ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষার অনেকগুলো প্রশ্নপত্রে প্রায় একশ ভুল ধরা পড়েছে। কাঠামোগত অসঙ্গতি, পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন, এবং ক্রমধারার অমিল ছাড়াও বানান, অনুবাদ, বাক্যগঠন ও ব্যাকরণে একাধিক ভুল লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রয়েছে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বাক্যও।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ভুলেভরা প্রশ্নপত্রের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র তৈরিতে যারা যুক্ত ছিলেন তারা পেশাদারত্ব এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। প্রশ্ন প্রণয়নের পর এটি ভালোভাবে ক্রসচেক করে দেখা উচিত ছিল। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দৃষ্টিকটু ভুলগুলো হচ্ছে:
নির্দেশনাগত ভুল: ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সব বিষয়ের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তর করতে হয় না। প্রশ্নপত্রের শুরুতে যে ভুলটি লক্ষ করা গেছে সেটি হলো- নির্দেশনাগত ভুল। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে কয়টি বিষয়ে উত্তর করতে হবে সেই নির্দেশনাই দেওয়া ছিল না। ফলে যেসব পরীক্ষার্থীর নির্দেশনা সম্পর্কে পূর্ব ধারণা ছিল না, পরীক্ষার হলে তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা।
কাঠামোগত ভুল: পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্র এক করে দেখা গেছে, এক সেটের সব প্রশ্ন একই হওয়ার কথা থাকলেও ‘এ’ সেটে দুই ধরনের প্রশ্ন এসেছে। এক ধরনে চারটি প্রশ্নের পুনারাবৃত্তি হয়েছে, অন্য ধরনে কোনো প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হয়নি। ফলে যে ধরনে চারটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে সেই ধরনে স্বভাবতই এমন চারটি প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল যেটি অন্য ধরনে উপস্থিত ছিল। আবার, একই সেটের সকল প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক থাকার কথা থাকলেও সেটিও ঠিক ছিল না।
তেমনিভাবে ‘বি’ সেটেও দুই ধরনের প্রশ্ন হয়েছে এবং এই সেটের সব প্রশ্নের ক্রমধারাও এক ছিল না। তবে দুই সেটেই এই ভুলগুলো হয়েছে শুধুমাত্র ইংরেজি ও অ্যাকাউন্টিং অংশে। সি এবং ডি সেটে এই ধরনের কোনো ভুল হয়নি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ও ‘বি’-এর প্রতিটি সেটে ১২টি প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক নেই। যেটি একজন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামিয়ে দিতে যথেষ্ট। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর অংশটি স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। কম্পিউটারকে একটি সেটের জন্য একটি উত্তরপত্র দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ভুল-শুদ্ধ নির্ণয় করে কম্পিউটার নম্বর দেয়। ফলে একই সেটের প্রশ্নে এমসিকিউর ক্রমধারা ঠিক না থাকলে এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন থাকলে যেসব শিক্ষার্থীর হাতে ভুল প্রশ্ন গিয়েছে, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
অনুবাদ ও ইংরেজি ব্যাকরণে ভুল: প্রশ্নপত্রের বাংলা ও ইংরেজি অংশ ছাড়া বাকিসব বিষয় অর্থাৎ অ্যাকাউন্টিং, বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং, ফিন্যান্স ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স অংশের করা প্রশ্ন বাংলা ও ইংরেজি ভাষা দুই ভাষাতেই করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র পড়ে দেখা যায়, কিছু প্রশ্নের ইংরেজি অনুবাদ ঠিকভাবে করা হয়নি। আবার এই অনুবাদ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুলও করা হয়েছে।
বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
# ‘নিচের কোন ধরনের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়? (Which type of leadership style give full freedom to take decision to others?)’
এখানে দুইটি ভুল করা হয়েছে। প্রথমত ‘সিদ্ধান্তগ্রহণ’ একশব্দে হবে। আর give এর সাথে s যুক্ত হয়ে gives হবে।
# ‘কোনটি স্থায়ী পরিকল্পনা? (Which one of the following is standing plan)’
এই প্রশ্নের সঠিক অনুবাদ হবে- Which is the standing plan?
প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং
# ‘পণ্যের জীবনচক্রের কোন স্তরে এসে বিক্রয় প্রবৃদ্দি কমতে থাকে? (At what stage is the product lifecycle do the sales growth start to slowdown?)’
এখানে ‘প্রবৃদ্দি’-এর স্থলে ‘প্রবৃদ্ধি’ হবে। আর ইংরেজিতে is এর স্থলে of, do এর স্থলে does এবং slowdown-এর স্থলে slow down হবে।
অ্যাকাউন্টিং (লিখিত অংশ)
# ‘কোন অনুপাতটি একটি কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে? (Which ratio measures a company’s ability to pay short-term liabilities)’
এখানে ইংরেজিতে ব্যাকরণগত ভুল হয়েছে। সঠিক ইংরেজি হবে, Which ratio Does measure a company’s ability to pay short-term liabilities?
বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (লিখিত অংশ)
# ‘কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে দ্বৈতকর বলতে কি বুঝায়? (What is the double taxation in the context of coporation?)’
এখানে ‘কী’ এর স্থলে ‘কি’ লিখা হয়েছে। এছাড়া অনুবাদও ভুলভাবে করা হয়েছে। সঠিক অনুবাদ হবে- ‘What is meant by double taxation in corporation?’
প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং (লিখিত অংশ)
# ‘পণ্য ও সেবার মধ্যে পার্থক্য কর। (What is the basic difference between product and service?)’ এটির সঠিক অনুবাদ হবে- Differentiate between product and service.
পুরো প্রশ্নপত্রে এই ধরনের আরও অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে।
বানানগত ভুল: প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন অংশে ‘কি’, ‘কর’, ‘নীচের’, ‘একত্রিকরন’, ‘অধিগ্রহন’, ‘গড়ব্যায়’, ‘কাচামাল’, ‘স্বারকলিপি’, ‘স্বত্ত্বগত শব্দগুলো ভুল বানানে লেখা হয়েছে যেগুলোর শুদ্ধরূপ হবে যথাক্রমে- ‘কী’, ‘করো’, ‘নিচের’, ‘একত্রীকরণ’ ‘অধিগ্রহণ’, ‘গড়ব্যয় ‘,‘কাঁচামাল’,‘স্মারকলিপি’,‘স্বত্বগত’।
এছাড়া, লিখিত অংশে প্রশ্ন করা হয়েছে ‘মূলধনী লাভ বলিতে কি বুঝায়?’ এখানে গুরুচণ্ডালি দোষ হয়েছে। আর একাধিক জায়গায় ‘কী’ এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘কি’।
ভর্তি পরীক্ষার এক প্রশ্নে এত ভুল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। তারা দ্বিতীয়বার এই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, এই ধরনের ভুলেভরা প্রশ্নপত্র অপেশাদারত্বের ইঙ্গিত দেয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। এটির দায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কখনো এড়াতে পারেন না। তার উচিত সকল দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করে ক্ষমা চাওয়া। শিক্ষার্থী, দেশ, মেধার বিকাশ এবং ন্যায্যতার স্বার্থে এই পরীক্ষা দ্বিতীয়বার নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই শিক্ষক।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দায়িত্বে সকল খরচ বহন করা উচিত।
পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী যা বলছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে কাঠামোগত ত্রুটি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ও অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। গতকাল তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘বি’ সেটে এবং ‘বি’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘এ’ সেটে ছাপা হওয়ায় নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে।
মাহমুদ ওসমান বলেছেন, ভুল প্রশ্নপত্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এটি দ্রুত সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কাঠামোগত এই ভুলের সমাধানের বিষয়ে গতকাল রোববার অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিন মাহমুদ ওসমান।
দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে মাহমুদ ওসমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘না, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। যেটি পরীক্ষা নেওয়া ছাড়াই সমাধানযোগ্য, সেখানে আমরা নতুন করে পরীক্ষা নিতে যাব কেন?’
তবে কী পদ্ধতি অনুসরণ করে এই কাঠামোগত ভুলের সমাধান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা সেটি রিভিল (প্রকাশ) করছি না। সময় হলে আমরা আপনাদের জানাব।’
প্রশ্নপত্রে বানান, অনুবাদ এবং ব্যাকরণগত ভুলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেছেন, ‘ঠিক, এসবে আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। সামনে আমরা এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।’
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বিশ্বস্ত সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি ভারতের কাছে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তৎকালীন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারকগণ রায়ে উল্লেখ করেন যে, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। পরবর্তীতে প্রকাশিত ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফিরিয়ে আনতে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। সোমবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে মহাপরিচালক হোংবো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রশংসা করে বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।” এই ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং শ্রম খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলও-র নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের শ্রম বাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জানান, “শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।” বৈঠকে মহাপরিচালক হোংবো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি বর্তমান প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সফলতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মতবিনিময় সভায় উভয় পক্ষ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের আধুনিকায়নে আইএলও এবং সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া শ্রম আইন সংস্কার এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী একটি শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ এবং টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালকও বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অভিযাত্রায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এবং আইএলও-র পদস্থ কর্মকর্তারা।
দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তীব্র ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (ডিএপিএফসিএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারখানা ও বিসিআইসি সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে ২০ হাজার টন অ্যাসিড সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ পায় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ’।
চুক্তি অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যেই এই কাঁচামাল সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস খাত চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় জর্ডানসহ বিশ্বের প্রধান উৎসগুলো থেকে সময়মতো ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। কারখানায় থাকা আপৎকালীন মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ ও ২৩ জুন নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে আবারও দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা যথাক্রমে আগামী ৮ আগস্ট এবং ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দৈনিক ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন সক্ষমতার এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড এবং ২০০ টনের বেশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কারখানায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মেট্রিক টন অ্যাসিড মজুতের ধারণক্ষমতা রয়েছে।
ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় নির্দিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। ফসফরিক অ্যাসিডের চালান পৌঁছানো মাত্রই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।
দেশে সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৯ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি ইউরিয়া এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি নন-ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) সার আমদানি করে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কারখানাগুলোতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯১ টন সার উৎপাদিত হয়েছিল।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে ওই দুই ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। প্রথম দিনের ইনভেন্টরিতেই ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ঘড়ির বক্স, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতিসহ বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধার হয়েছে একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও, যে ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।
রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপর সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানান আলামত পাওয়া গেছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।
দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।
বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ পরিবর্তন করে সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি। নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের পৃষ্ঠাগুলোতে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি।
আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিমদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের সেই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এবার ঠাঁই পাচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে।
অনুমোদিত নতুন নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা।
এছাড়া প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও ফল কাঁঠালের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম সংগ্রাম।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের মতোই ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ থাকার বিষয়টি বহাল থাকছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন বন্দোবস্ত কোনটা? দায়-দরদের রাজনীতি আসলে কোনটা? এসব শব্দের ব্যাখ্যা জরুরি। নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করলে জনগণ আপনাদের পক্ষে থাকবে। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটা নতুন দল জুলাইয়ের কথা বলে ৪৭ এ যেতে চায়। সংসদে বলেছিলাম ৪৭ এ আপনারা ছিলেন না। তারা হীনস্বার্থে ৪৭ গ্রহণ করে একাত্তরকে বর্জন করে, আবার চব্বিশকে গ্রহণ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমিই ঐকমত্য কমিশনে গণভোটের কথা বলেছিলাম। এরপর অন্তর্বর্তী সকার গণভোট অধ্যাদেশ জারি করল। কিন্তু ছলচাতুরির মাধ্যমে চারটা প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট দেয়া হলো কোনো বিকল্প রাখা হলো না। জুলাই জাতীয় সনদে তো অনেকগুলো দফা ছিল।
তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের যে চিন্তা সেটা সাংবিধানিক নয়। আমরা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। আমরা সংবিধান সংস্কার করব, অন্যান্য সব জায়গায় সাংবিধানিক সংস্কার করব। আইনি সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ আইন প্রণয়নই যথেষ্ট। আমরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে সংবিধান সংস্কার আইন প্রণয়ন করব।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলের অনেক নেতা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কথা বলছেন। অনেকে বলছেন, সরকারকে বিদায় করে দেবে। আমি তাদের সংবিধান সংস্কার কমিটিতে আসতে বলবো। সাংবিধানিক কাঠামো ছাড়া সংবিধান সংস্কার সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধীদল ওয়াকআউট করেছে। একজন বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আদালতের রায়ে গণভোট ফিরে এসেছে। তিনি বোঝেননি যে, এটা আগের যে গণভোট সেটা ফিরে এসেছে। তারা যে গণভোটের কথা বলছেন সেটা সাংবিধানিক গণভোট নয়, রাষ্ট্রপতির আদেশে এখতিয়ার ছাড়া এটা হয়েছিল।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন কার্যকর করতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব কালচার সৃষ্টি হয়। সে সময় কিছু লোকের কর্মসংস্থান তৈরিতে কমিশন তৈরি হয়েছিলো। যাদের আসলে কোনো কর্ম ছিল না।
বিভিন্ন ধরনের গুমের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শাস্তি দিতে হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামনের সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন আনা হবে। কোন কোর্টে বিচার হবে, কোন ধরনের গুমের কতদিন জেল হবে— এসব নিয়ে আলোচনা হবে।
গত দশ বছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেশি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনার ফলে এ আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে।
অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে (ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়) প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ, রেলওয়ের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।
রেলওয়ে সূত্রের মতে, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১.৪৩-এ। অর্থাৎ, সে ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন সংস্থা হওয়ায় জনস্বার্থে ভাড়া রেয়াতি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুননিধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তাৎক্ষণিক পরিচালন সংকট মেটানো, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি বহুমাত্রিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ নির্মাতাদের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মুখে পড়ে, বিমান একদিকে স্বল্পমেয়াদি ‘ড্রাই লিজ’ (উড়োজাহাজ ভাড়া করা) এবং অন্যদিকে আগামী দশকের জন্য বিলিয়ন ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল তৈরি করছে।
লিজে আনা হচ্ছে ১০টি, আরও ১০টি কেনার প্রস্তুতি: জানা গেছে, বর্তমানে বিমানের ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৩টি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালন সক্ষমতায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বোয়িং এবং এয়ারবাস—দুই জায়ান্টেরই বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ভেঙে পড়ায় ২০৩০ সালের আগে নতুন কোনো উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। এ কারণে বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় পরিচালন সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন ১০টি উড়োজাহাজ লিজে যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি।
বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্য: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৪টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার কথা থাকলেও রুট ও পরিচালন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী বছরের মধ্যে তা ১০টিতে উন্নীত করা হচ্ছে।
লিজের কঠোর শর্তাবলি: আন্তর্জাতিক দরপত্রের শর্তানুযায়ী, লিজের বিমানগুলোর ইঞ্জিন হতে হবে GEnx-1B74/75, আসন সংখ্যা হতে হবে ৩০০+ এবং বয়স কোনোভাবেই ১৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। ৬ বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোয়িং-এর ১৪টি বিমানের সাথে এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ১০টি বিমান যুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের মোট বহরের আকার দাঁড়াবে ৩৯ থেকে ৪৭টিতে।
মেগা-প্ল্যানের এক্স-ফ্যাক্টর: বিমানের অতীত লিজের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। অতীতে ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে বিমানকে শত শত কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছিল।
এইবারের মেগা-প্ল্যানে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিমান একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। লিজের কারিগরি ও আর্থিক স্বচ্ছতা তদারকি করতে ইতোমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ৪০টি নামি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে এই পুরো প্রজেক্টের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
আগামী ৫ বছরের জন্য ড্রিমলাইনারের মতো নির্ভরযোগ্য উড়োজাহাজ লিজে নেওয়া এবং একই সাথে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের কাছ থেকে নতুন বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করা—বিমানের এই দ্বি-মুখী নীতি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একদিকে যেমন বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতাকে এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আকাশপথে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যদি ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের ১০টি বিমান সফলভাবে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলতে পারে এবং ২০৩১ সাল থেকে নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হওয়া শুরু করে, তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ রিজিওনাল হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আকাশে আধিপত্যের এই লড়াইয়ে বিমানের এই ‘মেগা-ফ্লাইট’ সফল হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য আইনেরও সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউএনডিপির একটি প্রতিনিধিদল। এ সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন।
ডেপুটি স্পিকার সংসদের লাইব্রেরিতে সদ্য সমাপ্ত গ্র্যাজুয়েটরা যেন পার্লামেন্টারি ফেলোশিপ/ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম করে তাদের অর্জিত জ্ঞানকে আরো বৃদ্ধি করতে পারে সে ব্যাপারে ইউএনডিপি এর প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন।
সংসদের কোনো প্রকল্প নেয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্য কোনো সংস্থার প্রকল্পের সাথে যেন ডুপ্লিকেশন না হয় সে বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেন। ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যাপারে ডেপুটি স্পিকার ইউএনডিপি এর কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও নেপাল পার্লামেন্টের সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব করলে ডেপুটি স্পিকার সহমত পোষণ করেন।
সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ইউএনডিপি কর্তৃক জাতীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজনের উদ্যোগের বিষয়টিতে ডেপুটি স্পিকার ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
ইউএনডিপি এর ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ Sonali Dayaratne এর নেতৃত্বে সিনিয়র গভার্নেন্স অ্যাডভাইজার Dragan popovic, সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ, প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান এবং জাতীয় সংসদ সবিচালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন।
জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশকে আরও উষ্ণ করে তুলছে না, বরং লাখ লাখ পরিবারকে আরও গভীর আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বাংলাদেশে শ্রমিকদের আয় যেমন কমছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়।
‘হিট, হেলথ অ্যান্ড দ্য ইনক্রিজিং কস্টস অব লিভিং—আ কল ফর অ্যাকশন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাডেলফি গ্লোবাল।
রোববার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে জলবায়ুজনিত চরম তাপপ্রবাহের সম্মিলিত অর্থনৈতিক প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ভারত ও নাইজেরিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশেও অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের আধিক্য, স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত উচ্চব্যয় ও সীমিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ঝুঁকি আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
আটটি দেশের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার তথ্য প্রথমবারের মতো বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা হয়েছে কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপপ্রবাহ একইসঙ্গে মানুষের আয় কমায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায়।
গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা তাপজনিত কারণে বছরে গড়ে ২৩ দশমিক ৭৫ কর্মদিবস হারাতে পারেন। বর্তমানে এসব খাতে কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বেড়ে ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
একই সময়ে সব খাত মিলিয়ে কর্মঘণ্টা হারানোর হার ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা, যাদের অসুস্থতাজনিত ছুটি, স্বাস্থ্যবিমা বা আয় সুরক্ষার সুযোগ নেই, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো ব্যক্তিগত ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৩ সালে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশই জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়েছে, যা গবেষণাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
একই সময়ে মাথাপিছু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয় ২০০০ সালের তুলনায় ৮৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপজনিত অসুস্থতা বাড়লে এই আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী দশকগুলোতেও বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তাপ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়, ২০২০ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ অঞ্চল আর্দ্রতা-ভিত্তিক উচ্চ থেকে অতি-উচ্চ তাপ-ঝুঁকির সম্মুখীন হবে, যেখানে বছরের ১৮৩ থেকে ২৩৯ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করবে।
তীব্র তাপপ্রবাহের সময় কিছু কিছু খাতে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ল্যানসেটের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চরম তাপপ্রবাহের কারণে বাংলাদেশ আনুমানিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের শ্রম আয় ও উৎপাদনশীলতা হারিয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
তাপপ্রবাহের সময় ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট এই প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি একদিকে শ্রমিক, কারখানা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় থাকতে বাধ্য করে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
অ্যাডেলফির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জলবায়ু অভিযোজন, জনস্বাস্থ্য এবং শ্রমনীতি এই তিন খাতকে আর আলাদাভাবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবিকা সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে সমন্বিত নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয়ের ওপর নির্ভরতা কমানো, তাপপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও শ্রম অধিকার সম্প্রসারণ, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় তাপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করা এবং স্বাস্থ্য ও শ্রমিক সুরক্ষার জন্য জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি করা।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটের মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অন্তত ১৬ কেজি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে যৌথ অভিযানে মহানিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) ও ঢাকা কাস্টমস হাউজ।
রোববার পরিচালিত যৌথ অভিযানে ফলের ক্যারেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের চালানটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হংকং থেকে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজের সিএক্স ফ্লাইটে আনা ফলের চালানের আড়ালে এই স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অভিযান চালিয়ে ফলের ক্যারেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ অন্তত ১৬ কেজি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ফুড লিঙ্ক (Food Link) এবং এর এয়ারওয়ে বিল (Air Waybill) নম্বর ১৬০১২৭৪০০৯২।
এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান। অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া স্বর্ণের প্রকৃত মালিক, চালানের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্র সম্পর্কে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান খুঁজতে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করেছ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। আগ্রহীরা আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে আবেদন জমা দিতে পারবেন। নির্বাচিত প্রতিটি গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রাথমিক শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতায় ৫টি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর এই প্রস্তাবনা জমা দেওয়া যাবে।
সম্প্রতি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি মৌলিক সাক্ষরতা উন্নয়ন, গণিতের চ্যালেঞ্জিং বিষয়বস্তু উপস্থাপনার কৌশল, পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য এবং প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম সহজীকরণ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি বছর বিশেষভাবে পরীক্ষামূলক গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গবেষণা পরিচালনার জন্য একজন টিম লিডারের নেতৃত্বে এক বা একাধিক সহযোগী গবেষক নিয়ে গবেষণা দল গঠন করতে হবে। পিটিআই, ইউপিইটিসি, শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এ দলে গবেষক হিসেবে অংশ নিতে পারবেন।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই— এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।