সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে শতাধিক ভুল, ফের নেয়ার দাবি শিক্ষক মহলেই

আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২১:৪২
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৮:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষার অনেকগুলো প্রশ্নপত্রে প্রায় একশ ভুল ধরা পড়েছে। কাঠামোগত অসঙ্গতি, পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন, এবং ক্রমধারার অমিল ছাড়াও বানান, অনুবাদ, বাক্যগঠন ও ব্যাকরণে একাধিক ভুল লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রয়েছে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বাক্যও।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ভুলেভরা প্রশ্নপত্রের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র তৈরিতে যারা যুক্ত ছিলেন তারা পেশাদারত্ব এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। প্রশ্ন প্রণয়নের পর এটি ভালোভাবে ক্রসচেক করে দেখা উচিত ছিল। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দৃষ্টিকটু ভুলগুলো হচ্ছে:

নির্দেশনাগত ভুল: ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সব বিষয়ের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তর করতে হয় না। প্রশ্নপত্রের শুরুতে যে ভুলটি লক্ষ করা গেছে সেটি হলো- নির্দেশনাগত ভুল। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে কয়টি বিষয়ে উত্তর করতে হবে সেই নির্দেশনাই দেওয়া ছিল না। ফলে যেসব পরীক্ষার্থীর নির্দেশনা সম্পর্কে পূর্ব ধারণা ছিল না, পরীক্ষার হলে তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা।

কাঠামোগত ভুল: পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্র এক করে দেখা গেছে, এক সেটের সব প্রশ্ন একই হওয়ার কথা থাকলেও ‘এ’ সেটে দুই ধরনের প্রশ্ন এসেছে। এক ধরনে চারটি প্রশ্নের পুনারাবৃত্তি হয়েছে, অন্য ধরনে কোনো প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হয়নি। ফলে যে ধরনে চারটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে সেই ধরনে স্বভাবতই এমন চারটি প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল যেটি অন্য ধরনে উপস্থিত ছিল। আবার, একই সেটের সকল প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক থাকার কথা থাকলেও সেটিও ঠিক ছিল না।

তেমনিভাবে ‘বি’ সেটেও দুই ধরনের প্রশ্ন হয়েছে এবং এই সেটের সব প্রশ্নের ক্রমধারাও এক ছিল না। তবে দুই সেটেই এই ভুলগুলো হয়েছে শুধুমাত্র ইংরেজি ও অ্যাকাউন্টিং অংশে। সি এবং ডি সেটে এই ধরনের কোনো ভুল হয়নি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ও ‘বি’-এর প্রতিটি সেটে ১২টি প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক নেই। যেটি একজন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামিয়ে দিতে যথেষ্ট। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর অংশটি স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। কম্পিউটারকে একটি সেটের জন্য একটি উত্তরপত্র দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ভুল-শুদ্ধ নির্ণয় করে কম্পিউটার নম্বর দেয়। ফলে একই সেটের প্রশ্নে এমসিকিউর ক্রমধারা ঠিক না থাকলে এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন থাকলে যেসব শিক্ষার্থীর হাতে ভুল প্রশ্ন গিয়েছে, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অনুবাদ ও ইংরেজি ব্যাকরণে ভুল: প্রশ্নপত্রের বাংলা ও ইংরেজি অংশ ছাড়া বাকিসব বিষয় অর্থাৎ অ্যাকাউন্টিং, বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং, ফিন্যান্স ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স অংশের করা প্রশ্ন বাংলা ও ইংরেজি ভাষা দুই ভাষাতেই করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র পড়ে দেখা যায়, কিছু প্রশ্নের ইংরেজি অনুবাদ ঠিকভাবে করা হয়নি। আবার এই অনুবাদ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুলও করা হয়েছে।

বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট

# ‘নিচের কোন ধরনের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়? (Which type of leadership style give full freedom to take decision to others?)’

এখানে দুইটি ভুল করা হয়েছে। প্রথমত ‘সিদ্ধান্তগ্রহণ’ একশব্দে হবে। আর give এর সাথে s যুক্ত হয়ে gives হবে।

# ‘কোনটি স্থায়ী পরিকল্পনা? (Which one of the following is standing plan)’

এই প্রশ্নের সঠিক অনুবাদ হবে- Which is the standing plan?

প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং

# ‘পণ্যের জীবনচক্রের কোন স্তরে এসে বিক্রয় প্রবৃদ্দি কমতে থাকে? (At what stage is the product lifecycle do the sales growth start to slowdown?)’

এখানে ‘প্রবৃদ্দি’-এর স্থলে ‘প্রবৃদ্ধি’ হবে। আর ইংরেজিতে is এর স্থলে of, do এর স্থলে does এবং slowdown-এর স্থলে slow down হবে।

অ্যাকাউন্টিং (লিখিত অংশ)

# ‘কোন অনুপাতটি একটি কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে? (Which ratio measures a company’s ability to pay short-term liabilities)’

এখানে ইংরেজিতে ব্যাকরণগত ভুল হয়েছে। সঠিক ইংরেজি হবে, Which ratio Does measure a company’s ability to pay short-term liabilities?

বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (লিখিত অংশ)

# ‘কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে দ্বৈতকর বলতে কি বুঝায়? (What is the double taxation in the context of coporation?)’

এখানে ‘কী’ এর স্থলে ‘কি’ লিখা হয়েছে। এছাড়া অনুবাদও ভুলভাবে করা হয়েছে। সঠিক অনুবাদ হবে- ‘What is meant by double taxation in corporation?’

প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং (লিখিত অংশ)

# ‘পণ্য ও সেবার মধ্যে পার্থক্য কর। (What is the basic difference between product and service?)’ এটির সঠিক অনুবাদ হবে- Differentiate between product and service.

পুরো প্রশ্নপত্রে এই ধরনের আরও অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে।

বানানগত ভুল: প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন অংশে ‘কি’, ‘কর’, ‘নীচের’, ‘একত্রিকরন’, ‘অধিগ্রহন’, ‘গড়ব্যায়’, ‘কাচামাল’, ‘স্বারকলিপি’, ‘স্বত্ত্বগত শব্দগুলো ভুল বানানে লেখা হয়েছে যেগুলোর শুদ্ধরূপ হবে যথাক্রমে- ‘কী’, ‘করো’, ‘নিচের’, ‘একত্রীকরণ’ ‘অধিগ্রহণ’, ‘গড়ব্যয় ‘,‘কাঁচামাল’,‘স্মারকলিপি’,‘স্বত্বগত’।

এছাড়া, লিখিত অংশে প্রশ্ন করা হয়েছে ‘মূলধনী লাভ বলিতে কি বুঝায়?’ এখানে গুরুচণ্ডালি দোষ হয়েছে। আর একাধিক জায়গায় ‘কী’ এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘কি’।

ভর্তি পরীক্ষার এক প্রশ্নে এত ভুল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। তারা দ্বিতীয়বার এই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, এই ধরনের ভুলেভরা প্রশ্নপত্র অপেশাদারত্বের ইঙ্গিত দেয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। এটির দায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কখনো এড়াতে পারেন না। তার উচিত সকল দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করে ক্ষমা চাওয়া। শিক্ষার্থী, দেশ, মেধার বিকাশ এবং ন্যায্যতার স্বার্থে এই পরীক্ষা দ্বিতীয়বার নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দায়িত্বে সকল খরচ বহন করা উচিত।

পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী যা বলছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে কাঠামোগত ত্রুটি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ও অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। গতকাল তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘বি’ সেটে এবং ‘বি’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘এ’ সেটে ছাপা হওয়ায় নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে।

মাহমুদ ওসমান বলেছেন, ভুল প্রশ্নপত্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এটি দ্রুত সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কাঠামোগত এই ভুলের সমাধানের বিষয়ে গতকাল রোববার অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিন মাহমুদ ওসমান।

দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে মাহমুদ ওসমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘না, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। যেটি পরীক্ষা নেওয়া ছাড়াই সমাধানযোগ্য, সেখানে আমরা নতুন করে পরীক্ষা নিতে যাব কেন?’

তবে কী পদ্ধতি অনুসরণ করে এই কাঠামোগত ভুলের সমাধান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা সেটি রিভিল (প্রকাশ) করছি না। সময় হলে আমরা আপনাদের জানাব।’

প্রশ্নপত্রে বানান, অনুবাদ এবং ব্যাকরণগত ভুলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেছেন, ‘ঠিক, এসবে আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। সামনে আমরা এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।’


রেমিট্যান্সে নতুন গতি, অক্টোবরে এলো ২৮৭ কোটি ডলার

# চার মাসে প্রবাসী আয় ১১৪৬ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি বাড়িয়ে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৭ কোটি (২ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই মাসের তুলনায় এ আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। একই সঙ্গে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৬ কোটি (২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি বছরের অক্টোবরে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডলার। শতকরা হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে দেশে মোট ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ (১১ দশমিক ৪৬৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় ১৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।

রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। এর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।

বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের বাজারে চাপ এবং আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। প্রবাসী আয় বাড়লে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহও বাড়ে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও রেমিট্যান্সের প্রভাব ব্যাপক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে লাখ লাখ পরিবার দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটায়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা সৃষ্টিতেও এ অর্থ ভূমিকা রাখে। তবে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা, লেনদেনের খরচ কমানো এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাসে ২৮৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এবং অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের এই ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।


বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব

# ৩৪০ হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ ফেরত # এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে পাবেন সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশি ৩৪০ জন হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি সরকারের কাছ থেকে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান। হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্সের আওতাভুক্ত নয়—এমন চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে আটকে রাখা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ফেরত পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ যেসব হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে অর্থ আটকে রাখা হয়েছিল, তারা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। অতীতের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার নজির ছিল না বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌদি আরব থেকে এ অর্থ ফেরত পাওয়া হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বচ্ছতা ও হজযাত্রীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।


মরদেহ কোথায়, ঢাকাকে এখনো জানায়নি রিয়াদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, তা এখনো জানেন না তাদের পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অনুরোধের জবাব এখনো দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত জানতে চেয়ে পাঠানো কূটনৈতিক নোটের জবাবে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাংলাদেশ এখনো কোনো উত্তর পায়নি বলে রোববার জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

নজরুলের পরিবার জানায়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাদের কাছ থেকে কিছু নথি সংগ্রহ করেছিলেন। তবে নজরুলের মরদেহ কোথায় রয়েছে কিংবা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানতে পারেননি।

সুইটির বাবা তার মেয়ের মরদেহ কিংবা অন্তত দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাদের কিছুই জানায়নি। সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি থেকে মিশন এ বিষয়ে জানতে পারে।

পরবর্তীতে অভিযোগ, আদালতের রায়, আইনি প্রতিনিধিত্ব ও মরদেহের পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশ একটি কূটনৈতিক নোট পাঠায়।

কনস্যুলেটের আগের চিঠিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ওই দুই বাংলাদেশি আটক ছিলেন। তবে, ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বাংলাদেশি বন্দিদের তালিকায় ওই দুজনের শাস্তি সম্পর্কে তথ্য ছিল না।

নজরুল ও সুইটির পরিবারের সদস্যরা এর আগে জানিয়েছিলেন, ওই দুজনের যে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে সে বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য কর্তৃপক্ষের কাছে থাকলে, বিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে তা জানাতে হয়।

এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় মামলা দুটি নিয়ে বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকায়ও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত এবং বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে ওই দুই বাংলাদেশি পর্যাপ্ত আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে।

ওই দুই বাংলাদেশির আটক, বিচার, সাজা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রকাশ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাদের কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিয়েছিল, তার বিস্তারিত জানাতে ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়।


পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা ও রপ্তানি সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

#মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব # সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান সরকারের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সরকারের এ উদ্যোগকে শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

তিনি বলেন, সরকার দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করতে চায় সরকার।

আগেই গঠন করা হলো মজুরি বোর্ড: পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। রোববার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মজুরি বোর্ড শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিনকে সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নিরপেক্ষ সদস্য করা হয়েছে। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুবকে মালিকদের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের নিয়ম রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার আগেই উদ্যোগ নিয়েছে। মালিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়া গেলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধি মনোনয়নে কিছুটা সময় লেগেছে। রোববার রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর পরদিন সকালে বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবার নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকা এবং আর্থিক সক্ষমতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন।

সহিংসতা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ ও অন্যান্য দাবি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহিংস আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন, বিভিন্ন স্থানে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর এবং কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, যারা সহিংসতা, নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক ঘটনায় মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ ও উসকানির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে সরকার মনে করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কারখানা চালু ও রপ্তানি অব্যাহত রাখার আহ্বান: আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে কারখানা বন্ধ থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। শ্রমিক ও মালিকদের পারস্পরিক আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এ খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ শ্রমিকদের ন্যায্য স্বার্থ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা। নতুন মজুরি বোর্ডের আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের প্রত্যাশা পূরণ এবং মালিকদের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলে পোশাকশিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ‘ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেল’ হয়ে উঠছে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালোটাকা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বা দলীয় অবস্থান একটি ‘ক্ষমতা-কেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে’ পরিণত হচ্ছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন। ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল ক্ষমতার রাজনীতির চর্চার অবসান ঘটবে। সেখানে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে দলীয় কোন্দল, অন্তর্দ্বন্দ্ব, এমনকি মানুষের প্রাণ দিতে হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের চেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সেটি আরও বেশি বিকশিত হচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতির কথা তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা এবং জবাবদিহির ঘাটতির ফলে বড় রাজনৈতিক দলগুলোতে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার দেখা যায়। এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতা এক ধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন নিয়েও কথা বলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। এ অর্থের ব্যবস্থাপনা অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিনির্ভর। ফলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতার ঘাটতি থাকে। দলগুলোর আনুষ্ঠানিক আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গেও বাস্তবতার বিশাল পার্থক্য রয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি বিদ্যমান। আইন ও বিধিমালা থাকা সত্ত্বেও দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী আইনি কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর চর্চারও অসামঞ্জস্য রয়েছে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অন্য দেশের চর্চার সঙ্গে বাংলাদেশের চিত্র সামঞ্জস্যহীন উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই চর্চা অতি নিয়ন্ত্রণমূলক। অন্যদিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের কার্যকর পদ্ধতির অনুপস্থিতির কারণে আইনি শর্তভিত্তিক ব্যবস্থা অঙ্কুরেই অর্থনির্ভর প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করে।

দলীয় নেতৃত্বে পরিবারতন্ত্র ও অভিজাততন্ত্রের প্রাধান্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তৃণমূল, বিভিন্ন বৈচিত্র্যের মানুষ ও নারীদের অংশগ্রহণের ঘাটতির কারণে নেতৃত্ব বিকাশে পরিবারতন্ত্র বা অভিজাততন্ত্র প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য সাধারণ মানুষ সুযোগবঞ্চিত হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কখনো ইতিবাচক হতে পারে না। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।

রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলিতে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য।

সংস্কারের দায়দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং দলগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের পূর্বশর্ত হিসেবে নেতাদের নিজেদের আয়নার সামনে দাঁড় করাতে হবে। সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট কাওছার আহমেদ ও কাজী আমিনুল হাসান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা-নির্বাহী ব্যবস্থাপনা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান এবং আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।


সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট ব্যাহত, বিপাকে ২৩ হাজার যাত্রী

# সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে প্রভাবিত ১৫৯টি # সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট সমস্যায় ইন্ডিগো ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ১৫৯টি ফ্লাইটে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী। প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৮২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি। ফলে সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব চৌধুরী রোববার এ তথ্য জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী এই পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে। একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করা ট্রানজিট যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন।

সরাসরি ফ্লাইটে বেশি প্রভাব: প্রভাবিত ৮২টি সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩৭টি, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৬টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের যাত্রা ও ফেরার সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রীদের একটি বড় অংশ এ পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ও রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইটেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইটেও ভোগান্তি: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার প্রভাব শুধু সরাসরি যাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ট্রানজিট ফ্লাইটেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। এ ধরনের ৭৭টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।

এর মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ৩০টি ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।

ট্রানজিট ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটায় একাধিক দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরব যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে যাদের একাধিক ফ্লাইটের সংযোগ রয়েছে, তাদের পরবর্তী যাত্রা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যাত্রীদের বাড়তি চাপ: বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করেন। একইভাবে ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদেরও প্রতিদিন বিভিন্ন ফ্লাইটে আসতে হয়। ফলে বিমান চলাচলে এমন বিঘ্নের প্রভাব পড়ে দুই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থায়।

ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন বা পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা থাকলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে অপেক্ষা, সংযোগ ফ্লাইট মিস করা এবং নতুন করে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানোর মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত সময় থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য এ ধরনের অনিশ্চয়তা বাড়তি চাপ তৈরি করে।

এদিকে, পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ১৫৯টি ফ্লাইট এবং ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির আওতায় এসেছেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার সীমাবদ্ধতা কত দিন থাকবে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় দুই দেশের আকাশপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ পুরোপুরি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।


নতুন কাঠামোয় বেতন পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা

# চার মাসের বেতন একসঙ্গে # অধিকাংশের হিসাবে যোগ হয়েছে বকেয়া অর্থ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর সুফল পেতে শুরু করেছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, রোববার সকালে অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে গত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থ পেয়েছেন তাদের অধিকাংশ। এর মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং আট লাখ পেনশনভোগীর অধিকাংশই নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাড়তি অর্থ পেয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে না পারায় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর হিসাবে নতুন বেতন যুক্ত হয়নি। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে যাদের পে ফিক্সেশন সম্পন্ন হয়েছে, তারাই প্রথম দফায় বর্ধিত বেতন পেয়েছেন। বাকিরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোববার সকাল ১০টার পর থেকেই অনেক সরকারি চাকরিজীবীর মুঠোফোনে নতুন বেতনের অর্থ জমা হওয়ার বার্তা আসতে শুরু করে। এতে দীর্ঘদিন পর বেতন বৃদ্ধির সুবিধা পেতে শুরু করেছেন তারা। অন্যদিকে, প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

বেতন নির্ধারণে অসংগতি: নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠতা, গ্রেডের ক্রম এবং বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন।

কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের মধ্যে কিছু অসংগতি দেখা যাচ্ছে। বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এতে কেউ কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। আবার পদোন্নতির পরও কারও কারও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে।

সর্বোচ্চ বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ: গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হলেও একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। কয়েকটি ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাচ্ছেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতন স্কেলের শতভাগ কার্যকর হবে।

ভাতা বাড়ছে ২০২৮ সাল থেকে: নতুন মূল বেতন কার্যকর হলেও অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে এখনই পরিবর্তন আসছে না। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে প্রচলিত হারেই দেওয়া হবে। সংশোধিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই কাঠামোয় সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন, বেতন নির্ধারণের জটিলতা এবং ভাতা নিয়ে বিদ্যমান অসংগতি নিরসনই এখন নতুন কাঠামোর সুফল পুরোপুরি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকবে ৪ দিন, কমবে গ্যাসের চাপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবিস্থত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর সকাল থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।

রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) জনসংযোগ দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সামিটের টার্মিনালে এলএনজি থেকে গ্যাসে রূপান্তরের (রিগ্যাসিফিকেশন) কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে বর্তমান দৈনিক সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস পেয়ে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হবে। ফলে সারা দেশে গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেও এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম করা হয়েছিল। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।


ইন্টারপোলের সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্স গেলেন পুলিশ আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় ইন্টারপোল গ্লোবাল বায়োসিকিউরিটি কনসফারেন্সে যোগ দিতে ফ্রান্সের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এই কনফারেন্সে যোগ দিতে তিনি রোববার ঢাকা ত্যাগ করেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারপোলের বায়োটেররিজম প্রিভেনশন ইউনিটের উদ্যোগে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ফ্রান্সের লিয়ঁতে ইন্টারপোল সদর দপ্তরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, জীবাণু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বায়োসিকিউরিটি হুমকি পর্যালোচনার পাশাপাশি সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলন শেষে আগামী ৭ নভেম্বর দেশে ফিরবেন আইজিপি।

বিষয়:

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভ: ৫০ পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে আশুলিয়ার অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কারখানা বন্ধের এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও নিউ এইজ কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে প্রবেশ করে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে সংহতি প্রকাশ করে আশপাশের অন্যান্য পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টসের সামনের সড়ক অবরোধ করলে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা, বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই প্রতিহত করা এবং তালিকা করে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, মূলত এই তিন দফা দাবিতেই শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছেন। মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এক গণমাধ্যমকে জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে অন্তত ৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং বর্তমানে সার্বিক পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

বিষয়:

পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে যোগ দিলেন ৮৪ নবীন কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে এবং কোনো অবস্থাতেই যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এ সময় তিনি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনের জন্যেও নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ৪৫তম বিসিএস (পুলিশ) ও বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে তা যেন কোনোভাবেই কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয়।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুপিরিয়র সার্ভিসে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ সমুন্নত রাখা এবং এর মাধ্যমে দেশের সকল কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্ন করার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রশাসন, উন্নয়ন ও সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বস্তি অনেকাংশে আপনাদের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।’

তিনি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘সার্ভিস লাইফে সর্বদা শৃঙ্খলা ও সার্ভিস রুলস মেনে চলতে হবে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইনানুগ নির্দেশ পালন করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য ক্যাডার সার্ভিসের চেয়ে পুলিশ ও আনসার সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এখানে মুহূর্তের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেখানে বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারিত্ব ও প্রেজেন্স অব মাইন্ড অত্যন্ত জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইজিপি (ইনচার্জ) ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

উল্লেখ্য, আজ ১ নভেম্বর পূর্বাহ্নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে ৬৫ জন এবং বিসিএস (আনসার) ক্যাডারে ১৯ জন কর্মকর্তা যোগদান করেন।


ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলবে আটটি জোনে, নিবন্ধন শুরু কাল থেকে

১৩ সিটি করপোরেশনে শুরু হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির ই-রিকশা নিয়মতান্ত্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ ঘোষণার সময় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

নতুন এ নীতিমালার প্রেক্ষাপটে চালকদের বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কোনো পক্ষের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের সুযোগ না দিয়ে পর্যায়ক্রমে বৈধ যানবাহনকে সনদ প্রদান এবং অনুমোদনহীন রিকশা অপসারণ করা হবে। রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসন ও চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে চারটি করে মোট আটটি জোনে ভাগ করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জোনভিত্তিক চলাচলের জন্য আটটি ভিন্ন রং বরাদ্দ থাকবে, যাতে এক এলাকার নির্ধারিত রিকশা অন্য এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের যৌথ পর্যালোচনায় প্রতিটি জোনে চলাচলের উপযোগী রিকশার সংখ্যা ও সীমা নির্ধারিত হবে এবং প্রধান প্রধান বাস রুটে এসব স্বল্পগতির যানের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

নির্ধারিত বিধিমালা অনুসারে, প্রতিটি ই-রিকশার প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং অনুমোদন প্লেটের জন্য এক হাজার টাকা ব্যয় হবে। প্রতিবছর নবায়নযোগ্য এই নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য, মালিকের পরিচয় ও চলাচলের অঞ্চল চিহ্নিত রাখতে ডিজিটাল কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। প্রাথমিক ধাপে চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা না হলেও সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে লাইসেন্স কাঠামোর অধীনে আনা হবে। তবে নিবন্ধনের পূর্বশর্ত হিসেবে চলাচলকারী রিকশাগুলোকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত কারিগরি নকশা অনুসারে পরিমার্জন করতে হবে এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই একই নকশা অনুসরণ করতে হবে।

অননুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হবে, যেখানে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক স্টেশনগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে ব্যাটারি চার্জ করার বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে প্রণীত এই কাঠামো আপাতত ১৩টি মহানগরে কার্যকর হলেও পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে পৌরসভাগুলোতেও একই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীসাধারণের নাগালের মধ্যে রাখতে ট্রাফিক বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও মালিকপক্ষের যৌথ সমঝোতায় ই-রিকশার কিলোমিটারভিত্তিক নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।


দেশ গঠনে যুবসমাজই প্রধান চালিকাশক্তি: রাষ্ট্রপতি

রাজপথের সংঘাতময় সংস্কৃতির বদলে সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং রাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে যুবসমাজের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশের বিপুল যুবশক্তিকে কর্মমুখী ও উৎপাদনশীল ধারায় সম্পৃক্ত করাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে এই তরুণদের মেধা ও শ্রমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। সব বিষয়ে সংকীর্ণ রাজনীতির চর্চা পরিহার করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাজপথের সংঘাতময় সংস্কৃতির বদলে সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে উৎখাত করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং এই অর্জনকে জাতীয় কল্যাণে ফলপ্রসূ করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বিপ্লবের মাধ্যমেই সামগ্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়; দেশকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। আর এই নতুন দেশ নির্মাণের গুরুদায়িত্ব তরুণদের কাঁধেই নিতে হবে।

বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সময়োপযোগী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, শিক্ষিত ও আধুনিক দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে এবং সরকার সে লক্ষ্যেই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বেকারত্বের হতাশা থেকেই তরুণদের মাঝে মাদকের মতো মারাত্মক অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সমাজের সকল প্রকার বৈষম্য, অন্যায় ও সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি।


banner close