রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
১২ মাঘ ১৪৩২

শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২৩:৪৮

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘যদি তাদের অপরাধের বিচার না করা হয়, তাহলে দেশের মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমা করবে না।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেছেন। দুবাইয়ের ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের (ডব্লিউজিএস) এক ফাঁকে অধ্যাপক ইউনূস এই সাক্ষাৎকার দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা তাকে (হাসিনা) বিচারের আওতায় আনবো। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’ তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আইনের মুখোমুখি করা হবে।’

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং দেশত্যাগ করেন। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের একদলীয় শাসনের অবসান হয়। এরপর গতবছর ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে পুলিশ ও শেখ হাসিনার দলের লোকজন প্রায় ১,৪০০ জনকে হত্যা করে এবং আহত হয় ১১ হাজার।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতকে নোটিশ

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস ‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকার ওই সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, ‘আমরা ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছি, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে হবে।’

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার বিপুল পরিমাণ প্রমাণ আছে। যার মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টও অন্তর্ভুক্ত। জাতিসংঘ এটিকে নথিভুক্ত করেছে এবং আমাদের কাছে শেখ হাসিনা, তার সরকার এবং ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের অপরাধের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে।’

ড. ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং আশা করছি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এটি অবশ্যই করা হবে, অন্যথায় জনগণ আমাদের ক্ষমা করবে না।’

ছাত্র আন্দোলনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের মধ্যে ১৩ শতাংশ ছিল শিশু।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এই সহিংসতায় ৪৪ জন পুলিশ সদস্যও নিহত হয়েছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুক্তি ও আমিরাতের সাথে সম্পর্ক

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

আন্দোলনের সময় আমিরাতে ৫৩ জন বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের কাছে অনুরোধ জানালে পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

‘দ্য ন্যাশনাল’ পত্রিকাকে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমিরাতের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। যখন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হলাম, তখন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করি। আমি তাকে ব্যাখ্যা করি যে, তারা শুধু বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছিল।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের কাছে অনুরোধ করেছি যে, তিনি যেন তাদের ক্ষমা করে মুক্তি দেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা করায় আমি অত্যন্ত খুশি হই। এটি একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল এবং পুরো বাংলাদেশ সেটি উদযাপন করেছে।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই, কারণ সেখানে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু

বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে প্রধান উপদেষ্টার পূর্ণ দৃষ্টি এখন সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি।

এই লক্ষ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ ও প্রশাসনিক খাতে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বৈরাচারী সরকারের আমলে চুরি ও পাচার হওয়া সরকারি তহবিল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

এই সংস্কারগুলোর লক্ষ্য হলো জনকল্যাণ ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে বাংলাদেশের ১৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষ যেন প্রকৃত অর্থে ক্ষমতাবান হন।

জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস সাক্ষাৎকারে আরো বলেছেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতিকে সচল করা। আমরা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সাথে আলোচনা করছি—কোন সংস্কার এখন বাস্তবায়ন করা হবে, কোনটি ভবিষ্যতে হবে এবং কোন সংস্কার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করতে চান না।’

তিনি বলেছেন, ‘এটাই আমাদের সরকারের কাজের সীমা। এরপর আমরা ১৬ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করবো। জনগণ এটিকে উদযাপন করবে এবং আমাদের কাজ শেষ হবে।’

দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমাদের ঐকমত্য কমিশন একটি জাতীয় রূপরেখা প্রস্তুত করছে। বলা যায় আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এগুচ্ছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘আমার কাজ শেষ হলে, আমি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবো।’


ডিআরইউর কাছে সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর ইউনেসকোর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ইউনেসকোর গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় আয়োজিত ‘সাংবাদিক সহায়তা ডেস্ক হস্তান্তর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম।

২৫ জানুয়ারি আয়োজিত এই সভায় তিনি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির প্রেক্ষাপট টেনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছয়জন সাংবাদিক নিহত হলেও সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়নি। সাংবাদিকতার নিরাপত্তা সংকট শুধু সরকারের ব্যর্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এই দায় থেকে সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ, সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোও এড়াতে পারে না।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, অধিকাংশ গণমাধ্যমই সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় হেলমেট বা টিয়ার গ্যাস প্রতিরোধী সরঞ্জামের সংস্থান করে না। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘অথচ যারা সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।’

অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের আইনি হয়রানি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউনেসকোর প্রতিনিধি লিনা ফক্স গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, এই নতুন ডেস্কের মাধ্যমে নির্যাতিত সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা প্রদান আরও সুসংগঠিত হবে। সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন সাংবাদিকদের বেতনহীন দুরবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে নিপীড়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পেশাদার স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন এবং ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এই অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, এগুলো মিথ্যা প্রচারণা: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন গণভোট নিয়ে চলমান নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের অবস্থান নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি ২৫ জানুয়ারি আয়োজিত এই সম্মেলনে বলেন, “একটি মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না। কেউ বিভ্রান্ত হবেন না, এগুলো সব মিথ্যা প্রচারণা।”

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই গণভোট জাতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং এ লক্ষ্যে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, “গণভোট দেশের রাজনীতির গতিধারা পাল্টে দেবে। আলোকিত দেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন। সাধারণ নির্বাচনে আপনি যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন। আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন।”

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় স্বৈরশাসনের স্থায়ী অবসান ঘটাতে গণভোটে ইতিবাচক রায় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন ধর্ম উপদেষ্টা। উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণভোটের প্রতিটি ভোটারকে প্রার্থীর সমতুল্য মর্যাদা দিয়ে জানান যে, এই ভোটের রায়ই হবে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার মূল মানদণ্ড। তিনি পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখতে নিরপেক্ষতা বর্জনের ডাক দিয়ে বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোট মানে জুলাই অভ্যুত্থান, আর ‘না’ ভোট মানে ফ্যাসিবাদ। মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই। নীরব থাকার কোনো অবকাশ নেই। নীরব থাকা মানে ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা।” ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ইমামদেরকে জনমত গঠনে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান।


রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির দেড় সহস্রাধিক মামলা ও যানবাহন জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বড় আকারের অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চালানো এই বিশেষ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১ হাজার ৫০২ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৬৯৬টি মামলা হয়েছে। এছাড়া মতিঝিল বিভাগে ১৮৯টি, তেজগাঁও বিভাগে ১৪৫টি, লালবাগ বিভাগে ১১২টি, গুলশান বিভাগে ১০৩টি, ওয়ারী বিভাগে ৯৫টি, উত্তরা বিভাগে ৮৯টি এবং রমনা বিভাগে ৭৩টি মামলা করা হয়। মামলার পাশাপাশি ৩৬২টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ১৫০টি গাড়িকে রেকার করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিএমপি মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান ২৫ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত তথ্যাদি নিশ্চিত করেন। জননিরাপত্তা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


শিশু রোগীদের খোঁজখবর নিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের শয্যাপাশে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক, পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোঃ মাহবুবুল হক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা হাসপাতালের অবকাঠামোগত সুবিধা ও রোগী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে সেবার গুণগত মান আরও বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।

পরিশেষে ফরিদা আখতার শিশু রোগীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মানবিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।


৮২ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহারকারী: জাতীয় গবেষণা প্রতিবেদন

বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণার  ফলাফল প্রকাশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ নিয়ে পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই জাতীয় গবেষণাটি পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিএমইউর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম মাদকের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘এটা ভাবার কারণ নাই যে কিছু সংখ্যক খারাপ মানুষ মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদক থেকে দূরে রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদাকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। সবাইকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই এই ঝুঁকিকে মোকাবিলা করতে হবে।’

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ বা আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যদিও এই পরিসংখ্যানে ধূমপানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিভাগীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২২.৯ লাখ মাদক ব্যবহারকারী থাকলেও ব্যবহারের হারে শীর্ষস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। মাদকের ধরনে গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রায় ৬১ লাখ মানুষ সেবন করে; এরপরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা (২৩ লাখ) ও অ্যালকোহল (২০ লাখ)। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ হাসান মারুফ এই সংকট উত্তরণে সামাজিক যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সময় ও বাস্তবতা হলো দেশের মানুষ মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সামাজিক আন্দোলন, একটি সামাজিক যুদ্ধের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মাদক এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই হোক প্রতিরোধ তা নিশ্চিত করতে হবে।’

গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের একটি বড় অংশই তরুণ। আসক্তদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ শিশু বয়সে (৮-১৭ বছর) এবং ৫৯ শতাংশ ১৮-২৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। বিএমইউ এর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এই জনস্বাস্থ্য সংকটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘শিশুরা-তরুণরা যারা জীবনটাকে বুঝতে পারার আগেই মাদকাসক্ত হচ্ছে অবশ্যই আমাদের সবাইকে মিলে এই শিশু ও তরুণ সমাজকে মাদক সেবনের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই হবে।’ প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, আসক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কথা জানিয়েছেন। অথচ চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত; মাত্র ১৩ শতাংশ ব্যবহারকারী পুনর্বাসন বা চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন এবং ৬৮ শতাংশ আসক্ত ব্যক্তি সামাজিক বৈষম্য ও অপবাদের শিকার হচ্ছেন। সংকট মোকাবিলায় সরকার ঢাকার বাইরে আরও সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যার নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকরা মাদক সমস্যাকে কেবল আইনশৃঙ্খলার চশমায় না দেখে একে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: ঢাকা মহানগরীর ১৩ আসনে ‘ভিজিল্যান্স টিম’ গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ১৩টি সংসদীয় আসনে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ গঠন করেছে সরকার। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা-৪ হতে ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪ এবং ঢাকা-১৬ হতে ঢাকা-১৮—এই ১৩টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন এলাকায় নির্বাচনী তদারকির দায়িত্ব পালন করবে এই টিম। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহ্বায়ক এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মুহাম্মদ ফজলুর রহমানকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও এপিএমবি) সালমা খাতুন এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) এস. এম নজরুল ইসলাম। তদারকি কার্যক্রমে আরও যুক্ত রয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) মো. সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা রেঞ্জ আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মোহা. ইয়াছিন আরাফাত এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন।

এছাড়াও প্রশাসনিক ও শিক্ষা খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কমিটিতে রাখা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) ও মহাপরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান, মাধ্যমিক শিক্ষা ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আব্দুল আজিজকে। পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলকেও এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


সাবেক এমপি রুবিনা ও তাঁর স্বামীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার এবং তাঁর স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের আয়কর সংক্রান্ত যাবতীয় নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুদকের করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের উপপরিচালক রাসেদুল ইসলাম তদন্তের স্বার্থে এই নথিগুলো জব্দের আবেদন করেছিলেন। আবেদনে বলা হয়, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রুবিনা আক্তার ‘নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৫৭ লাখ ১৮ হাজার ৪৪ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিকানা অসাধু উপায়ে’ অর্জন ও ভোগ করছেন।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রুবিনা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে ‘জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ’ ১৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৯৬৪ টাকার ‘অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, ‘অপরাধলব্ধ অবৈধ অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, রূপান্তর, স্থানান্তর করায়’ গত বছরের ১৪ মে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আবেদনে জানানো হয়েছে যে, ‘রুবিনা আক্তার একজন আয়কর দাতা। তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর নথির শুরু হতে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের মূলকপি ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।’

একইভাবে তাঁর স্বামী মোশাররফ হোসেন সরদারের বিরুদ্ধেও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের আবেদনে বলা হয়, ‘তারা একে অপরের সহায়তায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০৮ টাকার সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখেন।’ এছাড়া তাঁর ব্যাংক হিসাবেও ১৮ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৪০৪ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আদালতকে জানানো হয় যে, ‘মোশাররফ হোসেনও একজন আয়কর দাতা। তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আয়কর নথির শুরু হতে সর্বশেষ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের মূলকপি ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র/তথ্যাদি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।’ শুনানি শেষে আদালত উভয় ব্যক্তির আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দের অনুমতি প্রদান করেন।


আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নয়, অপরাধীদের জামিনের বিপক্ষে সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, সরকার আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নয় বরং অপরাধীদের জামিন প্রাপ্তির বিপক্ষে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কৃষির সার্বিক বিষয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কৃষির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে সাংবাদিকরা বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও তাঁর প্যারোলে মুক্তি না মেলার ঘটনা এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুরুতে উপদেষ্টা কেবল কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বাইরে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, ‘না, আমি কৃষি ছাড়া কোনো উত্তর (দেব না)।’ তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘না, স্বরাষ্ট্রের সময় আমি ডাকবো।’ সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলে তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘না, আমি দায়বদ্ধ না। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। আমি কৃষি ছাড়া বলবো না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করবেন। যেহেতু কৃষকদের সমস্যাগুলো আপনারা বলেন না। এগুলো হলো সমস্যা।’ একপর্যায়ে ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জামিন না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ নয়, সরকার ক্রিমিন্যালদের (অপরাধী) জামিন দেওয়ার বিরুদ্ধে।’ পরিশেষে যশোরের একটি ঘটনা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।


একনেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশোধনী প্রস্তাবসহ মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য ও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর তালিকায় অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নদীশাসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নীলফামারীতে চীন সরকারের অনুদানে ১ হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, যা ওই অঞ্চলের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ের উন্নয়ন এবং লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্পগুলোও তালিকায় স্থান পেয়েছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, সিলেটে টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন এবং বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষার সুযোগ তৈরির প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙন রোধে শরীয়তপুর, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীগুলোর তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লার অবকাঠামো উন্নয়ন, আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণের মতো বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ প্রকল্পের মেয়াদ ও বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, যেসব প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন বা ডিসেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা, সেগুলো আবশ্যিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। অন্যথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলোর বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এখন থেকে প্রতি তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় টাকার অঙ্কে ব্যয় ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়লেও ডলারের হিসাবে মূল ব্যয় খুব একটা বাড়েনি।

বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে সরকার যে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তা উপদেষ্টার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রস্তাবিত ক্লিন এয়ার প্রকল্পটি একনেক অনুমোদন দেয়নি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এক হাজার কোটি টাকার ওই প্রকল্পে দূষণ কমানোর চেয়ে দূষণ পরিমাপের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যৌক্তিক মনে হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সরকার অহেতুক বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ঋণের ফাঁদে পড়তে চায় না। তাই এখন থেকে সামাজিক খাতের পরিবর্তে যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরাসরি অর্থনৈতিক সুফল ও রিটার্ন আসবে, সেসব ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানোর বদ-অভ্যাস বন্ধ করতে হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

আপডেটেড ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত বা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে কার্যকর করতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ ও ডিএনসিসির সমন্বয়ে এক বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান অকারণে হর্ন বাজানোর প্রবণতাকে একটি ‘বদ-অভ্যাস’ হিসেবে অভিহিত করে তা পরিবর্তনের তাগিদ দেন। জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। অকারণে হর্ন বাজানোটা আমাদের বদ-অভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।’ উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, এই সংকট নিরসনে কেবল প্রশাসন নয়, বরং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য, কারণ তাঁর মতে, ‘শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না।’

অভিযান চলাকালে হর্ন বাজিয়ে শব্দদূষণ করার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাতজন চালককে মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন। কর্মসূচি চলাকালে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান আইন প্রয়োগের কঠোরতা সম্পর্কে জানান, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা শুধু হর্নের ওপরে জোর দিচ্ছি। কোনো অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবে না ‘। তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য আইন ভাঙলে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পুলিশ যেভাবে গাড়ির ব্যাপারে দণ্ড আরোপ করে, একইভাবে হর্নের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’ শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫-এর যথাযথ বাস্তবায়নে পুলিশ ও ভলান্টিয়ারদের সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি তথ্য প্রদান করেন যে, উচ্চশব্দের প্রভাবে ঢাকার প্রায় ৬৫ শতাংশ চালক শ্রবণশক্তি সংকটে ভুগছেন এবং শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপরও এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘জাতিগতভাবে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে।’

অভিযানে উপস্থিত পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ শব্দদূষণ বিধিমালা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, ডিএনসিসি-র প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ আশা প্রকাশ করেন যে, বিমানবন্দর এলাকাকে হর্নমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ পুরো নগরীর জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘সকলে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে টেকসই হর্নমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিমানবন্দর এলাকায় হর্নমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। এই এলাকা হর্নমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকায়ও উদাহরণ হয়ে উঠবে।’ সমন্বিত এই অভিযানে বিআরটিএ, সিভিল এভিয়েশন এবং ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে শব্দদূষণমুক্ত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।


বায়ুদূষণে বিশ্বজুড়ে শীর্ষে ঢাকা: বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। রবিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল থেকেই ঢাকার বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা আইকিউএয়ার-এর লাইভ সূচকে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ছুটির দিনেও দূষণের মাত্রা কমেনি, বরং তা অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির চরমে পৌঁছেছে।

রবিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার স্কোর ছিল ২৯৯। আইকিউএয়ার-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, বাতাসের মান যখন ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকে, তখন তাকে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ২৯৯ স্কোর নিয়ে ঢাকা দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা নগরবাসীর জন্য বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দূষণের এই তালিকায় ঢাকার ঠিক পরেই অবস্থান করছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা। ২১৮ স্কোর নিয়ে কলকাতা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ঢাকার মতো কলকাতার বাতাসও বর্তমানে খুবই অস্বাস্থ্যকর ক্যাটাগরিতে পড়ছে। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের হেংঝু এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে শীত মৌসুমে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার যে প্রবণতা, তা এই পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বায়ুমান সূচকের বা একিউআই স্কোরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ভালো বা স্বাস্থ্যকর বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা মাঝারি বা সহনীয় হিসেবে গণ্য হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে তা সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। আর স্কোর ৩০১ অতিক্রম করলে তাকে দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যেখানে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন পড়ে। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি সেই দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।


বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ১২৫ টন বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের পাথর উত্তোলন ও খনন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভারত থেকে বড় একটি বিস্ফোরক দ্রব্যের চালান আমদানি করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে ৮টি ট্রাকযোগে প্রায় ১২৫ মেট্রিক টন বিস্ফোরক দ্রব্য বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়। দেশের একমাত্র এই পাথর খনির খনন কাজে ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই চালানটি আনা হয়েছে, যার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের সুপার সিভা শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড। দাপ্তরিক তথ্যানুযায়ী, সম্পূর্ণ সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের জন্য এই সংবেদনশীল পণ্যটি আমদানি করা হয়েছে।

আমদানিকৃত এই পণ্যের নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘বিস্ফোরক দ্রব্যের চালানটি সরকারি অনুমোদনের আওতায় আনা হয়েছে। বন্দর এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।’ বর্তমানে বিস্ফোরকবাহী ট্রাকগুলো বন্দর এলাকায় কড়া পাহারায় রাখা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানিয়েছেন যে, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনি প্রকল্পের কাজ সচল রাখার স্বার্থে মোট ১২৭ মেট্রিক টন বিস্ফোরক আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পণ্যবোঝাই ভারতীয় ট্রাকগুলো বর্তমানে বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পাহারায় অবস্থান করছে। সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করেছেন। দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো বাংলাদেশি বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থায় দিনাজপুরের খনি এলাকায় পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই আমদানির মাধ্যমে খনির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে মনে করছে।


তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা স্টেশন এলাকায় শনিবার দুপুরে একটি তেলবাহী মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। খুলনা থেকে ৩০টি ওয়াগন নিয়ে আমনুরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এই ট্রেনটির দুটি ওয়াগন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রেললাইন থেকে বিচ্যুত হয়। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে যাতায়াতকারী শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং অনেকে বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

আমনুরা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল ইসলাম জানান যে, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে দুপুর ১টার রাজশাহীগামী কমিউটার ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রেলওয়ের কারিগরি দল বিশেষ যন্ত্রপাতিসহ উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনায় জ্বালানি তেল ছিটকে পড়া বা অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তবুও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আমনুরা রেলের স্টেশন মাস্টার হাসিবুল ইসলাম উদ্ধার তৎপরতার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে বলেন, ‘লাইনচ্যুত ওয়াগন দুটি পুনরায় লাইনে ওটানের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, রাত ৮টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।’ রেললাইনটি পুনরায় সচল না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে যাত্রীবাহী সকল ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।


banner close