বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের নাম বদলে গেল। নতুন নামকরণ হয়েছে ‘জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা’। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শনিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই প্রথম কোনো স্টেডিয়ামের নাম বদল করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু স্টেডিয়ামের নাম বদল করেছে। উপজেলা পর্যায়ে ১৫০টি স্টেডিয়ামের নাম বদল হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। এগুলো শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল। স্ব স্ব উপজেলার নামে এগুলোর নতুন নামকরণ হয়েছে।
দেশের নানা স্থাপনার মতো ক্রীড়াঙ্গনের অনেক স্থাপনাও বিদায়ী সরকার প্রধানের পরিবারের অনেক সদস্যের নামে ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রীড়াঙ্গনেও ওই পরিবারের নামে কোনো স্থাপনার নামকরণ না রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের পর এবার দেশের মূল স্টেডিয়ামের নাম বদল করা হলো।
১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়াম ঢাকা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল দীর্ঘদিন। রাষ্ট্রীয় অনেক ক্রীড়া অনুষ্ঠানও এই স্টেডিয়ামে হয়েছে। ক্রিকেট-ফুটবল এখানে ভাগাভাগি করে হতো। ২০০০ সালে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট এখানেই হয়েছিল। এরপর ক্রিকেট এই স্টেডিয়াম থেকে সরে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার পর ১৯৯৮ সালে স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম।
আইসক্রিম থেকে প্রসাধনী- জনপ্রিয় চার প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্যে মিলেছে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো পণ্যে মিলেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, কোনো পণ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, আবার কোনো পণ্যে পাওয়া গেছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের ঘাটতি। এমন পরিস্থিতিতে এসব পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একইসঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন নতুন করে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সাধারণ মানুষের পছন্দের ব্র্যান্ড কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিখ্যাত ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট’ আইসক্রিমে দুধের চর্বিহীন কঠিন অংশ বা টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাটের পরিমাণ দেশের নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে ভীতিজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধন পণ্যে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ ও শ্যাম্পুতে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেছে লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, এলোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা ভেরিয়েন্টের শ্যাম্পুতে।
এছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ স্বাদের সফট ড্রিংক পাউডারে আবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম।
ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসটিআই দেশের সব ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বাজার থেকে এসব পণ্য অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।
এই নির্দেশ ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে কি না তা মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করা হবে এবং কোনোরকম গাফিলতি বা আইন অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ক্রেতাদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানান, যে কোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআই লোগো, লাইসেন্স নাম্বার, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভালো করে দেখে নিতে হবে। পণ্যের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ বা জালিয়াতির প্রমাণ পেলে দ্রুত বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।
রেলের কোচ সংকট কাটাতে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৯১৫ কোটি রুপি মূল্যের একটি চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব কোচ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। চলতি মাসের শেষ কিংবা আগামী মাসের শুরুতে প্রথম চালান আসতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে আধুনিক এলএইচবি (লিংক-হফম্যান-বুশ) প্রযুক্তিতে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সরবরাহ করছে ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি সংস্থা রাইটস লিমিটেড। চার ধরনের নকশার অনুমোদন পাওয়ার পর ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
রাইটস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছেন, শিগগিরই ২০টি কোচের প্রথম চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার রেলব্যবস্থা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ধাপে ধাপে নতুন কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে কোচ সংকট অনেকটাই কমবে এবং যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে।
বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ যুক্ত হলে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
এদিকে, এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ট্রেনটির চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশে মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ মিলিয়ে ৩ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন রয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন রোলিং স্টক যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা অথবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানিজ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্বুব খান।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বেবিচক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।
চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করে আবু সাঈদ মেহ্বুব খান বলেন, ‘চুক্তির আলোকে জাপানিজরা শুধু থার্ড টার্মিনালই পরিচালনা করবে। তাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় টার্মিনাল পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।’
এ সময় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই এটি উদ্বোধন করতে চান তারা। তবে তার আগেই জাপানি কোম্পানির সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করা হবে এবং এরপরই উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একই সাথে তিনি জানান, বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোন ওড়ানো বন্ধে তারা কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর আগে সংশ্লিষ্ট সকলকে নীতিমালা ও নিয়মকানুনগুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।’
সোমবার (২০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মূল্যায়ন করার। আমরা কত টাকা ব্যয় করলাম, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করলাম এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটুকু উন্নত হলো- এই হিসাবও প্রশাসনের অংশ হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।’ এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ, দূরদর্শী ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সকলকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া, কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা দেন।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নের সুফল আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। আজ আমাদের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।’
কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করেছে।’ বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজনে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সংযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনিক কার্যক্রম তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ হবে।’
তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, একজন সুস্থ, সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকর্তাই জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দিতে পারেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বিশ্বস্ত সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি ভারতের কাছে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তৎকালীন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারকগণ রায়ে উল্লেখ করেন যে, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। পরবর্তীতে প্রকাশিত ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফিরিয়ে আনতে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। সোমবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে মহাপরিচালক হোংবো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রশংসা করে বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।” এই ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং শ্রম খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলও-র নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের শ্রম বাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জানান, “শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।” বৈঠকে মহাপরিচালক হোংবো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি বর্তমান প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সফলতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মতবিনিময় সভায় উভয় পক্ষ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের আধুনিকায়নে আইএলও এবং সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া শ্রম আইন সংস্কার এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী একটি শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ এবং টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালকও বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অভিযাত্রায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এবং আইএলও-র পদস্থ কর্মকর্তারা।
দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তীব্র ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (ডিএপিএফসিএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কারখানা ও বিসিআইসি সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে ২০ হাজার টন অ্যাসিড সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ পায় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ’।
চুক্তি অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যেই এই কাঁচামাল সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস খাত চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় জর্ডানসহ বিশ্বের প্রধান উৎসগুলো থেকে সময়মতো ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। কারখানায় থাকা আপৎকালীন মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ ও ২৩ জুন নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে আবারও দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা যথাক্রমে আগামী ৮ আগস্ট এবং ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দৈনিক ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন সক্ষমতার এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড এবং ২০০ টনের বেশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কারখানায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মেট্রিক টন অ্যাসিড মজুতের ধারণক্ষমতা রয়েছে।
ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় নির্দিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। ফসফরিক অ্যাসিডের চালান পৌঁছানো মাত্রই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।
দেশে সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৯ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি ইউরিয়া এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি নন-ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) সার আমদানি করে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কারখানাগুলোতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯১ টন সার উৎপাদিত হয়েছিল।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে ওই দুই ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। প্রথম দিনের ইনভেন্টরিতেই ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ঘড়ির বক্স, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতিসহ বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধার হয়েছে একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও, যে ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।
রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপর সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানান আলামত পাওয়া গেছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।
দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।
বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ছবি। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ পরিবর্তন করে সেখানে যুক্ত করা হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি। নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের পৃষ্ঠাগুলোতে দেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ই-পাসপোর্টের ৩২ ও ৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় জলছাপ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি।
আবু সাঈদ, মুগ্ধ কিংবা ওয়াসিমদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের সেই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্তটি এবার ঠাঁই পাচ্ছে বাংলাদেশের নাগরিকদের আন্তর্জাতিক এই ভ্রমণ নথিতে।
অনুমোদিত নতুন নকশা অনুযায়ী, পাসপোর্টের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে কান্তজিউ মন্দির, লালবাগ দুর্গ, পানামনগর ও কার্জন হলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা।
এছাড়া প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঝাউবনসহ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর ও নীলগিরির ছবি জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জাতীয় ফুল শাপলা, পাখি দোয়েল, মাছ ইলিশ ও ফল কাঁঠালের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত চিত্রকর্ম সংগ্রাম।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পাসপোর্টের ডাটা পেজে আগের মতোই ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য এটি বৈধ থাকার বিষয়টি বহাল থাকছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন বন্দোবস্ত কোনটা? দায়-দরদের রাজনীতি আসলে কোনটা? এসব শব্দের ব্যাখ্যা জরুরি। নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করলে জনগণ আপনাদের পক্ষে থাকবে। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটা নতুন দল জুলাইয়ের কথা বলে ৪৭ এ যেতে চায়। সংসদে বলেছিলাম ৪৭ এ আপনারা ছিলেন না। তারা হীনস্বার্থে ৪৭ গ্রহণ করে একাত্তরকে বর্জন করে, আবার চব্বিশকে গ্রহণ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমিই ঐকমত্য কমিশনে গণভোটের কথা বলেছিলাম। এরপর অন্তর্বর্তী সকার গণভোট অধ্যাদেশ জারি করল। কিন্তু ছলচাতুরির মাধ্যমে চারটা প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’, ‘না’ ভোট দেয়া হলো কোনো বিকল্প রাখা হলো না। জুলাই জাতীয় সনদে তো অনেকগুলো দফা ছিল।
তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের যে চিন্তা সেটা সাংবিধানিক নয়। আমরা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। আমরা সংবিধান সংস্কার করব, অন্যান্য সব জায়গায় সাংবিধানিক সংস্কার করব। আইনি সংস্কারের জন্য অধ্যাদেশ আইন প্রণয়নই যথেষ্ট। আমরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে সংবিধান সংস্কার আইন প্রণয়ন করব।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলের অনেক নেতা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কথা বলছেন। অনেকে বলছেন, সরকারকে বিদায় করে দেবে। আমি তাদের সংবিধান সংস্কার কমিটিতে আসতে বলবো। সাংবিধানিক কাঠামো ছাড়া সংবিধান সংস্কার সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধীদল ওয়াকআউট করেছে। একজন বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আদালতের রায়ে গণভোট ফিরে এসেছে। তিনি বোঝেননি যে, এটা আগের যে গণভোট সেটা ফিরে এসেছে। তারা যে গণভোটের কথা বলছেন সেটা সাংবিধানিক গণভোট নয়, রাষ্ট্রপতির আদেশে এখতিয়ার ছাড়া এটা হয়েছিল।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন কার্যকর করতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব কালচার সৃষ্টি হয়। সে সময় কিছু লোকের কর্মসংস্থান তৈরিতে কমিশন তৈরি হয়েছিলো। যাদের আসলে কোনো কর্ম ছিল না।
বিভিন্ন ধরনের গুমের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা শাস্তি দিতে হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামনের সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন আনা হবে। কোন কোর্টে বিচার হবে, কোন ধরনের গুমের কতদিন জেল হবে— এসব নিয়ে আলোচনা হবে।
গত দশ বছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেশি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনার ফলে এ আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে।
অন্যদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে (ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়) প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ, রেলওয়ের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।
রেলওয়ে সূত্রের মতে, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১.৪৩-এ। অর্থাৎ, সে ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন সংস্থা হওয়ায় জনস্বার্থে ভাড়া রেয়াতি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুননিধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তাৎক্ষণিক পরিচালন সংকট মেটানো, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি বহুমাত্রিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ নির্মাতাদের বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মুখে পড়ে, বিমান একদিকে স্বল্পমেয়াদি ‘ড্রাই লিজ’ (উড়োজাহাজ ভাড়া করা) এবং অন্যদিকে আগামী দশকের জন্য বিলিয়ন ডলারের নতুন উড়োজাহাজ কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল তৈরি করছে।
লিজে আনা হচ্ছে ১০টি, আরও ১০টি কেনার প্রস্তুতি: জানা গেছে, বর্তমানে বিমানের ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৩টি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালন সক্ষমতায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বোয়িং এবং এয়ারবাস—দুই জায়ান্টেরই বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) ভেঙে পড়ায় ২০৩০ সালের আগে নতুন কোনো উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। এ কারণে বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড থাকায় পরিচালন সক্ষমতায় চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন ১০টি উড়োজাহাজ লিজে যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি।
বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্য: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৪টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার কথা থাকলেও রুট ও পরিচালন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আগামী বছরের মধ্যে তা ১০টিতে উন্নীত করা হচ্ছে।
লিজের কঠোর শর্তাবলি: আন্তর্জাতিক দরপত্রের শর্তানুযায়ী, লিজের বিমানগুলোর ইঞ্জিন হতে হবে GEnx-1B74/75, আসন সংখ্যা হতে হবে ৩০০+ এবং বয়স কোনোভাবেই ১৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। ৬ বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোয়িং-এর ১৪টি বিমানের সাথে এয়ারবাসের প্রস্তাবিত ১০টি বিমান যুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিমানের মোট বহরের আকার দাঁড়াবে ৩৯ থেকে ৪৭টিতে।
মেগা-প্ল্যানের এক্স-ফ্যাক্টর: বিমানের অতীত লিজের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। অতীতে ত্রুটিপূর্ণ উড়োজাহাজ লিজ নিয়ে বিমানকে শত শত কোটি টাকার লোকসান গুনতে হয়েছিল।
এইবারের মেগা-প্ল্যানে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবং শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিমান একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। লিজের কারিগরি ও আর্থিক স্বচ্ছতা তদারকি করতে ইতোমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ৪০টি নামি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে এই পুরো প্রজেক্টের সফলতার মূল চাবিকাঠি।
আগামী ৫ বছরের জন্য ড্রিমলাইনারের মতো নির্ভরযোগ্য উড়োজাহাজ লিজে নেওয়া এবং একই সাথে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের কাছ থেকে নতুন বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করা—বিমানের এই দ্বি-মুখী নীতি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একদিকে যেমন বৈশ্বিক উড়োজাহাজ সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতাকে এড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আকাশপথে তীব্র প্রতিযোগিতার বাজারে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যদি ২০২৭ সালের মধ্যে লিজের ১০টি বিমান সফলভাবে আন্তর্জাতিক রুটে ডানা মেলতে পারে এবং ২০৩১ সাল থেকে নতুন বিমানগুলো বহরে যুক্ত হওয়া শুরু করে, তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ রিজিওনাল হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আকাশে আধিপত্যের এই লড়াইয়ে বিমানের এই ‘মেগা-ফ্লাইট’ সফল হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।