককে জামালপুর, মোঃ ইয়াছিন ফেরদৌস মোরাদকে ঢাকা, চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকীকে গাজীপুর, জামিলুর রশিদ খানকে মানিকগঞ্জ, তোফাজ্জল হোসেনকে নরসিংদী, মোঃ আফজাল হোসেন খ' 'পলাশকে ফরিদপুর, আহমেদ আলীকে হবিগঞ্জ, এ কে এম সলিম উল্যা সেলিমকে চাঁদপুর, অধ্যাপক এম এ খালেককে ফেণী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ। সবশেষ মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে পিভিটি সোলানা নামে একটি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এসব জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে সবকয়টি জাহাজ জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এসব জাহাজের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি আসছে।
এর আগে গত ২৬ মার্চ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছে। একই দিন অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে এসেছে। পরদিন (২৭ মার্চ) ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং বর্তমানে পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দেওয়া ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও একটি ট্যাংকার। আগামী ৪ এপ্রিল জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতার থেকে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে কয়েকটি চালান না আসায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।