বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

মানহীন হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিতে দেশ

ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৫:০২

বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। যেখানে শহরাঞ্চলে ৫৫ শতাংশ কঠিন বর্জ্য থাকছে উন্মুক্ত অবস্থায়। যা দূষণ, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

প্রয়োজন মতো আইন প্রণয়নের মারাত্মক পরিণতি এবং একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা—এমনকি বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দেখভালেরও একটি নিবেদিত কর্তৃপক্ষ নেই।

দেশের মেডিকেল বর্জ্য উত্পাদন প্রতি বছর আনুমানিক ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামগ্রিক বর্জ্য উত্পাদন প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। শুধু ঢাকায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা ২০৩২ সাল নাগাদ বেড়ে সাড়ে ৮ হাজার টনে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিদিন ১৫ লাখ টনেরও বেশি কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ সংগ্রহ করা হয় এবং ১০ শতাংশেরও কম পুনরায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

'হেলথকেয়ার ওয়েস্ট ইন বাংলাদেশ: কারেন্ট স্ট্যাটাস, দ্য ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯' এবং সাসটেইনেবল ম্যানেজমেন্ট উইথ লাইফ সাইকেল অ্যান্ড সার্কুলার ইকোনমি ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, কোভিড-১৯ ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা বাদ দিলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ হাজার টন মেডিকেল বর্জ্য (প্রতি শয্যায় ১ দশমিক ২৫ কেজি) উৎপন্ন করবে। যেগুলোর মধ্যে ১২ হাজার ৪৩৫ টন বিপজ্জনক হবে।

২০২২ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় প্রতিদিন প্রতি শয্যায় মেডিকেল বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৩ কেজি থেকে ১ দশমিক ৯৯ কেজি। কোভিড-১৯ মহামারির পরে এটির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কিছু অগ্রগতি সত্ত্বেও স্থায়ী চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) ২০১৫ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কক্সবাজার জেলায় পাঁচটি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা স্থাপন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ সত্ত্বেও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর এলাকায়।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে মাসিক গোলটেবিল আলোচনা সিরিজ এসডিজি ক্যাফের ১২তম পর্বের আয়োজন করে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ।

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবরের এই অনুষ্ঠানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা– বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান অন্বেষণ করা হয় এবং এসডিজি ১১, ১২ এবং ১৩ তুলে ধরা হয়। এর লক্ষ্য হলো- ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরোধ, হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য উৎপাদন হ্রাস করা।

টেকসই সমাধানের উপর বিশেষজ্ঞদের অভিমত

অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ। তিনি তার প্রবন্ধে বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরেন।

তিনি একটি বড় পরিবারের বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, প্রতি ১৫ বছরে বর্জ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, পৃথকীকরণের অভাব এবং দুর্বলভাবে পরিচালিত ল্যান্ডফিলগুলো পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে আরও বাড়াচ্ছে।

ড. মমতাজ তিনটি আর অর্থাৎ- হ্রাস, পুনঃব্যবহার এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার ওপর জোর দিয়েছেন। অতিরিক্ত উত্পাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) অবশ্যই একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো বিকাশের জন্য বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ করতে হবে।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন বলেন, ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু নিষ্পত্তি নয়; এটি আমাদের ভোগের ধরণগুলো পুনরায় আকার দেওয়া এবং স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ও।’

যদিও মেডিকেল বর্জ্য বাংলাদেশের মোট কঠিন বর্জ্যের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা পুরো বর্জ্য প্রবাহকে দূষিত করে এবং বিপজ্জনক করে তোলে।

নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও এর সীমাবদ্ধতা

বাংলাদেশ সরকার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনুশীলন বাড়ানোর জন্য জাতীয় থ্রিআর কৌশল প্রণয়ন করেছে। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম উন্নত করতে এসব কৌশল অন্তর্ভুক্ত করেছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১-এ প্রথমবারের মতো এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) চালু করা হয়েছে।

এই বিধিমালা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ এখনও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নিবেদিত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এর পরিবর্তে প্রিজম বাংলাদেশ, ওয়েস্ট কনসার্ন, সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি), এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং আইসিডিডিআর,বি'র মতো সংস্থাগুলো মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে ঢাকায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।

মেডিকেল বর্জ্য অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, হাসপাতালের কিছু কর্মী সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনপা নিশ্চিতের পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মেডিকেল বর্জ্য (যেমন কাচের বোতল, সিরিঞ্জ, স্যালাইন ব্যাগ এবং ব্লাড ব্যাগ) অসাধু পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহকারীদের কাছে বিক্রি করে। একটি চক্র ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলোতে বিক্রি করার আগে প্রয়োজনীয় জীবাণুমুক্তকরণ ছাড়াই এই উপকরণগুলো পরিষ্কার এবং পুনরায় প্যাকেজ করে বলে জানা গেছে।

২০০৮ সালের মেডিকেল বর্জ্য (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট) বিধিমালা অনুসারে, হাসপাতালগুলোকে পুনরায় ব্যবহার রোধ করতে প্লাস্টিকের টিউব এবং অন্যান্য বর্জ্য উপকরণগুলো কেটে বা ছিদ্র করে দিতে হয়। তবে টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ হাসপাতালে এই নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয় এবং ৪৯ শতাংশ হাসপাতালে সুই ধ্বংসকারী যন্ত্রের অভাব রয়েছে।

২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত 'গভর্নেন্স চ্যালেঞ্জেস ইন মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড' শীর্ষক এক গবেষণায় ৪৫টি জেলার হাসপাতাল, সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষসহ ৯৩টি মেডিকেল বর্জ্য কর্মী এবং ২৩১টি প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মকানুন মেনে না চলা এবং তদারকির অভাব রয়েছে।

যদিও ২০০৮ সালের বিধিমালা প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনও তা আলোর মুখ দেখেনি। এর পরিবর্তে সিটি করপোরেশন ও হাসপাতালগুলো লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারদের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আউটসোর্স করেছে।

স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের অভাব

ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ইউএনবির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে চায় না। অনেক হাসপাতাল এখনও উচ্চ বাছাই ব্যয় এবং প্রয়োগকারী ব্যবস্থার অভাবের কথা উল্লেখ করে সাধারণ আবর্জনা হিসাবে বর্জ্য অপসারণ করে।

তাছাড়া মেডিকেল বর্জ্য ট্র্যাক করার কোনো কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ নেই। গবেষণায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মও উঠে এসেছে। সরকারি হাসপাতালে চাকরির জন্য এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব অগ্রগতিকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে। আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতার কারণে বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির অনেকাংশেই অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

জরুরি সংস্কারের আহ্বান

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান পদ্ধতিগত সুশাসন ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে জবাবদিহিতার অভাব রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় এবং প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশ বিপর্যয়ে ভূমিকা রাখে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালেই কার্যকর মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকার সংস্থা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে অধিকতর সচেতনতা, উন্নত কারিগরি সহায়তা এবং সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

কর্তৃপক্ষ, টেকসই মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের জন্য বিদ্যমান নিয়ম-কানুনের কঠোর প্রয়োগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) বৃদ্ধি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলোতে সম্মতি নিশ্চিত করার জন্য আরও ভাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার পক্ষে পরামর্শ দিচ্ছে।

অবিলম্বে সংস্কার এবং একটি নিবেদিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা না হলে— মারাত্মক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ।


গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় জোর দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১২ মে, ২০২৬ ২২:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবমুখী, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে না পারলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে’ ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে গবেষণা প্রকাশনা, জ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন ও গবেষণার উদ্ধৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। সে কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা দিয়ে চলবে না। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী করতে সরকার শিক্ষানবিশ কার্যক্রম, ইন্টার্নশিপ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগীয় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন ব্যবসায়িক ধারণাকে উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রাথমিক অর্থায়ন ও উদ্ভাবনী অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য ক্যাম্পাস থেকেই উদ্যোক্তা তৈরি করা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি আরো জানান, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং বিজ্ঞান পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বিজ্ঞান মেলা, উদ্ভাবনী মেলা ও পণ্য প্রদর্শনীর মতো আয়োজন উৎসাহিত করা হবে।

বক্তব্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, জিন প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও বৃহৎ তথ্যভান্ডারভিত্তিক প্রযুক্তি বিশ্বব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা এখন আর শুধু স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়ে নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তাই পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের পক্ষেও বিশ্বমানের সাফল্য অর্জন সম্ভব।


বিএনপি-জামায়াতের মত নিয়েই বাণিজ্যচুক্তি হয়: সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি–জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে নয়াকৃষি আন্দোলন ও উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) আয়োজনে হাওরে বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনায় এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, নির্বাচনের ৩ দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্যচুক্তি করা হলেও বিএনপি–জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর মতামত নিয়েই তা করা হয়েছিল। এ কারণে তারা কেউ এখন এ চুক্তির বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। চুক্তি অনুযায়ী চাইলে চুক্তিটি বাতিল ও সংশোধন করা যাবে।

তিনি বলেন, তবে সবার দাবি তোলা উচিত, এ চুক্তি নিয়ে যেন সংসদে আলোচনা করা হয়। দাবি করা উচিত, চুক্তিটি অবশ্যই সংসদে উত্থাপন করতে হবে। সেখানে আলোচনা করে জনগণের সম্মতি নিয়ে যেন এটা করা হয়।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের তিনদিন আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড—এআরটি) সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। এ নিয়ে বেশকিছু দিন ধরে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।


বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন কারিকুলাম ও আউট লার্নি নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, আগে বিদেশ থেকে শিক্ষকরা এসে পড়াতেন, শিক্ষার্থীরা আসতেন। এখন কিন্তু সে পর্যায়ে নেই। এখন দেশে ১১৬টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। ওপেন ইউনিভার্সিটি রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই শিক্ষাব্যবস্থা আবারও ঢেলে সাজাতে হবে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

পাবলিক ইউনিভার্সিটি বেড়ে ৫৭টিতে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোয়ান্টিটিতে অনেক এগিয়ে গেছি। কোয়ালিটিতে কতটুকু পেরেছি, আমরা জানি না। তাই নীড বেসিস এডুকেশন নিয়ে ভাবতে হবে।


৩৬৯ কোটি টাকায় ২ কোটি লিটার পাম অয়েল কিনবে সরকার

আপডেটেড ১২ মে, ২০২৬ ২২:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী স্বল্প-আয়ের মানুষের জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এই তেল কেনা হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিটির সদস্য ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের ১ কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন (২ লিটার পেট বোতলে) ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সবগুলো প্রস্তাবই টিইসি কর্তৃক গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।

দরপ্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান সোনারগাঁও সীডস ক্রাশিং মিলস লি. ঢাকাকে এই পাম অলিন তেল সরবরাহের কাজটি দেওয়া হয়।

টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি লিটার পাম অলিনের দাম পড়বে ১৮৪ টাকা ৪৫ পয়সা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি হয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৭৭৮ লিটার।


বিজয় দিবসে চালু হচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ এভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বাটজা)-এর নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবার মান বাড়বে, পাশাপাশি ইমিগ্রেশন, লাগেজ হ্যান্ডলিং ও বোর্ডিং প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী জানান, যাত্রীচাহিদা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের বিষয় বিবেচনায় রেখেই বহর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়বে এবং সেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘আমরা মিক্সড ফ্লিটের কথা ভাবছি। চলতি বছরের মধ্যেই অন্তত পাঁচটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে আরো আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ খাতের ইতিবাচক দিকগুলো দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।


নিজেদের জ্বালানি থাকতে বিদেশ থেকে আমদানি নয়: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর দেশীয় সম্পদকে অবহেলা করে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতার ব্যবস্থা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘জনগণের যে সম্পদ আছে সেই সম্পদ আহরণ করতে চাই এবং দেশের উন্নতির জন্য সবচেয়ে আগে দরকার জ্বালানি। আমাদের নিজেদের জ্বালানি থাকতে আমরা বিদেশ থেকে কেন আমদানি করব?

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মিলনায়তনে স্থানীয় সংসদ সদস্য, কয়লা খনি, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মধ্যপাড়া পাথর খনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি, একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সফরসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি পরিদর্শন শেষে বিকেল ৩টায় বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার কথা রয়েছে।


বাণিজ্যচুক্তি বাতিল নয়, শর্ত পুনর্বিবেচনা করবে সরকার: ডা. জাহেদ উর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল নয়, বরং তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশের মাধ্যমে তা বাতিলের সুযোগ থাকলেও সরকার আপাতত সেই পথে যাচ্ছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সরকার চুক্তির প্রভাব, স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করবে।

তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সরকার এমন কিছু ধারা শনাক্ত করতে চায়, যেগুলো দেশের স্বার্থের পরিপন্থি বা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রকৃতি এক নয়। কিছু চুক্তি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা কখনো কখনো বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ কাঠামোর চুক্তি তুলনামূলক সহজে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে এমন অতীতের সব চুক্তি বা সমঝোতা মূল্যায়নের আওতায় আনবে সরকার। তবে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


মাদক কারবারে জড়ালে পুলিশ সদস্যদের কোনো ছাড় নয়: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক আমাদের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আইজিজ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র-মাদক উদ্ধারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে পুলিশকে ‘পেটোয়া বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করায় বাহিনীটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ আবারও জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। বাহিনীতে শৃঙ্খলাও ধীরে ধীরে ফিরে আসছে।

এসময় সব পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যকে অভিনন্দন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি বলেন, পুলিশের সব সদস্যকে দেশের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।


ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু কাল

আপডেটেড ১২ মে, ২০২৬ ২১:২২
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের আগাম টিকিট আজ বুধবার থেকে বিক্রি করবে রেলওয়ে। প্রতিবারের মতো এবারও পুরো কার্যক্রম চলবে অনলাইনে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে পাঠানো এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, টিকিট শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন ওয়েবসাইট ও ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ফেসবুক পেজ থেকে টিকিট কেনা-বেচা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হলো।

একই সঙ্গে রেলওয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ছাড়া অন্য কোথাও আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, বুধবার বিক্রি হবে ২৩ মের টিকিট। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ মে বিক্রি হবে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকেট। ঈদের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মের টিকিট বিক্রি হবে বলে মঙ্গলবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এবারের ঈদে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন ও তিনটি ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চলবে। ঈদযাত্রার ফিরতি বিক্রি শুরু হবে ২১ মে থেকে। সেদিন বিক্রি হবে ৩১ মের টিকিট। এরপর পর্যায়ক্রমে ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ মে বিক্রি হবে ১, ২, ৩ ও ৪ জুনের টিকিট।


'পেটোয়া বাহিনী' থেকে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করেছে পুলিশ: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ‘পেটোয়া বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া পুলিশ নিজস্ব ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার (১২ মে) পুলিশ সপ্তাহের তৃতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। আইজিপি বিশ্বাস করেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং এর ফলে সৃষ্ট জনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে পুলিশ এখন একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠিত হচ্ছে। আইজি’জ ব্যাজ প্রদান, শিল্ড প্যারেড এবং অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি পুলিশের বর্তমান সংস্কার ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন।

আইজিপি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর পুলিশ বাহিনীকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাহিনীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই নেতিবাচক ইমেজ বা ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে পুলিশ সফল হয়েছে এবং বাহিনীতে পেশাদার শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী এবং এর প্রতিটি সদস্য দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ এখন অতীতের ভুল শুধরে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণকে দেশের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পুলিশ প্রধান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, মাদক সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যদি পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। আইজিপি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশের যেসব সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অনুষ্ঠানে গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘আইজিপি ব্যাজ’ বা ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ পরিয়ে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সম্মাননা তাদের আগামী দিনে আরও নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহিত করবে। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই অর্জনগুলো পুলিশের পেশাদার ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে জেলা পর্যায়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ডিবি (ডিএমপি) প্রথম স্থান অধিকার করে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এবং মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ওয়ারী বিভাগ (ডিএমপি) শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার লাভ করে। শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় যৌথ মেট্রোপলিটন দল প্রথম এবং এপিবিএন দল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুলিশের কাজের মূল্যায়ন এবং আগামীর কর্মপন্থা নির্ধারণের এক শক্তিশালী বার্তা দেওয়া হয়।


পলকের ঘাড় ও কোমরের হাড় সরে গেছে দাবি আইনজীবীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। সাম্প্রতিক এমআরআই প্রতিবেদনে তার ঘাড় ও কোমরের হাড়ে বড় ধরনের সমস্যার তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর আদালতের আদেশে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পিজি হাসপাতালে পলকের এমআরআই সম্পন্ন করা হয় এবং সেই রিপোর্টেই এই জটিলা ধরা পড়েছে।

আইনজীবী তরিকুল ইসলাম এমআরআই প্রতিবেদনের বিস্তারিত উল্লেখ করে জানান, জুনাইদ আহমেদ পলকের কোমরের এল-২, এল-৩ ও এল-৪ অংশের হাড়ে সুনির্দিষ্ট সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া তার ঘাড়ের সি-৫/৬ এবং সি-৬/৭ ডিস্কেও জটিলতা ধরা পড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনার প্রভাবে তার ঘাড় ও কোমরের হাড়ের স্বাভাবিক অবস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। এই ধরনের শারীরিক চোট সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার সৃষ্টি করে এবং চলাফেরায় ব্যাপক সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

পলকের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আইনজীবী আরও জানান যে, তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন, তবে এই দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলেছে। গত শনিবার কারাগারে পলকের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আইনজীবী বলেন, তিনি বর্তমানে ঠিকমতো ঘাড় নাড়াতে পারছেন না। ঘাড় ও কোমরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে গুরুতর চোট পাওয়ায় তার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কারাগারে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের কথাও ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।

এমআরআই প্রতিবেদনে শারীরিক জটিলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলেও এখন পর্যন্ত পলককে প্রয়োজনীয় ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী। তিনি বলেন, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা শুরু না হলে তার এই শারীরিক সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় জুনাইদ আহমেদ পলকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষে খুব শিগগিরই আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে তার সুস্থতা ফিরিয়ে আনাই এখন মূল অগ্রাধিকার।


শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক-বাস্তবমুখী করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাবিতে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও বৈশ্বিক মানের করার লক্ষ্যে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘Transforming Higher Education in Bangladesh : Roadmap to Sustainable Excellence’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে বলেন, “সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাস্তবমুখী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।” উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, “একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা গবেষণা ও জ্ঞানে উৎকর্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “র‍্যাংকিং ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা এবং উদ্ভাবন এই বিষয়গুলোকে মনে হয় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদদের আরও চিন্তাভাবনা করতে হবে।”

শুধুমাত্র গতানুগতিক পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে মনে হয় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে, এটিই স্বাভাবিক।” উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, “তবে, আমি যতটুকু জানি- ব্রিটেনসহ অনেক দেশই যারা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সাধারণত পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে বলে থাকেন শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

সফল ও প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে অর্থবিত্তে প্রতিষ্ঠিত সেই সব এলামনাইদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।” এদিন সকাল ১০টায় কর্মশালাটির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী । ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। কর্মশালায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্যগণ উপস্থিত থাকবেন।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করলেন ইউজিসির কর্মশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালা উদ্বোধন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার সূচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ক্যাম্পাসে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছিলেন।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় পাঁচটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উচ্চ শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সমাপনী আয়োজনে আরও অংশ নেবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান।


banner close