দেখতে দেখতে অমর একুশে বইমেলা শেষ করেছে তার অর্ধেক সময়কাল। মেলার শুরুর দিন থেকে প্রতিদিনই মেলায় আসছেন পাঠকরা, কিনছেন বই, করছেন ঘোরাঘুরি আর তুলছেন ছবিও। প্রতিদিনই বিক্রয়কর্মী ও প্রকাশকরা ক্রেতাদের অপেক্ষায় থাকেন। তবে শনিবার ছুটির দিন পাঠক-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এর সঙ্গে বেড়েছে বিক্রিও।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলার প্রবেশপথ ও বাহিরপথে উপচেপড়া ভিড়। মেলার ভেতরে ঢুকলেই হারিয়ে যেতে হয় জনসমুদ্রে। বইমেলায় এদিনটিতে ঢাকার বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিলেন। এদিন মেলায় যেনো ভালোবাসা দিবস আর বসন্তের রেশ কাটেনি। ক্রেতা দর্শনার্থীদের ভিড়ে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। অবশ্য এদিন মেলার মূল আকর্ষণ শিশু প্রহরে ভিড় দেখা যায় শিশুদের। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দর্শনার্থী সমাগম। মেলায় দর্শনার্থীরা ভিড় করেন স্টলে স্টলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনাও দেখা গেছে।
ছুটির দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলায় টিএসসি সংলগ্ন গেট দিয়েই প্রবেশ করেছেন অধিকাংশ মানুষ। সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষ আলাদাভাবে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে শুরুতেই পড়তে হয় পুলিশের নিরাপত্তা তল্লাশিতে। মেলায় আসা পাঠক-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বরাবরের মতোই মূল ফটকের সামনে অনুসন্ধান, ঘোষণা বুথ এবং মেলার ম্যাপ রাখা হয়েছে। এরপর ভেতরের দিকে বিস্তৃত হয়েছে প্যাভিলিয়ন, স্টল এবং লিটলম্যাগ।
অন্যদিকে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও ঢুঁ মেরেছেন মেলায়। এদিকে পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যারা বইমেলায় আসেননি তাদের অনেকেই স্বজনসহ শনিবার আসেন। অন্যদিনের মতো এদিন বিক্রয়কর্মীরাও অলস সময় কাটাতে পারেননি। সবাইকে বই বিক্রিতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।
বিক্রয়কর্মীরা জানান, এবার শুরু থেকেই বিক্রি মোটামুটি ভালো। তবে ছুটির দিনে বইমেলায় বিক্রির ধুম পড়েছে। এদিন শবেবরাতের ছুটিতে সকলে মেলায় ঘুরতে এসেছেন। মেলায় বিকাল হওয়ার পরপরই ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের চাপ। যা সামাল দিতে অনেকটা হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্রয়কর্মীদের।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রুহুল আমিন সরকার বলেন, ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা ছিল। কাজিনসহ টঙ্গী থেকে এসেছি। পরীক্ষা শেষে বইমেলা ঘুরে যাওয়ার ইচ্ছে করলো, তাই মেলায় আসা। এখনো বই কেনা হয়নি। তবে খুঁজে খুঁজে দেখছি, পছন্দ হলে অবশ্যই নিবো।
ঢাকার আজিমপুর থেকে মেলায় ঘুরতে আসা শাহনাজ পারভীন বলেন, মেলায় যে এত ভিড় হবে ভাবতেই পারিনি। দশ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে পরে ঢুকতে পেরেছি। তবে এখন ভালো লাগছে। মেলা ঘুরে দেখছি। দুইটা উপন্যাসও কিনেছি।
এদিকে মেলায় দর্শকের ভিড় থাকলেও ক্রেতা সংখ্যা খুবই কম বলে জানিয়েছেন অনেক স্টলের বিক্রেতারা। একাধিক বিক্রেতা জানান, প্রতিদিনের তুলনায় এদিনও মানুষের ভিড় বেশি, তবে সে তুলনায় আশানুরূপ বিক্রি হয়নি।
জ্ঞ্যানকোষ প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী রাহি আক্তার বলেন, মেলায় ভালোই জনসমাগম হয়েছে। অন্যদিনের তুলনায় ছুটির দিনগুলোতে মোটামুটি ভালো বেচাকেনা হয়েছে।
প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রেতা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, বিক্রি মোটেই ভালো না। সবাই এসে ছবি তুলে চলে যায়। ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। প্রতিদিনের তুলনায় মানুষ প্রায় দ্বিগুণ, তবে বিক্রি যে খুব বেড়েছে তা নয়।
শনিবার অমর একুশে বইমেলার ১৫তম দিন মেলা শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১৭৫টি।
এদিন সকাল ১০টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অমর একুশে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শিল্পী সুমন মজুমদার, শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ ও শিল্পী রেজাউল করিম।
বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জীবন ও কর্ম : সৈয়দ আলী আহসান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুহম্মদ আবদুল বাতেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তারেক রেজা এবং মহিবুর রহিম। সভাপতিত্ব করেন আবদুল হাই শিকদার।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন- কবি শহীদুল্লাহ ফরায়েজী এবং কবি ও গবেষক মহিবুর রহিম।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি তারিফ রহমান, কবি জাহিদ হায়দার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সায়েরা হাবীব, শারমিন জুঁই ও শাহনাজ পারভীন লিপি। আজ ছিল মো. শহিদুল্লাহ্’র পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শহীদ শিল্পীগোষ্ঠী ও সাংস্কৃতিক একাডেমি’ এবং চৈতী পারভীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শিল্পবৃত্ত’—এর পরিবেশনা।
রোববারের বইমেলা
আগামীকাল রোববার অমর একুশে বইমেলার ১৬তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জীবন ও কর্ম : জহির রায়হান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি সহুল আহমদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মশিউল আলম এবং আহমাদ মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করবেন মাহবুব হাসান।
বড় এবং দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ প্রবণতার লাগাম টেনে ধরতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ মাসে দেশের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এসব বোঝা নতুন নির্বাচিত সরকারের কাঁধে পড়বে এবং এ সরকারকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ ডেবট বা ঋণ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪ কোটি টাকা।
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে- অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন নির্বাচিত সরকারের কাঁধে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ ব্যবস্থাপনার কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের সময় দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আগের সরকারের পতনের আগে, ওই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা।
এছাড়া নির্বাচনের আগে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংকঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। এর আগে ৪ জানুয়ারি এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ব্যাংকঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটিরও বেশি।
সূত্র বলছ , ইউনূস সরকারের সময় গত ১৮ মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে মোট ৭৭ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়া হয়েছে।
সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে এ অর্থ পেয়েছে বাংলাদেশ। এটি সে সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া বাবদ আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব কারণে সরকারকে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।
এরই মধ্যে যেসব ঋণ নেওয়া হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে চাপে পড়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩০ কোটি টাকার সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে, যা আলোচ্য অর্থবছরে মোট সরকারি ব্যয়ের ২১ শতাংশের বেশি। চলতি অর্থবছরে সুদ বাবদ নতুন সরকারের ব্যয় আরো বাড়বে।
প্রতিবেদন থেকে ঋণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণের চেয়ে বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে। এই সময়ে আইএমএফ এর ঋণের কিস্তির অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস বাজেট সাপোর্ট নিয়েছে। গত অর্থবছর অন্তর্বর্তী সরকার ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট সাপোর্ট পেয়েছে, আগের অর্থবছর এর পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। বিদেশি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধিতে ইউনূস সরকারের ১৫ মাসে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের পরিমাণ ৮.১২ লাখ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৯.৫১ লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের যে ঋণের বোঝা পেয়েছে, সেটি পরিশোধ করাই চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, ধার করে বিশ্বের কোনো সরকারের পক্ষেই বেশিদিন চলা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে নতুন সরকারের কাঁধে যে ঋণের বোঝা চেপেছে, সেটি অনেক বড়।
অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং ঋণের সুদ পরিশোধ ও সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য ঋণ নিতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের দিনে ঋণের এ স্থিতি বাড়তে থাকবে এবং ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধে নতুন যেকোনো সরকারকেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে। অনেক বকেয়া দায় অন্তর্বর্তী সরকার পরিশোধ করলেও বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা পরিশোধ করাসহ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের জন্য রেখে গেছে, যা নির্বাচিত বর্তমান সরকারের জন্য অতিরিক্ত বোঝার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বিবেচনা করাসহ নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরণে বিএনপিকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যেই নতুন বাজেট ঘোষণা করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার আগামী ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। আগামী অর্থবছর রাজস্ব আহরণের অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কারা না গেলে বাজেটের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্তর্বর্তী সরকার আগের চেয়ে ঋণ পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক করে রেখে গেছে বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল, তার চেয়েও তা আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নতুন সরকারের টাকা ছাপানোর চিন্তা স্বপ্নেও করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ ও জনগণের সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আজকের বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমি পুনরায় আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী। আমি জানিয়েছি, আমরা পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে জনগণকেন্দ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চাই। একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আপনারা অবগত আছেন যে, নির্বাচনের পর থেকে আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ে বেশ কিছু যোগাযোগ হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। একই দিনে তারা টেলিফোনে কথা বলেন। পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন নতুন সরকার শপথ নেয়, তখন ভারতের লোকসভার স্পিকার ঢাকায় গিয়ে শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকের সময় লোকসভার স্পিকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রী রহমানের হাতে তুলে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার এবং বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মো. আতাউর রহমান নামের ওই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১-এ সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদক জানায়, প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ-বাণিজ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আতাউরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে তার ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন ও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে তার নামে থাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে ১৮৯টি লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণের তথ্য রয়েছে। এসব অর্থের বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের হিসাব ব্যবহার করে ঘুষের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অবৈধ আয়ের অর্থে ঢাকায় নিজের ও পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি কেনার তথ্য পেয়েছে দুদক।
পিএসসির একটি সূত্র জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আতাউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানাব।’
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আতাউর রহমান সাবেক পিএসসি সদস্য শেখ আলতাফ আলীসহ একাধিক সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।’
এর আগে প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়। তদন্তে তার বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে আসে।
শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে নতুন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আর রাজপথে আসতে হবে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি বলেন ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না। সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যদিও বাজেটসংক্রান্ত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবু শিক্ষকদের অন্যান্য দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।’
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা ও সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডি-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা চলছে। একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব না দেয়ার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিবেচনা করা হবে।’
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) প্রসঙ্গে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘নিয়োগ ব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন এসেছে, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কোথায় সংশোধন দরকার, তা রিভিউ করে দেখা হবে। ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না, করতে দেব না’-এই অবস্থানে সরকার অনড়। শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।’
অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টসহ অন্যান্য আর্থিক বিষয় নিয়েও শিগগির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শিক্ষা খাত সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষকরা যে লিখিত দাবি পেশ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব স্ট্যান্ডিং ইস্যু রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে যেতে চাই, যাতে পাঁচ বা সাত বছর পর একই দাবিতে আবার আন্দোলনে নামতে না হয়।’
তিস্তা প্রকল্পে কাজ করতে চীন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কে তৃতীয় কোনো দেশ বা বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ চীন চায় না। যে কোনো দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক তৃতীয় কোনো পক্ষের টার্গেট হলে ব্যর্থ হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমন কথা বলেছেন তিনি।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তিস্তা প্রকল্পের কাজ সরকার চাইলেই চীন কাজ শুরু করতে পারে। এ সময় চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা কথাবার্তা কম বলে কাজ বেশি করতে চাই। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিন হলো। আমি সময় নিয়ে কথা বলি। আজকে সবেমাত্র মন্ত্রণালয়ে আসলাম। সবকিছু রিভিউ করি তারপরে কথা বলি। আমরা কথা নয় কাজে বিশ্বাসী।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করেন মন্ত্রী। এসময় তার পরিকল্পনা নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমি কথা কম বলি কাজ বেশি করি। সবেমাত্র এখানে এসে বসলাম। আমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সব কিছু জানি তারপর কথা বলি। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিতে চাই।
মন্ত্রী আরও বলেন, অন-টাইম আপনারা সব কিছু জানতে পারবেন। আমি কিন্তু প্রেস ফ্রেন্ডলি আপনারা সবাই জানেন। আমি সব কিছু আগে রিভিউ করি তারপরে কথা বলি।
সপ্তাহে কতদিন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অফিস করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন দপ্তরে কেমন চাপ এটা আগে রিভিউ করি তারপরে সিদ্ধান্ত। আমি প্রেস ফ্রেন্ডলি ম্যান সবকিছু টাইম টু টাইম জানতে পারবেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-কমিশনের সচিবেরা মন্ত্রীকে ফুল দিতে এলে মন্ত্রী বলেন, ফুল দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসুন, এখন কাজ করার সময়। ফুল দেওয়া অনেক হয়েছে আর নয়, এখন কাজে মনোযোগী হতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু পরিবর্তন তো আসবেই। পুলিশকে জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে এবং ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ডাকবেন। সেই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হবে। এর পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলের অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে কি কোনো আলোচনা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, না— সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।
স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পরে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া শনিবার রাতে রাজধানীর আদাবরের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন সামনে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।
থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হবে- সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, কবে নাগাদ চালু হবে এটা তো বলা যাবে না। এখন আলাপ আলোচনা হবে, তদন্ত হবে, কীভাবে আমরা তাড়াতাড়ি করতে পারি সেটা নিয়ে কাজ চলছে। তবে নিদিষ্ট কোনো সময় দেওয়া যাবে না।
জানা গেছে, শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর। সে সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির নির্মাণ শুরু হয়। এ খরচের বেশির ভাগ আসছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকার কাছ থেকে।
শাহজালালে বর্তমানে দুটি টার্মিনাল রয়েছে। এই দুটি টার্মিনালের আয়তন এক লাখ বর্গমিটার। তৃতীয় যে টার্মিনালটি হচ্ছে, সেটির আকার বর্তমান দুটি টার্মিনালের দ্বিগুণের বেশি। দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার হবে এর আয়তন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয় এর নির্মাণকাজ।
প্রকল্প অনুমোদনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে। ঢাকা কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে জাপানের মিত্সুবিশি ও ফুজিটা এবং কোরিয়ার স্যামসাং- এই তিন প্রতিষ্ঠান মিলে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ করছে।
থার্ড টার্মিনালে মোট ৩৭টি অ্যাপ্রোন পার্কিং থাকবে। ফলে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্ক করা যাবে। শাহজালাল বিমানবন্দরে বর্তমানে ট্যাক্সিওয়ে আছে চারটি। নতুন করে আরও দুটি হাই স্পিড ট্যাক্সিওয়ে যোগ হওয়ায় কথা।
বেবিচকের তথ্যানুযায়ী, থার্ড টার্মিনালে থাকবে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ। প্রথম ধাপে চালু করা হবে ১২টি। থাকবে উড়োজাহাজ রাখার জন্য ৩৬টি পার্কিং বে। বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেকইন কাউন্টারসহ মোট ১১৫টি চেকইন কাউন্টার থাকবে। এছাড়া ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ থাকবে ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার।
আগমনের ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেকইন কাউন্টারসহ মোট ৫৯টি পাসপোর্ট ও ১৯টি চেকইন অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে। এর বাইরে টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য থার্ড টার্মিনালের সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যবস্থা থাকবে এক হাজার ৩৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের।
প্রাথমিকভাবে দুর্গম-চরাঞ্চল ও উপকূলের ৮ উপজেলায় বিতরণের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প চালু করছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটি গঠনের বিষয়টি উল্লেখিত করা হয়েছে। ২ মন্ত্রী, ২ প্রতিমন্ত্রী, ৩ উপদেষ্টা ও ৮ সচিবের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এ কমিটি।
পাইলট পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ৮ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। প্রথম দিকে প্রান্তিক ও নিম্ন-আয়ের পরিবার এ সুবিধা পাবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরো সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
অর্থমন্ত্রীর সভাপিতিত্বে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, মাহ্দী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
এছাড়া মন্ত্রীপরিষদ সচিবসহ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নিরবাচন কমিশন সচিবালয়, অর্থ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কমিটির সদস্য করা হয়েছে।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
কমিটির কার্যপরিধিতে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাপনার একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি চূড়ান্তকরণ। কার্যপরিধিতে আরো রয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮টি বিভাগের একটি করে উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না তা পর্যালোচনা। সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের আওতায় প্রয়োজনীয় ডিজিটাল এমআইএস প্রস্তুতকরণ।
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, হজ আসন্ন, হজের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হজে ক্ষেত্রে কেউ যদি বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটান তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার দ্বিধাবোধ করবে না। শুধু হজ নয়, সরকারি অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও যদি কেউ দায়িত্বে অবহেলা করে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ভালো অফিসার সাজা খুব সহজ। মন্ত্রী বা সচিবের হুকুম সঙ্গে সঙ্গে পালন করেই ভালো অফিসার সাজা সম্ভব। তবে এ ধরনের ভালো অফিসার সেজে অফিসের বা দেশের খুব একটা লাভ হয় না। এমন ভালো অফিসার সাজার কোনো মানে নেই। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বেতনটাকে হালাল করার জন্য আপনাকে-আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। আমরা যদি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারি, দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারি তাহলে দায়িত্ব পালন স্বার্থক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হবে কাজের মাধ্যমে। আপনারা যদি দেশ ও মন্ত্রণালয়ের জন্য ভালো কাজ করেন তাহলে খুশি হব। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আপনারা যদি এক পা অগ্রসর হন, আমি আপনাদের দিকে তিন পা এগিয়ে আসব।
মন্ত্রী বলেন, আপনাদের একজন হিসেবে আপনাদের ব্যক্তিগত কোনো অসুবিধা থাকলে সেটা সরাসরি আমাকে বলতে পারেন। আমরা পরামর্শ করে কাজ করব। আমি আপনাদেরকে কোনো কাজের আদেশ করলে সেটা যদি বিধিসঙ্গত না হয়, তাহলে সেটা আমাকে বলতে হবে, এটা আইনবিরোধী, আমি খুশি হব।
এর আগে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি ও কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এ সময় ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম, প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমতিয়াজ হোসেন, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই এবং সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধই দেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা উচিত নয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনৈতিক অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস ও চেতনার অপব্যবহারের কারণে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই এই রাষ্ট্রের জন্মের ভিত্তি, তা সবার মনে রাখা প্রয়োজন।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্য এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঁদার দাবিতে একাধিক ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত ফারুক ওরফে কালা ফারুককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে হাতকড়া পরানো অবস্থায় তাকে নিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মাইকিং করা হয়।
আজ রোববার বিকেলে কেরানীগঞ্জ থানার কলাতিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোহাম্মদপুর থানার বসিলা গার্ডেন সিটি ও আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ফারুক ও তার সহযোগীরা চাঁদার দাবিতে হুমকি দিতেন। সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে তার হুমকি দেওয়ার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, ফারুক স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাকে সামনে রেখেই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মাইকিং করা হয়েছে, যাতে অন্য সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজরা সতর্ক হয়। অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বসিলায় দোকান ও মার্কেটে চাঁদার দাবিতে হুমকির ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুক আত্মগোপনে যান। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ফারুককে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। প্রচারে তিনি বলেন, কেউ যেন চাঁদা না দেন এবং কোথাও চাঁদাবাজ দেখলে তাকে ধরে পুলিশকে খবর দেন।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় দুদিন বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিষুবীয় ভারত মহাসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
এদিকে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্য অংশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।