ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষার অনেকগুলো প্রশ্নপত্রে প্রায় একশ ভুল ধরা পড়েছে। কাঠামোগত অসঙ্গতি, পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন, এবং ক্রমধারার অমিল ছাড়াও বানান, অনুবাদ, বাক্যগঠন ও ব্যাকরণে একাধিক ভুল লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রয়েছে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বাক্যও।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ভুলেভরা প্রশ্নপত্রের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র তৈরিতে যারা যুক্ত ছিলেন তারা পেশাদারত্ব এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। প্রশ্ন প্রণয়নের পর এটি ভালোভাবে ক্রসচেক করে দেখা উচিত ছিল। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দৃষ্টিকটু ভুলগুলো হচ্ছে:
নির্দেশনাগত ভুল: ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সব বিষয়ের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তর করতে হয় না। প্রশ্নপত্রের শুরুতে যে ভুলটি লক্ষ করা গেছে সেটি হলো- নির্দেশনাগত ভুল। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে কয়টি বিষয়ে উত্তর করতে হবে সেই নির্দেশনাই দেওয়া ছিল না। ফলে যেসব পরীক্ষার্থীর নির্দেশনা সম্পর্কে পূর্ব ধারণা ছিল না, পরীক্ষার হলে তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা।
কাঠামোগত ভুল: পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্র এক করে দেখা গেছে, এক সেটের সব প্রশ্ন একই হওয়ার কথা থাকলেও ‘এ’ সেটে দুই ধরনের প্রশ্ন এসেছে। এক ধরনে চারটি প্রশ্নের পুনারাবৃত্তি হয়েছে, অন্য ধরনে কোনো প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হয়নি। ফলে যে ধরনে চারটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে সেই ধরনে স্বভাবতই এমন চারটি প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল যেটি অন্য ধরনে উপস্থিত ছিল। আবার, একই সেটের সকল প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক থাকার কথা থাকলেও সেটিও ঠিক ছিল না।
তেমনিভাবে ‘বি’ সেটেও দুই ধরনের প্রশ্ন হয়েছে এবং এই সেটের সব প্রশ্নের ক্রমধারাও এক ছিল না। তবে দুই সেটেই এই ভুলগুলো হয়েছে শুধুমাত্র ইংরেজি ও অ্যাকাউন্টিং অংশে। সি এবং ডি সেটে এই ধরনের কোনো ভুল হয়নি।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ও ‘বি’-এর প্রতিটি সেটে ১২টি প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক নেই। যেটি একজন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামিয়ে দিতে যথেষ্ট। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর অংশটি স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। কম্পিউটারকে একটি সেটের জন্য একটি উত্তরপত্র দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ভুল-শুদ্ধ নির্ণয় করে কম্পিউটার নম্বর দেয়। ফলে একই সেটের প্রশ্নে এমসিকিউর ক্রমধারা ঠিক না থাকলে এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন থাকলে যেসব শিক্ষার্থীর হাতে ভুল প্রশ্ন গিয়েছে, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
অনুবাদ ও ইংরেজি ব্যাকরণে ভুল: প্রশ্নপত্রের বাংলা ও ইংরেজি অংশ ছাড়া বাকিসব বিষয় অর্থাৎ অ্যাকাউন্টিং, বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং, ফিন্যান্স ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স অংশের করা প্রশ্ন বাংলা ও ইংরেজি ভাষা দুই ভাষাতেই করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র পড়ে দেখা যায়, কিছু প্রশ্নের ইংরেজি অনুবাদ ঠিকভাবে করা হয়নি। আবার এই অনুবাদ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুলও করা হয়েছে।
বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট
# ‘নিচের কোন ধরনের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়? (Which type of leadership style give full freedom to take decision to others?)’
এখানে দুইটি ভুল করা হয়েছে। প্রথমত ‘সিদ্ধান্তগ্রহণ’ একশব্দে হবে। আর give এর সাথে s যুক্ত হয়ে gives হবে।
# ‘কোনটি স্থায়ী পরিকল্পনা? (Which one of the following is standing plan)’
এই প্রশ্নের সঠিক অনুবাদ হবে- Which is the standing plan?
প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং
# ‘পণ্যের জীবনচক্রের কোন স্তরে এসে বিক্রয় প্রবৃদ্দি কমতে থাকে? (At what stage is the product lifecycle do the sales growth start to slowdown?)’
এখানে ‘প্রবৃদ্দি’-এর স্থলে ‘প্রবৃদ্ধি’ হবে। আর ইংরেজিতে is এর স্থলে of, do এর স্থলে does এবং slowdown-এর স্থলে slow down হবে।
অ্যাকাউন্টিং (লিখিত অংশ)
# ‘কোন অনুপাতটি একটি কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে? (Which ratio measures a company’s ability to pay short-term liabilities)’
এখানে ইংরেজিতে ব্যাকরণগত ভুল হয়েছে। সঠিক ইংরেজি হবে, Which ratio Does measure a company’s ability to pay short-term liabilities?
বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (লিখিত অংশ)
# ‘কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে দ্বৈতকর বলতে কি বুঝায়? (What is the double taxation in the context of coporation?)’
এখানে ‘কী’ এর স্থলে ‘কি’ লিখা হয়েছে। এছাড়া অনুবাদও ভুলভাবে করা হয়েছে। সঠিক অনুবাদ হবে- ‘What is meant by double taxation in corporation?’
প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং (লিখিত অংশ)
# ‘পণ্য ও সেবার মধ্যে পার্থক্য কর। (What is the basic difference between product and service?)’ এটির সঠিক অনুবাদ হবে- Differentiate between product and service.
পুরো প্রশ্নপত্রে এই ধরনের আরও অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে।
বানানগত ভুল: প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন অংশে ‘কি’, ‘কর’, ‘নীচের’, ‘একত্রিকরন’, ‘অধিগ্রহন’, ‘গড়ব্যায়’, ‘কাচামাল’, ‘স্বারকলিপি’, ‘স্বত্ত্বগত শব্দগুলো ভুল বানানে লেখা হয়েছে যেগুলোর শুদ্ধরূপ হবে যথাক্রমে- ‘কী’, ‘করো’, ‘নিচের’, ‘একত্রীকরণ’ ‘অধিগ্রহণ’, ‘গড়ব্যয় ‘,‘কাঁচামাল’,‘স্মারকলিপি’,‘স্বত্বগত’।
এছাড়া, লিখিত অংশে প্রশ্ন করা হয়েছে ‘মূলধনী লাভ বলিতে কি বুঝায়?’ এখানে গুরুচণ্ডালি দোষ হয়েছে। আর একাধিক জায়গায় ‘কী’ এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘কি’।
ভর্তি পরীক্ষার এক প্রশ্নে এত ভুল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। তারা দ্বিতীয়বার এই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, এই ধরনের ভুলেভরা প্রশ্নপত্র অপেশাদারত্বের ইঙ্গিত দেয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। এটির দায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কখনো এড়াতে পারেন না। তার উচিত সকল দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করে ক্ষমা চাওয়া। শিক্ষার্থী, দেশ, মেধার বিকাশ এবং ন্যায্যতার স্বার্থে এই পরীক্ষা দ্বিতীয়বার নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই শিক্ষক।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দায়িত্বে সকল খরচ বহন করা উচিত।
পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী যা বলছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে কাঠামোগত ত্রুটি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ও অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। গতকাল তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘বি’ সেটে এবং ‘বি’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘এ’ সেটে ছাপা হওয়ায় নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে।
মাহমুদ ওসমান বলেছেন, ভুল প্রশ্নপত্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এটি দ্রুত সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কাঠামোগত এই ভুলের সমাধানের বিষয়ে গতকাল রোববার অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিন মাহমুদ ওসমান।
দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে মাহমুদ ওসমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘না, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। যেটি পরীক্ষা নেওয়া ছাড়াই সমাধানযোগ্য, সেখানে আমরা নতুন করে পরীক্ষা নিতে যাব কেন?’
তবে কী পদ্ধতি অনুসরণ করে এই কাঠামোগত ভুলের সমাধান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা সেটি রিভিল (প্রকাশ) করছি না। সময় হলে আমরা আপনাদের জানাব।’
প্রশ্নপত্রে বানান, অনুবাদ এবং ব্যাকরণগত ভুলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেছেন, ‘ঠিক, এসবে আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। সামনে আমরা এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষিকা শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এক দীর্ঘ ও স্পষ্ট পোস্ট দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। শুক্রবার এক ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে তিনি নিজেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে দাবি করেন। একই সাথে তাকে নিয়ে প্রচলিত নানা রাজনৈতিক তকমা বা বিশেষণের বিষয়েও নিজের খোলামেলা মতামত ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১১ দলীয় জোটের পক্ষে সক্রিয় সমর্থক হিসেবে কাজ করেছেন বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করেন।
শেহরীন আমিন মোনামী তার পোস্টে জানান, সমাজের একটি বড় অংশ তাকে ‘জামায়াত-শিবির ম্যাডাম’ হিসেবে সম্বোধন করে থাকে। তবে এই বিশেষণে তিনি মোটেও বিচলিত বা ক্ষুব্ধ নন; বরং তিনি এই পরিচয়ে বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তিনি বলেন, কখনো কখনো তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথেই এই নামগুলো নিজের করে নেন। তার মতে, কে তাকে কী নামে ডাকল তার চেয়ে তার আদর্শিক বিশ্বাসটি তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের রাজনৈতিক দর্শনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই শিক্ষিকা উল্লেখ করেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে একজন মধ্যপন্থী মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাকে প্রায়ই ডানপন্থী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তাকে ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করলে সাধারণ মানুষের বুঝতে সুবিধা হয়, তবে তারা সেটিই বিশ্বাস করতে পারেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থাকার কথা জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি কোনোভাবেই ইসলামবিদ্বেষী নন। প্রচলিত একটি ধারণা যে ‘ইসলাম নারী-বিরোধী’, এই বিশ্বাসের সাথেও তিনি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেন।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি তার ফ্রেন্ড লিস্ট এবং অনুসারীদের উদ্দেশ্যে একটি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা তার রাজনৈতিক অবস্থান বা আদর্শ নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন, তারা যেন তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো থেকে বিরত থাকেন। নিজেকে একজন উদারপন্থী দাবি করে তিনি জানান, ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় পছন্দ-অপছন্দ নির্বিশেষে তিনি সবার অধিকারের পক্ষে কথা বলেন। তিনি তার অপছন্দের মানুষদের নিজের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে, সবার কাছে প্রিয় হওয়া তার লক্ষ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষিকার এমন সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নিরঙ্কুশ ও অভাবনীয় জয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানকে ফোন করার বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি এই ফোনালাপের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে অসাধারণ বিজয়ের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে তার প্রচেষ্টায় আমি আমার শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাই।"
দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও নিবিড় সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "গভীর শিকড়ে আবদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কযুক্ত দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে আমি আমাদের উভয় দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।" মূলত বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতের পক্ষ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের এই শুভেচ্ছা ও সমর্থন নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি নরেন্দ্র মোদির এই বিশেষ অভিনন্দন বার্তাটি দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার হিসেবেই প্রকাশ পেয়েছে।
নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোটে সংস্কারপন্থী ‘হ্যাঁ’ পক্ষ বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই গণভোটের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, এই গণভোটে মোট ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যেখানে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। জনগণের এই বলিষ্ঠ রায়ের মাধ্যমে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাটি চূড়ান্তভাবে জনসমর্থিত হিসেবে গৃহীত হলো বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়, যেখানে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। মূলত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দলগত ফলাফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণে ইসি সচিব জানান যে, জামায়াতে ইসলামী একক দল হিসেবে ৬৮টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া জোটভুক্ত অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যেকে ১টি করে আসন লাভ করেছে। তবে আইনি ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোটগ্রহণ আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। ইসি সচিব আখতার আহমেদ তার সমাপনী বক্তব্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ফলাফলগুলোর সরকারি গেজেট প্রকাশের প্রত্যয় ব্যক্ত করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য সকল পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিনন্দন জানান। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমি আমার উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাই এবং মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতাকে আরও অগ্রসর ও গভীর করতে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের অংশীদারিত্ব সামনের বছরগুলোতে আরও সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি শক্তিশালী করবে।"
মূলত নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সামনের বছরগুলোতে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধান। এছাড়া এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ শুক্রবার দেশের ২৯৭টি সংসদীয় আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান যে, গতকাল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
কমিশনের দাবি অনুযায়ী, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিরেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ ছিল সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ। ব্রিফিংকালে আখতার আহমেদ বলেন, "সারা দেশে মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক গণনা শেষে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।"
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব আরও জানান যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সকল স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। কিছু জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ২৯৯টি আসনের মধ্যে প্রস্তুতকৃত ২৯৭টির ফলাফল আজই গেজেটভুক্ত করা হচ্ছে এবং বাকি দুটি আসনের কারিগরি বা আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে জয়ী প্রার্থীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কার্যক্রম শেষ হবে এবং এর পরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। মূলত স্বচ্ছতা বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই আজ এই গেজেট জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথে থাকা বিএনপি এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রেরিত এক বার্তায় তিনি এই অভাবনীয় সাফল্যকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) তাদের এই অভাবনীয় নির্বাচনি বিজয়ে আমি আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। এটি প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রের বিজয়। বাংলাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উতরাই ও অসাধারণ সব চ্যালেঞ্জ পার করে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাদের রায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।’
দেশের ক্রান্তিকালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি আমার প্রিয় বন্ধু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালীন সময়ে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তার সুযোগ্য নেতৃত্ব এবং একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে গভীরভাবে আগ্রহী।
তিনি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, এই নবযাত্রার মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে। পরিশেষে মালয়েশিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। মূলত এই বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে গভীর সংহতি ও সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এর ফলাফল ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার ইতি টানেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দুটি আসনের ফলাফল তদন্ত সাপেক্ষে স্থগিত রেখে বাকি ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটারসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। কমিশনের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করা হয়েছে, তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞে কোনো কোনো জায়গায় প্রশাসনিক ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতা হয়তো ছিল। অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচনকে কমিশন কেবল একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং জাতির পক্ষ থেকে দেওয়া একটি ‘পবিত্র আমানত’ হিসেবে গ্রহণ করে তা পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই কার্যত নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের ও ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলো।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মহানায়ক ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
অভিনন্দন বার্তায় শাহবাজ শরিফ একই সঙ্গে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতিও গভীর সাধুবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যকার ভবিষ্যৎ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি আমাদের ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং দক্ষিণ এশিয়া এবং তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের আমাদের যৌথ লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য উন্মুখ।" মূলত দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই শুভেচ্ছা বার্তা জানানো হয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণকে একটি সুষ্ঠু ও সফল নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বিএনপির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বেইজিং।
চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই জনরায়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রীর নতুন ইতিহাস রচনা করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই বিশাল বিজয়ের প্রতি বেইজিংয়ের এই ত্বরিত অভিনন্দন বার্তা মূলত নতুন সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ, যা উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি কাটিয়ে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, দলটি অর্ধেকেরও বেশি আসন নিশ্চিত করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে তরুণ ও সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও। চীনের পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো ইতিমধ্যেই নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
ক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন বাংলাদেশে চীন তাদের বিনিয়োগ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে আরও গতিশীল করতে চাইবে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক করিডোর সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে আসা এই অভিনন্দন বার্তাগুলো প্রমাণ করে যে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, দলটি ১৫০টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। তবে এই বিজয়ের পরই নতুন সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের প্রথম ধাপ হলো নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার এই শপথ বাক্য পাঠ করান। কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউই পদে নেই; এমনকি সাবেক ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে রয়েছেন। এমতাবস্থায় স্পিকারবিহীন সংসদে শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও সংবিধানে এর স্পষ্ট সমাধান রয়েছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার পর তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। গেজেট প্রকাশের পর শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে যেহেতু বর্তমানে স্পিকার নেই, তাই সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদেই বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সংবিধান মতে, স্পিকারের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কোনো ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সরকার দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি বা অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন বা না করেন, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। সরকার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সিইসির অপেক্ষায় না থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমেই দ্রুত শপথ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
শপথ গ্রহণের সময়সীমা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন, সাধারণত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর গেজেট হতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সরকার এই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই গেজেট ও শপথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারির পর এই সময়সীমা গড়াবে না। অর্থাৎ সব ঠিক থাকলে নির্বাচনের পর এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী ধাপে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের অধিকারী দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। ১৫১ বা তার বেশি আসনে বিজয়ী দলের নেতা, যিনি সংসদ সদস্যদের আস্থাভাজন, তাঁকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং শপথ পড়াবেন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আজও সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমিন মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায় যে, ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা ১৩ ফেব্রুয়ারি আজ মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মূলত নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কমিশনের নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর আগে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনকে কেন্দ্র করে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হলেও আজ মোটরসাইকেল ব্যতীত অন্যান্য সকল যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে সংবাদকর্মী, নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলযোগ্য বলে গণ্য হবে। এছাড়া বিদেশগামী যাত্রী কিংবা বন্দর থেকে আসা জরুরি মালামাল পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ বা ছাড়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াতের সুযোগ রাখা হয়েছে। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে রিকশা ও সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি থাকলেও ইঞ্জিনচালিত দুই চাকার বাহনটির ওপর কড়াকড়ি বজায় থাকছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মোটরসাইকেল চালালে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই এই ৭২ ঘণ্টার বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই শুভেচ্ছা জানানো হয়। নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা এই বার্তাটি নতুন সরকারের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই শুভেচ্ছা বার্তাটি প্রকাশ করা হয়। ফেসবুক পোস্টে মার্কিন দূতাবাস প্রথমে একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানায়। এরপর বিএনপির এই বিশাল বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপিকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানানো হয়।
প্রকাশিত বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা নবনির্বাচিত সরকার ও তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। এই বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন আগামী দিনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার এবং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে তিনি এই অভিনন্দন জানান। বার্তায় নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, এই ভূমিধস বিজয় মূলত বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর অগাধ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারত সবসময় একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। মোদি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। একইসঙ্গে তিনি দুই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা ও বগুড়ার আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল বেসরকারিভাবে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই অভিনন্দন বার্তাকে বিএনপির নতুন সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কূটনৈতিক স্বীকৃতি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা মনে করছেন, ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যা বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করবে।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা বার্তার জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব ব্যক্ত করেছেন। নরেন্দ্র মোদির এই অভিনন্দন বার্তাটি ইতিমধ্যে বিএনপির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করা হয়েছে, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।