শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
৪ বৈশাখ ১৪৩৩
ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে শতাধিক ভুল, ফের নেয়ার দাবি শিক্ষক মহলেই

আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২১:৪২
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৮:৪০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষার অনেকগুলো প্রশ্নপত্রে প্রায় একশ ভুল ধরা পড়েছে। কাঠামোগত অসঙ্গতি, পুনরাবৃত্ত প্রশ্ন, এবং ক্রমধারার অমিল ছাড়াও বানান, অনুবাদ, বাক্যগঠন ও ব্যাকরণে একাধিক ভুল লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া রয়েছে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বাক্যও।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ভুলেভরা প্রশ্নপত্রের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র তৈরিতে যারা যুক্ত ছিলেন তারা পেশাদারত্ব এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। প্রশ্ন প্রণয়নের পর এটি ভালোভাবে ক্রসচেক করে দেখা উচিত ছিল। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে দৃষ্টিকটু ভুলগুলো হচ্ছে:

নির্দেশনাগত ভুল: ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সব বিষয়ের প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের উত্তর করতে হয় না। প্রশ্নপত্রের শুরুতে যে ভুলটি লক্ষ করা গেছে সেটি হলো- নির্দেশনাগত ভুল। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে কয়টি বিষয়ে উত্তর করতে হবে সেই নির্দেশনাই দেওয়া ছিল না। ফলে যেসব পরীক্ষার্থীর নির্দেশনা সম্পর্কে পূর্ব ধারণা ছিল না, পরীক্ষার হলে তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা।

কাঠামোগত ভুল: পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন সেটের প্রশ্নপত্র এক করে দেখা গেছে, এক সেটের সব প্রশ্ন একই হওয়ার কথা থাকলেও ‘এ’ সেটে দুই ধরনের প্রশ্ন এসেছে। এক ধরনে চারটি প্রশ্নের পুনারাবৃত্তি হয়েছে, অন্য ধরনে কোনো প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি হয়নি। ফলে যে ধরনে চারটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে সেই ধরনে স্বভাবতই এমন চারটি প্রশ্ন অনুপস্থিত ছিল যেটি অন্য ধরনে উপস্থিত ছিল। আবার, একই সেটের সকল প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক থাকার কথা থাকলেও সেটিও ঠিক ছিল না।

তেমনিভাবে ‘বি’ সেটেও দুই ধরনের প্রশ্ন হয়েছে এবং এই সেটের সব প্রশ্নের ক্রমধারাও এক ছিল না। তবে দুই সেটেই এই ভুলগুলো হয়েছে শুধুমাত্র ইংরেজি ও অ্যাকাউন্টিং অংশে। সি এবং ডি সেটে এই ধরনের কোনো ভুল হয়নি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ও ‘বি’-এর প্রতিটি সেটে ১২টি প্রশ্নের ক্রমধারা ঠিক নেই। যেটি একজন পরীক্ষার্থীর ফলাফলে বড় ধরনের ধস নামিয়ে দিতে যথেষ্ট। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ওএমআর অংশটি স্ক্যান করে কম্পিউটারের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। কম্পিউটারকে একটি সেটের জন্য একটি উত্তরপত্র দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ভুল-শুদ্ধ নির্ণয় করে কম্পিউটার নম্বর দেয়। ফলে একই সেটের প্রশ্নে এমসিকিউর ক্রমধারা ঠিক না থাকলে এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন থাকলে যেসব শিক্ষার্থীর হাতে ভুল প্রশ্ন গিয়েছে, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অনুবাদ ও ইংরেজি ব্যাকরণে ভুল: প্রশ্নপত্রের বাংলা ও ইংরেজি অংশ ছাড়া বাকিসব বিষয় অর্থাৎ অ্যাকাউন্টিং, বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং, ফিন্যান্স ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স অংশের করা প্রশ্ন বাংলা ও ইংরেজি ভাষা দুই ভাষাতেই করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র পড়ে দেখা যায়, কিছু প্রশ্নের ইংরেজি অনুবাদ ঠিকভাবে করা হয়নি। আবার এই অনুবাদ করতে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ভুলও করা হয়েছে।

বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট

# ‘নিচের কোন ধরনের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয়? (Which type of leadership style give full freedom to take decision to others?)’

এখানে দুইটি ভুল করা হয়েছে। প্রথমত ‘সিদ্ধান্তগ্রহণ’ একশব্দে হবে। আর give এর সাথে s যুক্ত হয়ে gives হবে।

# ‘কোনটি স্থায়ী পরিকল্পনা? (Which one of the following is standing plan)’

এই প্রশ্নের সঠিক অনুবাদ হবে- Which is the standing plan?

প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং

# ‘পণ্যের জীবনচক্রের কোন স্তরে এসে বিক্রয় প্রবৃদ্দি কমতে থাকে? (At what stage is the product lifecycle do the sales growth start to slowdown?)’

এখানে ‘প্রবৃদ্দি’-এর স্থলে ‘প্রবৃদ্ধি’ হবে। আর ইংরেজিতে is এর স্থলে of, do এর স্থলে does এবং slowdown-এর স্থলে slow down হবে।

অ্যাকাউন্টিং (লিখিত অংশ)

# ‘কোন অনুপাতটি একটি কোম্পানির স্বল্পমেয়াদি দায় পরিশোধের ক্ষমতা পরিমাপ করে? (Which ratio measures a company’s ability to pay short-term liabilities)’

এখানে ইংরেজিতে ব্যাকরণগত ভুল হয়েছে। সঠিক ইংরেজি হবে, Which ratio Does measure a company’s ability to pay short-term liabilities?

বিজনেস অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (লিখিত অংশ)

# ‘কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে দ্বৈতকর বলতে কি বুঝায়? (What is the double taxation in the context of coporation?)’

এখানে ‘কী’ এর স্থলে ‘কি’ লিখা হয়েছে। এছাড়া অনুবাদও ভুলভাবে করা হয়েছে। সঠিক অনুবাদ হবে- ‘What is meant by double taxation in corporation?’

প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং (লিখিত অংশ)

# ‘পণ্য ও সেবার মধ্যে পার্থক্য কর। (What is the basic difference between product and service?)’ এটির সঠিক অনুবাদ হবে- Differentiate between product and service.

পুরো প্রশ্নপত্রে এই ধরনের আরও অনেক ভুল পরিলক্ষিত হয়েছে।

বানানগত ভুল: প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন অংশে ‘কি’, ‘কর’, ‘নীচের’, ‘একত্রিকরন’, ‘অধিগ্রহন’, ‘গড়ব্যায়’, ‘কাচামাল’, ‘স্বারকলিপি’, ‘স্বত্ত্বগত শব্দগুলো ভুল বানানে লেখা হয়েছে যেগুলোর শুদ্ধরূপ হবে যথাক্রমে- ‘কী’, ‘করো’, ‘নিচের’, ‘একত্রীকরণ’ ‘অধিগ্রহণ’, ‘গড়ব্যয় ‘,‘কাঁচামাল’,‘স্মারকলিপি’,‘স্বত্বগত’।

এছাড়া, লিখিত অংশে প্রশ্ন করা হয়েছে ‘মূলধনী লাভ বলিতে কি বুঝায়?’ এখানে গুরুচণ্ডালি দোষ হয়েছে। আর একাধিক জায়গায় ‘কী’ এর স্থলে লেখা হয়েছে ‘কি’।

ভর্তি পরীক্ষার এক প্রশ্নে এত ভুল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। তারা দ্বিতীয়বার এই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, এই ধরনের ভুলেভরা প্রশ্নপত্র অপেশাদারত্বের ইঙ্গিত দেয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে। এটির দায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন কখনো এড়াতে পারেন না। তার উচিত সকল দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে পদত্যাগ করে ক্ষমা চাওয়া। শিক্ষার্থী, দেশ, মেধার বিকাশ এবং ন্যায্যতার স্বার্থে এই পরীক্ষা দ্বিতীয়বার নেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দায়িত্বে সকল খরচ বহন করা উচিত।

পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী যা বলছেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে কাঠামোগত ত্রুটি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ও অনুষদের ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। গতকাল তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘এ’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘বি’ সেটে এবং ‘বি’ সেটের দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কিছু প্রশ্ন ‘এ’ সেটে ছাপা হওয়ায় নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি হয়েছে ও ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়েছে।

মাহমুদ ওসমান বলেছেন, ভুল প্রশ্নপত্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এটি দ্রুত সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না, বরং তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কাঠামোগত এই ভুলের সমাধানের বিষয়ে গতকাল রোববার অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডিন মাহমুদ ওসমান।

দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে মাহমুদ ওসমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘না, দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। যেটি পরীক্ষা নেওয়া ছাড়াই সমাধানযোগ্য, সেখানে আমরা নতুন করে পরীক্ষা নিতে যাব কেন?’

তবে কী পদ্ধতি অনুসরণ করে এই কাঠামোগত ভুলের সমাধান করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমরা সেটি রিভিল (প্রকাশ) করছি না। সময় হলে আমরা আপনাদের জানাব।’

প্রশ্নপত্রে বানান, অনুবাদ এবং ব্যাকরণগত ভুলের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিন ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেছেন, ‘ঠিক, এসবে আমাদের কিছু ভুল হয়েছে। সামনে আমরা এসব বিষয়ে আরও সতর্ক থাকব।’


আমরা হজযাত্রীদের খাদেম, তাদের সেবা করা আমাদের দায়িত্ব: ধর্মমন্ত্রী

আপডেটেড ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, আমরা হজযাত্রীদের খাদেম। তাদের সেবা না করতে পারলে আমাদের পদত্যাগ করা উচিত। হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজক্যাম্পে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পবিত্র এই সফরে যেতে পারেন সে বিষয়টি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি হজযাত্রীদের সেবায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান।

আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে।

এবারের প্রথম ফ্লাইটটি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলছে শেষ প্রস্তুতি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, আজ মোট ১৪টি ফ্লাইট যাবে।

এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬টি, তিনটি সাউদিয়া ও তিনটি ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস। ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী এ বছর হজ পালনে যাবেন। তাদের মধ্যে সরকারি মাধ্যমে যাবেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। এরই মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছে ১৭১ জনের মেডিক্যাল টিম।


বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, ট্রল করে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেসবুকে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ‘বট বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি তার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই বট বাহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায় এবং ট্রল করে। এমনকি আমি নাকি পরীক্ষার দিন পরীক্ষার রুটিন দেব—এমন হাস্যকর অপপ্রচারও তারা চালাচ্ছে।’

আজ শুক্রবার দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) নবীনবরণ (ওরিয়েন্টেশন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার রুটিন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘নকল বন্ধে পরীক্ষার রুটিন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত, কোন বিষয়ে পরীক্ষা জানা যাবে পরীক্ষার হলে’-মর্মে একটি অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইন পোর্টালগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গুজব।

‘ফেল করলেই এমপিও বাতিল’—এমন গুজবও ফেসবুকে বট বাহিনী ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এবার কোনো প্রতিষ্ঠানে জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না। কিন্তু বট বাহিনী লিখে দিল এবার ফেল করলেই এমপিও বাতিল। এখন দেখা যাচ্ছে দেশ ফেসবুকেই চলে।


চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল যে তাকে এভাবে আটক রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি যথাযথ জায়গায় আজ-কালের মধ্যেই কথা বলব এবং তার দ্রুত মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ‘মহানগর পরিবার দিবস-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, উপজাতি, জাতিসত্তা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ নানা সম্প্রদায় রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরকে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে আমি মনে করি।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে দেশে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না।

রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক হলেও এসব বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এটাই সরকারের নীতি এবং সেই নীতিতেই আমরা কাজ করছি।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পালসহ অনেকে।


রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি পেল বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি সবুজ সংকেত দিয়েছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া এখনো শুরু না হলেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার মতে, গত ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়টি ৯ই জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরআগে, গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়ে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল।

জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সে সময় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ আরও নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ আগামী ৩ মাসের জন্য তেল ছাড়ের (ওয়েভার) অনুরোধ করেছিল। কূটনীতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে সম্মতি চাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কূটনীতিকরা দেশটির ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে রাশিয়ার কিছু তেল কোম্পানির নামও দিয়েছে। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে তেল আমদানি করা যাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে এমন ধরনের তেল আমদানি করতে চায়, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। সেটি না হলে বাংলাদেশকে তৃতীয় কোনো দেশে তেলটি প্রক্রিয়াজাত করতে হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে। বর্তমান রিফাইনারির সক্ষমতা অনুযায়ী রাশিয়া থেকে অবশ্যই বিশেষ ধরনের হালকা অপরিশোধিত তেল আনতে হবে।


১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দেশে আসছে ৪ ট্যাংকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরে ডিজেলবাহী চারটি ট্যাংকার (জাহাজ) আসছে। এর মধ্যে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) তিনটি এবং আগামী রবিবার (১৯ এপ্রিল) আরো একটি ট্যাংকার আসার কথা রয়েছে। ৪টি ট্যাংকারে করে সর্বমোট আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল যা দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ডিজেলের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার টন। নতুন ৪টি ট্যাংকারের ডিজেল খালাস হলে তা ২ লাখ ৯৬ হাজার টনে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায়। মোট মজুদ ডিজেল দিয়ে প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণ করা যাবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এমটি ওকট্রি, এমটি কেপ বনি ও এমটি লিয়ান সং হু -এই তিনটি ট্যাংকার বন্দরে ভিড়বে। আর এমটি গোল্ডেন হরাইজন নামের আরেকটি ট্যাংকার রবিবারে পৌঁছানোর কথা আছে।

চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যেই সব কটা ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে।চলতি মাসে ডিজেল নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সরবরাহ বাড়ায় তা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলনির্ভর। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন।

এর বড় অংশ সরাসরি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। আর বছরে ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টন পাওয়া যায় অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে। জ্বালানি তেলের মধ্যে বহুমুখী খাতে ডিজেলের ব্যবহার হয়। সড়ক পরিবহনের বড় অংশ যেমন বাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন মূলত ডিজেলচালিত। কৃষিতে সেচযন্ত্র চালানো, নদীপথে নৌযান পরিচালনা এবং অনেক শিল্পকারখানার জেনারেটর চালাতেও ডিজেল ব্যবহৃত হয়।

দেশে ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ২৪ শতাংশ যায় কৃষি খাতে। বিদ্যুৎঘাটতির সময় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও এ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেই ডিজেলের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক।


আজ হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ (১৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ১৮ এপ্রিল রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।

এদিন মোট ১৪টি ফ্লাইট রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, চারটি সৌদি আরবের সাউদিয়া ও চারটি ফ্লাইনাস পরিবহন করবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং হজ এজেন্সির মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজ পালনের জন্য যাবেন।

সৌদি আরবের সাথে স্বাক্ষরিত হজচুক্তি অনুসারে মোট হজযাত্রীর শতকরা ৫০ ভাগ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে। বাকি ৫০ ভাগের মধ্যে সৌদি আরবের সাউদিয়া শতকরা ৩৫ ভাগ ও ফ্লাইনাস ১৫ ভাগ হজযাত্রী পরিবহন করবে।

২১ মে প্রি-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। প্রি-হজ ফ্লাইট ২০৭টি যার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়ার ৭৫ টি ও ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে হতে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা পহেলা জুলাই শেষ হবে।


বেগম খালেদা জিয়ার পুরস্কার গ্রহণ করলেন জাইমা রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ এবার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ ভূষিত করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ গ্রহণ করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেগম খালেদা জিয়ার (মরণোত্তর) পক্ষে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ গ্রহণ করছেন তার নাতনি জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বুঝে নেন। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার খালেদা জিয়াকে এই মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেকে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, পাঁচ লাখ টাকার চেক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ক্যাটাগরিতে এবার মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম এবং সাহিত্যে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন আশরাফ সিদ্দিকী।

সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন টেবিল টেনিস কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু।

সমাজসেবায় এবার তিনজনকে পদক দেয়া হয়েছে। তারা হলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক এবং যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)। এ ছাড়া জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এই সম্মাননা লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। এ ছাড়া চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। আজ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হলো।


দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি ও আগামী মাসে আরো ১৬ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। বর্তমানে এলএনজি সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরকার নিয়মিত এলএনজি আমদানি অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তুতি থাকায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পুরো এপ্রিল মাসে ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আমদানি করা ৯টির মধ্যে ৪টি কার্গো দেশে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় আগামী মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যা সংস্থার নির্ধারিত আমদানি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭টি কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪টি কার্গো কেনার প্রক্রিয়া চলমান।

পেট্রোবাংলার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্র জানায়, চলতি মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে ৪ কার্গো এসেছে। এসব কার্গো অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি করে এবং আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা থেকে কেনা হয়েছে। বাকি ৫টি কার্গোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে দুটি করে এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি আসার কথা রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, আগামী মে মাসের জন্য ৭টি কার্গো এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি স্পট মার্কেট থেকে এবং দু’টি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকায় সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। এজন্য ভর্তুকি দিয়ে হলেও আমদানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে, যাতে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি না হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশ ক্রমেই আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধির ফলে জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্বস্তি ফিরতে পারে, অন্যথায় এই চাপ অব্যাহত থাকবে।

বিকল্প সরবরাহ উৎসের ব্যাপারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো থেকে এলএনজি কেনা যেতে পারে। কারণ, এসব দেশ ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের কাছাকাছি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বরাবরই ভালো।

ড. বদরুল ইমাম বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানিতে বাংলাদেশের বড় কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক বাধা নেই। সুতরাং এসব উৎস থেকে জ্বালানি কিনলে একটি বড় বিকল্প উৎস তৈরি হবে। এসব দেশ থেকে কম খরচে ও সহজে এলএনজি আমদানি করা যায়। এসব উৎসকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।


৭ নভেম্বর পলিত হবে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাতে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে নাসিমুল গণি বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে ৭ নভেম্বরকে পূর্বের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা। এটা একটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হবে।

‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হওয়ার কারণে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আগে ছিল, এখন আবার ফেরত আনা হয়েছে। গত ১৬ বছর এটি করা হয়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হলে জিয়াউর রহমান গৃহবন্দি হন।

৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। বিএনপি এই দিনকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় এই দিবসটি আর পালন করেনি। বিএনপি সরকার গঠনের দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নিল।


প্রতিশোধ নয়, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা কিংবা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলতেন–জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আত্মত্যাগে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের সাহসী ভূমিকা আজও প্রেরণার উৎস।’

ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘হীন দলীয় স্বার্থে জাতীয় নেতাদের শ্রদ্ধায় কার্পণ্য করা হীনম্মন্যতার পরিচায়ক। ঐতিহাসিক সত্য মেনে নিতে দ্বিধা থাকা উচিত নয়।’ এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন।

এ বছর মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার পাশাপাশি অন্যান্য গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই অবিস্মরণীয় অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি ও দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্বল শাসন কাঠামোর মধ্যদিয়ে বর্তমান সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি ফেরানোই আমাদের অগ্রাধিকার। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছিল। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার বিকল্প নেই। সরকার এরইমধ্যে প্রতিটি সেক্টর চিহ্নিত করে জুলাই সনদ ও দলীয় ইশতেহার অনুযায়ী রাষ্ট্র মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

বৈশ্বিক সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছে। জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। বিচলিত হওয়ার কারণ নেই।’ তবে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিলাসিতা ও অমিতব্যয়িতা পরিহার করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত গুণিজনদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের দীর্ঘায়ু ও বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সম্মান আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এবার ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।


ঢাকার দুই সিটির জন্য দুই পুলিশ কমিশনার নিয়োগ চেয়ে রিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পুনর্গঠন করে পৃথক দুইজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এস. এম. জুলফিকার আলী জুনু এ রিট করেছেন।

রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিএমপি কমিশনার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকা বর্তমানে প্রশাসনিকভাবে দুইটি সিটি কর্পোরেশনে বিভক্ত। একটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং অন্যটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ বিভাজনের পরও পুরো মহানগরের পুলিশিং কার্যক্রম এককভাবে ডিএমপির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা একজন পুলিশ কমিশনারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, দ্রুত নগরায়ন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অপরাধ বৃদ্ধি, যানজট ও জননিরাপত্তা সংকটের কারণে বর্তমান একক পুলিশ প্রশাসন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।

রিটে ডিএমপিকে দুটি পৃথক ইউনিটে বিভক্ত করা, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক দুইজন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বর্তমান অকার্যকর কাঠামোকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।


অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়: স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) ছিল, তারা জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেনি মূলত অভিজ্ঞতার অভাবে। প্রফেসর ইউনূস ভালো ছিলেন, পৃথিবী বিখ্যাত লোক। তাদের পক্ষে দেশের মানুষের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়নি। অর্থনীতির সূচক নিচের দিকে নেমে গিয়েছে। এই যে হামের টিকা নেই, বহু লোক জীবন দিয়েছে। এভাবে অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে তখন জনগণের অনেক ভোগান্তি হয়।

তিনি বলেন, তারা নিরপেক্ষ সরকার ছিল, চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা সফল হতে পারেনি। তাদেরকে একটা কৃতিত্ব দেই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের ট্র্যাকে উঠেছে। আশা করব এ রাষ্ট্র সুন্দরভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অগ্রসর হবে, জাতি সমৃদ্ধ হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় এসে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের লিগেসি হিসেবে কতোগুলো বিষয় এখানে রয়ে গেছে, একটা হলো জুলাই সনদ। কয়েকজন ব্যক্তি তো রাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না, সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে গণপ্রতিনিধিরা। আপনারা জনগণ যাদেরকে ভোট দিয়ে বানাবেন তারা দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু তারা কিছু উদ্ভট নিয়মও করে গিয়েছে যে- ব্যক্তির নির্দেশে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায় অটোমেটিকলি।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। তারা জুলাই সনদে সই করেছে, সংসদেও তারা বলেছে যে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তবে কয়েকটি বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, জনগণ তাদেরকে রায় দিয়েছে। জুলাই সনদেও লেখা আছে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, তারা যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায় তারা নোট অব ডিসেন্টকে কার্যকর করতে পারবে। মূলত আমি দেখতে পাই সরকার এবং বিরোধীদলের মধ্যে খুব বেশি মতভেদ নেই। অল্প কিছুটা আছে। রাজনৈতিক চাল কিছুটা আছে। আমার মনে হয় সরকার এবং বিরোধী মিলে একটা সমঝোতায় উপনীত হতে পারবে।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। কিন্তু স্বাধীনতা লাভের পরই দেখা গেল গণতন্ত্র বিদায় নিলো, এদেশে একদলীয় শাসন ও আমরা দেখেছি। গত ১৬-১৭ বছরে নির্বাচনের নামে কতগুলো প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। আমি নিজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা থেকে যখন আমার নির্বাচনী এলাকায় (ভোলা-৩ লালমোহন-তজুমদ্দিন) গেলাম। যাওয়ার পর আমার বাড়িটা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল, ১৬ দিন ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। সেখান থেকে সন্ত্রাসী নির্বাচিত হয়ে গেল। এভাবেই বাংলাদেশে থেকে গণতন্ত্রকে ঝেটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। অবশেষে জনগণের ত্যাগ তিতিক্ষা বিশেষ করে ছাত্র-যুবক তাদের অভিভাবকরা রাজপথে নেমে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আবু সাঈদ মুগ্ধ ওয়াসিমদের মতো তরুণরা জীবন দিয়ে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। মাফিয়া নেত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।

এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্পিকারের সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।


জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: প্রধানমন্ত্রী

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় দেশে এখনো এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, তাই জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, "আমি আশ্বস্ত করতে চাই জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।"


banner close