ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বৈশ্বিক দুর্নীতির সূচকে দুই ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গো ও ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫১তম স্থানে আছে ঢাকা। গেলো তেরো বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম স্কোর অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গেল বছরে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) বৈশ্বিক ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৪ প্রকাশ উপলক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
দুর্নীতির ধারণা শূন্য থেকে ১০০ টিআই সূচক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যে দেশটির স্কোর থাকবে শূন্য, সেটি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যারা ১০০-তে থাকবে, তাদেরকে বলা হবে সবচেয়ে বেশি সুশাসিত।
২০২৪ সালের দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে ২৩। আগের বছরের চেয়ে যা এক পয়েন্ট কম, আর গেল তেরো বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সিপিআই অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের স্কোর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পরেই। আফগানিস্তানের স্কোর ১৭।
২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিপিআইয়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫ থেকে ২৮। কিন্তু ২০২৩ সালে এটি কমে গিয়ে চব্বিশে দাঁড়ায়।
২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিপিআই ট্রেন্ড বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর ২৩, গেলে তেরো বছরের গড় স্কোরের চেয়ে যা তিন পয়েন্ট কম।
গেল বছরের তুলনায় এ বছর ৫৬টি দেশে সিপিআই স্কোর বেড়েছে। ৯৩টি দেশের স্কোর কমেছে, আর ৩১টি দেশের অবস্থা অপরিবর্তিত। স্কোরের মাত্রায় কোনো দেশই নিখুঁত স্কোর অর্জন করতে পারেনি। এ বছরে বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ দেশের স্কোর পঞ্চাশের নিচে।
৯০ স্কোর নিয়ে চলতি বছরে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পেয়েছে ডেনমার্ক। এরপর ৮৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ফিনল্যান্ড, আর ৮৪টি নিয়ে তৃতীয় সিঙ্গাপুর।
২০২৪ সালে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, তাদের স্কোর ৮। সোমালিয়া এরপরেই, স্কোর ৯। আর ১০ স্কোর নিয়ে দুর্নীতিতে তৃতীয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা।
এদিকে দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) পাকিস্তানের অবনতি হয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১৩৩তম, চলতি বছরে সেটা ১৩৫তম।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ‘পেটোয়া বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া পুলিশ নিজস্ব ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার (১২ মে) পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইজিপি বিশ্বাস করেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট জনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে পুলিশ এখন একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠিত হচ্ছে। আইজি’জ ব্যাজ প্রদান, শিল্ড প্যারেড এবং অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি পুলিশের বর্তমান সংস্কার ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন।
আইজিপি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পুলিশ বাহিনীকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাহিনীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই নেতিবাচক ইমেজ বা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পুলিশ সফল হয়েছে এবং বাহিনীতে পেশাদার শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী এবং এর প্রতিটি সদস্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ এখন অতীতের ভুল শুধরে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণকে দেশের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পুলিশ প্রধান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মাদক সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যদি পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশের যেসব সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
অনুষ্ঠানে গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘আইজিপি ব্যাজ’ বা ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ পরিয়ে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সম্মাননা তাদের আগামী দিনে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহিত করবে। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই অর্জনগুলো পুলিশের পেশাদার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে জেলা পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ডিবি (ডিএমপি) প্রথম স্থান অধিকার করে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ওয়ারী বিভাগ (ডিএমপি) শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার লাভ করে। শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় যৌথ মেট্রোপলিটন দল প্রথম এবং এপিবিএন দল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুলিশের কাজের মূল্যায়ন এবং আগামীর কর্মপন্থা নির্ধারণের এক শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক এমআরআই প্রতিবেদনে তার ঘাড় ও কোমরের হাড়ে বড় ধরনের সমস্যার তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর আদালতের আদেশে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পিজি হাসপাতালে পলকের এমআরআই সম্পন্ন করা হয় এবং সেই রিপোর্টেই এই জটিলা ধরা পড়েছে।
আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এমআরআই প্রতিবেদনের বিস্তারিত উল্লেখ করে জানান, জুনাইদ আহমেদ পলকের কোমরের এল-২, এল-৩ ও এল-৪ অংশের হাড়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া তার ঘাড়ের সি-৫/৬ এবং সি-৬/৭ ডিস্কেও জটিলতা ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনার প্রভাবে তার ঘাড় ও কোমরের হাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। এই ধরনের শারীরিক চোট সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার সৃষ্টি করে এবং চলাফেরায় ব্যাপক সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।
পলকের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আইনজীবী আরও জানান যে, তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন, তবে এই দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। গত শনিবার কারাগারে পলকের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইনজীবী বলেন, তিনি বর্তমানে ঠিকমতো ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। ঘাড় ও কোমরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুরুতর চোট পাওয়ায় তার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কারাগারে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথাও ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।
এমআরআই প্রতিবেদনে শারীরিক জটিলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলেও এখন পর্যন্ত পলককে প্রয়োজনীয় ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী। তিনি বলেন, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা শুরু না হলে তার এই শারীরিক সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় জুনাইদ আহমেদ পলকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষে খুব শিগগিরই আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে তার সুস্থতা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল অগ্রাধিকার।
দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক মানের করার লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh : Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বলেন, “সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।” উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা গবেষণা ও জ্ঞানে উৎকর্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “র্যাংকিং ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকে মনে হয় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদদের আরও চিন্তাভাবনা করতে হবে।”
শুধুমাত্র গতানুগতিক পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে মনে হয় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে, এটিই স্বাভাবিক।” উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, “তবে, আমি যতটুকু জানি- ব্রিটেনসহ অনেক দেশই যারা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাধারণত পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”
সফল ও প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেই সব এলামনাইদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।” এদিন সকাল ১০টায় কর্মশালাটির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী । ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। কর্মশালায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্যগণ উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালা উদ্বোধন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার সূচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ক্যাম্পাসে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছিলেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় পাঁচটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উচ্চ শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সমাপনী আয়োজনে আরও অংশ নেবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান।
‘বেশি বয়সেও ত্বক হবে টানটান, দূর হবে কালচে ভাব, বাড়বে উজ্জ্বলতা’—অনলাইনে এমন চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ মরণঘাতী বিষ। নারীদের চিরন্তন সৌন্দর্য সচেতনতাকে পুঁজি করে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে নকল প্রসাধনীর বিশাল মায়াজাল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের যত্ন নিতে গিয়ে অবলীলায় শরীরে মাখা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রলেপ। দেশি-বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ঢাকা এই বিষ কেবল পকেটই কাটছে না; বরং কেড়ে নিচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক সজীবতা, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য।
প্রতারণার শিকার ও তিক্ত অভিজ্ঞতা: রাজধানীর রামপুরার গৃহিণী আরজু বেগম ৫৫০ টাকায় একটি ‘কোরিয়ান মিল্ক সুথিং জেল’ কিনেছিলেন ত্বকের যত্নে। সপ্তাহখানেক ব্যবহারের পর সুফলের বদলে তার পুরো মুখ ঘামাচির মতো দানায় ভরে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনবার চিকিৎসক দেখিয়ে এবং পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ কিনেও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তিনি। আরজু বেগমের আক্ষেপ, ‘আসল আমদানিকারকের স্টিকার ও মেয়াদের তারিখ দেখেই কিনেছিলাম, তবুও প্রতারিত হলাম। তবে কেবল প্রসাধনীই নয়, টুথপেস্ট থেকে শুরু করে শ্যাম্পু—সবকিছুতেই এখন ভেজালের থাবা।
নকলের হটস্পট ও উৎপাদনের নেপথ্য কাহিনী: অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর চকবাজার, লালবাগ, জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকা এখন নকল প্রসাধনী তৈরির ‘হটস্পট’। পরিত্যক্ত মোড়ক ও কৌটা সংগ্রহ করে সেগুলোতে সাবান-পানি, ক্ষতিকর কেমিক্যাল আর নিম্নমানের সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সব পণ্য। লরেল, রেভলন, গার্নিয়ার, নিভিয়া, ডাভ কিংবা ভ্যাসলিন—বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এমনকি বিলাসবহুল পারফিউম যেমন হুগো বা ফেরারিও হুবহু নকল হচ্ছে এই ঘরোয়া কারখানাগুলোতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নকল কসমেটিকস তৈরির সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কেবল নামমাত্র কয়েক হাজার টাকা জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব নকল প্রসাধনী মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তাদের দাবি, শুধু সামান্য জরিমানা করায় এসব চক্রের সদস্যরা আবারও একই ব্যবসায় ফিরে আসে। তাই আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি তাদের সম্পদ জব্দসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট, শপিং মল ও ফুটপাতের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নামিদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, ফেসক্রিম, পারফিউম ও স্কিন কেয়ার পণ্য হুবহু নকল করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেট, লোগো ও ডিজাইন এতটাই মিল রয়েছে যে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
দোকানগুলোতে বিশ্বমানের ব্র্যান্ড গার্নিয়ার, লরেল, রেভলন, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নিভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান, সুগন্ধির মধ্যে হুগো, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা, অলিভ অয়েল, কিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন, জনসন, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, প্যানটিন প্রো-ভি ও হারবাল এসেনশিয়াল লোশনের নামে ভেজাল প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে বেশি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, রাজধানীর চকবাজার, পুরান ঢাকা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার নকল প্রসাধনীর হটস্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় ভাড়া করা বাসা-বাড়িতে নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে অসাধু চক্র। তৈরি পণ্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযানে যা মিলছে: ১০ মার্চ বিকেলে রাজধানীর মহাখালী এসকেএস টাওয়ারে জেএস ট্রেডিংসহ দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর।
আমদানি করা প্রসাধনী পণ্যের গায়ে কোনো ধরনের লেবেল না থাকায় তাদের জরিমানা করা হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের পণ্যের গায়ে বিস্তারিত তথ্যসহ লেভেল লাগানোর জন্য সময় বেঁধে দেন।
এর আগে ৩ মার্চ দুপুরে আলোচিত ব্রান্ড প্রোমোটর ফারজানা ইসলামের শোরুম থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করা বিপুল নকল কসমেটিকস উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব-২)। নকল কসমেটিক্স বিক্রির অভিযোগে ‘মেক ইট আপ বাই ফারজানা ইসলামের মোহাম্মদপুরে শোরুমে অভিযান চালিয়ে এসব নকল কসমেটিক্স জব্দ করে শোরুমটি সিলগালা করা হয়।
অভিযান শেষে র্যাব-২ এর অধিনায়ক খালেদুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা শোরুমটিতে অভিযান চালাই। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখেছি, জনপ্রিয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শো-রুম সিলগালা করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ১৫ এপ্রিল ঝিনাইদহ শহরের মহিলা কলেজ পাড়ায় একটি নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে র্যাব-৬।
তখন র্যাব-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে মহিলা কলেজ পাড়ার বকুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে নকল প্রসাধনী তৈরি করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা নকল ‘চায়না’ ব্র্যান্ডের পারফিউম, ফেস ক্রিম, তেলসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য জব্দ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেবেল ও বোতল, প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল, রাসায়নিক পদার্থ এবং যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বংশালের পেয়ালাওয়ালা মসজিদ সংলগ্ন ৫৮ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় নামবিহীন নকল কসমেটিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল নকল প্রসাধনী জব্দ করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জনসন, ইমামি, সানসিল্ক, ডাভ, হেড অ্যান্ড সোল্ডারস, প্যানটিনসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নকল প্রসাধনী। এ সময় নামিদামি ব্রান্ডের পণ্যের খালি বোতল, লেবেল, প্রস্তুতকৃত মালামাল এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যালসহ নিম্নমানের কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
বাজার পরিসংখ্যান ও আইনি সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে প্রসাধনী পণ্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার। এর একটি বিশাল অংশ (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) চোরাচালান ও নকল পণ্যের দখলে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ক্যান্সারের ঝুঁকি ও স্থায়ী ক্ষতি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ চিকিৎসকরা এই বিষয়টিকে ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে দেখছেন।
চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি চলছে রং ফর্সাকারী ক্রিম। মনে রাখবেন, বিশ্বে স্থায়ীভাবে রং ফর্সাকারী কোনো ক্রিম আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এসব নকল পণ্যে থাকা রাসায়নিক ত্বক পুড়িয়ে দেয়, ক্যান্সার তৈরি করে এবং স্নায়ুবিক দুর্বলতা ডেকে আনে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ভারী মেটাল ও সিসা মেশানো এই প্রসাধনীগুলো রক্তের সাথে মিশে কিডনি বিকল করতে পারে এবং সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের দেশে সব সময়ই নকল প্রসাধনীর ব্যবহার হয়। এসব পণ্য বেশিরভাগই কেনেন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। তারা সরল বিশ্বাসে দেশের পণ্য কিনে বিপদে পড়েন, তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এসব নকল পণ্য কেনেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পেছনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু লোকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিএসটিআই অভিযান করে, কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় তেমন উদ্যোগ নেয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবাই জানে কোথায় নকল প্রসাধনী তৈরি হচ্ছে। তবুও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? নিশ্চয়ই এখানে কারও না কারও স্বার্থ জড়িত আছে।
এখনো বন্ধ হয়নি, কিন্তু ধুঁকে চলছে- এমন কারখানাগুলোর জন্য প্রণোদনা দেবে সরকার। বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে তহবিল গঠন করছে, সেই তহবিল থেকে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলো এই সুবিধা পাবে।
সোমবার (১১ মে) তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা দেখা করতে এলে এ আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নীতির সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে কোন কোন ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে লিখিতভাবে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাব জমা দিলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আগামী ঈদুল আজহার পরে আবারও বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এক্সপোর্ট ডাইভারসিফেকশনের ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। এজন্য রাজশাহীতে থাকা সরকারের রেশম শিল্প-কারখানা বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, পূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১১ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উল্লেখিত একই সময়ে সারাদেশে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৪১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের সংক্রমণে অন্তত ৬৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৫০ জন শিশুর। সব মিলিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৫-তে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৯৩৭ জন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশব্যাপী এখন পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ৫০০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন রোগী।
সতর্ক করার পরও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি কথিত পরকীয়া প্রেমিক। সেই ক্ষোভ থেকেই রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৩ বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হলো আদালতে।
গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল ইসলাম পরকীয়া প্রেমিক আনিস হত্যার দায়ে মো. শাহাদাৎ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় শাহাদাৎ হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত আনিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে একাধিকবার আনিসকে সতর্ক করেছিলেন শাহাদাৎ। স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে এবং আর যোগাযোগ না করতে বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আনিস আবারও শাহাদাতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এতে ক্ষোভ আরও গভীর হয় আসামির মধ্যে। ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল। তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পাশে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীতে ফুটপাতে আনিসের ওপর হামলা চালানো হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান হামলাকারী। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
একই বছরের ২৭ মে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা—তিনটি প্রস্তাবনা আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাবনা আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।’
মন্ত্রী বলেন, ঈদ যাত্রায় নৌপথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেকে ত্রুটির বিষয় উঠে এসেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।
এ ছাড়া সদরঘাটে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলে নতুন শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। এখন থেকে স্পিডবোটের যাত্রীরা সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তাদের নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য নতুন সংযোগ ব্রিজও নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেড় কোটির বেশি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
তিনি বলেন, ‘আব্বার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসক তেমনটাই জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’
গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়েছিলেন আতাউর রহমান। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পেলে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
জানা গেছে, ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিন শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবারও অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
সোমবার লালমনিরহাট স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আয়োজনে এক বিশাল চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ এবং এটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চাকরি মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার। নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান সোমবার ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশলাইনসে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)’ এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দ মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সদস্যরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছেন উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আপনারা কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন।’
সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখে তাহলে নিশ্চয়ই সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে নারীরা স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। তাহলে কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যত নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরির্বতে তা এগিয়ে নেবে।
পুনাকের সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিনী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পুনাক সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদ। পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতির একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অধিকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার স্টলের মধ্যে প্রথম হয়েছে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় রাজশাহী এবং তৃতীয় লালমনিরহাট জেলা।
প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী এবং পুনাক স্টল বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোটের বিস্তার রোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পশুর কেনাবেচায় যাতে কেউ প্রতারিত না হয়, সেজন্য প্রতিটি হাটে নোট শনাক্তকরণ সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ১৭ মের মধ্যে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই নোট যাচাইয়ের এই বিশেষ সেবা প্রদান করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস এবং যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক দায়িত্ব বণ্টন ও তদারকি করবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হাটগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যাংকের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাটগুলোতে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের বুথ পরিচালনা করবে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংক।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে মোট ১৯টি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটে নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন ও পরিচালনা করবে।