সরকারের পদ থেকে সরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম। তিনি মনে করেন, সরকারে চাকরি করার চেয়ে সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আজ শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ বলেন, ‘সরকারের (থাকার) চেয়ে জনগণের সঙ্গে কাজ করা, মাঠে যাওয়া যদি বেশি জরুরি বলে মনে হয়, তাহলে আমি সরকার ছেড়ে দেব এবং হয়তো সেই দলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হব।’
সেটি এই মাসেই হবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যেহেতু দলের ঘোষণা এসেছে যে দলটি এ মাসেই হবে… কয়েকদিনের মধ্যেই সবাই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাবে।’
‘শিক্ষার্থীরা তো এখন রাজনৈতিক দলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে। তো আমার মনে হয় না যে তাদের আর সরকারে আসার কোনো প্রয়োজন আছে এই মুহূর্তে, বরং জনগণের কাছেই এখন তাদের বেশি প্রয়োজন-অপ্রয়োজন।’
সরকার থেকে তিনি সরে দাঁড়ালে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন—এর ব্যাখ্যায় সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন কেউ কিংবা বিদ্যমান উপদেষ্টাদের মধ্য থেকে কে দায়িত্বে আসবে—কেবিনেটে (মন্ত্রিপরিষদে) এ বিষয়ে আলোচনা হবে।’
রাজনৈতিক দল গঠন ও ভোটের রাজনীতি যে দুটি ভিন্ন বিষয়, তা জেনেই মাঠে নামা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে গোছানোর ওপরে, সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর এটা নির্ভর করবে জনগণের সমর্থন তারা কতটুকু ভোটে রূপান্তর করতে পারছে। জনগণের তো তরুণদের প্রতি একটা সমর্থন আছেই, সহানুভূতিও আছে যেহেতু তারা গণঅভ্যুত্থান করেছে।’
৫ আগস্টের পর থেকে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারছে বলে এ সময় জানান নাহিদ। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সরকারের (অন্তর্বর্তী) দূরত্বও কমেছে বলেও মনে করেন তিনি।
‘এই সরকারকে (অনেকে) অনির্বাচিত, অসাংবিধানিক ইত্যাদি বলছিল; আওয়ামী লীগের নেতারাও এভাবেই বলছিল। তবে পরবর্তীতে আমরা দেখেছি যে বিএনপি তার জায়গা পরিষ্কার করেছে, তাদের নেতৃত্ব আওয়ামী লীগের বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে যে আওয়ামী লীগের রাজনীতি তারা চায় না; বিচারিক প্রক্রিয়ায় তারা এটার (আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের) ব্যবস্থা তারা চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তো একটা ভোটব্যাংক আছে, হিস্ট্রিকালি (ঐতিহাসিকভাবে) আমরা দেখি। তবে সেটা কতটুকু বাড়বে বা কমবে, সেটা আমরা এখনই বলতে পারব না। কারণ এবারের ভোটের ইকুয়েশনটাই (সমীকরণ) একটু ডিফরেন্ট (ভিন্ন) হবে বলে মনে হয় আমার।’
আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা রাজনীতির মাঠে ফেরা না ফেরার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা এটা করতে চাই, কেবল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আমরা কিছু করে দিতে চাই না।…. বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলে, সকল তথ্য-প্রমাণ এলে এবং আদালতের সুপারিশক্রমে আওয়ামী লীগ বিষয়ে আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।’
সেটি কবে নাগাদ হবে?—জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বছরের মধ্যেই। অবশ্য নির্বাচনের আগে তো আমাদের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবেই। সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে সেটা সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।’
ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙচুর নিয়েও তিনি এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এভাবে, ‘সরকার এই কার্যক্রমকে সমর্থন করে, এমন নয়। তবে ওই সময় যদি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে থামিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে সেটি আরও বেশি হটকারিতায় পরিণত হতে পারত।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বিশেষায়িত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাহিনীটির নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)’। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, বাহিনীর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, র্যাবের বর্তমান কাঠামো ও এর সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যালোচনার পর এই নতুন নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনই নয়, বাহিনীটির পোশাকেও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপদেষ্টা আরও সতর্ক করে দেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডায় নিজেকে জড়িত করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাহিনীর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এই বাহিনীটি গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট)’ নামে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে তা র্যাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাহিনীর ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং বিশেষায়িত কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে একে এসআইএফ হিসেবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রধান এই এলিট ফোর্সের পরিচিতি ও কর্মকাণ্ডে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। মূলত একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে একে গড়ে তোলাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাষ্ট্রীয় বিশেষ সুবিধা সংবলিত কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সমর্পণ করতে শুরু করেছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বিদেশ ভ্রমণে সম্ভাব্য আইনি বা দাপ্তরিক জটিলতা এড়াতে তারা আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এরই মধ্যে অন্তত আটজন উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। মূলত ২০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তারা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও তাদের বিশেষ পাসপোর্ট সমর্পণ করেছেন।
উপদেষ্টাদের এই পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর বাসাবোতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান যে, বর্তমান সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিদায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই উপদেষ্টাদের অনেকে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই ধারাবাহিকতায় গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে জানান যে, যেসব উপদেষ্টার অদূর ভবিষ্যতে বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তারা আগেভাগেই সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেছেন যাতে ভিসা পেতে সুবিধা হয়। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজে এবং তার স্ত্রী এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক পাসপোর্ট বহাল রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পদে থাকাকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পক্ষে পাসপোর্ট পরিবর্তন করা কিছুটা অস্বাভাবিক, তবে অন্যান্য উপদেষ্টাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিগত ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের বিষয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা পদ ছাড়ার পর ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে বিব্রতকর পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই দায়িত্ব ছাড়ার আগেই তারা সাধারণ পাসপোর্টে ফিরে যাচ্ছেন, যা তাদের ব্যক্তিগত ভ্রমণকে সহজতর করবে। বর্তমান সরকারের এই কার্যক্রমটি মূলত একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি এগিয়ে চলার পাশাপাশি উপদেষ্টাদের এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে যে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনছেন। সব মিলিয়ে, এই লাল পাসপোর্ট সমর্পণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়লগ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং বৈষম্যহীন করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন ‘শিক্ষা আইন’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত রোববার এই খসড়াটি জনসমক্ষে উন্মোচন করে। মূলত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং মানসম্মত শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই এই আইনের প্রধান লক্ষ্য। এই খসড়া প্রস্তাবের ওপর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের গঠনমূলক মতামত আহ্বান করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো সবার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগকে সর্বজনীন করা। এছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই খসড়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রচলিত আইনের বিধানগুলোকে আরও সংহত ও শক্তিশালী করে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে এই আইনটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈষম্যহীন ও জীবনব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পরিপূরক বিধানগুলো আনা হয়েছে।
আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে তাদের সুচিন্তিত মতামত ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। এজন্য নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানা ([email protected]) নির্ধারণ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত সকল মতামত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। মূলত জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর শিক্ষা আইন প্রণয়নের লক্ষ্যেই এই জনমত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত মতামতগুলো যাচাই-বাছাই শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.১। গভীর রাতে আকস্মিক এই কম্পনের ফলে সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মৃদু মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা স্থাপনার বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া শহর থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। ভূ-তাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়ই কম ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের প্রবণতা দেখা যায়। গভীর রাতে ভূকম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেক মানুষ ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তবে কম্পনটি অল্প সময় স্থায়ী হওয়ায় বড় কোনো অঘটন ঘটেনি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও প্লেটের সক্রিয়তার কারণে এই এলাকায় মাঝেমধ্যেই এ ধরণের ভূকম্পন লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মৃদু ভূমিকম্পের হার কিছুটা বেড়েছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার এবং ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার আরও দুটি পৃথক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। বারবার এ ধরণের মৃদু কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে জনমনে এক ধরণের উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল বারাআত বা শবেবরাত আজ। মুক্তি ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আসা এই রজনীতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হচ্ছে বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে নফল নামাজ, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং মহান আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে বিগত জীবনের গুনাহ থেকে মুক্তি ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করেন। শাবান মাসের এই ১৫তম রজনীকে ইসলামি দর্শনে ভাগ্যরজনী হিসেবেও অভিহিত করা হয়, কারণ এই রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের জীবন-মৃত্যু ও রিজিকের ফয়সালা ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে।
পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। আজ মাগরিবের নামাজের পর থেকেই পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শবেবরাতের ফজিলত ও গুরুত্ব তুলে ধরে আলোচনা করবেন মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় এই রজনীর শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে সারা রাত জাতীয় মসজিদ মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামীকাল ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে, যা পরিচালনা করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
শুধু রাজধানী নয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুরূপ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ‘বারাআত’ শব্দের অর্থ হলো মুক্তি বা নিষ্কৃতি। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং শিরককারী ও হিংসা পোষণকারী ছাড়া অন্যদের ক্ষমা করে দেন। এই রজনীর মৌলিক আমল হলো দীর্ঘ ইবাদত ও একাগ্রচিত্তে মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। এছাড়া শবেবরাতের পরের দিন নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে এই পবিত্র রাতের ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রাখতে অনৈসলামিক ও বিজাতীয় সংস্কৃতি বর্জনের জন্য কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে আতশবাজি, পটকা ফোটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা এবং উচ্চশব্দে আনন্দ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড ইবাদতের নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায়। প্রকৃতপক্ষে শবেবরাত কেবল আনুষ্ঠানিকতা পালনের রাত নয়, বরং এটি আত্মজিজ্ঞাসা এবং অন্তরের আমূল পরিবর্তনের রজনী। এই রাতের শিক্ষা আমাদের জীবনকে আরও সংযত ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করবে—এমনটাই আশা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মহান রজনীর বরকত ও মাগফিরাত কামনায় রত রয়েছেন।
দেশের ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কেনা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
এ নিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ ফেব্রুয়ারির পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১৫ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ৪.১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরও আগে গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪ ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়েছে।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সমন্বয় পরিষদ জানায়, আগামী ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন সারা দেশের সব সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মচারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এর পাশাপাশি চলমান গণকর্মবিরতি কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা হবে।
নেতারা জানান, সরকার দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আন্দোলনের পরিসর আরও বাড়ানো হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত সাত বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর অংশগ্রহণে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২১ জানুয়ারি কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করে নতুন কমিটি গঠনের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। এতে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
এছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টার এক সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও সমাবেশে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন ঠেকাতেই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এমন বক্তব্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করেছে।
সমন্বয় পরিষদের নেতারা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার ৩৬ দিনে দেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
টিআইবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা, রাজনৈতিক হয়রানি, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে আক্রমণের ঘটনা বড় ঘাটতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে সারাদেশে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০২ জন। একই সময়ে এক হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে। ডিপফেক ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টির বেশি হামলার ঘটনাও নির্বাচনী পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
টিআইবি সতর্ক করে বলেছে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নতুন করে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা জনবলের মধ্যে মাত্র ৯–১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য থাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি রয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলি, বিশেষ করে আগের তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া, উপদেষ্টাদের দলীয়করণ এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের মতো দলগুলো সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে অন্তত ২৭টি রিট আবেদন হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে উপযুক্ত নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসি প্রাথমিকভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যে ৭৩টি সংস্থাকে বাছাই করেছে, সেগুলোর অনেকগুলোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি।
প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে প্রার্থিতা বাতিল- এসব ক্ষেত্রে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ রয়েছে। হলফনামায় দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাতেও সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণে, প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কঠোর প্রয়োগের ঘাটতি থাকায় অনিয়ম পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি।
প্রতিবেদনটি বলছে, নির্বাচন ও গণভোট ব্যবস্থায় প্রযুক্তি, আইন ও প্রক্রিয়াগত বড় ধরনের সংস্কার জরুরি। এআই ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানো এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নানা অস্থিরতা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও নির্বাচনী পরিবেশ এখনো আংশিক সক্রিয় রয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সোমবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে ডিএমপি প্রণীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। থানা এলাকা থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। থানা এলাকায় পুলিশি টহল আরো জোরদার করতে হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে। এই বিষয় মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সমন্বয় সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন এবং কমিশনার বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিপুল পরিমাণ অপতথ্য মোকাবিলায় করতে হচ্ছে বলে জানিয়ে এর উপর আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সংলাপে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন, "পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার।" প্রেস সচিবের মতে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের ফলে যদি কেউ ব্যক্তিগত বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তার জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার যথাযথ সুযোগ থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় তিনি অপতথ্য রুখতে সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। শফিকুল আলম অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো নিয়মিতভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মূলত স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতেই তিনি এই আইনি কঠোরতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকজ উৎসব—মেলা। আগের মতো সেই জমজমাট আয়োজন, লোকসংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্য আর মানুষের ঢল এখন আর চোখে পড়ে না। তবুও ঐতিহ্যের আলো নিভে যায়নি পুরোপুরি। তারই উজ্জ্বল উদাহরণ বোয়ালখালীর প্রায় দুইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী সূর্যব্রত মেলা, যা স্থানীয়দের কাছে ‘সূর্যখোলা’ নামে পরিচিত।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রাচীন এই মেলা চলবে তিন দিনব্যাপী। প্রতি বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের শেষ গত রোববার সূর্যদেবের পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ আয়োজন। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠ্যপুরা কানুরদিঘীর পাড়ে সূর্যমন্দির সংলগ্ন মাঠ সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে।
মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে বসেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দোকান। শীতের শেষে বসন্তের আগমনের প্রাক্কালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এ মেলায়। সরেজমিনে দেখা যায়, গৃহস্থালী সামগ্রী থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফুলের ঝাড়ু, পোড়া আলু, বাঁশ-বেতের আসবাব, শীতল পাটি, তালপাতার হাতপাখা, মাটির তৈজসপত্র—সব মিলিয়ে এক অনন্য গ্রামীণ আবহ। ছোটদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা। বেচাকেনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারাও।
স্থানীয়রা বলছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকজ উৎসবের জৌলুশ কমছে, নতুন প্রজন্মের আগ্রহও কমে যাচ্ছে। তবুও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনই এ মেলার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
জ্যৈষ্ঠ্যপুরা সূর্যমন্দির মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বসুতোষ দাশ বলেন, “২২০ বছরের পুরোনো এই মেলা আমাদের বাপ-দাদার আমলের। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই এখানে আসে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
মেলা কমিটির উপদেষ্টা দয়াল হরি দে জানান, “রবি, সোম ও মঙ্গলবার তিন দিনব্যাপী এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। সঠিকভাবে কেউ জানেন না, কবে থেকে এ মেলার সূচনা। তবে ১৮০৫ সাল থেকে এটি চলমান বলে জানা যায়।”
ইতিহাস বলছে, প্রায় দুইশ বছর আগে কোনো এক মাঘ মাসের তীব্র শীতে গ্রামবাসী যখন দুর্ভোগে পড়েন, তখন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সূর্যদেবের আরাধনা করেন। উপবাস ও নানা উপাচারের মধ্য দিয়ে মনোবাসনা পূরণের সেই আয়োজন থেকেই ‘সূর্যখোলা’ নামের উৎপত্তি। কালক্রমে ধর্মীয় আচার উৎসবে রূপ নেয়, আর জন্ম হয় সূর্যব্রত মেলার।
মেলায় আসা দর্শনার্থী রতন ভট্টাচার্য বলেন, “৪০ বছর পর মেলায় এলাম। আগের মতো সেই জৌলুশ আর নেই। একসময় কাপ্তাই হিলটেক্স থেকে বড় বড় চিতল, রুই, কাতলা, কালিগাইন্না, কোরাল মাছ আসত। পোড়া আলুও অনেক থাকত। এখন তেমন নেই। তবে পরিবার নিয়ে এসে ভালো লাগছে।”
পোড়া আলু বিক্রেতা মৃদুল বলেন, “সূর্যব্রত মেলার পোড়া আলু এই মেলার ঐতিহ্য। এ বছর ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে বিক্রি করতে আসতাম, এখন নিজেই প্রায় ১২ বছর ধরে বিক্রি করছি।”
সূর্যব্রত মেলা শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়—এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই ঐতিহ্য যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শুধু গল্প হয়ে না থাকে, সে জন্য প্রয়োজন সচেতন উদ্যোগ ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
ফেব্রুয়ারি মাসেই বসন্ত, আছে ভালোবাসা দিবস, আর্ন্তজাতিক মার্তৃভাষা দিবস। এবার এর সাথে যোগ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারিতে ফুলের চাহিদা ব্যাপক। কোটি টাকার ফুল বেচাকিনি হওয়ার আশা করছেন ব্যবসায়িরা। দোকানগুলোতেও দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়।
উপজেলার আনাচে কানাচে ভ্রাম্যমাণ ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় আগের তুলনায় ফুলের দাম বেশ বেড়েছে। প্রতি পিস গোলাপ ফুল ১০-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০-১০০ টাকার মধ্যে এবং হলুদ, সাদা ও হালকা গোলাপি রঙের গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।
জারবেলা ফুলের প্রতি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকায়। তাছাড়া গ্লাডিওলাস ৩০ টাকা ও সূর্যমুখী বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে। অর্কিড প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়, গ্রিন হাউস ফুল প্রতি পিছ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় ও চায়না জিপস প্রতি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
তাছাড়া গাঁদা ফুলের মালা ও রজনীগন্ধা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে ৮০ ও ১০০ টাকা দরে, মাম ফুলের মালা ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের গোলাপ দিয়ে তৈরি তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, মাঝারি আকারের গোলাপের তোড়া ৮০০ টাকায় এবং ছোট আকারের গোলাপের তোড়া ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া বড় আকারের বিভিন্ন ফুল দিয়ে তৈরি তোড়া বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৫০০ টাকার মধ্যে। মাঝারি এবং ছোট ফুলের তোড়া বিক্রি হচ্ছে ৮০০ ও ৫০০ টাকা দরে।
ভুলতা বাজারের একজন ফুল বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, এই সময়ে ফুলের চাহিদা
বেশি থাকায় আগের তুলনায় দাম বেড়েছে কিছুটা। প্রতি পিছ গোলাপ বিক্রি করছি ৪০-৫০ টাকায়। জারবেলা ফুলের প্রতি স্টিক বিক্রি করছি ৩০ টাকা দরে।
তাছাড়া এখানে ফুলের তোড়া বিক্রি করছি ১০০০-১৫০০ টাকায়। বলা যায় এই বছর আগের তুলনায় বিক্রির হার মোটামুটি বেড়েছে।
জহিরুল নামের আরেক জন ফুল বিক্রেতা গোলাপ ফুলের একটি তোড়া তৈরি করতে করতে বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য ফুল ব্যবসায়ীদের অন্যতম সময়। এই সময়টাতে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট থাকে। সরেজমিনে দেখা যায় তার দোকানে হরেক রকমের ফুলের সমারোহ। তার মধ্যে রয়েছে গোলাপ, জারবেলা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, রজনীগন্ধা এবং চায়না জিবস, তাছাড়া বেশ কিছু কৃত্রিম ফুলও দোকানটিতে রয়েছে।
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শাহরিয়ার আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ড. সাফিকুর রহমান বর্তমানে উত্তরা পশ্চিম থানায় পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তবে ঠিক কোন মামলায় বা কী অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। উপ-কমিশনার শাহরিয়ার আলী জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের এই কর্মকর্তার হঠাৎ গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশাসনিক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উত্তরা পশ্চিম থানা সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুতই এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।